অজ্ঞতা নাকি মিথ্যাচার? মাদ্রাসা শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপত্তি প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খানের বানোয়াট বক্তব্য

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: শনি, ২৭/১১/২০২১ - ১:২৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কিছুদিন আগে সলিমুল্লাহ খানের মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপত্তি সম্পর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও দেখেছিলাম (লিংক নিচে)। ডয়েচেভেলেতে দেয়া ইন্টারভিউতে খান সাহেব বলেছেন, "মাদ্রাসা শিক্ষাকে নকল করে ইউরোপের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে", "অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ ইউরোপের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা, সিস্টেম, পরীক্ষা পদ্ধতি- সবকিছু এসেছে মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে"। সলিমুল্লাহ খান এ সম্পর্কিত একটি রেফারেন্সও আমাদের দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এডওয়ার্ড সাইদের লেখার মাধ্যমে জেনেছেন জর্জ মাকদিসির বই সম্পর্কে যেখানে নাকি এই কথাগুলো বলা হয়েছে। তিনি মাকদিসির লেখা দু'টো বইয়ের নামও উল্লেখ করেছেন- Edinburgh University Press থেকে ১৯৮১ সালে প্রকাশিত The Rise of Colleges: Institutions of Learning in Islam and the West এবং ১৯৯০ সালে প্রকাশিত The Rise of Humanism in Classical Islam and the Christian West: With Special Reference to Scholasticism। ভিডিওতে সলিমুল্লাহ খান বলেছেন তিনি মাকদিসির বই পড়েছেন এবং এখানে 'মাদ্রাসা শিক্ষাকে নকল করে ইউরোপের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে' তা বলা আছে।

জর্জ আব্রাহাম মাকদিসি একজন খ্যাতনামা প্রাচ্য গবেষক ও আরবী ভাষার অধ্যাপক। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ায় তিনি আরবী ও প্রাচ্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়া তিনি দুইবার গুগেনহাইম ফেলো এবং উত্তর আমেরিকার মিডল ইস্ট স্টাডিজ এসোসিয়েশনেরও প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে হিসেবে বলা যায় তিনি এ বিষয়ে একজন অথরিটি এবং তার লেখা বইয়ে যদি এ ধরনের কোন বক্তব্য থাকে যা সলিমুল্লাহ খান উল্লেখ করেছেন তা অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। মাকদিসির দু'টো বইয়ের মধ্যে The Rise of Colleges বইটি বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় সেটি সংগ্রহ করে পড়ে দেখলাম; কিন্তু সলিমুল্লাহ খান ভিডিওতে যা বলেছেন তন্নতন্ন করে খুঁজেও তা কোথাও পাইনি। বরং মাকদিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভব প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খানের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য বইতে উপস্থাপন করেছেন! নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো-

"The Rise of Colleges" বইয়ের চতুর্থ অধ্যায় "Islam and the Christian West" এ ২২৪ পৃষ্ঠায় এ মাকদিসি লিখেছেন-

"The university is a form of social organization produced in the Christian West in the second half of the twelfth century. As such, it was not the product of the Greco-Roman world. Nor did it originate from the cathedral or monastic schools which preceded it; it differed from them in its organization and in its studies. The works of H. Denifle and H. Rashdall have made this quite clear. Furthermore, the university, as a form of organization, owes nothing to Islam. Indeed, Islam could have nothing to do with the university as a corporation." (Makdisi, p. 224).

অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় যে ধরনের সামাজিক সংগঠন বা কর্পোরেশন তার সাথে ইসলাম ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। এটি পুরোপুরি দ্বাদশ শতকে পশ্চিমা খ্রিস্টানদের দ্বারা তৈরি। বইয়ের আরো বিভিন্ন জায়গায় মাকদিসি উল্লেখ করেছেন "..the concept of the university as a corporation was foreign to Islam.." (e.g. p. 237).

এছাড়া মাকদিসি Studia Islamica জার্নালে প্রকাশিত তার "Madrasa and University in the Middle Ages" প্রবন্ধে পরিস্কারভাবে ব্যাখা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে ইউরোপে গড়ে উঠেছে এবং কেন মুসলিমদের হাতে তা হয়নি। কর্পোরেশনের যে গঠনতন্ত্র তা ইসলামী আইনে স্বীকৃত নয় এবং এমন কোন ধারণাও ইসলামে নেই যার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে পারে। প্রবন্ধটিকে অনেকটা মাকদিসির বইয়ের সারমর্ম বলা যেতে পারে।

There is another fundamental reason why the university, as it developed in Europe, did not develop in the Muslim East. This reason is to be found in the very nature of the corporation. Corporations, as a form of social organization, had already developed in Europe. Their legal basis was to be found in Roman Law which recognized juristic persons. Islamic law, on the other hand, does not recognize juristic persons. It recognized the physical, natural person as the only juristic person; and therefore, a corporation, as a fictitious legal person, as an entity with interests recognized and secured by the law, as a group which, in the contemplation of the law, has an existence independent of its individual members, such an entity is totally foreign to Islamic law and to the Islamic experience in the middle ages. (Madrasa and University in the Middle Ages, Studia Islamica, No. 32, 1970, pp. 255–264)

জর্জ মাকদিসির 'Rise of Colleges' বইটি তাহলে কি নিয়ে? শিরোনামে যা আছে বইটি সেই কলেজ নিয়েই। দশম ও একাদশ শতাব্দীতে মূলত মাদ্রাসাগুলো মসজিদের পাশে বিত্তবানদের অনুদানে 'ওয়াকফ' বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছিলো কোরান এবং ইসলামী আইন শিক্ষার জন্য। মাকদিসি বলেছেন ইউরোপে দ্বাদশ শতাব্দীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন পশ্চিমা খ্রিস্টানদের হাতে 'কর্পোরেশন' এর কনসেপ্টে গড়ে ওঠে তখন দরিদ্র ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যেমন অক্সফোর্ড এর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ার কোন সুযোগ ছিলো না। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অনুদানে দরিদ্র, মেধাবী ছাত্রদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় যার ফলে দরিদ্ররাও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের অনুদানে মেধার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায় (যেমন অক্সফোর্ডের Merton College)। মাকদিসির মতে ইসলামী বিশ্বে 'ওয়াকফ' বা দাতব্য হিসেবে যে মাদ্রাসাগুলো গড়ে উঠেছিলো সেখান থেকে ধারণা নিয়ে ইউরোপে এই অনুদানভিত্তিক কলেজগুলি প্রতিষ্ঠা হয়। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষার ও শিক্ষকদের যে বিভিন্ন স্তর ও পদমর্যাদা রয়েছে তার সাথে কলেজের একাডেমিক পরিমন্ডলের বিভিন্ন মিল রয়েছে সেটাও মাকদিসি দেখিয়েছেন।

তবে মাকদিসি বলেছেন কলেজগুলো মাদ্রাসা থেকে ধারণা নিয়ে সম্ভবত গড়ে উঠলেও ইসলামিক মাদ্রাসার দ্রুত পতন ঘটেছে এবং এখন তা স্থবির। পক্ষান্তরে, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো (বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ কলেজ) গতিশীল এবং দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসংহারে মাকদিসি এর তিনটি প্রধান কারণও উল্লেখ করেছেন- ১) মাদ্রাসায় শুধু এক ধরনের প্রক্রিয়া বিদ্যমান যা ওয়াকফ বা দাতব্য সেবা, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে কর্পোরেশন এবং দাতব্য দুই ধরনের প্রক্রিয়ার সমন্বয় রয়েছে। ২) মাকদিসি মাদ্রাসার এই ওয়াকফ বা 'ডেড-হ্যান্ড' মালিকানাকে স্থবির বলেছেন এবং পশ্চিমা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াকফের সুবিধা কর্পোরেশনের মাধ্যমে বহুগুণে বাড়িয়ে এটা গতিশীল করে তুলেছে বলেছেন। ৩) মাদ্রাসা দ্রুত পতনের মূল কারণ হিসেবে মাকদিসি বলেছেন ইসলামী বিশ্বে মানুষের চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা হরণ যাকে তিনি বলেছেন "closing of the gate of ijtihad", পক্ষান্তরে একই সময়ে ইউরোপে রেনেসাঁর উন্মেষ পশ্চিমা বিশ্বকে এগিয়ে নিয়েছে।

আমরা জানি, অ্যাপিল টু অথরিটি (Appeal to Authority) এক ধরনের লজিক্যাল ফ্যালাসি যার মাধ্যমে কোন অথরিটি অমুক বক্তব্য দিয়েছেন তাই এটি সত্য- এ ধরনের কুযুক্তির মাধ্যমে কোন বক্তব্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা করা হয়। সাধারণত অথরিটি হয়ত অন্য কোন বিষয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন, কিন্তু ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে আরেক বক্তব্যের সমর্থনে তার নাম ব্যবহার করা হয়। সলিমুল্লাহ খানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো গুরুতর, কারণ জর্জ মাকদিসি যা বলেননি তাই সলিমুল্লাহ খান মাকদিসির নামে চালিয়ে দিয়ে তার নিজস্ব বক্তব্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। মিডিয়াতে প্রচারিত মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভব সম্পর্কিত সলিমুল্লাহ খানের বক্তব্য তাই অসত্য ও প্রপাগাণ্ডামূলক।

পুনশ্চ- সলিমুল্লাহ খান আরো একটি ভুল তথ্য দিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, নিজাম-উল-মূলক নামে একজনের অধীনে পারস্যে মাদ্রাসার সিলেবাস তৈরি হয়েছিলো এজন্য একে 'দারসে-নিজামিয়া' বলে। আসলে 'দারসে-নিজামি' তৈরি করেছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভারতের উত্তর প্রদেশের সিহালি গ্রামের নিজামউদ্দিন সিহালভি। নিজাম-উল মূলক বাগদাদ ও নিশাপুরে দশম ও একাদশ শতাব্দীতে সেলজুক পিরিয়ডে মাদ্রাসা স্থাপন করেছিলেন। নিজাম-উল-মূলকের সাথে দারসে-নিজামির কোন সম্পর্ক নেই।

ছবি: 
31/10/2007 - 3:50পূর্বাহ্ন

মন্তব্য

বাহার এর ছবি

সলিমুল্লাহ সাহেব যদি বলে থাকেন যে তিনি এডওয়ার্ড সাইদের লেখা পড়ে জেনেছেন যে জর্জ মাকদিসি এমন কিছু বলেছেন, তাহলে আমরা দুইটা সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করতে পারি।

১. এডওয়ার্ড সাইদ জর্জ মাকদিসির কথা বুঝেন নাই।
এবং/অথবা
২. সলিমুল্লাহ সাহেব এডওয়ার্ড সাইদের কথা বুঝেন নাই।

প্রথম সম্ভাবনাটা আমরা বাতিল করতে পারি, যেহেতু এডওয়ার্ড সাইদ এই কথা বললে পশ্চিমা পন্ডিতগণ প্রবন্ধের চিমটি দিয়ে তার ওরিয়েন্ট পাকাপাকি লাল করে দিতেন। তাছাড়া সাইদ সাহেব পন্ডিত মানুষ, ইংরাজিও ভাল জানতেন।

তাহলে হাতে থাকে দ্বিতীয় সম্ভাবনা, যে সলিমুল্লাহ সাহেব সাইদ সাহেবের কথা বুঝেন নাই। এটা ঘটতে পারে, কারণ সলিমুল্লাহ সাহেব ইংরাজিতে দিগগজ এমন কোন উদাহরণ বা প্রমাণ আমাদের হাতে নাই। উনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, সেখানে ইংরাজি ডিপার্টমেন্টে কিছুদিন ক্লাশ করলে সবারই উপকার হবে।

মন মাঝি এর ছবি

৩য় আরেকটা সম্ভাবণা আছে যেটা আপনি উল্লেখ করেননি কিন্তু আমার কাছে সেটাি বরং অনেক বেশি সম্ভাব্য মনে হচ্ছে। এই ৩য় সম্ভাবণাটা কি??? এটা হলো --

৩। সলিমুল্লাহ সাহেব এডওয়ার্ড সাইদের কথা ঠিকই বুঝেছেন!! কিন্তু... চোখ টিপি
৪। তাছাড়া ঐ ভিডিওতেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে উনি মাকদিসির বইটাও পড়েছেন। অর্থাৎ সাঈদের রেফারেন্স অনুসরণ করে উনি মূল বইটাও পড়ে নিয়েছেন। অর্থাৎ পরের মুখে ঝাল খেয়ে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নাই এখানে। আর উনি ইংরেজি কারও চেয়ে কম বোঝেন এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমেরিকায় থেকে পিএইচডি করা মানুষ, এবং একজন পণ্ডিত মানুষই বৈকি, আমার মত ইংরেজির ইং-ও না বোঝা মানুষ যেটা বুঝতে পারে সেটা বুঝবেন না এমনটা আমি আমার সুদূরতম কল্পনাতেও জায়গা দেই না!! তাহলে কেন??? এইখানেই ৩য় সম্ভাবণাটা দেখা দেয়!!! এই সম্ভাবণাটা কি আমি ব্যাখ্যা করব না, তবে এটুকু বলি - বুঝা আর বুঝানো এক জিনিস না!!!

****************************************

তানভীর এর ছবি

কথা বোঝার চাইতেও যে ব্যাপারটা উনি করেন ওনার নিজস্ব মতামত অমুক বিখ্যাত ব্যক্তি এমনটা বলেছেন এভাবে চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করেন যেখানে ঐ ব্যক্তির বক্তব্য হয়ত এর ধারেকাছেও নেই। শুধু ইংরেজির ক্ষেত্রে নয়, বাংলাতেও উনি এমনটা করেন। সলিমুল্লাহকে অনেকে 'ছফাবিশেষজ্ঞ' বলে। কিন্তু উনি নিজের বক্তব্য ছফার বক্তব্য হিসেবে বেশ চতুরতার সাথে উপস্থাপন করে নিজের ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেন। একটা উদাহরণ দিচ্ছি। একাত্তর সংযোগের এই ইন্টারভিউতে তিনি ছফার 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধের পটভূমি বলেছেন (৩৩ মিনিট থেকে) একটা গল্প দিয়ে যেটা ছফা তাঁর 'যদ্যপি আমার গুরু'তে উল্লেখ করেছেন (পৃঃ ৫৫)।

সলিমুল্লাহ এখানে নিজের মতো আরো নানা গল্প ফেঁদেছেন 'আবুল ফজল সারাজীবন মানবতন্ত্র করেছেন, মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন, মাদ্রাসায় পাশ করে বড় বুদ্ধিজীবি হয়েছেন, টঙ্গী ইজতেমায় যাচ্ছেন' ইত্যাদি। অথচ ছফা পরিস্কার তাঁর বইয়ে লিখেছেন 'আবুল ফজল সাহেব নাস্তিকতা প্রচার করতেন। ক্ষমতার কাছাকাছি এসে তিনিও নবীভক্ত হয়ে পড়েছেন' (যদ্যপি আমার গুরু, পৃ ৫৫)। মাদ্রাসা নিয়ে কোন কথা ছফা উল্লেখ করেন নি, টঙ্গী ইজতেমায় যাওয়ার কথাও বলেন নি। রমনা ময়দান দিয়ে হেঁটে সিরাতের মজলিশে যাওয়ার কথা বলেছেন।

'সীরাতের মজলিশ' সম্পর্কে নেটে/ফেসবুকে পেলাম-

"সীরাত মজলিশ প্রতিষ্ঠা: বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় সীরাত মজলিশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সীরাত মজলিশ ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে রবিউল আউয়াল মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর আঙ্গিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। সরকারপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন।"

সলিমুল্লাহ খান আহমদ ছফাকে মুসলিম বুদ্ধিজীবি হিসেবে সবসময় পরিচয় করিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। অথচ 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধে ছফা বাঙালী মুসলমানদের যে বাঁশ দিয়েছেন, তাতে 'মুসলিম বুদ্ধিজীবি' হিসেবে ছফাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া ছফা ও মুসলমান উভয় পক্ষকেই অপমান করার শামিল। কিন্তু সলিমুল্লাহ তার ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার জন্য ছফা যা বলেন নি, তাই ছফার নাম দিয়ে উপরের উদাহরণের মতো করে উপস্থাপন করেন। মাকদিসির বইটিও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়।

উল্লেখ্য, মাকদিসি তাঁর বইতে পশ্চিমের কলেজগুলো (বিশ্ববিদ্যালয় নয়) যে মাদ্রাসার অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার কোন দালিলীক প্রমাণ দেন নি, বইয়ের কোথাও কোন তথ্যপ্রমাণ নেই, পুরোটাই তাঁর অনুমিতি বা ধারণা। যেহেতু মাদ্রাসা কলেজের আগে স্থাপিত হয়েছে, তাই তিনি ধারণা করেছেন কলেজের কনসেপ্ট হয়তো মাদ্রাসার আদলে তৈরি হয়েছে এবং দু'টোর তুলনামূলক চিত্র তিনি বইতে উপস্থাপন করেছেন। কিছুক্ষেত্রে এগুলো যে একটু কষ্টকল্পনা তা মাদ্রাসা এবং পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তাদের বোঝা দুঃসাধ্য নয়। তাছাড়া কলেজ এখন খুব কমই ওয়াকফ বা চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ই এখন কর্পোরেট/প্রফিট এবং চ্যারিটি উভয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় যা মাদ্রাসা থেকে ভিন্ন। বইতে মাকদিসি মাদ্রাসা সম্পর্কে যে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা হরণ বা ইজতিহাদের বিলোপের কারণে মাদ্রাসার দ্রুত পতন হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা যে বহুদিন যাবত ঘুণেধরা ও স্থবির- তা সলিমুল্লাহ খান এড়িয়ে গেছে। পক্ষান্তরে তিনি দাবী করেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা উন্নত ও ভালো!

মন মাঝি এর ছবি

কথা বোঝার চাইতেও যে ব্যাপারটা উনি করেন ওনার নিজস্ব মতামত অমুক বিখ্যাত ব্যক্তি এমনটা বলেছেন এভাবে চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করেন যেখানে ঐ ব্যক্তির বক্তব্য হয়ত এর ধারেকাছেও নেই...
কিন্তু সলিমুল্লাহ তার ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার জন্য ছফা যা বলেন নি, তাই ছফার নাম দিয়ে উপরের উদাহরণের মতো করে উপস্থাপন করেন।

আমিও তো সেটাই বলেছি!!! দেঁতো হাসি

বুঝা আর বুঝানো এক জিনিস না!!!

অর্থাৎ উনি বুঝেন এক জিনিস আরে বোঝান আরেক জিনিস! এই বুঝা আর বুঝানোর মাঝখানে যে গ্যাপটা সেটা উনার ইচ্ছাকৃত বলেই মনে হয়!

****************************************

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

কিছুদিন আগে এক সহব্লগারের একটি পোষ্টে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেছিলাম, এখানে আবার করি। সলিমুল্লাহ সাহেব এবং জাকির নায়েকের মধ্যে একটি বিষয়ে বেশ মিল আছে। দুজনই তাদের বক্তৃতায় পাশ্চাত্যের নানা বিখ্যাত পণ্ডিত ব্যাক্তিবর্গের উক্তি, লেখা ইত্যাদির উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। শ্রোতামণ্ডলীর মাঝে একরাশ মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে, না, সেই সকল বিখ্যাত ব্যাক্তির উক্তি শুনে নয়, নায়েক কিংবা খান সাহেবের প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং তীক্ষ্ণ মেধার পরিচয় পেয়ে। একসময় ধরা পড়েছিল, নায়েক সাহেবের সেইসব উদ্ধৃতি এক ধরনের স্টান্টবাজী তথা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেল তার উদ্ধৃত কেউ হয়ত সেরকম কিছু বলেনই নি, তিনি যেমনটা উল্লেখ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে অবস্থা আরও গুরুতর, উদ্ধৃত ব্যাক্তিরই কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। আশঙ্কা ছিল, খান সাহেব না আবার নায়েক সাহেবের মত ধরা খেয়ে যান। সেই আশঙ্কাই অবশেষে সত্য হল। চিন্তিত

মন মাঝি এর ছবি

জোকারের সাথে ইনার মিল যেমন আছে, পার্থক্যও বোধহয় আছে। জোকার যেমন স্পষ্টভাবেই একবগ্‌গা উদ্দেশ্য-প্রণোদিত কোটেশন-সর্বস্ব অগভীর ওয়ান-ডাইমেনশনাল তালপাতার সেপাই -- যার সর্বত্র এবং সর্বক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত একটাই মাত্র বক্তব্য, ইনি হয়তো অতটা একমুখী বা একমাত্রিক তালপাতার সেপাই না। অন্তত আপাতদৃষ্টে। কারন ইনার বিভিন্নিমুখী বক্তব্য আছে বিভিন্ন আলোচনায়, যদিও কিছু জিনিস একটু বেশি-বেশি প্রমিনেন্টলি রিপিট করেন উনি আর কিছু কিছু একটু বা বেশ কম। এখান থেকে উনার বায়াসটা অনুমান করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা কি নিশ্চিত বা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়? আমি পুরোপুরি নিশ্চিত না ওনার আসল স্ট্যান্ডটা কি সামগ্রিক ভাবে। সলিমুল্লাকে আমার এজন্য জোকার থেকে অনেক বেশি কমপ্লিকেটড এবং কনফিউজিং মনে হয়। তবে একটা বিষয় বোধহয় বলা যায়, ছিলিমোল্লা প্রচুর কোটেশন দিলে্‌ও বা "এ্যাপিল টু অথোরিটির" ফ্যালাসি প্রয়োগ করলেও সেসব জোকারের মত অতটা মুখস্থবিদ্যা-সর্বস্ব এবং তোতাপাখির মত মাইন্ডলেস লাগে না শুনতে। তার রেফারেন্সগুলি এবং বক্তব্য ঠিক হোক বা ভুল, আলোচ্য প্রসঙ্গে তার সেই বক্তব্য সাধারণত যথেষ্ঠ meaty থাকে এবং শুধুমাত্র রেফারেন্স-নির্ভর ডিকশনারি-আবৃত্তির মত শোনায় না - যা জোকারের ক্ষেত্রে শোনায়। জোকারের অনেক সঠিক বা বেঠিক কোটেশনের মুখের মত জবাব তাৎক্ষণিক ভাবে দেওয়া সম্ভব, এমনকি তার কোটেশঙ্গুলি সঠিক ধরে নিয়েও, কিন্তু এর ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট-চেক না করে সেটা করা সত্যি কঠিন। তার কারন ইনার সত্যিই পড়াশোনা আছে, ঠিক জোকারের মত না। বাংলায় "পণ্ডিত" শব্দটার তিনটা ভ্যারিয়েশন আছে - পণ্ডিত, পণ্ডিতমূর্খ এবং পণ্ডিতধূর্ত! শেষেরটা আসলেই আছে কিনা জানি না, না থাকলে আমারা আবিষ্কার ধরে নিতে পারেন! যাইহোক, জোকার এই তিনটা ক্যাটিগরির কোনোটাতেই আসলে পড়েন না। কিন্তু ইনি কোনটায় পড়েন সে নিয়ে আমি এখনো খানিকটা ধন্দে আছি!!! দেঁতো হাসি

****************************************

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আপনি যে পার্থক্যের কথা বললেন, সেটা বোধ হয় মূলত অডিয়েন্সের পার্থক্য। দুজনার অডিয়েন্স ক্যাটাগরিতে পার্থক্য আছে। খুবই ন্যাচারাল যে হাইস্কুলের শিক্ষক আর ইউনিভার্সিটির শিক্ষকের কোয়ালিটি এক হবে না। তিনি যাদের রেফারেন্স দেন, তাঁদের কর্মের জগত নিয়েও কম বেশি আলোচনা করেন, একটু বোদ্ধা টাইপের মানুষকে যা খুব আকর্ষন করে। তুলনায় জাকির নায়েকের অডিয়েন্স অনেকটাই জেনারেল ক্যাটাগরির। সলিমুল্লা খানের স্ট্যান্ডের কয়েকটি বৈশিষ্ট আমার চোখে/কানে ধরা পড়েছে-
১। ইনি বেসিক্যালি প্রচণ্ড রবীন্দ্র বিদ্বেষী। তাঁর বক্তৃতা শুনলে মনে হবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এত বড় শত্রু আর নেই।
২। ইনি পার্টিশন সংক্রান্ত ব্যাপারে বেসিক্যালি কংগ্রেসের কট্টর সমালোচক, তুলনামূলক ভাবে মুসলিম লীগের প্রতি অনেক সফট। এখন নেট দুনিয়ায় এবং সামাজিকভাবে অনেকেই বলছেন ভারত ভাঙ্গার জন্য কংগ্রেস দায়ী, মুসলিম লীগের এতে কোন দায় নেই।
৩। মানব ইতিহাসে জ্ঞানের যে প্রবাহ, তাতে তিনি মুসলমানদের অবদান ও কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠার পিছনে এতটা এবং এমনভাবে জোর দেন, যা শ্রোতার মনে মুসলিম বহির্ভূত অন্যান্যদের অবদানকে একেবারে নগন্য বলে ধারনা তৈরি করে এবং মুসলিম বহির্ভূত অন্যপ্রতি এক ধরনের বিরাগ ও তাচ্ছিল্যের মনোভাব তৈরি করে।

তাঁর একটি আচরণ সম্পর্কে কেউ কি কিছু জানাতে পারেন? বিগত হেফাজত তাণ্ডবের সময় তিনি এক ধরনের স্কার্ফ কাঁধের উপর ঝুলিয়ে টক শো গুলোতে হাজির হতেন, যে রকম স্কার্ফ আমাদের দেশের মোল্লা শ্রেণীর মানুষজন ব্যবহার করে থাকেন। তিনি কেন সেটা ব্যবহার করতেন, এখন কেন করেন না?

মন মাঝি এর ছবি

আপনার পয়েন্টগুলি ইন্টারেস্টিং। এগুলি আমার চোখেও ধরা পড়েছে, তবে আমি সেসবের ইন্টারপ্রিটেশন নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নই। কিম্বা বলা যেতে পারে আপনার সাথে মোটামুটি একমত, এক ছিটে কনফিউশনের লবন সহকারে! হাসি

একটু ব্যাখ্যা করি।

১ ও ২। রবীন্দ্রনাথ এবং আরও অনেক কোলকাতা-কেন্দ্রিক অমুসলিম বাঙালী বুদ্ধিজীবী / রাজনীতিবিদ্দের সম্পর্কে তার যেসব সমালোচনা আমি শুনেছি তাতে মনে হয়েছে তিনি ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামগ্রিক ভাবে একটা অন্তর্গত আইডিওলজিকাল বর্ণবাদ ও বর্ণবাদ-প্রসূত একচ্ছত্র ডমিনেশনের আকাংখাকে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রধাণতম সমস্যা এবং এর ইতিহাসে, বিশেষ করে বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে, বিভিন্ন প্রধাণ ঘটনার পিছনে দায়ী মনে করেন। এবং এজন্য তিনি ভারতীয় হিন্দু এলিটদের এবং বাংলার ক্ষেত্রে কোলকাতা-কেন্দ্রিক বাঙালী হিন্দু এলিটদের দায়ী মনে করেন। তিনি বাঙালী মুসলমানদেরকে প্রি-ইসলামিক সময় থেকেই হাজার বছর ধরেই এই বর্ণবাদের রিসিভিং এন্ডে থাকা শোষিত-নির্যাতিত-পদদলিত-সাবল্টার্ণ শ্রেণীর মানুষ মনে করেন। তিনি আধুনিক বাঙালী মুসলমানদেরও দায়িত্ব অস্বীকার করেন না, কিন্তু বেশির ভাগ দায়িত্বই ঐ হিন্দু এলিটদেরই মনে করেন বলে মনে হয়। তার মতে "সঠিক চিকিৎসা করতে হলে এগুলি এখন ভদ্রতা করে এড়িয়ে গেলে চলবে না, ভিতরের ঘা-টা প্রকাশ্যে এনে স্পষ্ট আলোচনা করে সব ক্লিয়ার করতে হবে" (আমি প্যারাফ্রেইজ করলাম)। রবীন্দ্রনাথ, পার্টিশন, ইত্যাদি প্রসঙ্গ তার এই ওভারআর্চিং দৃষ্টিভঙ্গীরই একেকটা লোকালাইজড তথ্যযুক্ত লোকালাইজড ম্যানিফেস্টেশন বলে মনে হয়।

৩। এই প্রসঙ্গে আমি তার একটা ইন্টারভিউই দেখেছি তাই সরসময়েই তিনি এটা করেন কিনা জানি না।

৪। আমার মতামতঃ এগুলি এত বড়বড় বিষয় এবং এসব বিষয়ে আমার জ্ঞান এত কম যে আমি স্রেফ শুনে যাওয়া ছাড়া এসব প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করারই যোগ্যতা রাখি না। তবে আমি একটা বিষয়ে একমত যে ইতিহাস বা বর্তমানের যে কোনো বুদ্ধিদীপ্ত ইন্টারপ্রিটেশনই সততার সাথে সিভিল ভাষায় খোলামেলা আলোচনার যোগ্য এবং করাই উচিৎ - তা সে যত নতুন, অভিনব, অপ্রচলিত, প্রতিষ্ঠিত মতবিরোধী বা অপ্রিয় হোক না কেন। এভাবেই আসলে জ্ঞান ও সভ্যতা সামনের দিকে আগায়। কিন্তু আমার মতে এখানে কী-ওয়ার্ড হচ্ছে আগেই যেটা বলেছি - সততার সাথে সিভিল ভাষায় । এই দুই ক্ষেত্রেই সলিমুল্লাহর ব্যাপারে আমার কিছুটা সন্দেহ আছে। না, তার কোনো স্পেসিফিক বক্তব্যে ভুলভ্রান্তি ধরার যোগ্যতা আমার নাই বা অন্যভাবে বললে প্রতিটি বক্তব্য যাচাই করতে গেলে ফ্যাক্ট-চেক করার জন্য যে পরিমান খাটাখাটনি করতে হবে তা করার কোনো উৎসাহ নাই। কিন্তু সেসব না করেই এবং তার সব কথিত ফ্যাক্টস সত্য ধরে নিলেও প্রায় জোকার নায়কের মতই তার যে ত্রুটিপূর্ণ মনোভাবটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ভাবে চোখে পড়ে তা হল তার - Selection Bias । এই টার্মিনোলজিটা এখানে বা স্ট্যাটিস্টিক্সের বাইরে খাটে কিনা জানি না, কিন্তু কি বলতে চাচ্ছি আশা করি বুঝতে পারছেন? সোজা ভাষায় বললে সিলেক্টিভনেস। উনি প্রায় সবসময় সর্ববিষয়ে একপাক্ষিক উদাহরণ দিয়ে একপক্ষকে দায়ী করেন আর আরেকপক্ষের বিষয়ে প্রায় কথাই বলেন না। এগুলি কে কোন পক্ষ আশা করি বলে দিতে হবে না কাউকে!!! সেটা দেশবিভাগ, হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ, বর্তমান সময়ের বাংলাদেশি রাজনীতি বা সংস্কৃতি ইত্যাদি যাইই হোক না কেন। এবং মোটাদাগে কারা তার এত ক্ষোভের (এবং কখনো-সখনো গালিগালাজেরও!!) লক্ষ্য সেটাও স্পষ্ট বোঝা যায়। বাংলার ইতিহাস প্রসঙ্গে সেটা সবসময়েই পশ্চিম বাংলার বা সাধারণভাবে হিন্দু এলিটরা। ৩ ঘন্টার একটা লেকচার দিয়ে তিনি অন্য সম্প্রদায়ের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ বা এলিটদের অত্যন্ত জ্ঞান-যুক্তি-তথ্যপূর্ণ ভাষায় ধুয়ে দিলেও সেখানে স্বসম্প্রদায়ের সম্পর্কে ৩টি বাক্যেরও বেশি থাকে না। হ্যাঁ, এই ৩টি বাক্যে তিনি হয়তো তাদের সমালোচনা করেন, কিন্তু সেটা শুনতে লাগে যেন - বলার জন্য বলা - লিপ সার্ভিস!! মনে হয় তার স্ব-সম্প্রদায় বা সমমতাবলম্বীদের এর চেয়ে বেশি কোনো ভূমিকা নাই। এইটুকু বলেই পুরো বক্তব্যটা ব্যালেন্স হয়ে যায়। সব দোষ যেন তথাকথিত হিন্দু এলিট বা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেকুলারবাদীদের। আমি ইতিহাস অত শত জানি না, কিন্তু বর্তমানের প্রসঙ্গ যখন আসে তখন তার সততাহীণ বায়াস বা পক্ষপাত খুব স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারি। চেপে ধরলে উনি হয়তো এর প্রতবাদ করে বলবেন যে উনি অন্যদেরও সমালোচনা করেন বৈকি এবং দুয়েকটা তখন উদাহরণ দিবেন। কিন্তু তাতে করে তার অধিকাংশ লেকচারেই যে সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় অনুল্লেখিত বিষয়গুলি - যা কিনা তার লেকচারে উল্লেখিত বিষয়গুলির ইন্টারপ্রিটেশনকে আসলে প্রভাবিত ও মডিফাই করে অবধারিতভাবেই - সেই বিষয়গুলি যে তার বক্তব্যের ১্% - ও দখল করে না সেটা ঢাকা পড়ে না। এই বায়াস বা একদেশদর্শিতা থেকেই তার বুদ্ধিবৃত্তিক সততা সম্পর্কে সন্দেহ জাগে। আপাত-একদেশদর্শিতা অবশ্য অসততার গ্যারান্টিড প্রমাণ বলে মনে হয় না আমার। হতে পারে আপনার বিশ্লেষণে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে কাউকে ওভারহোয়েল্মিংলি দায়ী মনে হতেই পারে এবং সেজন্যই তার কথাই আপনি ওভারহোয়েল্মিংলি বলতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু এই প্যাটার্নটা আপনি যখন সর্বপ্রসঙ্গে সর্বত্রই প্রয়োগ করেন এবং সেই সব ক্ষেত্রেই আপনার বক্তব্যের পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে কোনো একটা বিশেষ ডাইমেনশনে মিল পাওয়া যায়, তখনই সন্দেহ জাগে। সন্দেহ জাগে যে আপনি সৎ বিশ্লেষণের বদলে একটা আইডিওলজিকাল বায়াস থেকে বিশ্লেষণ করছেন এবং সেটা গোপন করার চেষ্টা করছেন একই সাথে।

২। তবে সলিমুল্লাহ এতই বুদ্ধিমান মানুষ যে একই বিষয়ে বিভিন্ন কন্টেক্সটে আপাতদৃষ্টে বিভিন্নরকম বা আপার-পরষ্পর-বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। এর থেকে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে তাকে পিন করা কঠিন। যেখানেই তাকে পিন করবেন সেখান থেকেই তিনি পিছলে বেরিয়ে যেতে পারবেন অন্য উদাহরণটা দেখিয়ে। যেমন একদিকে তিনি রাষ্ট্রনীতিতে সেকুলারিজমের সমর্থন করেছেন স্পষ্টভাবেই, অথচ অন্যদিকে বহু বিষয়ে তিনি প্রকারান্তরে বা বেনামে সেকুলারিজমের বিরোধিতাই করেছেন। এমনকি একটু ভিতরে গেলেই দেখা যাবে তার উল্লেখিত সেকুলারিজমের সংজ্ঞাটাই আসলে গোলুমেলে। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ বা বিতর্কিত সমস্ত বিষয়েই তার বেশির ভাগ বক্তব্য বা স্ট্যান্ডই অত্যন্ত পিচ্ছিল। মৌলবাদ বা প্রতক্রিয়াশীলতার অভিযোগ তুললে সবসময় সেকুলারিজমের উদাহরণটা খোলা থাকে আবার উলটো অভিযোগ তুললে উলটো উদাহরণটাও খোলা থাকে। এই পুরো জিনিসটাই আমার কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে অত্যন্ত অসৎ লাগে!! নিদেনপক্ষে এখানে একটা বিরাট ধোঁয়াশা উনি ইচ্ছাকৃত ভাবেই রেখে দিয়েছেন! এরকম ব্যাপার আরও অনেক ক্ষেত্রে উনি করেন এবং করেছেন।

৩। রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে আমার আরেকটা পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে শেষ করি। আমি লক্ষ্য করেছি এখনকার অনেক আধুনিক শিক্ষায় উচ্চ-শিক্ষিত, বুদ্ধিমান, স্মার্ট এবং নিরপেক্ষ-দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন বলে নিজেকে উপস্থাপিত করতে আগ্রহী কিন্তু অতি-ডানপন্থী লোকজন সবসময় রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন, বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন, জমিদার ছিলেন, বাল্যবিবাহ করেছিলেন বা এরকম হাতেগোণা দুয়েকটা প্রসঙ্গ তুলে তার সমস্ত কৃতিত্ব ও সৃষ্টিকে নস্যাৎ করার, হেয় করার চেষ্টা করে। মজার ব্যাপার হল, তাদের যাতে কেউ সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন বলে অভিযুক্ত করতে না পারে, সেজন্য তারা রবীন্দ্রনাথকে ধুয়ে দেওয়ার বা অন্তত খাটো করার আগে শুরুতেই নিজেদের অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে একটু মুখবন্ধ করে নেন এই বলে - "বড় মানুষেরও তো দুয়েকটা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে..." । কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এই "বড় মানুষটার" ৯৯% কৃতিত্ব বা সৃষ্টি নিয়ে তাদের কখনই আলোচনা করতে দেখা যায় না, কিন্তু ঐ ১% ত্রুটির উপরেই তাদের ৯৯% সময়, মনোযোগ ও বক্তব্যের বিষয় নিবদ্ধ থাকে!!! আমার এরকম দুয়েকজন বন্ধু মানুষ আছেন। অনেক সময়েই তাদের রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে রসিয়ে রসিয়ে এরকম নিন্দামন্দ করতে শুনেছি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বিশাল অসামান্য সৃষ্টিকর্ম বা অন্যান্য কাজকর্ম নিয়ে কখনই টু শব্দটি উচ্চারণ করতে শুনিনি। যদিও তাদের রবীন্দ্র-নিন্দার প্রসঙ্গে চেপে ধরলেই এরা বলবে - আরে আমি তো বলেছিই উনি বিরাট মানুষ!!! তাই বলে কি উনার সামান্য দোষত্রুটিও থাকতে পারে না, নাকি সেটা বলাই যাবে না??? বন্ধু মানুষ বলে এদের কখনো প্রশ্ন করা হয়ে উঠেনি যে - বিরাট মানুষ হলে তার বিরাটত্ব নিয়ে কখনই কোনো কথা না বলে সবসময় কেন ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস হাতে তার খুঁত খুঁজে বেড়ানো??? কেন তার সম্পর্কে দুয়েকটা ভাল কথাও শুনি না??? আমি সলিমুল্লাহর যে কয়টা ভিডিও দেখেছি, তাতে তার মধ্যেও এই ভণ্ডামিটা দেখেছি অনেক সময়।

****************************************

হিমু এর ছবি

অতি-ডানপন্থী লোকজন সবসময় রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন, বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন, জমিদার ছিলেন, বাল্যবিবাহ করেছিলেন বা এরকম হাতেগোণা দুয়েকটা প্রসঙ্গ তুলে তার সমস্ত কৃতিত্ব ও সৃষ্টিকে নস্যাৎ করার, হেয় করার চেষ্টা করে।

"রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন", এই মিথ্যার জনক জনৈক মেজর জেনারেল। তিনি একখানা বই লিখে কোনো সূত্রনির্দেশ ছাড়াই ঠুস করে এই কথা বলার পর কিছু জ্ঞানপাপী এই কথা আওড়াতে আওড়াতে এটাকে সত্য বানানোর ঠিকা হাতে নিয়েছে।

তানভীর এর ছবি

জনৈক মেজর জেনারেল ছাড়াও মকসুদ খুড়ো নাকি তার বইতে এটা উল্লেখ করেছেন। বিশিষ্ট রেফারেন্সবিদ সলিমুল্লাহ খান এই তথ্যের রেফারেন্স হিসেবে 'নরম, ভদ্র' মক্সুদ খুড়োর বইয়ের কথা বলেছেন।

মন মাঝি এর ছবি

তাছাড়া সলিমুল্লাহকে হিন্দু বর্ণবাদ ও জাতিবাদ নিয়ে যেরকম প্রবল উৎসাহে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করতে দেখা যায়, ইসলামি মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রতা ও কূপমণ্ডুকতা নিয়ে তার ১০০ ভাগের এক ভাগও করতে দেখা যায় না। ইন ফ্যাক্ট আমি ২য় প্রসঙ্গে তার একটা সাবস্ট্যানশিয়াল আলোচনাও শুনিনি এখনও! ১মটা নিশ্চয়ই একটা ভ্যালিড এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক। এ বিষয়ে আমাদের অবশ্যই জানার প্রয়োজন আছে। কিন্তু ২য়টা কি সেই তুলনায় আমাদের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক নয়?? কিন্তু এই ২য় প্রসঙ্গে আসলেই তিনি এত নীরব কেন?? ১ম টপিকটায় তার অসংখ্য ভিডিও পাওয়া যায় ইউটিউবে, ২য় প্রসঙ্গে কেন পাওয়া যায় না? এ প্রসঙ্গে তার এই নীরবতাকেই আমার কাছে বরং অনেক সরব মনে হয়। His silence is far louder than all his words can ever be - probably without him realizing that!!!

এই একদেশদর্শিতাও তার বুদ্ধিবৃত্তিক সততা সম্পর্কে সন্দেহ জাগায়।

সবশেষে "কনফিউশন" প্রসঙ্গে। সলিমুল্লাহকে আমার কমপ্লিকেটেড ও কনফিউজিং লাগে কারন তার বহু বক্তব্যই আছে যা আমার কাছে ন্যায়সঙ্গত বা অন্তর্দৃষ্ট-সম্পন্ন মনে হয়েছে। অনেক বন্তব্য আছে যা আমাকে কোনো কোনো প্রসঙ্গে নতুন ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এগুলি ফেলে দেওয়ার মত বিষয় না। কনফিউজিং লাগে এজন্য যে - কোনটা তার আসল চেহারা তা নিয়ে ধন্দে পড়ে যাই। কিছু জিনিস আছে যা ভাল লাগে আবার কিছু জিনিস আছে যা খুবই সন্দেহজনক।

****************************************

নৈষাদ এর ছবি

কোনটা তার আসল চেহারা তা নিয়ে ধন্দে পড়ে যাই। কিছু জিনিস আছে যা ভাল লাগে আবার কিছু জিনিস আছে যা খুবই সন্দেহজনক।

আমার মতামতও এর কাছাকাছি। তবে, যতই দিন যাচ্ছে ‘উৎকর্ষ সাধনের’ বিপরীতেই তিনি হাঁটছেন বলে মনে হয়েছে। এই ব্লগের লেখক তার মতামত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেছেন, সেই তুলনায় আমার মন্তব্যটা জনাব খানের মতই অস্পষ্ট হল।

আমি খুব মনযোগ দিয়ে একসময় জনাব খানের অনেক গুলি বক্তব্যই শুনেছি। জনাব খান তার কিছু পূর্ব নির্ধারিত ধারনা (এবং এর সিলেক্টিভ অংশ) প্রায় বক্তব্যতেই তুলে ধরেন, অনেকটা গরুকে নদীতে নামাবার মতই। (যেমন, রাষ্ট্রসঙ্ঘ এবং প্রাথমিক শিক্ষা, মাদ্রাসা- ঐতিহ্যগত শিক্ষা, অর্থনীতির নোবেল, রবীন্দ্রনাথ, রাজ্জাক-ছফা ছাড়া দেশের চরম বুদ্ধিবৃত্তিক দৈণতা/চাটুকারিতা, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় আসলে ট্যাকনিক্যাল এডুকেশন, কোনরকম বিশ্লেষণে না গিয়ে গণহারে বংলাভাষার অনেক লেখককে খারিজ করে দেয়া, হিন্দু বর্ণবাদ ইত্যাদি।) [একসময় চাকুরিপ্রার্থীদের প্রশিক্ষণে - নিজের কিছু ‘ইউনিক সেলিং পয়েন্ট আগেই ঠিক করে নেয়া উচিত এবং কথাবার্তার ফাঁকে এগুলি নিয়োগকর্তাকে জানানোর - প্রকৃয়া শেখানো হত।]

দ্বিতীয়ত, সবকিছু অস্পষ্টভাবে বলা এবং দ্রুতই অন্যান্য প্রসঙ্গে চলে যাওয়া (এবং সেই সময়ই পূর্ব-নির্ধারিত বিষয়ে প্রবেশ করা)। তবে কোন ধরনের টক-শোতে আছেন, সেটার উপর ভিত্তি করে তাঁকে নিজের ‘স্ট্যান্ড’ পরিবর্তন করতে দেখেছি। [আমার মত লিনিয়্যার মস্তিষ্কের লোকের কাছে অনেক সময় ‘ইনকোহিয়ারেন্ট’ বলেই মনে হয়েছে।]

তবে, আউট-অভ কনটেক্সট এবং নিজের কথা অন্যের মুখে চাপিয়ে দেয়া তার বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার উদাহরণ।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের দেশে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী – ভদ্রতাকে দূর্বলতা, সততাকে বোকামি, আর ইংরাজী বলিবার সক্ষমতাকে জ্ঞানের চিহ্ন হিসেবে দেখা হইয়া থাকে।

সেই জায়গায় সলিমুল্লাহ খানের মতো দু’য়েকজন তো আবার গ্রীক ভাষার ওপরও মারাত্মক দখলের অধিকারী। তাই ওনাকে অবজ্ঞা করা বালকোচিত ধৃষ্টতারই নামান্তর। এই ব্যাক্তি বহুকাল যাবত সভা-সমিতিতে-মঞ্চে নানান রকম বয়ান দিয়া আসিতেছেন।

বিদ্বান ব্যাক্তির স্টান্টবাজিরও সীমা নাই। শুনিয়াছি, টিভি টকশো’তে তিনি মাঝেমাঝেই একগাদা কিতাব বগলস্থ করিয়া লইয়া যান। ঈদৃশ উদাহরণে বুঝিলাম, জ্ঞানও দেখাইবার প্রয়োজন আছে। এবং তাহা উচিতও বটে। আর উনার বয়ান অধিকাংশ সময়েই না বুঝিতে পারিয়া ভাবিতাম, আমিই বোধহয় কূপমন্ডুক বিশেষ। এখন তো দেখি পচা বিরিয়ানী না খাইয়া আপন উদর সুস্থ রাখাই উত্তম হইয়াছে।

কিন্তু আপনার লেখা পড়িয়া ভাবিতেছিঃ যে উদ্দেশ্য লইয়া, জ্ঞানডোবা সেঁচিয়া, অনেক অনুসারীর মস্তিষ্ক চিবাইয়া, এবং যাবতীয় ভুজং ভাজং সহযোগে তিনি যেভাবে আগাইয়া যাইতেছেন, তাহাতে উনার বিপ্লবই না আবার ‘বেহাত’ হইয়া যায়। অকৃতজ্ঞ বা কৃতঘ্ন হিসেবে বঙ্গবাসীর কিঞ্চিৎ খ্যাতি আছে কিনা!

স্বরূপ-সন্ধানী
---------------------------------
অন্ধকারে সবচেয়ে সে শরণ ভালো,
যে-প্রেম জ্ঞানের থেকে পেয়েছে গভীরভাবে আলো।

মন মাঝি এর ছবি

সেই জায়গায় সলিমুল্লাহ খানের মতো দু’য়েকজন তো আবার গ্রীক ভাষার ওপরও মারাত্মক দখলের অধিকারী। তাই ওনাকে অবজ্ঞা করা বালকোচিত ধৃষ্টতারই নামান্তর।

ভাষাতত্ত্বদিদ নোয়াম চমস্কিও তদৃশ এক অকিঞ্চিৎকর বালক। গুরুদেবের মতে চমস্কি নাকি ভাষাতত্ত্বের ভ-ও জানেন না।

****************************************

guest_writer এর ছবি

বলেন কি! এতদূর!!
শুনে আমি লা-জাবাব!!!

মন মাঝি এর ছবি

হ্যাঁ, এতদূরই!! দেঁতো হাসি
ইউটিউবে আছে। এই মুহূর্তে লিংক নাই, থাকলে দিয়ে দিতাম। চমস্কিরে একেবারে ঝাইড়া দিছে। শুনলে মনে হয় চমস্কির মত বলদ দুনিয়াতে আর দুইটা নাই!!! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

****************************************

হিমু এর ছবি

আগে লোকে বাঘসিংহ মেরে মাথা বৈঠকখানার দেয়ালে ঝুলায় রাখতো। সলিমখুড়োর দেয়ালে এক পিস রবীন ঠাকুর, এক পিস আনিসুজ্জামান আর এক পিস চমস্কির মাথা (প্রয়োজনে শোলা দিয়ে গড়ে) টাঙানো এখন সময়ের দাবি।

অনেকটা এমন দেখাবে:

কায়সার এর ছবি

সেই জায়গায় সলিমুল্লাহ খানের মতো দু’য়েকজন তো আবার গ্রীক ভাষার ওপরও মারাত্মক দখলের অধিকারী।

কি দেখে এবং/অথবা শুনে এবং/অথবা পড়ে আপনার মনে হইছে যে গ্রীক ভাষায় সলিমুল্লাহ খানের দখল (তাও কিনা আবার 'মারাত্মক') আছে?

guest_writer এর ছবি

উনি যেভাবে কথায় কথায় বিভিন্ন গ্রীক টার্মিনলজি'র ব্যাখ্যা দেন, এবং এমনভাবে দেন যে শুনে মনে হয় নিতান্ত মূর্খ ব্যক্তিদের এসব জানিয়ে কৃতার্থ করছেন - সেসব দেখে এবং শুনে। আর 'মারাত্মক' কথাটি নিতান্তই 'সারকাজম' করে বলা। আশা করি, এবারে বোঝাতে পারলাম

অতিথি লেখক এর ছবি

সলিমুল্লাহ খানের বেশ কিছু বক্তব্যের ভিডিও দেখার সুযোগ থেকে আমার মনে হ'য়েছে উনি যে নিজেকে ফুটনোট সরবরাহকারী হিসেবে দাবি করেন, এটা মোটামুটি সঠিক দাবি। অনেক সময়ই সাথে বইপত্র রাখেন। যখন রাখেন না তখন হয়তো খানিকটা এদিক সেদিক ক'রে ফেলেন, এই আর কি! হাহা... বয়স তো কম হয়নি...
তবে যে সিলেকশন বায়াসের কথা মন মাঝি বলেছেন সেটা বোধহয় মানুষের জন্য হ'য়েই যায়। তার উপর ওনার ভেতরে এক ধরণের রোম্যান্টিসিজম যে আছে তা তো বেশ পরিস্কার। আহমদ ছফাকে উনি গ্লোরিফাই করতে করতে নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ যে হারাচ্ছেন তা বোধকরি বুঝতে পারেন না। বুঝতে পারেন না যে সময়ের সাথে সাথে সব বিপ্লবই বেহাত হ'য়ে যায়। কিংবা একটা বিপ্লব দিয়ে সমাজব্যবস্থার সব সমস্যার সমাধান করা যায় না।
তবে বর্তমানের বাংলাদেশে যে একধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতা আছে সেটা প্রকাশ করার একটা সাহস তিনি যে দেখান সেটা মানতেই হবে। সেই শূন্যতা আবিস্কার করতে গিয়ে লোকটা দিনের পর দিন নানা লোকের সমালোচনা করে যাচ্ছেন, কখনো কখনো হয়তো আউট অব কনটেক্সটে গিয়ে। জানি না এটা মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়...
(রাজীব রহমান)

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।