২ | লিখেছেন হাসান মোরশেদ (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ৯:৪৭পূর্বাহ্ন)
হুমায়ূন আজাদের পরিচিতিতে 'বিতর্কিত' শব্দপ্রয়োগ কি খুব জরুরী? কাদের কাছে আজাদ 'বিতর্কিত'? আজাদের কোন ভূমিকা নিয়ে আমাদের বিতর্কের সুযোগ আছে?
-----------------------------------
'আমি ও অনন্তকাল এইখানে পরস্পর বিস্ময়ে বিঁধে আছি'
৪ | লিখেছেন জিকো (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ২:৪৫অপরাহ্ন)
১.
সঠিক বানান 'হুমায়ুন আজাদ'। দীর্ঘ ঊ-কার নেই তাঁর নামের বানানে। আর বাংলায় লেখা হয় আগস্ট বানানে, অগাস্ট নয়।
২.
মৃত মানুষকে 'ভালো থাকুন' বলা অর্থহীন। বিশেষ করে হুমায়ুন আজাদকে শ্রদ্ধার বেলায় তো নয়ই। হুমায়ুন আজাদ বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, পৌরণিক আবেগ আমাদের ভাষাকে অবচেতনভাবে নির্মাণ করে।
৩.
আমি একটা অনুরোধ করেছিলাম : সাইট কর্তৃপক্ষের সব নোটিশ/বিজ্ঞপ্তি/বার্তা যেন 'সচলায়তন' নিকে পোস্ট করা হয়। এমনও করা যেতে পারে, কর্তৃপক্ষ প্যানেল সদস্যদের দুই-তৃতীয় সমর্থন না পেলে কোনো নোটিশ প্রথম পাতায় প্রকাশ করা হবে না, পেন্ডিং থাকবে।
শুনে ভাবছেন, এত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন কী, সাইটের সবাই তো কমবেশি চেনা। কিন্তু সাইট তত্ত্বাবধানে, ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণে, ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি মোকাবেলায় এই ফরমাল টোনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করি।
৪.
পুরনো অনুরোধের কথা আবার মনে হলো, গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি ব্যক্তির মৃত্যুদিনে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের উদ্যোগ দেখে। সচলায়তন সাইটকে দৈনিক পত্রিকার আমেজে দেখতে চাই না। পত্রিকাগুলো বিশেষ দিনে এমন সব ব্যক্তিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়, ক্রোড়পত্র ছাপায়। শ্রদ্ধা করুক বা না করুক, আসেযায় না, উদ্দেশ্য যেহেতু বাণিজ্যিক। দেখা যায় এক পাতায় হুমায়ুন আজাদের অকুণ্ঠ গুণগান, অন্য পাতায় হয়তো কোনো পৌরণিক বিশ্বাস সংক্রান্ত 'ফজিলতনামা'। আবার বিজ্ঞান পাতায় তারা স্টিফেন হকিংয়ের জয়গান করে, কসমোলজি ফলায়; আবার অন্য পাতায় নিয়ম করে রাশিচক্র ছাপায়। এরকম অসংখ্য স্ববিরোধিতায় ভরা মূলধারার মিডিয়া।
আমার দৃষ্টিতে, সচলায়তন সাইটের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হুমায়ুন আজাদকে যুগপৎ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এরকম স্ববিরোধিতা।
যাঁরা হুমায়ুন আজাদের লেখা ও মতাদর্শের সঙ্গে পরিচিত, তাঁরা জানেন রবিঠাকুরকে কীভাবে তুলোধুনো করেছেন ড. আজাদ। হুমায়ুন আজাদ তাঁর 'নারী' গ্রন্থে লিখেছেন :
"রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় মৌলিকত্ব খুবই কম, তার সমাজ ও রাজনীতি-বিষয়ক চিন্তার সবটাই বাতিল হবার যোগ্য।"
অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে লেখা হয়েছে: "রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকুন প্রতিটি বাঙালীর অন্তরে.. রবীন্দ্রনাথ হোন চিরন্তন প্রেরণার উৎস.."
বেশ খোলা বিতর্ক চলতে পারে এই রবীন্দ্র-মিম নিয়ে।
তেমনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া, মহাত্মা গান্ধীসহ খ্যাতিমান মানুষদের যে প্রচলিত ইমেজ গেঁথে আছে আমাদের মগজে, তাকে ভেঙে দেখতে চাই, তার ভিন্নপাঠ প্রত্যাশা করি সচলায়তনের সদস্যের কাছে।
_____________________________ জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
৫ | লিখেছেন ভাস্কর (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ৩:২১অপরাহ্ন)
জিকোর যুক্তি খুব জুইতের লাগলো না। স্ববিরোধে সমস্যা কি...মানুষ কি নিজের সাথে বিরোধ করতে করতে বড় হইতে পারে না!? হুমায়ুন আজাদরে আমি যদ্দূর চিনতাম...তাতে তারেও আমার স্ববিরোধহীন মানুষ মনে হয় নাই।
হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুদিবসে তার প্রতি শ্রদ্ধা বলবৎ রাইখাই তো আমরা ব্যক্তিগত জীবনের অনেক হাসি ঠাট্টা করনের সম্ভাবনা রাখি...এইগুলি করন যাইবো না?
আর এইরম মতাবলম্বী ব্লগসাইট বা রাইটার্স ফোরাম যা'ই কই না কেন...সেইটা এই আধুনিকতা উত্তরকালে কোনভাবেই যৌক্তিক ঠেকে না। এইখানে জামাত বা স্বাধীনতা বিরোধী কোন শক্তি নাই বইলা রবিবাবু আর হুমায়ুন আজাদ সাহেবের একসাথে প্রেজেন্স থাকবো না...সেইটা শুনতেও অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
৬ | লিখেছেন জিকো (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ৩:৫৪অপরাহ্ন)
মানুষ নিজের সাথে বিরোধিতা করে, করতে পারে এবং সেরকম স্ববিরোধিতার মাঝেই বড় হয়। ঠিক করে বললে, বড় হতে হয়। তাই বলে কি আমরা স্ববিরোধিতায় বাস করতে চাই? এই মুহূর্তে যা মানি, পরক্ষণে তার বিরোধিতা করবো?
"স্ববিরোধিতায় সমস্যা কী", এমন জিজ্ঞাসার পর আমার উত্তর দেয়ার পরিসর ছোট হয়ে যায়।
আমার আগের বক্তব্যে আরেকটা অনুসঙ্গ উল্লেখ করেছি অনুরোধ আকারে, মূলধারার মিডিয়ার আমেজে সচলায়তনকে দেখতে চাই না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা হুমায়ুন আজাদের শ্রদ্ধায় বরং উঠে আসুক তাঁদের কাজের-বক্তব্যের স্ববিরোধিতা, ভিন্নপাঠ, নানা মাত্রায় বিশ্লেষণসহ।
২.
ভাস্কর লিখেছেন :
"এইখানে জামাত বা স্বাধীনতা বিরোধী কোন শক্তি নাই বইলা রবিবাবু আর হুমায়ুন আজাদ সাহেবের একসাথে প্রেজেন্স থাকবো না...সেইটা শুনতেও অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে..."
কারণ হিসেবে জামাত বা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কথা উল্লেখ করিনি কোথাও।
৭ | লিখেছেন ভাস্কর (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ৪:২৩অপরাহ্ন)
এই মুহুর্তে যা কইতেছি তারে পরক্ষণে বিরোধ করতেই পারি, যদি যৌক্তিকভাবে মনে হয় যে পূর্বক্ষণে ভুল কইছিলাম। পূর্ন সত্যের খোজ বইলা কোন তাগীদ বিজ্ঞানও মনে হয় না সমর্থন করে। পরম সত্য বইলা কিছু ধর্ম ছাড়া আর কোথাও পাওন যায় না মনে হয়। যেই মানুষ মনে করে যে এইক্ষণে যাহা বলা হইলো তা সর্বক্ষণেই সত্য সেই মানুষের আর কোথাও যাওয়া হইবো না। আর তাই কেউ যদি স্ববিরোধের চক্করে পরে তারে আমার খুব ঝামেলার মনে হয় না। এইটা হইতেই পারে। যদিও আধুনিক জমানার বিশ্বাসের তত্ত্ব অনুযায়ী তর্ক এমনেই চলে সাধারনতঃ...
মূলধারার মিডিয়া আমেজে কি দেখতে চাই ব্যাপারটা আসলে খুব আপেক্ষিক...সচলায়তন এমনেই একটু ক্লোজ্ড গ্রুপ ফর্ম্যাটে বান্ধা...এইটারে আরো বন্ধ করতে আমি নিজে খুব উৎসাহিত মানুষ না। সচলায়তনে শুধু আমরা আর মামারা বইসা বইসা আসলে কি করতে চাইবো?
তয়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা হুমায়ুন আজাদের শ্রদ্ধায় বরং উঠে আসুক তাঁদের কাজের-বক্তব্যের স্ববিরোধিতা, ভিন্নপাঠ, নানা মাত্রায় বিশ্লেষণসহ।
এই বক্তব্যের সপক্ষে আছি আমি...কিন্তু সেইটা ঐ ব্যানার রাইখাও, শ্রদ্ধা রাইখাও চলতে পারে...
আমার বাক্যস্থিত ভুলগুলি খুব পীড়াদায়ক হইতেছে মনে হয়...আমি বলতে চাই এক মানুষ বোঝে আরেক...আমি কইতে চাইছিলাম জামাত বা স্বাধীনতাবিরোধীরা এই গ্রুপে নিষিদ্ধ ঠিক আছে, কিন্তু রবিবাবু বা হুমায়ুন আজাদের যেকোন একজনরেও বাদ দিতে হইবো এইটা আমি মানতে পারলাম না। জামাত শিবিরের উদাহরণটা আমার আরোপিত, ঐটাতে আপনের কোন ভূমিকা নাই...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
৮ | লিখেছেন সুজন চৌধুরী (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ১১:৩০অপরাহ্ন)
জিকো সাহেব
২ নম্বর যুক্তিটা খোড়া
কারণ মরলে মানুষ পঞ্চত্বে বিলীন হয়, আর বস্তুর অবিনাশীতা বাদ সূত্রানুযায়ী তিনি বস্তুর কোন না কোন ফর্মে আছেন , তাঁরে ভালো থাকার অনুরোধ করলে সমস্যাটা কোথায় ?
____________________________
লাল গানে নীল সুর হাসি হাসি গন্ধ......
জিকো প্রথমত আপনাকে আমি সমর্থন করি,
দ্বিতীয়ত আমি আপনাকে সমর্থন করি,
তৃতীয়ত আমি আপনাকে সমর্থন করি,
শেষ পর্যন্ত আর সমর্থন দিতে পারলামনা ।
ভিন্ন মত হলো, দৈনিক সংবাদ পত্রগুলো এক দিকে যেমন বানিজ্যিক অন্যদিকে বিভিন্ন পেশা শ্রেনী মানুষকে টার্গেট করে সংবাদ কিংবা তথ্য পরিবেশন করে। এখানে হকিংস ভক্ত যেমন আছেন তেমনি অনেক পাঠক ভক্ত আছেন যিনি খবরের কাগজের শিরোনাম না দেখে আগে রাশি চক্র পড়েন। ব্লগেও কেউ ভালো বাসেন রাজনীতি,কেউ ফিল্ম,কেউ প্রকৃতি,কেউ হয়তো ফজিলত নামা ।
তাই ব্লগেও মতামত,আদর্শ আর বিশ্বাসের প্লাটফর্মটা উন্মুক্তই থাকা উচিত।
গ্রহন এবং বর্জনের সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার, বিতর্কের পথও আপনার জন্য খোলা।
-------------------------
জল ভরো সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ।
হাসি মুখে কওনা কথা সঙ্গে নাই মোর কেউ।
১০ | লিখেছেন জিকো (তারিখ: রবি, ১২/০৮/২০০৭ - ১২:১৫অপরাহ্ন)
থার্ড আই :
দৈনিক সংবাদপত্র বিভিন্ন পেশা শ্রেণী মানুষকে টার্গেট করে সংবাদ/তথ্য পরিবেশন করবে-- এর বিরোধী কোনো পয়েন্ট বলিনি।
অবশ্যই গণমাধ্যম বিভিন্ন নানা পেশা,বয়স,শ্রেণীর পাঠকদর্শকদের জন্য কনটেন্ট সরবরাহ করবে।
আমি বলতে চেয়েছি, মিডিয়ায় (নৈতিক) স্ববিরোধিতার অস্তিত্ব নিয়ে। উদাহরণ, মিডিয়া একইসাথে বিজ্ঞান ও অপবিজ্ঞান প্রচার করে। এক চ্যানেলে সকাল বেলার প্রামাণ্য অনুষ্ঠান, জ্যোতিষশাস্ত্র যে স্রেফ অপবিজ্ঞান তা নিয়ে।
সেখানেই সন্ধায় আরেক জ্যোতিষশাস্ত্র বিয়ষক অনুষ্ঠান, আপনার ভাগ্য সেদিন কেমন যাবে, তা নিয়ে। বিষয়টা স্ববিরোধিতার এবং নৈতিক।
কর্তৃপক্ষ কি সচেতন নন নাকি সচেতন থেকেও ভাগ্যবিশ্বাসী দর্শকে চ্যানেলের ভোক্তা করার স্বার্থে কনটেন্ট বিলিয়ে যাবে?
#
আমি একমত, গ্রাহক(পাঠক/দর্শক) কোনটা গ্রহণ-বর্জন করবেন, সেটা তাঁর পছন্দ।
তবে কনটেন্ট প্রচারক/পরিবেশক হিসেবে আমার গ্রহণ-বর্জনের নৈতিক মানদণ্ড কী, সেটায় স্বচ্ছ ও সচেতন থাকা দরকার।
আমার বক্তব্যটি পরিবেশকদের স্ববিরোধিতা নিয়ে, গ্রাহকদের গ্রহণ-বর্জন নিয়ে নয়।
১১ | লিখেছেন হিমু (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ২:৪৮অপরাহ্ন)
রবীন্দ্রনাথ আর হুমায়ুন আজাদকে যুগপৎ শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে স্ববিরোধিতাটা ঠিক ধরতে পারলাম না। হুমায়ুন আজাদ যাদের তুলাধুনা করেননি, তাদেরকেই কেবল শ্রদ্ধা জানানো উচিত? নাকি যারা গদগদ ভাষায় রবিস্তব গেয়েছেন, কেবল তাদেরই শ্রদ্ধা জানাতে হবে? পাঠক হিসেবে আমি রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী হতে পারি, আবার হুমায়ুন আজাদের রচনাশৈলীও আমার ভালো লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ কী বলে গেছেন, সেটাকে বেদবাক্য আমি না ধরেও নিতে পারি। নাকি?
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অনেকেই কঠোর মন্তব্য করেছেন নানা সময়ে, তাদের কোন কীর্তি যে শ্রদ্ধার যোগ্য হবে না, এবং রবীন্দ্রনাথের স্মরণ করা হয়েছে এমন কোন স্থানে উল্লেখ করা যাবে না, এ কেমন যুক্তি?
১২ | লিখেছেন জিকো (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ৩:২৬অপরাহ্ন)
'রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী' মানে কি? তাঁর গানের কথায় একমত? তার লেখনীশৈলীর সাহিত্যিক মানে মুগ্ধ? তাঁর ভাববাদের সঙ্গে একমত?
তেমনি 'হুমায়ুন আজাদ'-এর রচনা ভালো লাগা বলতে কী বোঝাই? পৌরণিক বিশ্বাস নিয়ে, ভাববাদের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী ধারালো লেখনী? নাকি তাঁর ভাষাবিজ্ঞানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ?
যখন 'রবীন্দ্রনাথ' বা 'হুমায়ুন আজাদ' এর কথা বলি, তখন কী বুঝি? রবীন্দ্রনাথ যেমন শুধু গানের রচয়িতা নন, হুমায়ুন আজাদও তেমনি শুধু নারী'-এর রচয়িতা নন। তাঁদের সারা জীবনের কাজ, মতাদর্শ বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন ও অবকাশ আছে আমাদের।
শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যেন আমরা রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ুন আজাদ বা অন্য কাউকে গুরুর পর্যায়ে না ফেলি, বেদবাক্য ধরে না নিই।
যেমনটা আশা করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানানোর সময় : তিনি বেঁচে থাকুন প্রতিটি বাঙালির অন্তরে, তিনি হোন চিরন্তন প্রেরণার উৎস।
এরকম বক্তব্য ও বিশ্লেষণ দৈনিক পত্রিকায়, মূলধারার মিডিয়ায় শুনি। কিন্তু শুনি না ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিশ্লেষণ।
রবিঠাকুর এবং আজাদের মতাদর্শকে পাশাপাশি বিশ্লেষণ করলে বৈপরীত্যের সন্ধান পাই, মতাদর্শগতভাবে এক করতে পারি না দুজনকে। সেখান থেকেই স্ববিরোধিতার কথা তোলা।
এ বিষয়ে আপনাদের ভিন্ন মতামত শুনতে চাই।
_____________________________ জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
এখানেই তো ব্যাপারটার সৌন্দর্য। যে পোস্টে রবীন্দ্রনাথকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস বলা হচ্ছে, সেখানেই আমরা ভিন্নকথনের সুযোগ পাচ্ছি, ভিন্নপাঠের ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথকে কেউ যদি গুরু মানতে চায়, তাহলে অপর কেউ তাঁকে গুরু মানতে অস্বীকৃতিও জানাতে পারছে।
রবিঠাকুরকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস বলাতেও আমি আপত্তি করবো না। কারণ এই উচ্চারণের সাথে সাথেই একটি ভিন্ন কণ্ঠের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে রবিঠাকুরকে নবীঠাকুরে রূপান্তর না করার বক্তব্য দেয়ার জন্য।
সমস্যা ধরতে পারছি না আসলে। আমার কাছে তো মনে হয়েছে, শ্রদ্ধা জানানোর সাথে সাথে একটি আলোচনার ক্ষেত্রও প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে, নাকি?
কাউকে শ্রদ্ধা করা মানে তার সমস্ত বিশ্বাস আমার বিশ্বাস হিসেবে মানতে হবে তা কেন? একদম আমার বিশ্বাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি পজিটিভ কিছু (আমার দৃষ্টিতে) করে থাকেন তাহলে তাকে সম্মান না দেখানোটা গোঁড়ামী। তবে একটা স্পষ্ট লাইন টানা উচিত কোথায় গিয়ে আমাদের থামতে হবে। মতের পার্থক্য নয় মত বিরোধ অনুযায়ী এই পার্থক্যটা দাঁড়া করতে হবে অবশ্যই।
জিকোর ১ আর ২ নম্বর পয়েন্টের সাথে আমি একমত। নামের বানান ঠিক করা হোক। আর হুমায়ুন আজাদ নিজে যেখানে নাস্তিক, সেখানে ভাল থাকুন বলে তাঁর বিশ্বাসের অবমাননা করা হয়।
৪ নম্বর পয়েন্টটা কোন কাজের না, আমি নিজে স্ববিরোধিতার কিছু দেখলাম না। হিমু ভাইয়ের সাথে ১০০% একমত।
২০ | লিখেছেন হিমু (তারিখ: শনি, ১১/০৮/২০০৭ - ৯:১৩অপরাহ্ন)
হুমায়ুন আজাদকে ভালো থাকতে বলার মধ্যে আমি ত্রুটি দেখছি না। একজন পরকালবিশ্বাসী কি তাঁর নিজের মতো করে হুমায়ুন আজাদকে দেখতে পারেন না?
শ্রদ্ধার প্রকাশভঙ্গির স্বাতন্ত্র্যে আঙুল দেয়ার পক্ষ ততক্ষণ নেবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভব্যতার সীমা অতিক্রম না করে। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর কলকাতার মানুষ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির লোহার সিংহদ্বার ভেঙে তাঁর মরদেহ খাটিয়ায় করে বার করে এনেছিলো, তাঁর চুল-দাড়ি অনেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিচ্ছিলো স্যুভেনির হিসেবে। মৃত্যুপরবর্তী শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের এমন বীভৎস প্রকাশ নিশ্চয়ই অনুমোদন করবো না। "ভালো থাকার" ব্যাপারে হুমায়ুন আজাদ হয়তো অনুমোদন করতেন না অরূপের এমন প্রকাশ, কিন্তু তাঁকে ডিইফাই না করেও কি তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব নয়?
হুমায়ুন আজাদের প্রতিটি বাণী বা বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। আমার কাছে ভালো লাগে তাঁর লেখার ধার। এখন আমাকে কি তাঁর ছায়ায় থেকেই তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের দায় কাঁধে নিতে হবে? আমি কি আমার অবস্থানে থেকে তাঁকে স্মরণ করতে পারি না?
মৃত্যুর পর কোন অস্তিত্বে বিশ্বাসী নই আমি। আমি অরূপের পোস্টের শিরোনামের অর্থ করেছি এমন, হুমায়ুন আজাদের স্মৃতি অনির্বাণ থাকুক আমাদের মনে।
জিকোর জন্য:
---------
১. হুমায়ুন আজাদের নামের বানান ভুল লেখায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ঠিক করে দিলাম। অগাস্ট বানান আগস্ট হবে জেনে রাখলাম, সম্রাট অগাস্টাসকে যে বাংলায় আগস্টাস ডাকা হবে সেটা শোনার জন্য অধীর হয়ে বসে আছি।
২,৩,৪. বিস্মিত হলাম। বিস্ময় থেকে হতবাক,
জিকো ছেলেটা ভালো। ভালো ছেলেরা ভেবে চিন্তে কথা বলে। জিকোও বলে নিশ্চিত। কিন্তু সেই যৌক্তিক কাঠামোটা আমি ধরতে পারছি না, একেবারেই না।
এ বিষয়ে বিতর্কের শেষটা বেশ আগ্রহ নিয়ে শুনব।
-------------------------------------
রামছাগলের সামনে, খচ্চরের পেছনে আর নিবোর্ধের ধারেকাছে না থাকাই শ্রেয়!
২৪ | লিখেছেন জিকো (তারিখ: রবি, ১২/০৮/২০০৭ - ১:২৪পূর্বাহ্ন)
ক.
আমারও বানান ভুল হয়েছে। সবখানে লিখেছি পৌরণিক। হবে পৌরাণিক, পুরাণ থেকে যেহেতু। বেখেয়ালে লিখেছি, দুঃখিত।
খ.
ইংরেজি ছাঁদে উচ্চারণ হয় অগাস্ট, মানছি, রোমান সম্রাট অগাস্টাস নাম থেকে যার ব্যুৎপত্তি। (কথিত আছে, ব্যাটা অগাস্টাস ফেব্রুয়ারি থেকে দিন হরণ করে আগস্টকে ৩১ দিন করেছেন, ফেব্রুয়ারি তাই ২৮ দিনে। তারও আগে আগস্ট মাসের নাম ছিল সেক্সটিলিস।)
আর আগস্ট ঢুকে গেছে বাংলা শব্দভাণ্ডারে, অভিধানে, অনেকদিন থেকে। প্রমিত বাংলায় লিখা হয় আগস্ট। লোকে আগস্ট/অগাস্ট দুটোই লিখেন যদিও।
গ.
আমার চার নম্বর পয়েন্টের আগে (দ্র. প্রথম বক্তব্য) তিন নম্বর পয়েন্ট বলার কারণ, যেন ব্যক্তি-বিশ্বাস এবং সচলায়তন কর্তৃপক্ষের নোটিশ গুলিয়ে না যায়। ব্যক্তি অরূপের স্বাধীনতা আছে তার বিশ্বাস-অবিশ্বাসের, ব্লগে তার প্রিয় মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর, নিজস্ব ভঙ্গিতে।
তবে যখন সচলায়তন এরকম শ্রদ্ধা জানায় দিনব্যাপী সাইটের ব্যানার কালো রঙা করে, পোস্ট স্টিকি করে, এবং নির্দিষ্ট বিষয় ফোকাস করে কোনো লিংক দিয়ে, তখন সে শ্রদ্ধাকে পত্রিকার আদলে শোক উদযাপন মনে হয়। সে উদযাপনে কর্তৃপক্ষের সম্মতি ধরে নিয়েছি। [/* এবং নিয়েছি বলেই রবিঠাকুরশ্রদ্ধা ঘিরে স্ববিরোধিতার প্রসঙ্গ তোলা। বাইশে শ্রাবণে সচলায়তন কর্তৃপক্ষ যদি সারাদিন এই বলে পোস্ট ঝুলিয়ে রাখে সদস্যদের সামনে: রবীন্দ্রনাথ হোক বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস, আমি তাতে একমত হতে পারি না। রবিঠাকুরের কাজের চিন্তাভাবনা, মরমীবাদ, মতাদর্শ বাঙালির চিরন্তন প্রেরণা হোক, আমি তা চাই না। সেক্ষেত্রে বরং হুমায়ুন আজাদের বিশ্লেষণ বেশি সমর্থন পায় আমার কাছে। */]
অরূপের নোটিশকে কর্তৃপক্ষের ভেবে থাকলে, এবং শোকপ্রকাশের এ স্টাইলকে পত্রিকার আমেজ ভেবে থাকলে, সে ভাবনা আমার ভুল হতেই পারে। ভিন্নমতেও জোরালো যুক্তি দিতে পারেন। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারিনি, তখন অরূপের বক্তব্য না পাওয়ায়। আশা করেছিলাম, আমার চারটা পয়েন্ট নিয়ে তিনি বলবেন। সেই সাথে আমার বক্তব্যে রাগ করলে, সেটাও।
হিমু, ভাস্কর আমার মতামতের বিরোধিতা করেছেন। বিতর্কে অংশ নিয়েছেন বলে ধন্যবাদ।
ঘ.
অর্থবিজ্ঞানে metonym বলে একটা চমৎকার ব্যাপার আছে। বাংলা পরিভাষায় 'নামান্তর' সম্ভবত। সেই metonymy প্রয়োগ করে শ্রদ্ধা নানা রূপে উদ্ভাসিত হয়।
হিমু যেমন 'মৃত মানুষ ভালো থাকুন' নামান্তর করেছেন 'তার স্মৃতি অনির্বাণ থাকুক' হিসেবে। সুজন চৌধুরী 'বস্তুর কোন না কোন ফর্মে' থাকার সন্দেহ করেছেন। এরকম নানা অর্থে সয়লাব করতে পারেন।
আমি দেখেছি, শোকপ্রকাশে 'ভালো থাকুন' বলে মৃত্যুপরবর্তী জীবনে আত্মাশুদ্ধি কামনার্থে। সে অর্থে মৃত হুমায়ুন আজাদকে--জীবনভর যিনি পৌরাণিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখে গেছেন-- ভালো থাকুন বলাটা কেমন অর্থহীন মনে হয়। এই মনে হওয়া ভুল/ঠিক প্রমাণের নয়, বরং বিতর্কের। আমি হুমায়ুন আজাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি, একমত বলে। (দ্র. ভাষা নির্মাণে বিশ্বাসের অবচেতন প্রভাব।)
২৫ | লিখেছেন সবজান্তা (অচল - বর্ত্মানে পাইপলাইনে) (যাচাই করা হয়নি) (তারিখ: রবি, ১২/০৮/২০০৭ - ১:১৩পূর্বাহ্ন)
সহমত @ হিমু।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে নাস্তিক নই। কিন্তু আমি হুমায়ুন আজাদের অনেক বড় ভক্ত। তার সত্যি কথা বলার সৎ সাহস আমাকে মুগ্ধ করে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের, তথাকথিত ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে কলম সৈনিক হুমায়ুন আজাদের লেখার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কোন দিনও শেষ হবে না। কিন্তু আমি তার ধর্ম বিষয়ক কিছু মতের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে একমত না। অন্য দিকে রবীন্দ্র কাব্য এবং সঙ্গীত এর একজন অনুরাগী আমি অনেক আগের থেকেই। আমি ২ জনকেই ভালবাসি।কিন্তু জিকো ভাই এর কথা মতে, যে রবীন্দ্রনাথ কে পছন্দ করলে তার জন্য হুমায়ুন আজাদ নিষিদ্ধ । যৌক্তিকতা খুঁজে পেলাম না।
আরেকটি কথা, যদিও আমি আজাদ ফৌজ এর একজন অনুরাগী, তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি, সৈয়দ হকীয় ইস্যুতে হুমায়ুন আজাদের কিছুটা স্ববিরোধীতা আমার চোখে পড়েছে। বিশেষত তার প্রবচন গুচ্ছ তে অর্ন্তভুক্ত সাক্ষাৎকার এবং পরবর্তী তে আরেকটি পত্রিকাতে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্ন সুর খুঁজে পেয়েছিলাম।
পৃথিবীতে কেউই আদর্শ না, এই যুক্তিতে ব্যাপারটিকে আমি বড় করে দেখি নি।
কিন্তু জিকো ভাই এর কথা মতে, যে রবীন্দ্রনাথ কে পছন্দ করলে তার জন্য হুমায়ুন আজাদ নিষিদ্ধ।
নিষিদ্ধ!?
একেবারে taboo-এর পর্যায়ে নিয়ে গেলেন দেখি।
আমার বয়ানকে ডি'মরগানের সূত্র প্রয়োগের পর অতিসরলীকরণ না করলে এমন সিদ্ধান্তে আসা মুশকিল।
হুমায়ুন আজাদ রবিঠাকুরের ঈশ্বরের প্রতি মাথা অবনত করার বিপক্ষে কথা বলেছেন ঠিক। আবার অনেক কাজের অনুরক্ত ছিলেন, সৌন্দর্যবোধের প্রশংসা করেছেন। 'গোরা'-এর চেয়ে রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি' উপন্যাসকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। (বিস্তারিত : হুমায়ুন আজাদের একগুচ্ছ সাক্ষাৎকার/মোহাম্মদ আলী/২০০৬/নন্দিত প্রকাশনা)
এখানে স্ববিরোধিতা নেই। এমনকি রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ুন আজাদের ভাবনার সত্যতাও স্ববিরোধিতার মেকানিজম দিয়ে যাচাই করা যাবে না।
স্ববিরোধিতার (গণিত ও দর্শনশাস্ত্রে যা প্যারাডক্স) মূল আইডিয়া : প্রাথমিক কোনো ধারণাকে ভিত্তি ধরে যদি একাধিক আপাত সত্য সিদ্ধান্তে আসা যায়, আর সেসব সিদ্ধান্তের কোনো একটা যদি ঐ প্রাথমিক ধারণার পেটে ছুরি বসায়, তখন পুরো ব্যপারটা হয় স্ববিরোধী। এখন ভিত্তির ধারণাটা বাস্তবে সত্যি হতে পারে, নাও পারে। মেকানিজমের মাথাব্যাথা না সেটা। (দুঃখিত, লেকচার হিসেবে নেবেন না আমার কথা। আমার মূল বক্তব্যের স্বচ্ছতার জন্য অনুসঙ্গ হিসেবে বলা। আমার আশঙ্কা, 'স্ববিরোধিতা' নানা স্তরে অর্থ করে আগেই রাগ করে বসে আছেন সম্ভাব্য বিতার্কিক/পাঠক।)
স্ববিরোধিতা টের পাওয়া যাবে রবীন্দ্রনাথ থেকে হুমায়ুন আজাদে সিদ্ধান্ত টানলে, অথবা হুমায়ুন থেকে রবিঠাকুরে। খুবই পরিস্কার এ যৌক্তিক বিশ্লেষণ।
এবার প্যাঁচ লাগবে পরের ধাপে, দুজনকে শ্রদ্ধা করার সময় তাঁদের কোনো একজনকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস হিসেবে নিলে, গুরু হিসেবে মানলে। যদি বলেন, হুমায়ুন আজাদের কাজ থেকে গ্রহণ করবেন তাঁর ধারালো লেখনীশৈলী, আর রবীন্দ্রনাথ থেকে ঈশ্বরপ্রীতি, তখন বিতর্কের প্রসঙ্গ বদলে যায়। যা দাঁড়াতে পারে, তাঁদের কাজের মতাদর্শগত মূল্যায়ন না করে নিজের বক্তব্যকে তাদের মাধ্যমে সিদ্ধ করে নেয়া।
বিতর্কে এও উপলব্ধি করছি : ভালো লাগা, পছন্দ, ভক্তি, শ্রদ্ধা ইত্যাদি শব্দ ধোঁয়াটে হয়ে গেছে, শব্দার্থ আর সহজে বিনিময় করা যাচ্ছে না। তার জন্য আমিও দায়ী।
পড়ার পাশাপাশি আমি পরবর্তীতে লিখতে চাই, ভাষার রেপ্রিজেন্টেশন নিয়ে, এর সাংস্কৃতিক বিনিময়যোগ্যতা নিয়ে, ভাষা নির্মাণে (বিনির্মাণে?) আমাদের ধর্মসংক্রান্ত আবেগের প্রচ্ছন্ন প্রভাব নিয়ে, যুক্তির ফাঁদ নিয়ে, মরমীবাদের বুজরুকি নিয়ে, প্যারাডাইমের কচকচানি নিয়ে। ধাপে ধাপে, ধীরে ধীরে, সহজ প্রকাশে। এ বিষয়ে আপনাদের দেয়া রেফারেন্স/লেখাও পড়তে আগ্রহী।
ভাষা নির্মাণে অবচেতনে বিশ্বাসের প্রভাব নিয়ে জিকো আগেও একবার আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন, কিছুটা তিক্ত হয়ে গিয়েছিলো যদিও। এই প্রভাব প্রসঙ্গে জিকোর কাছ থেকে একটা ভরাট পোস্ট এর আশায় রইলাম। নানা অর্থে প্যাঁচের সয়লাব করা যায় যে কোন কিছুতেই। কেন এভাবে হলো, কেন ওভাবে হলো না। এতে করে লাভ হয় একটা, উপজাত হিসেবে তার্কিকদের কাছ থেকে নতুন আর স্বাদু পোস্ট পাওয়া যায়।
এবার প্যাঁচ লাগবে পরের ধাপে, দুজনকে শ্রদ্ধা করার সময় তাঁদের কোনো একজনকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস হিসেবে নিলে, গুরু হিসেবে মানলে। যদি বলেন, হুমায়ুন আজাদের কাজ থেকে গ্রহণ করবেন তাঁর ধারালো লেখনীশৈলী, আর রবীন্দ্রনাথ থেকে ঈশ্বরপ্রীতি, তখন বিতর্কের প্রসঙ্গ বদলে যায়। যা দাঁড়াতে পারে, তাঁদের কাজের মতাদর্শগত মূল্যায়ন না করে নিজের বক্তব্যকে তাদের মাধ্যমে সিদ্ধ করে নেয়া।
তাঁদের কাজের মতাদর্শগত মূল্যায়ন করে কি তৃতীয় একটি মত অবলম্বন করতে পারে না কেউ? হুমায়ুন আজাদের রচনায় তাঁর পঠননিষ্ঠতার পরিচয় পাওয়া যায়, বিভিন্ন প্রবন্ধের প্রায় প্রতি পৃষ্ঠাতেই তিনি নিজের বক্তব্যকে কোন গবেষকের "মাধ্যমে সিদ্ধ করে নিয়েছেন" বলে মনে হতে পারে। এতে কী ত্রুটি আছে বুঝতে পারছি না। মানুষ তার বক্তব্যের সমর্থন খোঁজে, নিরবচ্ছিন্নভাবে একা বকে যায় না। রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ুনের লেখায় সে সমর্থন মিলতেই পারে।
রবীন্দ্রনাথকে গুরু মানার ব্যাপারে যদি কারো আপত্তি থাকে, হুমায়ুনকেও গুরু মানার ব্যাপারে আপত্তি উঠতে পারে। মতাদর্শগত মূল্যায়ন করে ভিন্ন মতাদর্শ অবলম্বন করা যাবে না, এমন কোন জোরাজুরি তো কেউ করছে না।
কেউ যদি হুমায়ুনের ঈশ্বরবিতৃষ্ণা আর রবীন্দ্রনাথের লেখার ধার গ্রহণ করে, সেটাও কিন্তু একই "সিদ্ধ করে নেয়ার" দোষে দুষ্ট হয়। কাউকে ঠেলে রবীন্দ্র শিবিরে বা হুমায়ুন শিবিরে পাঠানোর কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না। রবীন্দ্র থেকে হুমায়ুনে "সিদ্ধান্ত টানার" ব্যাপারটা আরো অস্পষ্ট মনে হলো। রবীন্দ্রনাথ মারা গেলেন শ্রাবণ মাসে, হুমায়ুন আজাদ মারা গেলেন শ্রাবণ মাসে। তর্কের খাতিরে ধরে নিই, এ দু'জনের মাঝে কোন একটি দিন সুকুমার রায়ের মৃত্যুদিবস এবং তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানানো হলো। জিকো কি তখন বলতেন, সুকুমার থেকে হুমায়ুনে সিদ্ধান্ত টানার কথা?
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আজাদ তাঁর নিজের রচনা বাদে প্রায় সবার লেখাকেই তুলাধুনা করেছেন। "সিদ্ধান্ত টানার" পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হলে তাঁর উল্লেখই কঠিন হয়ে পড়বে দেখছি।
৩০ | লিখেছেন অতিথি (যাচাই করা হয়নি) (তারিখ: রবি, ১২/০৮/২০০৭ - ৫:৩২অপরাহ্ন)
জিকো সাহেব আপনার জন্য দুঃখিত, এতটা যৌক্তিক ব্যখ্যাদানের পরও লোকজনের না বুজঁতে চাওয়ার ভান দেখে! আরও আশ্চর্য লাগছে আমরা আসলেই কি করে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি সচরাচর বিষয়াবলীর প্রতি! আমার মনে হয় আপনি যথার্তভাবেই ব্যাখ্যাদানের চেষ্টা করেছেন...আসলেই বোদ্ধা মানুষজন যখন দুজন ভিন্ন বিশ্বাসী মানুষকে একঢংগে শ্রদ্ধা জানান, এতে মূলত তাদেরই অসম্মান জানানো হয়, এতে দৈনিক প্রত্রিকার সাথে সচলের পার্থক্য গৌণ হয়ে পরে। সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হয়, ভিন্ন ব্যখ্যাদানের পরিসর ছোট হয়ে আসে। ব্যক্তিগতভাবে আমি গুরুদক্ষিনা বা গুরুবন্ধনা বিরোধী ...ভয়ের ব্যাপার হলো এই ভক্তি আমাদের কলোনিয়াল মগজের গভীরে ঢুকে গেছে একেবারে নিজেদের অজান্তে...আর এই কারনেই তৃতীয়বিশ্বে হিরো হওয়া সহজ! যাইহোক অব্শ্যই শ্রদ্ধা জানানো হোক কিন্তু সে শ্রদ্ধারও ভিন্ন মাত্রা, ভিন্ন বয়ান চাই...অন্তত তাদের কাছ থেকে যারা ভিন্ন বয়ান শুনবেন-ভাববেন বলে নিজেদের এখনও মুক্ত রেখে চলেছেন...ধন্যবাদ জিকো আপনার ব্যক্তবের জন্যে...বিশেষ করে এই মেরুদন্ডহীন সময়ে সাহসী হওয়ার জন্যে...ভালো থাকুন
আসলেই বোদ্ধা মানুষজন যখন দুজন ভিন্ন বিশ্বাসী মানুষকে একঢংগে শ্রদ্ধা জানান, এতে মূলত তাদেরই অসম্মান জানানো হয়, এতে দৈনিক প্রত্রিকার সাথে সচলের পার্থক্য গৌণ হয়ে পরে।
জিকো সাহেব আপনার জন্য দুঃখিত, এতটা যৌক্তিক ব্যখ্যাদানের পরও লোকজনের না বুজঁতে চাওয়ার ভান দেখে! আরও আশ্চর্য লাগছে আমরা আসলেই কি করে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি সচরাচর বিষয়াবলীর প্রতি! আমার মনে হয় আপনি যথার্তভাবেই ব্যাখ্যাদানের চেষ্টা করেছেন...আসলেই বোদ্ধা মানুষজন যখন দুজন ভিন্ন বিশ্বাসী মানুষকে একঢংগে শ্রদ্ধা জানান, এতে মূলত তাদেরই অসম্মান জানানো হয়, এতে দৈনিক প্রত্রিকার সাথে সচলের পার্থক্য গৌণ হয়ে পরে। সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হয়, ভিন্ন ব্যখ্যাদানের পরিসর ছোট হয়ে আসে। ব্যক্তিগতভাবে আমি গুরুদক্ষিনা বা গুরুবন্ধনা বিরোধী ...ভয়ের ব্যাপার হলো এই ভক্তি আমাদের কলোনিয়াল মগজের গভীরে ঢুকে গেছে একেবারে নিজেদের অজান্তে...আর এই কারনেই তৃতীয়বিশ্বে হিরো হওয়া সহজ! যাইহোক অব্শ্যই শ্রদ্ধা জানানো হোক কিন্তু সে শ্রদ্ধারও ভিন্ন মাত্রা, ভিন্ন বয়ান চাই...অন্তত তাদের কাছ থেকে যারা ভিন্ন বয়ান শুনবেন-ভাববেন বলে নিজেদের এখনও মুক্ত রেখে চলেছেন...ধন্যবাদ জিকো আপনার ব্যক্তবের জন্যে...বিশেষ করে এই মেরুদন্ডহীন সময়ে সাহসী হওয়ার জন্যে...ভালো থাকুন
(নামটা দিতে ভূলে গেছিলাম, ভাবলাম মানুষকে গালি দিতেওতো একটা নাম লাগে, তাছাড়া বন্ধু অলৌকিক বল্লেন এইটা নাকি ভন্ডামী, তাই নাম লেখাটা বাঞ্চনীয় মনে হলো...এত নাকামীমার্কা ফিরিস্তির জন্য দুঃখিত...ধ্রুব)
শুধু তর্কের জন্য তর্ক করে কী লাভ? হতে পারে, তর্ক করার যোগ্যতাই আমার নেই । হুমায়ুন আজাদের শেষ পাঁচ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সুলতানা আজীমের বই 'তিনি এখন মুক্ত ' পড়া শেষ করে সচলায়তনে উঁকি দিতে আসা। বইটি তেমন প্রচার পায়নি। তবে খুবই সংবেদনশীল। যারা পড়েননি, পড়ে দেখতে পারেন।
মন্তব্য
ধন্যবাদ অরূপ ।
-----------------------------------
'আমি ও অনন্তকাল এইখানে পরস্পর বিস্ময়ে বিঁধে আছি'
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।
হুমায়ূন আজাদের পরিচিতিতে 'বিতর্কিত' শব্দপ্রয়োগ কি খুব জরুরী? কাদের কাছে আজাদ 'বিতর্কিত'? আজাদের কোন ভূমিকা নিয়ে আমাদের বিতর্কের সুযোগ আছে?
-----------------------------------
'আমি ও অনন্তকাল এইখানে পরস্পর বিস্ময়ে বিঁধে আছি'
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।
:)কৃতজ্ঞতা ।
-----------------------------------
'আমি ও অনন্তকাল এইখানে পরস্পর বিস্ময়ে বিঁধে আছি'
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।
১.
সঠিক বানান 'হুমায়ুন আজাদ'। দীর্ঘ ঊ-কার নেই তাঁর নামের বানানে। আর বাংলায় লেখা হয় আগস্ট বানানে, অগাস্ট নয়।
২.
মৃত মানুষকে 'ভালো থাকুন' বলা অর্থহীন। বিশেষ করে হুমায়ুন আজাদকে শ্রদ্ধার বেলায় তো নয়ই। হুমায়ুন আজাদ বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, পৌরণিক আবেগ আমাদের ভাষাকে অবচেতনভাবে নির্মাণ করে।
৩.
আমি একটা অনুরোধ করেছিলাম : সাইট কর্তৃপক্ষের সব নোটিশ/বিজ্ঞপ্তি/বার্তা যেন 'সচলায়তন' নিকে পোস্ট করা হয়। এমনও করা যেতে পারে, কর্তৃপক্ষ প্যানেল সদস্যদের দুই-তৃতীয় সমর্থন না পেলে কোনো নোটিশ প্রথম পাতায় প্রকাশ করা হবে না, পেন্ডিং থাকবে।
শুনে ভাবছেন, এত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন কী, সাইটের সবাই তো কমবেশি চেনা। কিন্তু সাইট তত্ত্বাবধানে, ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণে, ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি মোকাবেলায় এই ফরমাল টোনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করি।
৪.
পুরনো অনুরোধের কথা আবার মনে হলো, গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি ব্যক্তির মৃত্যুদিনে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের উদ্যোগ দেখে। সচলায়তন সাইটকে দৈনিক পত্রিকার আমেজে দেখতে চাই না। পত্রিকাগুলো বিশেষ দিনে এমন সব ব্যক্তিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়, ক্রোড়পত্র ছাপায়। শ্রদ্ধা করুক বা না করুক, আসেযায় না, উদ্দেশ্য যেহেতু বাণিজ্যিক। দেখা যায় এক পাতায় হুমায়ুন আজাদের অকুণ্ঠ গুণগান, অন্য পাতায় হয়তো কোনো পৌরণিক বিশ্বাস সংক্রান্ত 'ফজিলতনামা'। আবার বিজ্ঞান পাতায় তারা স্টিফেন হকিংয়ের জয়গান করে, কসমোলজি ফলায়; আবার অন্য পাতায় নিয়ম করে রাশিচক্র ছাপায়। এরকম অসংখ্য স্ববিরোধিতায় ভরা মূলধারার মিডিয়া।
আমার দৃষ্টিতে, সচলায়তন সাইটের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হুমায়ুন আজাদকে যুগপৎ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এরকম স্ববিরোধিতা।
যাঁরা হুমায়ুন আজাদের লেখা ও মতাদর্শের সঙ্গে পরিচিত, তাঁরা জানেন রবিঠাকুরকে কীভাবে তুলোধুনো করেছেন ড. আজাদ। হুমায়ুন আজাদ তাঁর 'নারী' গ্রন্থে লিখেছেন :
(অনলাইনে পড়ুন (পিডিএফ | ৩৭ কিলোবাইট) : রবীন্দ্রনাথের চোখে 'নারী')
অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে লেখা হয়েছে: "রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকুন প্রতিটি বাঙালীর অন্তরে.. রবীন্দ্রনাথ হোন চিরন্তন প্রেরণার উৎস.."
বেশ খোলা বিতর্ক চলতে পারে এই রবীন্দ্র-মিম নিয়ে।
তেমনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া, মহাত্মা গান্ধীসহ খ্যাতিমান মানুষদের যে প্রচলিত ইমেজ গেঁথে আছে আমাদের মগজে, তাকে ভেঙে দেখতে চাই, তার ভিন্নপাঠ প্রত্যাশা করি সচলায়তনের সদস্যের কাছে।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
জিকোর যুক্তি খুব জুইতের লাগলো না। স্ববিরোধে সমস্যা কি...মানুষ কি নিজের সাথে বিরোধ করতে করতে বড় হইতে পারে না!? হুমায়ুন আজাদরে আমি যদ্দূর চিনতাম...তাতে তারেও আমার স্ববিরোধহীন মানুষ মনে হয় নাই।
হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুদিবসে তার প্রতি শ্রদ্ধা বলবৎ রাইখাই তো আমরা ব্যক্তিগত জীবনের অনেক হাসি ঠাট্টা করনের সম্ভাবনা রাখি...এইগুলি করন যাইবো না?
আর এইরম মতাবলম্বী ব্লগসাইট বা রাইটার্স ফোরাম যা'ই কই না কেন...সেইটা এই আধুনিকতা উত্তরকালে কোনভাবেই যৌক্তিক ঠেকে না। এইখানে জামাত বা স্বাধীনতা বিরোধী কোন শক্তি নাই বইলা রবিবাবু আর হুমায়ুন আজাদ সাহেবের একসাথে প্রেজেন্স থাকবো না...সেইটা শুনতেও অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
মানুষ নিজের সাথে বিরোধিতা করে, করতে পারে এবং সেরকম স্ববিরোধিতার মাঝেই বড় হয়। ঠিক করে বললে, বড় হতে হয়। তাই বলে কি আমরা স্ববিরোধিতায় বাস করতে চাই? এই মুহূর্তে যা মানি, পরক্ষণে তার বিরোধিতা করবো?
"স্ববিরোধিতায় সমস্যা কী", এমন জিজ্ঞাসার পর আমার উত্তর দেয়ার পরিসর ছোট হয়ে যায়।
আমার আগের বক্তব্যে আরেকটা অনুসঙ্গ উল্লেখ করেছি অনুরোধ আকারে, মূলধারার মিডিয়ার আমেজে সচলায়তনকে দেখতে চাই না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা হুমায়ুন আজাদের শ্রদ্ধায় বরং উঠে আসুক তাঁদের কাজের-বক্তব্যের স্ববিরোধিতা, ভিন্নপাঠ, নানা মাত্রায় বিশ্লেষণসহ।
২.
ভাস্কর লিখেছেন :
কারণ হিসেবে জামাত বা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কথা উল্লেখ করিনি কোথাও।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
এই মুহুর্তে যা কইতেছি তারে পরক্ষণে বিরোধ করতেই পারি, যদি যৌক্তিকভাবে মনে হয় যে পূর্বক্ষণে ভুল কইছিলাম। পূর্ন সত্যের খোজ বইলা কোন তাগীদ বিজ্ঞানও মনে হয় না সমর্থন করে। পরম সত্য বইলা কিছু ধর্ম ছাড়া আর কোথাও পাওন যায় না মনে হয়। যেই মানুষ মনে করে যে এইক্ষণে যাহা বলা হইলো তা সর্বক্ষণেই সত্য সেই মানুষের আর কোথাও যাওয়া হইবো না। আর তাই কেউ যদি স্ববিরোধের চক্করে পরে তারে আমার খুব ঝামেলার মনে হয় না। এইটা হইতেই পারে। যদিও আধুনিক জমানার বিশ্বাসের তত্ত্ব অনুযায়ী তর্ক এমনেই চলে সাধারনতঃ...
মূলধারার মিডিয়া আমেজে কি দেখতে চাই ব্যাপারটা আসলে খুব আপেক্ষিক...সচলায়তন এমনেই একটু ক্লোজ্ড গ্রুপ ফর্ম্যাটে বান্ধা...এইটারে আরো বন্ধ করতে আমি নিজে খুব উৎসাহিত মানুষ না। সচলায়তনে শুধু আমরা আর মামারা বইসা বইসা আসলে কি করতে চাইবো?
তয়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা হুমায়ুন আজাদের শ্রদ্ধায় বরং উঠে আসুক তাঁদের কাজের-বক্তব্যের স্ববিরোধিতা, ভিন্নপাঠ, নানা মাত্রায় বিশ্লেষণসহ।
এই বক্তব্যের সপক্ষে আছি আমি...কিন্তু সেইটা ঐ ব্যানার রাইখাও, শ্রদ্ধা রাইখাও চলতে পারে...
আমার বাক্যস্থিত ভুলগুলি খুব পীড়াদায়ক হইতেছে মনে হয়...আমি বলতে চাই এক মানুষ বোঝে আরেক...আমি কইতে চাইছিলাম জামাত বা স্বাধীনতাবিরোধীরা এই গ্রুপে নিষিদ্ধ ঠিক আছে, কিন্তু রবিবাবু বা হুমায়ুন আজাদের যেকোন একজনরেও বাদ দিতে হইবো এইটা আমি মানতে পারলাম না। জামাত শিবিরের উদাহরণটা আমার আরোপিত, ঐটাতে আপনের কোন ভূমিকা নাই...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
স্বপ্নের মতোন মিলেছি সংশয়ে...সংশয় কাটলেই যেনো মৃত্যু আলিঙ্গন...
জিকো সাহেব
২ নম্বর যুক্তিটা খোড়া
কারণ মরলে মানুষ পঞ্চত্বে বিলীন হয়, আর বস্তুর অবিনাশীতা বাদ সূত্রানুযায়ী তিনি বস্তুর কোন না কোন ফর্মে আছেন , তাঁরে ভালো থাকার অনুরোধ করলে সমস্যাটা কোথায় ?
____________________________
লাল গানে নীল সুর হাসি হাসি গন্ধ......
লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ
জিকো প্রথমত আপনাকে আমি সমর্থন করি,
দ্বিতীয়ত আমি আপনাকে সমর্থন করি,
তৃতীয়ত আমি আপনাকে সমর্থন করি,
শেষ পর্যন্ত আর সমর্থন দিতে পারলামনা ।
ভিন্ন মত হলো, দৈনিক সংবাদ পত্রগুলো এক দিকে যেমন বানিজ্যিক অন্যদিকে বিভিন্ন পেশা শ্রেনী মানুষকে টার্গেট করে সংবাদ কিংবা তথ্য পরিবেশন করে। এখানে হকিংস ভক্ত যেমন আছেন তেমনি অনেক পাঠক ভক্ত আছেন যিনি খবরের কাগজের শিরোনাম না দেখে আগে রাশি চক্র পড়েন। ব্লগেও কেউ ভালো বাসেন রাজনীতি,কেউ ফিল্ম,কেউ প্রকৃতি,কেউ হয়তো ফজিলত নামা ।
তাই ব্লগেও মতামত,আদর্শ আর বিশ্বাসের প্লাটফর্মটা উন্মুক্তই থাকা উচিত।
গ্রহন এবং বর্জনের সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার, বিতর্কের পথও আপনার জন্য খোলা।
-------------------------
জল ভরো সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ।
হাসি মুখে কওনা কথা সঙ্গে নাই মোর কেউ।
-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে
থার্ড আই :
দৈনিক সংবাদপত্র বিভিন্ন পেশা শ্রেণী মানুষকে টার্গেট করে সংবাদ/তথ্য পরিবেশন করবে-- এর বিরোধী কোনো পয়েন্ট বলিনি।
অবশ্যই গণমাধ্যম বিভিন্ন নানা পেশা,বয়স,শ্রেণীর পাঠকদর্শকদের জন্য কনটেন্ট সরবরাহ করবে।
আমি বলতে চেয়েছি, মিডিয়ায় (নৈতিক) স্ববিরোধিতার অস্তিত্ব নিয়ে। উদাহরণ, মিডিয়া একইসাথে বিজ্ঞান ও অপবিজ্ঞান প্রচার করে। এক চ্যানেলে সকাল বেলার প্রামাণ্য অনুষ্ঠান, জ্যোতিষশাস্ত্র যে স্রেফ অপবিজ্ঞান তা নিয়ে।
সেখানেই সন্ধায় আরেক জ্যোতিষশাস্ত্র বিয়ষক অনুষ্ঠান, আপনার ভাগ্য সেদিন কেমন যাবে, তা নিয়ে। বিষয়টা স্ববিরোধিতার এবং নৈতিক।
কর্তৃপক্ষ কি সচেতন নন নাকি সচেতন থেকেও ভাগ্যবিশ্বাসী দর্শকে চ্যানেলের ভোক্তা করার স্বার্থে কনটেন্ট বিলিয়ে যাবে?
#
আমি একমত, গ্রাহক(পাঠক/দর্শক) কোনটা গ্রহণ-বর্জন করবেন, সেটা তাঁর পছন্দ।
তবে কনটেন্ট প্রচারক/পরিবেশক হিসেবে আমার গ্রহণ-বর্জনের নৈতিক মানদণ্ড কী, সেটায় স্বচ্ছ ও সচেতন থাকা দরকার।
আমার বক্তব্যটি পরিবেশকদের স্ববিরোধিতা নিয়ে, গ্রাহকদের গ্রহণ-বর্জন নিয়ে নয়।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
রবীন্দ্রনাথ আর হুমায়ুন আজাদকে যুগপৎ শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে স্ববিরোধিতাটা ঠিক ধরতে পারলাম না। হুমায়ুন আজাদ যাদের তুলাধুনা করেননি, তাদেরকেই কেবল শ্রদ্ধা জানানো উচিত? নাকি যারা গদগদ ভাষায় রবিস্তব গেয়েছেন, কেবল তাদেরই শ্রদ্ধা জানাতে হবে? পাঠক হিসেবে আমি রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী হতে পারি, আবার হুমায়ুন আজাদের রচনাশৈলীও আমার ভালো লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ কী বলে গেছেন, সেটাকে বেদবাক্য আমি না ধরেও নিতে পারি। নাকি?
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অনেকেই কঠোর মন্তব্য করেছেন নানা সময়ে, তাদের কোন কীর্তি যে শ্রদ্ধার যোগ্য হবে না, এবং রবীন্দ্রনাথের স্মরণ করা হয়েছে এমন কোন স্থানে উল্লেখ করা যাবে না, এ কেমন যুক্তি?
হাঁটুপানির জলদস্যু
'রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী' মানে কি? তাঁর গানের কথায় একমত? তার লেখনীশৈলীর সাহিত্যিক মানে মুগ্ধ? তাঁর ভাববাদের সঙ্গে একমত?
তেমনি 'হুমায়ুন আজাদ'-এর রচনা ভালো লাগা বলতে কী বোঝাই? পৌরণিক বিশ্বাস নিয়ে, ভাববাদের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী ধারালো লেখনী? নাকি তাঁর ভাষাবিজ্ঞানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ?
যখন 'রবীন্দ্রনাথ' বা 'হুমায়ুন আজাদ' এর কথা বলি, তখন কী বুঝি? রবীন্দ্রনাথ যেমন শুধু গানের রচয়িতা নন, হুমায়ুন আজাদও তেমনি শুধু নারী'-এর রচয়িতা নন। তাঁদের সারা জীবনের কাজ, মতাদর্শ বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন ও অবকাশ আছে আমাদের।
শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যেন আমরা রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ুন আজাদ বা অন্য কাউকে গুরুর পর্যায়ে না ফেলি, বেদবাক্য ধরে না নিই।
যেমনটা আশা করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানানোর সময় : তিনি বেঁচে থাকুন প্রতিটি বাঙালির অন্তরে, তিনি হোন চিরন্তন প্রেরণার উৎস।
এরকম বক্তব্য ও বিশ্লেষণ দৈনিক পত্রিকায়, মূলধারার মিডিয়ায় শুনি। কিন্তু শুনি না ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিশ্লেষণ।
রবিঠাকুর এবং আজাদের মতাদর্শকে পাশাপাশি বিশ্লেষণ করলে বৈপরীত্যের সন্ধান পাই, মতাদর্শগতভাবে এক করতে পারি না দুজনকে। সেখান থেকেই স্ববিরোধিতার কথা তোলা।
এ বিষয়ে আপনাদের ভিন্ন মতামত শুনতে চাই।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
এখানেই তো ব্যাপারটার সৌন্দর্য। যে পোস্টে রবীন্দ্রনাথকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস বলা হচ্ছে, সেখানেই আমরা ভিন্নকথনের সুযোগ পাচ্ছি, ভিন্নপাঠের ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথকে কেউ যদি গুরু মানতে চায়, তাহলে অপর কেউ তাঁকে গুরু মানতে অস্বীকৃতিও জানাতে পারছে।
রবিঠাকুরকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস বলাতেও আমি আপত্তি করবো না। কারণ এই উচ্চারণের সাথে সাথেই একটি ভিন্ন কণ্ঠের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে রবিঠাকুরকে নবীঠাকুরে রূপান্তর না করার বক্তব্য দেয়ার জন্য।
সমস্যা ধরতে পারছি না আসলে। আমার কাছে তো মনে হয়েছে, শ্রদ্ধা জানানোর সাথে সাথে একটি আলোচনার ক্ষেত্রও প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে, নাকি?
হাঁটুপানির জলদস্যু
জিকোর কমেন্ট পড়ে একটু কনফিউজড ছিলাম।
হিমুর বক্তব্যের সাথে তাই একমত।
-----------------------------------
কিস্তিমাতের যুদ্ধ শেষে,সাদাকালো ঘুটিগুলো এক বাক্সেই ফেরত যাবে...
হিমু@বিপ্লব
-------------------------------------------------
আমি ভালবাসি বিজ্ঞান
আমি ঘৃণা করি জামাত॥
কাউকে শ্রদ্ধা করা মানে তার সমস্ত বিশ্বাস আমার বিশ্বাস হিসেবে মানতে হবে তা কেন? একদম আমার বিশ্বাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি পজিটিভ কিছু (আমার দৃষ্টিতে) করে থাকেন তাহলে তাকে সম্মান না দেখানোটা গোঁড়ামী। তবে একটা স্পষ্ট লাইন টানা উচিত কোথায় গিয়ে আমাদের থামতে হবে। মতের পার্থক্য নয় মত বিরোধ অনুযায়ী এই পার্থক্যটা দাঁড়া করতে হবে অবশ্যই।
হুমায়ুন আজাদ কে শ্রদ্ধা।
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির
শ্রদ্ধা
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল
------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল
আগস্ট বানানে, অগাস্ট নয়
জিকোর ১ আর ২ নম্বর পয়েন্টের সাথে আমি একমত। নামের বানান ঠিক করা হোক। আর হুমায়ুন আজাদ নিজে যেখানে নাস্তিক, সেখানে ভাল থাকুন বলে তাঁর বিশ্বাসের অবমাননা করা হয়।
৪ নম্বর পয়েন্টটা কোন কাজের না, আমি নিজে স্ববিরোধিতার কিছু দেখলাম না। হিমু ভাইয়ের সাথে ১০০% একমত।
তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে
হুমায়ুন আজাদকে ভালো থাকতে বলার মধ্যে আমি ত্রুটি দেখছি না। একজন পরকালবিশ্বাসী কি তাঁর নিজের মতো করে হুমায়ুন আজাদকে দেখতে পারেন না?
শ্রদ্ধার প্রকাশভঙ্গির স্বাতন্ত্র্যে আঙুল দেয়ার পক্ষ ততক্ষণ নেবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভব্যতার সীমা অতিক্রম না করে। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর কলকাতার মানুষ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির লোহার সিংহদ্বার ভেঙে তাঁর মরদেহ খাটিয়ায় করে বার করে এনেছিলো, তাঁর চুল-দাড়ি অনেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিচ্ছিলো স্যুভেনির হিসেবে। মৃত্যুপরবর্তী শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের এমন বীভৎস প্রকাশ নিশ্চয়ই অনুমোদন করবো না। "ভালো থাকার" ব্যাপারে হুমায়ুন আজাদ হয়তো অনুমোদন করতেন না অরূপের এমন প্রকাশ, কিন্তু তাঁকে ডিইফাই না করেও কি তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব নয়?
হুমায়ুন আজাদের প্রতিটি বাণী বা বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। আমার কাছে ভালো লাগে তাঁর লেখার ধার। এখন আমাকে কি তাঁর ছায়ায় থেকেই তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের দায় কাঁধে নিতে হবে? আমি কি আমার অবস্থানে থেকে তাঁকে স্মরণ করতে পারি না?
মৃত্যুর পর কোন অস্তিত্বে বিশ্বাসী নই আমি। আমি অরূপের পোস্টের শিরোনামের অর্থ করেছি এমন, হুমায়ুন আজাদের স্মৃতি অনির্বাণ থাকুক আমাদের মনে।
হাঁটুপানির জলদস্যু
জিকোর জন্য:
---------
১. হুমায়ুন আজাদের নামের বানান ভুল লেখায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ঠিক করে দিলাম। অগাস্ট বানান আগস্ট হবে জেনে রাখলাম, সম্রাট অগাস্টাসকে যে বাংলায় আগস্টাস ডাকা হবে সেটা শোনার জন্য অধীর হয়ে বসে আছি।
২,৩,৪. বিস্মিত হলাম। বিস্ময় থেকে হতবাক,
জিকো ছেলেটা ভালো। ভালো ছেলেরা ভেবে চিন্তে কথা বলে। জিকোও বলে নিশ্চিত। কিন্তু সেই যৌক্তিক কাঠামোটা আমি ধরতে পারছি না, একেবারেই না।
এ বিষয়ে বিতর্কের শেষটা বেশ আগ্রহ নিয়ে শুনব।
-------------------------------------
রামছাগলের সামনে, খচ্চরের পেছনে আর নিবোর্ধের ধারেকাছে না থাকাই শ্রেয়!
আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি শিরোনামে, ব্যানারে হুমায়ুন বানানটা ঠিক করা যায় না?
জ্বি, ভালো ছেলে নই, তবে আমি যে ভেবেচিন্তে কথা বলি, সেটা নিশ্চিত।
আমি আন্তরিক চেষ্টা করেছি যৌক্তিক কাঠামো ব্যাখ্যায়। শুনতে থাকুন বিতর্ক, আমাকে ওইরম বকা না দিয়ে।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
হাঁটুপানির জলদস্যুর সাথে একমত।
গুণী লোকদের স্মরণ করলে খবরের কাগজ হয় এইটা আবার কোন ফর্মুলা ?
আর পোস্টাতো অরূপ করছে সচলায়তন না।
তা করলেই কি আর না করলেই কি ?
____________________________
লাল গানে নীল সুর হাসি হাসি গন্ধ......
লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ
ক.
আমারও বানান ভুল হয়েছে। সবখানে লিখেছি পৌরণিক। হবে পৌরাণিক, পুরাণ থেকে যেহেতু। বেখেয়ালে লিখেছি, দুঃখিত।
খ.
ইংরেজি ছাঁদে উচ্চারণ হয় অগাস্ট, মানছি, রোমান সম্রাট অগাস্টাস নাম থেকে যার ব্যুৎপত্তি। (কথিত আছে, ব্যাটা অগাস্টাস ফেব্রুয়ারি থেকে দিন হরণ করে আগস্টকে ৩১ দিন করেছেন, ফেব্রুয়ারি তাই ২৮ দিনে। তারও আগে আগস্ট মাসের নাম ছিল সেক্সটিলিস।)
আর আগস্ট ঢুকে গেছে বাংলা শব্দভাণ্ডারে, অভিধানে, অনেকদিন থেকে। প্রমিত বাংলায় লিখা হয় আগস্ট। লোকে আগস্ট/অগাস্ট দুটোই লিখেন যদিও।
গ.
আমার চার নম্বর পয়েন্টের আগে (দ্র. প্রথম বক্তব্য) তিন নম্বর পয়েন্ট বলার কারণ, যেন ব্যক্তি-বিশ্বাস এবং সচলায়তন কর্তৃপক্ষের নোটিশ গুলিয়ে না যায়। ব্যক্তি অরূপের স্বাধীনতা আছে তার বিশ্বাস-অবিশ্বাসের, ব্লগে তার প্রিয় মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর, নিজস্ব ভঙ্গিতে।
তবে যখন সচলায়তন এরকম শ্রদ্ধা জানায় দিনব্যাপী সাইটের ব্যানার কালো রঙা করে, পোস্ট স্টিকি করে, এবং নির্দিষ্ট বিষয় ফোকাস করে কোনো লিংক দিয়ে, তখন সে শ্রদ্ধাকে পত্রিকার আদলে শোক উদযাপন মনে হয়। সে উদযাপনে কর্তৃপক্ষের সম্মতি ধরে নিয়েছি। [/* এবং নিয়েছি বলেই রবিঠাকুরশ্রদ্ধা ঘিরে স্ববিরোধিতার প্রসঙ্গ তোলা। বাইশে শ্রাবণে সচলায়তন কর্তৃপক্ষ যদি সারাদিন এই বলে পোস্ট ঝুলিয়ে রাখে সদস্যদের সামনে: রবীন্দ্রনাথ হোক বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস, আমি তাতে একমত হতে পারি না। রবিঠাকুরের কাজের চিন্তাভাবনা, মরমীবাদ, মতাদর্শ বাঙালির চিরন্তন প্রেরণা হোক, আমি তা চাই না। সেক্ষেত্রে বরং হুমায়ুন আজাদের বিশ্লেষণ বেশি সমর্থন পায় আমার কাছে। */]
অরূপের নোটিশকে কর্তৃপক্ষের ভেবে থাকলে, এবং শোকপ্রকাশের এ স্টাইলকে পত্রিকার আমেজ ভেবে থাকলে, সে ভাবনা আমার ভুল হতেই পারে। ভিন্নমতেও জোরালো যুক্তি দিতে পারেন। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারিনি, তখন অরূপের বক্তব্য না পাওয়ায়। আশা করেছিলাম, আমার চারটা পয়েন্ট নিয়ে তিনি বলবেন। সেই সাথে আমার বক্তব্যে রাগ করলে, সেটাও।
হিমু, ভাস্কর আমার মতামতের বিরোধিতা করেছেন। বিতর্কে অংশ নিয়েছেন বলে ধন্যবাদ।
ঘ.
অর্থবিজ্ঞানে metonym বলে একটা চমৎকার ব্যাপার আছে। বাংলা পরিভাষায় 'নামান্তর' সম্ভবত। সেই metonymy প্রয়োগ করে শ্রদ্ধা নানা রূপে উদ্ভাসিত হয়।
হিমু যেমন 'মৃত মানুষ ভালো থাকুন' নামান্তর করেছেন 'তার স্মৃতি অনির্বাণ থাকুক' হিসেবে। সুজন চৌধুরী 'বস্তুর কোন না কোন ফর্মে' থাকার সন্দেহ করেছেন। এরকম নানা অর্থে সয়লাব করতে পারেন।
আমি দেখেছি, শোকপ্রকাশে 'ভালো থাকুন' বলে মৃত্যুপরবর্তী জীবনে আত্মাশুদ্ধি কামনার্থে। সে অর্থে মৃত হুমায়ুন আজাদকে--জীবনভর যিনি পৌরাণিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখে গেছেন-- ভালো থাকুন বলাটা কেমন অর্থহীন মনে হয়। এই মনে হওয়া ভুল/ঠিক প্রমাণের নয়, বরং বিতর্কের। আমি হুমায়ুন আজাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি, একমত বলে। (দ্র. ভাষা নির্মাণে বিশ্বাসের অবচেতন প্রভাব।)
বকবক শোনার জন্য ধন্যবাদ।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
সহমত @ হিমু।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে নাস্তিক নই। কিন্তু আমি হুমায়ুন আজাদের অনেক বড় ভক্ত। তার সত্যি কথা বলার সৎ সাহস আমাকে মুগ্ধ করে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের, তথাকথিত ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে কলম সৈনিক হুমায়ুন আজাদের লেখার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কোন দিনও শেষ হবে না। কিন্তু আমি তার ধর্ম বিষয়ক কিছু মতের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে একমত না। অন্য দিকে রবীন্দ্র কাব্য এবং সঙ্গীত এর একজন অনুরাগী আমি অনেক আগের থেকেই। আমি ২ জনকেই ভালবাসি।কিন্তু জিকো ভাই এর কথা মতে, যে রবীন্দ্রনাথ কে পছন্দ করলে তার জন্য হুমায়ুন আজাদ নিষিদ্ধ । যৌক্তিকতা খুঁজে পেলাম না।
আরেকটি কথা, যদিও আমি আজাদ ফৌজ এর একজন অনুরাগী, তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি, সৈয়দ হকীয় ইস্যুতে হুমায়ুন আজাদের কিছুটা স্ববিরোধীতা আমার চোখে পড়েছে। বিশেষত তার প্রবচন গুচ্ছ তে অর্ন্তভুক্ত সাক্ষাৎকার এবং পরবর্তী তে আরেকটি পত্রিকাতে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্ন সুর খুঁজে পেয়েছিলাম।
পৃথিবীতে কেউই আদর্শ না, এই যুক্তিতে ব্যাপারটিকে আমি বড় করে দেখি নি।
সবজান্তা :
নিষিদ্ধ!?
একেবারে taboo-এর পর্যায়ে নিয়ে গেলেন দেখি।
আমার বয়ানকে ডি'মরগানের সূত্র প্রয়োগের পর অতিসরলীকরণ না করলে এমন সিদ্ধান্তে আসা মুশকিল।
হুমায়ুন আজাদ রবিঠাকুরের ঈশ্বরের প্রতি মাথা অবনত করার বিপক্ষে কথা বলেছেন ঠিক। আবার অনেক কাজের অনুরক্ত ছিলেন, সৌন্দর্যবোধের প্রশংসা করেছেন। 'গোরা'-এর চেয়ে রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি' উপন্যাসকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। (বিস্তারিত : হুমায়ুন আজাদের একগুচ্ছ সাক্ষাৎকার/মোহাম্মদ আলী/২০০৬/নন্দিত প্রকাশনা)
এখানে স্ববিরোধিতা নেই। এমনকি রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ুন আজাদের ভাবনার সত্যতাও স্ববিরোধিতার মেকানিজম দিয়ে যাচাই করা যাবে না।
স্ববিরোধিতার (গণিত ও দর্শনশাস্ত্রে যা প্যারাডক্স) মূল আইডিয়া : প্রাথমিক কোনো ধারণাকে ভিত্তি ধরে যদি একাধিক আপাত সত্য সিদ্ধান্তে আসা যায়, আর সেসব সিদ্ধান্তের কোনো একটা যদি ঐ প্রাথমিক ধারণার পেটে ছুরি বসায়, তখন পুরো ব্যপারটা হয় স্ববিরোধী। এখন ভিত্তির ধারণাটা বাস্তবে সত্যি হতে পারে, নাও পারে। মেকানিজমের মাথাব্যাথা না সেটা। (দুঃখিত, লেকচার হিসেবে নেবেন না আমার কথা। আমার মূল বক্তব্যের স্বচ্ছতার জন্য অনুসঙ্গ হিসেবে বলা। আমার আশঙ্কা, 'স্ববিরোধিতা' নানা স্তরে অর্থ করে আগেই রাগ করে বসে আছেন সম্ভাব্য বিতার্কিক/পাঠক।)
স্ববিরোধিতা টের পাওয়া যাবে রবীন্দ্রনাথ থেকে হুমায়ুন আজাদে সিদ্ধান্ত টানলে, অথবা হুমায়ুন থেকে রবিঠাকুরে। খুবই পরিস্কার এ যৌক্তিক বিশ্লেষণ।
এবার প্যাঁচ লাগবে পরের ধাপে, দুজনকে শ্রদ্ধা করার সময় তাঁদের কোনো একজনকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস হিসেবে নিলে, গুরু হিসেবে মানলে। যদি বলেন, হুমায়ুন আজাদের কাজ থেকে গ্রহণ করবেন তাঁর ধারালো লেখনীশৈলী, আর রবীন্দ্রনাথ থেকে ঈশ্বরপ্রীতি, তখন বিতর্কের প্রসঙ্গ বদলে যায়। যা দাঁড়াতে পারে, তাঁদের কাজের মতাদর্শগত মূল্যায়ন না করে নিজের বক্তব্যকে তাদের মাধ্যমে সিদ্ধ করে নেয়া।
বিতর্কে এও উপলব্ধি করছি : ভালো লাগা, পছন্দ, ভক্তি, শ্রদ্ধা ইত্যাদি শব্দ ধোঁয়াটে হয়ে গেছে, শব্দার্থ আর সহজে বিনিময় করা যাচ্ছে না। তার জন্য আমিও দায়ী।
পড়ার পাশাপাশি আমি পরবর্তীতে লিখতে চাই, ভাষার রেপ্রিজেন্টেশন নিয়ে, এর সাংস্কৃতিক বিনিময়যোগ্যতা নিয়ে, ভাষা নির্মাণে (বিনির্মাণে?) আমাদের ধর্মসংক্রান্ত আবেগের প্রচ্ছন্ন প্রভাব নিয়ে, যুক্তির ফাঁদ নিয়ে, মরমীবাদের বুজরুকি নিয়ে, প্যারাডাইমের কচকচানি নিয়ে। ধাপে ধাপে, ধীরে ধীরে, সহজ প্রকাশে। এ বিষয়ে আপনাদের দেয়া রেফারেন্স/লেখাও পড়তে আগ্রহী।
ধন্যবাদ।
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
_____________________________
জিকোবাজি | ফটো গ্যালারি | ইমেইল
ভাষা নির্মাণে অবচেতনে বিশ্বাসের প্রভাব নিয়ে জিকো আগেও একবার আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন, কিছুটা তিক্ত হয়ে গিয়েছিলো যদিও। এই প্রভাব প্রসঙ্গে জিকোর কাছ থেকে একটা ভরাট পোস্ট এর আশায় রইলাম। নানা অর্থে প্যাঁচের সয়লাব করা যায় যে কোন কিছুতেই। কেন এভাবে হলো, কেন ওভাবে হলো না। এতে করে লাভ হয় একটা, উপজাত হিসেবে তার্কিকদের কাছ থেকে নতুন আর স্বাদু পোস্ট পাওয়া যায়।
হাঁটুপানির জলদস্যু
পড়লাম।
হুমায়ুন আজাদের ভক্ত পাঠক না হলেও সন্মান জানাতে কৃপণতা অনাবশ্যক।
.......................................
ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ
অজ্ঞাতবাস
এবার প্যাঁচ লাগবে পরের ধাপে, দুজনকে শ্রদ্ধা করার সময় তাঁদের কোনো একজনকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস হিসেবে নিলে, গুরু হিসেবে মানলে। যদি বলেন, হুমায়ুন আজাদের কাজ থেকে গ্রহণ করবেন তাঁর ধারালো লেখনীশৈলী, আর রবীন্দ্রনাথ থেকে ঈশ্বরপ্রীতি, তখন বিতর্কের প্রসঙ্গ বদলে যায়। যা দাঁড়াতে পারে, তাঁদের কাজের মতাদর্শগত মূল্যায়ন না করে নিজের বক্তব্যকে তাদের মাধ্যমে সিদ্ধ করে নেয়া।
তাঁদের কাজের মতাদর্শগত মূল্যায়ন করে কি তৃতীয় একটি মত অবলম্বন করতে পারে না কেউ? হুমায়ুন আজাদের রচনায় তাঁর পঠননিষ্ঠতার পরিচয় পাওয়া যায়, বিভিন্ন প্রবন্ধের প্রায় প্রতি পৃষ্ঠাতেই তিনি নিজের বক্তব্যকে কোন গবেষকের "মাধ্যমে সিদ্ধ করে নিয়েছেন" বলে মনে হতে পারে। এতে কী ত্রুটি আছে বুঝতে পারছি না। মানুষ তার বক্তব্যের সমর্থন খোঁজে, নিরবচ্ছিন্নভাবে একা বকে যায় না। রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ুনের লেখায় সে সমর্থন মিলতেই পারে।
রবীন্দ্রনাথকে গুরু মানার ব্যাপারে যদি কারো আপত্তি থাকে, হুমায়ুনকেও গুরু মানার ব্যাপারে আপত্তি উঠতে পারে। মতাদর্শগত মূল্যায়ন করে ভিন্ন মতাদর্শ অবলম্বন করা যাবে না, এমন কোন জোরাজুরি তো কেউ করছে না।
কেউ যদি হুমায়ুনের ঈশ্বরবিতৃষ্ণা আর রবীন্দ্রনাথের লেখার ধার গ্রহণ করে, সেটাও কিন্তু একই "সিদ্ধ করে নেয়ার" দোষে দুষ্ট হয়। কাউকে ঠেলে রবীন্দ্র শিবিরে বা হুমায়ুন শিবিরে পাঠানোর কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না। রবীন্দ্র থেকে হুমায়ুনে "সিদ্ধান্ত টানার" ব্যাপারটা আরো অস্পষ্ট মনে হলো। রবীন্দ্রনাথ মারা গেলেন শ্রাবণ মাসে, হুমায়ুন আজাদ মারা গেলেন শ্রাবণ মাসে। তর্কের খাতিরে ধরে নিই, এ দু'জনের মাঝে কোন একটি দিন সুকুমার রায়ের মৃত্যুদিবস এবং তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানানো হলো। জিকো কি তখন বলতেন, সুকুমার থেকে হুমায়ুনে সিদ্ধান্ত টানার কথা?
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আজাদ তাঁর নিজের রচনা বাদে প্রায় সবার লেখাকেই তুলাধুনা করেছেন। "সিদ্ধান্ত টানার" পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হলে তাঁর উল্লেখই কঠিন হয়ে পড়বে দেখছি।
জিকো সাহেব আপনার জন্য দুঃখিত, এতটা যৌক্তিক ব্যখ্যাদানের পরও লোকজনের না বুজঁতে চাওয়ার ভান দেখে! আরও আশ্চর্য লাগছে আমরা আসলেই কি করে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি সচরাচর বিষয়াবলীর প্রতি! আমার মনে হয় আপনি যথার্তভাবেই ব্যাখ্যাদানের চেষ্টা করেছেন...আসলেই বোদ্ধা মানুষজন যখন দুজন ভিন্ন বিশ্বাসী মানুষকে একঢংগে শ্রদ্ধা জানান, এতে মূলত তাদেরই অসম্মান জানানো হয়, এতে দৈনিক প্রত্রিকার সাথে সচলের পার্থক্য গৌণ হয়ে পরে। সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হয়, ভিন্ন ব্যখ্যাদানের পরিসর ছোট হয়ে আসে। ব্যক্তিগতভাবে আমি গুরুদক্ষিনা বা গুরুবন্ধনা বিরোধী ...ভয়ের ব্যাপার হলো এই ভক্তি আমাদের কলোনিয়াল মগজের গভীরে ঢুকে গেছে একেবারে নিজেদের অজান্তে...আর এই কারনেই তৃতীয়বিশ্বে হিরো হওয়া সহজ! যাইহোক অব্শ্যই শ্রদ্ধা জানানো হোক কিন্তু সে শ্রদ্ধারও ভিন্ন মাত্রা, ভিন্ন বয়ান চাই...অন্তত তাদের কাছ থেকে যারা ভিন্ন বয়ান শুনবেন-ভাববেন বলে নিজেদের এখনও মুক্ত রেখে চলেছেন...ধন্যবাদ জিকো আপনার ব্যক্তবের জন্যে...বিশেষ করে এই মেরুদন্ডহীন সময়ে সাহসী হওয়ার জন্যে...ভালো থাকুন
হাঁটুপানির জলদস্যু
জিকো সাহেব আপনার জন্য দুঃখিত, এতটা যৌক্তিক ব্যখ্যাদানের পরও লোকজনের না বুজঁতে চাওয়ার ভান দেখে! আরও আশ্চর্য লাগছে আমরা আসলেই কি করে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি সচরাচর বিষয়াবলীর প্রতি! আমার মনে হয় আপনি যথার্তভাবেই ব্যাখ্যাদানের চেষ্টা করেছেন...আসলেই বোদ্ধা মানুষজন যখন দুজন ভিন্ন বিশ্বাসী মানুষকে একঢংগে শ্রদ্ধা জানান, এতে মূলত তাদেরই অসম্মান জানানো হয়, এতে দৈনিক প্রত্রিকার সাথে সচলের পার্থক্য গৌণ হয়ে পরে। সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হয়, ভিন্ন ব্যখ্যাদানের পরিসর ছোট হয়ে আসে। ব্যক্তিগতভাবে আমি গুরুদক্ষিনা বা গুরুবন্ধনা বিরোধী ...ভয়ের ব্যাপার হলো এই ভক্তি আমাদের কলোনিয়াল মগজের গভীরে ঢুকে গেছে একেবারে নিজেদের অজান্তে...আর এই কারনেই তৃতীয়বিশ্বে হিরো হওয়া সহজ! যাইহোক অব্শ্যই শ্রদ্ধা জানানো হোক কিন্তু সে শ্রদ্ধারও ভিন্ন মাত্রা, ভিন্ন বয়ান চাই...অন্তত তাদের কাছ থেকে যারা ভিন্ন বয়ান শুনবেন-ভাববেন বলে নিজেদের এখনও মুক্ত রেখে চলেছেন...ধন্যবাদ জিকো আপনার ব্যক্তবের জন্যে...বিশেষ করে এই মেরুদন্ডহীন সময়ে সাহসী হওয়ার জন্যে...ভালো থাকুন
(নামটা দিতে ভূলে গেছিলাম, ভাবলাম মানুষকে গালি দিতেওতো একটা নাম লাগে, তাছাড়া বন্ধু অলৌকিক বল্লেন এইটা নাকি ভন্ডামী, তাই নাম লেখাটা বাঞ্চনীয় মনে হলো...এত নাকামীমার্কা ফিরিস্তির জন্য দুঃখিত...ধ্রুব)
"..বিশেষ করে এই মেরুদন্ডহীন সময়ে সাহসী হওয়ার জন্যে.."
শুধু তর্কের জন্য তর্ক করে কী লাভ? হতে পারে, তর্ক করার যোগ্যতাই আমার নেই । হুমায়ুন আজাদের শেষ পাঁচ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সুলতানা আজীমের বই 'তিনি এখন মুক্ত ' পড়া শেষ করে সচলায়তনে উঁকি দিতে আসা। বইটি তেমন প্রচার পায়নি। তবে খুবই সংবেদনশীল। যারা পড়েননি, পড়ে দেখতে পারেন।
____________________________
বন্ধুত্ব মানেই তুমি বিচ্ছেদের চুক্তি মেনে নিলে
[আবু হাসান শাহরিয়ার]
নতুন মন্তব্য করুন