বরষা মানে না...

নীলকান্ত এর ছবি
লিখেছেন নীলকান্ত (তারিখ: বুধ, ১২/০৫/২০১০ - ৭:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজকের আকাশটা মেঘলা।
বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছি। বৃষ্টি চাইছে আমাকে ভেজাতে। কিন্তু আমি তো ধরা দেব না।
আগে খুব ভিজতাম বৃষ্টিতে, যখনই খারাপ লাগতো। আমার রুমের পাশে লাগোয়া ছাঁদ। বৃষ্টির স্পর্শ মনে হতো ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে যত কষ্ট, যন্ত্রণা, ব্যথা আছে।
মেঘের কান্না দেখে আমারও কাঁদতে খুব ইচ্ছা করছে। কিন্তু আমি তো পারব না, কেন যেন কাঁদতে পারি না আমি, সেদিনের পর থেকে। কান্নায় জমাট দীর্ঘশ্বাস ভরা মন চাইছে তীর ভাসিয়ে নিতে, কিন্তু পারছে না।

সেদিনও কি বৃষ্টি ছিল?

মনে নেই আমার। মনে নেই না মনে করতে চাই না?
না, সেদিন বৃষ্টি ছিল না, ছিল না এত মেঘ। আকাশ সেদিন হাসছিল সূর্য বুকে নিয়ে।
'ভালোবাসার অনেক জ্বালা' শুনেছি আগে খুব। জানতাম না, বুঝতামও না। জানার ইচ্ছাও ছিল না। মন দেওয়া নেওয়ার খেলাটাকে ভয় পেতাম প্রথম থেকেই। আমি খুব সরল একটা মেয়ে, সবাই বলে আবেগ খুব বেশি।
নীলার বাড়িতে প্রথম দেখি ওকে, প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা। আমার বান্ধবীরা তো দেখেই ফ্ল্যাট।

শুয়ে আছি রুমে। জানালা দরজা খোলা। প্রচন্ড বাতাস বইছে।যেন সবকিছু তছনছ করতে চায়। ইস! আমি যদি বাতাস হতে পারতাম!!!
ও প্রথম যখন আমায় প্রথম প্রস্তাব দেয়, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। করব কিভাবে? এ যে স্বপ্ন সত্যি হওয়া। আমি যে ওকে মনে মনে চাইতাম। আমি ওর গলা জড়িয়ে ধরেছিলাম। কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম আমায় ছেড়ে কখনও যাবে না, কখনো না। তারপর...।
তার আর পর নেই। সেদিনের মতো দিন আমার জীবনে আর আসবে না, আর আসবে না। ও আর আসবে না।
আমার সাথে ওর সবকিছুই ছিল অভিনয়, আমি ছিলাম ওর বৃহৎ খেলার রাজ্যের একটি চাল মাত্র।
বৃষ্টির জোর বেড়েই চলেছে। বাঁধ না মানা বৃষ্টি। আমার বৃষ্টি নামবে কবে?
ও চলে গেছে আমার জীবন থেকে অনেক দূরে, আর একজনের হাত ধরে। তবু ওর ছায়া আমাকে মাড়াতেই হবে। আমারই ছোট বোন কিনা। কে জানত ওর চোখ ছিল নাবিলার দিকে। মানা করতে চেয়েছিলাম নাবিলাকে, পারিনি। যে যাবার সে তো যাবেই।
অভিশাপও দেইনি। মনে মন শুধু বলেছি সুখে থাকো। আমি পারব না তোমায় ভুলতে, তবু তুমি সুখে থাকো।
বৃষ্টি আজ আর থামবে না। আমি বিছানা থেকে উঠে পড়লাম। আমার সাড়া শরীর নীল- কষ্টের রঙ নীল, বিষের রঙ নীল। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। আয়নার মানুষটা কাকে যেন খুঁজছে, যেন আমাকে চিনতে পারছে না। কি যেন বলতে চাইছে সে। বোবারও তো ভাষা আছে।
বুকে খুব ব্যথা হচ্ছে। মনটা আর সইতে পারছে না। গান শুনবো । সিডি প্লেয়ারটা ছাড়লাম।
আমি এমন হয়ে গেলাম কেন? এমন তো ছিলাম না।কখনো এত কষ্ট হয়নি আমার, এত কষ্ট।
পা বাড়ালাম ছাদের দিকে। আমার জন্যি যেন বৃষ্টি অপেক্ষা করছিল। তার অবারিত বর্ষণ শুরু হলো। ছাদে পা পড়তেই মনটাতে কি যেন হলো, গায়ের রোমগুলো দাঁড়িয়ে গেল। ছাদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালাম। তাকালাম আকাশের দিকে।বললাম বৃষ্টিকে,"ধুয়ে দাও আমায়, আমার সত্তাকে।"বৃষ্টির সেই চেনা পরিচিত নোনা স্বাদ পেলাম আবার।
ভিতরে তখন বেজেই চলেছে-
বর্ষা মানে...
ঝরছে জলধারা...জানি না,জানি না কাটবে কি ঘনঘটা...।"

পলাশ রঞ্জন সান্যাল


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লাগল।

বানান বিষয়ে আমার দু-পয়সা:
ছাঁদ > ছাঁদ
সাড়া > সারা
জন্যি > জন্যই

কৌস্তুভ

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার! মনে হল নিজের অনুভূতি থেকেই লিখছেন।

---মহাস্থবির---

রাফি এর ছবি

এই লেখাটা আমি আগে পড়েছি, সিভিল এর ম্যাগাজিন এর জন্য লেখা চাওয়ায় এটা জমা পড়েছিলো।। প্রিয় ব্যান্ডের প্রিয় গান নিয়ে লেখা হওয়ায় পরিষ্কার মনে আছে। ছাপিয়ে ছিলাম, যদ্দুর মনে পড়ে।। 'পূর্ব প্রকাশিত' কথাটা লেখা থাকলে ভালো হতো সেক্ষেত্রে।।

আপনিই কি জমা দিয়েছিলেন লেখাটা?

লেখা চলুক
---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

খুব সম্ভব রাফি ভাই। লেখক নিজেও সিভিলিয়ান দেঁতো হাসি

আর নিতান্ত কাকতালীয় ভাবে গতকাল আপনেরা দুজনেই খোমাখাতায় আমার স্ট্যাটাসে সাড়া দিয়েছিলেন... এই মিলটা দেখে মজা লাগ্লো।

_________________________________________

সেরিওজা

তিথীডোর এর ছবি

"আচ্ছা,বৃষ্টির জল কি নোনতা হয়?"

লেখায় চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

ওরে... !!!

লেখাটা ভালো লাগলো দোস্তো...

চুপচাপ লেখা দিয়ে চলে যাচ্ছিলি, চোখ এড়িয়ে যেতো তো আরেকটু হলে...

_________________________________________

সেরিওজা

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

@কৌস্তুভ ভাইঃ ধন্যবাদ। আশা করি বানান ভুল ভবিষ্যতেও ধরবেন। আমি দুটো বানানের ভুল স্বীকার করলাম। ছাঁদ স্বীকার করতে পারছি না। যদিও আপনি ছাঁদ বানান যা বলেছেন তাই সঠিক। কিন্তু আমার ফায়ারফক্সে কোনভাবে ঁ বাদ দিতে পারছি না। ছাঁদ লিখলেই ঁ এসে পড়তেছে। জানি না কি ধরনের সমস্যা এটা।
@মহাস্থবির ভাইঃ কাহিনী অন্যের, লেখা আমার। যদিও খুব কাছ থেকে মানুষটাকে দেখেছি। বলতে পারেন আমার অনুভূতি থেকে লেখা।
@রাফি ভাইঃ হ্যাঁ এটা ম্যাগাজিনের জন্য দিয়েছিলাম। প্রকাশিত লেখা উচিত ছিল, যদিও এটা আমাকে আবার লিখতে হয়েছে। কারণ আমার কাছে এর হার্ড বা সফট কপি নেই। ক্ষমা চাইছি এতে কোন ভুল হয়ে থাকলে।
ভাইয়া কোন ব্যাচের যদি বলতেন খুশী হতাম। পরিচিত হবার জন্য আরকি। আমি সুহানের ব্যাচের সিভিলে আছি।
@তিথীডোর আপুঃ কাঁদলে বৃষ্টির জল নোনতা লাগতেই পারে।
@সুহানঃ কাজকর্ম নাই। মাথায় অনেকগুলো লেখার আইডিয়া ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু কেন জানি লিখতে পারছি না। ভাবলাম আগের কাহিনী আবার লিখি।
পলাশ রঞ্জন সান্যাল

অতিথি লেখক এর ছবি

বোকা মেয়েটির জন্য খারাপ লাগছে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।