| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
একটি গঠনমূলক নির্মাণ
[২০০৮]
২৭শে জুলাই ২০০৭: আমার বাসার পাশে যেইদিকে ফালিফাঁকা জমি, পোড়ো ও প্রস্তর, সেদিক পানে চাইলে বিকালে ও সকাল-সন্ধ্যায় খুব কলরব হয়। কাহাদের অটোকথায় দেখা যায় চামড়া ও রেক্সিনের তেলমোটা রঙ আর নারিকেলবীথি মাঝে লাল-কালো সুর্যাস্তের ক্যালানে ক্যালেন্ডার; কখনোবা হাতেআঁকা নায়িকার বিহ্বল বুকপাছার আশ্চর্য অনুপাত; কারো কারো প্রিয় ডাকনামগুলি; টা টা ওকে হর্ণ প্লিজ; দৈবাৎ বুরি নজরবালা কালা মুখের সচিত্র বিবরণ ও গ্রামীন ব্যাংকের অসীম বদান্যতার কথা। অবশ্য অন্য সময়, যেমন ভো্রে কিংবা শিশুরাতে, সেখানে বাসা বাঁধে কতগুলি পলিথিনজল পরিবার, তাদের অ্যাসবেসটস গেরস্থালীর ঘরোয়া রোয়াব আর স্খলিত ঝামঝগড়ার ঝংকার।
২৭শে মে ২০০৮: আমার বাসার পাশে যেইদিকে ফালিফাঁকা জমির উপর নিখুঁতপ্রায় ডাইনোলোহার দাঁত, নবীন ও মুখর, সেদিক পানে চাইলে সকালে ও দুপুরে-বিকেলেও খুব কলরব হয়। ধাতুশব্দে শব্দরূপ শব্দের রূপ পেলে, কাহাদের হাত ও মেশিনবর্তী অঙ্ককাহিনীর জেরক্স জুড়ে দেখা যায় ছোটোবড় কাঠামযাপনের বিজ্ঞপ্তি বিলি হচ্ছে উঠোনে জানালায় আর ইস্পাত সাফল্যে মেদিনীর পুর থেকে তুলে আনা হচ্ছে মাটি ও মদ্যের ঘনঘোলা মিশ্রণ ; তাহাদের ব্যক্তিগত নদীসামগ্রীর ধাতুকলেবর। অথচ অন্য সময়ে, যেমন ভোররাত বা সন্ধ্যার ঝোঁকে, সেখানে সেয়ানা কংক্রীট কাঠের দোহাই দিয়ে নৈঃশব্দ শুয়ে থাকে গোটানো ঘামের ঘ্রাণনির্মাণ আর হলদে বাল্বে ঢাকা ফাঁকা প্রতিধ্বনিমৃদু এক চল্লিশোয়াট সাইক্লপ।
২৭শে মার্চ ২০০৯: আমার বাসার পাশে যেইদিকে ফালিফাঁকা জমি থেকে উঠে যায় ধাপসিঁড়ির পোষা সাপ, কালো ও শীতল, সেদিক পানে চাইলে সকাল-বিকাল আর সন্ধ্যেবেলায় খুব কলরব হয়। ফুলটবের বাহারে, ছেঁড়া হাওয়ার টুকরোগুলিকে টাঙিয়ে রাখলে করিডরমহলে দেখা যায় ছোটোবড় সাইকেল জমেছে কাহাদের পাপোষে গণেশে আর ঘরে ঘরে বারান্দাদরোজার পিতলে গাঁথা হয়েছে টিভি বিজ্ঞাপনের বাঁকানো উঠোন ও নাচতে নাজানা রমনীগণের আমরণ অনশন অনিদ্রার কথা। ফলতঃ অন্য সময়ে, যেমন মধ্যরাতে ও চাতালদুপুরে, সেখানে ছোট ছোট বাক্সগুলি থেকে বেরিয়ে আসে ঘুলঘুলিঘষা ভেজা মেঘ আর তাদের ন্যাকাটে আব্দারঘেঁষা ছাঁকনিগুলির ফিস্ফিস্ শ্বাসধনি; ঘুরন্ত এসিপাখার আবছা ঘুন ঘুন।*
—————————–
* লেখাটি প্রকৃতপক্ষে লেখা হয় এপ্রিল ২০০৮-এ যখন পুরনো ফোল্ডার ঘাঁটতে ঘাঁটতে ২৭শে জুলাই ২০০৭-এর একটি লেখা পাই, যা কিনা, আমার থাকার জায়গার পাশে পড়ে থাকা একটি ফাঁকা জমির দৈনন্দিন জীবনযাপন নিয়ে লেখা, যে জমিটি, সেই সময়ে অর্থাৎ ২০০৮-এর এপ্রিলে, একটি নির্মীয়মান ফ্ল্যাট ইমারতের আদল নিয়েছে। এইসময়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যখন আমি গদ্যাংশটিকে পুনরায় লেখার চেষ্টা করি, তখন দেখি লক্ষিত বস্তু বদলে যাওয়ায় তার প্রতিচ্ছবিও স্বাভাবিক বদলে যেতে শুরু করেছে। এবিধ আবিষ্কারে আমি পুলকিত হয়ে লেখাটি নতুন করে লিখতে প্রবৃত্ত হই এবং একটি ফাঁকা জমির সামান্য অতীত, দৈনিক বর্তমান ও অদূর ভবিষ্যত নিয়ে একটি লেখাই তিনবার লিখি তিনটি প্রায়-কাল্পনিক তারিখে, যেগুলির মধ্যে সচেতনভাবে রেখে দিই এক একটি দশ মাসের পোয়াতি ব্যবধান।
২
হলো কথা, আমাদের সাথে আবার পোয়াতী ব্যবধান রেখনা বাওয়া......!
আমিও এরকম কিজানি ভাবতে গিয়ে হেঁচে হারালাম....তো সেখানে দশ না কখনো দশ কখনো সাত কখনো সওয়া নয় কখনো...
৪
আসলেই অনেকদিন পর....
৫
আপনার লেখা ভাল লাগে প্রতিবারই। নিয়মিত পেলে আনন্দ পাব।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!
৬
আপনার লেখার সাথে প্রথম পরিচয়... ভালো লাগলো ...
সৈয়দ আখতারুজ্জামান
৭
সুমন, লেখালিখি বন্ধ ছিল বেশ কিছুদিন। শুরু করেছি সদ্য, টলোমলো। ব্যবধান মনে হয় আর থাকবে না।
৮
দ্রোহী, ধন্যবাদ। আপনার ছবি দেখে নিচের কাজটির কথা মনে পড়লো
http://samitroy.org/index.php/2008/05/11/death-of-a-mustache/
কাকতালীয় ঘটনা হলো, এই লিঙ্কের ছবি আর লেখাটি আজই একটু আগে পোস্ট করলাম।
৯
অমিত, সত্যিই অনেকদিন পরে। দেখা যাক, নিয়মিত হতে পারি কিনা।
১০
তীরন্দাজ, আপনার লেখাও আমার ভালো লাগে। সেই সামহোয়্যার থেকেই। আশা করছি, আপনি সেইই।
নিয়মিত লেখালিখি করা চেষ্টা করছি আমিও।
১১
আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে ভাল লাগলো, সৈয়দ আখতারুজ্জামান।
১
য-ফলাতে একটু গন্ডগোল করলাম। মাপ করবেন।
http://samitonline.net