সাইলো

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি
লিখেছেন যাযাবর ব্যাকপ্যাকার (তারিখ: মঙ্গল, ১৬/০৯/২০১৪ - ১:৪১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


হোলস্টন যখন ধীরে ধীরে নিজের মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, হাসিখুশি বাচ্চাদের আওয়াজটা আরও জোরাল হচ্ছিলো। ধাতব সিঁড়ির প্রতিটা ধাপ যেন মাঝখানে একটুখানি করে দেবে গেছে। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে হোলস্টন ভাবছিলো কীভাবে ইস্পাতের মতো জিনিসও দীর্ঘদিনের ঘর্ষণে ক্ষয় হয়ে যায়। ও ভাবছিলো, এই যে প্যাঁচানো সিঁড়িটা, যেটা তাদের এই শততলা সিলিণ্ডারের মতো সাইলোর মাঝখান দিয়ে চলে গেছে উলম্বভাবে, যেন একটা গ্লাসের মধ্যে একটা স্ট্র, এটা আসলে চিরকাল টিকে থাকার জন্যে তৈরি হয়নি – ঠিক যেমন তাদের জীবনও এই সিলিন্ডারের ভেতরেই কেটে যাওয়ার কথা ছিলো না চিরকাল।

আরেকটা ফ্লোর অতিক্রম করে ও, গোল পাই-আকৃতির এক টুকরা সাইলো ফ্লোর, কর্মীদের বাসস্থান আছে এখানে। উপর থেকে ভেসে আসা শিশুদের আওয়াজ আরেকটু তীব্র হয়। আনন্দময় হাসি-হল্লা, শুধু দুশ্চিন্তাহীন শিশুরাই যেভাবে হল্লা করতে পারে। এই সিঁড়িটা, অন্যমনস্কভাবে ভাবে ও, এটা আসলে এমারজেন্সিতে ব্যবহারের জন্যে তৈরি করা হয়েছিলো হয়তো, বড়জোড় ডজনখানেক মানুষের ওঠানামার জন্যে। কিন্তু এখন এই সিঁড়িই হয়ে গেছে সাইলোর প্রাণকেন্দ্র, একশ’টা তলার মাঝে বিপনন, বিতরণ, যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন।

সর্ব-উপরের এক নম্বর ফ্লোরের কাছে পৌঁছুতে অন্য সব বাচ্চার আওয়াজ ছাপিয়ে একটা বাচ্চার গলা শোনা যায় – নিজের ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে হোলস্টনের। স্কুলের দিনগুলোতে শততলা নিয়ে ওয়ার্কশপ, জলজ বাগান, বায়ু আর পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র, কারখানা, পাইপের জঙ্গল আর কর্মীদের বাসস্থান মিলিয়ে এই কনক্রিট সিলিন্ডারটা বিশাল মনে হতো, মনে হতো সে আর তার বন্ধুরা মিলে কখনো পুরোটা চষে ফেলতে পারবে না।

কিন্তু সেসব অন্তত তিরিশ বছর আগের কথা, যেন দুইটা বা তিনটা জীবন আগের কথা... শেরিফের জীবনের আগের কথা, যে জীবনের ভার বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছে হোলস্টন। বিশেষ করে এই শেষ তিনটা বছরের প্রতিদিনের গোপন অপেক্ষা তার অন্য কোন জীবনের সব আনন্দের মাসের থেকেও দীর্ঘ একেকটা দিন ছিলো।

একদম উপরের তলায় পৌঁছে সিঁড়ির রেলিং শেষ হয়ে যায়। এই ফ্লোরটা সাইলোর সবথেকে বড় ঘর, বিশাল একটা কমপ্লেক্স, কাফেটেরিয়া আর লাউঞ্জ। ছড়ানো বেঞ্চ আর চেয়ার-টেবিলের মাঝ দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা ছোঁয়াছুঁয়ি খেলছে। তাদের চিৎকারে মুখরিত চারিদিক। ডনা, তার স্বামী ক্লার্ক আর অল্প কয়েকজন বড় মানুষ সামলানোর চেষ্টা করছে বাচ্চাগুলোকে।

হোলস্টনকে দেখতে পেয়ে ডনা হাত নাড়ে দূর থেকে। কিন্তু ও যেন একটা ঘোরের মাঝে আছে, খেয়ালই করে না। সাইলোটা তিনটা লেভেলে ভাগ করা। উপরের লেভেলের এইটাই সবচেয়ে বড় ক্যাফেটেরিয়া, তাছাড়া এইখান থেকে সাইলোর বাইরে দেখা যায়। ক্যাফেটেরিয়ার শেষ প্রান্তের দেয়ালের ডিসপ্লে-র দিকে তাকায় ও – ওদের এই দূষিত দুনিয়ার বিশাল একটা ছবি ফুটে উঠেছে সেখানে – সাইলোর বাইরের দুনিয়া। বাইরে সকাল এখন, মিটমিটে দিনের আলোয় ঊষর বালুর প্রান্তরগুলো দেখা যাচ্ছে, সেই ছোটবেলায় যেমন দেখেছিলো হোলস্টন, প্রায় সেরকমই আছে এখনো। ও যতদিনে ছেলেবেলার নিশ্চিন্ত দিন ফেলে এখনকার এই জীবন্মৃত মানুষটায় পরিণত হয়েছে, বাইরের বিরানভূমি সেই একই রকমই থেকে গেছে। অনেক দূরে, ধুলার পাহাড়ের ঐপাড়ে কোন এক সময়ের শহরের ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়, বহুতল ভবনগুলোর প্রাচীন আমলের ভাঙা কাঁচ আর ইস্পাত কাঠামোতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চিকচিক করে। সাইলোর মানুষদের ধারণা অনেক, অনেকদিন আগে সেগুলোতে মানুষ থাকতো, যখন মানুষ মাটির গভীরে নয়, উপরে থাকতো।

কক্ষচ্যূত ধূমকেতুর মতো সুজানদের বাচ্চাটা হোলস্টনের পায়ে এসে ধাক্কা খায়, হোলস্টনের ধ্যান ভেঙে যায়, কিন্তু বাচ্চাটাকে ধরতে যাবার আগেই দৌড় লাগায় আবার সে। হুট করে ওর মনে পড়ে অ্যালিসন আর ওর নিজের লটারি জেতার কথা, যে বছর অ্যালিসন মারা যায়, সেবছরেরই লটারি ছিলো ওটা, এখনো আছে টিকেটটা ওর কাছে। এই যে বাচ্চাগুলো, এদের মাঝে ওদের বাচ্চটাও থাকার কথা ছিলো তো!

স্বপ্ন দেখেছিলো দু’জনে – আর সব দম্পত্তির মতোই তারাও লটারিরপ্রতীক্ষা করেছিলো। জেতার পরের রাতগুলোতে বোকার স্বপ্নও দেখত ওরা, জমজ বাচ্চার। ওদের সৌভাগ্যে অন্য দম্পত্তিরা শুভেচ্ছা জানাতো, যারা নিজেরাও লটারির অপেক্ষায় আছে, তারা আরেকটা লটারির প্রতীক্ষা করতো মনে মনে। আর ওরা দু’জনে, ওরা কী করেনি সে সময়ে! এমনকি যত প্রচলিত কুসংস্কার, সেগুলোও বাকি রাখেনি – অ্যালিসনের চুলে গোলাপি ফিতে, হোলস্টনের চোখের নিচে নীল-পাউডার মাখা, রসুন ঝোলান বিছানার মাথায়, গদির নিচে দুইটা টাকা – জমজ বাচ্চার জন্যে। কিন্তু সবই উপভোগ করতো ওরা, যাদুময় রাতগুলোর মতোই।

কিন্তু কী অদ্ভুতভাবে ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে গেল! লটারি চলে গেল অন্য দম্পত্তির কাছে, বছর ঘুরবার আগেই। না সুযোগ তো ছিলো ওদের, ভাগ্য সহায় নাহলে লটারি জিতলো কীভাবে? শুধু সময় ছিলো না ... আর অ্যালিসন চলে গেল ওকে একা ফেলে রেখে।

ক্যাফেটেরিয়ার বাচ্চাদেরকে পেছনে ফেলে হোলস্টন ওর অফিসের দিকে এগিয়ে যায়। শেরিফের অফিসটা সাইলোর এয়ার-লক আর ক্যাফেটেরিয়ার মাঝখানে। তিন বছর আগে, এখানেই ধস্তাধস্তি চলছিলো অ্যালিসনকে ঘিরে। সেই স্মৃতি প্রতিদিনই কল্পনায় দেখতে পায় ও। আর জানে ও, যদি পেছন ফিরে, দেয়ালে ডিস্প্লে করা ছবির দিকে তাকায় ও, তবে দুই বালুর পাহাড়ের মাঝে, ক্যামেরায় জমে থাকা ময়লা চুঁইয়ে আসা ঘোলা ছবির মধ্যে দিয়ে খুঁটিয়ে দেখলে অ্যালিসনকে চিনতে পারে ও ঠিকই, যেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিল, সেখানেই পড়ে আছে এখনো, যেন আর একটা পাথরের চাঁই, ক্ষয়ে ক্ষয়ে মিশে যাচ্ছে ধুলোর সাথে।

“আরেহ! আজ দেখি বেশ সকাল সকাল।“ ডেপুটি মার্নস হাসে ওকে দেখে। নিচু হয়ে প্রাচীন এক ফাইল কেবিনেট থেকে একটা ফাইল বের করে, গরম ধোঁয়া ওঠা মগটা হাতে নিয়ে, হোলস্টনের চেহারায় অন্য কিছু লক্ষ্য করে প্রবীণ ডেপুটি। “কিছু হয়েছে হোলস্টন?”

মাথা ঝাঁকিয়ে চাবির গোছাটা ইঙ্গিত করে হোলস্টন, “হোল্ডিং সেল-এ আসুন“, বলে ও।
নিজের পকেটে ধাতব তারাটার কিনারাগুলো অনুভব করে একবার আঙুল বুলিয়ে, তারপরে পকেট থেকে শেরিফের ব্যাজটা বের করে টেবিলের উপরে রেখে হোল্ডিং-সেলের দিকে রওনা হয়।

“ঝাড়ু নিয়ে আসবো নাকি?” ডেপুটি মার্নস একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করে। সাধারণত আসামীদের রাখার পরেই সেল ধোয়া-মোছা করা হয়, এমনিতে দরকার পরে না।

“নাহ।“ হোলস্টন জবাব দেয়।

“ব্যাপার কী?” আরও অবাক হয় মার্নস। “বস?”

তালা খুলে ভেতরে ঢুকে চাবিটা মার্নসের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে হলস্টন শান্তভাবে বলে, “ মেয়র কে খবর দিন ডেপুটি মার্নস।“
খুব ধীরে ধীরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে হোলস্টন, দীর্ঘ তিন বছরের চেপে রাখা শ্বাস।
“তাকে বলবেন, আমি বাইরে বের হতে চাই।“


হোল্ডিং সেলের ভিতরের থেকে বাইরের যে অংশটা দেখা যায়, সেটাও একটা ডিসপ্লে। কিন্তু এই ক্যামেরার লেন্স যেন বেশি যত্ন করে পরিষ্কার করা, ক্যাফেটেরিয়ার দৃশ্যের থেকে কম ঘোলা। যেন বন্দী আসামীরা তাদেরকে বাইরে বের করে দেবার পরে একতু বেশি যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করে এই ক্যামেরা-লেন্স।

কেন? ভাবে হোলস্টন, হয়তো বাইরের আরেকটু পরিষ্কার দৃশ্য উপভোগ করতে দেয়াটা তাদের উপহার পরবর্তী ‘ক্লিনার’-এর জন্যে। অন্তত এটা ভাবতে ভালো লাগে হোলস্টনের, যে অ্যালিসন তার জন্যেই বেশি যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করেছিলো।

এমনিতে দূরের পাহাড় আর তার উপরের ধূসর আকাশ সেই তার বাবা, বা তার বাবার আমলের মতোই একইরকমের প্রাণহীন, বৈচিত্রহীন রয়েছে। ছোট কারাগারটার সবটা দেয়াল জুড়ে সেই ছবি। দেখে মনে হয় ছোট বিছানাটার মাথা থেকে শুরু করে অন্য প্রান্তের কমোডের উপর পর্যন্ত একটা বিশাল জানালা। কিন্তু ভ্রান্তি দূর হয়ে যায় একটু খুঁটিয়ে লক্ষ্য করলে – বহু বছরের ডিসপ্লে-ও ক্ষয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, জায়গায় জায়গায় ডেড-পিক্সেল, ঐ জায়গাগুলো সাদাটে, ম্যাড়মেড়ে, হুট করে দেখলে বাইরের রুক্ষ প্রান্তরেরই অংশ মনে হয়।

আরও বহু বছর পরে যখন সব পিক্সেলই নষ্ট হয়ে যাবে, আর ঠিক থাকবে শুধু জায়গায় জায়গায়, তখন সাইলোর ভেতরের মানুষদের কেমন লাগবে ভাবতে চেষ্টা করে হোলস্টন। এগুলো মেরামতের প্রযুক্তি কি তাদের আছে? কে জানে, হয়তো সে সময়ে সাইলোর মানুষেরা জানবেও না, ‘আসল’ বা ‘ঠিক’ দৃশ্য দেখতে কেমন লাগার কথা।

তবে... এখনই কি তারা জানে?!

গলা খাঁকড়ানির আওয়াজ শুনে পেছনে ফিরে হোলস্টন। সেলের গরাদের বাইরে মেয়র জ্যানস দাঁড়িয়ে আছে।

“সেল যখন খালি থাকে, তুমি আর ডেপুটি মার্নস নিজেদের ঘরে ফিরে যাও রাতে, মাঝে মাঝে আমি এখানে এসে বসে থাকি একা একা, বাইরের দিকে তাকিয়ে।“

হোলস্টন উত্তর না দিয়ে আবার তাকায় বাইরের ছবিতে। ওর মনে পড়ে ছোটদের কিছু গল্পের বই, যেগুলো কীভাবে যেন টিকে গেছে এতগুলো বছর, সেসবে অদ্ভুত কিছু পাখি আর প্রাণীর ছবি আছে, ‘হাতি’ নামের কী যেন, আর নীল আকাশ। অনেকেরই ধারণা সেসব কবি বা লেখকের উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা।

“শেষ খাবার হিসেবে কী খাবে তুমি জানিও”, মেয়র বলে। “নিয়ম যে...”

“আমি জানি নিয়ম কী কী,” হোলস্টন থামিয়ে দেয় তাঁকে। “মাত্র তিন বছর আগেই অ্যালিসনকে নিজ হাতে তার শেষ খাবার দিয়ে গেছিলাম এখানে আমি।“ নিজের আঙুলের তামার আংটিটা অভ্যাসের বসে ঘুরাতে গিয়ে মনে পড়ে ওটা ঘণ্টাখানেক আগে নিজের ঘরে খুলে রেখে এসেছে টেবিলের উপরে।

“মনেই হয় না এতগুলো দিন চলে গেছে...” মেয়র জ্যানস বলে বাইরের দিকে তাকিয়ে।

“মিস করেন ওকে?” তিক্ততা নিয়ে জিজ্ঞেস করে হোলস্টন।

“তুমি তো জানো আমি আইন তৈরি করিনি হোলস্টন”, মুহূর্তের রাগ দেখা যায় জ্যানস-এর শান্ত চোখে। তারপরে চোখ নামিয়ে নিয়ে নিজেকে শান্ত করে আবার বলে, “কিন্তু কী করার আছে?”

“দোষ দেই না...” হোলস্টনও নিজেকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। “আমার থেকে ভালো কে জানে সাইলোর আইন আর নিয়মগুলো!”

“তোমাকে জিজ্ঞেস করবো না আমি, কেন এই সিদ্ধান্ত নিলে... হয়তো তুমি সুখী নও আর ভেতরে, কাজেই কী যায় আসে...”

বয়স্কা মেয়রের চোখে পানি চিকচিক করতে দেখে হোলস্টন। প্রথমবারের মতো নিজেকে তাঁর চোখে দেখে ও – ভেঙে যাওয়া দুর্বল একটা মানুষ, বাইরের ধূসর আলোয় ফ্যাকশে দেখতে লাগা, মেয়রের তুলনায় অনেক কম বয়সী কেউ, এই জীবনে যার জন্যে আর কিছুই অবশিষ্ট নাই।

“অনেক বেশিদিন ধরে মেয়র আমি। যেহেতু আমাদের রেকর্ড সম্পূর্ণ নয়, সর্বশেষ বিদ্রোহের আগের রেকর্ড নাই আমাদের কাছে, জানো তুমি। কিন্তু এই প্রায় দেড়শ' বছরেও শুধু আমার ভাগেই কম ‘ক্লিনিং’ পড়েনি। বহুজনকেই বের করে দিতে হয়েছে আমাকে।“

“আপনার বোঝা বাড়াচ্ছি, সেজন্যে দুঃখিত।“ তিক্ততা ঝরে পড়ে হোলস্টনের গলায় আবারও, “কিন্তু আপনিই কালকে সকালে সবার আগে গত কয়েক বছরের প্রথম ঝকঝকে সূর্যাস্ত দেখবেন, সমস্যা নাই।“

“তুমি আইন জানো। তুমি নিজের থেকেই আইন ভেঙেছ বাইরে যেতে চেয়ে। সবথেকে বড় সাজাই তাই দেয়া হচ্ছে তোমাকে, বাইরেই যেতে দিচ্ছি।“

ফাঁকা একটা হাসি দেয় হোলস্টন, “ কিন্তু ধরেন আমি যদি লেন্সগুলো পরিষ্কার না করি কালকে?”

“তুমি জানো প্রতিবারই এইটা নিয়ে একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় সাইলোর সবার মাঝে। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা প্রত্যেকেই বলে লেন্স পরিষ্কার করবে না। আর সত্যিই লেন্স পরিষ্কার করবে কিনা তা নিয়ে ফিসফাস চলে সাইলোর বাসিন্দাদের মাঝে। এবারও ব্যতিক্রম নয়।“

“অ্যালিসন কিন্তু একবারও বলেনি সে লেন্স পরিষ্কার করবে না মরার আগে।“ মনে করিয়ে দেয় হোলস্টন। মনে মনে ভাবে, হয়তো ও জানতো লাভ নেই মরে যাবার আগে এই মানুষগুলোকে বঞ্চিত করে। হয়তো সব আসামীই তাই ভাবে, অদ্ভুত কোন উদারতা ভর করে তাদের উপর জীবনের শেষ মুহূর্তে।

“কিন্তু তুমি কি করবে?”

“বাহ! আপনি নিজেই তো বললেন, সবাইই করে। কিন্তু কেন করে মনে হয় আপনার?” হাসে হোলস্টন, “আমার কী কারণ থাকতে পারে মরে যাওয়ার আগে নিজের সর্বশেষ শক্তিটা খরচ করে লেন্স পরিষ্কার করে দেয়ার?”

“কি বলবো আমি সবাইকে?”

“যা খুশি বলতে পারেন।“ পরোয়া না করার ভান করে হোলস্টন।

চুপ করে থাকে মেয়র। “বেশ, রাতের খাবারের ব্যাপারে মন পরিবর্তন করলে ডেপুটি মার্নস-কে জানিও। উনি ডেস্কেই থাকবেন সারা রাত।“

হোলস্টনের চোখে পানি আসে, জানে ও নিয়ম কানুন সব। এর আগে কি ও নিজেই কয়েদিদের জন্যে একই নিয়ম অনুসরণ করেনি? বারো বছর আগে ডনা পারকিনস, আট বছর আগে জ্যাক ব্রেন্ট, আর মাত্র তিন বছর আগে ওর নিজের বউ অ্যালিসনের জন্যে... সেবার সারারাত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো গরাদ ধরে।

“'শেরিফ',” মেয়রকে শুধরে দেয় ও, “উনি এখন আর 'ডেপুটি' মার্নস নন।“

“কিছু খাও,” ঘুরে দাঁড়ায় মেয়র, “ঘুমাতে বলে তোমাকে অপমান করবো না।“


(তিন বছর আগে)

“শোন,” অ্যালিসন উত্তেজিত হয়ে বলে, “তুমি জানতে বিদ্রোহ আগেও হয়েছিলো?”

ছোট্ট ঘর জুড়ে ছড়ানো ফাইল আর ফোল্ডারের মধ্য থেকে মুখ তুলে তাকায় হোলস্টন, “দেড়শ’ বছর আগের যেই তথ্য তুমি নিজেই কেবল মাত্র আবিষ্কার করলে, তা আমি কী করে আগে থেকে জানব বলো?”

ফাইলের পাহাড় ডিঙিয়ে বিছানার লাগোয়া বউয়ের কম্পিউটারের কাছে এগিয়ে যায় সে। ওদের ঘরে তাও সবার মতো বাঙ্ক-বেড নাই, আর একটা ডেস্কের জায়গা অন্তত আছে।

“পুরানো কিছু তথ্য জোড়া লাগাবার চেষ্টা করছি,“ অ্যালিসন বলে, “কেন জানি এগুলা দেখে মনে হচ্ছে তথ্যগুলো ইচ্ছা করে মোছা হয়েছে সার্ভার থেকে।“

ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে হোলস্টন। অ্যালিসন আইটি-তে কাজ করে, বউয়ের মতো কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক তথ্যের জ্ঞান নেই ওর। সাইলো জুড়ে নিরাপত্তা, কলহ, আইনভঙ্গকারীদের নথি পুরানো পদ্ধতিতে রিসাইকেল করা কাগজে টুকে রাখে শেরিফের অফিস, সাইলোর একেক তলার মাঝে যোগাযোগও চলে সনাতন পদ্ধতিতে, কাগজ বহন করে নিয়ে যায় পোর্টার। কম্পিউটারের যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু আইটির দখলে, সার্ভার আছে বড় বড়, সেগুলোও পুরাতন, সেগুলোর দেখাশোনা করে আইটি বিভাগ। আইটির কর্মকর্তারা হলো সাইলোর সব থেকে বুদ্ধিমান লোকজন। বউয়ের দিকে তাকিয়ে হোলস্টন ভাবে, তার মতো সাধারণ এক লোকের মাঝে কি দেখেছিলো অ্যালিসন।

হোলস্টন ধরতে পারছে না ওর কথা, তা বুঝতে পেরে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে অ্যালিসন, “পুরানো সার্ভারের কিছু ডাটা দেখে আমার মনে হচ্ছে বারবার মোছা হয়েছে সেগুলো, উপর দিয়ে নতুন করে লেখা হয়েছে প্রোগ্রাম। দেখে মনে হচ্ছে আগে নিয়মিত বিদ্রোহ হতো, প্রতি প্রজন্মেই প্রায়।“

“অত আগে কি সেন্সর পরিষ্কারের এই সিস্টেম ছিলো?” অমনোযোগী হয়ে নিজের কাজের কথা ভাবতে থাকে হোলস্টন, “হয়তো লোকজন উপরের ঘোলা দৃশ্য দেখতে দেখতে পাগলা হয়ে যেত, তখন মাথা খারাপ দুই একজনকে বের করে দেয়া হতো বাইরে? বা হয়তো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে একসাথে বের করে দিতো অনেককে, লটারির সিস্টেমের আগে?”

“মনে হয় না,” মাথা নাড়লো অ্যালিসন, “ আমার কি মনে হচ্ছে জানো?” গলার স্বর নামিয়ে নিয়ে আসে সে, “দেখো, আমি কোন মতামত দিচ্ছি না, শুধু কী হয়ে থাকতে পারে তা বোঝার চেষ্টা করছি – ধরো, সার্ভারগুলো বিদ্রোহের সময়ে বিদ্রোহীরা মুছে দেয়নি। মানে আমাদেরকে যেভাবে বলা হয়েছে যে সার্ভারে দেড়শ’ বছরের আগের ডাটা কেন নাই, সেটা যদি ঠিক না হয়?”

হোলস্টন মনযোগ দেয় এবার, হাতের ফোল্ডারটা বন্ধ করে জিজ্ঞেস করে, “অ্যাক্সিডেন্ট? আগুন লেগেছিলো বা পাওয়ার নাই হয়ে গেছিলো বলছো?”

“ন”, ঠোঁট কামড়ে ধরে কথা গোছানর চেষ্টা করে অ্যালিসন। আইনত সাইলোর বাইরের দুনিয়া নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ বা আইটির কোন কথা একজন আরেকজনের সাথে আলোচনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। “আমার মনে হয়, “আমরাই” মুছে দিয়েছি সার্ভার।“

মনিটরের ডাটায় আঙুল দিয়ে পড়ে যায়, “কুড়ি বছর, আঠারো, ষোল, আটাশ...”

বউয়ের কাঁধে হাত রেখে মনিটরের দিকে ঝুঁকে আসে হোলস্টন, “কী এগুলো, তারিখ?”

“হুঁ, আমাদের জানার আগের তথ্যানুসারে প্রতি দুই দশকেই একটা করে বিদ্রোহ হয়েছে, আমার বের করা এই তথ্য অনুসারে। এই তথ্যগুলো ছিলো যে বিদ্রোহের কথা আমরা জানি, সেটা সংক্রান্ত ফোল্ডারে। মুছে দেয়া হয়েছিলো।“

“কিন্তু ‘আমরা’, মানে ভালোরা কেন মুছতে যাবো সেসব?”

ঘুরে স্বামীর দিকে তাকায় অ্যালিসন, স্থির ভাবে বলে, “আর আমরাই যে ভালো, একথা যদি সত্যি না হয়?”

“অ্যালিসন! তুমি জানো এ ধরনের আলোচনার কী রকম ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।“ ভয় নিয়ে তাকায় হোলস্টন বউয়ের দিকে।

“মজা করছি বাবা!” হাসে অ্যালিসন, “কিন্তু শোন, তথ্য মোছা অত সহজ নয় যে একটা বোতামে চাপ দিলাম আর সব মুছে গেলো।“

“তুমি বলছো যে কেউ আমাদের নিজেদেরই ইতিহাস মুছে দিয়ে থাকতে পারে? আমরা যাতে বারবার নিজেদের ইতিহাস পুনুরাবৃত্তি করতে না পারি তাই?”

“আরও খারাপও হতে পারে... হয়তো তারা চায়নি আমরা জানি, বিদ্রোহের আসল কারণ কী ছিলো।“ শান্তভাবে তাকায় অ্যালিসন হোলস্টনের চোখের দিকে। “যদি এমন হয়, যে সেই তথ্যে এমন কিছু ছিলো যা আমাদেরকে পাগল করে দেয়, কিছুদিন পরপর কিছু লোক পাগলা হয়ে সাইলো থেকে বেরিয়ে যেতে চায়।“

“এভাবে ভেব না!” আতঙ্কিতভাবে বলে হোলস্টন, আমার মনে হয় না তোমার এসব খোঁচানো ঠিক হচ্ছে।“

“নতুন যে আর্টিকেলটা আমি জমা দিয়েছি, তাতে মুছে যাওয়া তথ্য পুনুরুদ্ধারের সম্পর্কে আমার কাজের কথা লিখেছি। ইতিমধ্যেই তা ডিপার্টমেন্টের অন্যরা পেয়ে গেছে, আচমকা তথ্য মুছে গেলে সমস্যায় পড়ি আমরা সবাইই। আর এর আগে বিদ্রোহের সময়ে যেহেতু সার্ভার মুছে গিয়েছিল একবার, তাই ব্যাপারটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাজ করতে গিয়েই এই তথ্যগুলো পেয়েছি। কিন্তু এখনই সিদ্ধান্তে আসার দরকার নেই, ঘেঁটে দেখি আরও ভালোভাবে।“

“তবুও... তুমি এগুলো বেশি ঘেঁট না।“
চিন্তিতমুখে ছড়ানো ফাইলগুলোর দিকে তাকায় হোলস্টন। নতুন কোন ‘ক্লিনার’ লাগবে সাইলোর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গেলে। ক্লিনিং-এর সময় এগিয়ে এসেছে, প্রতি ৫-৬ বছরে একজন করে মানুষকে বাইরে পাঠাতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা। সাইলোর বন্দী জীবনে কেউ না কেউ এমন একটা অপরাধ করে বসে যা চরম শাস্তির যোগ্য। ‘ক্লিনিং’ এর জন্যে একটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হতে থাকে।


(বর্তমান সময়)

এয়ারলকের সামনের ইস্পাতের বেঞ্চে বসে আইটির লোকটার নির্দেশ শোনে হোলস্টন। এর আগে ও নিজেই দেখেছে এসব। অ্যালিসনের সময়েও। কীভাবে একে একে সিল করা জুতো, তার সাথে লাগানো এক-পিসের পাজামা-জামা পরিয়ে হেলমেটটা সবার শেষে পোশাকের কলারের আংটায় লাগায়ে চেইন আর ভেলক্রো দিয়ে টাইট করে লাগিয়ে দেয়া হয়।

এই ঘরটায় প্রথমে আর্গন গ্যাসের প্রেশার তৈরি হবে। তারপরে সিল করা এয়ারলক দরজা সামান্য ফাঁক হবে, ভেতরের প্রেশারে যেন বাইরের দূষিত বিষাক্ত বায়ু ঢুকতে না পারে। ঐ ফাঁক দিয়ে ও বেরিয়ে গেলেই আগুন জ্বলে উঠবে ঘরের ভেতরে। ভেতরে থেকে গেলে পুড়ে অংগার হয়ে যাবে ও। আর বাইরে বেরিয়ে গেলে খানিক পরে যখন এয়ারটাইট পোশাকের ভেতরের বাতাস ফুরিয়ে যাবে, মারা যাবে সে। অথবা তার আগেই বাইরের বিষাক্ত টক্সিন ক্ষয় করে ফেলবে প্রোটেক্টিভ সুট।

“চিন্তা করবেন না, সবথেকে আধুনিক পোশাক এটা।“ বলে আইটির বিশেষজ্ঞ। “জানেনই তো, আইটিতে আমরা সবসময়ে কী করে সুটকে আরও উন্নত করা যায় সেই গবেষণা করি। যাতে যাদের বাইরে বের করে দেয়া হচ্ছে, তারা অন্তত আরেকটু সময় পান।“

কিন্তু টক্সিনের মাত্রা কমছে না, আমাদের প্রযুক্তিও উন্নত হচ্ছে না – ভাবে হোলস্টন। পূর্বের সব ‘ক্লিনার’-এর দেহাবশেষই দেখা যায় ক্যাফেটেরিয়ার ডিসপ্লে থেকে ... ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের স্তূপ যেন... কেউই বালুর ধূসর পাহাড় অতিক্রম করতে পারেনি... অ্যালিসনও না।

“এখানে দেখুন, এই পকেটে উলের ন্যাকড়া আছে, এই পকেটে ক্লিনিং লিকুইড, আর এইখানে পরিষ্কার ত্যানা, সবার শেষে লেন্স আবার মুছে দেয়ার জন্যে। দেখুন, সব পকেটে লেবেলিং করা আছে, উল্টো করে, যাতে আপনার পড়তে সুবিধা হয়।“ নির্দেশ দেয় নেলসন নামের আইটির লোকটা।

নির্বিকারভাবে কালার-কোডেড লেবেলগুলো দেখে হোলস্টন। কেন কেউ লেন্সগুলো পরিষ্কার করতে যাবে মরার আগে? - আরেকবার ভাবে ও। ও শুধু অ্যালিসনের কাছে পৌঁছাতে চায়।

“সব ঠিক?” নেলসন জিজ্ঞেস করে। “টাইট লাগছে না তো?”

টাইট! আমার পুরো জীবনটাই তো এই সাইলোতে বন্দী, আর এখন এই সুটে, তারপরে বাইরের বিষাক্ত টক্সিনে! – ভাবে হোলস্টন।

“তৈরি আমি।“ মুখে জবাব দেয়।


(তিন বছর আগে)

“ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও! বাইরে যাবো আমি!! ছেড়েদাওয়ামাকে!!!” তীক্ষ্ণ চিৎকারে ক্যাফেটেরিয়া ফ্লোর ভেসে যাচ্ছিলো। এয়ারলকের সামনে ছেঁচড়ে যাচ্ছিলো অ্যালিসন, আর তাকে চেপে ধরে রেখেছিলো কয়েকজন মিলে।

হোলস্টন যখন পৌঁছায় কিছুতেই শান্ত করতে পারেনি অ্যালিসনকে সে নিজেও। পরে শুনেছিলো হঠাৎ করে আইটির ৩৪ তলায় নিজের ডেস্ক থেকে সোজা ছুটে এসেছিলো উপরে, ১ নং ফ্লোরে, এসেই এয়ারলকের দিকে দৌড় দেয়। বাইরে যেতে চাওয়ার সবথেকে বড় অপরাধটা করে তখনই।

শেষ পর্যন্ত ওকে হোল্ডিং-সেলে নিয়ে আসে হোলস্টন। তখনো ও দোয়া করছিলো, যেন সাময়িক নার্ভাস ব্রেকডাউন বা এমন কিছু বলে চালিয়ে দেয়া যায় অ্যালিসনের আচরণ। কিন্তু ও জানতো, স্বাক্ষী অনেকেই, যারা ধরে রেখেছিলো অ্যালিসনকে, ক্যাফেটেরিয়ায় উপস্থিত মানুষেরা।

সেদিন সারাক্ষণ গরাদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো ও। অ্যালিসন পেছন ফিরে হোল্ডিং-সেলের দেয়ালের ডিসপ্লে দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলো। দরজায় চাবির আওয়াজ পাওয়ার সাথে সাথে হাত তুলে ওকে থামায়। কিছুতেই কথা বলবে না বুঝতে পেরে হতাশ হয়ে গরাদের বাইরে ওখানেই বসে পড়ে হোলস্টন।

গভীর রাতে যখন ডেপুটি মার্নস নিজের ঘরে ফেরত চলে যায়, ক্যাফেটেরিয়া থেকে সর্বশেষ খদ্দেরটিও বিদায় নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রথম কথা বলে অ্যালিসন।

“সত্যি না,“ ফিসফিস করে বলেছিলো সে।

দরজা খুলে ভেতরে যায় হোলস্টন। খাটে, নিজের পাশের ফাঁকা জায়গা চাপড়ে ওকে বসতে ইঙ্গিত করে অ্যালিসন। তারপর ফিসফিস করে জানায় নিজের ভাবনা, “যা দেখি আমরা, তার কিছুই সত্যি না।“ ফিসফিস করেই বলে যায় বাকিটা, “একটা প্রোগ্রাম খুঁজে পেয়েছি আমি, মুছে ফেলা তথ্যের ভেতর। ডিসপ্লে তৈরি করে সেটা। রঙিন ছবি - যে রঙ চাও, সেরকম। যা যা দেখাতে চাও, তাই তৈরি করা যাবে ঐটা দিয়ে।“

বাইরের অন্ধকারের মাঝে আবছা আবছা বোঝা যাওয়া ধুলার ঝড় দেখিয়ে বলে, “ধরো আসলে এখন বাইরে দিন। আকাশ আসলেই ছোটদের বইগুলোর মতো নীল।“ স্বামীর দিকে মুখ ফিরিয়ে একটা বিষাক্ত হাসি হেসে বলে, “ধরো ওরা আমাদেরকে দেখছে। আমাদের সবকিছুই একটা গবেষণা।“ একটু থেমে থেকে আবার বলে, “হার্ড-ড্রাইভে যা তথ্য আছে তার থেকে অনেক বেশি তথ্য মোছা হয়েছে। শুধু বিদ্রোহ নিয়েই না, আমাদেরকে নিয়ে, সাইলো নিয়ে।“

ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখে হোলস্টন।

“বিদ্রোহ বলে কিছু নেই আসলে। প্রতি কিছুদিন অন্তর এই তথ্য লিক হয় ধরো, বের হয়ে যেতে চায় তাই কেউ না কেউ। হয়তো প্রতি আঠারো-কুড়ি বছর পরপর নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ বের হয়ে যেতে চায়, দেখতে চায় সত্যিই বাইরের দূষণ অত প্রকট কিনা। অথবা বুড়োরাই বের হয়ে যেতে চায়, জায়গা করে দিতে, নতুনদেরকে। অথবা, ধরো আমাদের মতো দম্পত্তিরা, যারা রিস্কটা নিতে চায়, তাদের সন্তানকে সাইলোর ভেতরে বা বাইরের কোন বন্দী জীবনই যাতে না সহ্য করতে হয়। আমরা ভাবতাম না, কেন সবাই ‘ক্লিন’ করে? এখন আমি জানি। কেউ আর ফেরত আসবে না তাই সবাই বাকিদের জন্যে করে। তারা তো মুক্ত! কিন্তু এবার অন্যরকম হবে সবকিছু। আমি চক্রটা ভাঙবো। আমার কেউ থাকবে সাইলোতে ফিরে আসার জন্যে।“ অ্যালিসন বলে। “তোমার জন্যে ফেরত আসবো আমি। ভেব না আমার জন্যে।“

“কিন্তু কেন অ্যালিসন? তুমি আমাকে বললে না কেন? হয়তো আমরা দুইজনে মিলে ভেবে কিছু একটা বের করতে পারতাম...”

“আর তাতে করে কী হতো? নতুন আরেকটা বিদ্রোহের সুচনা? থাক, দরকার নাই। দেখেছি তো কী হয়েছে! আমার বের করা সব তথ্য আবার মুছে দিয়েছি আমি। কেউ জানবে না কিছু। থাকুক যারা থাকতে চায় এই বন্দী জীবনে। শুধু আমি ফেরত আসব তোমার জন্যে।“

“তোমার তাই ধারণা?” রাগ করে হোলস্টন, “আগে যারা বেরিয়ে গেছে, তারা এখনো বেঁচে আছে? তারা ফেরত আসেনি আমাদের উপর রাগ করে? প্রতিহিংসায়?”

“লেন্স কেন পরিষ্কার করে বলো তো? মরেই যদি যাবে, তো সব্বাই কেন নিজেদের পকেট থেকে উলের টুকরা বের করে লেন্সগুলো পরিষ্কার করে আগে?

“আমরা অনেকবার এইটা আলোচনা করেছি। অনেক কিছুই কারণ হতে পারে। অনেক থিওরি তুমি আর আমিই আলাপ করেছি।“

“কিন্তু এখন তুমি নতুন কিছু জানো।“ অ্যালিসন বলে, “আর আজ ভোরে আমি সত্যিটা জানবো, আর ঘণ্টাখানেকের মাঝেই।“ তারপর ওর দিকে তাকিয়ে বলে, “আর একদিন তুমিও জানবে।“


(বর্তমান সময়)

অ্যালিসনকে ছাড়া প্রথম বছরটা কেটেছিলো পাগলের মতো। হোলস্টন ভেবেছিলো অ্যালিসন সত্যিই ফিরে আসবে। পাহাড়ের খাঁজে যাকে মরতে দেখেছিলো সেদিন ভোরে ওটা দৃষ্টি-ভ্রম ছিলো। অথবা ধোঁকা কোন, অ্যালিসনের দেয়া ধোঁকা। প্রথম বার্ষিকীর দিনটা হোলস্টন কাটিয়েছিলো হোল্ডিং সেল ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে। সপ্তাহ গেল, মাস গেল, বছরই ঘুরে গেল। খুঁজে খুঁজে অ্যালিসনের সব ফাইল বের করলো ও, যে কয়টা পায়, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লো যে টুকু উদ্ধার করতে পারলো। বারবার উপলব্ধি করলো, যাই থাকুক বাইরে, অ্যালিসনকে ছাড়া এভাবে বাঁচার কোন মানে হয় না।

যখন অ্যালিসন এলো না, পরের বছরটা কাটলো নিজেই বের হয়ে যাবার সাহস সঞ্চয় করতে করতে। কাপুরুষতা জয় করতে পারেনি।
এখন আরও এক বছর পরে, শেষ পর্যন্ত বের হয়ে যাবে হোলস্টন। সত্যিটা নিজেই দেখবে এবার।

হলুদ দরজার ওপাশে সাইরেন বেজে উঠলো। আর্গনের প্রেশার বেড়ে গেছে চেম্বারে। বাইরের এয়ারলক দরজা ফাঁক হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। বেশি ফাঁক হবে না জানে হোলস্টন। কোনমতে ওকে বের করে দিতে পারার মতো ফাঁক হবে ইস্পাতের অটোমেটিক দরজা। আর দ্রুত বের না হতে পারলে পেছনে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে পুরো এয়ারলক চেম্বার। দূষিত বায়ু বা টক্সিন সব ছারখার করে ফেলবে। তারপরে পরদিন পুরো সেল পরিষ্কার করবে আইটির লোকেরা এসে শেরিফের সাথে।

দরজাটা ফাঁক হতে শুরু করতেই নিজের সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে একটা হাত আর মাথা গলিয়ে দেয় বাইরে। তারপরে ধীরে ধীরে পুরা শরীর, দরজার ফাঁকে প্রোটেকশন সুট আঁটকে যায়, হ্যাঁচকা টানে পুরাই বেরিয়ে আসে ও।

বাইরে একটা র‍্যাম্প, উপরে উঠে গেছে। ওর মনে পড়ে, দরজা দিয়ে বের হয়েই বাইরের খোলা জায়গা না। ক্যাফেটেরিয়া বা শেরিফের অফিস আসলে ভূমির সমতলে না, বরং সাইলোটা পুরাটাই মাটির নিচে। বাইরের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের গায়ের ক্যামেরাগুলো ভূমির বরাবর, সেগুলোর ছবিই ক্যাফেটেরিয়াসহ সাইলোর সর্ব উপরের ১ নং ফ্লোরে দেখা যায় বলে ওরকম ভ্রান্তি হয়।

র‍্যাম্প বেয়ে উপরে উঠে আসে হোলস্টন। দ্রুত, দ্রুত, নিজেকে বলতে থাকে ও। কে জানে কতক্ষণ আছে আর অক্সিজেন। র‍্যাম্পটা পুরানো, ইস্পাত ক্ষয়ে গেছে। কিন্তু ওর হেলমেটের 'ভিজর' দিয়ে কোথা থেকে অনেক বেশি আলো আসছে। উপরের দিকে মুখ তুলে অবাক হয়ে যায় হোলস্টন – আকাশ ... উজ্জ্বল নীল আকাশ!

তারপরে র‍্যাম্পের উপরে পৌঁছে মাটিতে তাকায় – সবুজ, সতেজ ঘাস!

দূরে, যে পাহাড় দেখা যায় ক্যাফেটেরিয়া থেকে, ওর অফিস থেকে... সবুজ সবুজ পাহাড়! বড় বড় ঘাস, আর সবুজ ঢেউ খেলানো পাহাড়। আর আকাশে কী কী যেন উড়ছে, ঠিক ছোটদের বইয়ের পাখির মতো। বাতাস বয়ে যাচ্ছে, দেখে ও... ঘাসের ডগারা দুলছে।
নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে ঘুরে হোলস্টন... মনে পড়ে অ্যালিসনও এমন করে ঘুরেছিলো।

ক্যামেরার সেন্সর লাগানো ক্ষুদে টাওয়ারটা চোখে পড়ে ... ‘ক্লিনিং’!

জানে এখন হোলস্টন, কেন সবাই পরিষ্কার করে লেন্স!

ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফিশ-আই লেন্সগুলো মুছতে শুরু করে ও। লেবেল লাগানো পকেট থেকে বের করে ক্লিনিং লিকুইড, স্প্রে করে লেন্সের কাঁচে, উলের টুকরা বের করে ঘষে ঘষে মুছে, যত্ন করে। তারপরে পরের ক্যামেরা, তার পরেরটা। ভেতরের মানুষগুলর জন্যে কষ্ট হয় ওর, আফসোস হয়।

চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে। অ্যালিসনই ঠিক ছিলো! কিন্তু কাওকে জানানোর উপায় নেই। বন্ধ হয়ে গেছে সাইলোর এয়ারলক। জানে উপরের কাফেটেরিয়ায় কেউ নেই, ‘ক্লিনিং’ দেখতে চায় না কেউ... বলা ভালো, ‘ক্লিনারের’ মৃত্যু দেখতে চায় না কেউ। শুধু আলিসনের পুরো ক্লিনিং দেখেছিল ও একা। সারাক্ষণই অ্যালিসনের সবকিছু দেখে গেছে ও... পাহাড়ে গায়ে টলে পড়া পর্যন্ত। অ্যালিসন কি কিছু বলেছিলো ওকে? হেসেছিলো ওর দিকে চেয়ে, আশ্বস্ত করতে চেয়েছিলো যে ওর ধারণাই ঠিক, বাইরের দুনিয়াটা বাসযোগ্য? প্রোটেক্টিভ সুটের হেলমেটের চকচকে ভিজর দিয়ে ওর চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না...

‘ক্লিনিং’-এর দিন সকালের দৈনন্দিন কাজ শুরু হবার পরে সাইলোর গভীরতম স্তর থেকে মানুষ উঠে আসতে শুরু করে, কয়েকদিন ধরে আসে মানুষ, ছুটি থাকে ঐ কয়দিন - ধূসর, মেটে, ম্যাড়মেড়ে, রুক্ষ বাইরের দুনিয়ার পরিষ্কার ঝকঝকে দৃশ্য দেখতে আসে। কিন্তু হায়রে, সত্যি দুনিয়া দেখতে পায় না কেউ... চায়ও না হয়তো... অ্যালিসন যেমন বলেছিলো।

কিন্তু কেন এই অমানবিক নিয়ম? কবের থেকে? সেই যে বিদ্রোহের কথা ওরা শুনে এসেছে, তারও আগের কিছু? ক্ষমতার জন্যে? মানুষকে দাবিয়ে রাখার জন্যে? নিয়ন্ত্রণের জন্যে?

কেউই কি জানে না আসল সত্যিটা? তা না হলে কেন চেপে রাখা? কেন এই প্রবঞ্চনা? কেউ যদি সত্যিই জানতো, তাহলে কি এই মিথ্যা রুক্ষ দুনিয়ার ছবি দেখাতে থাকতো এতগুলো বছর ধরে কোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

আর অ্যালিসন? কোথায় তাহলে অ্যালিসন?

তৃতীয় লেন্সের দিকে ঘুরতেই দুই পাহাড়ের মাথার উপর দিয়ে দূরের শহরটা নজরে আসে হোলস্টনের - এখন আর তা ধ্বংসস্তূপ না, দোমড়ানো মোচড়ানো ইস্পাতের কাঠামো না, সত্যিকারের ঝকঝকে একটা শহর, আরও অনেক নতুন বিল্ডিং সহ একটা শহর।

ঐখানে যেতে হবে ... অ্যালিসনকে খুঁজে বের করতে হবে।

কিন্তু না, আগে ঠিক ঠিক অন্য ক্লিনারদের মতোই কাজ সারতে হবে। কেউ যেন টের না পায়। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যারা আছে, তারা যেন টের না পায়।

জোড়া পাহাড়ের দিকে কয়েক ডজন ধাপ এগুতেই ব্যথার প্রথম ঝলকটা টের পেল হোলস্টন। তখনো নীল আকাশ আর সবুজ ঘাসে বুঁদ হয়ে ছিল ও। প্রথমে মনে হয় বুকের পাঁজরে খোঁচাচ্ছে কিছু। তারপরে মনে হলো পেটের ভেতরেও মোচড় দিচ্ছে। রাতে কিছু না খাওয়াটা বোকামি হয়েছে, টের পায় সে। বাথরুমেও তো যায়নি প্রায় ২৪ ঘণ্টা! ইশ! কোনভাবে পাহাড়টা ডিঙাতে হবে, ভাবে ও। তারপরে হেলমেট খুলে ফেলা যাবে।

জোর করে পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যায় ও। সেই পাহাড় জোড়া যেখানে অ্যালিসনকে এগুতে দেখেছিল, যাদের মাঝ বরাবর গিয়ে টলে পড়েছিলো অ্যালিসন...

অক্সিজেন! হেলমেটের ভেতরে দম আটকে আসে হোলস্টনের। প্রোটেকটিভের সুটের ভেতরের সব অক্সিজেন শেষ হয়ে এসেছে, নিজেরই ত্যাগ করা দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়ার কারণেই পেটে-বুকে এরকম ব্যথা করছে, বুঝতে পারে হোলস্টন। কিন্তু পুরু গ্লাভস পরা হাত দিয়ে হেলমেটের ল্যাচ খুলতে পারে না। গোবদা মোটা মোটা আঙুল হয়ে আছে, চেইন, আংটা, ভেলক্রোর সিল খোলা যায় না।

হাঁসফাঁস করতে করতেই টের পায় নিজের ভিজর-এর ভেতরটা কালো হয়ে যাচ্ছে। এবার সত্যিই ভয় পায় হোলস্টন। এরকম কি হবার কথা? কিন্তু এতক্ষণ ও নিজে বাইরের সবকিছুই পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলো, অক্সিজেনের অভাবে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিনা ভেবে আতংকিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তের একটা ঝলক দেখা যায় ভিজরে, তারপরে কালো হয়ে যায় পুরোটা।

গ্লাভস খোলা যাবে না, সুটেরই অংশ ওটা, হেলমেটের দুই পাশে দুইটা ল্যাচ আছে, ভাঙ্গতে হবে ওগুলো। মাথা ঠাণ্ডা করতে চেষ্টা করে হোলস্টন। সামনে টলে মাটিতে পড়ে যায় কিছুতে পা বিধে। মাটি হাতড়ে একটা পাথরের টুকরো পায়। জোরে জোরে বাড়ি মারে ওটা তুলে হেলমেটের গোড়ায়, নিজের ডান কাঁধের কাছে। কিছু একটা ভাঙার শব্দ হয়, ‘এবার বামেরটা’ ভাবে ও। হাত বদল করে পাথরের টুকরাটা নামিয়ে নিয়ে আসে বাম কাঁধে।

আহ আলো! দেখতে পাচ্ছে জেনে চোখে পানি চলে আসে হোলস্টনের। বুক ভরে তরতাজা বাতাস টেনে নিতে চায় ও।
কিন্তু মনে হয় কেউ জোরে ঘুষি মেরেছে পাঁজরে। বমি করে দেয় সাথে সাথে। পেটের ভেতরে কিছুই না থাকায় নাড়ি-ভুঁড়িই উল্টে আসে। একদিকে কাত হয়ে পড়ে যায় ও।

কোথায় নীল আকাশ? কোথায় ঘাস? পাখি? মেঘ?

ময়লা, ধূসর, রুক্ষ বালু আর অন্ধকার ঘোলা ঘোলা আকাশ...

পেট আর বুকের অসহ্য যন্ত্রণা উপেক্ষা করে নিজের মাথার পাশে পড়ে থাকা হেলমেটটা তুলে ধরে ও – ভিজরের বাইরেটা রূপালি চকচকে প্রলেপ দেয়া, আর ভেতরে, কিচ্ছু নাই! কাঁচ না, কোন স্ক্রিন না! শুধু কিছু তার ঢুকেছে আর বের হয়েছে... একটা ডিস-প্লে ... কালো হয়ে যাওয়া বাতিল ডিস-প্লে – ডেড পিক্সেলস!

হেলমেটের ভিজরটা একটা ডিস-প্লে ... অ্যালিসনের খুঁজে বের করা প্রোগ্রাম চলে যাতে।

মাথা ঘুরিয়ে কতদূর আসতে পেরেছে দেখতে চেষ্টা করে হোলস্টন। দুইটা পাহাড়ের খাঁজের কাছে পৌঁছেছে ও। তখনই পা বেধে পড়ে যাওয়া পাথরটা খেয়াল করে। এইটা ওর ভিজরে দেখা যাচ্ছিলো না, এখানে কিছুই ছিলো না তখন। কিন্তু এখন দেখে, বড় একটা পাথর... না, ঢিবি... ক্ষয়ে যাওয়া একটা সুটের অংশ... অ্যালিসন!

দূরে একটা ক্ষয়ে যাওয়া শহরের দাঁড়ানো দোমড়ানো ইস্পাতের কাঠামো... উপরে একটা কালচে-ধূসর আকাশ ...
তার নিচে রুক্ষ পাহাড়ের খাঁজে দুইটা পাথরের ঢিবি ... দু’জন ক্ষয়ে যাওয়া মানুষ।

পাদটীকা

  • ১. সাফি ভাই 'Silo' সিরিজ রেকমেন্ড করেছিলেন। প্রথম বই Wool Omnibus-এর প্রথম গল্প 'Wool' পড়ে ভালো লাগলো। গল্পটা সবার সাথে শেয়ার করতে আগ্রহ হচ্ছিলো, তাই অনেকদিন পরে একবসায় একটা বড়-গল্প অনুবাদ করে ফেললাম, বেশ কয়েক ঘণ্টা পরিশ্রম করে।

    বড়-গল্প, প্রায় উপন্যাসই বলা চলে, আমি অনেকখানি সংক্ষেপ করেছি। মূল লেখকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যতটা বাদ দিয়ে গতিময়তা ধরে রাখা যায়, চেষ্টা করেছি। ব্লগে বড় গল্প/লেখা পড়ে নিজেই আরাম পাই না, তাই বড় পোস্ট করতে চাইনি। কিন্তু দুই-তিনবারে পার্ট-পার্ট করে প্রকাশিত লেখা পাঠক হারায় বলে মনে হয়েছে আমার। তার থেকে একবারেই পোস্ট করলাম, সময়াভাব থাকলে পাঠক নিজেই অর্ধেক করে নিয়ে পড়বেন এই অনুরোধ থাকলো।

    বানান আর টাইপিং ভুল থাকতে পারে কিছু, পরে মন দিয়ে দেখে ঠিক করে দিবো, কারও চোখে পড়লে জানিয়েন।


মন্তব্য

শিশিরকণা এর ছবি

ভালও লাগলো। আরও কিছু অনুবাদ কোর।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

মন খারাপ

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

এক লহমা এর ছবি

চমৎকার এবং ভয়ানক! হাততালি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

হুম...

গল্পের শেষটা এরকম অ্যাপোক্যালিপ্টিক সিরিজের জন্যে বেশ সম্ভাবনাময়, মূল প্লটকে অনেকদিকে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

মন মাঝি এর ছবি

চলুক

****************************************

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

ভাবছি বড়গল্প দেখে পাঠক পালিয়ে গেছে কিনা। খাইছে

ধন্যবাদ পড়বার জন্যে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

তাহসিন রেজা এর ছবি

অনেক বড় গল্প, তাই প্রিন্ট করে পড়লাম।
খুব ভালো লেগেছে। আরো অনুবাদ করবেন আশা করি।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

বাহ! আমি বন্ধুবান্ধবদেরকেই পড়াতে পারলাম না, আপনি শেষে প্রিন্ট করে পড়ে ফেলেছেন! এই নেন আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- চাটনি।

এই সিরিজটা যত সুন্দর করে শুরু করেছে পরের গল্পগুলো অত সুন্দর করে আগায় নাই। Wool সমগ্রের শেষ অন্তত আমার পছন্দ হয়নি। তবে অন্য জিনিস অনুবাদের আশা রাখি। স্টিফেন কিং-এর একটা বড় গল্প অর্ধেক করে রেখে দিয়েছি, ঐটা পোস্ট করবো শীঘ্রই আশাকরি।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

ভাল লাগছিল পড়তে, মনটাও খারাপ হয়ে গেল শেষে এসে।

কল্যাণ এর ছবি

১ পড়তে অনেক কষ্ট হয়েছে, ২ পড়তে তার একটু কম, এর পর টানা পড়ে ফেললাম। খুব ভাল লেগেছে।

স্টিফেন কিং কোতি?

একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে! টাইপ করার আলিস্যিতে প্রথমে বলা হয়নি। হেলমেটের ভাইজর এলসিডি ডিসপ্লে, আর তাতে যা দেখা যাচ্ছে তা কৃত্রিম, তাহলে বাস্তবের ক্যামেরাগুলো কিভাবে দেখা যাচ্ছে চিন্তিত ?

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।