সময় গেলে সাধন হবে না

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: শনি, ১৬/১২/২০১৭ - ১:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিডিনিউজ২৪.কমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ছাপা হচ্ছে। একটিতে সেদিন চোখ আটকে গেলো। একাদশ সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের বর্তমান মহাসচিব হারুন হাবীব বলেছেন,

“প্রচণ্ড গভীর কালো রাত ছিল সেদিন। এর মধ্য থেকেই দেখছিলাম, একদিকে বুলেট ট্রেসার উড়ছে, অন্যদিকে জোনাকিগুলি উড়ছে। এই কালোর মধ্যে এত সুন্দর লাগছিল, এগুলো আসলে ওই সময়ে মুহূর্তের মধ্যে জীবনের ব্যাপারটা চলে আসছিল...।”

[সূত্র]

বাংলা উইকিপিডিয়ার দ্বারস্থ হয়ে আবিষ্কার করলাম, একাত্তরে হারুন হাবীবের বয়স ছিলো ২৩ বছর। কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ সম্বল করে তিনি ও তাঁর মতো অগণিত তরুণ একটি প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত নিয়মিত বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিলেন। ট্রেসার বুলেটের স্রোত ছাপিয়ে গভীর রাতে ক্ষণপ্রভ জোনাকির স্রোত যে তাঁর চোখ এড়ায়নি, এ দৃশ্যটুকুর মধ্যেই সে তরুণদের, এবং দেশে ও সারা বিশ্বে বর্তমানের তরুণদের, আত্মাটুকু ফুটে আছে। তাকাশি মিয়িকে পরিচালিত জাপানি চলচ্চিত্র 13 Assassins এ একটি চরিত্রের নির্বিকার সংলাপ আছে, উইথ ডেথ কামস গ্র্যাটিচ্যুড ফর লাইফ - মৃত্যুই জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা বয়ে আনে। হারুন হাবীবের এই স্মৃতিচারণে সে সত্যটুকু আরেকবার উপলব্ধি করলাম।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন কোনো কিছু করার কথা ওঠে, তখন ঘুরেফিরে পুরো ঘটনাটাকে এক কাঠামোতে ধারণের একটা চেষ্টা দেখা যায়। পঁচাত্তর মিলিয়ন মানুষের একটি জাতি তিন মিলিয়ন প্রাণ বিসর্জন দিয়ে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন বিপুল ঘটনাকে এক ফ্রেমে আনার যে চেষ্টা শিল্পীরা করেন, সেটি আমার মতে ভুল। কিন্তু যে নিযুত কোটি ছবি দিয়ে সমগ্র দৃশ্যটি তৈরি, তার অন্তত একটিকে সার্থকভাবে ধারণ করার, এবং প্রজন্মান্তরে বহন করার চেষ্টাটি অনেক বেশি সাফল্যের সম্ভাবনা রাখে।

একজন চিত্রশিল্পী কি এ রণদৃশ্যটি নিয়ে ছবি আঁকতে পারেন না? চারদিকে ধ্বংস, মৃত্যু আর অন্ধকারের মাঝে এক তরুণ যোদ্ধাকে ক্ষণিকের জন্যে জীবনের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে একদল জোনাকি, এ দৃশ্যটি কোন বিচারে কম মহৎ? একটা গান কি হতে পারে না এ নিয়ে? একটা কবিতা? একটা অপেরা? এক প্রস্থ ব্ল্যাকলাইট থিয়েটার? একটি একাঙ্কিক ভরতনাট্যম? একটা বারবারশপ কোয়ার্টেট? আমাদের আলসেমির জন্যে, অমনোযোগের জন্যে, মহত্ব-যাচাইয়ের-অযোগ্যতার জন্যে, এমন একটা ছবি হারিয়ে যাবে?

জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা যদি কেবল মৃত্যুই বয়ে আনে, তাহলে সে জীবন যাপনও ক্লান্তিকর। জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জীবন থেকেই আসুক। আজ হারুন হাবীব বেঁচে আছেন বলে এ দৃশ্যটি আমরা কল্পনার চোখে দেখার সুযোগ পেলাম, যা হয়তো নিজের যাপিত জীবনে পাওয়া হতো না। মুক্তিযোদ্ধারা আর কয়েক বছর পর প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে আর আমাদের মাঝে থাকবেন না, কিংবা বেঁচে থাকলে তাঁদের স্মৃতি মলিন হয়ে আসবে। অথচ এখন একটি সাক্ষাৎকার ধারণ করা কতো সহজ হয়ে এসেছে, ভাবুন? আপনি যে মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত উত্তরসূরী, তাঁর কাছ থেকে এখনই, আজই জেনে নিন এমন আরো দৃশ্যের কথা, ধারণ করে রাখুন, ছড়িয়ে দিন। এমন দৃশ্য আগামী ৪৬ বছরেও হয়তো আমরা আর পাবো না।

মুক্তিযুদ্ধ এমন অজস্র সুন্দর দৃশ্যেরও খনি, যা আমাদের জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। বেলা শেষে বিজয় হোক বিস্মরণের বিরুদ্ধে বিজয়। চলুন, মুক্তিযুদ্ধের এ টুকরো ছবিগুলো সংগ্রহ করি।


মন্তব্য

সুজন চৌধুরী এর ছবি

কমিক বইয়ের আদলে গল্পটা বলতে পারলে দারুণ হয়।

হিমু এর ছবি

ফক্স অ্যান্ড দ্য হোয়েইলের মতো (স্বল্পতর দৈর্ঘ্যের) অ্যানিমেশনও কিন্তু হতে পারে।

সুজন চৌধুরী এর ছবি

হা,খুবি ভাল হবে করতে পারলে।

ritabrata এর ছবি

জাপানে জোনাকিকে জীবনের/ যৌবনের প্রতীক বলে মনে কওরা হয়। জোনাকিরা ক্ষণজীবী।
ছবিটা আঁকতে পারলে বড় ভাল হয়।

"Dreams of fireflies"

ঋতব্রত

এক লহমা এর ছবি

সহমত।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যাঁরা আত্মীয়তাসূত্রে বা পরিচয়সূত্রে নিকটজন তাঁদের কারো কারো কাছ থেকে এমন টুকরো মুহূর্তের গল্প শুনেছি।

একজন বলেছিলেন, একবার এক গরমের রাতে চারদিক খোলা ঘাসের মাঠে শুয়ে থাকতে হয়েছিল। চিৎ হতে তাঁর মনে হয়েছিল তারাভরা আকাশটা যেন একটা চাঁদোয়া হয়ে মুখে নেমে আসছে। রাজাকারদের তৎপরতার মুখে যখন প্রতি মুহূর্তে জীবন অনিশ্চিত, অমন সময়েও তাঁর এই কথা মনে হয়েছিল।

আরেকজন বলেছিলেন, এক গ্রামে সাময়িক আশ্রয় নেবার কালে হঠাৎ পাকিস্তানী বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়। গ্রামের লোকজনের সাথে মুক্তিযোদ্ধারাও ঝোপঝাড়ভরা এক মরা খালের গভীরে আশ্রয় নেন। হঠাৎ সেখানে এক আসন্নপ্রসবা সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি কেঁদে ওঠে। তাঁর মনে হয়, জীবনটা কী আশ্চর্য এক ব্যাপার! চারদিকে যখন মৃত্যুর আয়োজন তখনও সে পৃথিবীর আলো দেখার জন্য এসে যায়!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

দুটো ঘটনাই মনকে সম্মোহিত করলো (এর চেয়ে ভালো বাংলা মাথায় আসলো না)

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

এটা সম্ভব হয়েছে হারুন হাবিবের অসাধারন অন্তর্দৃষ্টির কারনে। এমনি একটি মুহুর্তের গল্প শুনেছিলাম এক মুক্তিযোদ্ধা নিকটজনের মুখে- একাত্তর সালে করতোয়ার মত ছোট নদীতেও বর্ষায় প্রচুর শুশুকের দেখা মিলত। করতোয়া নদী বেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ছোট দল চলেছে একটি অপারেশনে, নদীর পাশে এক স্থানে হঠাৎ করেই আর্মি চৌকি থেকে তীব্র সার্চ লাইটের আলো এসে পড়লো ছোট্ট নৌকাটির উপর। চোখ ধাঁধানো সেই আলোর মাঝে ভুস ভুস করে ভেসে উঠছে এক একটা শিশু(শুশুক- মিঠে পানির ডলফিন)। আমার শহরবাসী সেই স্বজন মুহুর্তের জন্য আসন্ন বিপদ ভুলে অপার্থিব সেই দৃশ্যের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলেন।

হিমু এর ছবি

শুশুক (পরপয়েজ) আর মিঠাপানির ডলফিন (রিভার ডলফিন) কিন্তু ভিন্ন প্রাণী।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

পরপয়েজের(Porpoise) বাংলা নামকরন শুশুক করা হয়েছে কেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারি নাই। আমাদের নদীগুলোতে কি পরপয়েজ পাওয়া যায় কিংবা কখনো পাওয়া যেত? আমাদের নদীগুলোতে প্রাপ্ত প্রাণীগুলো তো গাঙ্গেয় ডলফিন বা রিভার ডলফিন, বাংলায় যা শিশু, শিশুমার বা শুশুক নামে পরিচিত।

বাংলাপিডিয়ার লিঙ্ক

হিমু এর ছবি

হ্যাঁ, ফিনলেস পরপয়েজ বা পাখনাছাড়া শুশুক পাওয়া যায় তো। সম্ভবত শুশুক আর গাঙ্গেয় ডলফিনের মধ্যে পার্থক্য করা হয় না (র‍্যাবিট আর হেয়ার, দুটোই যেমন বাংলায় খরগোশ)।

হিমু এর ছবি

আবদুল্লাহ ভাই, আরো খোঁজখবর করে মনে হচ্ছে আমারই জানায় গুরুতর ভুল ছিলো। সংশোধন করে নিচ্ছি।

পরপয়েজের বাংলা হিসেবে শুশুক ব্যবহৃত হতে দেখেছি, কিন্তু এটা চর্চা বা শাস্ত্রসমর্থিত নয় বলেই মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে শুশুক (যা হালদা এলাকায় "হুতুম" নামে পরিচিত) হচ্ছে দক্ষিণ এশীয় মিঠাপানির ডলফিনের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চরে বেড়ানো উপপ্রজাতিটির (Platanista gangetica gangetica) বহুলপ্রচলিত নাম।

হুতুম নামটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে (হুতুম হুতুম হুতুম)। আমি একধাপ এগিয়ে প্ল্যাটানিস্টা গ্যানজেটিকার দুটি উপপ্রজাতিটিকে তাদের চারণক্ষেত্র অনুসারে গঙ্গাহুতুম (P. g. gangetica) আর সিন্ধুহুতুম (P. g. minor) লিখবো স্থির করেছি। হুতুম হুতুম হুতুম।

শুশুক শব্দটাকে "ডলফিন" এর সাধারণ বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করাই বোধহয় ভালো। তাহলে একেবারে পরিবার ধরে ডেলফিনিডিকে সায়রশুশুক, প্ল্যাটানিস্টিডিকে গঙ্গাশুশুক, ইনিইডিকে আমাজনশুশুক আর পন্টোপরিইডিকে মোহনাশুশুক বলা যাবে। সায়রশুশুক শব্দটা গল্পে ব্যবহার করেছি আগে, এখন আরো জোরেশোরে করবো।

এখন পরপয়েজকে বাংলায় আনতে হবে।

হিমু এর ছবি

চিন্তাভাবনা আর খোঁজখবর করে পরপয়েজের বাংলা হিসেবে "তিমিক" ব্যবহার করবো স্থির করলাম। তিমিকের শাব্দিক অর্থ "ছোট্ট তিমি"। মাদী পরপয়েজ হচ্ছে তিমিকা।

একটা ছড়াও লিখে ফেল্লুম দুটোকে তফাৎ করে:

তিমিক ভাবে শুশুক
গাঙের কূলে শাপলাডাঁটা চুষুক।
সে বেড়াবে সায়রকিনার ঘেঁষে
চিংড়ি খাবে ঠেসে
সঙ্গে মাছ আর একটু মাছের পোনা
বাদার খালে নিত্য তিমিক করবে আনাগোনা।

শুশুক ভাবে তিমিক
ভাবছে যা তা সবই ভুয়া গিমিক।
ভাবছে ভাবুক। নাক ভাসিয়ে তিমিক যতোই ফুঁসুক,
পাত্তা না দেয় শুশুক।

অতিথি লেখক এর ছবি

বাহ!

---মোখলেস হোসেন।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

হুতুমের বদলে তিমিকে ভোট দিলাম। হুতুম নামটা লাল গোল্লাচোখো পণ্ডিতের (Bubo bengalensis) জন্য থাক, যেমন, ভূতুম নামটা হলদে গোল্লাচোখো পণ্ডিতের জন্য। সাদামুখো, ক্ষুদেচোখো, তীক্ষ্ণনাসা পাজিটা (Tyto alba) বাড়ীর লক্ষ্মী হয়েই থাক। Platanista গণের ভাইবেরাদররা যেমন শুশুক ছিল, তাই থাক। Phocoenidae পরিবারের সদস্যদের পিঠের তেকোনা পালটা দেখলে কামটের (Glyphis gangeticus) কথা মনে হয়। তবু সন্ত্রাসী কামটের বদলে এর নাম নিরীহ তিমির কাছাকাছি থাকুক; অন্তত যতদিন না এর লাগসই নাম পাওয়া যায়।

নামগুলো মানুষের মনে-মাথায় গেঁথে দেবার জন্য ছড়া-কবিতা-নাটক-গল্প-উপন্যাসে এগুলোর ব্যাপক ব্যবহারের বিকল্প নেই। সিন্ধুঘোটক, জলহস্তী'র মতো অচেনা প্রাণীগুলো যেভাবে বাংলা নাম পেয়ে গেছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হিমু এর ছবি

হুতুম-ভূতুম-লক্ষ্মী প্যাঁচার হুতুম-ভূতুম-লক্ষ্মী তো বিশেষ্যায়িত বিশেষণ, সেগুলো পাল্টানোর দরকারও নেই। কিন্তু খাস বিশেষ্য হিসেবে হুতুম তো এর মধ্যেই প্রচলিত। গঙ্গাহুতুম সিন্ধুহুতুম চালালেই চলবে। তিমিক-শুশুক-হুতুম-ভূতুম সবকিছু নিয়েই গল্পকোবতে আসুক।

অতিথি লেখক এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন কোনো কিছু করার কথা ওঠে, তখন ঘুরেফিরে পুরো ঘটনাটাকে এক কাঠামোতে ধারণের একটা চেষ্টা দেখা যায়। পঁচাত্তর মিলিয়ন মানুষের একটি জাতি তিন মিলিয়ন প্রাণ বিসর্জন দিয়ে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন বিপুল ঘটনাকে এক ফ্রেমে আনার যে চেষ্টা শিল্পীরা করেন, সেটি আমার মতে ভুল। কিন্তু যে নিযুত কোটি ছবি দিয়ে সমগ্র দৃশ্যটি তৈরি, তার অন্তত একটিকে সার্থকভাবে ধারণ করার, এবং প্রজন্মান্তরে বহন করার চেষ্টাটি অনেক বেশি সাফল্যের সম্ভাবনা রাখে।

আসলে তাই। টুকরো টুকরো ছবি গুলো সংগ্রহ করার জন্য কিছু একটা করা দরকার। সব মুক্তিযোদ্ধা তো সাক্ষাৎকার দিতে ক্যামেরার সামনে আসতে পারছে না।
এ্যানি মাসুদ

সোহেল ইমাম এর ছবি

যে নিযুত কোটি ছবি দিয়ে সমগ্র দৃশ্যটি তৈরি, তার অন্তত একটিকে সার্থকভাবে ধারণ করার, এবং প্রজন্মান্তরে বহন করার চেষ্টাটি অনেক বেশি সাফল্যের সম্ভাবনা রাখে।

খুব মূল্যবান একটা কথা বলেছেন। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামটা আসলেই বিশাল একটা ব্যাপার।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

Tiara এর ছবি

ভালো লাগলো

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA