শব্দগল্পদ্রুম ১০

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: রবি, ১৮/০৮/২০১৯ - ৭:০১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
ব্যাঙ্কশাল থেকে বংশাল?

সুলেখক ও সম্পাদকোত্তম মীজানুর রহমান তেমনটাই লিখে গেছেন তাঁর স্মৃতিচারণগাথা "ঢাকা পুরাণ" গ্রন্থে। তাঁর কলমে,

বংশাল নামের সঙ্গে ব্যাঙ্কশালের যোগ। পোতাশ্রয়ের যে জায়গায় মেরামতের জন্য নৌযান নােঙর করা হয়, তাকে ব্যাঙ্কশাল বলে। দেশবিদেশের বিভিন্ন নদীর ধারের রাস্তাগুলাের নাম প্রায়শ ব্যাঙ্কশাল দেখা যায়। এই এলাকায় এই তাে সেদিনও বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সংযােগ রক্ষাকারী ধােলাই খাল ছিল। এই খালে নৌকোর আনাগােনাও ছিল। হয়তাে বহু আগে মেরামতের জন্য এই খাল দিয়ে নৌযান আনা-নেওয়া হতাে। হয়তাে সে কারণেই ব্যাঙ্কশাল নাম, পরে লােকমুখে যা বংশালে রূপান্তরিত।

গ্রন্থসূত্র: ঢাকা পুরাণ, মীজানুর রহমান, প্রথমা প্রকাশন, জানুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫।

এটুকু পড়ার পর একজন শব্দগ্রস্ত, গ্রিক থেকে ধার করে সায়েবরা যাকে বলে Logolept, স্বভাবগুণে (বা দোষে) খোঁজ করবেন, ব্যাঙ্কশাল মানে কী। তাই তো?

যেমন প্রথমেই আমরা টের পাবো, দেশবিদেশে নদীর ধারের রাস্তার নাম ঠিক "প্রায়শ" ব্যাঙ্কশাল নয়। ব্যাঙ্কশাল স্ট্রিট (বা রোড) আমি গুগল করে খুঁজে পেয়েছি তিনটি শহরে: কোলকাতা, কলম্বো, আর জাফনা খুব বেশি সময় দিইনি এ সন্ধানের পেছনে, পাঠক খুঁজলে হয়তো আরো পাবেন। মীজানুর রহমান ব্যাঙ্কশালের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, সেটিও সঠিক নয়। এমনকি আংরেজের জিভে Bankshall শব্দটির উচ্চারণও ব্যাঙ্কশাল নয়, বরং ব্যাঙ্কসহল। ব্যাঙ্কসহল মানে গুদাম, কিংবা বন্দরপালের(=Harbour-master) কার্যালয়। সেইসাথে, শব্দটি একান্ত দক্ষিণেশীয়। আংরেজের দেশে কোথাও ব্যাঙ্কসহল মিলবে না।

তার কারণ, ব্যাঙ্কশাল শব্দটির মূল ভারতবর্ষেই। এ শব্দটা ভারতবর্ষীয়রাই ছড়িয়ে দিয়েছে দূর মালয়ে, যেখান থেকে পর্তুগিজ আর ইংরেজ বণিকদস্যুরা কুড়িয়ে এনে নিজেদের মতো ভেঙেচুরে আবার আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। মালয় শব্দটি কিন্তু বংশাল-ই।

মালয় ভাষায় বংশাল শব্দের অর্থ গুদাম, আচ্ছাদিত স্থান, কর্মশালা বা কারুঘর (workshop), বা দরদালান। একই শব্দের আরো দুটি কৌতূহলজাগানিয়া অর্থ মালয় ভাষায় আছে, একটি হচ্ছে "আধকাঁড়া ধান" (ভগ্ন শালি(=ধান)?), আরেকটি হচ্ছে "পতিত গাছ, যার শাঁসকাঠ পচে গেলেও আঁটিকাঠ অক্ষত আছে" (ভগ্ন শাল?)। যবদ্বীপে বংশাল একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়: স্থানীয় রাজাখাজারা যে দেয়ালছাড়া স্তম্ভসম্বলিত ঘরে প্রজাকে সাক্ষাৎ দেন, অর্থাৎ দরবার। শব্দটির পেছনে বাংলা বঙ্কশালাকে শনাক্ত করেছিলেন হোরেস হেয়ম্যান উইলসন, যেটি বণিকশালার অপভ্রংশ। আরেকটি ধারণা, এটি সংস্কৃত ভাণ্ডশালার (মালামাল রাখার গুদাম, আংরেজ আরবি মাখজান শব্দটি স্বীকরণ করে যাকে Magazine বলে) অপভ্রংশ। মালয়ালি পাণ্ডিশাল আর তামিল পাণ্ডশালৈ শব্দদুটো টিকে আছে, সেগুলোও ভাণ্ডশালার আরেক ধারার ক্ষীণরূপ।

ইবনে বতুতা (১৩৪৫ খ্রিস্টাব্দে) মালদ্বীপ ভ্রমণের বর্ণনায় একে বলেছেন বাজানসার, যাকে বানজাসার (বাঙ্গাসারের আরবি বানান) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। লিসাবোয়াঁর তোরে দো তোম্বো অভিলেখাগারে ১৫২০ খ্রিস্টাব্দের একটি দলিলে মালদ্বীপের এমন স্থাপনাকে বামগাসাল বলা হয়েছে। পর্তুগিজে প্রায়সমোচ্চারিত এমন আরো শব্দ মেলে পরবর্তী সময়ে, বাঙ্কাসায়েস (বাঙ্কাসালের পর্তুগিজ বহুবচন), বাঙ্গাসায়েস, বেঙ্গাসায়েস। ১৬১০ নাগাদ পিহ্রার্দ দ্য লাভাল একে ফরাসিতে বলেছেন বঁকসাল। মালয়-পর্তুগিজ মানচিত্রকার গোদিনিয়ো দে এরেদিয়া মালাক্কার তানজংপাসিরে প্রহরীর ঘর অর্থে ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে বাঙ্গাসাল শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। ১৬২৩-এ ওলন্দাজ খাসপার ভিলেন্স শব্দকোষে বংসাল যোগ করেছেন গোলাঘর (Barn) অর্থে। ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ চীনে ক্যান্টন নদীতে ব্যাঙ্কশাল আইল্যান্ড বলে একটি দ্বীপ পরিচিত হয়ে ওঠে, যেখানে বাঙ্কশাল বলে মস্ত এক একটি আচ্ছাদিত ঘরে জাহাজের দড়ি-কচড়া, পানির পিপে ইত্যাদি মালপত্র সংরক্ষণ করা হতো। ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে জেমস ফর্বস তার ওরিয়েন্টাল মেমোয়ার্স বইতে লিখে গেছেন, মহীশূরের রাজার এলাকা থেকে গোলমরিচ আর চন্দন কেনার জন্যে মির্যিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সত্তর বছর ধরে একটি Banksaul চালাচ্ছে।

আবার মাশুলঘর হিসেবে মছলিপত্তনমে ১৬১৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যাঙ্কসলের উল্লেখ আছে, এমনটা ১৬৮৭ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। পারস্য ও ওলন্দাজ ভাষাতেও শব্দটি মালয় ও ভারতবর্ষে ব্যবহৃত হয়েছে লম্বা সময় জুড়ে।

আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে ভারতবর্ষে বংশাল শব্দটি নানা জিভ ঘুরে নানা রূপে নৌপথের কাছে পণ্য বা রসদ সংরক্ষণের বড় ঘর থেকে শুরু করে নৌশুল্ক আদায়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। হুগলি নদীর তীরে (Bank) ইংরেজের বংশাল থাকায় ইংরেজি বানানে শব্দটির ব্যাঙ্ক অংশটি আলাদা তাৎপর্য পায়, এবং ইংরেজের কলমে বংশালের শেষাংশ -শাল "হল"-এর চেহারা নিয়ে একটি ভিন্ন অর্থ নেয়। যবদ্বীপে বংশালের একটি ভিন্ন রূঢ়ার্থ আছে, সেখানে সেটি প্রজাসাক্ষাতের জন্যে রাজার দরবার। ব্যাঙ্কশাল থেকে বংশাল এসেছে নিশ্চয়ই, কিন্তু ব্যাঙ্কশাল আবার এসেছে সেই বংশাল থেকেই, যেটা আবার বণিকশালা বা ভাণ্ডশালা থেকেই গজানো।

২.
-শালা বা -শাল অনেক পুরোনো, আমাদের রূপকথায় রাজার হাতিশাল ঘোড়াশাল এন্তার মেলে, গোশালা থেকে ক্ষয়ে গোয়াল শব্দটা আমাদের কৃষিনির্ভর সমাজের সাথে নিবিড়ভাবে জড়ানো, যেখানে আমাদের মুদ্রা ছাপা হয় সেটা এখনও টাঁকশাল (টঙ্কশালা), এছাড়া পাঠশালা অতিথিশালা পান্থশালা ছাত্রশালা গ্রন্থশালা নাট্যশালা বন্দিশালা চিত্রশালা নৃত্যশালা পক্ষিশালা তো আছেই। শালা জার্মানে গিয়ে যাল (Saal), ফরাসিতে সাল (Salle), ওলন্দাজে হাল (Hal), ইংরেজিতে হল (Hall); স্যালুন বা ফরাসি সালোঁ-এর গোড়াতেও এই শালা। ছাউনি আছে এমন যে কোনো বড় ঘরকে (দেয়াল থাকুক বা না থাকুক) আমরা -শালা বা -শাল ডাকতে পারি। গারাজ্শ হতে পারে গাড়িশাল, হ্যাঙ্গারকে দেখলাম বিমানশাল বলছেন কেউ কেউ; অ্যাকোয়ারিয়ামকে আমি বাংলায় মীনশাল লিখে যাচ্ছি। সিনেমা হলকে আমরা চাইলে ছায়াশাল ডাকতে পারি; প্ল্যানেটারিয়ামকে বলতে পারি তারাশাল; অপেরা হাউজকে বলতে পারি সুরশাল। আমাদের ভাষা আমাদের সে সুযোগ বহুদিন ধরেই দিয়ে যাচ্ছে, শুধু ভেতর থেকে সাড়ার অভাবে আমরা সেটা কাজে লাগাচ্ছি না।

আমাদের আত্মতৃপ্তি কি অন্যের ভাংতি পরিচয়ে? গ্রন্থে গ্রন্থে, বাক্যে বাক্যে, শব্দে শব্দে আমরা কি শুধু ব্যাঙ্কশাল থেকে বংশাল রয়ে যাবো আর হয়ে যাবো? নাকি সরাসরি নিজেদের শব্দে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে গাঁথতে শিখবো? উত্তর আমাদেরই খুঁজে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।


মন্তব্য

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আঠারো শতকের শেষভাগে কর্নফুলী নদীর তীরে(বাংলাবাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এলাকায়) ইংরেজদের অনেকগুলো বাণিজ্যগুদাম ছিল। সেই বাণিজ্যগুদামগুলোকে bankshall নামে চিহ্নিত করা হয়েছিল ইংরেজের তৈরী ১৮১৮ সালের চট্টগ্রামের একটি মানচিত্রে। বর্তমানে ওই নামে কোন স্থাপনা না থাকলেও ওই এলাকায় একটি রাস্তার নাম বংশাল রোড। শব্দটি ইংরেজরা ব্যবহার করলেও তার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম না। কিন্তু আপনার অনুসন্ধানে যেহেতু মালাক্কা এবং মালদ্বীপ অঞ্চলে এমন শব্দের দেখা মিলেছে সেক্ষেত্রে অনুমান করা যায় শব্দটি এমন কেউ চালু করেছে যাদের যাতায়াত ছিল এইসব অঞ্চলে। পর্তুগীজ ভাষায় যেহেতু শব্দটির কাছাকাছি উচ্চারণ আছে, সেক্ষেত্রে অনুমানের শীর্ষে পর্তুগীজদের নামই থাকা সঙ্গত, কেননা তাদেরই যাতায়াত এবং শাসন ছিল এই সমস্ত অঞ্চলে। তাদের কাছ থেকে স্থানীয় সুত্র ঘুরে ইংরেজের গুদামে জমা হয়েছে ব্যাংকশাল। তাছাড়া লাভালের বিবরণে যখন শব্দটি মিলেছে তখন আরো পোক্ত হয় এই বিশ্বাস। লাভাল যখন মালদ্বীপে ছিল সেই সময় মালদ্বীপ পর্তুগীজদের অধিকারে ছিল।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

হিমু এর ছবি

পর্তুগিজ ভাষায় কাছাকাছি শব্দ নেই, ওরাও কুড়িয়ে পেয়েছে, তবে সেটাকে নিজেদের ব্যাকরণ অনুযায়ী সাজিয়েছে (বাকিদের মতোই)। ইবনে বতুতা পর্তুগিজদের শ'দেড়েক বছর আগেই এসে শব্দটা মালদ্বীপীদের মাঝে চালু পেয়েছিলেন। এ লেখার মূল বক্তব্যই সেটা, আমাদের জিনিসই আমরা ফেরত পেয়েছি, শুধু কয়েক হাত ঘুরে।

এক লহমা এর ছবি

বংশাল-এর গল্প তো রীতিমত থ্রিলার! গুরু গুরু

বংশাল নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরুর কাহিনীটা ক? অর্থাৎ এই দরজাটায় ধাক্কা মারার ঘটনাটা কিভাবে এলো?

"আমাদের আত্মতৃপ্তি কি অন্যের ভাংতি পরিচয়ে? গ্রন্থে গ্রন্থে, বাক্যে বাক্যে, শব্দে শব্দে আমরা কি শুধু ব্যাঙ্কশাল থেকে বংশাল রয়ে যাবো আর হয়ে যাবো? নাকি সরাসরি নিজেদের শব্দে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে গাঁথতে শিখবো? উত্তর আমাদেরই খুঁজে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।" মজা হচ্ছে আমি যখন সেই প্রথম দিককার দিনগুলোয় আপনাদের বিভিন্ন লেখাগুলো পড়তে পড়তে রত্নপুরীর সন্ধান পাওয়ার আনন্দে খুশী হয়ে উঠছিলাম তখন আমার কিন্তু ধারণা হয়েছিল যে সচলায়তন এই প্রশ্নটার উত্তর জানে এবং কাজ শুরু করে দিয়েছে। পরবর্ত্তীতে যে ভাটির টানটা এসেছে সেটাতে এই কাজটাও ধাক্কা খেয়েছে। সচেতন ভাবে উদ্দেশ্যে স্থির থেকে অনেকে মিলে প্রচুর লেখালেখি করলে এই কাজটা গতি পাবে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

হিমু এর ছবি

জেমস লিপ্টনের বইটা নিয়ে আগের পর্ব লেখার সময় ভেনারির বাংলা প্রথমেই মনে পড়েছিলো মৃগয়া। তখন আরো মনে পড়ে গেলো কোথায় যেন পড়েছিলাম (সম্ভবত নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির কোনো লেখায়) যে মৃগ‌্ ধাতুর অর্থ খোঁজা, পাওয়ার জন্যে ব্যাকুল হওয়া, ধাওয়া করা ইত্যাদি, যেটা ঐ ভেনারির ভেন- ধাতুর সাথে খাপে খাপে মিলে যায়। তখন আরো মনে পড়লো আরেক লেখায় পড়েছিলাম যে মৃগ মানে আমরা হরিণ বলে জানি, কিন্তু এটা রূঢ়ার্থ, মৃগ হচ্ছে আংরেজ যাকে বলে Beast। তারপর চিন্তায় মুলতুবি দিয়ে পরশুরামের ভাষায় চন্দ্রসূর্যে অয়েল করছিলাম। তারপর আবার কয়েকদিন পর মনে হলো, মৃগের সাধারণ অর্থ যদি পশু হয়, তার উদাহরণ তো থাকবে। শাখামৃগ ছাড়া তো আর কিছু জানি না। একটু খুঁজে পেলাম, কুকুরের আরেক নাম ছিলো গ্রামমৃগ। তখন মনে হলো, মনাজরির বাংলা মৃগশাল লেখা যায়। তারপর আবার চন্দ্রসূর্যে অয়েল করায় ফিরে গেলাম। কিন্তু -শাল ব্যাপারটা মনে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোতে লাগলো। যা দেখি সেটার লেজেই শাল জুড়ে দিতে লাগলাম। জার্মান মাশিনেনহালের বাংলা করা যায় যন্ত্রশাল, শুইমহালের (সুইমিং কমপ্লেক্স) বাংলা করা যায় তরণশাল, ফিন সাউনার (যাকে আম আংরেজ বলে সনা, শিক্ষিৎ আংরেজ বলে স্যুডেটোরি) বাংলা করা যায় ভাঁপশাল, কেনেলের বাংলা করা যায় ভৌশাল (বেড়ালের জন্যে ম্যাঁওশাল), ইত্যাদি ইত্যাদি। এক পর্যায়ে হৃষ্টচিত্তে ভাবছিলাম বড় হয়ে একটা হুঁকোর দোকান দেবো, সেটার নাম রাখবো বংশাল।

সচেতন ভাবে উদ্দেশ্যে স্থির থেকে অনেকে মিলে প্রচুর লেখালেখি করলে এই কাজটা গতি পাবে।

তা তো বটেই।

এক লহমা এর ছবি

"-শাল ব্যাপারটা মনে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোতে লাগলো।" দেঁতো হাসি
"এক পর্যায়ে হৃষ্টচিত্তে ভাবছিলাম বড় হয়ে একটা হুঁকোর দোকান দেবো, সেটার নাম রাখবো বংশাল।" হো হো হো
গল্প লেখার গল্প-টাও চমৎকার আছিল।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

Dilip Kumar Datta এর ছবি

কোলকাতার ব্যাংকশাল (bankshall) নামে রাস্তাটা গংগা নদীর পারে। সেখানে ইংরেজদের তৈরী অনেকগুলো বড় বড় বাণিজ্যগুদাম আছে যা আজও ব্যবহার করা হচ্ছে। নামগুলিও ইংরেজদের নামেই রয়ে গেছে। যদিও কিছু কিছু নাম ইদানীং পাল্টানো হচ্ছে। এখানেই ইংরেজদের তৈরী ব্যাংকশাল কোর্ট-টি রয়েছে। চালু রয়েছে বড়বাজার ইংরেজ আমল থেকেই। এর পাশেই ইংরেজদের তৈরী অফিস পাড়া ডালহৌসী। পাশেই রাইটার্স বিল্ডিং।
ব্যাংকশাল শব্দটির গুরুত্ব বোঝা গেল। লেখককে ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ, দিলীপ। কলকাতায় কোন নামগুলো কেন পাল্টে কী রাখা হচ্ছে, এ নিয়ে আপনি সচলায়তনে লিখতে পারেন কিন্তু। পৃথক লেখা লিখতে না চাইলে এখানে মন্তব্যের খাতায়ও লিখতে পারেন।

Dilip Kumar Datta এর ছবি

ধন্যবাদ হিমু।
কোলকাতার ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য / শিল্পকলা এবং রাস্তাঘাটের নাম পাল্টানো শুরু হয়েছে বহু আগে থেকেই। বিশেশতঃ ঐতিহাসিক ভাবে বিখ্যাত স্থাপত্য 'মনুমেন্ট'-এর নাম পাল্টে 'শহীদ মিনার' করা হয়েছে বহু আগেই। এরপর সরকার এবং কোলকাতা পুরসভা বিভিন্ন সময়ে বিখ্যাত ইংরেজদের নামে রাস্তাগুলোর নাম পাল্টে বাংলা এবং ভারতীয় মণীষীদের নামে রাখতে শুরু করে। এর সঙ্গে দেশীয় আবেগ জড়িত আছে।
বঙ্গবন্ধু'র নামেও একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। হো-চি-মিন-এর নামেও রাস্তা আছে।
সবচাইতে মজার ব্যাপার হোল, রাস্তাগুলির পুরনো নাম পাল্টে নতুন নাম দেওয়া হলেও সাধারন মানুষ কিন্তু পুরনো নামেই আজও রাস্তাগুলিকে চেনে জানে। বাস বা ট্রামের পরিচালকদের নতুন রাস্তার নাম বললে, অধিকাংশই জানেননা, কোথায় তার অবস্থান বলতে পারেন না।
তারা পুরনো নামেই অভ্যস্ত। এ নিয়ে তথ্য জোগাড় করে লিখতে গেলে যে ধরনের পড়াশুনা করা দরকার তা আমার সাধ্যর বাইরে। তবে 'নেটে' বা উইকিপিডিয়া'-তে সবই পাওয়া যায়।

সোহেল ইমাম এর ছবি

শাল যোগ করে নতুন কি শব্দ বানানো যায় তাই ভাবছি। আপনার লেখা পড়লেই মনে হয় আরে তাইতো আমরা নতুন এই শব্দ গুলো ছেড়ে এতোদিন কিভাবে ছিলাম,নতুন শব্দ আমিও বানিয়ে ফেলবো। পরে দেখি মাথা থেকে কিছুই বোরয়না আর।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

হিমু এর ছবি

লিখতে বসলে যখন আটকে যাবেন, তখন বানিয়ে ফেলবেন। আজ ক্রিমেটোরিয়ামের একটা বাংলা মাথায় এলো, দাহনশাল (দাহন মানে ভস্মীকরণ)।

অবশ্য সব কিছুই -শাল বা -শালা দিয়ে হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বাংলায় -আগার অনেক চলে (কারাগার, পাঠাগার, হিমাগার, শবাগার)।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।