টান

ভুতুম এর ছবি
লিখেছেন ভুতুম [অতিথি] (তারিখ: শনি, ১৭/১০/২০০৯ - ৯:০০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পড়তে পড়তে গিয়েও আবার সামলে নিলাম; দীর্ঘদিন পর আবার পুরনো এই পথে যেতে যেতে একটু আশ্চর্যই লাগছিলো - যতটা বদলাবে ভেবেছিলাম ততটা বদলায়নি মোটেও। অবশ্য পথ চলা ঠিক আগের মতো নেই। পথের মধ্যে বেশ পুরনো একটা গর্ত, কীভাবে হয়েছিলো কে জানে, সারা বছরই পানি জমে থাকে আর আশেপাশের রাস্তায় একটু থকথকে কাদা। ওটা এড়াতে গিয়ে হালকা একটা লাফ দিয়েছিলাম, যেখানে ল্যান্ড করলাম সেখানটাও একটু পিছল, পড়তে পড়তে সামলে নিলাম ওখানেই।

লাফ দেয়ার সময় ঝাঁকিতে চশমাটা একটু বেঁকে গিয়েছিলো, সোজা করে নিলাম। তখুনি খেয়াল করলাম বামের যে তালগাছটা সেই ছোটবেলা থেকেই দেখছি, সেটার গোড়ায় বসে জুলজুল করে আমাকে দেখছে একটা বেজি। দেখে মনে হচ্ছিলো বেশ আমাকে পরখ করে নিচ্ছে, দৌড় দেবে না আরো কিছুক্ষণ থাকবে মনস্থির করতে পারছে না মনে হয়। হালকা একটা পা ওটার দিকে বাড়াতেই ঘুরে দৌড়। কেমন জানি হাসি পেয়ে গেলো দেখে। থাম থাম বলে দুকদম দৌড়ালাম ওটার পিছনে। কে শোনে কার কথা, কই যে হারিয়ে গেলো দৌড় দিয়ে আর দেখতেই পেলাম না।

ফেরত এসে আবার হাঁটা শুরু করলাম পুরনো সেই জঙ্গুলে রাস্তায়। হাঁটতে হাঁটতে মনে পড়লো শেষবার এই পথে আসার কথা। দাদা-দাদী তখনও বেঁচে ছিলেন, কাজেই প্রতি ঈদেই আসা হতো গ্রামে। আর আসতাম ডিসেম্বরের ছুটিতে। শীত নেমে যেতো বেশ তখন। ফজরের নামাজ পড়ে এসে জাগিয়ে দিতেন দাদা, আমিও ঘুম ঘুম চোখে একটা জাম্পার পরে দাদার হাত ধরে হেঁটে যেতাম এই পথ ধরে। ঐ গর্তটা দাদা কোলে করে পার করে দিতেন। হঠাৎ টের পেলাম, এই প্রথম গর্তটা আমি নিজে পার হলাম।

এই রাস্তাটা ধরে বেশ কিছুদূর হাঁটলে আমাদের কিছু জমি ছিলো, সেটাই ছিলো গন্তব্য আমাদের। দাদা সময় সময় ওখানটাতে কিছু শিম করতেন, মাঝে মাঝে মরিচ আরো নানা মৌসুমী তরকারী। জমির ধার জুড়ে ছিলো তিন-চারটা খেজুর গাছ। ডিসেম্বরের শেষ দিকে অল্প-স্বল্প কিছু রস জমতো, সেটাই আনতে সকাল বেলা আমি আর দাদা যেতাম। একটা কলসীতে সবগুলো রস ঢেলে সেটা আমার হাতে ধরিয়ে দিতেন দাদা, আর হাঁটতে হাঁটতে বাড়িতে এসে দেখতাম দাদী চুলায় খড়ি ঢুকিয়ে খোলাজালি পিঠা রাঁধার যোগাড়-যন্ত্র করছেন। আমার শহুরে মা পাশে একটা মোড়ায় বসে দাদীর কাছে খুব অভিযোগ দিচ্ছেন আমার নামে শহুরে নানা দুষ্টামীর ফিরিস্তি দিয়ে; আর দাদী মৃদু মৃদু হাসছেন আমার মায়ের অভিযোগনামা শুনে।

হঠাৎই রাস্তার দিকে নজর পড়তে দেখি এসব ভাবতে ভাবতে কখন পৌঁছে গেছি আমাদের জমির খুব কাছাকাছিই। ঐতো সামনে মজা পুকুরটা, সেটা পার হয়ে বামের দিকে যে ঢালুটা নেমে গেছে সেটা দিয়ে একটু গেলেই তো সেই পুরনো খেজুর গাছ কয়েকটা। গন্তব্যের কাছাকাছি এসে পা কেমন জানি একটু ধীর হয়ে গেলো। এতদিন পর কেন যে আবার ফেরত যাচ্ছি ওখানে - কে জানে। দাদা-দাদী মারা যাবার পর ভিটায় তালা পড়ে। লুটেপুটে খাবার মতো পাঁচভুত যদি থাকতো, তবু মনে হয় ওটা বেচার নাম কেউ নিতো না। কিন্তু ভুতদের এহেন দুঃখজনক অনুপস্থিতিতে বেশিদিন গ্রামের এগুলো রাখার মানে হয় না। আমি এসেছিলাম এসব বেচাবিক্রির কাজকর্ম গুছি্যে দিতে। কাজ শেষ, কিন্তু ঢাকার বাস সেই বিকাল চারটা্য়। এই অবসরে একটু গড়িয়ে নিতে পারতাম, কিন্তু কেন জানি কিসের টানে একটা রিক্সা নিয়ে চলে এলাম এদিকটায়, এরপর পায়ে হাঁটা সেই জঙ্গুলে পথ।

মজা পুকুরটার পাশ দিয়ে যেতে যেতে কেমন জানি একটু শিরশির করে উঠলো গা। কালো পানি, পুকুরটার পাশে ঘন হয়ে আছে বড়বড় গাছ, কোনদিন সূর্য মনে হয়না পড়েছে ঐ পানিতে। ছোটবেলায় একবার দাদী শুনিয়েছিলেন এক গল্প - এই পুকুরটাতে নাকি সিন্দুক আছে একটা, কেউ ঐ পানিতে নামলেই শিকল দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে নিয়ে যায়। একসময় নাকি এদিক দিয়ে বেশ বড় এক রাস্তা ছিলো। একবার কোন এক জমিদার নতুন বিয়ে করে বৌ নিয়ে যাচ্ছিলো এদইক দিয়েই। পথে বেয়ারারা পুকুরপাড়ে থামে একটু বিশ্রাম নেয়ার জন্য। পুকুরের পানি নাকি তখন ছিলো টলটলে সবুজ, দেখে জমিদার বৌয়ের লোভ হলো পুকুরে হাত-মুখ ধোয়ার। ঘাটে নেমে হাত-মুখ ধুচ্ছিলো সে, এমন সময় পুকুর থেকে একটা শিকল উঠে এসে আস্তে করে তার পায়ে জড়িয়ে যায়, সে টেরও পায়নি। যখন পানি থেকে উঠে পালকি পর্যন্ত প্রায় এসে গেছে, তখন সেই শিকল দিলো টান। আস্তে আস্তে কি অমোঘ সেই টান তাকে নিয়ে গেলো একদম পুকুরের মাঝে। জমিদার বৌয়ের চিৎকার শুনে পাইক-পেয়াদারা ছুটে এসেছিলো, কিন্তু সেই শিকল থেকে কিছুতেও কেউ ছোটাতে পারেনি তাকে। জমিদারের চোখের সামনেই ডুবে গেলো তার বৌ। সেইথেকে নাকি এই রাস্তা আর কেউ ব্যবহার করে না, আস্তে আস্তে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছে রাস্তা আর সেই পুকুর।

দাদীর গল্প শোনার পর থেকেই খুব ভয় লাগতো এই পুকুরটা পার হবার সময়, দাদার হাত আঁকড়ে ধরতাম শক্ত করে। আজকেও সেই প্রাচীন ভয়টা মনে রয়ে গেছে কেমন ভালোই লাগলো, মনে হলো এখনো বুড়ো হইনি। পুকুর পার হয়ে কিছুটা সামনে যেতেই চোখে পড়লো আমাদের সেই ছোট এক টুকরো জমিটা। মন খারাপ হয়ে গেলো দেখে, দাদা যতদিন ছিলেন কী যত্নেই না রেখেছিলেন এই জমিটাকে। বলতেন, মাটিকে যে ভালোবাসে না, সে নাকি মানুষই না। আর সেই জমিতে এখন আগাছা জমে একটা রুক্ষতা ফুটে আছে। খেজুর গাছগুলোও সেই আগের মতন নেই। মনে হলো যেন আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। দাদা মারা যাবার আগের বছরটাতে ওনাকে দেখে যেমন রুগ্ন মনে হয়েছিলো, ঠিক সেরকম মনে পড়লো এই গাছগুলোকে দেখে। ঘুঘু ডাকছিলো একটা কিছুক্ষণ ধরে, মনে হয় আমার মন খারাপ বুঝে চুপ করে গেছে। বিষণ্ন হয়ে বসে রইলাম কিছুক্ষণ গাছের নিচটাতে।

খানিকপর উঠে পড়তে হলো, যদিও ইচ্ছা করছিলো না। রোদ বেশ চড়ে গেছে, মধ্যদুপুর, এখন রওনা না দিলে শহরে পৌঁছতে দেরিই হয়ে যাবে। খেয়ে-দেয়ে আবার ঢাকার জন্য বাস ধরতে হবে।হঠাৎ ভাবলাম, এই শেষ আসা। আর কোনদিন ফেরত আসা হবে না এখানে, এ পথটাতে আর হাঁটা হবে না, ঐ পুকুরটা দেখে আর ভয় পাবো না; একটা সুতো ছিঁড়ে গেলো আজ। একটু ঝুঁকে কিছুক্ষণ হাতদুটো মাটিতে ধরে রাখলাম, ছুঁয়ে নিলাম শেষ বারের মতো এই স্মৃতিকে।

ফেরত আসার পথে পুকুরটা প্রায় পার হয়ে যাচ্ছি, হঠাৎ মনে হলো, এই পানিও তো আমার ছোটবেলার সাক্ষী। পুকুরের পাড় বেয়ে একটু উঠে চেয়ে রইলাম ঐ কালো পানির দিকে। কোথাও এখানে একসময় ঘাট ছিলো, এখন আর দেখা যায় না। কালের সাথে মিশে গেছে। ভাবলাম, একটু স্পর্শ নিয়ে যাই এই পানির। সাবধানে কাছে গিয়ে আঁজলা ডুবিয়ে দেখি কী অদ্ভুত শীতল! একটু ঘাড়ে-মুখে ছিটিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম; কাকে জানি না, বললাম, যাইরে। ভালো থাকিস।

পাড় বেয়ে রাস্তায় উঠতে গিয়ে হঠাৎ আবার হোঁচট খেলাম, পড়তে পড়তে সামলে নিলাম কোনমতে। তাকিয়ে দেখি, আমার পায়ে জড়িয়ে আছে কালো একটা শিকল, আস্তে আস্তে আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে পুকুরের দিকে। কী অমোঘ সেই টান!


মন্তব্য

দময়ন্তী এর ছবি

একটু একটু ভয় ভয় পেলাম৷
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

ভুতুম এর ছবি

একটু একটু ভয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

----------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

স্নিগ্ধা এর ছবি

ইয়ে, ভুতুম - গল্পটা ভালো লেগেছে, শুধু শেষে এসে কি রূপক অর্থে টান বোঝালেন কিনা সেটা ঠিক ধরতে পারলাম না বলে একটু থমকে গেলাম।

আরো গল্প পড়তে চাই। এটা কিন্তু সিরিয়াসলি বললাম হাসি

ভুতুম এর ছবি

আক্ষরিক টানের কথাই বলেছি, কিন্তু রূপকটা হাইলাইট করার জন্যই।

ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো স্নিগ্ধাপু।

-----------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

স্নিগ্ধা এর ছবি

ভুতুম, আক্ষরিক টান হলে বরং বলবো একটু দুর্বল হয়ে যায় ব্যাপারটা। কারণ আপনার গল্পটার আমেজ অনেক বেশি ইমোশোনাল, ভৌতিক ব্যাপারটা ঠিক যেন যায় না।

আর, রূপক অর্থে 'টান' এর অমোঘতা বা দার্শনিকতা তুলে ধরলে, পাঠক হিসেবে আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, এই আর কি ...

ভুতুম এর ছবি

রূপকটার উপর নজর দেয়ানোটাই উদ্দেশ্য ছিলো, ওটাই ধরে নিন তাহলে আপনি। হাসি

----------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

শেষটা আসলেই একটু ধরে রেখেছে আমাকে...। মন্তব্য পড়ে বুঝলাম আপনি এটাকে রূপক দেখাতে চাইছেন- আমার মনে হলো শেষটা ঘষামাজা করলে আর কিছু অংশ বাদ দিয়ে গেলে এটাকে একটা চমৎকার ভৌতিক গল্পের রুপ দেয়া যেতো...
বেশ লিখেছেন।

---------------------------------------------------------------------------

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

ভুতুম এর ছবি

ধন্যবাদ। পুরোপুরি ভৌতিক গল্প কেন জানি লিখতে পারি না ঠিকমতো। ভবিষ্যতে আবার কোনদিন চেষ্টা করবো, তখন জানাবেন কেমন লাগলো।

-----------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

ভুতুম কুড়াল (দা বললাম না চোখ টিপি ), এমন লেখার ক্ষমতা নিয়ে কই বইসে থাকেন আপনে?

আমার পোস্টে অটঃ মন্তব্য ছিলো একটা। ব্যবস্থা নিয়েন চোখ টিপি

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

ভুতুম এর ছবি

এমন লেখার ক্ষমতা নিয়ে বসে থাকার উপযুক্ত জায়গা হলো গারদ, সেখানে আর যেতে পারলাম কৈ?

অনেক ধন্যবাদ সিমন ভাই।
------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

প্রবাসিনী এর ছবি

ভাল লেখা, ভালই ভয় পেলাম।
________________________________________________

হইয়া আমি দেশান্তরী, দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী রে

________________________________________________

হইয়া আমি দেশান্তরী, দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী রে

ভুতুম এর ছবি

ভয় পেয়েছেন শুনে ভালু লাগলো।

------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব ভাল লাগল ।লেখায় ডিটেইলের কাজ আছে।শেষ দিকে মনে হল শিকল যেন আমাকেই টানছে।

/
স্পার্টাকাস

ভুতুম এর ছবি

ধনেপাতা ভাই স্পার্টাকাস!

-------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমিও বলি এমন লেখার হাত নিয়ে চুপচাপ বসে থাকার মানে হয়না। আমি এরকম লিখতে পারলে ... কী আর বলবো। ভালো লেগেছে। তবে শেষটা কেন যেন আন্দাজ করা গিয়েছে।

ভুতুম এর ছবি

পিপিদা, আপনি আমার চেয়ে হাজার গুণে ভালো লেখেন। ধন্যবাদ তবুও হাসি

শেষটা আরেকটু অন্যরকম করলেই বোধহয় ভালো হতো। তবে বেশি চিন্তা ভাবনার ঝুঁকি না নিয়ে পোস্ট করে দিয়েছি। একবার বাক্স বন্দী হলে আর সে লেখা শেষ করা হয় না মন খারাপ

-------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

নবনীতা এর ছবি

তোমার লেখার প্রথমটুকু পড়ে একটু নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম। শেষটায় এসে আবার চমকে গেলাম!! হাসি
ভাল হয়েছে, বেশ ভাল হয়েছে।

ভুতুম এর ছবি

ধন্যবাদ নবনীতা, বেশ ধন্যবাদ!

------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

নবনীতা এর ছবি

তোমার লেখার প্রথমটুকু পড়ে একটু নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম। শেষটায় এসে আবার চমকে গেলাম!!
ভাল হয়েছে, বেশ ভাল হয়েছে হাসি

ভুতুম এর ছবি

একই মন্তব্য দুইবার কেনু কেনু কেনু?

------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

s-s এর ছবি

এই গল্পটা বেশ সুন্দর ভুতুম।

ভুতুম এর ছবি

ধন্যবাদ।

------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

খেকশিয়াল এর ছবি

শেষের দুই প্যারা বাদে লেখাটুকু পড়ে মন খারাপ লাগছিলো। গ্রামের কথা মনে পড়ে গেলো, শেষবার যখন গেলাম ফিরে আসতে ইচ্ছা করছিল না। শেষের দুই প্যারার প্রথমটাতে এসেই এমনি মাথায় ঘুরে গেল শিকলের ব্যাপারটা, কিন্তু চাচ্ছিলাম না সেরকম কিছু হোক। কারণ গল্পের আমেজের সাথে এই ভৌতিক ব্যাপারটা যায় না। যেতো যদি সেরকম প্রস্তুতি থাকতো প্রথম থেকেই। আবার ভৌতিকই হবে এমন কথা নেই, শিকলের ব্যাপারটার মধ্যে একটা যাদুবাস্তবতার আমেজ আছে। কিন্তু মনে হলো সেই ভাবটুকুর জন্য গল্পটাতে আরো মশলার দরকার ছিল, বিস্তৃতির প্রয়োজন ছিল। এতগুলি কথা বললাম এ জন্যেই যে, গল্পটা ভাল লেগেছে। তবে আরো সম্ভাবনা ছিল। লিখতে থাকুন।

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ভুতুম এর ছবি

আমার গ্রামের স্মৃতির সাথে এত রূপকথা এত ভৌতিক গল্প জড়িয়ে আছে যে গ্রামের স্বাভাবিক টানের সাথে সেই গল্পের আমেজও মিশে আছে, তাই বোধহয় এই অবস্থা। ভৌতিক গল্প মোটেও লিখতে চাইনি, কিন্তু ঐযে বললাম, এসব রূপকথা এত সহজে মিশে আছে ছোটবেলার সাথে যে আলাদা আমেজ সৃষ্টি করার কথা মনে হয়নি। তবে আপনার কথাটা বুঝতে পারছি ও মাথা পেতে নিচ্ছি। ভবিষ্যতে পাঠকানুকূল আমেজ সৃষ্টির দিকে মনোযোগ থাকবে। হাসি

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

খেকশিয়াল এর ছবি

পাঠকানুকূল কেনো? গল্প হবে গল্পের মত, ইচ্ছা করে কারো অনুকূলের যাবার তো দরকার নাই হাসি

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ভুতুম এর ছবি

আই মিন, উপযুক্ত আমেজ সৃষ্টির দিকে নজর রাখবো। হাসি

---------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।