বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ চাঞ্চল ফিরছে কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফিরবে কবে ?

রাহা এর ছবি
লিখেছেন রাহা (তারিখ: শুক্র, ২৬/১০/২০০৭ - ১:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিশ্ববিদ্যালয় গুলো খুলছে কিন্তু আমাদের শিক্ষক আর মানবেন্দ্র এর মতোন শিক্ষার্থীদের কি হবে ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা সদস্যদের ওদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ, শিক্ষার্থীদের লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষার্থীদের লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে ক্ষোভে বিস্ফোরিত হয়েছিল । সরকার খুব সফলভাবে যত দোষ নন্দঘোষদের দিয়ে সেই ছাত্র-জনতার স্বতস্ফূর্ত ক্ষোভকে ভিন্ন পথে চালিত করেছিল । তারপর সামরিক বাহিনী শিক্ষক - শিক্ষার্থীসহ অনেককে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে শাররীক আর মানসিক নির্যাতন চালিয়েই ক্ষান্ত হননি , তাদের বিরুদ্ধে এনেছে নানা মামলা ।

ঘটনা পরবর্তী সময় ছাত্র আন্দোলনকে কিছু সুবিধাবাদী স্বার্থেন্বেসি মহলের উপর চাপিয়ে দিয়ে (সেই নন্দ ঘোষ , মানে রাজনীতিবিদদের উপর) কোমল মতি শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেয়ার ভাব নিয়েছে । কিন্তু আদৌতে কিছু হয়েছে ?? সরকার পুরো ঘটনার বিশ্লেষনে যায়নি , শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে চালিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আটক এবং বিচার শুরু করেছে । এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ঘোষণা দেবার পরও শিক্ষার্থীদের অযথা হয়রানি চালানো হয়েছে ।
কিন্তু কেন ??
ঘটনার বিশ্লেষন করলে দেখা যায় বিষয়কি ছিল এক পাক্ষিক । উর্দির যে উত্তাপ সেই উত্তাপেই হয়তো একজন নন গ্রাজুয়েট সেনা সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধান্বিত হয়নি। কিন্তু সেই হাতহাতি যে এতা বড় ক্ষোভে রুপ নিতে পারে তা সেই সামান্য সেন সদস্যের কল্পনায় আসেনি । শুধু সেই সেনা সদস্য নয় ক্যাসম্পর কোন সেনাসদস্য বা অফিসারের মাধায় আসেনি । নইলে শিক্ষার্থীরা যখন একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করছিল তখন সেনাসদস্যরা বেসামরিক পোষাকে মাথায় হেলমেট দিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে আক্রমণ করতো না ।
মানুষ ভুল করে । সাময়িক উত্তেজনায় হয়তো দেশপ্রেমিকসেনাসদস্যরাও ভুল করেছে কিন্তু তাদের দায়িত্বশীল উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কি করে সেই উত্তেজনায় উত্তেজিত হয় ?? কিসের জোড়ে পুরো প্রশাসন দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতন একটি উচ্চ শিক্ষাগনে যার আছে বাংলাদেশ গড়ার ইতিহাস সেখানে আক্রমণ করে এবং রাতভর শিক্ষার্থীদের লাঠি চার্জ করে ??
শিক্ষার্থীরা শৃংখলে আবদ্ধ নয় , কিংবা সরকারের কিংবা কারো অধনস্ত অংশ নয় বরং সেনাবাহিনী সরকারের অংশ , যাদের শৃংখলা আদর্শ এবং সর্বোপরি জনগনের সেবক কিংবা জনগনের অর্থে যাদের পরিচালিত হতে হয় তারা কি করে স্ই জনগনকে ভয় দেখায় , চোখ রাঙায় এবং পরিশেষে শকুনের মতন ঝাপিয়ে পড়ে ??
ধরা যাক দু একজন উচ্ছৃংখল সেনাসদস্য দায়ী পুরো বিষয়ে কিন্তু তার দায়ভার পুরো সেনাবাহিনী কেন নিয়ে নিল এবং দেশের স্পর্শকাতর অংশ শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন করে ??
শুধু তাই নয় তারা তাদের সেনাসদস্যদের সাফাই গেয়ে পুরো সেনাবাহিনীর প্রেসনোটে জানা যায় যে সেই সেনা সদস্যরা খেলা চলা কলঅ শিক্ষার্থীদের সরবত পান করাচ্ছিল । কিন্তু সেই সরবত পান করানোর অনুমতি কে দিল কিংবা কেন ??
এবং পুরো বিষয়পটি আড়াল করে সেই উচ্ছৃংখল সেনা সদস্যদের বিচার হবে সামরিক আদলতে সেই আশ্বাস দিয়ে তাদেরই সাফাই গাইলো পুরো সেনাবাহিনী । সেই সেনা সদস্যদের নাকি শিক্ষার্থীরা আগে লাঞ্চিত এবং গালি গালাজ করেছে । কেন এই মিথ্যাচার ??
শুধু সেন প্রসনোটেই নয় তাদেরওয়েবে এবং টেলিভিশন চ্যানেল গুলো শিক্ষক-শিক্ষির্থীদের অপমান করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে । কেন ??
তবে কি বন্দুকই সকল ক্ষমতার উৎস ?? নইলে কেন লাঞ্চনার প্রতিবাদ করার ফলাফল এমন হবে ?? শিক্ষার্থীরা কার কাছে বিচার চাবে ?? বিচারের প্রাপ্তি , তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা ?? শিক্ষকদের সামনে শিক্ষার্থীদের অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে সম্মানিত শিক্ষকদের নাজেহাল করা , এসব কি প্রমাণ করে না বন্দুকই ক্ষমতার উৎস !!
যদি তাই হয়, যদি বন্দুকই সকল ক্ষমতার উৎস হয় তবে আমি মাথা পেতে মেনে নেব । কেননা আমি অক্ষম আমার কোন বন্দুক নাই । শিক্ষার্থীদের হাতে বন্দুক নাই । শিক্ষক - শিক্ষির্থী সহ গোটা জাতি তাহলে ক্ষমা চাবে , তোমাদের অধনস্ত হবে দেশপ্রেমিক সৈনিকরা , তোমরা জেনে রাখ । তবে সেই সম্ভ্রম , সেই সম্মান তোমাদের জন্য নয় , তোমার হাতের বন্দুকটিকেই শুধূ ।


মন্তব্য

হাসান মোরশেদ এর ছবি

এই ঘটনার পরোক্ষ জের আরো দীর্ঘায়িত হবে ।
-----------------------------------
মানুষ এখনো বালক,এখনো কেবলি সম্ভাবনা
ফুরোয়নি তার আয়ু

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

রাহা এর ছবি

যারা মানুষের সামনে মানুষ দাড় করায়
আমরা একদিন তাদের সামনে এনে দেব শুধু কৃষ্ণচূড়ার লাল

..হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দার জলে...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।