হাইনরিখ বোল-এর প্রশ্ন পৃথিবীটা কার?

পুতুল এর ছবি
লিখেছেন পুতুল (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৪/১২/২০০৮ - ৫:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এপোলো ১১ থেকে পৃথিবীর ছবি।
পৃথিবীটা কার?
ঈশ্বর কি আমেরিকান?
{ঈশ্বর কি আমেরিকান? এই শিরোনামে “সোরেন হাভালকফ (Soren Hvalkopf) একটা বই লিখেন, হাইনরিখ বোল এই প্রবন্ধে তার পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন, পৃথিবীটা কার? এই প্রশ্নটি বোল-এর}

আমি নিশ্চিৎ করে বলতে চাই; ঈশ্বরের প্রশান্ত মানবিক শান্তির বারতা ঘোষিত হোক। কঠিন এবং জটিল প্রশ্ন হল; বারতাটি কার জন্য এবং কার দ্বারা ঘোষিত হবে? বর্তমান সময়ে ধর্মপ্রচারক পুরোহিতবৃন্দও এ নিয়ে বেশ চিন্তিত। একটা মহাদেশকে খৃষ্টান ধর্মে দিক্ষীত করার মানসে দক্ষিন আমেরিকায় পারি জমানোর সময়, স্পেন দেশটা কতটুকু খৃষ্টীয় ধর্মানুভূতি লালন করতো? চারশ বছর পর বোঝা যাচ্ছে কী সর্বনাশ এর মধ্যে সাধিত হয়েছে। অসন্তোষের বিষ বাষ্পে বিদ্রোহী মূর্খের দল বিজাতীয় শোষনের বিরোদ্ধে ধীরে ধীরে নিজেদের সংঘবদ্ধ করতে শুরু করেছে।
ধর্মাবতারগন ঐশী বানী ছাড়া সঙ্গে করে আর কী নিয়ে আসেন? কারা এই ধর্মাবতার? কী তাদের উদ্দেশ্য? না কোন ভয়ঙ্কর কিছু নয়, নয় কোন নগ্ন দাসত্বের শৃংখল। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পুরোহিতগন নিজ নিজ দেশের যেমন: জার্মানী, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স যে সব দেশ থেকে তাঁরা আসেন, সে সব দেশ যে জ্ঞান-গরিমায় বিশেষ অগ্রগামী সে ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ রাখেন না। সঠিক এবং সত্যিকারের খৃষ্ট ধর্ম তাঁরা ঈশ্বরের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন, সে কথাও স্বগর্বে ঘোষনা করতে দ্বিধা করেন না।

বারো সদস্যের একদল নৃ- ও বংশগতিবিশারদ এজাতীয় প্রশ্নের সমাধান কল্পে সমবেত হয়েছেন। নীরব সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, মৌলবাদী ধারনার বাহক Summer Institut of Linguistics (SIL) এবং Wychiff Bibl Translators (WBT) উক্ত বিশেষজ্ঞ দলের নিয়োগদাতা। একই মুদ্রার ভিন্নপিঠ হওয়া সত্বেও সংগঠন দুটি কদাচিৎ একসাথে জনসম্মুখে আসে। প্রধানতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হলেও যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানী থেকেও এরা ধর্মান্তরিতকরনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। SIL তৃতীয় বিশ্বের ভাষা গবেষনা করে। যার নাম ভাষার বৈজ্ঞানিক বিচার বিশ্লেষন। সুসংগঠিত এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তারিত এই SIL-এর সংগৃহীত তথ্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতেই বার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল নিয়োজিত। সন্ধিহান যার মানে পরীক্ষনিয়, সে দৃষ্টিতে SIL-এর সংগৃহীত তথ্য মোটেও সন্তোষজনক নয়। অবশ্য তাঁদের কাজে কোথাও এমন কোন প্রমান পাওয়া যায়নি যে, তাঁরা স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে নাশকতামূলক তৎপরতায় জড়িত ছিলেন। অতএব, কোন প্রকার ক্ষতি সাধনের ইচ্ছে তাদের নেই, শুধুই মঙ্গলাকাঙ্খায় মর্তের মাটিতে স্বর্গের সূচনা করতে চেয়েছেন।

SIL ভাষা বিজ্ঞানীরা এমন সব দেশে তাদের কার্যক্রম চালায় যেখানে চার্চ বা খৃষ্ট ধর্মের পক্ষে কখনো কোন সম্পৃক্ততা ছিলনা, যেমন মেক্সিকো। সে সব দেশে তাদের সাদর অভ্যর্থনার অনেক কারনের প্রধান কয়েকটি; বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সে সব সমাজের ভাষা গুলো নথিভূক্ত করেন। যে কোন মূল্যে ঈশ্বরের গুন-গান করেন বলে রাজনৈতিক ভাবে সর্বদা প্রতিকূল পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন। বাইবেলের মোড়কে ডলারের কড়কড়ে হাতছানি। আর আর্থিক সচ্ছলতার কারনে; রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, যেখানে নেই সেখানে নতুন করে স্থাপন, বিমান বন্দরের আধুনিকী করন ক্ষেত্র বিশেষে নতুন ভাবে তৈরী। রেডিও ষ্টেশন, স্কুল এবং দাতব্য চিকিৎসালয় তো থাকছেই।

এগুলো এদের দৃষ্টিযোগ্য ঐশ্বরীক আর্শীবাদ। অদৃশ্য কিন্তু খুব কার্যকরী ঐশী বানীগুলোর মধ্যে থাকে তাদের ওয়ে অফ লাইফ ইজ দ্যা বেষ্ট! এবং পৃথিবীতে এই জীবন ব্যবস্থাই শুধু মাত্র এবং এক মাত্র সঠিক জীবন ব্যবস্থা। মধ্যসত্তভোগী মধ্যবিত্ত মার্কিনীদের কাগজের ঠোঙ্গায় বার্গার আর প্লাষ্টিকের বোতলে কোকাকোলা, এই তো আম্রিকান সোসাইটি! বেশীর ভাগ আম্রিকান আবার তাদের বার্গার-কোলা নিয়ে বহিরাগতদের নাকসিটকানী বরদাস্ত করতে পারে না। হতে পারে বার্গার-কোলা-র প্রতি এদের অন্য রকম প্রেম, সেটা থাকতেই পারে।
কিন্ত প্রশ্ন হল; তাদের বার্গার-কোলা সংস্কৃতি, দক্ষিন আম্রিকান (ইন্ডিয়ানা) কোন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ কেন নিজেদের ওয়ে অফ লাইফ হিসাবে গন্য করবে? SIL কর্মীদের আনন্দ বারতার অন্যতম হল; ব্যক্তিগত সম্পত্তি, একক ব্যক্তিগত কর্ম তৎপরতা আর সাফল্যের পশ্চিমী ধারনা। SIL কর্মীদের এমন অসংখ্য বিজাতীয় শব্দ, যার সাথে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, ইকুয়েডর এবং মেক্সিকোর ইন্ডিয়ানাদের কোন সংস্কৃতিক পরিচয় নেই।

বিশ্ব মানবতার আদিম এবং অকৃত্রিম প্রশ্ন, যে প্রশ্নটা পৃথিবীর সব মহাদেশের সব মানুষের প্রশ্ন হতে পারে, সে প্রশ্নটা হল; এই পৃথিবীটা কার? মনে হয় প্রশ্নটা এখন আর করা যাবে না!
পৃথিবী তার, যে লুফে নিতে পারে। যার উদ্ভাবনী শক্তি আছে। তার মানে, আমাদের দেশকে তেল এবং কাঁচামাল সরবরাহ সংস্থাগুলো এই শতাব্দীতে পৃথিবীর মালিক। তাদের সাথে পাল্লা দিতে পারে শুধু মানুষকে পরনির্ভরশীলতার শৃংখলে বন্দিকারী কর্পোরেট সংস্থাগুলো। তেল, গ্যাস, হিরা, কাঠ, কয়লা, পশম সহ বহু মূল্যবান সম্পদে পরিপূর্ণ দক্ষিন আমেরিকা। তার পরেও সে মহাদেশের নব্বই ভাগ মানুষ দরিদ্রসীমার নীচে কোন রকমে বেঁচে আছে। স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে গর্ধব SIL কর্মীরা অন্যের আজ্ঞাবহ বৃত্তের মত, একটা আদর্শ সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। পেরাইরা (pereira) লিখেছেন তাঁরা (SIL) এত গাধা যে বুঝতেই পারছেনা, কী সর্বনাশ তাদের দ্বারা ঘটে যাচ্ছে।

তাঁরা (SIL) সে সব দেশের ভাষা, আচার-ব্যবহার-এর পাশাপাশি ভূমি জরিপ করে তা লিখিত ভাবে সংরক্ষন করে। কাকতালীয় ভাবে SIL যেখানেই উদয় হন, সেখানেই ভূ-পৃষ্ঠে বা ভূ-গর্ভে কিছু না কিছু আবিষ্কার করে। কদাচিৎ রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় হয়। বিশেষ ভাবে তাদের সর্তকতা লক্ষ্য করা যায়, যখন টোরেস (Torres)-এর দলবল আসে। তখন SIL কর্মীরা জিহাদ ঘোষনা করে ঐশী বানি প্রচার করতে গিয়ে হত্যার মত জঘন্য নির্দেশ দিতে দ্বিধা বোধ করে না। কারন; মার্কিন ভাব ধারার চুল পরিমান ব্যতিক্রম মানেই কম্যুনিজম। কম্যুনিজম মানেই শয়তান। টোরেসের লোকজন শয়তান। কাজেই তাদের হত্যাকরা পূণ্য কর্ম। টোরেস দলবল নিয়ে বুড়ো মানুষদের মেরে ফেলে, বন্ধ্যা মেয়েদের শরীরের চর্বি দিয়ে সাবান তৈরী করে, এমন প্রচারনাও মার্কিন ধর্মগুরুরা করেন। কল্যানকামী SIL কর্মীদের অনেক পরিশ্রমের ভূগোল কী কাজে লাগে, সেটা পরিষ্কার হবে একজন প্রাক্তন সরকারী সৈন্যের স্বীকারোক্তি থেকে। “আমরা SIL কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করলাম। গেরিলা নিয়ন্ত্রিত দুর্গম এবং বিপদজনক এলাকার ম্যাপ তারা আমাদের দেয়। নক্সার খুঁটি-নাটি বিষয় গুলো এত নিখুতভাবে তৈরী, যে দেখে আমরা অভিভূত হয়ে যাই। তা ছাড়া ইন্ডিয়ানাদের বিভিন্ন গোত্রের পদ-পরিচয়, জনসংখ্যা, উর্বর জমির তালিকা, কোন কোন গোত্র গেরিলাদের সহায়তা করে এসব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ নিখুত এবং নির্ভূল ছিল। অবশ্য সরাসরি সরকারী সেনা বাহিনী বা সংস্থার সাথে এমন হাতে হাত রেখে চলার নীতি SIL কর্মীদের জন্য একটা ব্যতিক্রম। হয়তো আর প্রয়োজন হয়নি! কিন্তু যেখানেই নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষের কাফেলা লৌহ দৃড়তায় শোষনের শৃংখল ভাঙতে চেয়েছে, হোক সেটা সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে, সেখানেই SIL কর্মীরা শোষকের পক্ষ নিয়েছে। কারন যে কোন মূল্যে মানবেতর জীবন থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা নস্যাৎ করে দিতে হবে। সে চেষ্টার পেছনে সমাজতন্ত্রিক শয়তানের ছায়া দেখে তার বেদিশা হয়ে পরে। SIL প্রচার পত্রের একটা বানী; “তোমরা তোমাদের আইনগত অভিবাবকের (সরকারের) আদেশ মেনে চলো। কারন ঈশ্বর স্বয়ং তাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছেন। পৃথিবীতে এমন কোন সরকার নেই, যিনি ঈশ্বর কর্তৃক মনোনিত নন।“ সমাজতান্ত্রিক দেশ গুলোর জন্যও কি এই কথা প্রযোজ্য? তাহলে এখন পোল্যান্ডের জনগনকে একথা বলার সময় এসেছে SIL কর্মীদের, সরকারে পক্ষে এবং সলিডারিটির বিপক্ষে (লেখাটির রচনা কাল পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতনের সময়ে লেখা। এবং লেখক তখন লেস ওয়ালেসার পক্ষে সলিডারিটির কথা বুঝিয়েছেন।) পূর্ব, পশ্চিম, মধ্য- ও দূরপ্রাচ্যের মৌলবাদী শ্লোগান গুলো বাইবেল, কোরান আর মার্ক্সের বানীকে আশ্রয় করে।

SIL কর্মীরা ইন্ডিয়ানাদের আমূল পরিবর্তন সাধন করছে। অবশ্যই মঙ্গলের জন্য, কর্পৌরেট অর্থনিতীর দিকে। তাদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়; ইন্ডিয়ানা সম্প্রদায়ে ব্যাক্তিগত সম্পত্তির কোন ধারণা প্রচলিত নেই। উৎপাদিত ফসলাদি উৎসব-উপহারের মাধ্যমে পাড়া-পড়শীদের ভেতর ভাগ-বাটোয়ারা করে প্রয়োজন মত ব্যবহার করাই রেওয়াজ। অনেকটা কল্যামমূখী রাষ্ট্রের মত। কিন্তু উপহার দেয়ার রীতি থাকাই উচিৎ নয়। প্রথম যোগাযোগ অবশ্যই উপহারের মাধ্যমেই ঘটে। কিন্তু তার পরেই ইন্ডিয়ানাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়; উপহার গুলোও এক ধরনের পন্য এবং পন্য উপহার হতে পারে না। ভোগ করতে হলে সে সব পন্য কিনে নিতে হয়। এবং কিনতে হলে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে হয়। তার মানে, যারা শিক্ষকতা করার মত লেখা-পড়া জানেনা, তাঁরা উৎপাদনের সর্বনিম্ন স্তরে শ্রমিকের কাজ করবে। এই বারের মত ক্যাসেট প্লেয়ারগুলো উপহার হিসাবে দেয়া গেল। এবং এর সাথে যে ক্যাসেটগুলো দেয়া গেল, সেগুলো আম্রিকান সংগীতের অনুবাদ। ক্যাসেটপ্লেয়ারে রেকর্ডিং-এর ব্যবস্থা নেই। বলাতো যায়না যদি কম্যুনিজমের শ্লোগান রেকর্ড করে ফেলে! কিন্তু ক্যাসেটের ফিতায় সব গানই যে খারাপ তা বলা যাবে না। বিশেষ করে স্মিথ ও আরো কিছু গান বেশ ভাল। SIL ধর্ম প্রচারকদের সম্পর্কেও কোন খারাপ কিছু সে ক্যাসেটে নেই। অন্য সব খৃষ্টান যাজকদের কাজের স্বীকৃতিও সেখানে আছে। মনে অবিশ্বাস এবং সন্দেহ উঁকি দেয় কেবল SIL প্রতিষ্ঠাতা টোনসেন্টের গলা শুনলে। তিনি বলেন; “ঈশ্বর কলম্বিয়া-র সমস্যা সম্পর্কে আমার সাথে আলোচনা করেছেন। আমি অনূকুল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছি।“ মুসা নবীর মত যদি কেউ সরাসরি ঈশ্বরের সাথে কথা বলে, তখন যুক্তি-তর্ক সব অচল।
SIL কর্মীদের সব কাজের যথাযথ তদন্তের পরে যে প্রশ্নটি সামনে আসে, তাহলো; সম্পত্তির উপর ব্যাক্তিগত মালিকানা সম্পর্কিত। অন্য সব চাষ-বাস, পশুপলন আর শিকারী সমাজের মত, ইকুয়েডর-এর সিওনা-সেকুয়া সমাজেও ব্যাক্তিগত সম্পত্তি বলে কিছু নেই। মানুষ যেখানে ইচ্ছে সেখানেই শিকার-পশুপালন বা চাষ-বাস করে। জায়গা-জমি সবাই মিলে ভোগ করার ধারনাটাই খুব দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
ইয়োসোয়ীটেন (খৃষ্টান ধর্মের একটা বর্ণ) যাজক ডন থমাস বাল্ডোইন ইন্ডিয়ানাদের ভেতর প্রটেষ্টানদের ধর্মানুভূতি দেখতে পান। এখন স্বভাবতই এই প্রশ্নটা এসে যায়; প্রটেষ্টান-খৃষ্টান ধর্মের মানেটা তাহলে কী দাঁড়াল? দীনের দাওয়াত, ঐশীবাণী, ব্যক্তিমালিকানা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি নাকী ইন্ডিয়ানাদের সংস্কৃতি? ব্যাপারটা নিয়ে যাজকরা ধর্ম-কর্ম এক পাশে রেখে একটু ভেবে দেখতে পারেন। ঐশীবাণী ছাড়া তারা আর কী মতবাদ তাদের সঙ্গে নিয়ে আসেন?

SIL কর্মীদের মনস্তাত্বিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্নতোলার সুযোগ নিয়ে জিজ্ঞেস করা যায়; তাদের বৈজ্ঞানিক শিক্ষাটা আসলে কী? SIL কর্মীদের ঊনিশ বছরের কাজের ৭৫ ভাগ প্রকাশই করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মি. D’Ans. ব্যাপক খোঁজ-খবর নিয়ে লিখিত তাঁর বইয়ের ৩১১ পৃষ্ঠায় তিনি বর্ণনা করেছেন; তার হিসাব মতে, সামান্য কিছু ভাষা গবেষনায় SIL চৌদ্দ বছর সময় নিয়েছে। বংশ-গোত্র ও নৃবিজ্ঞানের পেছনে সময় নিয়েছে তেষট্টি বছর। আরো ছ’বছর অতিরিক্ত কাজের পর ভাষা গবেষনায় তারা ব্যায় করেছে মোট পঁচিশ বছর। সে ভাষা গবেষনার ৮৬ ভাগ কাজের কোন লিখিত কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। নৃ-বিজ্ঞানের ৯৮.৫ ভাগ কাজের নথিপত্র গায়েব।

ধর্ম যাজকরা নিজ নিজ দেশের মানুষকে কিছুটা ধর্মের পথে আনার চেষ্টা করলে মানে হয় খুব ভাল একটা কাজ হয়। বার্লিন, জুরিখ ও নিউইয়র্কের নগর জংলীদের ভাষায় বাইবেল অনুবাদের কাজটা শেষ করে, তার পর দক্ষিন আমেরিকার ইন্ডিয়ানাদের কাছে প্রটেষ্টান-খৃষ্টীয় ধর্মানূভুতি আবিষ্কারে মনোনিবেশ করতে পারেন। এবং তখন বুঝতে পারবেন যে, মানুষ শুধু কম্যুনিষ্ট বিরোধী মনোভাব বক্ষে ধারন না করলেই কম্যুনিষ্টের পক্ষে চলে যায় না। বাস্তবতার নিরিখে ষাট বছরের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গেলে অবশ্যম্ভাবী ভাবে প্রশ্ন আসে যে; দুহাজার বছরের খৃষ্ট ধর্মের অবস্থান বাস্তবে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকান মানে কী? তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। SIL কর্মকান্ডের নিরিখে নিশ্চিৎ করে আমেরিকার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা যাবে না। আমেরিকা নিশ্চই শুধু মৌলবাদী নয়।
সম্যসাটা দক্ষিন আমেরিকার দেশগুলোর সরকাদের। সে সব দেশে ইন্ডিয়ানারা সংখ্যাগুরু না হলেও জনসংখ্যার একটা বিরাট অংশ। তাঁরা এখন ধীরে ধীরে মুক্তির সংগ্রামে উদ্ভূদ্ধ হচ্ছে।
প্রকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সে সব দেশের মানুষগুলোকে শোষনের জাতাকলে পিষ্ট করতে করতে গৃহস্থালীর আবর্জনার আস্তাকূড়ের মত ভদ্র ভাষায় বলতে গেলে; সর্বহারার মত ভয়ংকর অবস্থানে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
ঈশ্বর কি আমেরিকান? বইটির এই নাম করনেই অর্ন্তণিহীত প্রশ্নের জবাবটি দেয়া আছে। না অনেক রাশিয়ান মৌলবাদীদের দাবী অনুযায়ী ঈশ্বর রাশিয়ান নয়। তেমনি ম্যাডোনা (অর্থডক্স খৃষ্টানদের “রাশিয়া, বালকান সহ পূর্ব ইউরোপে” খৃষ্টান ধর্মের দেবী) পোল্যান্ডের অধিবাসী নন। বাজার অর্থনিতীর মুখপাত্র হিসাবে ঈশ্বরকে কল্পনা করাও কঠিন। তিনি ইন্ডিয়ানাও নন। স্মিথের ইন্ডিয়ানা দেবদেবীর পক্ষে স্বৎসাহী প্রচারনায় আমি যোগ দিতে পারি না। ঈশ্বর প্রথম বা দ্বিতীয় পক্ষে নন, বরং তৃতীয় পক্ষে। ধর্মযাজকদের জাতীয় পরিচয় যা তারা ধারন ও বহণ করেন, ঈশ্বরের সেরকম কোন জাতী-গোষ্ঠি নেই।


মন্তব্য

তীরন্দাজ এর ছবি

খুব ভালো লেখা । আর কিছু বানান ভুল বাদ দিলে অনুবাদও খুব ভালো।

আমাদের বর্তমান ঈশ্বর আমেরিকান তো বটেই। আরো অনেকদিনই থেকে যাবে। গতকাল এখানকার টিভিতে বাংলাদেশের দু'জন মহিলা গার্মেন্টস্ কর্মচারী তাদের দুর্দশার কথা বলেছেন। তাতে ঈশ্বরকে আবার ইউরপীয়ান বলে মনে হয়। সে যাই হোক, ওরা সবাই একই ঈশ্বর।

আমাদের দেশ কোন ঈশ্বর নেই।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

পুতুল এর ছবি

ওরা সবাই একই ঈশ্বর।

ভাল বলেছেন!
ধন্যবাদ তীরুদা।

**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।