প্রবাস প্যাচালি -০৫

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: মঙ্গল, ০৪/১১/২০০৮ - ১১:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নভেম্বর ৪, ২০০৮
টেক্সাস

আজ এখানে ‘ইলেকশন ডে’। দেশে থাকলে এই রকম দিনে সক্কাল সক্কাল ভোট দিয়ে বন্ধু-বান্ধবের বাসায় আড্ডা, খানা-পিনাসহযোগে রাজা-উজির মারা যেত। কিন্তু পরবাসী জীবনে এইসব আমোদ-ফুর্তি শুধু স্বপ্নেই দেখতে হয়। তার উপর এরা জাতি হিসেবে বড়ই বেরসিক। এদের ইলেকশন ডে-ও এখানে ওয়ার্কিং ডে- খাইট্টা খাও জনগণ। তয় ছুটি নাই, তো কি হইছে। আজ নিজেই নিজেরে ছুটি দিলাম। অফিসে আইছি ঠিকই, কিন্তু কোন কাম করুম না। আজ ব্লগেই অফিস। সচলায়তনের ‘আড্ডাঘর’ ঠিক থাকলে আজ এখানেই একটা ভার্চুয়াল আড্ডা দেয়া যেত। মডূগণ, আড্ডাঘর কি আর কখনই ঠিক হবে না?

আমার আশেপাশে সবাই বোধহয় আর্লি ভোটিং-এর সময় ভোট দিয়ে আসছে। কারো কোন নড়ন-চড়ন নাই। চেহারা দেখেই বলে দিতে পারি এরা চোখ বুঁজে ম্যাককেইনকে ভোট দিসে। বাংলাদেশী যারা এখানে ভোটার তারাও অবশ্য আগেই ওবামাকে ভোট দিয়ে আসছে। দু’একজন অবশ্য টেক্সাসে রিপাবলিকানরাই জিতবে বলে কষ্ট করে আর ভোট কেন্দ্রে যায় নি।

আজ এখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তো বটেই, একই সাথে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনও- মানে আমাদের সংসদ নির্বাচনের মতই আর কি। আমেরিকায় আমার ভোট দেয়ার তো এখনো বয়স হয় নাই (এহেম, মানে যোগ্যতা হয় নাই আর কি চোখ টিপি ), তাই একজনরে জিগাইলাম কেমনে ভোট দিছেন, সিস্টেমটা কি এতগুলা প্রার্থীরে ভোট দেয়ার? কয় ফুল প্যানেলে ভোট দিতে চাইলে খুবই সোজা। ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমেই অপশন দেখায় তুমি ওবামারে ভোট দিবা নাকি ম্যাককেইনকে? ওবামারে দিলে কি তারে আন্ডা-বাচচাসহ মানে ফুল প্যানেলে দিবা? হ্যাঁ অপশন সিলেক্ট করলেই অটোমেটিক ওবামাসহ ওই এলাকার যত ডেমোক্রাট সিনেটর, কংগ্রেসম্যান সবাইকেই ভোট দেয়া হয়ে যাবে। আর যদি কেউ ঠিক করে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা আর সিনেটে রিপাবলিকান কোন প্রার্থী আর কংগ্রেসে স্বতন্ত্র কোন প্রার্থীকে ভোট দিবে, তবে ঝামেলা আছে- তাকে আলাদা আলাদাভাবে সবাইকে ভোট দিতে হবে।

এই ফুল প্যানেল অপশনটা আমার পছন্দ হয় নাই। এটা থাকলে কে আবার গতর খেটে আলাদা ভোট দিতে যাবে? সবাই হয় ফুল প্যানেল ডেমোক্রাট অথবা রিপাবলিকানই ভোট দিবে। যাউকগা আমি আদার ব্যাপারি। এইসব ভোটের বাইরেও আবার কিছু স্থানীয় জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভোট আছে। যেমন ধরেন আপনার এলাকায় গে-লেসবিয়ানদের বিয়ের অনুমতি দিলে আপনার কি আপত্তি আছে- এইরকম হ্যাঁ না জাতীয় ভোট আছে। এগুলার ওপর বেইজ করে স্থানীয় আইন-কানুনগুলা ঠিক করা হয়।

ইলেকশনের আগে আগে দেখি পেট্রোলের দাম কমে গেল। কালকে গ্যাস নিলাম গ্যালন ২.০৬ দরে। তেলের দাম ২ ডলারে আবার কখনো কিনতে পারব এটা কিছুদিন আগেও ভাবি নি। ইলেকশনের পরে আবার দাম না বাড়লেই হয়।

যাই হোক ভ্যাজর ভ্যাজর অনেকক্ষণ করলাম। এইবার আপনাদের কিছু আমোদের খোরাকি দেই। এটা সারাহ প্যালিনের সাম্প্রতিকতম ছাগলামির উদাহরণ। গত শনিবার কানাডার এক রেডিও স্টেশন থেকে এক কমেডিয়ান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি সেজে সারাহ প্যালিনরে ফোন দিসিল। প্যালিনও তারে আসল সারকোজি ভেবে গদগদ আলাপ জমায়ে প্রাঙ্ক কলে ধরা খাইছে। ইউটিউব থেকে ফোনালাপ শুনেন। ট্রান্সক্রিপ্ট নীচের লিংক থেকে পড়ে নিতে পারেন। বহুতদিন এইরকম হাসা হয় নাই দেঁতো হাসি

ফোনালাপের ফুল ট্রান্সক্রিপ্ট এইখানে পাইবেন।


মন্তব্য

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

এই দেশে তো ভোটের দিনে ব্যাপক আয় ইনকাম হয় লোকের... আপনেগো দেশে সেই সিস্টেম নাই?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

তানভীর এর ছবি

আমাগো দেশে! মজাক করেন?? এইখানে ভোটের দিন কিছুই নাই, আগে থেকে না জানলে বুঝতেই পারবেন না যে ভোট হইতেছে...বেক্কল লোকজন সব।

তানভীর এর ছবি

টেক্সাসে প্রজেক্টেড উইনার ম্যাককেইন ৫৩% ওবামা ৪৬% ...কাউবয়রা আর মানুষ হইল না...

= = = = = = = = = = =
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আজ স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠ ফাটা রোদ সেঁকে চামড়া

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

সারাহ্ পলিন এতো বোকা কেন! মন খারাপ

ক্যামেলিয়া আলম এর ছবি

অসাধারণ এক জিনিষ !
.....................................................................................
সময়ের কাছে এসে সাক্ষ্য দিয়ে চ'লে যেতে হয়
কী কাজ করেছি আর কী কথা ভেবেছি..........

.....................................................................................
সময়ের কাছে এসে সাক্ষ্য দিয়ে চ'লে যেতে হয়
কী কাজ করেছি আর কী কথা ভেবেছি..........

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- তানভীর ভাই, এইটা যে আপনের 'এক নম্বর ধুগো মার্কা প্যালিন বউমা' এইটা শিউর হলেন ক্যামনে? চিন্তিত
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তানভীর এর ছবি

এইটা দেখেন বিবিসির নিউজ। এখন শিওর হইছেন তো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।