জিএম এবং বিটি খাবার:

পুতুল এর ছবি
লিখেছেন পুতুল (তারিখ: শুক্র, ২৫/০৪/২০১৪ - ৪:৫৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[জিএম এবং বিটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে কিছু অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করলাম আগের পর্বে। সে জন্য এই আলোচনার আগে বিষয়টা একটু বলে নেই। আমার তথ্যসূত্র জার্মান ভাষা থেকে নেয়া, কাজেই ইংরেজী উচ্চারণ এবং বানানে হেরফের হতে পারে।
এ বিশ্বের যাহা কিছু চির কল্যাণ কর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। প্রাণী এবং উদ্ভিদ জগত-এর সব কিছু চীর কল্যাণ কর না হলেও মোটা দাগে তাদের বংশবৃদ্ধি নারীর অর্ধেক এবং পুরুষের অর্ধেক মিলেই হয়। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাসের বেলায় কম বেশী ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু বহু কোষী প্রাণী এবং উদ্ভিদের জন্য কথাটা মেনে নেয়া যায়। প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের বীর্যে তার জিন-এর অর্ধেক ক্রোমোজোম থাকে বাকী অর্ধেক মায়ের ডিম্ব কোষে থাকে। ডিমের ভেতর শুক্রাণু ঢুকে ডিম নিষিক্ত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে পিতার ২৩ এবং মায়ের ২৩ মিলে ৪৬ টি ক্রোমোজোম। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বাতাস, মৌমাছি, প্রজাপতি এবং কীটপতঙ্গ পুরুষ ফুলের পুষ্পরেণু মাতৃ ফুলে নিয়ে যায়। যার ফলে পরাগায়ন হয়ে ফুল থেকে ফল হয়। এক কোষী প্রাণী যেমন ব্যাকটেরিয়া তাদের জিন এর পুরোটাই কপি করে পরের প্রজন্মে দিয়ে দেয়। ব্যাপারটা পুরোটাই প্রাকৃতিক। উদ্ভিদের জন্য বহুল আলোচিত ল্যাটিন হাইব্রিড (শঙ্কর), বাংলায় আমরা উচ্চ ফলনশীল যাকে বলি সেটাও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পাশাপাশি দুটি একই জাতের উদ্ভিদ রেখে পরাগায়নের মাধ্যমে একটির গুন অন্যটিতে নেয়া হয়।

তার বাইরে বিশেষ গুন সম্পন্ন কিছু জিন অন্য কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী থেকে নিয়ে একটি প্রাণী বা উদ্ভিদে কৃত্রিম ভাবে প্রবেশ করিয়ে যে নতুন ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণী তৈরী হল, মোটা দাগে আমরা তাকেই জেনেটিক্যালি বা জেনেটিক মডিফাইড (জিএম) বলে ধরি। সে ভাবেই ব্যাকটেরিয়ার বিষ তৈরীতে সক্ষম জিন নিয়ে তৈরী বিটি উদ্ভিদ। বাংলাদেশে বেগুন এবং অন্য অনেক দেশে ভুট্টা এবং তুলায় বিটি জিন ঢুকিয়ে তাদেরকে ব্যাকটেরিয়ার মতো বিষ তৈরীতে সক্ষম করা হয়েছে।]

সয়াবিন বীজে এমন একটা ডিএনএ ঢুকানো হল যা, গ্লোফোসাট নামক উদ্ভিদ বিনষ্টকারী বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী। গ্লোফোসাট সব উদ্ভিদ মেরে ফেলবে, বেঁচে থাকবে শুধু গ্লোফোসাট-কে প্রতিরোধ করতে পারে এমন ক্ষমতা সম্পন্ন সয়াবিন। সেটা মনসানটো কাজে লাগিয়েছে সরিষা এবং ভুট্টা বীজেও। নাম রেখেছে রাউন্ড আপ। সেই বীজ এবং সাথে আগাছা নাশকও কৃষকরা পাচ্ছে মনসানটোর কাছ থেকে।

কিন্তু কয়েক বছর পরে দেখা গেল ধীরে ধীরে আগাছারা গ্লোফোসাট প্রতিরোধী হয়ে গেছে। গ্লোফোসাটে আর মরছে না। আমেরিকার কৃষকরা আতঙ্কের সাথে তার নাম দিয়েছে জাহান্নামের আগাছা। (রাউন্ড আপ আমাদের দেশে এসেছে বলে শুনিনি। আমাদের কৃষকরা নিড়ানি দিয়েই আগাছা পরিষ্কার করে। ফসলের প্রতিটি চারা কৃষকের নিজের হাতের ছোঁয়ায় বেড়ে উঠে)।

বিটি খাবার প্রসঙ্গে বলা যায় ২০০১ সাল থেকে বাসিলুস ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে পশুর খাদ্যে প্রবিয়োটিকুম (Probiotikum) হিসাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ। কারণ হিসাবে তারা বলছেন; ২০০০ সালে Applied and Environmental Microbiology বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন: Bacillus thuringiensis, Bacillus anthracis, এবং Bacillus cereus একই স্পেইসিস। Bacillus cereus লাল রক্ত কণিকা গলিয়ে ফেলে এমন একটি বিষ তৈরী করে। অন্য একটি বিষ তৈরী করে যা মানুষের পেটের পীড়ার কারণ। তাদের জিনগত পার্থক্য কেবল আপাত ভূমিকা হীন প্লাজমিড যা প্রায় সব ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকে।

Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়ার Bt বিষ কীটনাশক হিসাবে ব্যবহার হয়েছে কৃষি জমি এবং বন ভূমিতে অনেক আগে থেকেই।
বিজ্ঞানীরা একধাপ এগিয়ে Bacillus thuringiensis- এর বিষের বদলে ভুট্টা, তুলা এবং অধুনা বেগুনের বীজে বিষ তৈরী করে ব্যাকটেরিয়া ডিএনএ-র যে অংশ, তা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। পুরো উদ্ভিদের মূল থেকে পুষ্পরেণু পর্যন্ত যে কোন অংশ খেলে ঐ বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, কিন্তু বিষ গ্রহণের প্রটেইন আছে এমন ব্যাকটেরিয়া, কীট-পতঙ্গ মরবে। মানুষের শরীরে সে বিষ গ্রহণের কোন প্রটেইন নেই। সে জন্য মানুষ নিরাপদ (?)। পুষ্পরেণুতে পাতার তুলনায় বিষের পরিমাণ তিন’শ গুন। ক্ষতি কারক কীট পতঙ্গ ছাড়াও পরাগায়নে সহায়তা করে এমন কীটপতঙ্গ মরছে। ফাঁসলের চার শতাংশ বিনষ্টকারী ভুট্টার যে শত্রু, তারা পরপর তিনবার চাষের পর ঐ বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা (রেসিস্টেন্স) তৈরী করে ফেলেছে। এখন তারা ঐ বিষাক্ত ভুট্টা উদ্ভিদ খেয়ে দিব্যি বেঁচে বর্তে আছে।

জিএম ভুট্টার বীজ ব্যবহার করা হয়েছে যে জমিতে, তার থেকে ২৫ মিটির থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব(একেক দেশে একক রকম এই দূরত্ব আইন) রক্ষা করে নন জিএম ভুট্টা বীজ ব্যবহার করতে হবে। মধ্যবর্তী জমিতে ভুট্টার সাথে সমগোত্রীয় কোন ফসল চাষ করা যাবে না। কারণ পরাগায়নের মাধ্যমে পাশের সমগোত্রীয় ফসলে জিএম জিন সংক্রমিত হবে। তার পরেও দেখা যায় চীনে বিটি বীজ ব্যবহারের কারণে যে সব পতঙ্গ মরে গেছে তার ফলে বিটি বিষে মরে না এবং বিটি তুলার ক্ষতি করে না এমন পতঙ্গ বেড়ে গেছে। যারা তুলার ক্ষতি না করলেও অন্য ফসলের ক্ষতি করছে। কারণ তুলার ক্ষতি করে এমন পতঙ্গ না থাকায় নিজেদের বংশ বৃদ্ধির জন্য তুলার জমি সহ বেশী জায়গা তারা পেয়েছে।

এখন ভেবে দেখার সময় হয়েছে; আদোও বেগুনের মতো গৌণ একটি সবজীর জন্য আমরা বিটি নেব কী না। আগে পরে বিটির বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়া রেসিস্টেন্ট হবেই। আর বিটি জিন আমাদের নিজস্ব প্রজাতির বেগুনের সাথে মিলবেই। সেই বিটি বেগুনটি (ছবিকে যেমন দেখলাম) দেখতেও তো বেগুনের মতো নয়, আমার কাছে আকার আয়তনে শালগম-এর মতো মনে হল। এক সময় আমাদের বেগুন গরু খেত। এখন সেই বেগুন বিটি করে খাই আমরা।

প্রাণীর দেহে জেনেটিক মডিফাইড (জিএম) খাদ্যশস্যের প্রতিক্রিয়া;
ফরাসী বিজ্ঞানী সেরালিনির জেনেটিক মডিফাইড খাদ্যশস্যে ইঁদুরের শরীরে ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে যায় ভিন্ন মতের বিজ্ঞানীদের সমালোচনার ঝড়ে। সমালোচনা কারীরা তাদের মতে সেরালিনির পরীক্ষার ত্রুটিগুলো বাদ দিয়ে শুদ্ধ একটি পরীক্ষা করে কিন্তু প্রমাণ করেননি যে: জেনেটিক মডিফাইড ভুট্টা সেরালিনির ইঁদুর বা অন্য কোন প্রজাতির ইঁদুরের জন্য মোটেও ক্ষতিকারক নয়।

এদিকে মিশরে টনে টনে জিএম ভুট্টা আমদানী হয়েছে চাষের জন্য। কাজেই সে দেশের বিজ্ঞানীরা মনোযোগী হলেন পরীক্ষায়।
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী (veterinärmedizinischen Fakultät) Hussein Kaoud ইঁদুরের নয়টি দলকে জেনেটিক মডিফাইড সয়াবিন, ভুট্টা, গম ও সরিষা খাইয়ে দেখেছেন; কিডনি, লেবার সহ বিভিন্ন অর্গানে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে। তাঁর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Neurotoxicology und Ecotoxicology ম্যাগাজিনে। এ নিয়ে আমি পাঁচটি পরীক্ষা পড়েছি। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল সেরালিনির পক্ষে গিয়েছে। http://netzfrauen.org/2014/02/07/neue-studie-zeigt-dass-der-verzehr-von-gen-mais-und-gen-soja-gesundheitsschaedlich-ist/

কিন্তু মনসানটো বলছে সেরালিনির পরীক্ষা ঠিক নয়। কী ছিল সেরালিনির পরীক্ষায়, বহুল আলোচিত সেই পরীক্ষাটি একবার দেখে নেয়া যাক।

„The health effects of a Roundup-tolerant genetically modified maize (from 11 % in the diet), cultivated with or without Roundup, and Roundup alone (from 0.1 ppb in water), were studied 2 years in rats. In females, all treated groups died 2–3 times more than controls, and more rapidly. This difference was visible in 3 male groups fed GMOs. All results were hormone and sex dependent, and the pathological profiles were comparable.“

রাউন্ড আপ রেসিস্টেন্ট ভুট্টা, শুধু রাউন্ড আপ (গ্লোফোসাট) এবং রাউন্ড আপ নন রিসিস্টেন্ট ভুট্টা খাওয়ানো হয়েছে ইঁদুরকে প্রতি দলে দশটি করে ইঁদুর নিয়ে। অর্ধেক স্ত্রী লিঙ্গের এবং অর্ধেক পুং লিঙ্গের ইঁদুর। সময় দুই বছর। দেখা গেল স্ত্রী লিঙ্গের ইঁদুর যারা রাউন্ড আপ ভুট্টা খেয়েছে, তারা যারা রাউন্ড আপ ভুট্টা খায়নি সাধারণ ভুট্টা খেয়েছে তাদের আগে মারা গেছে। তাদের দেহে হরমোনের হেরফের হয়েছে।

সেরালিনির পরীক্ষার বিরুদ্ধে অভিযোগ;
১ তাঁর পরীক্ষায় ব্যবহৃত ইঁদুর বেঁচেই থাকে সর্বোচ্চ দুই বছর।
২ ইঁদুর গুলো সাধারণ ভাবেই জীবনের কোন এক পর্যায়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এখানে পুং লিঙ্গের ৮০ ভাগ এবং স্ত্রী লিঙ্গের ৭০ভাগ ইঁদুরের কথা বলা হয়েছে।
৩ তাঁর পর্যবেক্ষণ শুদ্ধ বা নির্ভুল হতে হলে তাঁকে প্রতি দলে কমপক্ষে ৬৫ টি ইঁদুর নেয়া উচিৎ ছিল।

অনেক সংস্থা, বিজ্ঞানী সেরালিনির পরীক্ষা এই সব কারণ দেখিয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না বলে প্রত্যাহার করতে পরামর্শ দিলেন।

কিন্তু আট বছর আগে মনসানটো নিজেই একই প্রজাতির এবং সমান সংখ্যক ইঁদুর নিয়ে পরীক্ষাটি করেছে। তাদের ৯০ দিনের পরীক্ষায় সামান্য বিষক্রিয়া ছাড়া কোন ইঁদুরেরই অন্য কোন ক্ষতি হয় নি। সেরালিনি শুধু সময়টা বাড়িয়েছে, আর সব মনসানটোর মতোই করেছে।

দেখা যাচ্ছে সময়টা নিয়েই যত বিপত্তি। সাধারণ ভাবে যেখানে পুং লিঙ্গের ইঁদুর ৮০ ভাগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় সেখানে সেরালিনির পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে বেশীর ভাগ মরা ইঁদুর স্ত্রী লিঙ্গের! এবং তাদের মধ্যে হরমোনের হেরফের হচ্ছে। এই সব বিষয় নিয়ে চিন্তা না করে বা নতুন পরীক্ষা না করে, সবাই পরীক্ষাটিই বাতিল করে দিল। এবং এতেই জিএম খাবার মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, তা প্রমাণিত সত্য হয়ে গেল!

অনেক তাগাদা থাকা সত্ত্বেও সেরালিনি নিজে তাঁর পরীক্ষা ঐ ম্যাগাজিন থেকে প্রত্যাহার করেননি। তাঁর পক্ষেও অনেক বিজ্ঞানী এগিয়ে এলেন এবং বললেন জিএম খাবার নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া দরকার।

এর মধ্যে মনসানটোর একজন বিজ্ঞানী যোগ দিলেন Elsevier প্রকাশনা সংস্থায়। Elsevier প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করে Food and Chemical Toxicology ম্যাগাজিন, যে ম্যাগাজিনে সেরালিনির পরীক্ষাটি প্রকাশিত হয়। এবং অনেক তাগাদা দেয়া স্বত্বেও যে পরীক্ষা সেরালিনি নিজে থেকে প্রত্যাহার করেননি। মনসানটোর পুরানো বিজ্ঞানী Richard Goodman Food and Chemical Toxicology ম্যাগাজিনের বায়োটেকনোলজি বিভাগের সম্পাদকের পদে যোগদানের ছয় মাসের মাথায় নভেম্বর ২০১৩ সেরালিনির পরীক্ষা প্রত্যাহার করলো Food and Chemical Toxicology নিজেই। কারণ: NK 603 রাউন্ড আপ ভুট্টা বা গ্লোফোসাট যে ইঁদুরের শরীরে ক্যান্সার তৈরী করে, তা সেরালিনির পরীক্ষায় প্রাপ্ত র ডাটা দেখে নিশ্চিত করে বলা যায় না। এভাবেই আরো আগে বাতিল হয়ে যায় Arpad Pusztai – এর জিএম আলুর পরীক্ষা।

কিন্তু আজ পর্যন্ত জিএম খাবার যে প্রাণী বা মানব দেহে কোন রোগের বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না এমন কোন পরীক্ষা মনসানটো বা অন্য কোন জিএম কোম্পানি করে দেখায়নি।

মানবদেহে জেনেটিক মডিফাইড খাবারের প্রতিক্রিয়া;
রুশ বিজ্ঞানী Irina Yermakova বিশ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখিয়েছেন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সব অঞ্চলে জেনেটিক মডিফাইড খাবার বাজারজাত করা হয়েছে; তাদের ওজন, রোগপ্রতিরোধ অক্ষমতা, অসুস্থতা তুলনামূলক ভাবে বেশী। মনসানটোর পুসিলাক বর্ধনশীল হরমোন নেওয়া গাভীরা খুব অসুস্থতায় ভোগে। বেশী করে এন্টিবায়োটিক দিতে হয়। ইনফেকশনের কারণে নিঃসৃত পুঁজ দুধের সাথে মিলে যায়। সেই দুধ মানুষ খায় বা পান করে। আঠার মিলিয়ন মার্কিন নাগরিক Gluten-এর কারণে হজম প্রক্রিয়ার রোগে ভুগছে। তাদের খাবারের ৯০ ভাগ জিএম। গত কুড়ি বছরে সে দেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আশা করি শুধু বিটি বেগুন খেয়ে আমাদের এই অবস্থা হবে না।
http://deutsche-wirtschafts-nachrichten.de/2013/12/09/gluten-unvertraeglichkeit-genmais-kann-toedlich-sein/

বলে রাখা ভাল; কোন একটি নির্দিষ্ট খাবার খেয়ে একজন মানুষ অসুস্থ হয়েছে, এমন অভিযোগ প্রমাণ করা জটিল এবং কঠিন। কারণ; খাদ্য সরবরাহ সংস্থাটি আমাদের গ্রামের ফেরি করে দই বিক্রি করা ময়রার মতো নয় যে; দই খেয়ে পেট ব্যথা শুরু হয়েছে বলে মাটিতে পরে গড়াগড়ি দিলেই পয়সা না নিয়ে ভয়ে পালি যাবে। তাদের পক্ষে শক্তিশালী উকিল, আইন এবং খাদ্য বিশারদ রয়েছে। তারা প্রশ্ন করবে অভিযোগ কারীকে; আপনি তো শুধু বিটি খাবার খান নি; পান করেছেন পানি। সে পানিও তো দূষিত হয়ে থাকতে পারে। অথবা নিশ্বাস নিয়েছেন বাতাস। রোগের কারণ দূষিত বাতাসও হতে পারে। এবং এই ধরণের কাজের জন্য মনসানটো-র পক্ষের মানুষ বেতন পান। অপর পক্ষের মানুষ জন নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর দলে।


মন্তব্য

সজীব ওসমান এর ছবি

লেখাটায় এতগুলা ভুল বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য যে আলাদাভাবে সব উল্লেখ করতেই হিমশিম খাচ্ছি: আমি শুধু ৩ টা পয়েন্ট আউট করছি:

১। আপনি উল্লেখ করেছেন:

২০০০ সালে Applied and Environmental Microbiology বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন: Bacillus thuringiensis, Bacillus anthracis, এবং Bacillus cereus একই স্পেইসিস।

কোন বৈজ্ঞানিক নিবন্ধের রেফারেন্স দেন নি। তিনটি ভিন্ন প্রজাতিকে একই প্রজাতি হিসেবে কোন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন আমি বিনীতভাবে জানতে চাই।

২। আপনি তার পরেই বলছেন:

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী (veterinärmedizinischen Fakultät) Hussein Kaoud ইঁদুরের নয়টি দলকে জেনেটিক মডিফাইড সয়াবিন, ভুট্টা, গম ও সরিষা খাইয়ে দেখেছেন; কিডনি, লেবার সহ বিভিন্ন অর্গানে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে। তাঁর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Neurotoxicology und Ecotoxicology ম্যাগাজিনে। এ নিয়ে আমি পাঁচটি পরীক্ষা পড়েছি। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল সেরালিনির পক্ষে গিয়েছে। http://netzfrauen.org/2014/02/07/neue-studie-zeigt-dass-der-verzehr-von-gen-mais-und-gen-soja-gesundheitsschaedlich-ist/

প্রথমত: এখন এই পাঁচটি পরীক্ষা কোন পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত? আপনার দেয়া রেফারেন্স হল পপুলার জার্নাল। সেখান থেকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব আমার জন্য।
দ্বিতীয়ত: পৃথিবীর সকল প্রথম সারির বিজ্ঞান, খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে প্রতিটি জিএম খাবার আলাদা আলাদা ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এর রিপোর্টেই আছে এটা। কারন প্রতিটি জিএম শস্যের পদ্ধতি, জিন এবং উদ্ভিদের প্রকার ভিন্ন। আপনি সাধারনীকরণ করে বলছেন সবগুলিই খারাপ স্বাস্থ্যের জন্য। আলুর সঙ্গে ইলিশ মাছকে একই গোত্রে মূল্যায়ন করতে পারবেন না; বিটি টেকনোলজি সঙ্গে আলুর দাগওলা রোগ প্রতিরোধ টেকনোলজিরও একই গোত্রে মূল্যায়ন চলেনা। আমি আপনার দাবীর পক্ষের প্রমাণ দেখতে চাই।

৩। আপনি বলছেন:

কিন্তু আজ পর্যন্ত জিএম খাবার যে প্রাণী বা মানব দেহে কোন রোগের বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না এমন কোন পরীক্ষা মনসানটো বা অন্য কোন জিএম কোম্পানি করে দেখায়নি।

এই লিংকে ৫০০ টার বেশি প্রকাশণা আছে। কোথা থেকে আপনা বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি পেয়েছেন সেটা আমি জানিনা। তবে এটা যে মিথ্যা সেটা দেখিয়ে দিলাম।

পুতুল এর ছবি

১ সবগুলো ভুল বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যাতথ্য ধরিয়ে দিলে আরো উপকৃত হতাম। নীচে জার্মান ভাষায় উইকির বক্তব্য, সাথে লিংক।
Im Jahr 2000 haben Wissenschaftler im Fachjournal Applied and Environmental Microbiology dargelegt, dass es sich beim alternativen Pflanzenschutzbakterium Bacillus thuringiensis, dem Milzbranderreger Bacillus anthracis und dem Lebensmittel vergiftenden Bacillus cereus um die Variationen einer einzigen Spezies handelt. Die Keime von Bacillus cereus bilden ein hämolytisches und ein nichthämolytisches Enterotoxin, sowie Cytotoxin K, (ein enterotoxisches Protein). Dieses Bakteriengift kann beim Menschen nicht nur erhebliche Durchfälle hervorrufen, sondern auch zum Tod führen.
http://de.wikipedia.org/wiki/Bacillus_thuringiensis

২ নীচের দুটি পরিক্ষা বিটি ভুট্টা নিয়ে।

http://www.academia.edu/3405345/Histopathological_Changes_in_Some_Organs_of_Male_Rats_Fed_on_Genetically_Modified_Corn_Ajeeb_YG_

http://www.academia.edu/3341205/Chemical_Analysis_of_Bt_corn_Mon-810_Ajeeb-YG_and_its_counterpart_non-Bt_corn_Ajeeb_

৩ পাঁচটা পরিক্ষা পড়তেই আমার বারটা বেজে গেছে। পাঁচ’শর বেশী পড়া সম্ভব না। আমি শুধু এমন একটা পরিক্ষা পড়তে চাই যেখানে সেরালিনির ইঁদুর (দশটি দলের প্রতিদলে সেরালিনীর দশটির বদলে ৬৫ টি ইঁদুর নিয়ে) দুই বছর: NK 603 রাউন্ড আপ ভুট্টা, শুধু রাউন্ড আপ, এবং সাধারণ ভুট্টা খাওয়ানো হয়েছে এমন একটি পরিক্ষা। দয়া করে বাংলায় সার সংক্ষেপ লিখে দিন।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

স্পর্শ এর ছবি

বড়বড় কর্পরেট যেখানে জড়িত, সেখানে কে যে কেন কী বলছে বুঝে উঠা মুশকিল।

এক্ষেত্রে কমনসেন্সের আশ্রয় নেওয়া যায়।
জিন প্রযুক্তি খাটিয়ে, ব্যাকটেরিয়া/পোকামাকড়/আগাছা ইত্যাদির সাথে যুদ্ধ খুব দ্রুতই হেরে যেতে হবে। কারণ এইসব ক্ষুদেপ্রাণ বিবর্তিত হয় অনেক দ্রুত। অল্প সময়ের মধ্যেই ওই কৃত্রিম পরিবর্তনের প্রোতিরোধী হয়ে উঠবে। এছাড়া, অন্যান্য অপরিবর্তিত প্রজাতির মধ্যেও অই কৃত্রিম মডিফিকেশনটা ঢুকে যেতে পারে। এবং বড় বড় কর্পোরেটরা যে আজেবাজে কিছু প্রগ্রাম করে দেয়নি সেটারও নিশ্চয়তা কি? এ ধরনের কর্পোরেটরা যদি একে অপরের শস্যের বিররুদ্ধে এক ধরনের জেনেটিক যুদ্ধ শুরু করে? এক ক্ষেতে একজনের ফসল লাগালে যদি আশেপাশে অন্য ক্ষেতের ফসলের ফর্দফাই করে দেয়? মানুষ যেহেতু খারাপ প্রাণী, আর কর্পোরেট যেহেতু তার চেয়েও খারাপ প্রাণি, তাই এইসব ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যত খুব বেশি অসম্ভব মনে হয় না। ইন ফ্যাক্ট কর্পোরেটদের হাতে মনোপলি চলে গেলে এইরকমই এক সময় হবে।

এর বাইরে আসলো, খাবারের মধ্যে কোনো বিশেষ ভিটামিন, বা ফলের আকার বড় করা বা সুস্বাদু করা, উচ্চফলনশিল করা টাইপের পরিবর্তন। এগুলোকে মানুষের শরীরের উপর কী প্রভাব পড়ে বা পড়ে না, তা ঠিকঠাক পরীক্ষা করে ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা দেখি না। স্রেফ জিএম প্রযুক্তি যেন, অন্যপ্রাণির সাথে এক ধরনের (কৃত্রিম) বিবর্তনীয় অস্ত্র প্রতিযোগিতা হয়ে না দাঁড়ায় সেটাই লক্ষ্যণীয়। কারণ কিছু পরিবর্তন চাইলেও পরে 'আনডু' করা যায় না।

এর বাইরে, এইসব নিয়ে প্রকাশনা স্টাডি-ফ্‌স্টাডিতে কোনো পক্ষের মতেই ভরসা পাইনা। আর আগে, অনেক বড় বড় আকাম কর্পোরেটরা করেছে। এমনকি ভালো করার ইচ্ছা থেকেও অনেক খারাপ হবার নজির আছে প্রযুক্তি বিশ্বে। অপরদিকে রক্ষণশীলদের ঠেলায়, স্টেমসেল রিসার্স, ভ্যাকসিনেশন এর মত আশীর্বাদ নিয়েও নিয়েও নানান সমস্যা হচ্ছে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

পুতুল এর ছবি

"কারণ কিছু পরিবর্তন চাইলেও পরে 'আনডু' করা যায় না।"

সেটাই জিম প্রডাক্টের বড় ঝুকি।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

আরিফিনসন্ধি এর ছবি

প্রথম পয়েন্টের বিষয়ে বলছি, লেখক হয়তো সূত্র উল্লেখ করেননি, কিন্ত তাই বলে সেটি মিথ্যা হবে কেন, তারপরে গবেষণা প্রবন্ধটি ৭০০ এর বেশি বার citation
লিংকে দেখুন,
http://aem.asm.org/content/66/6/2627

........................................................
গোল্ড ফিসের মেমোরি থেকে মুক্তি পেতে চাই
শুধু আমি না, আমার সাথে পুরো জাতি

সজীব ওসমান এর ছবি

ভুল বা মিথ্যা বলেছি, শুধু মিথ্যা বলিনাই। আর এসব হয়তো লেখকের নিজের ভুল নয়, যেসব রেফারেন্স থেকে লিখেছেন সেখানকার ভুল। বহু এন্টি-জিএম ওয়েবসাইটে একইরকম কথা লেখা থাকে।

নেচারে প্রকাশিত তার পরবর্তী নিবন্ধই বলছে যে ব্যাপারটা 'কনক্লুসিভ' নয়। কোন অণুজীব বিজ্ঞান সোসাইটি তো এই তিনটি কে এখনও একই প্রজাতি হিসেবে ঘোষণাও দেয়নি বলেই জানি।

আর সেইসঙ্গে যেই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন সেখানে পুরো ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা হয়। বিটি তে শুধু একটি জিনকে ব্যবহার করা হয় যেটি বাকি দুইটি প্রজাতিতে নাই।

স্পর্শ এর ছবি

এই বিটিবেগুন জিএম ফসল ইত্যাদি প্রায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে যত বিতর্ক-আলোচনা দেখছি তত দেখছিনা দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে। অতিরিক্ত কিটনাশক, ফরমালিন, বিষাক্ত চক, লেড ইত্যাদি ছাড়া কোনো খাদ্যই পাওয়া সম্ভব না দেশে। কোথাও কেউ এ নিয়ে কথা বলছে না দেখে মনে হচ্ছে ব্যাপারটা যেন নিয়তি ভেবে মেনে নিচ্ছি আমরা।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

পুতুল এর ছবি

বিটি বেগুন বা জিএম ফসল নিয়ে অন্নত কিছু আলোচনা হচ্ছে। হয়তো এই কারণেই কিছু তথ্যও পাওয়া যায়। আর বাদবাকী বিষয় মনে হয় আমরা সত্যিই নিয়তি বলে মেনে নিচ্ছি। বংলাদেশে খাবারে ফরমালিন দেওয়া হয়!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে লিখছেন বলে প্রথমেই সাধুবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টা নিয়ে লিখছেন বলেই আলোচনা/সমালোচনা হচ্ছে। পাঠকের মাঝে ব্রেইন স্টরমিং হচ্ছে। কোন বিজ্ঞান প্রিয় ছাত্র হয়তো জিএম খাদ্য ভালো না খারাপ সেটি লেখা পক্ষে বিপক্ষের কারো লেখা থেকেই বুঝতে না পেরে নিজেই গবেষণা শুরু করে দিবে। যদি তাই হয় তবে, সেটি হবে এই লেখা এবং আলোচনা সমালোচনা গুলোর অর্জন।
----------------------

আলঙ্করিক কারণে কোন একটি লেখায় কবিতা ব্যাবহার করতে গিয়ে অল্পবিস্তর ভুলভাল করলে তেমন কোন অমার্জনীয় ভুল হয় না ঠিকই তারপরও কারো লেখা কোট করলে সেটা সঠিক রাখার চেষ্টা করা উচিত। যেমন:

এ বিশ্বের যাহা কিছু চির কল্যাণ কর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

সঠিক কোটেশন সম্ভবত:

´´বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণ-কর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।´´

কিন্তু বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার মাঝে ত্রুটিযুক্ত বিজ্ঞানের ছড়াছড়ি এবং বিজ্ঞানের সাধারণ বিষয়ে ঘোলাটে ধারণা প্রকাশ পেলে লেখাটির মুল বক্তব্য সঠিক (?) হলেও সেটি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে না। ব্যাপারটি অনেকটা ড্রাগন নামের প্রাণীর মুখ থেকে আগুন বের হয় তাই প্রাণিটি মানুষের জন্য খুব ভয়ঙ্কর; প্রচার করার মত হয়ে যায়। ড্রাগনের মুখ নিঃসৃত বিষাক্ত লালার কারণে প্রাণীটি সত্যি সত্যি ভয়ঙ্কর হতে পারে। কিন্তু সেটির মুখ থেকে আগুন বের হয় কথাটি কিন্তু মিথ্যাই থেকে গেল।

আপনার লেখার উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পেপার গুলো পড়ে দেখে যাচাই করার সুযোগ হয়নি তাই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, আপনার উপস্থাপনা আর আর্টিকেল গুলোর উপসংহার গুলো আসলেই একই ছিলো কিনা। বেশ কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত টেনে ফেলা টাইপ বাক্য গুলোতে রেফারেন্সের অভাব অনুভব করেছি।

নিচে কিছু বৈজ্ঞানিক অসংলগ্নতা এবং ত্রুটি তুলে ধরছি। চাইলে ঠিকঠাক করে নিতে পারেন। তাহলে ভবিষ্যত-পাঠক লেখাটি পড়তে গিয়ে বার বার হোঁচট খাবে না।

প্রাণী এবং উদ্ভিদ জগত-এর সব কিছু চীর কল্যাণ কর না হলেও মোটা দাগে তাদের বংশবৃদ্ধি নারীর অর্ধেক এবং পুরুষের অর্ধেক মিলেই হয়।

এই বাক্যটিকে পুনর্বিবিন্যাস করে আরেকটু অর্থবোধক করতে পারেন।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাসের বেলায় কম বেশী ব্যতিক্রম আছে।

´কম বেশি´ শব্দটাতে আপত্তি। কোন ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাস কি যৌন-জননের মাধ্যমে জন্ম নেয়?! যদি একটিও এরকম উদাহরণ নাই-ই থেকে থাকে তাহলে ´কম বেশি´ শব্দটা ব্যাবহার না করে সরাসরি বলে দিলেই ভাল যে, হয় ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাস এর বেলায় কোন যৌন প্রজননের ব্যাপার-ট্যাপার নেই।

কিন্তু বহু কোষী প্রাণী এবং উদ্ভিদের জন্য কথাটা মেনে নেয়া যায়।

উদ্ভিদ একটি বহু কোষী প্রাণী। উদ্ভিদে অঙ্গজ প্রজনন বলেও একটি ব্যাপার আছে তাই এ কথাটিও সবক্ষেত্রে মেনে নেয়া যায় না।

প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের বীর্যে তার জিন-এর অর্ধেক ক্রোমোজোম থাকে বাকী অর্ধেক মায়ের ডিম্ব কোষে থাকে।

জিনের- এর অর্ধেক ক্রোমোজমে থাকে কথাটার কোন মানে হয় না! যদি মেটাফরিক ভাবে ক্রোমোজম গুলোকে ৪৬ খণ্ডের একটি বইয়ের সিরিজ হিসাবে চিন্তা করা যায় তাহলে জিনগুলো হবে সে বইয়ের পৃষ্ঠা বা ছোট ছোট প্যারাগ্রাফের মত। তাহলে আপনার লেখায় ব্যবহৃত বাক্যটির অর্থটা হয়ে গেল পৃষ্ঠা বা ছোট প্যারাগ্রাফের ভেতর ২৩ খণ্ড বই থাকার মতই অবাস্তব!

উদ্ভিদের জন্য বহুল আলোচিত ল্যাটিন হাইব্রিড (শঙ্কর), বাংলায় আমরা উচ্চ ফলনশীল যাকে বলি সেটাও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পাশাপাশি দুটি একই জাতের উদ্ভিদ রেখে পরাগায়নের মাধ্যমে একটির গুন অন্যটিতে নেয়া হয়।

এই লাইন গুলোর সাথে তথ্যগত ভাবে আমার দ্বিমত নেই। লেখার কনটেক্সটে বিবেচনা করে শুধু এটুকু উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি যে, কোন ব্যাপার যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাকৃতিক থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ভাল প্রাকৃতিক না হলে সেটা ভালো না এরকম ধারণা কিন্তু কোন যৌক্তিকতা নেই। (প্রাকৃতিক দুর্যোগ গুলোর কথা ভাবুন)।

আরেকটি ব্যাপার আমাকে ভাবায় সেটা হলো, প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম পদ্ধতির সীমারেখা কোথায় টানবো? বিবর্তনের কনটেক্সটে চিন্তা করলে হাইব্রিড কোন প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) নয়। বরং কৃত্রিম নির্বাচন (artificial selection)। (শুধু মাত্র ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিজ্ঞান বিমুখ বা কূপমণ্ডূক অনেক মানুষকে হাইব্রিড ফসলের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলাও মনে হয় অসম্ভব না!)

পুষ্পরেণুতে পাতার তুলনায় বিষের পরিমাণ তিন’শ গুন।

এই বাক্যটি থেকে কি বুঝবো?

ক্ষতি কারক কীট পতঙ্গ ছাড়াও পরাগায়নে সহায়তা করে এমন কীটপতঙ্গ মরছে। ফাঁসলের চার শতাংশ বিনষ্টকারী ভুট্টার যে শত্রু, তারা পরপর তিনবার চাষের পর ঐ বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা (রেসিস্টেন্স) তৈরী করে ফেলেছে। এখন তারা ঐ বিষাক্ত ভুট্টা উদ্ভিদ খেয়ে দিব্যি বেঁচে বর্তে আছে।

লেখায় বৈজ্ঞানিক ত্রুটি বিচ্যুতি গুলো ঠিকঠাক করার পর এধরনের বাক্যগুলোর গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য পিয়ার রিভিউড জার্নালের তথ্য সূত্র যোগ করে দিতে পারেন।

আগে পরে বিটির বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়া রেসিস্টেন্ট হবেই।

তাড়াহুড়ো করে লেখার কারণে নাকি সাধারণ জীববিজ্ঞান বিষয়ে ঘোলাটে ধারণার কারণে এরকম ভুল হয়েছে তা বুঝতে পারছি না। তারপরও বিষয়টি ব্যাখ্যা করছি।

অ্যান্টিবায়েটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে ব্যাকটেরিয়া দমন করে। ব্যাকটেরিয়ার মিউটেশন এবং/অথবা আর্টিফিসিয়াল সিলেকশনের কারণে ব্যাকটেরিয়ার নিজের ভেতর কোন ম্যাকানিজম পরিবর্তনের ফলে কোন নির্দিষ্ট একটি এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে যখন প্রতিরোধ শক্তি অর্জন করে তখন সেটি কে ঐ এন্টিবায়োটিকের প্রতি ব্যাকটেরিয়াল রেজিস্টেন্স বলে। বিটি সবজী তো এন্টিবায়োটিকের মত কোন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে না যে ব্যাকটেরিয়াল রেজিস্টেন্স তৈরী করবে? ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মত কিছু আশঙ্কা করতে হলে, রেজিস্টেন্ট পোকামাকড়ের কথা ভাবা যেতে পারে।

পুতুল এর ছবি

ধন্যবাদ

মূল বক্তব্যের কারণে কবিতার অংশটি বোধ হয় ভুল হয়েছে। দুঃখিত।

কমবেশি শব্দটি ব্যবহার করেছি কারণ; সেখানেও সামান্যতম জিনগত পরিবর্তন সম্ভব। এবং হয়ও। ভাইরাসের বেলায় কোষ বিভাজন বা বিভাজ বা অন্য যে কোন শব্দই ভুল হতে পারে।

এই তো ধরে ফেলেছেন, আর সে জন্যই বলেছি, বহু কোষী প্রাণি এবং উদ্ভীদের ক্ষেত্র কথাটা (মোটা দাগে) "মেনে নেয়া যায়:।

অনেক জিন থাকে একটা ক্রোমোজমে। সেই ক্রোমোজমের অর্ধেক থাকে ডিম্ব ও শুক্রানুতে। আমার চিন্তায় বক্তব্যটি ভুল নয়। কারণ এখানে একটি ক্রোমেজমের অর্ধেক বলিনি। মানুষের শরীরে ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে। ২৩ জোড়া। তার অর্ধেক বা ২৩টি থাকে ডিম্ব এবং শুক্রানুতে। ডিম্বের ২৩ এবং শুক্রুনুর ২৩ মিলে আবার ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি হয়।

পুষ্পরেণুতে বিষের পরিমান তিনশ গুন বলার মানে হচ্ছে; আপনার কোট করা পরের বাক্তব্য পরাগায়নে সহায়তা করে এমন কীট-পতঙ্গ মরছে । কেন মরছে কারণ তারা পুষ্পরেণু বহন করেই পরাগায়নে সহায়তা করে। সেই রেণু যদি মৌমাছি বহন করে তবে তা মধুতেও থাকবে।

এর আগে সম্ভবত সজীব ওসমান বাংলাদেশের বিটি বেগুন ব্যাকটেরিয়ার বিরোদ্ধে (যা বাংলাদেশের দেশী বেগুনের ক্ষতি করে) বিষ তৈরী করে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবং সেজন্য দেশি বেগুনের ক্ষতি কারক ব্যাকটেরিয়াই বাংলাদেশের বিটি বেগুনের বিটি বিষের বিরোদ্ধে রেসিস্টেন্ট হবে। আর রেসিস্টেন্ট পোকামাকড় এব উদ্ভীদ তো আছেই। সেটা এই লেখায় উল্লেখও করেছি।

কী ভাবে কোন বাক্য লেখা যেত, সেই নিয়ে অনেক গবেষণা করা যায়। আমার কাছে আলোচনাটা জরুরী মনে হয়েছে। সে জন্য বাক্যের গঠন নিয়ে এত মাথা ঘামাই নি। পাঠক কে পাঠ দানের ইচ্ছেও আমার ছিল না। আগ্রহ তৈরী হলে পাঠকরা নিজেই অনেক তথ্য খুঁজে পাবেন।

অনেক সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সৈয়দ আখতারুজ্জামান এর ছবি

এমনিতেই বাইরে কী গরমরে বাবা!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA