কটিবন্ধু

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: রবি, ০৭/০৪/২০১৯ - ৬:৪০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গাণ্ডুরিয়ায় নারী, পুরুষ, আর গাণ্ডুরদের বাস।

গাণ্ডুরদের দেখে চট করে গাণ্ডুর ঠাওরানো মুশকিল বলেই সমস্যাটা যুগের পর যুগ ধরে মীমাংসা এড়িয়ে টিকে আছে।

কিছু গাণ্ডুর দেখতে নারীর মতো, আবার অনেক গাণ্ডুরকে পুরুষ থেকে আলাদা করতে গেলে অণুবীক্ষণের নিচে টেনে নিতে হবে। গাণ্ডুররা এমনিতে ভালোই, কিন্তু সমস্যা হয় যখন তারা মুখ খোলে। কিংবা দেয়ালে চিকা মারে। কিংবা যখন ওদের শক্তির দরকার হয়।

গাণ্ডুররা নারী-পুরুষের মতো ভাত খায়, জাউ খায়, চটপটি খায়; কিন্তু শক্তি তারা পায় অন্যভাবে।

বছরদশেক আগে এক নারী বিজ্ঞানী আর এক পুরুষ বিজ্ঞানী অনেক বছর গবেষণা করে টের পেয়েছেন, গাণ্ডুরদের কোষে কতোগুলো ইকড়িমিকড়িচামচিকড়ি ইয়ে আছে। আমলোকের জবানে কথা বললে পাত্তা মেলে না বলে পরের দশটি বছর সেই নারী বিজ্ঞানী আর পুরুষ বিজ্ঞানী বহু বছর আগে পেছনে ফেলে আসা মাতৃগ্রহের কিছু বাতিল ভাষা চর্চা করে ইয়েগুলোর নাম দিয়েছেন গাইনিকোপ্লাস্ট। তারপর সবে গত হপ্তায় তারা দৈনিক গাণ্ডুরিয়ায় তাঁদের গবেষণা নিয়ে বিশদ লিখেছেন। দৈনিক গাণ্ডুরিয়ায় রাশিফল পাতার এক কোণে বিজ্ঞানের জন্য দুটো কলাম আর কয়েক ইঞ্চি বরাদ্দ আছে; যে দিনগুলোয় বৃষ রাশি আর মেষ রাশির রাশিচক্রে পিলেচমকানো কিছু ঘটে না, সে দিনগুলোয় পাতা সম্পাদক "বিজ্ঞান" লেখা বাক্সে জমা পড়া চিঠির স্তুপ থেকে একটা খাম খামচি মেরে তুলে এনে ছাপিয়ে দেন। প্রায়ই জ্বালানি-ছাড়া-বিদ্যুতের ব্যাপারস্যাপার ছাপা হয়, এর ফাঁকে ফাঁকে গাইনিকোপ্লাস্টের আবিষ্কারের মতো এটা-সেটা আলোর মুখ দেখে।

কী আছে গাণ্ডুরদের গাইনিকোপ্লাস্টে? বৃষ রাশি আর মেষ রাশির লোকজন রাশিফলে পদের কিছু না পেয়ে পাতাটা উল্টে যাওয়ায় আর জানতে পারেনি, বাকি দশখানা রাশির লোকজন অল্পস্বল্প জেনেছে। গাণ্ডুরদের কোষের এই গাইনিকোপ্লাস্ট বা নারীকণাতেই আছে তাদের শক্তি-আহরণের রহস্যের চাবিকাঠি। গাছ যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট দিয়ে সালোকসংশ্লেষণ করে, গাণ্ডুররাও তেমনি গাইনিকোপ্লাস্ট দিয়ে নারীদেহের নৈকট্য বা স্পর্শ থেকে বিকিরিত বা সঞ্চারিত নারীশক্তি শুষে নিয়ে পুলকসংশ্লেষণ করে। আর পুলকেই গাণ্ডুরদের শক্তি, ভাত-জাউ-চটপটি তারা খায় শুধু হাগু করার জন্যে। আর পুলক থেকে জীবনীশক্তি টোকাতে তারা সুযোগ পেলেই নারীদের কাছে ঘেঁষে বা ঠেসে থাকে।

দৈনিক গাণ্ডুরিয়ায় এ খবর ছাপা হওয়ার পর বেশ একটা শোরগোল হলো। গাণ্ডুররাই সবচে বড় গলায় প্রতিবাদ, অর্থাৎ গালাগালি, করলো। বিজ্ঞানকে বেশ কষে গালি দিতে পারলে বিজ্ঞান দু'চার কুড়ি বছরের জন্য ঠাণ্ডা মেরে যায়, এ কথা গাণ্ডুরিয়ার নারী, পুরুষ, ও গাণ্ডুর, সবাই জানে।

পুরুষরা তেমন মাথা ঘামালো না। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় সমস্যা। ক'দিন আগেই এক নায়িকার স্বামী সাংসারিক কাজিয়ার চাপে পেগ্লে গিয়ে খোলা সাগরে এইটুকুন একটা প্লাস্টিকের গুলতি উঁচিয়ে কাপ্তানকে কাবু করে একটা মস্ত নিযুতমণী জাহাজ বেদখল করে বসেছে। হপ্তাখানেক ধরে হাটেমাঠেঘাটে কোথাও রঙ্গমঞ্চের মশহুর নটবরা মিমি চক্রবৃদ্ধির কোনো ছবি সাঁটা হচ্ছে না। দূরদেশের এক কমলারঙা রাজার সাথে এক আধবুড়ি প্রমোদবালার প্রেম নিয়ে রগরগে বই বেরিয়ে ঝালমুড়ির মতো বিকোচ্ছে। ডাঙ্গুলি খেলায় ঠাণ্ডার দেশের মারকুটে ক্রীড়াচক্র ঠাণ্ডুরিয়া ভাইকিংস এসে গরমের দেশের দুর্ধর্ষ দল হাণ্ডুরিয়া হাফপ্যান্টসকে ৩-০তে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে। বিজ্ঞান কুড়ি-বছর-সংসার-করা-বৌয়ের মতো আজ এক কথা বলে তো কাল আরেক। বিজ্ঞান অন্য লোকের ভাবী, তার কথা শোনার সময় কই পুরুষদের?

নারীরাই শুধু এ খবর পড়ে থম মেরে বসে রইলো বেশ কিছুক্ষণ। এ আবিষ্কারের সাথে তাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা বেশ খাপে খাপে মিলে যায়।

কারণ বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার পথে যে নারীই গাণ্ডুরিয়ার উত্তাল বুড়ানন্দ নদ ধরে উজান-ভাটি-করা বজরাগুলোয় চড়েন, তিনিই জানেন, বজরা কূল ছেড়ে মাঝনদীতে যেতে না যেতেই গাণ্ডুররা আশপাশ থেকে পিলপিল করে তেড়ে এসে একেবারে নারীদের গায়ে গা ঠেসে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। গাণ্ডুররা পুরুষদের গায়ে ঘেঁষাঘেঁষি করে না বলে পুরুষরা এসব নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায় না। কিন্তু নারীদের জন্যে ব্যাপারটা স্বস্তিকর নয়। গাণ্ডুরদের মুখে কিছু বলে দূরে সরানো কঠিন, মানুষের সাথে তাদের ভাষার অনেক ফারাক। "কী বলেন কিছুই বুঝি না" গোছের একটা জবাব দিয়ে তারা হাসিমুখে আরো কুড়ি পাস্কেল বেশি চেপে ঠেসে দাঁড়ায়।

এক নারী বজরাযাত্রী সাহস করে সেই নারী বিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করে এই তত্ত্বের পায়ে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করেন কাগজে ব্যাপারটা ছাপা হওয়ার পরের হপ্তায়। গ্রিক আর লাতিন শিখে দশটা বছর মাটি করার আগে গাণ্ডুরদের অঙ্গসংস্থানতন্ত্র নিয়ে নারী বিজ্ঞানী অনেক ঘেঁটেছেন; তাঁর আবিষ্কার বলছে, গাণ্ডুরদের শরীরের মাঝামাঝি এলাকার দেহকোষে গাইনিকোপ্লাস্ট ওরফে নারীকণার ঘনত্ব বেশি। বজরাযাত্রী নারী যখন চা-সিঙ্গারা খেয়ে নারী বিজ্ঞানীর বাড়ি ছাড়ছিলেন প্রায়, তখন নারী বিজ্ঞানী হঠাৎ বিজ্ঞানের চাপ সামলাতে না পেরে বইয়ের তলার তাক থেকে একটি পুরনো মলাটছেঁড়া বই বের করে এনে ছুটে এসে গাণ্ডুরদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কিছু ছবি বজরাযাত্রী নারীকে দেখিয়ে দিলেন। গাণ্ডুরদের শরীরের মাঝামাঝি নাকি একটি পুলকদণ্ড আছে, যেটা সচরাচর জামায় ঢাকা থাকে, সেটিই তাদের পুলকশক্তি সংগ্রহের মূল এন্টেনা। গাইনিকোপ্লাস্ট ওটাতেই সবচে বেশি।

বজরাযাত্রী নারী চমকে উঠে ফের নারী বিজ্ঞানীর বৈঠকখানায় ঢুকে আরেক খুরি চায়ের আবদার ধরে বসলেন। নারী বিজ্ঞানীও চুলোয় চা চড়িয়ে খাতা-আঁকুনি হাতে নানারকম বিজ্ঞানীসুলভ খাচ্চর প্রশ্ন করে বজরাযাত্রী নারীর কাছ থেকে জেনে নিলেন বহুকিছু। বজরাযাত্রায় প্রতিদিনই গাণ্ডুরের দল বজরাযাত্রীর গায়ে এই গাইনিকোপ্লাস্টে-ঠাসা পুলকগ্রাহী প্রত্যঙ্গ ঠেসে ধরে, তারপর কেমন যেন আনমনা হাসিহাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে কয়েকটি ঘণ্টা। এক গাণ্ডুরের পুলকশোষণ শেষ হলে সে সরে পড়ে বটে, কিন্তু কী এক অব্যক্ত বোঝাপড়ার জোরে কোত্থেকে যেন আরেক গাণ্ডুর চোখের পলকে এসে তার জায়গাটা দখল করে। বেচারি নারীরা সইতে না পেরে "ভাই একটু সরেন" বললে "কোথায় সরবো জায়গা নাই তো" বলে খিলখিল হেসে ওঠে গাণ্ডুরের দল। কিছু গাণ্ডুর আবার উল্টে মারমুখো হয়ে ওঠে, "জায়গা চান তো নিজে বজরা কিন্না গাঙ্গে নামেন না ক্যান?" বলে ধমকায়। বাকি গাণ্ডুরের দল "এই মানুষগুলিরে আমাগো দুনিয়ায় নামতে দেওয়াই ঠিক হয় নাই" বলে ঘেঙিয়ে ওঠে, তারপর আবার পুলক শুষে শক্তি টোকাতে থাকে।

এটা নিয়ে নারীরা প্রতিদিনই মহা বিরক্ত হয়ে আপিসে যান আর বাড়ি ফেরেন, কিন্তু কী-ই বা করার আছে? বজরায় চড়তেই হয় রোজ, আর বজরাভরা গাণ্ডুর থিক থিক করে। গ্রহটাই ওদের। পুরুষদের গা ঘেঁষে গাণ্ডুরদের কেউ পুলক নেয় না বলে এ সমস্যার নিরসনে তাদের একটু সাহায্য চাইলে পুরুষরা "আহা তোমরা একটু মানায় চলো না, বজরা-ডিঙ্গা হাটে-ঘাটে এইসব একটু-আধটু হয়ই" বলে ব্যাপারটা পাশ কাটিয়ে গ্রহের অন্যান্য বড় বড় সমস্যা নিয়ে দেয়ালে চিকা মারার জন্যে কালি-তুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। তাছাড়া, এখন পর্যন্ত খোঁজখবর নিয়ে গাণ্ডুরিয়ার গাণ্ডুরদের দেহকোষে অ্যান্ড্রোপ্লাস্ট বা নরকণা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাওয়া যায়নি। দৈনিক গাণ্ডুরিয়ায় আবিষ্কারের আখ্যান ছাপা হওয়ার পর সন্ধ্যার মধ্যেই পুরুষ বিজ্ঞানীর বাড়িতে প্রচুর ছেলেবুড়ো ভিড় করেছিলো, তিনি হাসিমুখে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন, "অ্যান্ড্রোপ্লাস্ট বলে জগতে কিছু নেইকো। গাণ্ডুরদের পুলকসংশ্লেষণ আপাতত নারীর উপস্থিতিতেই হয়।" তাঁর বাড়ির দোর থেকে পুরুষেরা ফেরার পথে গাণ্ডুরদের সাথে হাসিমুখে অনেক হাইহ্যালো করেছে। যদি কোনোদিন গাণ্ডুরদের শরীরে অ্যান্ড্রোপ্লাস্ট পাওয়া যায়, তখন একটা এস্পার-ওস্পার দেখা যাবে না হয়।

সমস্যাটা তাই একেবারেই নারীদের। নারী বিজ্ঞানী বেচারি কোনো সমাধান বাতলাতে পারেননি, তিনি কেবল গ্রিক আর লাতিনে গাণ্ডুরদের আচরণের নানা বৈশিষ্ট্যের নাম রেখে যাচ্ছেন, কারণ আমলোকের ভাষায় বিজ্ঞানের কথা বললে কেউ দাম দেয় না। সমাধানের আশায় তাঁর কাছে ধর্না দেওয়া প্রতিদিনের-বজরাযাত্রায়-নাজেহাল নারীরা মলিন মুখে জেনেছেন সেসব নাম; যেমন এই যে বজরার পাটাতনে আশেপাশে নারী থাকলেই গাণ্ডুররা কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পুলকদণ্ড সেই নারী বরাবর ঘুরিয়ে কাছে ঘেঁষে আসে, বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে গাইনিকোট্রপিজম, একটু ভারিক্কি আমলোকি ভাষায় নার্য্যাবৃত্তি। ঠিক যেমন রোদের দিকে ডাল বাগিয়ে গাছের তেড়ে ওঠা আর বেড়ে ওঠাকে সূর্যাবৃত্তি ওরফে হেলিওট্রপিজম বলে। নারীর ডান কাঁধে ব্যাগ ঝুললে তার বাম দিকে গাণ্ডুরদের ভিড় বাড়ে, বাম কাঁধে ব্যাগ ঝুললে ভিড় বাড়ে ডান দিকে... একে বলে হ্যাপ্টোট্রপিজম, আমলোকিতে স্পর্শাবৃত্তি। নারীর সামনের দিকে গাণ্ডুরদের ভিড় একটু কম থাকে, কারণ ওদিকেই নারীর রক্তচক্ষু আর প্রতিবাদের মুখ; এটা নিগেটিভ ট্রপিজম ওরফে নেতি-আবৃত্তির একটা উদাহরণ। পেছনদিক থেকে তার গায়ের নরম অংশে ঠেসে থাকলে গাণ্ডুরদের পুলকসংশ্লেষণ তাড়াতাড়ি হয়, তাই ওদিকে ভিড় জমানোর প্রবণতাকে বলে মালাকোট্রপিজম বা পেলবাবৃত্তি। ইত্যাদি।

নারী বিজ্ঞানীদের বাড়ি থেকে নারীরা বিষম বিরক্ত হয়ে বের হন। কোনো কাজের সমাধানই মিললো না, উল্টে একগাদা কেঠো শব্দের খোঁচা খেতে হলো। এক নারী আরেক নারীকে চটেমটে বললেন, "এখন থেকে আমরা জামায় বড় বড় করে গাণ্ডুরদের বুলিতে একটা নোটিশ লিখে বেরোলে কেমন হয়? ধরেন, "ভাই দূরে খাড়ান?" কিংবা "মাইন্ড দ্য গ্যাপ?" কিংবা "দূরে থাকবেন কিঞ্চিৎ, গজে না কুলালে ইঞ্চিৎ?"

আরেক নারী এক নারীকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আমার নানী-দাদীরা গাণ্ডুরদের এসব বলতে বলতে বুড়ি হলো, এখন আমি বুড়ি হচ্ছি। ইস্কুলকলেজের লেখাপড়াতেই গাণ্ডুরদের কোনো কাজ হলো না, জামায় লেখাপড়া দিয়ে কি ওদের আর শোধরানো যাবে?"

অমুক নারী তমুক নারীকে বললেন, "বিজ্ঞানী আপাকে একটা নতুন ওষুধ আবিষ্কার করতে বলি, চলেন। হামের টিকা আছে যখন, এই গাণ্ডুরবাজির টিকাও তো থাকা উচিত, তাই না?"

তমুক নারী বিরসবদনে অমুক নারীকে বললেন, "বিজ্ঞানী আপা টিকার লাইনের বিজ্ঞানী না, উনি টীকার লাইনে কাজ করেন। গ্রিক আর লাতিনে দুইটা চোখা চোখা শব্দ যদি কোনোদিন দরকার হয়, তাইলেই খালি ওনারে ডাইকেন।"

পেছন পেছন আসছিলেন এক আর-পারি-না-সইতে নারী, আনমনে এটা-সেটা ভাবতে ভাবতে আর অন্য নারীদের আলাপ শুনতে শুনতে, হঠাৎ দুয়ে-দুয়ে চার মিলে গেলো তাঁর, এক বিপুল উদ্ভাবনী জোশের তোড়ে তিনি উল্টে পড়ে গেলেন পথে। তারপর উঠে গা হাত-পা ঝেড়ে ঘরফেরা বজরায় চড়ে গাণ্ডুরদের পুলকসংশ্লেষণের অত্যাচার জীবনে শেষদিনের মতো সয়ে কামারের দোকান আর চামারের দোকান আর সুতার দোকান আর সুতারের দোকান থেকে বিপুল কেনাকাটা সেরে তিনি বাড়ি ফিরলেন জ্বলজ্বলে চোখে। সামনে প্রচুর কাজ। প্রচুর কাটাকুটি জোড়াজুড়ি সেলাইফোঁড়াইঝালাইজোড়াই পড়ে আছে।

একমাস পর দৈনিক গাণ্ডুরিয়ার বিজ্ঞাপন পাতায় বড় বড় হরফে ছাপা হলো সচিত্র বিজ্ঞাপন।

কটিবন্ধু! কটিবন্ধু!! কটিবন্ধু!!

নারীর একমাত্র বন্ধু!!!!

এই কটিবন্ধ কোমরে পরিধান করলে শান্তিতে বজরায় যাতায়াত করা যায়। কোনো কুত্তার বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা, হারামীর বাচ্চা বা গাণ্ডুর ভাইয়েরা আর অকারণে গায়ে গা ঠেসে ধরবেন না, এই গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। দাম কম, কিন্তু অমূল্য। আপনার পছন্দসই আকার ও রঙে পাওয়া যাচ্ছে।

জিনিসটা আর কিছুই না, ফুটখানেক চওড়া এক চামড়ার কটিবন্ধ, তার গায়ে বসানো অজস্র চোখা পুলকবৈরী ধাতব কাঁটা।


মন্তব্য

নীড় সন্ধানী এর ছবি

গাণ্ডুরদের স্বাধীন পুলকসংশ্লেষণের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের এমন বৈরী আবিষ্কারের জন্য মোলায়েম নিন্দা জানিয়ে গেলাম। চাল্লু

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

হিমু এর ছবি
এক লহমা এর ছবি

চলুক

বিজ্ঞান অবশ্য এরপর এই বর্ম প্রতিরোধক বার করবে। যারা বেশী শক্তি ধরবে, বিজ্ঞান তাদের হয়ে কাজ করবে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

হিমু এর ছবি

দেঁতো হাসি

গাণ্ডুরিয়ার পরবর্তী কোনো পর্বে বিজ্ঞানের কামলাচরিত্রের ব্যাপারটা ঢোকাতে হবে। সূত্র ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

কোনো কুত্তার বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা, হারামীর বাচ্চা বা গাণ্ডুর ভাইয়েরা আর অকারণে গায়ে........

"গাণ্ডুর ভাইয়েরা"? এমন সশ্রদ্ধ সম্ভাষণ?

হিমু এর ছবি
তারেক অণু এর ছবি
হিমু এর ছবি
সত্যপীর এর ছবি

"দূরে থাকবেন কিঞ্চিৎ, গজে না কুলালে ইঞ্চিৎ" এইটা খুব ভালো স্লোগান হৈছে হাততালি

..................................................................
#Banshibir.

হিমু এর ছবি
দুর্দান্ত এর ছবি

সাধু সাধু !!

রণদীপম বসু এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।