Warning: Creating default object from empty value in i18ntaxonomy_term_page() (line 34 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/i18n/i18ntaxonomy/i18ntaxonomy.pages.inc).

মোখলেস হোসেন

ফেসবুকীয় ভাবনা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ১৪/০৪/২০১৮ - ৬:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক।

যদি ব্যাংকারই বোঝে ডাক্তারি, আর
ডাক্তার সব খেলা।

যদি হো মো এরশাদ নিজেকেই ভাবে
নেলসন ম্যান্ডেলা।

যদি মনোবিদ বোঝে অর্থের নীতি
ইন্টারনেট ঘেঁটে।


বুমেরাং

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ২৭/০৩/২০১৮ - ৭:২০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি একবার বুমেরাং বানিয়েছিলাম।

স্কুলে কী একটা প্রতিযোগিতায় জেতার পর দারুণ একটা বই দিয়েছিলো আমাকে। রাশান বই, সেই বইয়ে নানান রকম জিনিসের গল্প। একটা গল্প ছিলো বুমেরাং নিয়ে। লেখার শেষে ছোট্ট করে বলে দেওয়া কী ভাবে বুমেরাং বানাতে হয়- নিখুঁত বর্ণনা, একেবারে ধাপে ধাপে, মাপে মাপে।

প্রথমে বানালাম কার্ডবোর্ড দিয়ে। এটা মডেল, দেখতে চাই কাজ করে কিনা।


দড়ি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ০৯/০৩/২০১৮ - ৫:৫৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জুলমত আলির মন ভালো নেই। মনের আর কী দোষ! আয়না বানুর পাল্লায় একবার যে পড়েছে তার কি কোন উপায় আছে!

পেয়ারা গাছের শক্তপোক্ত একটি ডালে পা ঝুলিয়ে বসে হাতের দড়িটার দিকে তাকালো জুলমত আলি। কী সুন্দর দেখতে! ভারি নরম, যেন কাঠবিড়ালির ফোলা ফোলা লেজ। চারিদিকে আজকাল নাইলনের ছড়াছড়ি, সে দড়িতে গিঁট দিতে গেলে হয় পিছলে যায়, নয়তো খুলে আসে হালকা টানেই। আর নাইলন জিনিসটা খুব বাড়াবাড়ি রকমের রুক্ষও, টান লাগলে চামড়ায় দাগ রেখে যায়।

একই সমস্যা নারকেলের ছোবড়া দিয়ে বানানো দড়িতে। অনেক খুঁজে পেতে শেষটায় রায়েরবাজারের গুড়পট্টির পেছনে যে ঘুপচি ঘুপচি দোকান গুলো রয়েছে তারই একটা থেকে মেলা টাকা খরচ করে কিনে এনেছে এই দড়িটা। পাটের দড়ি, পনেরো ষোল হাত হলেই চলতো, কিন্তু দোকানদার গোছা থেকে কেটে দিতে রাজি হয়নি। কত কষ্টের টাকা, আহারে!


কাৎলাসেন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ৩০/০১/২০১৮ - ৬:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক।।

বিয়ের পর এই প্রথম অরণিদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। গ্রামের নাম কাৎলাসেন। সেখানে থাকেন অরণির বড়মামা, তিনি অকৃতদার। কাৎলাসেন ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে নয় অথচ যাই যাই করেও যাওয়া হয়নি এতদিন। এবারে ঈদ, বড়দিন, আর অনিন্দ্যর স্কুলের ছুটি, সব একসাথে পড়ে যাওয়ায় বেশ লম্বা একটা সময় মিলে গিয়েছে হাতে। বছর জোড়া ট্রাফিকজ্যাম-অফিস-বাজার আর ড্রইংরুমের বৃত্তে আটকে থেকে আমিও হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। অরণির মামার চিঠি পেয়ে ভাবলাম, যাই তিনটা দিন কাটিয়ে আসি।

অনিন্দ্য কখনো গ্রাম দেখেনি। আমি ঢাকায় বড় হওয়া মানুষ, গ্রামের সাথে যেটুকু যোগাযোগ ছিল বাবার মৃত্যুর পরে তার সবটুকুই ঘুচে গিয়েছে। আমার আগ্রহ অনিন্দ্যের চেয়ে কম নয় কোন অংশেই। অরণি অবশ্য চেয়েছিল দেশের বাইরে বেড়াতে যাই, নেপাল, শিলং কিংবা ভুটান।


ভূত

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ০৩/০১/২০১৮ - ৭:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গল্প-উপন্যাস এবং সিনেমায় ভুতের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তার অধিকাংশই ভুল। ভুত মানেই কঙ্কাল নয়। শরীরের জায়গায় জায়গায় ছোপ ছোপ রক্ত, আর ছেঁড়া ছেঁড়া পচা গলা মাংস নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ভয়ঙ্কর যে অবয়ব মানুষের সামনে তুলে ধরা হয় তার সর্বৈব মিথ্যে। ভুতেরা খোনা সুরে কথা বলেনা, তাদের চোখ ভাঁটার মতো গনগনে নয়, যখন তখন যে কোন রূপে আবির্ভুত হবার ক্ষমতাও তাদের নেই।


ফসল বিলাসী হাওয়া (১.১)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/১২/২০১৭ - ৯:৩৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

*****শীতনিদ্রা কাটিয়ে আবার লিখতে শুরু করেছি। লেখার শেষে প্রথম কিস্তির লিংক।

সাত।।
সেই রাত্রেই পালিয়ে এসেছি। পেওলার মুখোমুখি হাবার সাহস হয়নি আমার।

প্রথম বিশ্বের কোন দেশে থাকার অনেক সুবিধা। না খেয়ে মরতে হয় না, নিতান্ত অপদার্থ না হলে ঘুমুতে হয়না খোলা আকাশের নিচে, একটা না একটা কাজ জুটেই যায়। ওয়ান টু পিৎজা ছেড়ে পালিয়ে আসার সময় তবুও খুব চিন্তা হচ্ছিলো। কোথায় যাবো, করব কী, জমানো টাকা ফুরিয়ে গেলে কেমন করে চলবে, এই সব। শেষমেশ বুদ্ধি করে একটা ট্রেনে উঠে পড়েছি। টরোন্টো থেকে ভ্যানকুভার, প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটারের পাড়ি। টিকিটের দাম পড়েছে চার’শ ডলার, প্লেনে গেলে দু’শ ডলারেই হয়ে যেতো। কিন্তু আমিতো আর বেড়াতে যাচ্ছি না। আমার দরকার কিছুটা সময়, ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে নেবার জন্য। প্লেনে সেই সময় কোথায়! মাত্র তো পাঁচ ঘণ্টার পথ। রেলগাড়ি চলবে চার রাত তিনদিন। থাকা খাওয়ার খরচ ধরলে চার’শ ডলারে চার দিনের জন্য একটা হোটেলও মেলেনা আজকাল।

ভিয়া রেলের কর্তারা রসিক বটে। ইকোনমি ক্লাসের টিকিটে ভাড়ার জায়গায় লিখে রেখেছেন ‘এস্কেপ ফেয়ার’। আমি নাকের উপর একটা বই রেখে আড়ে আড়ে সহযাত্রীদের দিকে তাকাই। পাশের চেয়ারটা খালি। পরের সারিতে প্রথম সিটে যে বসে আছে তার গায়ে হাওয়াই জামা, মাথায় উল্টো করে ঝোলানো বেসবল টুপি, আসার পর থেকেই সে ফোনে বকবক করে চলেছে সদ্য গোঁফ গজানো কিশোরের মতো। সুখী সুখী চেহারার ওই আধবুড়োটা পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নয়।


অমিয়র গল্প

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৬/১১/২০১৭ - ৪:৫৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক.
বাসার ঠিক পেছনেই পাইন হিকরির একটা জঙ্গল। যখন বাতাস আসে, যখন হাওয়ার দমকে কেঁপে কেঁপে ওঠে বুড়ো থুড়থুড়ে গাছ গুলোর পাতা, তখন বড় ভয় লাগে, মনে হয় কারা যেন কেঁদে কেঁদে কথা বলছে। বাতাস না থাকলে আবার শুনশান চারিদিক। হঠাৎ হয়তো দুরের কোন গাছের ডালে ডানা মেলে ডেকে ওঠে একটি পাখি, কখনো বা ভয়ার্ত গলায় খ্যা খ্যা করতে করতে বেরিয়ে পড়ে কোন কাঠবিড়ালির ছানা। জংগলটার দিকে চোখ পড়লেই মনে হয় কী যেন একটা গুঁড়ি মেরে বসে রয়েছে গাছগুলোর আড়ালে।


গ্রহণ

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৮/০৯/২০১৭ - ৬:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আন্তেনিওর জন্ম হয়েছিলো চব্বিশে জুলাই। এমনিতে জুলাই মাসের আলাদা কোন বিশেষত্ব নেই, প্রতি বছরই আসে একটা করে, আর সংখ্যা হিসেবেও চব্বিশ তেমন আহামরি কিছু নয়। তবে আন্তেনিওর জন্মের দিনটা মনে রাখার মতো কেননা ওই দিনই জেনারেল জর্জ প্যাটন সসৈন্যে সিসিলিতে অবতরণ করেছিলেন। এটা উনিসশ তেতাল্লিশ সালের কথা। ইটালির ক্ষমতায় তখন বেনিতো মুসোলিনি। আন্তেনিওর বাবা আরিগো ফেনুচ্চি মুসোলিনির কুখ্যাত গোপন বাহিনী 'ওভরা'র এক


বাক্স

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৩/০৯/২০১৭ - ৯:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঘুম থেকে উঠে গুণে গুণে তিরিশটা বুকডন আর উনিশবার সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করার পর ভাদ্রমাসের তালপাকা গরমে হাঁপাতে থাকা ধাঙ্গড়দের তিনঠ্যাঙে নেড়ি কুকুরটার মতো আধা হাত জিব্বা বের করে দম নিতে নিতে বাম চোখের কোনা দিয়ে দেখলাম বাক্সটা এখনও মেঝের উপর পড়ে।


যায় চলে যায় দিন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ২২/০৮/২০১৭ - ১:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সে অনেক অনেক দিন আগের কথা, আমার বয়স তখন ছয় কি সাত। পাড়ার এক খালাম্মা এসেছেন আম্মার সাথে গল্প করতে। আমি একটা ভাঙা গাড়ি নিয়ে খেলতে খেলতে কান পেতে শুনছি তাঁদের কথা।

“আর বইলেন না আপা, আমাদের দেশের বাড়ির এক বউ বটি নিয়ে বসেছিলো কুমড়া কাটতে। তার শাশুড়ি 'আরে করস কি বউ করস কি’ বলতে না বলতেই বউ দিলো বটিতে টান। দুই মাস পরে যখন বাচ্চা হোলো তখন দেখা গেলো বাচ্চার উপরের ঠোটটা কাটা।”