অধ্যাপক শ্রীশঙ্কু ও ভাইরাস

শঙ্কর এর ছবি
লিখেছেন শঙ্কর [অতিথি] (তারিখ: রবি, ১৫/০৩/২০২০ - ২:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৬ই পৌষ, ১৪২৬

আজ কসমিক পত্রিকায় আমার চিঠিটা প্রকাশিত হয়েছে। ব্রেজিলের জিকা ভাইরাস এবং চীনের নোভেল করোনা ভাইরাসের মহামারীর পর বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থাকে আমি একটা চিঠি লিখেছিলাম। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল, পরবর্তীকালে নতুন নতুন ভাইরাসের উদ্ভবের অপেক্ষায় বসে না থেকে, আমরা নিজেরাই যদি গবেষণা করে বের করি, ভবিষ্যতের ভাইরাস কেমন হবে আর তার প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করে রাখি, তাহলে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে তৈরী থাকতে পারবো। এই ভাবে আমরা একটা ভাইরাস ব্যাঙ্ক এবং তার প্রতিষেধক ব্যাঙ্কও বানিয়ে রাখতে পারি। এই ব্যাঙ্ক কিন্তু কোন বিশেষ দেশের সম্পত্তি হবে না এবং কোন দেশই অন্য কোন প্রয়োজনে এই ভাইরাস ব্যবহার করতে পারবে না। আরো খোলসা করে বলতে গেলে, কোন ভাইরাসকেই ‘জৈব অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যেহেতু ভৌগোলিক কারণে এই ব্যাঙ্ককে কোন না কোন দেশেই থাকতে হবে, তাই আমি সুইটজারল্যাণ্ডের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থা শুধু আমার এই চিঠিটিই প্রকাশ করেনি, এর সাথে তাদের সম্মতিও জানিয়েছে। সুইটজারল্যাণ্ডের জারম্যাট শহরে এই ভাইরাস ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছে। এ ব্যাপারে সুইস সরকারেরও সমর্থন এবং সক্রিয় সহযোগিতা যে পাবো তা বলাই বাহুল্য।
১৮ই পৌষ, ১৪২৬
এবার আমার ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণাটাও শুরু করব ভাবছি। বহু বছর অসুখ বলতে আমরা শারীরিক উপসর্গকেই বুঝেছি। যেমন, ব্যথা, জ্বর, দুর্বলতা ইত্যাদি। আমাদের ভাইরাসেরাও এই উপসর্গগুলোই বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু কিছুদিন হল, আমরা মানসিক অসুখকেও পাগলামো না বলে অসুখ বলতে শিখেছি। এই সব অসুখের ব্যাপারে হিসেবে ডাক্তারেরা বলেন ভিটামিন ডি, সেরোটোনিন, ডোপামাইন এই সমস্ত রাসায়নিকের স্বল্পতাই এর কারণ। কিন্তু চিকিৎসা হিসাবে ওষুধের প্রয়োগ ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবের সহানুভূতি এবং সহৃদয় ব্যবহারও ভীষণ প্রয়োজনীয় বলা হয়। আমার ধারণা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাইরাস হয়তো আমাদের এই রকম মানসিক অসুখের কারণও হতে পারে। কেউ হয়তো মেলা থেকে ফিরে এসে আগামী দশদিন ভীষণ রেগে থাকল, বাড়ির জিনিসপত্র ভেঙে ফেলতে লাগল। আবার কেউ মনের দুঃখে ঘরে বসে থাকল, স্কুল কলেজ অফিস কামাই। এই ধরণের অসুখগুলোকে চটজলদি অসুখ বলা যাবে না। কারো পা নেই, সে হাঁটতে পারে না। এটা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাই, তাই বুঝতে পারি। কিন্তু যার দুটো পা-ই আছে, কিন্তু নাড়াবার ইচ্ছা নেই, সে অসুখ আমরা বুঝতে পারি না। হেসে বলি মন খারাপ, মেণ্টাল, পাগল, আরও কত কি। কাজেই চিকিৎসা শুরুই হবে অনেক দেরীতে, আর ততদিনে ভাইরাস শরীরে জমিয়ে বসেছে। কে ভাববে রোগী মেলা থেকে ভাইরাস নিয়ে এসেছে?
আমি চাইছি এই ধরণের কিছু ভাইরাস এবং তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করতে, যাতে এই পরিস্থিতিতে ডাক্তাররা এই সম্ভাবনাটাও ভেবে দেখেন এবং এর চিকিৎসা কম খরচে সহজেই করে ফেলা যায়। একেই তো সব দেশেই মানসিক চিকিৎসার ডাক্তার কম। আমাদের দেশে তো সাইকোলজিস্ট আর সাইক্রিয়াটিস্টের ফারাকই লোকে বোঝে না। তাদের কাছে সবাই হল পাগলের ডাক্তার। যে বেচারী গত কদিন মনমরা হয়ে ঘরে বসে আছে, তাকেও সাইকোলজিস্টের কাছে যেতে বললে সেও তেড়ে আসবে, ‘দেখছ না, একটু মনটা ভাল নেই। তা বলে আমি কি পাগল?’
২০শে মাঘ, ১৪২৬
গত একমাস ধরে নিজের গবেষণা নিয়ে গবেষণাগারেই ব্যস্ত ছিলাম। ডায়েরী লেখার আর সময় পাইনি। আমার নতুন ভাইরাস খোঁজা সমাপ্ত। এককালে বসন্তের টীকা দেওয়া হত। শরীরে অল্প বসন্তের জীবাণু ঢুকিয়ে দেওয়া হত। শরীর নিজেই এর প্রতিষেধক বানিয়ে নিত। এরপর এর উলটো ব্যবহার শুরু হল। যক্ষ্মা-জাতীয় বিভিন্ন অসুখে দেখেছি, লোকে অর্ধেক চিকিৎসা করেই ছেড়ে দেয়। তখন যক্ষ্মার ব্যাক্টেরিয়া ওষুধের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং নিজেকে বদলে ফেলে। এবং এই বদলে যাওয়া ব্যাকটেরিয়াকে সারানো ভীষণ দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। ঠিক সেভাবেই যদি ওষুধের মধ্যে ভাইরাসকে অল্প কিছুদিন রেখে দেওয়া যায়, তাহলে সে নিজেই নিজেকে বদলে ফেলবে। নোভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ নাকি দুমাসের মধ্যে ৩৮০ বার নিজেকে বদলে ফেলে বিজ্ঞানীদের মহা দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল। আমি এই চিন্তা ধরেই এগিয়েছি। ৫০ মিলি বুপ্রোপিওনের সাথে দু ফোঁটা ইগ্নেশিয়া আমারা – ৩০ এর দ্রবণে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসকে সাতদিন রেখে দিলে সে নিজেই নিজেকে বদলে এই ভাইরাসে পরিণত হবে। আমি এই ভাইরাসের নাম দিয়েছি ড্রিমোভোরাস বা স্বপ্নখাদক। এই ভাইরাসের বিশেষত্ব হল সে স্বপ্ন খায়। আমরা রাতে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি, কেউ কেউ জেগেও দিবাস্বপ্ন দেখি। আবার কেউ বলে স্বপ্ন হল সেই জিনিস যা তোমার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়, যাকে সফল করার জন্য তুমি প্রয়োজন হলে জীবন ভোর দৌড়তে থাক। স্বপ্নখাদক এই সমস্ত রকম স্বপ্নকেই খেয়ে নেয়। এর আক্রমণ হলে শুধু রাতের স্বপ্ন নয়, লোকে দিবাস্বপ্ন দেখাও ভুলে যাবে। এক কথায় কল্পনা শক্তিই শেষ হয়ে যাবে। শুধু যে কবিতা লেখা, গল্প লেখা বন্ধ হয়ে যাবে তাই নয়, বাড়ি-গাড়ি কেনার স্বপ্ন, ব্যবসাকে দ্বিগুণ করার স্বপ্ন, প্রেমিকার সাথে বসে গল্প করার স্বপ্ন, সমাজ বদলে দেওয়ার স্বপ্ন – সমস্ত রকমের স্বপ্ন দেখা শেষ হয়ে যাবে। মানুষ আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে না।
২১শে মাঘ, ১৪২৬
এককালে অনেকেরই ধারণা ছিল, গোল্ডফিশ নাকি তিন সেকেণ্ডের বেশী স্মৃতি ধরে রাখতে পারে না। আজকাল বিজ্ঞানীরা বলছেন, গোল্ডফিশ পাঁচমাসেরও বেশি সময় স্মৃতি ধরে রাখতে পারে। পরশু আমার অ্যাকোয়ারিয়ামের গোল্ডফিশের ওপর প্রথম ভাইরাসটা প্রয়োগ করেছিলাম। আজ থেকে তার ফল দেখলাম। মাছটা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অর্থাৎ পেটে খিদে, সামনে খাবার, কিন্তু সে খাবার খেলে যে পেট ভরবে, সেই চিন্তাটাও তার চলে গিয়েছে। কয়েকঘণ্টা পর প্রতিষেধকটা দেওয়ার পর সে আবার আগের মত খাওয়া দাওয়া শুরু করল। আমি এদিকটা তো ভাবিইনি। স্বপ্ন দেখা বন্ধ হলে যে ভবিষ্যতের চিন্তা এতোটাই চলে যাবে, সেটা আমি কল্পনাও করিনি। এরকম হলে লোকে শুধু অফিস বা স্কুলের কাজকর্ম ছেড়ে দেবে তাই নয়, তারা সাধারণ প্রয়োজনীয় কাজ, মানে নাওয়া খাওয়াও ছেড়ে দেবে। এ ভাইরাস মানুষকে না খাইয়ে মারবে। সংক্রমণ ছড়ালে এক মাসের মধ্যে একটা এলাকা পেটে খিদে নিয়ে জনশূন্য হয়ে যাবে। আজ রাতেই আমার পাশুপত অস্ত্র দিয়ে এই ভাইরাসকে নির্মূল করে দেব। শুধু আমার গবেষণার কাগজেই থাকবে এর অস্তিত্ব। এই পাশুপত অস্ত্রটি বড় কাজের জিনিস। যে কোন জীবিত প্রাণীকে নিমেষের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে।
২৩শে মাঘ, ১৪২৬
আজ মার্কাসের সঙ্গে আমার গবেষণা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। মার্কাস নিজেও ভাইরাস বানানোর চেষ্টা করেছে। ওর এই নতুন ভাইরাস সবাইকে হিংস্র করে তুলবে। ওর গবেষণাগারে খাঁচায় রাখা অনেকগুলো ইঁদুরের মধ্যে একটার ওপর এই ভাইরাস প্রয়োগ করেছিল। ঐ একটা ইঁদুর ক্ষেপে উঠে খাঁচার অন্য সাতটা ইঁদুরকে মেরে ফেলেছে। সাধারণতঃ ইঁদুরেরা পরষ্পরের প্রতি মারামারি করে না। মার্কাস এখন ওর প্রতিষেধক খোঁজায় ব্যস্ত।
২৪শে মাঘ, ১৪২৬
আজ মাইকেলের ইমেল পেলাম। ও নাকি একটা ভাইরাস পেয়েছে যেটা শরীরের বিভিন্ন কোষকে মেরে ফেলছে। অনেকটা কুষ্ঠের মত ধীরে ধীরে হাতের পায়ের আঙুলগুলো খসে পড়তে শুরু করবে।
২৬শে মাঘ, ১৪২৬
আজ সামারভিলের ফোন পেলাম। ওর চিন্তাধারাও অনেকটা আমারই মতন। ও নাকি একটা অদ্ভূত রকমের ভাইরাস আবিষ্কার করেছে যেটা মনের ওপর দখল নিতে পারে। আমার ভাইরাসও যে মনের ওপর প্রভাব ফেলে জানার পর বলল, “শ্রীশঙ্কু, ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন। তুমি চিন্তাও করতে পারবে না আগামী ভবিষ্যতে আমরা কি ধরণের ভাইরাসের মোকাবিলা করতে চলেছি।” ফোনে বেশি কিছু বলল না, শুধু বলল যে এবার আমাকে ও বিরাটভাবে চমকে দেওয়ার আয়োজন করছে।
১লা ফাল্গুন, ১৪২৬
আজ বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে ইমেল পেয়েছি। সামনের ২৫শে ফাল্গুন থেকে ২৭শে ফাল্গুন তিন দিন জারম্যাটে বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার অধিবেশন। সেই অধিবেশনে বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা তাঁদের আবিষ্কৃত ভাইরাসগুলির বর্ণনা করবেন এবং তাদের প্রতিষেধকেরও উপায় বলবেন। যদি এমন কোন ভাইরাস পাওয়া যায়, যার প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি, তখন বাকি বিজ্ঞানীদের কাজ হবে সেই প্রতিষেধক আবিষ্কার। সমস্ত বিজ্ঞানীদেরই বলা আছে, কেউ কোন ভাইরাস বহন করে নিয়ে যাবেন না। শুধু গবেষণার কাগজপত্র নিয়েই আলোচনা হবে। এছাড়াও সমস্ত বিজ্ঞানীদের অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তাঁরা তাদের আবিষ্কৃত সমস্ত ভাইরাসকে সমূলে বিনষ্ট করে দেন এবং গবেষণার কাগজের একটি কপি বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জমা দেন। বলাই বাহুল্য, আমার তৈরি স্বপ্নখাদক বহু আগেই আমার পাশুপত অস্ত্রে ভস্মীভূত হয়েছে।
২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৬
পূজোর সময় কৃষ্ণনগর ছেড়ে আসতে মন চায় না। কিন্তু কি করা যাবে, এই কারণে তো আর অধিবেশনের দিন বদলানো যায় না। আমি সাধারণতঃ যথাসম্ভব হালকা হয়ে বেড়াতেই পছন্দ করি। গবেষণার কাগজ-পত্র আর জামা-কাপড় ছাড়া আমার সঙ্গে আছে পাশুপত আর আমারই তৈরি সর্বরোগহর বটিকা। যে কোন অসুখে একটি দানা খেলেই দু-ঘণ্টার মধ্যে একদম ফিট। এত অসুখের এলাকায় যাচ্ছি, সঙ্গে এটা থাকে ভীষণ দরকার। আমার অনুপস্থিতিতে আমার সেক্রেটারী দিয়া আমার গবেষণাগারের দেখাশোনা করবে।
সুইটজারল্যাণ্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে হল ফ্রান্স আর দক্ষিণ-পূর্বে ইতালি। সুইটজারল্যাণ্ডের পূর্ব দিক দিয়ে ইতালির ধার ঘেঁষে গ্লেসিয়ার এক্সপ্রেসের রেলপথ। এই ট্রেনটার ছাদ থেকে সর্বত্র পুরো কাচের জানালা। শীতকালে বরফজমা পথে পর্যটকরা এই ট্রেনে চেপে সুইটজারল্যাণ্ড বেড়াতে আসে। গ্রীষ্মকালেও এই রেলপথের সৌন্দর্য অতুলনীয়। এই রেলপথের একদম দক্ষিণে হল জারম্যাট। সুইটজারল্যাণ্ড আর ইতালির সীমান্তে ম্যাটারহর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে হল এই জারম্যাট শহর। ম্যাটারহর্ণ পাহাড় একটা পর্যটন কেন্দ্র বলা যায়। দুনিয়ার যত স্কি-প্রেমী এখানে বেড়াতে আসে। জারম্যাট শহরের সব থেকে মজা হল এই শহরে কোন পেট্রল বা ডিজেলের গাড়ি চলে না। কয়েকটা ব্যাটারী-চালিত ট্যাক্সি আছে, পর্যটকদের স্টেশন থেকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসার জন্য। শহরটা এতই ছোট যে হেঁটেই পুরো শহরটা চক্কর দিয়ে আসা যায়। দু-একটা ঘোড়ার গাড়ি আছে। সেগুলো ঠিক রোজকার পরিবহনের জন্য নয়, পর্যটকদের বেড়ানোর জন্য। শহরের পুর্ব দিকে গর্নার হিমবাহ থেকে শুরু হয়েছে ভিস্পা নদী। গোটা শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে এই নদী। কোন গাড়ি-ঘোড়া নেই বলে শহরটা আশ্চর্য রকম শান্ত। শহরের যেখানেই যাও, ঐ নদীর কুলু কুলু ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। সুইস লোকেরা এমনিতেই ইউরোপের সব চেয়ে পরিষ্কার জাতি নামে বিখ্যাত। তার ওপর সরকারের আবার আইন আছে ব্যালকনিতে শুকনো ফুল থাকলেই জরিমানা। কাজেই এই শহরে গেলেই মনে হয় চারিদিকে যেন পিকচার পোস্টকার্ডের মত, থুড়ি পিকচার ভিডিও কার্ডের মত। ছবির মত শহর আর কানে বাজে শুধু পাগলা ঝোরার মত নদীর শব্দ।
জারম্যাট ছোট শহর। এতবড় অধিবেশন সামলানোর মত কোন বড় হোটেল এখানে নেই। কাজেই সব ছোট ছোট হোটেলে অতিথিদের আলাদা আলাদা থাকার ব্যবস্থা করে হয়েছে। আমি উঠেছি এখানকার অন্নপূর্ণা হোটেলে। স্টেশন থেকে একটা ব্যাটারি-ট্যাক্সি আমাকে পৌঁছে দিল এই হোটেলে। মালিক বেন স্টিফেন্স। অমায়িক মধ্য বয়সী ভদ্রলোক। ইংরেজি, ফরাসী, ইতালীয় এবং জার্মান চারটে ভাষাতেই গড়গড় করে কথা বলতে পারেন। বয়স চল্লিশের ওপরে কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে পঁচিশ বছরের ছোকরার মতই চটপটে এবং প্রাণবন্ত। শুধু হোটেল চালানোই নয়, উনি জুডো এবং কিক-বক্সিংয়েও তুখোড়। আমিও ঐ চারটে ভাষাই জানি শুনে খুব খুশি হয়েছেন। আমার সঙ্গে উনি মজা করে একই সাথে চারটে ভাষায় কথা বলেন। যেমন সন্ধ্যেবেলা দেখা হওয়া মাত্র বললেন, “গুটেন আবেন্দ, সিনর শ্রীশঙ্কু, ওয়েলকাম, কমো সাভা?” মানে, শুভসন্ধ্যা শ্রীশঙ্কু, সুস্বাগতম, কেমন আছেন?
২৬শে ফাল্গুন, ১৪২৬ সন্ধ্যে ছটা
গত দুদিন ধরে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের তৈরী ভাইরাসের খবর শুনে কেমন মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। এর একটা ভাইরাসও যদি সশরীরে পৃথিবীতে এসে উপস্থিত হয়, তবে কি যে হবে কে জানে। কিছু ছোটখাট ভাইরাস পাওয়া গেছে যেমন ক্ষূধাহরণ ভাইরাস, গাত্রদাহ ভাইরাস, ঈর্ষাকরণ ভাইরাস। আফ্রিকার এক বিজ্ঞানী একটা ভাইরাস আবিষ্কার করেছেন যেটার নাম দেওয়া যায় পুচ্ছাগমন ভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রকোপে নাকি মানুষের লেজ গজিয়ে যাবে। এক চৈনিক বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন নুডল ভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রকোপে শরীরের সমস্ত লোম নুডলের মত বড় বড় হয়ে যাবে। এছাড়াও আছে বোবা ভাইরাস, কালা ভাইরাস, অন্ধ ভাইরাস, পেট খারাপ ভাইরাস, অষ্টাবক্র ভাইরাস – আরও কত কি। এত ভাইরাসের কথা শুনে নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখতে হয়, বেঁচে আছি তো।
একটু আগে সামারভিল ফোন করেছিল। কাল ওর প্রেজেণ্টেশন আছে। তার আগে আজ সন্ধ্যেবেলা ও আমাকে চমকে দিতে চায়। ও ও এই হোটেলেই উঠেছে। যাই একবার ওর ঘরে গিয়ে দেখি নতুন কি জিনিস আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
২৬শে ফাল্গুন, ১৪২৬ রাত নটা
আমার এই ছোট্ট জীবনে যে কতো রকমের অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে তার আর লেখাজোখা নেই। তবু প্রতি মুহূর্তেই যেন আমি নতুন কিছু শিখি। প্রতিদিনই জানতে পারি, এ বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের কত কিছুই আমার অজানা ছিল। আমার মনের দরজা খুলে রেখেছি বলে প্রতিনিয়তই আমার জ্ঞানের ভাণ্ডার ভরে ওঠে। আজ সন্ধ্যেবেলা সামারভিলের ঘটনা তারই আর একটা নিদর্শন।
কথা মত ঠিক সন্ধ্যে সাড়ে ছটায় আমি সামারভিলের ঘরে নক করলাম। সামারভিল হাসিমুখেই দরজা খুলল। কিন্তু এ কি চেহারা হয়েছে সামারভিলের? গায়ের রঙ আরও ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, চুল উঠে গেছে। তিনমাস আগেই ওর সাথে ভিডিও ফোনে কথা হয়েছে। এই তিন মাসে ও যেন দশ বছর বুড়িয়ে গেছে।
সামারভিলের পেছন পেছন আমি লিভিং রুমের সোফার দিকে এগোলাম। আমি বসার পর সামারভিল উলটো দিকের সোফায় বসল।
- তুমি ঠিকই ভাবছ শঙ্কু, গত কয়েকমাসের গবেষণা আমাকে বেশ কাহিল করে ছেড়েছে।
- কিন্তু তুমি …
- হ্যাঁ ডাক্তার দেখানো হয়তো উচিত ছিল, কিন্তু কাজে এতো ব্যস্ত ছিলাম যে সময়ই পাইনি।
- তাহলে কাল …
- না না। আমাকে একটু কাহিল দেখাচ্ছে। কিন্তু অতটা আনফিট নই আমি। কাল আমি পুরো প্রেজেণ্টেশনটাই করতে পারবো। আমার গবেষণায় আমি দেখিয়ে দেব যে আগামী দিনের ভাইরাস কি প্রচণ্ড শক্তিশালী হতে পারে। এমনকি, তারা প্রতিষেধক তৈরীর প্রক্রিয়াটাই বন্ধ করে দিতে পারে।
আমি সামারভিলের দিকে ভাল করে তাকালাম। আগে ও একটা চশমা পড়ত।
“আজকাল আর চশমাটার প্রয়োজন অনুভব করছি না। চোখটা যেন নিজের থেকেই ভালো হয়ে গিয়েছে। অনেকটা স্পাইডারম্যানের মত ধরে নাও”, এই বলে সামারভিল বিকারগ্রস্তের মত হো হো করে হাসতে লাগলো।
বিজ্ঞানের প্রয়োজনে আমি পৃথিবীর বহু জায়গায় গিয়েছি। সর্বত্র মন খোলা রেখে শিখেছি। ছোটবেলায় একবার সম্মোহনবিদ্যা শিখতে গিয়েছিলাম। শিখেও ছিলাম ভালোভাবেই। যদিও আমি কোন দিনই এই বিদ্যা কাজে লাগাইনি, কিন্তু আমাকে সম্মোহন করা সম্ভব নয়। আমার মনের ওপর একটা চাপ পড়ছে। সামারভিল কি আমাকে সম্মোহন করার চেষ্টা করছে? একটু আগে আমি যা বলছিলাম বক্তব্য শেষ করার আগেই সামারভিল কি করে বুঝে নিচ্ছিল? আমি কথা শেষ করার আগেই ও উত্তর দিয়ে দিচ্ছিল কি করে? সামারভিল কেন ডাক্তারের কাছে যায়নি? আর সামারভিল কেন আমাকে সম্মোহন করার চেষ্টা করছে? সামারভিলের ভাইরাস মনের ওপর কতটা দখল নিতে পারে? আমি সামারভিলের দিকে তাকালাম। ও মিটিমিটি হাসছে। সামারভিলের ভাইরাস কি তবে সামারভিলেরই মনের দখল নিয়েছে? সামারভিল কি এখন তার নিজের তৈরি ভাইরাসেরই গোলাম? সেই ভাইরাসই কি আমাকে সম্মোহন করে আমার মনের দখল নেবার চেষ্টা করছে? সে কি আমার মনের কথাও পড়তে পারছে? আমার পাশুপত অস্ত্রটা আসবার সময় ঘরে রেখে এসেছি। সামারভিল তো আমার বন্ধু। তাই ওটা আনার কথা ভাবিই নি।
আমি সোফা ছেড়ে উঠে আমার ঘরে যাব ভাবছিলাম। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি, সামারভিলের হাতে কখন যেন একটা রিভলভার উঠে এসেছে। “চুপচাপ বসে থাক শ্রীশঙ্কু। এটা তো জানই যে সামারভিলের হাতের তাক কতো ভাল। রিভলভারে সাইলেন্সার লাগান আছে। তুমি উঠে দাঁড়াবার আগে তোমার ঐ ফ্রণ্টাল বোনের ঠিক মধ্যিখানে নিঃশব্দে একটা ছোট্ট ফুটো তৈরী হয়ে যাবে।”
“একটা ভাইরাস তো আর সামারভিলের মগজ দখল করে নি। কাজেই তুমি করে বলব না তোমরা?”, আমি মাথা ঠাণ্ডা করে জিজ্ঞেস করলাম। এই পরিস্থিতিতে হঠাত কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভাল। আর আমি যা ভাবব, সে তো ভাইরাসেরা জেনেই যাবে।
- তোমাদের ব্যাকরণের হিসাবে আমরা। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছ। সামারভিল এখন আমাদের দখলে। আমরা ওর শারীরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ওকে ব্যবহার করে চলেছি।
- অর্থাৎ সামারভিল বন্দুক চালাতে না জানলে তোমরা ওর হাত দিয়ে বন্দুক চালাতে পারতে না। সামারভিল সাঁতার না জানলে তোমরা ওকে দিয়ে সাঁতার কাটাতেও পারবে না।
- তোমার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা বেড়ে যাচ্ছে শ্রীশঙ্কু। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও তুমি এত ঠাণ্ডা মাথা রেখে প্রশ্ন করে চলেছ? তোমার অনুসন্ধিৎসা আর তোমার স্নায়ুর জোর – দুটোই প্রশংসার যোগ্য।
- কিন্তু সাধারণ ভাইরাস তো প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে নিজের মত করে শরীরকে আক্রমণ করে। মস্তিষ্ককে আক্রমণ করতে গেলে তো দলবদ্ধ আক্রমণ করা দরকার। তোমরা কি সোয়ার্ম টেকনোলজি ব্যবহার কর?
- দেখ, সোয়ার্ম টেকনোলজির সংজ্ঞা হল সবাই আলাদা ভাবে কাজ করছে, কিন্তু তারা দলবদ্ধ। যেমন একদল মৌমাছি যখন তাদের চাক বাঁচাতে শত্রুকে তাড়া করে। ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেকেই সেখানে প্রাণ দিতে উৎসুক। কিন্তু সেখানে কোন কেন্দ্রীয় মস্তিষ্ক চিন্তা করে না, যদি বাহাত্তর নম্বর আর একশ পাঁচ নম্বর মৌমাছিকে বলিদান করা হয় তাহলে সব থেকে কম ক্ষতি স্বীকার করে যুদ্ধ জয় সম্ভব। সেখানেই আমাদের সাথে সোয়ার্ম টেকনোলজির ফারাক।
- কিন্তু তোমরা কি জান সামারভিলের মৃগী রোগ আছে? খিঁচুনি শুরু হলে ওর মস্তিষ্কের সমস্যা শুরু হতে পারে। তখন তোমরা কি করবে?
- এত বড় একজন বিজ্ঞানী হয়েও তুমি এত বোকার মত কথা বললে শ্রীশঙ্কু? সামারভিলের মৃগী রোগ নেই তুমিও জান। তুমি এক্ষুনি ওটা বানালে। তুমি ভুলে গেছ যে আমরা তোমার মন পড়তে পারি। তুমি নিশ্চয়ই আশা কর না, যে আমরা তোমাকে ঘর থেকে তোমার পাশুপত অস্ত্রটা আনার সুযোগ দেব।
আমি আর কি জিজ্ঞেস করব বুঝতে পারছি না। এটুকু জানি, যতক্ষণ কথা চালিয়ে যেতে পারব, ততক্ষণই বেঁচে থাকব। সামারভিল উঠে দাঁড়াল, “তাহলে বিদায় শ্রীশঙ্কু”, সামারভিল বন্দুক তাক করল।
আমার মাথা ঝিমঝিম করছে। সিঁড়ি দিয়ে কে যেন উঠে আসছে। কাঠের সিঁড়ির ওপর ধুপ ধুপ করে শব্দ হচ্ছে। ক্যাঁচ করে দরজাটা খুলে গেল। হ্যাণ্ডেলে হাত রেখে বেন ভেতরে ঢুকল, “হাই শ্রীশঙ্কু।”
বেন সামারভিলের দিকে তাকাল। ডান হাত সোফার ওপর রেখে বিদ্যুদ্বেগে ওর শরীরটা লাফিয়ে উঠল। বাঁ পায়ে সামারভিলের ঘাড়ে একটা ফ্লায়িং কিক। পর মুহূর্তে মাটিতে ল্যাণ্ড করেই সামারভিলের ডান হাতের ওপর একটা ক্যারাটে চপ, হাত থেকে রিভলভারটা পড়ে গেল। তারপরই সামারভিলের ডান হাতটা ধরে সোজা সামারভিলের দেহটাকে ধোবিকা পাট, তুলে আছাড়। মেহগনির সেণ্টার টেবিলের ওপর সপাটে সামারভিলের দেহটা আছড়ে পড়ল। সোলার প্লেক্সাসের ওপর একটা বিশাল কিল। সামারভিল অজ্ঞান হয়ে গেল।
আমি ছুটে ওপরে গেলাম। আমার ঘর থেকে সর্বরোগহর বটিকা এনে সামারভিলের মুখ হাঁ করিয়ে দুটো বড়ি খাইয়ে দিলাম।
বেশ কিছুক্ষণ জল ছিটোনোর পর সামারভিলের জ্ঞান ফিরে এল। ও প্রতিষেধক বানাতে পারার আগেই অধিবেশনে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। যেদিন এখানে আসবে সেদিন সকালে প্যাকিং করার সময় হঠাত হাত লেগে টেস্ট টিউব পড়ে ভেঙে যায়, আর তখন থেকেই ও ভাইরাসদের দখলে চলে আসে।
“কিন্তু বেন, তুমি কি করে ওদেরকে কবজা করলে? ওরা তো তোমার চিন্তাও পড়তে পারতো। তুমি আঘাত করার আগেই ওরা তোমাকে গুলি করল না কেন?”, আমি বেনকে জিজ্ঞেস করলাম।
“তুমি কি বলছ সিনর। একজন তোমার দিকে বন্দুক তাক করে আছে আর আমি তখন বসে বসে ভাবব এখন কি করা যায়? আমি কিছুই ভাবিনি। শুধু রিফ্লেক্স অ্যাকশনে ফ্লাইং কিক মেরেছি, আর যতক্ষণ না ওকে কাবু করতে পেরেছি, পিটিয়ে গেছি।”


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

আপনি মাঝখানের এই আট বছর গল্প লেখেননি আর?

নতুন করে স্বাগতম। শেষে এসে ভাইরাস কেমন করে যেন ব‍্যাকটিরিয়া হয়ে গেছে।

আর ড্রিমোভোরাসের জায়গায় সমনিভোরাস হলে শ্রীশঙ্কুর লাতিনসুখী মেজাজটার সাথে মানাতো ভালো। চলুক।

shankar এর ছবি

না ভাই। আট বছরে একটাও লিখিনি। সমনিভোরাস শব্দটা মাথায় আসেনি। ধন্যবাদ। আর ভাইরাসটা ব্যাকটেরিয়া হয়ে গেছে, সরি। বদলে দিচ্ছি।

কলকাতার শেষ দু-বছর বেশ বাজে কেটেছে। চাকরি নিয়ে টানাটানি। তারপর টরণ্টো চলে এলাম। বুড়ো বয়সে নতুন করে সংসার পাতার লড়াই। এদ্দিনে একটু থিতু হয়েছি।

অনেকদিন আগে তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে, ঘনাদাকে নিয়ে লেখাটা আইন সঙ্গত কি না? আমার আইনজীবী বন্ধু জানিয়েছে, তুমি ঠিক ছিলে। ঘনাদা নামটা কপিরাইট। কাজেই শিশির, বিশু আর নিতাইয়ের সাথে মনাদা (মনশ্যাম / মনজিত) নামটা মানাবে না গনাদা (গণপতি) নামটা? কিংবা অন্য কিছু। একটা সাজেশনের আশায় রইলাম।

হিমু এর ছবি

আপনার থিতু জীবন স্বস্তিতে কাটুক, কলম গড়গড়িয়ে চলুক।

আপনার যা ভালো লাগে, সেটাই সই। মনাদা খারাপ শোনায় না, সে মনে মনে পরীর দেশের বন্ধ দুয়ারে হানা দিয়ে বেড়ায় যখন।

এক লহমা এর ছবি

চমৎকার।

"যেদিন এখানে আসবে সেদিন সকালে প্যাকিং করার সময় হঠাত হাত লেগে টেস্ট টিউব পড়ে ভেঙে যায়, আর তখন থেকেই ও ভাইরাসদের দখলে চলে আসে।" - ও কি সম্মেলনের জন্য ভাইরাস সাথে করে নিয়ে আসতে চলেছিল? সম্মেলনের নির্দেশিকা অনুসারে সেটা ত করা ঠিক হত না? আর যদি তা না হয়, এমন সাংঘাতিক ভাইরাস এত সহজে দুর্ঘটনায় পড়ার মত অবস্থায় রাখা সমারভিলের মত বিজ্ঞানীর করার কথা না, তাই না? একটু খুঁতখুঁতেপনা। হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

Shankar এর ছবি

না না! প্যাকিং করার সময় হঠাত হাত লেগে টেস্ট টিউব পড়ে ভেঙে যায়। ভাইরাস সাথে করে নিয়ে আসতে চায়নি।

মন মাঝি এর ছবি

প্রোফেসর শঙ্কুকে নিয়ে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র "প্রোফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো" বসে বসে দেখছি এই মুহূর্তে : https://www.hoichoi.tv/movies/prof-shanku-o-el-dorado-2019 । মজাই লাগছে। ট্রেইলারটা আছে এখানেঃ https://youtu.be/DpVE8cvq_ikহাসি

****************************************

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।