শিশুভূক দেশে আমাদের ক্রিয়া আর প্রতিক্রিয়া

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: রবি, ২৮/১২/২০১৪ - ২:৫৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলাদেশ ক্রমশ শিশুদের জন্য বিপদজনক একটি দেশ হয়ে উঠছে।

খবরের কাগজে চোখ রাখলে প্রায় প্রতিদিনই কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের কথা পড়ি, যেখানে ভিক্টিম এক বা একাধিক শিশু। ধর্ষণের পর শিশুদের হত্যা করার খবরটি মোটামুটি সাপ্তাহিক একটি ঘটনায় পরিণত হয়েছে, কিন্তু সেগুলো নিয়ে আমাদের খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। ব্যাপারটাকে অনেকটা ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখার একটা প্রবণতা আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে। হয়তো মিডিয়া আমাদের এই ঘটনাগুলোর লাইভ কাভারেজ দেখাতে পারে না বলে আমরা বেশি সাড়াশব্দ করি না। তবে গতকাল ঢাকার শাহজাহানপুরে একটি গভীর কূপের ভেতরে চার বছর বয়সী একটি শিশুর উদ্ধার তৎপরতার বিজ্ঞাপনখচিত কাভারেজ মিডিয়া যেভাবে দেশবাসীকে উপহার দিয়েছে, একটি শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার দৃশ্য সেভাবে দেখালে হয়তো আমরা চুপ করে গিয়ে নিজের কাজে মন দেওয়ার আগে অন্তত দুই তিনদিন চেঁচামেচি করার মতো একটা রগরগে ইস্যু খুঁজে পাবো।

অনলাইন খবরের কাগজে একটু পরপর নানা পরস্পরবিরোধী খবর পড়ে যা বুঝলাম, জিহাদ ঐ গভীর পাইপে পড়ার পর কান্নাকাটি করে, উদ্ধার করার জন্য নিজের মাকে ডাকে। এলাকার কয়েকজন লোক তাকে পাল্টা ডেকে সাড়া পায়। তারা টর্চ আর রশি ঝুলিয়ে বাচ্চাটাকে তুলে আনার চেষ্টা করে। দমকল বাহিনী এসে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিজেরা বাচ্চাটাকে উদ্ধারের জন‌্য দীর্ঘ সময় ধরে নানা কসরত করে। এ সময় টিভি সাংবাদিক নামের এক শ্রেণীর জীব এসে তাদের ঘিরে ধরে এবং জিহাদের এই প্রলম্বিত যন্ত্রণাটিকে তারা সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের ব্যবসার পণ্য বানিয়ে ফেলে। টেলিভিশনে এই পুরো ব্যাপারটি সরাসরি সম্প্রচারের জন্য এক চ্যানেলের সাংবাদিক অন্য চ্যানেলের সাংবাদিকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে দুর্ঘটনাস্থলটিকে মাছের বাজার বানিয়ে ফেলে। এই সরাসরি সম্প্রচারে তারা অনেক স্পনসর খুঁজে পায় অল্প সময়ের মধ্যেই, এবং জিহাদের খবরের ফাঁকে ফাঁকে স্পনসরদের বিজ্ঞাপনও প্রচারিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে পাইপের ভেতরে ক‌্যামেরা নামিয়ে বেশ কিছুদূর খুঁজে কোনো শিশুর দেহের অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে উদ্ধারকর্মী ও মিডিয়া একযোগে বলতে থাকে, পাইপের ভেতরে জিহাদ নেই। এই বক্তব্য দমকলপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দু'জনেই পুনর্ব্যক্ত করেন। এরই জের ধরে জিহাদের বাবাকে পুলিশ ডেকে নিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরই মাঝে দমকলপ্রধান উদ্ধারাভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মিনিট পর এই উদ্ধারকাজে নবাগত তিন যুবক তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে জিহাদের অসাড় দেহ পাইপের ভেতর থেকে তুলে আনেন। ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা যায়, জিহাদ মৃত।

পুরো ব্যাপারটি নিয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলাম।

[১] দমকল বাহিনী যে কাজটি পারেনি, তিনজন যুবক নিজস্ব উদ্ভাবন দিয়ে তা করে দেখিয়েছেন। এখন দমকল বাহিনীকে ব্যাখ্যা করতে হবে, তারা কোন কোন পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে জিহাদকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। সীমিত সম্পদ দিয়ে আমাদের দমকল বিভাগ অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করেন, তাই তাঁদের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি প্রকাশ করে বলছি, এই একটি ক্ষেত্রে তাঁরা শোচনীয়ভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছেন। দমকল বাহিনীর প্রধান যখন উদ্ধারাভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করছেন, তখন তাঁর কয়েক গজ দূরে দাঁড়িয়ে জিহাদকে গভীর কূপ থেকে তোলার চেষ্টা করছিলেন অপেশাদার উদ্ধারকর্মীরা। যারা সফল হয়েছেন, তাদের কৌশলটি দমকল বিভাগ শিখে নিচ্ছে কি না, বা এ কৌশলটির আরো শাণিত প্রয়োগ নিয়ে দমকল বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, তা সরল ভাষায় দেশের মানুষকে জানাতে হবে।

[২] উদ্ধারকারী শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মুন ও আব্দুল মজিদ খুব সরল একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিহাদের দেহ উদ্ধার করেছেন। বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র তানভীর আরাফাত ধ্রুবও কাছাকাছি নকশার একটি যন্ত্র নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। তাই এ কথা খুব স্পষ্ট যে মানুষের আইডিয়া এ ধরনের দুর্যোগে পেশাদার উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করতে পারে। তাই দমকল বাহিনীর কাছ থেকে আরো আধুনিক আচরণ প্রত্যাশা করি। দমকল বাহিনী খুব সহজেই একটি হেল্পলাইন স্থাপন করে উদ্ধারকাজে উৎসাহী মানুষদের বুদ্ধিবৃত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন। দমকল বাহিনীর সদর দফতরে বসে একজন কর্মকর্তা দমকল বাহিনীর ফেসবুক পেজে একটি থ্রেড খুলে প্রকাশ্যে মানুষের মতামত নিতে পারেন, সদর দফতরে বসে সেগুলো যাচাই বাছাই করে দূরযোগাযোগের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ তত্ত্বাবধায়কের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

[৩] যে কোনো দুর্ঘটনাস্থলে একটি নির্দিষ্ট পরিসীমা স্থাপন করে (ঢিলছোঁড়া দূরত্বের বাইরে) দমকল বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দাঙ্গা পুলিশ বরাদ্দ করা অবশ্যকর্তব্য। হাজার হাজার উৎসুক প্রত্যক্ষদর্শনলোভী মানুষ যদি ঘিরে থাকে, শোরগোল করে, ঠাণ্ডা মাথায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা খুবই দুরূহ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এদের এবং মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে ব্যবসা করা টিভি সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে ভদ্র ও সভ্য দূরত্বে দাঁড় করিয়ে এক ঘণ্টা পর পর উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো যেতে পারে (যদি তা আদৌ সম্ভব হয়)।

[৪] দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের শিকার যারা, তাদের ও তাদের পরিজনদের প্রতি টিভি সাংবাদিকদের আরো সহানুভূতি ও সমানুভূতির প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই জীবগুলো জানেই না একজন শোকার্ত মানুষের সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে। হয়তো এরা মৌগলির মতো জঙ্গলে বড় হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর জামাকাপড় যোগাড় করে পরে লোকালয়ে এসেছে এবং সোজা টিভি চ্যানেলে গিয়ে চাকরি নিয়েছে। সভ্য জগতে কীভাবে দুর্গত মানুষের শোককে প্রচার করা হবে, এ নিয়ে তাদের অবিলম্বে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। নীতিপ্রণেতারা সম্প্রচার নীতিমালায় এ ব্যাপারে বিশদ নজর দেবেন, এমন আশা করছি।

কোরবানির গরুর রক্তের চারপাশে মাছিও এভাবে ভিড় করে না

[৫] আমরা যারা ভদ্দরলোক, তাদের বাচ্চারা সাধারণত গভীর নলকূপের আশেপাশে খেলতে গিয়ে সেটাতে পড়ে যায় না, তাই আমরা এ ধরনের ব্যাপারগুলো "দর্শকের" চোখ দিয়ে দেখি। খেলতে গিয়ে বল ভেবে ককটেল কুড়িয়ে বিস্ফোরণে পঙ্গু বা নিহত শিশুরা, কিংবা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুরাও আমাদের দর্শকের চোখের শিকার। এই বাচ্চাগুলোর পরিণতি যে আমাদের বাচ্চাদেরও হতে পারে, এই আশঙ্কাটুকু আমাদের সবার মধ্যে সঞ্চারিত হওয়া প্রয়োজন। আমরা গ্যালারিতে ভূট্টার খৈ হাতে দর্শকের ভূমিকা থেকে নিজেদের যতদিন বিচ্যুত করতে না পারবো, এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্ত হতে থাকবে। জিহাদ আমাদের কারো না কারো খুঁড়ে রাখা পাইপে পড়েই মারা গেছে। আমরা যদি এই দোষী লোকগুলোকে চিহ্নিত না করি, তাকে শাস্তি না দিই, তার ও তার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় না করি, কয়েক মাস পর দেশের আরেক জায়গায় হয়তো একই পরিণতি বরণ করবে অন্য কোনো শিশু।

[৬] ভবিষ্যতে ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, এ কথা মাথায় রেখে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের প্রতি একটি অনুরোধ। চাঁদে রোবট পাঠানো নিয়ে যেমন জমজমাট রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা হয়, ঠিক তেমনি উৎসাহ নিয়ে গভীর কোনো কূপে আটকা পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা হোক। দুর্গত মানুষটির কাছে আলো, পানি, অক্সিজেন ও যোগাযোগের মাধ্যম পৌঁছে দেবে একটি রোবোট, যেটি একই সাথে তাকে যান্ত্রিকভাবে নিরাপদে চেপে ধরবে এবং উদ্ধারকারীরা সে মানুষটিকে সাধারণ একটি উইঞ্চ দিয়ে তুলে আনবেন। চাঁদে রোবোট পাঠানো খুবই উদ্দীপক একটি প্রস্তাব, কিন্তু একজন মানুষের প্রাণ বাঁচানো এর চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গতকাল যারা জিহাদের দুর্ভোগের সম্প্রচারে স্পনসর করে ব্যবসা করেছেন, তারা এ ধরনের একটি উদ্যোগে স্পনসর করে দ্বিতীয় জিহাদের প্রাণরক্ষায় অগ্রিম অংশ নিন। আমাদের তরুণরা অফুরান প্রাণশক্তি আর আইডিয়া নিয়ে প্রতিদিন ছটফট করেন, তাদের অংশগ্রহণে এ ধরনের একটি প্রতিযোগিতা থেকে অনেক সহজসাধ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে বলি বিশ্বাস করি।

[৭] চলতে চলতে যেখানেই শিশুদের জন্য বিপদজনক কোনোকিছু দেখবেন, সাথে সাথে সবার গোচরে আনুন। প্রয়োজনে ঐ সমস্যাটি সমাধান না করা পর্যন্ত সমাধানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাটিকে সম্ভাব্য সকল বৈধ চাপের মুখে রাখুন। হয়তো আমাদেরই কোনো শিশু বড় হয়ে পুরো মানবজাতির উত্তরণের ভার নিতে পারে, সে যেন একটি ১৫ ইঞ্চি পাইপের কাছে আমাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরাজিত না হয়।


মন্তব্য

মেঘলা মানুষ এর ছবি

[২] উদ্ধারকারী দুজনের 'ইম্প্রোভাইজেশন' যে অন্তত কাজ করেছে সেটা ভালো, যদিও অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে আগেই। ফেসবুকে মানুষ একে, তাকে এবং বুয়েটকে দোষারোপ করছে কাজে ব্যর্থ হবার জন্য। (বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র-কে বিশেষজ্ঞ দল বলে মানুষ ফেসবুকে উল্লেখ করছে। খবর বিকৃত করার কাজে ফেসবুকের জুড়ি নেই।) এসব কাজের দায়িত্ব শুধুমাত্র ও কেবলমাত্র দমকল বাহিনীর।

সামরিক বাহিনীর তুলনায় দমকল বাহিনীর ব্যয় অনেক কম, তাদের লোকবল, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জামাদিও অপ্রতুল। রানা প্লাজা এটা মোটামুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

[৩] এই জিনিসটা আমাদের দেশে চালু করা দরকার। আমাদের দেশে যাই ঘটুক না কেন, ভীড় করা দর্শকের অভাব হয় না।

[৪] সাংবাদিকদের পাশাপাশি আমাদের দর্শকদের 'সেনসেশনাল' খবরের ক্ষুধা দূর করা দরকার। ধরি, আমি 'কদমফুল টিভির' সাংবাদিক। আমি যদি মানবিক নীতি মেনে, নির্দিষ্ট দূরে দাঁড়িয়ে ঘটনা কভার করি তাহলে কি হতে পারে।

(ক) দর্শক দেখবে যে 'কদমফুল' চ্যানেলে গর্তের কাছটা দেখা যাচ্ছে না, তারা চ্যানেল পাল্টে সেই চ্যানেলে চলে যাবে
যেখানে সাংবাদিক ঘটনার ভেতর ঢুকে উদ্ধারকাজে ঝামেলা করে যার তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে, অদ্ভুত অদ্ভুত প্রশ্ন করছে।

(খ) অফিসে ফেরার পরে আমার বস আমাকে ঝাড়ি দেবেন এই বলে যে, আমি এক অকর্মণ্য সাংবাদিক। সব চ্যানেলের
সাংবাদিক ঘটনার 'ভেতরে' গিয়ে রিপোর্ট করে আর আমি কেন 'ভেতরে' ঢুকলাম না এর জন্য জবাবাদিহিও করতে হতে
পারে।

আমি বলছি না যে কারও দোষ নেই, আমার কথা হল পুরো জিনিসটাই বদলাতে হবে। দুই-একজন সতর্ক সাংবাদিক দিয়ে কোন কাজ হবে না, পুরো সাংবাদিক সমাজকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

[৭] ঢাকা শহরে খোলা ম্যানহোলগুলোর কথা মনে পড়ল। কিভাবে এত শতশত গর্ত রাস্তার মাঝে বসে থাকত সেটা আমাকে বিস্মিত করত। বিপদজনক কিছু দেখলে সেটা জানানোর একটা হটলাইন থাকতে পারে, এবং রিপোর্টেড বিপদগুলো অনলাইনে রাখা যায় যেখানে এর আপডেট দেয়া হবে।
যেমন, হাজি মরণ আলী রোডের মাঝামাঝি গর্ত:
২ রা জুন ২০১৪-ফোনে রিপোর্ট পাওয়া গেল
৩ রা জুন ২০১৪-কর্তৃপক্ষ (সিটি কর্পো) -কে জানানো হয়েছে
৫ ই জুন ২০১৪-গর্ত ভরাট করে ফেলা হয়েছে

মাসুদ সজীব এর ছবি

এত কোটি কোটি টাকা খরচ করে যুদ্ধ বিমান কিনে যদি ফেলে রাখতে পারে, অথচ এর চেয়ে জরুরী মানুষের জীবন রক্ষার্থে দমকল বাহীনির জন্যে নানা সরাঞ্জাম কেন কিনতে পারে না সরকার? কেন তাদের আরো উন্নত প্রশিক্ষন দিয়ে আধুনিক কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে না?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

এ ক্ষেত্রে দমকল বাহিনী যে উন্নত সরঞ্জাম কিংবা উন্নত প্রশিক্ষণের অভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তা কিন্তু নয়। যারা পরে উদ্ধার করেছে, তাদের তো কোন সরঞ্জামই নাই, কোন প্রশিক্ষনও নাই। মূল বিষয়টা হচ্ছে এদের বিবেচনা বোধই খুব নিচু স্তরের।

মাসুদ সজীব এর ছবি

(১)বাংলাদেশ দিন দিন অপমৃত্যুর স্বর্গ হয়ে ওঠছে। শুধু প্রতিদিন যে পরিমান মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে কল্পনাই করা যায় না। অথচ সরকার-প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। মরুক, আমারতো কেউ মরছে না, এমন চিন্তাচেতনা নিয়েই আমরা চলছি সবাই। শুধু মাত্র বিখ্যাত কেউ মারা গেলে দিন কয়েক টেলিভিশনের পর্দায় সড়কের বেহাল দশা আর অনিয়নন্ত্রিত গাড়ি চালনার কথা উঠে আসে, তারপর আবার সেই ভুলে থাকা। অবশ্য গরু আর ছাগল দেখলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলার পরও যে দেশে কোন মন্ত্রি তার মন্ত্রিত্ব ধরে রাখতে পারে সে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের কোন মাথাব্যাথা থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না।

(৩) সহমত। যে কোন দুর্ঘটনা স্থানের নিদিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত সাম্বাদিক/উজবুক মানুষের প্রবেশ রহিত করা আবশ্যক।

(৪) মানবিকতা কে ও কত নির্লজ্জভাবে ব্যবসায় পরিণত করা যায় তার উজ্জ্বল সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে বাংলাদেশের সাম্বাদিক বৃন্দ। কালকের ঘটনাতেই সময় টেলিভিশন মেসেজ করে জানতে চেয়েছে সাধারণ মানুষের মতামত।। তাই সম্প্রচারনীতি মালা থেকে শুরু করে মনুষ্যত্ববোধের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষন এদের দেওয়া প্রয়োজন।

(৭) পুরান ঢাকার প্রতিটি বাসার দেয়াল কে প্রায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেছে তাজা বিদুতের তার। শুধু ঢাকাতেই নয়, প্রতিটি জেলা শহরের চিত্র কমবেশী এমন। আর সেই বিদুৎ স্পৃষ্টে প্রতিনিয়ত মারা যায় নির্মান শ্রমিক অথচ কোথাও এ নিয়ে কোন আলোচনা-সমালোচনা নেই। টেলিভিশনে এগুলোর কোন প্রচার নেই। অথচ টেলিভিশনে এমন অনিয়ম আর মৃত্যু ফাঁদের কথা প্রচার করলে সেগুলো নিয়ে সচেতনা বাড়তো, সরকারের টনক নড়তো। কিন্তু এগুলোতে ব্যবসা নেই, তাই এরাও নেই।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ছোটবেলায় কাকরাইলে থাকতে স্কুলের সামনের গলিতে একটা ম্যানহোল ছিল। বছরের দুদিন ঢাকনা দেখা যেত, তারপর আবার দেখা যেত কেউ ঢাকনাটা চুরি করে নিয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে সিটি কর্পোরেশন সিমেন্ট দিয়ে একটা ঢাকনা দিয়ে দিলেও কোনো লাভ হতো না। দুদিন পরই ভ্যানিশ। সারা বছর ব্যাপারটা নিয়ে খুব বেশি কারো মাথা ব্যথা না থাকলেও বর্ষার সময় হাঁটু জলের নিচে গর্তটা যখন অদৃশ্য থাকত তখন সেটা হয়ে থাকত একটা বিভীষিকার মত। কতবার যে রিকসার চাকা আটকে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার হিসেব নেই। মানুষ পরে যেতে পারত হুট করে। যে কোনো দিন কোনো বাচ্চা ম্যানহোলে পরে উধাও হয়ে যেতে পারত। আরেকটা নাটক হত, আর কোনো মন্ত্রীর ছাগল টাইপ আরেকটা মন্তব্য পেতাম। আরেকটা ব্লেম গেম হত।
একদিন রাস্তার পাশের এক বাদামওয়ালা হঠাত কোত্থেকে একটা তক্তা এনে গর্তটা ঢেকে দিল। আপাতদৃষ্টিতে খুবই ফালতু একটা সমাধান মনে হলেও পরে দেখা গেল কাঠের টুকরোটা বছরের পর বছর একই জায়গায় আছে। একটা সো কল্ড 'অশিক্ষিত' বাদামওয়ালার যেটুকু সেন্স ছিল আমাদের এতগুলো সুশীল চোদানো মানুষের সেই সেন্সটা ছিল না।
আমাদের আসেপাশের অনেক ছোট ছোট সমস্যার সমাধান আমরা নিজেরাই করতে পারি, সমস্যাটা জীবনঘাতী হবার আগেই। সরকারের কাছে কিছু চেয়ে পাওয়ার আশা এখন ছেড়ে দিয়েছি।

- সো

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ লেখাটার জন্য

অতিথি লেখক এর ছবি

সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে হয়তো অনেক অনিয়ম কমে আসতো। হয়তো মেঘলা মানুষের ৭ নাম্বার পয়েন্টের মতো কিছু ব্যাপার হটলাইনে আপডেট হতে পারতো। এই পয়েন্টটা মনে ধরলো।

এ ধরণের ব্যাপার গুলো খুব পীড়াদায়ক লাগে যখন লাইভ অনুষ্ঠান বা ঘটনা কাভারেজকারীরা তাদের " সাংবাদিকতার" গুরুত্ব তুলে ধরতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তির বা উদ্ধারকাজে যারা আছেন তাদের সাক্ষাতকার নিতে যান। যেসব মহান পেশার সাথে যারা জড়িত তাদের সহযোগিতা করার বদলে নিজেদের বাণিজ্যটা তুলে ধরতে যারা ব্যস্ত তাদের কবে জ্ঞান-বুদ্ধি হবে সেটা অবশ্য কারই জানা নেই!

অপর্ণা মিতু

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

দমকল বাহিনীর ব্যাপারটা আরও একটু বিস্তারিতভাবে আলোচনায় আসা দরকার। একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয় জনাকয়েক মানুষ চেস্টারত থাকা অবস্থায় ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনীর আগমন ঘটে। এর পর থেকে স্থানীয় লোকদের সরিয়ে দিয়ে সুদীর্ঘ সময় ধরে দমকলের সদস্যরা অমানুষিক পরিশ্রম করে যেতে থাকে, জাহিদের সাথে তারা প্রাথমিক ভাবে ইন্টার‌্যাকশনও করতে সমর্থ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কোন প্রচেষ্টাই আর কাজে আসে নাই। ধরে নেয়া যায় সময়ের সাথে সাথে তাদের উপর নানামুখী চাপ বাড়তে থাকে, একসময় যা তাদের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে জাহিদের সাথে সরাসরি ইন্টার‌্যাকশনের ব্যাপারটিও বেমালুম চেপে গিয়ে তারা ঘোষণা দিয়ে বসে পাইপের মধ্যে আদৌ কোন শিশু নাই, এবং উদ্ধার অভিজানটি তারা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রিও জানিয়ে দেন যে পাইপের মধ্যে আদৌ কোন শিশু পড়ে নাই। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে জাহিদের বাবা এবং প্রাথমিকভাবে উদ্ধার চেস্টারত কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কি হতো, যদি জাহিদকে লাশ উদ্ধার করা সম্ভব না হতো? বিষয়টা নিয়ে আরও বিচিত্র সব গুজব রচিত হতো, জাহিদের বাবা এবং আরও কিছু মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে পুলিসি নিগ্রহ ভোগ করতে হতো, বাকী জীবনটা জাহিদের পথ চেয়ে বসে থাকতো জাহিদের অভাগিনী মা। দমকলের এই আচরণের মধ্য দিয়ে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে আর এক আশংকাজনক প্রবণতা।

হিমু এর ছবি

আমার মনে হয় উদ্ধারকাজের একটা সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল থাকা প্রয়োজন। ধাপে ধাপে সমস্ত কাজগুলো রেকর্ডেড থাকা জরুরি। যেমন ভিক্টিমের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারটি যদি একবার নথিভুক্ত হয়, তাহলে সেটাকে পরবর্তীতে আর অস্বীকার করা যাবে না। সাংবাদিকেরা প্রথমে রিপোর্ট করলো শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে, জ্যুস দেওয়া হয়েছে, পরবর্তীতে একটা আধাখ্যাঁচড়া ক্যামেরা নামিয়ে তারা বলা শুরু করলো ভেতরে কেউ নাই। তো ভেতরে কেউ না থাকলে অক্সিজেনই বা কাকে দেওয়া হলো, জ্যুসই বা কাকে দেওয়া হলো?

এই গোটা ব্যাপারে তথ্য উপস্থাপনের কাজটা অত্যন্ত অপেশাদারভাবে করা হয়েছে। দেশের অর্ধেক লোক ব্যাপারটাকে "বিম্পিজামাতের আন্দোলন থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য সরকারি ষড়যন্ত্র" হিসাবে প্রচার করা শুরু করেছিলো [কিছু নমুনা]। কাজেই এই প্রোপাগাণ্ডার মনস্তাত্ত্বিক চাপ দমকল বাহিনীর ওপরও কাজ করে থাকতে পারে। "ভেতরে আদৌ কোনো শিশু নেই", এটা উদ্ধারকাজের শেষদিকে একটা জনমত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলো। দমকল বাহিনীর অপেশাদারিত্ব হচ্ছে, নিজেদের কাজে মনোযোগ না দিয়ে জনমতের সাথে তাল দিয়ে যাওয়া। এখানেই তারা ব্যর্থ, প্রশাসন ব্যর্থ।

নৈষাদ এর ছবি

বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় কোন প্রোটোকল নেই (অথবা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর অথবা অন্য কোন নামে)। কিন্তু সবকিছু দেখে মেনে নিতে হয় এটাই সত্য। প্রতিটি পদক্ষেপে শুধু নথিভুক্ত করা না, জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। মনে হয়েছি, যে যার মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা সচরাচর ঘটে না, তেমন ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু ঘটলে কিভাবে রেসপন্স করেতে হবে তার একটা প্রোটোকল থাকবে না ভাবতেই আশ্চর্য লাগে...।

আর লাগামহীন কথাবার্তা!! এমনকি করপোরেট সেক্টারেও কোন ইমার্জেন্সি রেসপন্সে ‘একজনের’ দায়িত্ব থাকে ‘কমিউনিকেশনের’। এখানে মন্ত্রি, এমডি, যে যার মত কথা বলে যাচ্ছে। (ইদানিং কালের সবচেয়ে প্রফেশন্যাল উপায়ে ইমার্জেন্সি রেসপন্স করতে দেখেছি সিডনিতে লিন্ডট (অথবা লিন্ট, নিশ্চিত নই) ক্যাফেতে। প্রধানমন্ত্রি মিডিয়াতে কথাবার্তা বলার পর সাংবাদিকরা যখন ‘কিভাবে’ জানতে চাইল, তিনি সোজা বললেন এটা এখন পুলিশের এক্তিয়ার, তারা বলবে। বন্দুকধারী টিভি স্টেশনে যোগাযোগ করলে তারাও প্রটোকল মেন্টেন করেছে, পুলিশে জানিয়েছে, ‘লাইভ’ সম্প্রচারের লোভ সংবারণ করে।)

সবশেষে, জিয়াদকে যেভাবে উদ্ধার করা হল, আমাকে কোন ভাবেই স্বস্তি দেয় না। আমি বাহবা দিতে পারিনা। এটা সবসময়ই ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের’ হওয়া উচিত। এতে জনগনের আস্থার সংকট দেখা দিবে...। ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের’ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত।

সবেশেষে, মানবাধিকার-নাম-ধারী এতগুলো সংস্থা, কেউ ওয়াসার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিল না...।

ফাইয়াজ জামাল এর ছবি

সেদিন রাতে এই লাইভ ব্রডকাস্ট রাত বারোটা থেকে প্রায় ভোর ৫ টা পর্যন্ত দেখেছিলাম। রাত দেড়টার আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল উদ্ধার কাজের ব্যাপারে সবাই অনেক আন্তরিক। বুয়েটের 'বিশেষজ্ঞদের' তত্বাবধানে ক্যাচার তৈরী হবে, নামানো হবে, এরকমই ধারণা দেয়া হচ্ছিল। এ সময় বাচ্চাটির অবস্থান সনাক্তের জন্য একটি ক্যামেরা নামানো হয়। ক্যামেরার ছবিতে একটি বস্তার মত কোনো কিছু যখন দেখা যাচ্ছিল, তখন ৭১ টিভির (বা ২৪ চ্যানেলও হতে পারে) ক্যামেরার সামনে এন এস আই এর একজন কর্মকর্তা হঠাত বলে উঠেন কোনো বাচ্চা নাই, সব গুজব। গুজবের ধোয়া উঠাতে মনে হয় সবাই একটু হতোদ্যম হয়ে পরেন, কারণ তখন রাত ২ টা বাজে প্রায়। এর একটু পরেই উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একে একে পাততাড়ি গোটান, মন্ত্রীও গুজবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে স্থান ত্যাগ করেন। বস্তা সরানোর ব্যাপারে ক্যামেরার সামনেই দুইজন কর্মকর্তা (কোন পর্যায়ের বা সংস্থার, তা বোঝা যাচ্ছিল না) তর্কে লিপ্ত হন। এদের মাঝে যিনি সম্ভবত উচ্চপদস্থ, তিনি প্রায় ধমকের সুরে নিম্নপদস্থকে বস্তা সরিয়ে কি লাভ হবে, তার কারণ দর্শাতে বলেন। যদিও ফায়ার সার্ভিসের ডি জি সাহেব ঘোষণা দেন (প্রায় আড়াইটার সময়) যে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে তাঁরা উদ্ধারকাজ বন্ধ করবেন না এবং একটি যন্ত্র দিয়ে সেই বস্তা বা ককশীট যাই হোক না কেন, সরিয়ে দেখা হবে, তবুও দৃশ্যত ফায়ার সার্ভিসের তত্পরতা এ সময় কিছুই আর ছিল না। বস্তা সদৃশ বস্তুটিকে সরানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি সকালের আগে। গুজব তত্ব ছড়ানো ছাড়া আর গর্তে টিকটিকি আরশোলা নিয়ে গবেষণা ছাড়া এ সময় তেমন কিছুই করা হয়নি।

ভোর ৫ টার দিকে দ্বিতীয় একটি ক্যামেরা নামানো হয় গর্তে জনতার দাবির প্রেক্ষাপটে, এবারের ছবি আগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হলেও কোনো বাচ্চার অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছিল না, কিন্তু গোল মত কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল। যেই প্রতিষ্ঠান এই ক্যামেরা নামিয়েছিল, তাদের প্রতিনিধি অনেক জোর গলাতেই বললেন এখানে কোনো বাচ্চা নেই। টিভিতে ওই দলটিকে বুয়েটের দল হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছিল, যদিও আমার চোখে ঠিক বুয়েট মনে হচ্ছিল না। যা হোক, এর পর আমি নিজেও ঘুমিয়ে পড়ি। সেদিন রাতের টিভি চানেলগুলোর প্রচারিত ও অপ্রচারিত ফুটেজ নিয়ে (রাত ১ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত) পরীক্ষা করলে গুজব তত্বের উদ্ভব, বিস্তার ও ফলাফলের বিষয়টা বের হয়ে আসতে পারে। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সে সময় ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই শেষ সিদ্ধান্তে আসা ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল ত্যাগের কারণে পুরো উদ্ধার অভিযান থমকে পরে। না হলে রাতের মধ্যেই জীবিত বা মৃত যাই হোক, জিহাদকে উদ্ধার করা সম্ভব হত।

হিমু এর ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত হবে এই ফুটেজ যাচাই করে "কোনো বাচ্চা নাই" কে বলেছে, সেটা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া।

হিমু এর ছবি

এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক "চিত্র পরিচালক" এসে বলছে এটা নাকি গুজব। এই চিত্র পরিচালকটা কে, জানেন কেউ?

ঈয়াসীন এর ছবি

চলুক

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

চলতে চলতে যেখানেই শিশুদের জন্য বিপদজনক কোনোকিছু দেখবেন, সাথে সাথে সবার গোচরে আনুন। প্রয়োজনে ঐ সমস্যাটি সমাধান না করা পর্যন্ত সমাধানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাটিকে সম্ভাব্য সকল বৈধ চাপের মুখে রাখুন।

এটাই মনে ধারণ করার চেষ্টা করছি।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

মেঘলা মানুষ এর ছবি

আরেকটা খবরে দেখলাম কিছু বাচ্চাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, আবার নিহত শিশুর পিতাকেও থানায় নেয়া হয়েছিল। আমি মনে করি, এই কাজগুলোর দরকার ছিল না। ঐ বাচ্চাগুলোর থেকে কিছু জানার থাকলে সেটা তাদের বাসাতেই জিজ্ঞেস করে আসা যেত, আর বাবাকে কিছু জিজ্ঞাস্য থাকলে সেটাও বাইরেই করা যেত। সন্তান নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার মানসিক অবস্থা নিশ্চয়ই খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।