দ্বাদশ ক্রুদ্ধজন

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/০২/২০১০ - ৯:১৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


ব্যাপারটা একটু কাকতালীয়, গত ২৪ ঘন্টায় তিনবার "টুয়েলভ অ্যাংরি মেন" চোখের সামনে এসে হাজির। একবার দুর্দান্তের লেখায়, একবার বঙ্কার মেসেজে, আরেকবার এক লুল ভিক্টিমার মুখে। টুয়েলভ অ্যাংরি মেন নিয়ে আগে কথাও শুনেছি, লেখাও পড়েছি, কিন্তু দেখার কৌতূহল জাগেনি। এমন জোরালো কাকতাল ঘটায় দেখতে বসে পড়লাম।

সিনেমা রিভিউ লেখার সমস্যা, যেটা নিয়ে প্রত্যেক সিনেমা রিভিউতে কথা বলি, হচ্ছে দুটো। এক, সিনেমা বুঝি কম, আর দুই, রসিয়ে লিখতে গেলে পণ্ডিকা [স্পয়লারের বাংলা করলাম] চলে আসে লেখায়। সিনেমামূর্খতা ঢেকে আর পণ্ডিকা এড়িয়ে লিখতে গেলে শেষমেশ জিনিসটা বেরসিক হয়।

পরিচালক সিডনি লুমে মার্কিন সিনেমার দিকপালদের একজন, চিত্রনাট্যকারের খোঁজে গুগল মেরে পেলাম রেজিনাল্ড রোজকে। নেটে ঘাঁটলে সিনেমাটা নিয়ে আরো একগাদা তথ্য আর কথাবার্তা পাওয়া যাবে, আগ্রহীরা খুঁজে দেখতে পারেন। আমি দর্শকপ্রতিক্রিয়াটুকুই লিখি।

পুরনো হলিউডি সিনেমাগুলোতে একটা কিছু ছিলো, যা এখনকার সিনেমায় নেই। সেটা কী, এক কথায় বলে বোঝানো সম্ভব না, হয়তো অনেকক্ষণ চিন্তা করেও যুৎসই শব্দ আসবে না মাথায়। কিন্তু পুরনো সিনেমা দেখতে বসার কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাপারটা টের পাওয়া যায়। টুয়েলভ অ্যাংরি মেন শুরু হয়েছে সাদামাটা ভাবে, কিন্তু এই যে বিলুপ্ত মশলা, সে কিছুক্ষণের মধ্যেই দর্শকের মনের জিভে আসর করা শুরু করে।

মোটা দাগে কাহিনী এমন, এক তরুণ তার পিতাকে ছুরি মেরে খুনের দায়ে অভিযুক্ত। বারোজন জুররের কাঁধে দায়িত্ব পড়েছে, সমস্ত ফ্যাক্টস আর দুই পক্ষের যুক্তি শুনে রায় দেয়ার। পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ, কাজেই শাস্তি গুরুতর, মৃত্যুদণ্ড। বারোজন জুরির রায় একই হতে হবে, দোষী বা নির্দোষ। করিডোর ধরে বিচারালয়ের ভেতরে এগোয় ক্যামেরা, নানা টুকিটাকি প্রাসঙ্গিক এবং ডিটেইলে ভরা দৃশ্য পেরিয়ে বিচারকক্ষে ঢুকে ক্যামেরা এই তথ্য জানায় দর্শককে। বারোজন জুরি উঠে চলে যান পাশের ঘরে, অভিযুক্ত তরুণের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে।

সিনেমাটা ঐ বারোজন জুররকে নিয়ে।

গোটা সিনেমাটা অভিনীত হয়েছে সেই পাশের ঘরে, দর্শককে যা ক্ষণিকের জন্যে হিচককের রোপ-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে রোপের মতো অতো দীর্ঘ শটের সিনেমা নয় এটি, বরং পরিচালক এই বারোজন জুররের গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে ক্যামেরার কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিয়েছেন ষোলো আনা। সংলাপবহুল সিনেমা বলে পরিচালক চেষ্টা করেছেন চরিত্রগুলোর অভিব্যক্তি যতটুকু সম্ভব ফুটিয়ে তুলতে, তাই শটের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। কিন্তু স্বীকার করতেই হবে, লুমে শটগুলো সাজিয়েছেন দারুণ, দারুণ মুনশিয়ানায়। হিচককের মতো সাসপেন্স নেই, কিন্তু দর্শক এক মুহূর্তের জন্যেও চোখ সরাতে পারেন না পর্দা থেকে। কেন?

সংলাপ।

এই জায়গায় এসে মনে হয়, পুরনো হলিউডি সিনেমার সাথে নতুন দিনের সিনেমাগুলোর পার্থক্য কোথায়। এখন ঘটনার এতো বেশি ঘনঘটা, যে সংলাপ অনেক নির্ভার হয়ে পড়েছে। টুয়েলভ অ্যাংরি মেন এ প্রতিটি সংলাপ অভিনেতাদের কাছ থেকে যে নৈপুণ্য আর পারিপাট্য নিয়ে এসেছে, তা অসাধারণ। এক একটা বাক্য পরিমিত, কিন্তু আরোপিত মনে হবার জো নেই। খুব সাধারণ একটা কথা, ঐ মুহূর্তে ঐ রকম চরিত্রের মুখে ঐ রকম কথাই আমরা আশা করবো, কিন্তু এতো চমৎকার কৌশলে লেখা আর ডেলিভার করা যে অভিভূত হতে হয়।

সিনেমার কাহিনী এবার সামান্য একটু বলি, যতটুকু ঊরু না দেখালেই নয়। ঘরে ঢোকার পর বারোজনের মধ্যে এগারো জন জুরর মত দেন, অভিযুক্ত তরুণ দোষী। একজন মাথা নাড়েন। তিনি বলেন, আমি জানি না। রায় ফেঁসে যায়, কারণ বারোজনকে একমত হতে হবে দোষী অথবা নির্দোষ বিচারে।

বাকি এগারোজন চটে ওঠেন। জানেন না মানে কী? কী করতে চান আপনি?

সেই লোক বলে, আসুন কথা বলি।

হ্যাঁ, এরপর কথা শুরু হয় কেবল। এই কথা নিয়েই সিনেমা। একজন মানুষের প্রাণ বারোজন মানুষের হাতে, সে নিয়ে কথা। তর্ক। আলোচনা। খুনসুটি। ঝগড়া। অপমান। স্বগতোক্তি। একজন স্থপতি, একজন সেলসম্যান, একজন রংমিস্ত্রি, একজন শেয়ারদালাল, একজন ঘড়ি নির্মাতা, একজন বিজ্ঞাপন কপিরাইটার, একজন ফুটবল কোচ ... এরকম বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন রুচির বিভিন্ন শিক্ষার বিভিন্ন চরিত্রের বারোজন মানুষের মধ্যে একটি ঘরে এক অভূতপূর্ব টেনশন তৈরি হয়ে ত্রয়োদশ একটি মানুষের প্রাণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে। এ কথার মধ্যে দিয়ে লুমে যে কী অসাধারণ একটি সিনেমা যে নির্মাণ করেছেন, শেষ দৃশ্যের আগে এসে দর্শকের সে উপলব্ধির ফুরসতও থাকে না। মৃদু কণ্ঠের সংলাপ, ক্রুদ্ধ কণ্ঠের চিৎকার, এক একটা বাক্য যেন আলাদা চরিত্রের চেহারা নিয়ে ঘুরপাক খায় সেই ঘরে, পর্দায়, দর্শকের মনে। মাত্র বারোজন মানুষ একটি ঘরে, কিন্তু তাদের সংলাপ ঘটনাকে কুমোরের চাকার মতো ক্ষণে ক্ষণে ভিন্ন চেহারা দেয়। যাঁরা রহস্যগল্প ভালোবাসেন, তাঁরা এক বাক্যে স্বীকার করবেন, এটি একটি রোমাঞ্চকর রহস্যকাহিনীও বটে। কিন্তু এখানে রহস্য একটি নয়, একাধিক। খুনের মামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উঠে আসে আরো কয়েকটি ইস্যু, যা আদালতে ওঠে না, যা মানুষের পৃথিবীতে অমীমাংসিত থেকে যায় বেশিরভাগ সময়। চরিত্রগুলোর চেহারার ভাঁজ খুলে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চেহারা, সংলাপের সুর আর স্বর আস্তে আস্তে তাদের নতুন রূপ দেয়, নতুন ছকে দর্শক তাঁদের পুনর্কল্পনা করেন।

সিনেমাটা দেখতে দেখতে ক্রিস্টির মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের কথা মনে পড়ছিলো, সিনেমা শেষ করে গুগল মেরে দেখি হায়, লুমে সেটারও পরিচালক!

সিনেমাটার সমাপ্তি আমার দেখা গত আটবছরে দেখা সব সিনেমা অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে গেছে। মালেনা দেখে খুব আবেগতাড়িত হয়েছিলাম, মনে আছে, মনে হয়েছিলো মানুষ এরকমই। টুয়েলভ অ্যাংরি মেন দেখে সজল চোখে অনুভব করলাম, মানুষ অনেকরকম। মানুষ কখনো সেই স্থপতির মতো রুখে দাঁড়াতে জানে, মানুষ সেই বিজ্ঞাপনের কপিরাইটারের মতো দ্বৈরথে ভুগতে জানে, মানুষ সেই বৃদ্ধ জুররের মতো চরিত্রবিচার করতে জানে, মানুষ সেই রেসিস্ট ইতালিয়ানের মতো নিজের ভেতরের অমানুষকে বের করে আনতে জানে, মানুষ সেই অভিবাসি শীর্ণকায় ঘড়ি নির্মাতার মতো নিজেকে অতিক্রম করে শক্তিশালী হয়ে উঠতে জানে, মানুষ ভুলটাকে গোঁয়ারের মতো আঁকড়ে ধরে চিৎকার করতে জানে, মানুষ ভুল স্বীকার করে বিপক্ষের যুক্তি মেনে নিতে জানে, কিন্তু সবকিছুর শেষে, সিনেমার শেষটুকুর শিক্ষা, মানুষ আসলে মানুষই।

টুয়েলভ অ্যাংরি মেন এর মতো একটা সিনেমার গল্প কি লিখতে পারবো কখনো? লিখবো। লিখতেই হবে। ... আহ, কত পরিতৃপ্তির স্বপ্ন দেখি!


মন্তব্য

বাউলিয়ানা এর ছবি

হিমু ভাইকে অনেক ধন্যবাদ এত চমতকার মুভি নিয়ে লেখার জন্য।
এই ছবিটা আমরা কিভাবে দেখলাম, সেটা একটু বলি।

আমরা চারজন বসেছি, ল্যাপটপ সামনে। সেটার আবার সাউন্ডে গন্ডগোল।
এক একটা সিন শেষ হয় আর আমরা পজ্‌ বাটন টিপে আলোচনা করি। ঐ চরিত্রটা আসলে কি বলতে চাইছে বা সেটা বলার পিছনে লজিকগুলো কী।

উফ্‌ কি যে অসাধারন ছবি, প্রতিটা ডায়ালগকে বিচার-বিশ্লেষন করার মত সুযোগ আছে। এমন মুভি সত্যি বিরল।

সাবিহ ওমর এর ছবি

এটার একটা হিন্দি ভার্সন আছে না?

মূলত পাঠক এর ছবি

আজ্ঞে, এর হিন্দি সংস্করণটি বাসু চ্যাটার্জি-কৃত, "এক রুকা হুয়া ফয়সলা"। পঙ্কজ কাপুর, কে কে রায়না প্রমুখ প্যারালাল সিনেমার জগতের অভিনেতারা রয়েছেন ছবিতে।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

একজন মানুষকে দোষী সাব্যস্ত করা কত কঠিন, এই ছবিতে তা ফুটে উঠেছে। খুনের বিচার তো আরো কঠিন। তবে ছবিটা এখানেই সীমাবদ্ধ না। বারো রকম মানুষের গল্পও বটে। উঠে এসেছে মানুষের খোঁড়া যুক্তি, আবেগ আর গোঁড়ামিকে যুক্তিরিদ্ধ বিবেচনার কাছে তুলে দিলে কেমন অসহায়ভাবে তারা পরাস্ত হয়।

----------------------------------
~জীবন অনেকটা জড়ই, কিন্তু অনন্য!~

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

দারুণ লিখছেন। সিনেমাটা দেখাই লাগবো মনে হইতেছে
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

দ্রোহী এর ছবি

আমেরিকায় শিক্ষাজীবনের শুরুতে "আমেরিকান ল্যাংগুয়েজ" ক্লাসে ব্যবহৃত অনেকগুলো মুভির একটি হিসাবে "দ্বাদশ ক্রুদ্ধজন" ছবিটি দেখার সুযোগ হয়েছিলো।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এই সিনেমাটা কতটা বস, সেইটা এর পরিসংখ্যানই বলে দেয়- রেটিং ৮.৯...শীর্ষ দশে আছে।

রিভিউতে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে পাইলাম মার্ডার অন দ্যা অরিয়েন্ট এক্সপ্রেস-এর কথা। ঐটাও তাইলে দেখতে হইবো...

কেউ এই জাতীয় আরো কিছু মুভির নাম বললে ভালো হয়।

ভালো কথা, এই মুভিটার একটা নিতান্ত শিশুতোষ রিভিউ-তো এককালে আমিও দিসিলাম ...খাইছে

_________________________________________

সেরিওজা

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

কেউ এই জাতীয় আরো কিছু মুভির নাম বললে ভালো হয়।

দ্বিমত থাকতে পারে তবে আমার প্রিয়গুলির মধ্যে -
এনাটোমি অব এ মার্ডার |ট্রেইলার|
উইটনেস অব এ প্রসিকুউষণ |ট্রেইলার|
দ্যা ভার্ডিক্ট |ট্রেইলার|
এ ম্যান ফর অল সিসনস |ট্রেইলার|
ইনহেরিট দ্যা উইন্ড |ট্রেইলার|
টু কিল এ মকিংবার্ড |ট্রেইলার|
জাজমেন্ট এট নুরেম্বের্গ |ট্রেইলার|
এ টাইম টু কিল |ট্রেইলার|
দ্যা রেইনমেকার |ট্রেইলার|
এ ফিউ গুড মেন |ট্রেইলার|
রান এওযে জুরি |ট্রেইলার|
দেইখা কিন্তুক রিভিউ লেখতে হইব হাসি
তাছাড়া দ্যা এসোসিয়েট -এর মুভি ভার্সন সামনের বছর আসতেসে

ডিসক্লেইমার: ট্রেইলারগুলি সব ইউটিউব থেইক্কা - স্লো কানেকশন থেকে ক্লিক করার জন্য আগে আরেকবার চিন্তা কৈরা দেঁতো হাসি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

ফিউ গুড ম্যান -একটা মাস্টারপিস (ঐটার রিভিউও দেস্লাম দেঁতো হাসি) , 'টু কিল আ মকিংবার্ড' ভাল্লাগে নাই, বাকিগুলো আদেখা।

ট্রেলার দেখুম না। নামায়া নিই। দেইখ্যা সুচিন্তিত মতামত দিমু, হেহহেহ।

_________________________________________

সেরিওজা

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

১১টার মধ্যে ১টা ভালো পান নাই, ১টা লিয়ে ইতমধ্যে লিখছেন - বাকি থাকলো ৯টা - ৬ মাস সময় দিলাম - আপনারে ওয়াচ লিস্টে টপে রাখলাম, গুইনা হিসাব নিমু রিভিউয়ের খাইছে
জাস্ট কিডিং দেঁতো হাসি

অফ টপিক: এক টাইপের বেশি দেখতে বিরক্ত লাগতে পারে - সে ক্ষেত্রে নতুন আমলের কিছু মশলা হিসেবে ট্রাই মারতে পারেন চোখ টিপি (এতদিনে আপনার রুচির খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে ধরে নিয়ে বল্লাম - হাহাহাহা)

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

ফিউ গুড ম্যান -একটা মাস্টারপিস (ঐটার রিভিউও দেস্লাম দেঁতো হাসি) , 'টু কিল আ মকিংবার্ড' ভাল্লাগে নাই, বাকিগুলো আদেখা।

ট্রেলার দেখুম না। নামায়া নিই। দেইখ্যা সুচিন্তিত মতামত দিমু, হেহহেহ।

_________________________________________

সেরিওজা

বাউলিয়ানা এর ছবি

অনেক ধইন্যাপাতা আপনাকে।
দেখি লিষ্ট ধরে ধরে মুভিগুলার একটা ব্যবস্থা করা যায় কিনা।
হাসি

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

টু কিল এ মকিংবার্ড এর এইটা কি ট্রেইলার দিলেন?

----------------------------------
~জীবন অনেকটা জড়ই, কিন্তু অনন্য!~

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

হাহা - ওই ট্রেইলারের ৪:৩০ দেইখা হাসতে হাসতে মারা গেসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি - অরিজিনাল এইখানে হাসি ভুল ধরাইয়া দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ইয়ে, মানে...

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ফরাসী নোয়ার/থ্রিলার ছবি কিছু দেখতে পারেন - ভালো লাগার সমূহ সম্ভাবনা আছে, যদি সাবটাইটেলে আপত্তি না থাকে। সম্প্রতি দেখা তিনটা ছবি - টেল নো ওয়ান, আ প্রফেট আর মেসরিন (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড) - জোরেসোরে রিকমেন্ড করতে পারি। ফাটাফাটি থ্রিলার বলে কথা। প্রফেটের পরিচালক জাক অদিয়াখ এই লাইনে অলরেডি বিশাল নাম কামায় ফেলসেন। ওর বাকিগুলা লাইনে রাখসি।

-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

রজার্দ্যাট বস !!! একটাও দেখি নাই...

_________________________________________

সেরিওজা

নৈষাদ এর ছবি

সমস্যাই তো দেখি। দেখতেই তো হয় তাহলে।
পণ্ডিকা-বিহীন রিভিউ ভাল লাগল।

দুর্দান্ত এর ছবি

এটি আমার অতি পছন্দের একটি ছবি। মাত্র ১২ জনের চরিত্র দিয়ে অন্তত বানিজ্যিক দুনিয়ার 'আর্কিটাইপ' (এর বাংলা কি?) চরিত্রগুলোর আর একটি জটিল ইস্যু নিয়ে তারচাইতেও জটিল দরকষাকষি প্রক্রিয়াকে এত সুচারু ভাবে চিনিয়ে দিয়েছেন লুমে, যে এই ছবিটি দরকষাকষির ওপর যেকোন পাঠ্যবইয়ের চাইতে অনেক শিক্ষনীয় হয়ে উঠেছে। যারা রুটিরুজির জন্য সচরাচর (বানিজ্যক) দরকষাকষি করেন, তাদের জন্য এই ছবিটি সংগ্রহে রাখার মত।

মামুন হক এর ছবি

রিভিউ ঠিকাছে। ছবিটা দেখে ফেলুম চান্স পাইলেই। তবে টুয়েল্ভ অ্যাংরি মেন এর বাংলা দ্বাদশ ক্রুদ্ধজন শুনতে ভালো লাগলোনা। দ্বাদশ মানে তো বারোতম মনে হয়। এর চাইতে ক্ষেপচুরিয়াস বারোজন কইলে মনে হয় ভালো হইতো।

হিমু এর ছবি

বাংলায় অর্ডিনাল নাম্বার আছে এক থেকে দশ পর্যন্ত [প্রথম-দশম]। এর ওপরে যা আছে সেগুলো সাধারণত কার্ডিনাল নাম্বার দিয়েই বোঝানো হয়। দ্বাদশ মানে বারো, আবার বারোতম বোঝানোর জন্যেও দ্বাদশ লেখা হয়। যে কারণে ফুটবল দলের এগারোজন বোঝাতে একাদশ লেখা হয়, এগারোতম সদস্যকে বোঝানোর জন্যে নয়।

আপনার কাছে নামটা ভালো না লাগায় দুঃখিত। কিন্তু বিকল্পটা আরো শ্রুতিকটু লাগলো।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

বোহেমিয়ান এর ছবি

সিনেমাটা দেখছি। সংলাপ নির্ভর মুভি ।
খুব ই ভাল লেগেছিল ।

ক্রিস্টির বইটা পড়া ছিল, মুভি দেখা হয় নাই।
মেলেনাও ভাল লাগছিল।
তবে হিমু ভাই, একটা মুভির রিভিউ লিখতে গিয়ে যদি অন্য গুলার কথা কয়া ফালান , আমরা যারা আনাড়ি/অনভিজ্ঞ/পিচ্চি ... অনেক কিছুই কিন্তু মাথার উপর দিয়া যাইব!!
ভাগ্য ভাল এই গুলান দেখা ছিল তাই লেখাটার মজা পুরা নিতে পারছি!

লেখা সেই রকম হইছে ।

__________________________
হৃদয় আমার সুকান্তময়
আচরণে নাজরুলিক !
নাম বলি বোহেমিয়ান
অদ্ভুতুড়ে ভাবগতিক !

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

একটা মুভির রিভিউ লিখতে গিয়ে যদি অন্য গুলার কথা কয়া ফালান , আমরা যারা আনাড়ি/অনভিজ্ঞ/পিচ্চি ... অনেক কিছুই কিন্তু মাথার উপর দিয়া যাইব!!

দ্বি-মত !!! রিভিউএর সাথে প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বই-মুভি-গল্প-ইতিহাস-লেখকের নাম আসা উচিত বলেই মনে করি। এটা রিভিউকে আকর্ষণীয় বা দুর্বোধ্য করে না কি, সেই তর্কে যাবো না- এটা তথ্যভান্ডারকে শাণিয়ে নিতে দর্কার। লেখার কন্টেন্ট বাড়ে এতে...

_________________________________________

সেরিওজা

হিমু এর ছবি

আমি তো আমার প্রতিক্রিয়া লিখছি ভাই। সেটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে। আমার তো মনে হয়, যাঁরা লুমে এবং সমসাময়িকদের সিনেমা আরো বেশি দেখেছেন, তাঁদের কাছে এ লেখাটা বরং অসম্পূর্ণ মনে হবে। কোন পাঠক কী দেখেছেন, কী দেখেননি, সেটা মেপে লেখা তো সম্ভব নয়।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

রোপ-এর আদি নাট্যরূপ (প্যাট্রিক হ্যামিল্টনের লেখা) মঞ্চে দেখলাম কয়েকদিন আগে। পরিচালকের দোষ কিনা জানিনা, কিন্তু বেশ স্লো লাগলো। মুভিটা এখনো দেখি নাই, হয়তো এর থেকে ভালো হবে।

টুয়েল্ভ এংরি মেন লিস্টে অনেকদিন ধরেই, অর্ডার দিতে হবে।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- রিভিউয়ে মাইনাস। আরে ব্যাটা, রিভিউই যদি পড়াবি তাইলে আর ছবি দেখে সময় নষ্ট করার দরকার কী? যে রিভিউ পড়েও সিনেমা দেখার কাজটা করতে হয়, সেইটা কোনো রিভিউই না। রিভিউ হবে সিনেমার দর্পণ! যারা সিনেমাটা দেখেন নাই, তাদের জন্য এইটা হবে একটা সুবিধা। টিভির দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থেকে চোখের বারোটা না বাজিয়ে, মস্তিষ্ককে নানা দিকে না খাটিয়েও সিনেমাটা সম্পর্কে দর্শককে এ টু জেড ধারণা দিতে পারাটাই সত্যিকার রিভিউর উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ। সেইদিক দিয়ে এইটা কোনো রিভিউ হয় নাই। লেখকে এক তারা, লগে কইষ্যা মাইনাস।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মূলত পাঠক [অতিথি] এর ছবি

রিভিউ ভালো লাগলো।
ছবিটা দেখার পর গণতন্ত্রের ভিত্তি যে কতটা দুর্বল সেটা ভেবে আতংকিত হই।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।