বাংলার কৃষক

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ (তারিখ: রবি, ১৫/০৩/২০০৯ - ৪:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জমির বুকে গরু ও চাষা একই ভঙ্গিতে মাথা মাটির দিকে ঝুঁকে চাষ করে যায়। কেবল দুর্যোগ ও বিপদের সময় তার মাথা উঁচু হয়, সে আকাশের দিকে তাকায় আরশের দিকে তাকায়। বাংলার কৃষক সর্বদাই এক অবনত চরিত্র। কেবল বিদ্রোহ কিংবা গলায় ফাঁস নিলে তার মাথা উদ্ধত হয়। দুইশ বছর আগে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, '‌কৃষক স্বার্থের রক্ষক নাই'। তখনও যেমন আজো তাই।

*** লেখাটার সঙ্গে একটা ছবি ছিল। এটি তারই ক্যাপশন মাত্র। সেটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবুও লেখাটা থাকলো বলাতকারের চিহ্ন হিসেবে।


মন্তব্য

নীড় সন্ধানী [অতিথি] এর ছবি

কৃষক জমিতে বীজ বোনে, জমিতে হাল দেয়, সেচ দেয়, সার দেয়, জমির আলে বসে আহার করে, ফসল ফলায়, ফসল তোলে, মাড়াই দেয়, ধান থেকে খড় আলাদা করে, ধান শুকায়, সেদ্ধ করে, কলঘরে যায়, চাল, খুদ, কুড়া, আলাদা করে। তারপর খুদ-কুঁড়া নিজের জন্য রেখে সবচেয়ে ঝকঝকে দানাগুলো বাজারে পাঠায় আমাদের ভোগের নিমিত্তে। সেই দানা বাজারে বিক্রিত হবে সরকার-ব্যবসায়ীর যৌথ মূল্য ফাঁদে। সেই মূল্যে তুমি টিকে থাকো নয় তো গলায় দড়ি দাও।
বলদ, ঋন, গলার দড়ি- 'চোখ বন্ধ বেছে নাও'.......যে কোন একটা।

দুনিয়াটা মুক্তবাজার অর্থনীতির। কিন্তু বাজারে কৃষকের রাজত্ব নেই। কৃষকের রাজত্ব মাঠে, হালের বলদের উপর। সমস্ত উৎপাদন-বিপনন প্রক্রিয়ায় একমাত্র বলদের উপরই কৃষকের শাসনের অধিকার।

সরকার দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলেছে? ফসল কে ফলায়? সরকার না আড়তদার?

পুতুল এর ছবি

কৃষক সর্বদাই এক অবনত চরিত্র। কেবল বিদ্রোহ কিংবা গলায় ফাঁস নিলে তার মাথা উদ্ধত হয়।

**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

নজমুল আলবাব এর ছবি
ধ্রুব হাসান এর ছবি

সংবাদটার বিস্তারিত লিংক দেয়া যায় কি দয়া করে?

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

ছবিটা এসেছিল বার্তা সংস্থা ফোকাস বাংলায়, তাদের ৫ তারিখের ওয়েব সংষ্করণে। এটা আমাকে পাঠিয়েছে আরেক বন্ধু। আমি যেহেতু ফোকাস বাংলার রেজিস্টার্ড সদস্য নই, সেহেতু পেছনের তারিখে যাওয়ার সুযোগ নাই। তবে আপনার জরুরি প্রয়োজন থাকলে আমি আমার অফিসের সংগ্রহ থেকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ছবিটা গেল কই?
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

ছবিটাকে ভিত্তি করেই লেখাটা। ছবি ছাড়া লেখাটা পঙ্গু। তাই কেন ছবি সরিয়ে দেয়া হয়েছে, তা জানার অধিকার লেখক-পাঠক সবারই রয়েছে। সেটা না করে, 'সরিয়ে দেয়া হয়েছে' বলে মামলা খালাস করা যায় না। যায় কি অরূপ?
আশা করি সত্বর ব্যাখ্যা দেবেন।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

সেটা কি আমি কৈফিয়ত দাবি না করলে আর কেউ জানতে পারতো? আপনি মডারেটর হিসেবে ওটা করেছেন, কিন্তু আমি যদি ধরে নিতাম যে, আপনার কাছেই ওর ঋণ ছিল বলে আত্মহত্যা করেছে এবং সেকারণে আপনি এই ছবি দেখাতে চান না, তাহলে কি খুব অন্যায় হতো? কারণটা জানবার অধিকার লেখক-পাঠক সবার রয়েছে।

ছবিটা ডিস্টার্বিং ছিল

অবশ্যই ছবিটা ডিস্টার্বিং। সেজন্যেই ওটা নিয়ে লিখেছি। বাংলাদেশের অনেক কৃষকই এভাবে অভাবের জ্বালায় আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনা আমাকে আলোড়িত করেছে আর আপনাকে আলোড়িত করেছে ঘটনার সাংবাদিকতার রীতি মেনে চলা প্রকাশিত ছবি! সত্যিই বিষ্ময়!!!
আমি মনে করি ছবিটা প্রকাশ-অযোগ্য নয়। ছবিটায় নৃশংসতার কোনো লক্ষণ ছিল না। একজন কৃষক ব্রিজ থেকে ফাঁসিতে ঝুলছে; এবং ছবিটা তোলা হয়েছে পেছন থেকে। সেখানে তার মুখ বা মৃত্যুযন্ত্রনার কোনো অভিব্যক্তি ছিল না। এরকম ছবি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত রীতির মধ্যে পড়ে।
ফলে আমি আপনার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারছি না। কাজটা আমার অসঙ্গত মনে হয়েছে। আমি আপত্তি জানাচ্ছি।
............................................................
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ফারুক ওয়াসিফের সাথে সহমত জানাই। এই খবরগুলো আমাদের চোখের আড়ালে থাকে, যদি ব্লগেও তার জায়গা না হয়, তাহলে কোথায় হবে? ছবিটা অন্তত ফোল্ডের নীচে দেয়া যেতো বলে মনে হয়। আশা করি মডুরা আবার বিবেচনা করবেন। ছবিটা বাদে এই পোস্ট সত্যই নিরর্থক।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

যুধিষ্ঠির এর ছবি

সহমত। ছবিটা একটা লিঙ্কের আড়ালে দেয়া যেত, একটা সতর্কীকরণ জাতীয় নোট দিয়ে। সুবিনয় মুস্তফীর সাথে গলা মিলাই: এই খবরগুলো আমাদের চোখের আড়ালে থাকে, যদি ব্লগেও তার জায়গা না হয়, তাহলে কোথায় হবে?

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

সহমত।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

কল্পনা আক্তার এর ছবি

মন খারাপ

.......................................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা


........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

একটা হিসেব আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। কৃষক যে মূল্যে তার উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করেন তা খুব কম সময়ই তার উৎপাদন ব্যয়কে কাভার করে। আর কৃষকের নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের সময় ও শ্রমের অপরচুনিটি কস্ট যদি হিসেব করা হয়, তাহলে কখনোই উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় মূল্য উৎপাদন ব্যয়কে কাভার করে না। তাহলে কৃষক টিকে আছেন কী করে? এই টিকে থাকা অবশ্যই মানবেতর ভাবে। কিন্তু আমার বোধ বলে এই হিসেবে মানবেতর ভাবেও টেকা সম্ভব নয়। যারা কৃষকের সকল রিসোর্স ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য বিপণন করে মুনাফা করছেন তারা তাদের এই উৎপাদন যন্ত্রকে সমূলে ধ্বংস করছেন কেন? এটি কি তাদের সহজ মুনাফার পথকেই কঠিন করে দিচ্ছে না? ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী ভূমিহীন কৃষক বা ক্ষেতমজুরে পরিণত হলে তাদের মধ্যে কৃষিকাজ থেকে দূরে সরে যাবার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষতঃ শিল্পায়ন ও আরবানাইজেশন বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে শিল্প শ্রমিক বা শহুরে দিনমজুর হবার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এতে তো শেষ বিচারে কৃষি থেকে সহজে মুনাফার পথটিকেই রুদ্ধ করে। কৃষকদের শোষকরা জেনে বুঝে এই কাজটি কেন করছেন? কৃষককে মরার মত বাঁচিয়ে রাখার জন্য এনজিও-দের এবং সরকারেরও নানা রকমের প্রকল্প-কর্মসূচি থাকে। কিন্তু তাও কৃষককে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তাহলে আমরা কি অচিরেই সমাজ-অর্থনীতি-শ্রেণী কাঠামোতে একটা পূনর্বিন্যাস লক্ষ্য করতে যাচ্ছি?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

সব দেশেই পুঁজি প্রথমে কৃষক ও কৃষিকে শোষণ ও চোষণ করেই পুঁজি সংবর্ধন করে। সেটাই পুঁজিবাদী কায়দা। বাংলাদেশে বাড়তি যোগ হয়েছে উপনিবেশিক কায়দা। কৃষিকে টিকিয়ে রাখা নয়, সর্বস্বান্ত করেই এখানে নগর ও পুঁজিবাদের বাড়বৃদ্ধি হয়েছে_ কী ইংরেজ আমলে কী বর্তমানে।
কৃষি বাংলাদেশের বড়লোকদের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ ক্ষেত্র। এদিকে মতিয়া চৌধুরী ঘোষণা করেছেন কৃষিই অগ্রাধিকার পাবে। ওদিকে বিশ্বব্যাংক বিপুল অংকের লোন দেবে কৃষির বাণিজ্যিকায়নের জন্য। এর অর্থ কৃষির কর্পোরেটাইজেশন: বাণিজ্যিক কৃষির কাছে পারিবারিক কৃষির পরাজয়, হাইব্রীড, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিপুল বাণিজ্যের বন্দোবস্ত। ভারতে এটা শুরু হয়েছে আরো আগে। গত দশবছরে এর প্রতিক্রিয়ায় প্রায় পনের লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। সবথেকে বেশি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। বাংলাদেশ সেই পথেই এগচ্ছে। কৃষক হাওলাদারের আত্মহত্যা তারই পূর্বাভাস।
সামির আমিন দেখিয়েছিলেন তাঁর লিবারেল ভাইরাস বইয়ে যে, বর্তমান আর্থিক বন্দোবস্তে চারশো কোটি কৃষিজীবী ও শহুরে দরিদ্রদের জন্য বাঁচবার আসলেই কোনো পথ নাই।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমার প্রশ্নের জায়গাটা কিন্তু থেকেই গেল। এই চারশো কোটি বা ক্রমবর্ধমান সংখ্যার মানুষ ধ্বংস হলে বা প্রায় বিলুপ্ত হলে গ্রামের নব্য জোতদার শ্রেণী, শহুরে শোষক শ্রেণী আর এগ্রি ফার্ম লিমিটেড কোম্পানীর নামে নতুন জমিদার শ্রেণী শোষণের জন্য কাদের বেছে নেবে? সেক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় নতুন অন্ত্যজদের উদ্ভব কি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে না? অদূর ভবিষ্যতে (আসলে ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবার কথা) গ্রাম বা শহরের কারা এই অন্ত্যজদের শ্রেণীভূক্ত হতে যাচ্ছেন?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তানবীরা এর ছবি

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।