বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি হতে যাচ্ছেন

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব ময়ূখ রিশাদ [অতিথি] (তারিখ: সোম, ১২/০৯/২০১১ - ৭:১৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আকাশ তো সবসময় নীল থাকে না, মাঝে মাঝে মেঘ থাকে, রাতের বেলা কালো থাকে। মানুষ আবার মেঘের জন্য অপেক্ষা করে, রাত হলে স্বপ্ন দেখে, কেউ কেউ ছাদে গিয়ে উদাস ভঙ্গিতে বসে থাকে। এইটা কোনো সমস্যা না, সমস্যা হলো—আমরা তরুণেরা অধিকাংশ সময়ে উদাস হয়ে বসে থাকি, চারপাশের কোনো খেয়াল রাখি না। ওদিকে বিশাল বড় মেঘ এই দেশের আকাশ ছেঁয়ে ফেলছে, আসলে মেঘ বলা ঠিক না, কোনো অভিশপ্ত কিছু যার কোনো সমার্থক শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না আর আমরা নির্বিকার বসে আছি। এখন আজাইরা প্যাঁচাল বাদ দিয়ে মূল কথাতে আসি-
কদিন পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হবে, মেডিকেলে হবে আর এটাই আমার চিন্তার কারণ। অথচ এটা চিন্তার না আনন্দের কারণ হওয়ার কথা ছিল। নতুন মানুষ আসবে,আমাদের শিক্ষাজীবন শেষ হবে সরল চোখে এভাবেই দেখার কথা ছিল। কিন্তু পারছি না। না পারার পেছনে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট লেভেলে শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নাকি ভালো অবস্থান সেটা নিয়ে আপাতত মাথাব্যথা কম। মাথাব্যথা হলো কোচিং সেন্টার।
দেশে ঠিক কতগুলো এডমিশন কোচিং সেন্টার আছে সে ব্যাপারে কোনো সঠিক তথ্য পেলাম না।
কোচিং সেন্টারগুলো ছাত্রদের মেধা নষ্ট করে দিচ্ছে, নোটবুক নির্ভর করে দিচ্ছে, সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে, এসব পুরোনো কথা, আমরা সবাই জানি।
কিন্তু আমরা চুপ করে আছি। আমরা অনেকেই জানি, কেউ কেউ হয়ত জানি না যে এই কোচিং সেন্টারগুলো বৃহৎ( তাদের কাছে) কিন্তু আসলে ভয়ানক নোংরা একটি খেলায় মেতে আছে।
এই নোংরা খেলা সম্পর্কে জানি—
রেটিনা, ফোকাস সহ আরো বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী সংগ্রহের কারখানা। এত সরলভাবে তারা সংগ্রহ করে না, বিভিন্ন টেকনিকে তারা তাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সারা দেশে তাদের বিভিন্ন কাজ পরিচালিত হয় এদের কোচিং থেকে আয়কৃত টাকা দিয়ে।
টেকনিক-
১) ভালো ব্যবহার।
-দেখেছিস, ভাইয়ার ব্যবহার। না চাইতে কত হেল্প করল।
আসলেই কী না চাইতে? একবার ও ভর্তিচ্ছু ছাত্ররা ভেবে দেখছেন কী? মনে হয় না। না হলে বছর বছর এদের সদস্য সংখ্যা এত বাড়ছে কিভাবে?
২) দরিদ্র ছাত্রদের অর্থনৈতিক সাহায্য, বই দিয়ে সাহায্য, থাকার জায়গা দিয়ে সাহায্য। এরা নিজেরাও জানে না কীভাবে তারা একটি ফাঁদে জড়িয়ে যাচ্ছে।
৩) চান্স পাবার পর সাহায্যের নাম করে, হোস্টেলে সিট দেবার নাম করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শুরু হয় তাদের অভিযান। ছাত্রদের বাসায় বাসায় গিয়ে মিথ্যে পরিচয়ে যেমন কোনো কালচারাল সংঘটনের ব্যানারে তারা ভালো সেজে ছাত্রকে ভর্তির আগেই নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসে।
শেষকথাঃ
কারো কথায় না, নিজে দেখেশুনে পথ চলুন। জীবন সামনে পড়ে আছে। এ বড় কঠিন সময়।
এবং
যারা এই দেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে না, তাদের এই দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না।

রিশাদ_ময়ূখ


মন্তব্য

রুমঝুম ১ এর ছবি

আমার দু'পয়সার সাজেশনঃ ভূলেও কেউ চিটাগাং ইউনিভার্সিটির ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হবেননা। জীবনের সবচাইতে গুরুত্তপূর্ন ১০টা বছর হারাবেন!!!!! রেগে টং

অপছন্দনীয় এর ছবি

আহা এত ক্ষেপছেন কেন? আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে তো সেশন জ্যাম নেই বলে দাবী করেন সেখানকার লোকজন, আমি যখন ভর্তি হয়েছি তখনও একই দাবী করেছেন। এইচএসসি পাশ করেছি ২০০০-এ আর বিএসসি ডিগ্রিখানা পেতে পেতে ২০০৬ - তারপরেও চার বছরের বেশি সময় লাগে বলায় এই সচলায়তনেই এক বিশ্ববিদ্যালয়-অন্তপ্রাণ অতিথি চটেমটে আমাকে সোজাসাপ্টা মিথ্যাবাদী বলে গেলেন। তার চেয়ে তো ভালো আছেন, অন্তত স্বীকার করবে যে সেশন জ্যাম আছে।

রুমঝুম ১ এর ছবি

আরে ভাই ক্ষেপবনা কি বলেন? মাস্টার্সের শেষদিকে আমারদের ক্লাশের পোলাপাইনদের শখ হল র‍্যাগ ডে করবে। আমিত ২য় বর্ষ থেকে ক্লাশ করিনা। চাকরি করি, প্রেম করি আর ডিবেট করি। তবুও বন্ধুদের আমন্ত্রন এড়াতে না পেরে র‍্যাগ ডের র‍্যালীতে গেলাম বিজনেস ফ্যাকাল্টির বারান্দা থেকে শুনি পিচ্চিপাচ্চা গুলা "আঙ্কেল/আন্টি" ব্লে চিল্লাচ্ছে......আমি ক্ষেপে যেতেই ক্লাশের অন্যান্যরা হাস্তে শুরু করল। কারণ তার আগের ৩/৪ বছর ধরেই নাকে জুনিয়র রা তাদেরকে নিয়মিত "আঙ্কেল/আন্টি" ডাকে!!!!!!!! রেগে টং

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

সেশন জট?

অপছন্দনীয় এর ছবি

শিবিরের এই টেকনিক অনেক পুরোনো, নতুন কিছু নেই।

কালচারাল প্রোগ্রামের কথা বলে ফুলকুঁড়ি আসর নামে কী এক বস্তু বানিয়েছে না? আমার জন্মদাতার মদতে ছোটবেলায় আমাকে সেখানে নেয়ার বহু চেষ্টাচরিত্র করেছিলো। অনেক লোভটোভ দেখাতো, চকলেট দিতে চাইতো, মাঝে মধ্যে ফ্রি ফ্রি সব চমৎকার(!) গানের ক্যাসেট আর পত্রিকা ইত্যাদি দিয়ে যেতো - আরো কত কী!

সমস্যা হচ্ছে তাদের জমায়েতের জন্য ছুটির দিনে সকাল সাতটায় আমাকে ঘুম থেকে টেনে তোলা পৃথিবীর কারো পক্ষে সম্ভব না, এবং খুব সম্ভবত মা জানতো ওইটা কী জিনিস, তাই কখনো ঘুম থেকে তুলেও দেয়নি। এইচ এস সি-র পরে অবশ্য তাদের অনেক অ্যাক্টিভিটিই চোখে পড়েছে, কিন্তু ততদিনে তো একটু হলেও কান্ডজ্ঞান গজিয়েছে - জন্মদাতার পরিচয়ের মাধ্যমে তথাকথিত স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির কাছ থেকে প্রচুর আঘাত, এবং শিবিরের কাছ থেকে দারুণ ভালো ব্যবহার, পেলেও অন্তত তাদের কাছে যাওয়ার মত বুদ্ধিহীন জড় বা স্বার্থপর হইনি, যেতে চাইলে অবশ্য সেটা খুব সহজই ছিলো।

তবে সচলায়তনের কিছু সহ বেশ কিছু নীল-রক্ত-নিয়ে-গর্বিত ব্যক্তির হাইপোথিসিস মতে অবশ্য জন্মদাতার হাত ধরে আমার জামাত সমর্থকই হওয়ার কথা - "স্বাধীনতাবিরোধীর ছানাপোনা" স্বাধীনতাবিরোধী না হলেই সেটা ব্যতিক্রম(!) এবং ব্যতিক্রম জিনিসটা খুব বেশি ঘটে না - কাজেই আমার মত পূর্বপুরুষ-স্বাধীনতাবিরোধী লোকজনের কাছ থেকে সাবধানে থাকবেন, বলা তো যায় না কার মনে আবার কী আছে, অভিজ্ঞ বোদ্ধাদের ধারণা ভুল হয় কম!

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

কঠোরভাবে ধর্মানুসারী হলেও জামায়াতরা তাদেরকে নিজেদের অনুগত/সমর্থক মনে করে, এবং আসলেই এধরণের অনেকে জামায়াতের প্রতি অল্প হলেও প্রেম অনুভব করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা জামায়াত সমর্থক তারা স্বাধীনতাবিরোধী হবেনই এমন নয়, তারা নির্বোধ অবশ্যই, কোন ভাবেই জামায়াত সমর্থন করা যায় না! আবার স্বাধীনতাবিরোধী মানেই যুদ্ধাপরাধ করেছে এমন নাও হতে পারে। আপনার জন্মদাতা ঠিক কোন গোত্রের বুঝি নাই।

ব্যক্তির চিন্তাধারানুযায়ীই ব্যক্তিকে বিবেচনা করা উচিৎ, ব্যক্তির জন্মদাতার পরিচয়ে কখনই নয়। ব্যক্তির অবস্থান দৃঢ়-সুসংহত থাকলেই হল।


_____________________
Give Her Freedom!

অপছন্দনীয় এর ছবি

ধার্মিক, স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী নয় এবং জামাতের অন্ধ সমর্থক।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

অবাক হলাম। দুঃখও পেলাম। এরকম সমর্থন কেন করবেন, বুঝছি না!!! মন খারাপ

যেহেতু উনি স্বাধীনতাবিরোধী না, সেহেতু "আমার পূর্বপুরুষ-স্বাধীনতাবিরোধী" বলাটা ঠিক হল না।


_____________________
Give Her Freedom!

অপছন্দনীয় এর ছবি

স্বাধীনতাবিরোধী নয় বলিনি, যুদ্ধাপরাধী নয় বলেছি।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

আপনার সত্যকথনের সৎসাহস প্রশংসনীয়।


_____________________
Give Her Freedom!

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

তাদের কাছে যাওয়ার মত বুদ্ধিহীন জড় বা স্বার্থপর হইনি, যেতে চাইলে অবশ্য সেটা খুব সহজই ছিলো।

আপাতত এটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শেষের প্যারায় আপনি যা বললেন, এই ব্যতিক্রম জিনিষ আমি আমার লাইফে দেখিনি।
আর কারো কাছ থেকে সাবধান থাকার চেয়ে নিজের বিবেক বুদ্ধি জাগ্রত করাটাই গুরুত্বপূর্ণ

অপছন্দনীয় এর ছবি

এই ব্যতিক্রম যখন কখনো দেখেন নি তখন তো সমস্যা মিটেই গেলো, আমি স্বাধীনতাবিরোধী কিনা তাতে আর কিছু যাওয়া-আসার কথা না, জন্মদাতার পরিচয় তো জেনেছেন।

নিজের বিবেকবুদ্ধি জাগ্রত করে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবেন, যারা পেছনে ছুরি বসায় তাদের কাছ থেকে বাঁচতে পারবেন না।

অপছন্দনীয় এর ছবি

ডুপ্লিকেট

র ব এর ছবি

ছন্দদা,

জন্মদাতার পরিচয়ের মাধ্যমে তথাকথিত স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির কাছ থেকে প্রচুর আঘাত

কাজেই আমার মত পূর্বপুরুষ-স্বাধীনতাবিরোধী লোকজনের কাছ থেকে সাবধানে থাকবেন, বলা তো যায় না কার মনে আবার কী আছে, অভিজ্ঞ বোদ্ধাদের ধারণা ভুল হয় কম!

জেনে খারাপ লাগলো। শোয়ার্জনিগারের বাবা নাজি ছিলেন। তবুও তাকে ডেমোক্র্যাটরা এটা নিয়ে খুঁচায়নি। কারণ বাবার দোষে সন্তান অপরাধি হয়না। আমাদের সমাজে এই ম্যাচুরিটিটা নেই বললেই চলে। নরপশুদের আদর্শিক উত্তরসুরিদের (সন্তান হতে পারে, আবার নাও পারে) রেহাই নাই। তবে, যারা বাবার বা পূর্বসূরির অন্যায় নিয়ে হম্বিতম্বি করেনা, তাদের পিছনে লাগার কোনো কারণ ও ভালো ফল থাকতে পারেনা।

বহুদিন আগে য়ালুর ছুটিরদিনেতে এক মেয়ের একটা লিখা পড়েছিলাম। বাবার অতীতের জন্য সে বাবাকে ঘৃণা করলেও, আমাদের চরম দেশোদ্ধারব্রতের উত্তাপ থেকে সে মেয়েটা বাঁচেনি।

"স্বাধীনতাবিরোধীর ছানাপোনা" স্বাধীনতাবিরোধী না হলেই সেটা ব্যতিক্রম(!) এবং ব্যতিক্রম জিনিসটা খুব বেশি ঘটে না

তবে এব্যাপারে আপনার স্ট্যান্ডটা আমি কখনোই ঠিক বুঝিনি (আপনার পোস্টে এ নিয়ে আপনার সাথে কয়েকজনের কথাবার্তা হয়েছিলো, মনে পড়ে)। আপনি যা কোট করলেন এ ব্যাপারে আমার পর্যবেক্ষণও তেমনি ("বেশ কিছু নীল-রক্ত-নিয়ে-গর্বিত ব্যক্তির" মধ্যে আমাকে ফেলবেন না আশা করি হাসি )। তবে আমার মনে হয় আমাদের চরম দেশোদ্ধারব্রতের ভূমিকাও ওতে বেশ খানিকটা আছে।

রব

অপছন্দনীয় এর ছবি

আমার স্ট্যান্ডটা, সংক্ষেপে বলতে গেলে,

১। যার যার কাজ, নীতি বা ধারণার জন্য সে নিজে দায়ী।
২। কারো পূর্ব বা উত্তরপুরুষ তার কাজ, নীতি বা ধারণার জন্য দায়ী নয়।
৩। কেউ নিজে তার পূর্ব বা উত্তরপুরুষের কাজ, নীতি বা ধারণার জন্য দায়ী নয়।

আশা করি পরিষ্কার করতে পেরেছি।

আর যদি অন্য ক্ষেত্রে স্ট্যান্ড জানতে চান,

১। আমি মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সম্পর্কে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল।
২। আমি স্বাধীনতাবিরোধী, সে যুদ্ধাপরাধী হোক আর না-ই হোক, কে চরমভাবে ঘৃণা করি।
৩। এই অনুভূতিগুলো এসেছে নিজের বিচারবুদ্ধি থেকে, কারো প্রিচিং শুনে নয় এবং কারো বিরোধীতা করতে গিয়েও নয়। কাজেই ভবিষ্যতে উল্টো প্রিচিং শুনে উল্টে যাওয়া সম্ভব নয়।

(তবে অনেকের কাছে এই কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়, "ব্লাড রিলেশন" বলে কথা!)

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

আপনার এই কথাগুলোই গুরুত্বপূর্ণ--১। আমি মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সম্পর্কে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল।
২। আমি স্বাধীনতাবিরোধী, সে যুদ্ধাপরাধী হোক আর না-ই হোক, কে চরমভাবে ঘৃণা করি।
৩। এই অনুভূতিগুলো এসেছে নিজের বিচারবুদ্ধি থেকে, কারো প্রিচিং শুনে নয় এবং কারো বিরোধীতা করতে গিয়েও নয়। কাজেই ভবিষ্যতে উল্টো প্রিচিং শুনে উল্টে যাওয়া সম্ভব নয়।

এই ধরনের শুভবোধ সবার জাগ্রত হোক

চরম উদাস এর ছবি

টানা দুই বছর ফুলকুঁড়ির সদস্য ছিলাম ক্লাস টু থ্রি তে থাকতে। বাই উইকলি এরা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতো, কবিতা, নাটক, গান সহ অনেক কিছুরই। মজার ব্যাপার হচ্ছে ধর্ম সম্পর্কে তেমন কোন শক্ত জ্ঞান (রাজনীতি তো আরও দূরের কথা) দেয়া হতো না বরং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুলোকেই বেশী জোর দেয়া হতো। সেগুলোর মধ্যে হামদ নাত কোরান তেলাওয়াত থাকলেও দেশাত্মবোধক গান, আধুনিক কবিতা, ছড়া এইগুলোকে আরও বেশী প্রাধান্য দেয়া হতো। কেউ বলে না দিলে বুঝা অসম্ভব যে এখানে কোন ধর্মীয় সংগঠনের কীর্তিকলাপ চলছে অথবা ধীর বিষক্রিয়া চালানো হচ্ছে ব্রেনের মধ্যে। যাই হোক কিভাবে বের হয়ে এসেছিলাম ঠিক মনে নেই। সম্ভবত কোন বড়ভাই বুঝিয়েছিলেন এরা জামাতের অঙ্গ সংগঠন।

লেখা ভালো লাগলো। তবে এইরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আরও গুছিয়ে বড় করে লিখলে ভালো হতো। আশা করি মন্তব্যে সবার অভিজ্ঞতা ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দিবে।

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

আশা করি মন্তব্যে সবার অভিজ্ঞতা ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দিবে।

আমিও এই আশাই ব্যক্ত করলাম

নুসায়ের এর ছবি

আপনার কথা গুলো মূল্যবান। তবে আরেকটু গুছিয়ে (এবং বর্ধিত আকারে) লিখলে ভালো লাগতো। বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি।

১। এই মূহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা আদৌ কতটুকু?

আমি মনে করি সামগ্রিকভাবে দেশে কলেজ স্তরে শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ভর্তি (এবং পরবর্তীতে পড়াশোনা) পদ্ধতিতে সামঞ্জস্যের অভাব আছে। কোচিং সেন্টার গুলো এখানে কেবল একটা উপদেষ্টার (ভালো/মন্দ) ভূমিকা পালন করে। উপদেষ্টার কাজের মধ্যে - পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয়/অপ্রয়োজনীয়- লাভজনক/ক্ষতিকর উপদেশ বিতরন সবই পড়ে। পাশ্চাত্যের দেশ গুলোতে এই কাজটি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা বিভাগ থাকে (যেহেতু শিক্ষাটা সেখানে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে লাভ করতে হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতি ছাত্রের সংখ্যাটিও নগন্য)। বাংলাদেশে এমন কিছু করাটা বাস্তব-সম্মত নয় (অন্ততঃ এই মূহুর্তে)। কোন কোন ক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাদের নিজেদের ভর্তি পদ্ধতি বিষয়েও পরিষ্কার কোনও ধারণা দেয় না (জটিল ভর্তি পদ্ধতির কারনে তারা নিজেরাও যে পরিষ্কার ধারণা রাখে, সেটাও মনে হয় নাই)। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ঘ-ইউনিট' (বিষয়-পরিবর্তন) এ ভর্তি পরীক্ষা দেবার সময়ে কোন বিভাগে কি পরিমান সীটের জন্য ভর্তি-যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে একজন ছাত্রের/বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ধারণা থাকে না (কারণ জটিল ভর্তি পদ্ধতি)। আবার বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী ভর্তি পদ্ধতিতেও আছে আকাশ-পাতাল ফারাক।

ভর্তি কোচিং গুলো তাই এক্ষেত্রে পালন করে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টার ভূমিকা (ক্ষতিকর প্রভাব সহ)। সরকারী আদেশ জারী করে এগুলো বন্ধ করে দেয়া যেতেই পারে, কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয় না। সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা দাড়া করাতে হবে। সামগ্রিকভাবে কলেজ স্তরে শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে, ভর্তি পরীক্ষা গুলো কে একত্রীভূত করার মাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এডুকেশন কাউন্সিলর গোছের কিছু চালু করা যেতে পারে।

২। শিবির সমস্যা কেবল এই স্তরেই না, ভর্তি পরবর্তি স্তরে আরো প্রবল। মেডিকেল কোচিং এ এটা প্রবল অনেক, অন্যান্য ক্ষেত্রে এখন অবস্থা কেমন জানি না। প্রকৌশল/বিজ্ঞান বিভাগ/বিবিএ কোচিং এ ১০ বছর আগে এটা চোখে পড়ে নাই (মেডিকেলে তখনো ছিল, এটা জানি)। আপনি যে কথা গুলো উল্লেখ করলেন, সেটা শিবিরের সাধারণ রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি। সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোচিং বন্ধ করলে এটা দূর হয় বটে। কিন্তু ভর্তি পরবর্তি সময়েও তারা একই কর্মকান্ড চালায়। সেজন্য ব্যক্তিগত/ঐতিহাসিক/সামাজিক চিন্তা-ভাবনার উন্নয়ন ছাড়া মুক্তি নাই।

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

আপনার প্রথম পয়েন্টের সাথে একমত। মূলত ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে ভর্তি পরীক্ষার ফরম্যাট আলাদা হওয়াটাই এসবের মূল কারণ। আর কোচিং সমস্যা তো শুধু ভর্তি লেভেলেই নয় বরং অনেক আগে থেকেই আছে।
আমি পোস্টে শুধু শিবিরের ভর্তিচ্ছু ছাত্রদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টার কথাই বলতে চেয়েছি। এটা মানি, আরো অনেক কিছুই বলতে পারতাম, হয়ত গুছিয়ে নিতে পারি নি

রিফাত এর ছবি

"এই নোংরা খেলা সম্পর্কে জানি"
১। ভালো ব্যবহার
২।দরিদ্র ছাত্রদের অর্থনৈতিক সাহায্য, বই দিয়ে সাহায্য, থাকার যায়গা দিয়ে সাহায্য।

এইটা যদি কোন দলের টেকনিক হয়, সেটা এপ্রিশিয়েট করা উচিৎ। যেসব দল ভর্তির পর চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, ইভটিজিংয়ের সুযোগ, মাস্তানির সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে ছাত্রদের নষ্ট করে দলে ভেড়ায় তারা যে কেমন চেতনার ধারক তা বলাই বাহুল্য। বরং এসব দলের ছায়ায় যারা বেড়ে উঠে তাদের আর নিকট ভবিষ্যতে স্বাভাবিক চিন্তার ক্ষমতা থাকার কথা না।

সবার সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া উচিৎ, যেহেতু এই মহান দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন।

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

আর রগ কাটা সহ বিভিন্ন জঙ্গি ট্রেনিং সরাসরি নেয়া অথবা নৈতিক সমর্থন দেয়া, ৭১ আ জামাতের ভূমিকাকে সমর্থন দেয়া খুব ভালো চিন্তার ধারক? আমার পোস্টের শেষ কথা দেখেন, তারপর এই কথা বইলেন। শিবির না করলেই সে মাস্তান,ইভটিজার এগুলো পুরোনো শিবিরীয় টেকনিক

রিফাত এর ছবি

আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি কোন ধরণের ফোবিয়ায় আক্রান্ত, সব কথাই/কাজই আপনার কাছে টেকনিক মনে হয় !

আপনার পোষ্ট ভালভাবে পড়েই মন্তব্য করেছি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আপনার মন্তব্যে আপনি প্রশ্ন করেছেন "রগ কাটা সহ বিভিন্ন জঙ্গি ট্রেনিং সরাসরি নেয়া অথবা নৈতিক সমর্থন দেয়া, ৭১ আ জামাতের ভূমিকাকে সমর্থন দেয়া খুব ভালো চিন্তার ধারক?" এই প্রশ্নের উদ্রেক হওয়ার মত শিশু এই ব্লগে নাই বলেই জানতাম !

আমার আগের মন্তব্যের বিষয়টা বোধহয় আপনি ধরতে পারেননি, তাই আরো সহজ করে বলছি-
শিবির যদি এভাবে ভাল ব্যবহার এবং বইখাতা,থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দিয়ে সাহায্য করে দলে ভেড়ায় এবং তা ঐ দলের জন্য ভাল ফল দেয়(কর্মী বাড়ায়), তাহলে টেকনিকটাকে আপনি খারাপ বলতে পারেন না !
প্লাস, আপনি যেহেতু সতর্ক করছেন ভর্তিচ্ছুকদের, সব দলের টেকনিক সম্পর্কেই আলোকপাত করা উচিৎ।

শেষকথা, মাস্তান,ইভটিজার বলাটা শিবিরিয় টেকনিক বলে আপনি যেভাবে বিভিন্ন দলীয় ক্যাডারদের অপকর্মকে জাস্টিফাই করলেন- একটু পরিসংখ্যানটা ঘেটে দেখবেন দয়া করে; যদি দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোন ধারণা বা সম্পর্ক না থাকে আর কি।

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

আমি কারো অপকর্ম জাস্টিফাই করি নি। আমি এখানে মূলত ভর্তি সময়ে যাদের উৎপাত বেশি বলে জানি তাদের কথা বলেছি। এই পোস্ট হয়ত সামগ্রিক আকারে লেখা যেত, সেটা যেহেতু করি নাই, তাই হয়ত আপনার মনে হচ্ছে আমি অন্য ছাত্রসংঘটনের কথা এখানে বলি নাই বা উহ্য করে গেছি। কিন্তু আমি আমার শেষকথা বোল্ড হরফে যেটা দেওয়া সেখানে বলেছি, নিজে দেখে শুনে পথ চলুন। জীবন সামনে পড়ে আছে। এখানে আমার আরেকটি লাইন কিংবা প্যারা যোগ করে দিলে আপনার এই প্রশ্ন উঠত না।
আপনার কমেন্ট দেখে আমার মনে হয়েছিল, আপনি শিবিরের সমর্থক তাই আমি ঐ কমেন্ট করসি। এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকার ফলেই দেখেছি, তারা অন্যদের অপকর্ম দিয়ে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করে। যেহেতু, আমি আপনাকে চিনি না বা জানি না, আমি আপনার কোনো পোস্ট পড়িনি, আপনি পড়েন নি, তাই এই ধরনের কথা যারা বলে সেই প্রেক্ষিতে পূর্ব ধারণাটাই ব্যক্ত করসি।
যাই হোক, একটা জিনিষ ঠিক ধরেছেন, টেকনিক ভালো। আর ভালো দেখেই তারা সফল হচ্ছে আর সফল হচ্ছে বলেই চিন্তার বিষয়। কিন্তু আমি একজনকে মোটাতাজা করলাম পড়ে তাকে খাবলে-খুবলে খাবো দেখে, ঐটাকে তো আর ভালো কাজ বলা যায় না।
আবারো বলছি-যদি আপনার মনে হয় থাকে আমি কাউকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছি সেটা হয়ত আমার বক্ত্যবে অস্পষ্টতার কারণে-ঠিকভাবে গুছিয়ে বলতে পারিনি এবং আপনার ধারণা ভুল।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

এইটা যদি কোন দলের টেকনিক হয়, সেটা এপ্রিশিয়েট করা উচিৎ।

তাহলে টেকনিকটাকে আপনি খারাপ বলতে পারেন না!

কীভাবে কোন সুস্থ মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বেলিত মানুষ শিবিরের কর্মকাণ্ডকে এপ্রিশিয়েট করতে পারে, খারাপ না বলার জন্য অনুরোধ করতে পারে- আমার বোধগম্য হল না!!! ভিড়মি খাইলাম...

আপনার মস্তিষ্ক বিকৃতই হয় নাই তো?


_____________________
Give Her Freedom!

নুসায়ের এর ছবি

আমার মনে হয় লেখক যে উদ্ধেশ্যে "টেকনিক" টি ব্যবহৃত হয় সেটা কে খারাপ বলতে চেয়েছেন।

এইটা যদি কোন দলের টেকনিক হয়, সেটা এপ্রিশিয়েট করা উচিৎ।

অদ্ভূত কথা! যেখানে আমি জানি যে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ, তাদেরকে (বা তাদের বেছে নেয়া পন্থাকে) এপ্রিশিয়েট কেন করবো? এক্ষেত্রে আপনার যদি মনে হয় শিবিরের উদ্দেশ্য আদৌ খারাপ নয়, তাহলে অবশ্য বলবার কিছু নাই!

যেসব দল ভর্তির পর চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, ইভটিজিংয়ের সুযোগ, মাস্তানির সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে ছাত্রদের নষ্ট করে দলে ভেড়ায় তারা যে কেমন চেতনার ধারক তা বলাই বাহুল্য।

চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, ইভটিজিংয়ের সুযোগ, মাস্তানির সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে ছাত্রদের নষ্ট কিভাবে করে? চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদি যাদের কাছে "সুযোগ", তারা তো নষ্টই হয়ে আছে। নাকি বলতে চাচ্ছেন যে -

"যেসব দল ভর্তির পর চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, ইভটিজিংয়ের সুযোগ, মাস্তানির সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে নষ্ট ছাত্রদের দলে ভেড়ায়..."

আর দেশের সব ছিনতাই, মাদক-গ্রহন, মাস্তানি, ইভটিজিং কি কেবল রাজনৈতিক ব্যানারে হয় নাকি?

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

ভালো বলেছেন। আমি এত গুছিয়ে বলতে পারি নি

পাঠক এর ছবি

রিফাত ভাই,

কিছু মনে করবেন না, আপনি কি শিবির করেন?

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

আরেকটু বৈশ্লষণিক আর তথ্যভিত্তিক হলে আরো ভালো হত...... একটু সময় দিয়ে লিখিস.........

শিবিরবিষ থেকে সাবধান হে নবাগত,
তারা সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য জেনো!!!


_____________________
Give Her Freedom!

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

সেটাই। আরো তথ্যজুড়ে দিতে পারলে ভালো হতো। শুধু গল্প না যে কোনো লেখার ক্ষেত্রেই টাইম নেয়া উচিত। যাই হোক,ভালো থাকিস। আরো লিখব। আর নিজে যেহেতু এখন লিখছি, তোর লেখা চাই।

ahasnat এর ছবি

মেডিকেলে ভর্তি কোচিং-এর জন্য রেটিনায় ভর্তি হয়েছিলাম ২ বছর আগে। তবে মজার কথা হলো ৩ মাসের মধ্যে সবমিলিয়ে ১ সপ্তাহের বেশি ক্লাস করি নাই। কোচিং করার চেয়ে শহর হেটে হেটে প্রদক্ষিন আমার কাছে বেশি আকর্ষণীয় ছিল। নিজে নিজে পড়েই মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলাম। তখনই আবিষ্কার করি কোচিং-এ পড়া ভর্তি হওয়ার জন্য জরুরী না। কিভাবে জানেন? যে ১ সপ্তাহে যতগুলো পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তাতে সর্বোচ্চ মার্কসধারীরা (১০০তে ৮৭-৮৮ বা ৫০ এ ৪৭-৪৮) কেউই মেডিকেল-এ চান্স পায়নি। সেদিন মুখবইয়ে হলিক্রস থেকে এ বছর পাশ করা একজনের সাথে তর্ক হচ্ছিল। তার ইচ্ছা তিনি SUST এ ভর্তি হবেন। প্রশ্ন হতে পারে হলিক্রস থেকে পাশ করে কেন SUSTএ, কেন DU নয়। উত্তরটা একটু প্রাইভেট। উত্তরটা স্কিপ করলাম। তর্কে তর্কে তাকে বললাম, আমি আমার পরিচিত অনেকের উদাহরণ দিতে পারব যারা কোন কোচিং না করেই চান্স পেয়েছে। তিনি উত্তরে বললেন, exception is not an example. আমি মনে মনে হাসলাম। উনি এটাকে exception বলছেন। কিন্তু তার মেধা সম্বন্ধে আমি যতটুকু জানি তিনি যদি কোচিং না করে নিজে যদি বাসায় পড়ালেখা করেন তিনি চান্স পাবেন। শুধু চান্স পাবেন না, ফার্স্টও হতে পারবেন। আফসুস, তার মেধা সম্বন্ধে তার ধারণা নেই।

মেডিকেলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে আগের বছরের প্রশ্নগুলো নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম মেডিকেল এডমিশন টেস্টে শুধুমাত্র বেসিক প্রশ্নগুলো আসে। কিন্তু কোচিং সেন্টারে, আমি যেহেতু রেটিনায় ১ সপ্তাহ ক্লাস করেছি তাই রেটিনার উদাহরণ দিচ্ছি, রেটিনার প্রশ্ন গুলোতে বেশিরভাগই বেসিক প্রশ্ন নেই। কেউ কেউ দ্বিমত করতে পারেন। তবে আমি কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এবং গবেষণা করেই। আপনার যদি দ্বিমত থাকে, তবে আপনি রেটিনার প্রশ্ন গুলোর সাথে গত বছরের প্রশ্ন মিলিয়ে দেখতে পারেন। রেটিনার প্রশ্ন গুলো অতিরিক্ত কঠিন, যা সাধারণত পরীক্ষায় আসে না। প্রশ্ন কঠিন হওয়ার কারণে রেটিনায় ৫০ এ ৪৭-৪৮ পাওয়া অনেক কঠিন।
আমার অনেক জুনিয়র যারা এ বছর ভর্তি পরীক্ষা দিবে তারা আমার কাছে tips চেয়েছিল, ভাইয়া ভর্তি হওয়ার জন্য কি করতে হবে। তাদের সবার মাঝে একটা মিল আছে, তারা সবাই রেটিনায় ক্লাস করে। আমি তাদের যা বলেছিলাম তা হচ্ছে, রেটিনার প্রশ্ন কোন স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন না, এমনকি স্ট্যান্ডার্ড এর ধারে কাছেও না।তুমি বইগুলো পড়ে শেষ কর। প্রথমে প্রাণিবিজ্ঞান, তারপরে উদ্ভিদবিজ্ঞান, তারপরে ফিজিক্স, তারপরে কেমিস্ট্রি। তুমি যদি বুকে হাত দিয়ে বলতে প্রাণিবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের কোথায় কি আছে তা তুমি ১০০% জান, আর বাকি ২ সাবজেক্টের কমপক্ষে ৭৫-৮০% জান, তাহলেই তুমি চান্স পাবে। কিন্তু তুমি যদি বুকে হাত দিয়ে বলতে পার, রেটিনার গাইডে কোথায় কি আছে তা তুমি জান, তাহলে কোন miracle না ঘটলে তুমি চান্স পাবে না। তারমানে কি তুমি গাইডটা পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। শুধু গতবছরের প্রশ্ন গুলো গাইড থেকে দেখবে। তবে প্রশ্ন গুলোর উত্তর অবশ্যই বই থেকে খুজে বের করবে। কোন বইয়ে সর্বোচ্চ কতটি ভুল থাকতে পারে, তার পরিসংখ্যান শুধু রেটিনার গাইডের উপর গবেষণা করলেই পাওয়া যাবে।

অপ্রাসঙ্গিক প্রাসঙ্গিক একটা আলোচনা এখানে কমেন্টে চলে এসেছে। ভর্তি পরবর্তি শিবিরের কার্যক্রম। আমি যেহেতু একটা সরকারী মেডিকেলে পড়ছি, তাই লীগ আর শিবিরের কার্যক্রম খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাচ্ছি। আমিকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, আপনি কি আমাকে এমন কোণ স্ট্যান্ডার্ড মানুষকে দেখিয়ে দিতে পারেন, যাকে অনুসরণ করল আমি বলতে পারব আমি একজন ভালো মানুষ। আমি তাকে আমার পরিচিত একজন শিবিরের ভাইকে দেখিয়ে বলব, উনাকে অনুসরণ করো, শুধু মাত্র তার রাজনৈতিক চেতনা বাদে।

গত ২ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি আবিষ্কার করলাম, বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন শিবির। কেন জানেন? এর মূল কারণ ৩ টা।
১. তাদের মধ্যে কোন অন্তর্দ্বন্দ বা কোন্দল নেই (২-১ টা ব্যতিক্রম বাদে)।
২. তাদের নেতারা একদম রুট লেভেল থেকে উঠে আসে। আপনি লীগের নেতা হতে চান? ১ সপ্তাহও লাগবে না। এখন যিনি লীগের নেতা তার সাথে কয়েকদিন ঘুরাঘুরি করুন। তাকে সিগারেট এগিয়ে দিন। কয়েকবার গাঁজা খান। ২-১টা জুনিয়র ছেলেদের ধরে ঠ্যাঙ্গান। আপনি বড় নেতা। কিন্তু শিবিরের নেতা হতে হলে আপনাকে বছরের পর বছর কাজ করে যেতে হবে। এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, লীগের নেতা হওয়ার জন্য যে যোগ্যতার কথা বললাম, তার একটা যোগ্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আমি একজন শিবির কর্মীকে তাদের সংগঠন থেকে বের করে দিতেও দেখেছি।
৩.তাদের কোন কর্মীকে জোর করে তাদের সংগঠনে ঢুকানো হয় না। তাদের কর্মী সংগ্রহের পদ্ধতি আগেই সবাই বলে দিয়েছেন। আমি যখন ইউনিতে ভর্তি হলাম, আমাদের হোস্টেলের সবাইকে লীগ ডেকে নিয়ে গেল। তারপর, সবাইকে বলল, তোরা সবাই লীগের কর্মী। কালকে একটা মিছিল আছে, তোরা সবাই উপস্থিত থাকবি। যারা থাকবি না, তাদের সবার নামের লিস্ট করা হবে। ভবিষ্যতে টের পাবি উপস্থিত না থাকার ফল। এটা ২০১০ এর ঘটনা। ২০১১তে লীগ একবার রাতে আরো ২জনের সাথে ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটিয়েছিল। ঐ ২ জনের অপরাধ তারা শিবির করে, আমার অপরাধ আমি লীগ করি না।

ব্যক্তিগতভাবে আমি শিবিরকে পছন্দ করি না। তাদের সাথে আমার কথা হয়েছিল। তারা আমাকে বললেন, ১৯৭১ সালে কোন মুক্তিযুদ্ধ হয় নি, যা হয়েছিল তা শুধুমাত্র একটা যুদ্ধ।এটা ছিল শুধুমাত্র একটা নাম পরিবর্তনের যুদ্ধ। পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ। আর কিছু নয়। শেখ মুজিবুর রহমান (তারা ভুলেও বঙ্গবন্ধু শব্দটা উচ্চারণ করেন না) জাতীর পিতা নন। কারণ ইব্রাহীম (আ) ছাড়া আর কেউ জাতীর পিতা হতে পারেন না। তারা বাঙ্গালী নন, শুধুই বাংলাদেশি। আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, একজন ইরানের অধিবাসীর জাতীয়তা ইরানী। কিন্তু, তিনি তো আরব এটাতো তিনি কখনও অস্বীকার করেন না, তাহলে আপনারা করেন কেন? উত্তরে তারা আমাকে জাতীয়তাবাদ, ইসলাম, আরব আর বাঙ্গালীর পার্থক্য ইত্যাদি অনেক কিছু সম্বন্ধ্যে জ্ঞান দান করলেন। আমি অনেক কষ্টে মূল সুর খুজে বের করলাম। মূল সুরটা হচ্ছে, বাঙ্গালীরা ভারতে থাকে।

ভালো থাকবেন।

এ হাসনাত।

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

কোচিং এর ব্যাপারে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আমার সাথে মিলে যায়। আর অন্যান্য ছাত্র সংঘটন গুলোর দুর্বলতা কিছু ক্যাম্পাস ওদের হাতে চলে যাওয়ার কারণ।
কিন্তু যারা দেশের স্বাধীনতাকেই স্বীকার করে না,তাদের আর কী বলার থাকতে পারে?

নুসায়ের এর ছবি

তুমি যদি বুকে হাত দিয়ে বলতে প্রাণিবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের কোথায় কি আছে তা তুমি ১০০% জান, আর বাকি ২ সাবজেক্টের কমপক্ষে ৭৫-৮০% জান, তাহলেই তুমি চান্স পাবে।

সমস্যা হলো কলেজ স্তরের খুব কম (আমার মতে ০.১% এর কম) ছাত্র-ছাত্রী এই দাবী জানাতে পারে। ভর্তি পরীক্ষা কেবল ঢাকা শহরের ছেলে-মেয়েরা দেয় না। আর মফস্বলের কলেজ গুলোতে (ঢাকা শহরের বিভিন্ন কলেজেও) সম্পূর্ণ সিলেবাসই পড়ানো হয় না। যারা পড়ান, তারাও কি পড়াচ্ছেন সেটা নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। আর একটা বিষয় জানা, আর সেগুলো একটা বিশেষ দিনে ভালো-ভাবে পরীক্ষার হলে 'উগড়ে' দিয়ে আসার মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাই। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় টেক্সটের কোথায় কি আছে ১০০% জানলে চলতেও পারে (আপনার কথা অনুযায়ী), কিন্তু বিজ্ঞানের অন্যান্য বিভাগ (প্রকৌশল সহ) গুলির ভর্তি পরীক্ষায় যেসব প্রশ্ন থাকে তা টেক্সট অনুযায়ী হতে পারে, কিন্তু কিছুতেই হুবহু টেক্সট থেকে তুলে দেয়া হয় না। মফস্বলের যেসব ছাত্র-ছাত্রী এমন প্রশ্নে অভ্যস্ত নন, তাদের সেক্ষেত্রে সমস্যা হতেই পারে। তার উপরে আরো আছে তথ্যের (ভর্তি পরীক্ষা, বিভাগ নির্বাচন, নিয়মাবলী সংক্রান্ত) অপ্রতুলতা। আমাদের যাদের ভাই-বোন ২-৪ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি অতিক্রম করেছেন, তাদের কাছে এসব তথ্য সহজলভ্য মনে হলেও, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়টি বিভাগ আছে, কি কি বিষয়ে পড়বার সুযোগ আছে এ নিয়ে কিছুই জানে না এমন মানুষও নেহাত কম নাই। কোচিং সেন্টার গুলি এ সুযোগে মোটা দাও মারবে, এ আর আশ্চর্য্য কি?

এক্ষেত্রে সমাধান হলো কলেজ স্তরে শিক্ষা-ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা আর বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ভর্তি ব্যবস্থা পরিষ্কার ভাবে ভর্তি ফর্মের সাথে প্রকাশ করা। কোচিঙ প্রথা এমনিতেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্যের পরবর্তী অংশখানাও পড়লাম।

আমিকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, আপনি কি আমাকে এমন কোণ স্ট্যান্ডার্ড মানুষকে দেখিয়ে দিতে পারেন, যাকে অনুসরণ করল আমি বলতে পারব আমি একজন ভালো মানুষ। আমি তাকে আমার পরিচিত একজন শিবিরের ভাইকে দেখিয়ে বলব, উনাকে অনুসরণ করো, শুধু মাত্র তার রাজনৈতিক চেতনা বাদে।

রাজনৈতিক চেতনা (রাজনৈতিক মানে বিম্পি, আম্লীগ না) ছাড়া একজন মানুষ, মানুষ কি করে হয়ে উঠতে পারে?

ahasnat এর ছবি

সমস্যা হলো কলেজ স্তরের খুব কম (আমার মতে ০.১% এর কম) ছাত্র-ছাত্রী এই দাবী জানাতে পারে

আমি যখন কলেজে পড়তাম তখন আমিও বুকে হাত দিয়ে বলতে পারতাম না। তবে মোটামুটি কোথায় কি আছে তা বলতে পারতাম।কেউ যদি ২ বছর হাওয়া খেয়ে কয়েকটা প্রশ্ন মুখস্ত করে গোল্ডেন নিয়ে hsc পাশ করবেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়াটা অবশ্যই সে deserve করে। আপনি এরপর যা বলেছেন, তার সাথে সহমত পোষণ করছি।

রাজনৈতিক চেতনা (রাজনৈতিক মানে বিম্পি, আম্লীগ না) ছাড়া একজন মানুষ, মানুষ কি করে হয়ে উঠতে পারে?

আমি বলিনি আপনার কোন রাজনৈতিক চেতনা থকতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি, শিবিরের রাজনৈতিক চেতনা আমাদের স্বাধীনতার পরিপন্থী (রাজনৈতিক চেতনা বলে আমি কি বুঝাতে চাইছি, আমি জানি আপনি তা বুঝতে পেরেছেন)। আমি যা বুঝাতে চেয়েছি তা হচ্ছে, যেহেতু এটা ভালনা, তাহলে এটা অনুসরণ করনা। যেটা ঠিক তা অনুসরন কর। যেটা ঠিক সেটা।
ব্লগার আলিম আল রাজী আমার বন্ধু। তার সাথে একবার এই নিয়ে কথা হচ্ছিল। তাকে আমি এই কথা বলেছিলাম, "একজন ছাত্র শিবীরকর্মী যখন শুধুই ছাত্র, তখন সে খুবই ভালো। কিন্তু, যখন ছাত্রের পড়ে শিবির শব্দটা লেগে যায়, সেটা ভয়ংকর।"
এ হাসনাত

সাই দ এর ছবি

সংঘটন > সংগঠন

ইরানিরা আরব নয়

ahasnat এর ছবি

ইরান লিখছি নাকি। সরি। ইরাক লিখতে গিয়ে ইরান লিখে ফেলেছি।
এ হাসনাত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।