| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
![]()
সমস্যা শুরু হয়েছিল বিয়ের দিনেই। শ্বশুর বাড়ির লোকজন দাদাকে মাত্র এক হাজার টাকা নজরানা দিলো! খেপে গেলেন মা, বাবা, বড় চাচা...।
ভাবী যে শো-কেস এনেছে সেটার তাকগুলো কদম কাঠের। সোফার ফোম খুব বাজে, দুদিনেই বসে যাবে। ড্রেসিং টেবিলটার ডিজাইন সেই মান্ধাতা আমলের। আরো কতো ভেজাল যে আছে.....!
ভাবীর অনেক খুঁতও বেরুতে লাগলো। কথা বলে কেমন করে, তিন বাড়ির মানুষ শুনতে পায়!
ঠা ঠা করে হাসে। বাপের বাড়ির এতো অপরাধের ব্যাপারেও তার কোনো বিকার নেই। এমন ভাব দেখায়...! যেন কিছুই হয়নি...
এরকম হলে কার না খারাপ লাগে! শরীর জ্বলবে না কার?
আর দাদাও এমন ভেড়ুয়া! বউ এতো বেহায়ার মতো চলে তবু কিচ্ছু বলবে না। যেন কিছুই হয়নি। বিয়েতে এতো অপমান, আর সে মিন মিন করে বলবে, 'থাক এসব নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর লাভ কী!' কোনো আত্মসম্মান নেই। দু'দিনেই বউয়ের আঁচলের তলে ঢুকছে!
আমরা কেউ ভাবীকে পছন্দ করি না। আচরণেও সেটা বুঝিয়ে দেই। কিন্তু ভাবী সেটা গায়েই মাখে না। আর নিজেকে জড়াবে সবকিছুতে। আমরা হয়তো বসে গল্প করছি বা খেলছি, এসে বলবে_ 'আমিও খেলবো তোমাদের সঙ্গে...।'
বাবা বাটার জুতা পরেন। প্রাচীন ডিজাইনের ভোম্বল সাইজ জুতা পরছেন তো পরছেনই। দাদা কতোবার অন্য কোম্পানির জুতা এনেছেন, বাবা পায়ে দিয়েও দেখেননি।
আর মা বল সাবান না হলে কাপড় ধোয়াই বন্ধ করে দেন। কতো কতো নতুন ডিটারজেন্ট বেরিয়েছে, তাদের কতো বাহারি বিজ্ঞাপন! কিন্তু মা তার বল সাবান বদলাবেন না।
বাবা, মা, বড়চাচা_ সবারই এমন অনেক কিছু আছে, যা কখনো বদলানো হবে না। তিনজনই বলেন_ 'এসব বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না।'
বল সাবান কিংবা বাটার জুতা বদলানো অসম্ভব। কিন্তু বউ বদলানো কোনো ব্যাপারই না। এটা আমরা সবাই জানি। মা বলছেন, দাদার বউ বদলে ফেলবেন।
---------------------------------------
এই গল্পটা নিয়মিত ব্লগাররা হয়ত কিছুটা চিনতে পারেন! আমি ব্লগে আসার অনেক আগেই হাসান মোরশেদ এর মাধ্যমে গল্পের সাথে কারো কারো পরিচয় হয়েছে।
যারা প্রথম আলো'র প্রথম দিকের পাঠক তাদেরও হয়ত নজরে পড়তে পারে গল্পটি। কারন প্রথম প্রকাশটা হয়েছিল 'বন্ধুসভায়'।
৩
খুব ভালো গল্প। অল্প কথায় এতো কিছু কীভাবে লিখতে হয়, শিখতে পারলাম না।
লেখাটা আগে চোখে পড়েনি কেন কে জানে! আপনার দোষ না, দোষ আমার চোখের।
৪
ধন্যবাদ জুবায়ের ভাই। আপনার দোষ নাই। এই লেখাটা প্রথম পাতায় দেয়া হয়নি। অরূপের সৌজন্যে এখানে এনে সংগ্রহ করা হয়েছে, এই যা। আপনি পড়েছেন, আমার খুব ভাল লাগছে।
৫
আমি এটাই প্রথমবার পড়লাম। আপনি যে ১০ বছর আগেই অনেক বড় মাপের লেখকে পরিণত হয়েছেন তার একটা জ্বলজ্বলে প্রমান।
আর কিছু বলছি না। আপাততঃ আবেগে রুদ্ধপ্রায় আবস্থার মধ্যে আছি!
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৬
এক রাশ মুগ্ধতা।
৭
অদ্ভুত সুন্দর!
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল
৮
খুব ভালো লাগল। অনেক আগে পড়া রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তীর কথা মনে পড়ে গেল।
অসাধারণ!!
৯
চমত্কার গল্প৷ ভাল লাগল৷
১০
অসাধারণ...আমরা সবাই হৈমন্তীর অপু ![]()
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।
১১
ধন্যবাদ আরেফীন, সন্ন্যাসী, পরিবর্তনশীল, ইয়োকেল, দময়ন্তী এবং জি.এম.তানিম কে।
এই অতিপুরাতন লেখাটাযে আপনারা খুঁজে খুঁজে বের করলেন! পড়লেন!! শেষে আবার কমেন্টও করলেন!!!
আমি আপ্লুত আপনাদের ভালোবাসায়। সব্বাইকে ধন্যবাদ।
১২
খুবই চমৎকার একটা গল্প! অনেকদিন পর পড়া হলেও, ভাগ্যিস হলো
১
আবার পড়লাম। বউ, বাটা , বল সাবান।