ও ময়ূর, পাখা মেলে দাও (২য় পর্ব)

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা সাদিয়া [অতিথি] (তারিখ: রবি, ০২/১১/২০১৪ - ৪:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একটা সুইসাইড নোট লিখতে হবে। এতে যেমন দায় চাপানো যায়, তেমন এড়ানোও যায়। আইনের ছাত্রী হিসেবে আমি জানি, আমার ইচ্ছামৃত্যুতে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হাসানকেই প্রথমে সব জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে। যদিও আমার পরিণতি বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তহীনতায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল হাসানেরই। এই তো পরশু রাতে যখন স্টাডি রুমে এসে চেয়ারে বসে আছি আর জেল পেনে ডায়েরির ভাঁজে আঁকিবুকি করছি, হাসান পিছনে এসে দাঁড়িয়েছিল। আমাকে দু’হাতে তুলে নিয়ে বুকে তুলে বলেছিল, ‘আবার পাগলামি করছো? এসো বিছানায় এসো।’

কেন যে আমাকে ও পিছু ডাকে। কিছু তো দেই না ওকে আমি। অপারেশনের পর প্রজনন অক্ষমতার সাথে সাথে শরীরের অন্যতম স্পর্শকাতর অংশের অনুভূতির নির্জীবতা কি একটুও উৎকন্ঠিত করে না হাসানকে? নাকি ওর ভালমানুষিটা এমনিই। লোকদেখানো? কই ওর চোখের সরলতা তো ঠিক আগের মতই আছে। তবে কেন ওর শারিরীক নির্লিপ্ততা আমার মনে অদ্ভুত সব প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমার অপারেশন পরবর্তী জটিলতা এখনও কাটেনি। বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। আশেপাশের মানুষ জানে, সুরভির বাইশ সপ্তাহের বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেল। আর আমি জানি আমার কত কি নষ্ট হয়ে গেল। নার্সরা কানের কাছে গুনগুন করছিল, এই বয়সে হিস্টারেকটমি! শব্দটি আমার কানে খট করে লেগেছিল। এই শব্দটি আমার কাছে পরিচিত।

গতবছর পারভীন আপাকে ধানমন্ডির আভিসিনা হাসপাতালে দেখতে যেয়ে প্রথম হিস্টারেকটমি শব্দটি শুনেছিলাম। আপার সিস্ট থাকায় জরায়ু ফেলে দিতে হয়েছিল। হাসপাতালের বেডে আপার রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে মুখে তখনও কেমন বিষণ্ন একটা হাসি ছিল, ‘বল তো সুরভি ভালই হল, এখন থেকে আর মাসে মাসে ঝামেলা নেইরে, বেঁচে গেলাম।’ আমিও বেঁচে গেলাম। তবে আমার বাচ্চাটা বাঁচলো না।

প্রচলিত ভাষায় বাচ্চা নষ্ট করা বা হয়ে যাওয়ার বিষয়টা একটা দম্পতি গোপন রাখে বা রাখার চেষ্টা করে। তবু আমার বিষয়টা কেমন বারুদের আগুনের মতো চারপাশে ছড়িয়ে গেছে। হয়তো হাসান রক্তের জন্য পরিচিত সকল সোর্স ব্যবহার করেছিল বলে। অবশেষে শ্যামল মামা, ত্বকী, তুষারদা আর কোমল ভাই এর চার ব্যাগ রক্ত আমার শরীরে ঢুকে গেল। ত্বকী আমার ছোট ভাই আর কোমল ভাই হাসানের কলিগ। তবে তুষারদাকে আমার কেবিনে দেখে আমি চমকে গিয়েছিলাম। তুষারদা বহুবছর আমার নানাবাড়ির ভাড়াটিয়া ছিল। নানাবাড়ি গেলেই মাকে বলতে শুনেছি,‘ কি যে করেন না আব্বা! বাড়িতে হিন্দু তুলছেন। বাড়িতে ঢুকলেই পুজা পুজা গন্ধ!’ নানা মার কথা কানে তো তুলতোই না বরং মার সামনে নারকেল, তিলের নাড়ু এনে বলতো, তুষার দিয়েছে খা। মায়ের চেহারা তখন দেখবার মত হতো। সেই মা সেদিন হাসপাতালের বেডে তুষারদার হাত চেপে বসেছিল।

আমার ভাবনায় ছেদ পড়ে। মা আর শিলার মার গলা শোনা যাচ্ছে। তার মানে সকাল হয়ে গেছে।
-আইজাতো হাতে নাতেই প্রমাণ হইলো। আমার মাইয়ার সংসার কেমন ভাসায় দিতাছ।
-বার বার এক কথা কইবেন না, এই লবণ আমি ফেলি নাই।
-ও তুমি ফেলো নাই? আমি ফেলছি? সকালে ভাত খাওয়ার সময় এক খাবলা লবণ তুইলা কে খায়? আমি খাই, আমি?
-আমি কি আপনার ভাত খাওনের সময় খাড়ায় থাকি?
-তার মানে হইল এই লবণ আমি ফেলছি, শিলার মা তোমার সাহস তো কম না। সুরভি আইজ উঠুক, দেখমু তোমার এত চোপা কেমনে থাকে।
-চোপা আমি করি নাই খালাম্মা, আমার চোপা করনের টাইম নাই, আমি আরও দুই বাড়ি কামে যামু। আমি বইয়া খাই না।
-মানে কি? আমি বইয়া খাই? আমি চোপা করি?

দুজনের গলা ক্রমশ চড়া হচ্ছে। সকালে মায়ের প্রথম কাজ হল শিলার মার সাথে কিছু একটা নিয়ে ঝগড়া বাঁধানো। ভিমবার গলে যাচ্ছে, একগাদা ডিটারজেন্টে কাপড় ভিজানো হয়েছে, মাছ কাটা ঠিকমত হয় নাই, ধোয়া শাক বালি বালি লাগে ইত্যাদি যেকোন বিষয় নিয়ে শিলার মা আর মায়ের বাদানুবাদ শোনা যায়।
মা আমার সাথে আছে গত দু’বছর ধরে। বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক সাধাসাধি করলেও আমার সাথে মা আসতে চায়নি। আস্থাকে স্কুলে দেবার পর নিজে থেকেই হঠাৎ একদিন আমাকে ফোনে বলেছিল, ‘আমারে নিয়া যা একা থাকতে পারি না। আমার ভয় করে।’

সেই থেকে মা আমার সংসারেই আছে। আমিও নিশ্চিন্ত সংসার মায়ের উপর ছেড়ে দিয়ে। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা বেশ খিটমিটে স্বভাবের হয়ে গেছে। অপর্ণা সেদিন বলছিল, মার মেজাজ বিগড়ানোর কারণটা শারিরীক। মেনোপোজের আগে পরের সময়গুলো কি এমনই যায়? নাকি নিঃসঙ্গতা মাকে কাবু করে ফেলছে? তা না হলে তুচ্ছ সব বিষয়গুলোকে কেন এত বড় করে দেখছে?
মাকে অনেকবার বলেছি, কাজের বুয়ার পিছনে লেগে থাকবে না। ঢাকা শহরে মানুষ চলে গেলে আর পাব না। মা খুবই রুক্ষ্ম গলায় আমাকে উত্তর দিয়েছিল, ‘আমারে শহর চিনাইস না। আমি তগো মতন কাজের মাইনষের ঠ্যাং ধইরা থাকতে পারব না। তুই ক আমি তাইলে বাড়ি চইলা যাই। নাইলে আমারে আমার মত থাকতে দে।’

দু’জনের গলা ক্রমশ চড়া হচ্ছে। আস্থা হৈচৈ শুনে উঠে পড়েছে। আমি রান্নাঘরে যাই। শিলার মাকে ধমক দিয়ে মায়ের হাত ধরে মায়ের ঘরে আনি। আমার দিকে একবার আগুন চোখে তাকিয়ে নিজের বিছানায় টান টান হয়ে শুয়ে পড়ে। এখন মাকে আর কিছু বলার যাবে না, বিছানা থেকে তোলাও যাবে না। একটু পর নিজে থেকেই উঠবে। রান্না করবে, ঘর গুছাবে আর আস্থাকে আরবি হরফ শেখাবে। আজ শুক্রবার। অফিস নেই। মেয়ে আর বাবা বেলা করে ঘুমোবে। আস্থা বিছানায় উঠে বসেছে।
-কি রে উঠে গেলি যে? আজ তো শুক্রবার, এত তাড়াতাড়ি বাবা-মেয়ের উঠলে কি চলে?
আস্থা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আমার কি যেন বোঝার চেষ্টা করছে। খানিকক্ষণ ইতস্তত করে আস্থা বলেই ফেললো,
-আর ঘুমাবো না। মন খারাপ। মা একটা কথা বলি?
-বল, কি বলবি?
-মা আমি একটা চিঠি লিখেছি। কাল রাতে লিখেছি। বালিশের নিচে আছে। বাবাকে লিখেছি।

আমি অবাক হই না। বাবা বা নানীর উপর আস্থার রাগ বা অভিমান হলেই সে ড্রয়িং খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে চিঠি লিখে ফেলে। যে চিঠির প্রথম পাঠক আমিই থাকি আর চিঠিটা প্রেরকের হাতে দেওয়ার ডাকপিয়ন আমাকে হতে হয়। আস্থা নার্সারিতে পড়ে। এখনো বাংলা বানান তার পুরোপুরি আয়ত্ত্বে আসেনি। তার তিন লাইনের চিঠিগুলোতে অন্তত তিনটা বানানে আ কার বা ও কার কম বেশি হয়ে যায়।

আজকের চিঠিটা এক লাইনের, ‘বাবা, আমি আর কন দিন তোমার সাথে কথা বলব না।’ যাক আজকের চিঠির ভাষাটা বেশ সহনীয়। পাঁচমাস আগে আস্থা একটা চিঠিতে লিখেছিল, ‘বাবা তুমি মার সাথে জোরে কথা বলেছ। আমার কষটো হয়েছে। তোমার মনের ভেতর মনটা হটাত বদলে গেছে।’ সেই চিঠি পড়ে হাসান তো রীতিমত কান্নাকাটি শুরু করে দিল। তারপর বাবা মেয়ে গলা জড়াজড়ি করে সে কি কান্না।

আস্থার মনঃকষ্টের কারণটা আমি বুঝতে পারি। রাতে ঘুমোবার আগে বাবার ল্যাপটপের কি তে এলোমেলো চাপাচাপি করার কারণে বাবা ওর পিঠে একটা চড় দিয়েছে। হাসান আস্থার গায়ে হাত তোলে না। হঠাৎ হঠাৎ মেয়ের দুষ্টুমিতে ধৈর্যরে বাঁধ ভেঙে গেলে বড় জোর সে একটা চিৎকার করে, যা এখান থেকে! তবে আমি খেয়াল করেছি গত তিনমাসে হাসান প্রায় চারবার মেয়েটাকে মেরেছে।

আস্থার দুচোখের পাঁপড়িতে টলোমেলো কণাজল পড়বার অপেক্ষা করে। কিন্তু পড়ে না। আসলে খুব কষ্ট করে ও জল পড়তে দেয় না। আমার মনটা কেমন করে। মেয়েটা বড় হয়ে যাচ্ছে। আস্থার নিজের ভেতরে নিজেকে চেপে যাওয়ার দৃশ্যান্তরে আমি আঁতকে উঠি। মাগো তুইও কি তবে জীবনের নিভৃত কোণ খুঁজে নিয়ে একাকি দিন কাটাবি? আস্থাকে বুকের মধ্যে নিয়ে শুয়ে পড়ি। মেয়েটাকে বুকের মধ্যে নিয়ে শুলেই বুকটা কেমন হুহু করে ওঠে। আমি আস্থার চুলের মধ্যে আমার নাক ডুবিয়ে দেই। মেয়েটার গায়ে কেমন মিষ্টি গন্ধ। প্রতি মানুষের গায়ের গন্ধ আলাদা। বিয়ের পর এমন সব রাত ছিল যে হাসানের গায়ের গন্ধ ছাড়া ঘুম আসতো না। আর এখন মেয়েটার গায়ের গন্ধে আমি কাতর হয়ে যাই।

সারা রাত ধরে করা সকল পরিকল্পনা আমার ভেস্তে যায়। মেয়েটাকে আরও কাছে টেনে নেই। আস্তে আস্তে আস্থার হাত পা আমার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি আকৃতিতে খাটো। টেনেটুনে চার ফুট দশ ইঞ্চি লম্বা। আর মেয়েটা হয়েছে বাবার মতো। সাতে পড়তে না পড়তেই সে আমার কাঁধ ছুঁয়েছে। তেল দিয়ে কষে দুখানা বেনি করে একটা টিপ দিলেই আয়নার সামনে নিজেকে বারবার দেখবে আর প্রশ্ন করবে, মা আমি এত বড় কেন? মা আমি তো তোমার চেয়েও বড়? আমি হাসি ওর কথা শুনে।

আমার মেয়ে, আমার আস্থা। আমার প্রথম ও শেষ সন্তান! আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর দিনের প্রথম নির্মল পরশ! সাত বছর আগে এ্যানেস্থেসিয়ায় আমার শরীরের নিম্নাংশ অবশ হলেও মস্তিস্ক সকল উম্মুখতা নিয়ে অপেক্ষায় ছিল একটা কোমল শরীরের। আস্থার প্রথম স্পর্শের মিষ্টত্ব আবার আমি ওর কোমল গাল ছুঁয়ে পাই, ‘মাগো, এত অভিমানী হলে বাঁচবি কি করে?’ ওকে বুকে জড়িয়ে পাতালপুরিতে থাকা স্মৃতি হাতড়াতে থাকি।সেই সাথে ধীরে ধীরে শেষরাতে বুকে চেপে বসা খামখেয়ালি আর একাকীত্বের নিবিড় সব অনুভূতি বেশ খানিকটা পেছনে ফেলে আসি।

(চলবে)

ও ময়ূর, পাখা মেলে দাও (১ম পর্ব)


মন্তব্য

মরুদ্যান এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

কৃতজ্ঞতা।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক অনেক ভালো লাগলো লেখা।
সাবলীল। বিষন্ন। গতিময়।

শুভকামনা জানবেন। অনিঃশেষ। সবসময়।

দীপংকর চন্দ

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

আপনিও শুভকামনা জানবেন। অশেষ ধন্যবাদ।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

গৃহবাসী বাউল এর ছবি

চলুক পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

-----------------------------------------------------------
আঁখি মেলে তোমার আলো, প্রথম আমার চোখ জুড়ালো
ঐ আলোতে নয়ন রেখে মুদবো নয়ন শেষে
-----------------------------------------------------------

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকুন।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

রংতুলি এর ছবি

মন খারাপ বিষণ্ণতা মাখানো... ভেতরে ছোট্ট একটা প্রাণ ধরে রাখতে না পারার কষ্ট চাইলেও সহজে ভোলা যায় না... হয়ত বাইরে থেকে বোঝা যায় না, বাস্তবে শরীরের চেয়ে মনের নির্জীবতা কাটিয়ে ওঠা অতো সহজ হয় না। এর থেকে পালিয়েও পালানো যায় না, এ স্মৃতি চাইলেও মুছে ফেলা যায় না... ঘুরে ফিরে দেখা হয়ে যায় বারবার... ডাক্তাররা এটাকে খুব স্বাভাবিক ও কমন একটা ঘটনা হিসেবে দেখে - ৪০% মেয়ে জীবনে কখনো না কখনো মিসক্যারেজের মুখোমুখি হয়, স্যায়েন্টিফিকালি পজেটিভও, আনফিট ফিটাস আমাদের বডি একসেপ্ট করে না, আর মানুষ বলে দ্রুত পুনরায় কোল ভরে গেলে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় - আসলেও কি তাই? প্রতিটা সন্তানের মতো, প্রতিটা সন্তান ধারণের অনুভূতিটুকুও তো অনন্য; একটার জায়গা আরেকটা কি নিতে পারে কখনো?!

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

আপনার মন্তব্যটি আমার লেখার একটা অংশই যেন। সত্যিই এই অনুভূতির ভাগটা সেই বিষণ্ন মায়ের মনে একান্ত নিভৃত কোণে লুকিয়ে থাকে। যারা আমার লেখায় এসেছে, তারা আমার কাছের মানুষ বা সহকর্মী, কখনো বা আমি। যাদের আমি দেখেছি দিনের ব্যস্ততার ফাঁকে আড়ালে ঠিকই একবার চোখ মুছে নেন নতুবা জমাট আড্ডায় হঠাৎ একাকী হয়ে যান। কেউবা সেই অজাত সন্তানের গন্ধ খুঁজে বেড়ান, আজ ষোল বছর পরেও এক মা সেদিন বলল, আমার প্রথম বাচ্চাটা বেঁচে থাকলে আজ ওর জন্মদিন হতো। এ কান্না শুধু মায়ের, এ অনুভূতিও তার একান্ত নিজের।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

Sohel Lehos এর ছবি

কেন সুইসাইডের চিন্তা করতে হবে? কেন? একটি শিশু দশ মাস ধরে নানা সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলে শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে না এসে হয়তো কষ্টকর এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়ে গেছে, কিন্তু অন্য আরেকটি শিশু (আস্থা) তারও অনেক বেশি কাল ধরে নিষ্পাপ আনন্দ এবং ভালবাসা বাবা/মা/পরিবার/সমাজ/পৃথিবী কে দেয়নি?

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালি করো না। এসো এ বাহুডোরে।

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

গল্পটি এখনো শেষ হয়নি সুপ্রিয় Sohel Lehos। সামনে কি হয় জানি না। হয়তো আগামী পর্বেই শেষ। আসলে বেশির ভাগ মানুষই কেন যেন জীবনে একবার বা একটা সময়কাল ধরে সুইসাইডের কথা ভাবে (আমার অভিজ্ঞতা বলে)। আর আমি তো বাস্তবের সুরভির বেদনা ফুটাতেই পারছি না। সেটা সম্ভব না। ওকে বাঁচাতে যেয়ে একটা হার্টবিট থাকা দেবশিশুকে অজাতই রাখতে হল বা ডাক্তারকে রিমুভ করতে হল, প্লাসেন্টা মূত্রনালীতে চেপে থাকায় অপারেশন পরবর্তী চৌদ্দদিনের ক্যাথাডার লাগানো দাঁড়ানো জীবন, মূত্রনালীর সমস্যার সাথে সাথে জরায়ুর অনুপস্থিতি, হাই ব্লাড-প্রেসার, এনাল ফিসারের মত বয়ে বেড়ানো অসুস্থতা, ইনসমনিয়া, সুরভির প্রজনন অক্ষমতার সাথে সাথে দাম্পত্য জীবনের নির্লিপ্ততা, স্বামীর পর্নসাইট আসক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি। গল্পের আড়ালে জীবনের সীমাহীন অন্ধকারকে হারিয়ে সুরভিরা তবু আস্থাদের শরীরের গন্ধ নিয়েই যেন বেঁচে থাকে। কৃতজ্ঞতা রইল।
(গতকাল আপনাকে জবাব দিয়েছিলাম, আজ দেখি নেই। বোধ হয় ঠিকমত পোস্ট দিতে পারিনি।)

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

ভালো লেগেছে। চলুক চলুক

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

সীমাহীন ধন্যবাদ।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

ছবিটা দেখে আমি কেঁদেছি। অসাধারণ। কৃতজ্ঞতা।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

মেঘলা মানুষ এর ছবি

আপনার লেখা পড়ে এই ছবিটার কথা মনে পড়ল অনেকদিন পর: উৎস

মর্ম এর ছবি

নতুন শিশু আসার খবর পেলে অনেক দিন হল ও আসার আগেই ওর মা বা বাবাকে সচলায়তনের 'বর্তমানে প্রাক্তন লেখিকা' দিহান- এর 'আ ম্যাজিক্যাল জার্নি' পড়তে দিই। কদিন আগে এক কলিগকে এ লেখাগুলো পাঠাব ভাবছি, খবর পেলাম তার মিসক্যারেজ হয়েছে। মন খারাপ হল, আর পাঠাইনি। কিছু অভিজ্ঞতা ঠিক সান্ত্বনা দেয়ার না।

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

দুপুরে পড়লাম, 'আ ম্যাজিক্যাল জার্নি'। লেখাটা পড়বার সুযোগ করে দেয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আপনার কলিগের জীবন ময়ূরের রঙে রঙিন হয়ে উঠুক।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অতিথি লেখক এর ছবি

তোমার এই গল্পের প্রথম পর্ব টা খুব সাবলীল লেগেছিল যা দ্বিতীয় পর্বে অমন করে পেলাম না। তবে চিঠির অংশটা মজার। তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেল গল্পটা না হলে লেখাটা আলোর মুখ দেখবে না !

অপর্ণা মিতু

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

তুমি তো জানো একটা লেখা নিয়ে আমি কি পরিমাণ ভাবি। আর সচলে কিছু পোস্ট করার আগে আরো ভাবতে হয়। শেষ পর্ব লিখেছি। কিন্তু মন ভরছে না। ফেলে রেখেছি। হঠাৎ বেদনার ঘড়া পূর্ণ হলে আবার বসবো। আর আমি জানি তুমি আমার গল্পটির অপমৃত্যু ঘটতে দিবে না। তুমিও একটা লেখা পোস্ট দাও।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অতিথি লেখক এর ছবি

যা লিখেছ তাহলে পড়তে দিও। এখানে লেখার নিয়ম কানুন গুলো কঠিন লাগে। বুঝে উঠতে পারছি না। একটা গল্প অবশ্য পোস্ট দিয়েছিলাম। সম্ভবত বেশি বড় ছিল লেখাটা, কেন আসেনি বুঝিনি। নতুন কিছু লেখা হয়ে ওঠেনি আর ব্যস্ততায় অন্যদের লেখা যেহেতু পড়ার সময় পাচ্ছি না সে হিসেবে নিজে পোস্ট দেয়াটা ভালো দেখাবে না। ভালো থেকো বন্ধু

--- অপর্ণা মিতু

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

পড়তে থাকো, মন্তব্য করতে থাকো। সহজবোধ্য হবে। ফোন দিয়েছিলাম, ধরোনি।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

গান্ধর্বী এর ছবি

অনেকদিন পর সচলে এলাম। আপনার এ পর্বটি পড়ব পড়ব করে পড়া হয় নি। আজ খুঁজে বার করে পড়ে ফেললাম। এত মায়া আপনার লেখনীতে! আর গল্প ছুঁয়ে যাচ্ছে মন, এর বেশি কিছু বলতে পারছি না ভাই।

অনেক শুভকামনা রইল।

------------------------------------------

'আমি এখন উদয় এবং অস্তের মাঝামাঝি এক দিগন্তে।
হাতে রুপোলী ডট পেন
বুকে লেবুপাতার বাগান।' (পূর্ণেন্দু পত্রী)

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

অশেষ কৃতজ্ঞতা সুপ্রিয় গান্ধর্বী। কিন্তু আপনি কোথায় হারালেন? আমি আসবার পর আপনার নতুন লেখা পাইনি কিন্তু! তাড়াতাড়ি লেখা দিন।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

আয়নামতি এর ছবি

কিছু অনুভূতি বুঝিবা এমনই, বিনা অভিজ্ঞতাতেও কেমন বিষাদের তারে আঙ্গুল পড়ে যায়।
বুকে ব্যথা জেগে ওঠে! ভাইরে, আপনার এই পর্বটা মনে কেমন করে বাজলো জানি!

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

পাঠে কৃতজ্ঞতা। এই লেখাটা আমার খুব বিশেষ আদরের লেখা। তাই কিছুতেই শেষ করতে পারছি না। বসলে শুধু লিখতেই ইচ্ছে করে।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অতিথি লেখক এর ছবি

! আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর দিনের প্রথম নির্মল পরশ........
anne masud

গৌতম হালদার এর ছবি

অসাধারণ লেখা।
অপেক্ষায় থাকলাম।

গৌতম হালদার

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।