Warning: Creating default object from empty value in i18ntaxonomy_term_page() (line 34 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/i18n/i18ntaxonomy/i18ntaxonomy.pages.inc).

মোখলেস হোসেন

গুঢ় জ্ঞান

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ০৬/০৪/২০১৯ - ১০:৪০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাপরে!
কোরো নাকো অবহেলা
প্রকৃতির চাপ রে।।
............
এইতো!
এতোদিনে এলে তুমি
ঠিক পথে, সেই তো।

গলছে দখিন মেরু
উত্তরও উষ্ণ
প্রকৃতি পুলিশ নয়
খায় না সে ঘুষ, নো!

বাড়ছে ধূসর মরু
মানুষের স্বার্থে
সবুজ উজাড় হলে
টিকবে কে আর্থে!

পোড়ে তেল ওড়ে ছাই
কল কারখানাতে
বাঁচবে কোথায় গেলে
বৈরুত! ঘানাতে?

নদীর পানিতে বিষ
মাছ নেই সাগরে
প্রলয় ঘনায় বলে!
এইবার জাগো রে


সুন্দরপুরে সন্দেহ (চতুর্থ কিস্তির পর)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ০৬/০৩/২০১৯ - ২:৪৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দশ।।

শমশের খাঁর শরীর ভালো নেই। দুপুরে পাঙ্গাশ মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাবার পর থেকে পেটের ভেতর ভুটভাট শব্দ হচ্ছে। তার সাথে যোগ হয়েছে বুক থেকে গলা অবধি তীব্র একটা জ্বলুনি। স্ত্রী সুরজাহান একবার মিনমিন করে জিগ্যেস করেছিলেন বুকে গরম তেল মালিশ করে দেবেন কিনা। শুনেই তাঁর মেজাজটা ভাদ্র মাসের শুকনো বিলে লাফাতে থাকা কই মাছের মতো খলবল করে উঠলো। এই মহিলার কি কোনই মায়া দয়া নেই? কতোবার বলেছেন তরকারিতে ঝালটা একটু কম দিতে, কিন্তু কে শোনে কার কথা! মাছের ঝোল রাঁধতে গেলে সুরজাহান বেগমের আর হুশ থাকে না। আর রান্নাটাও এমন স্বাদের হয় যে গলা পর্যন্ত না খেয়ে ওঠে আসা মুশকিল। বুক জ্বালিয়ে দিয়ে এখন এসেছে তেল মালিশ করতে! মেজাজ কিছুটা ঠাণ্ডা হবার পর কোঁকাতে কোঁকাতে ডাক দিলেন,


সুন্দরপুরে সন্দেহ (তৃতীয় কিস্তির পর)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১০/০২/২০১৯ - ১২:৩৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আট।।

পুঁথির অর্থ বাবার কাছে না লুকিয়ে কোন উপায় ছিলো না কিশোরীমাধবের। নারায়ণমাধব বৈষয়িক মানুষ হলেও বিষয় সম্পত্তি যে কী দুর্ভোগ বয়ে আনতে পারে তা তিনি ভালো করেই জানেন। ময়মনসিংহের সমতলে প্রায় অনন্তকাল কাটিয়ে দেওয়া মাধবদেরকে যে আসামের নির্বান্ধব উপত্যকায় চলে আসতে হয়েছে সে তো আর ধর্মের কারণে নয়। তিনি হিন্দু নাকি মুসলিম এই নিয়ে কেউ কোনোদিন মাথা ঘামায় নি। দেশ বিভাগের সময় ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার কোন প্রভাব পড়েনি সদর থেকে দশ মাইল দূরের ছোট্ট গ্রাম কাৎলাসেনে। যেমন ছিলো তেমনি থেকে গিয়েছে সালাম সরকারের পাটের কারবার। বদলায়নি ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে ঝাঁকি জাল কাঁধে হেঁটে চলা হারান মণ্ডলের জীবন। পাল পাড়ার বুড়ো কমলেশ এখনও সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে পরখ করে দেখে সারা রাত আগুনে পুড়ে কতোখানি খাঁটি হলো মাটির সরা, খেলনা পুতুল। আউলা কান্দির পুকুর ঘাটে গিয়ে কান পাতলে ঠিক ঠিক শোনা যায় কামাল শেখের তাঁতের আওয়াজ, খটর খট খটর খট খটর খট।


সুন্দরপুরে সন্দেহ (দ্বিতীয় কিস্তির পর)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১৩/০১/২০১৯ - ১১:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(লিখতে লিখতে টের পাচ্ছি অনেক সম্পাদনার প্রয়োজন রয়েছে। আগে শেষ করি)


সুন্দরপুরে সন্দেহ (প্রথম কিস্তির পর)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ২১/১২/২০১৮ - ৬:১৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছয়।।

উড়ানবিবির খালের গভীরতা বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেবার মতো। নড়বড়ে সাঁকোটায় পা রেখে থমকে দাঁড়ালো শামসুল। নাহয় নেবেই হারান মাঝি পাঁচটা টাকা। নিক, টাকা আজকে কোন সমস্যা নয়। হরি নারায়ণের দুইশ তিরিশ তো লুঙ্গির ভাঁজে আছেই। আজকে সাঁকোর চেয়ে নৌকাই ভালো। শামসুল জোর গলায় ডাক ছাড়লো,

“ও হারান কাহা, এই পারে আও।”

“কেলা, শামসুইল্লা নি?”

“হ গো কাহা। হুসেনপুর যাইবাম।”


সুন্দরপুরে সন্দেহ

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ২৫/১১/২০১৮ - ৩:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

“ভাই কি ঢাকায় যান?”
“হু”
“আমি আগে কখনও ঢাকা যাই নাই। এইবারই ফাস।”
“ও”
“ভাইজান মনে হয় কতা বার্তা কম বলেন।“
“হু”
“বালা, কতা বার্তা কম কউনই বালা।”
“জী”


ওডে

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/১০/২০১৮ - ৯:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ক’দিন ধরেই আমার কানের ভেতর ডাকাডাকি করে চলেছে তিনটে পোকা। একটা ঝিঁঝিঁ, একটা এঁটুলি- আরেকটা যে কী ঠিক ধরে উঠতে পারছি না। অন্যদের চেয়ে লাজুক এটি, যখন খুব করে খুঁজি তখন লুকিয়ে পড়ে। খোঁজাখুঁজি থেমে গেলেই ক্ষীণ স্বরে জানান দিয়ে যায় সে আছে। ডাক্তার কাউল নানান রকম যন্ত্রপাতি দিয়ে দেখে জানালেন আমার কানে কোন সমস্যা নেই। আমি কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে থেকে বললাম,


ইকবাল সাহেবের কালো বাক্স (শেষ পর্ব)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ০২/১০/২০১৮ - ১:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছয়।।

কটেজের ভেতরে ঢুকে মন ভরে গিয়েছে মিরাজের। অদ্ভুত সুন্দর একটা গন্ধ চারিদিকে। আলো আঁধারিতে যতটুকু চোখে পড়ে তাতে বোঝা যায় বিশাল একটা ঘরের সীমান্তে দাঁড়িয়ে সে। এটি সম্ভবত বসবার ঘর। ঘরের একটা অংশের উপরটা খোলা, উঠে গিয়েছে অনেক উঁচুতে, কটেজের ছাঁদ বরাবর। আরেকটা অংশে, হাত দশেক উচ্চতায় যেন ঝুলে রয়েছে শোবার ঘরগুলো।

দু অংশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ মোটাসোটা একটা পিলার।


ইকবাল সাহেবের কালো বাক্স

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৩/০৯/২০১৮ - ১:১৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক।।

ইকবাল সাহেবের তিন মেয়ে। তিনজনই অনিন্দ্য সুন্দরি। বড় মেয়েটির নাম মিথিলা।

আজ মিথিলার জন্মদিন। এই মুহূর্তে সে আলুথালু চুল নিয়ে বিছানার উপর বসে। পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কয়েকটি নতুন জামা, কিছু গোলাপ, আর কালো রঙের একটি বাক্স। ইকবাল সাহেব কয়েকবার এসে তাড়া দিয়ে গিয়েছেন। মিথিলার যেতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু উপায় নেই। এ বাড়ির এটাই নিয়ম।


গ্রীষ্মের কয়েকটি দিন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ২৪/০৭/২০১৮ - ৩:৫০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমাদের বাগানের পশ্চিম পাশটায় সূর্যের আলো খুব একটা আসেনা। রোদ না পেয়ে একেবারে যা তা অবস্থা ঘাসের। হামবার নার্সারির ম্যানেজার আলফান্সোর কথামতো গতো দু-মাসে চার বার সার দিয়েছি। সার মানে কম্পোস্ট, যেমন তেমন নয়, পাহাড়ি ভেড়ার নাদি মেশানো কালো কালো মাটির দলা। সেই দলা রোদে শুকিয়ে, হাত দিয়ে ভেঙে, গুঁড়ো গুঁড়ো করে মেশাতে হয় ঘাসের গোড়ায়। কাজের কাজ কিছুই হয়নি, বরং উৎকট গন্ধে এদিকে আসাই দায়। একগাল হেঁসে আলফান্সো বললো, সারে কাজ হবে না।