ডিজিটাল বাংলাদেশঃ ৫ [প্রযুক্তি ও গণতন্ত্র]

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
লিখেছেন ইশতিয়াক রউফ (তারিখ: রবি, ৩০/০৫/২০১০ - ১:৪৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


প্রযুক্তিকে চাওয়া সহজাত, পাওয়াও সহজ। অনেক রকম প্রযুক্তিই তৈরি অবস্থায় আছে, এবং অনুন্নত দেশের কাছে তা পছন্দসই দামে বিক্রি করবার জন্য উৎসাহী ব্যাক্তিও কম নেই। প্রশ্ন হল, আমরা এই প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত তো?

স্বাভাবিকের চেয়ে উন্নত কিছ পাওয়ার জন্য প্রস্তুতির সময় এলেই আমরা সমাজের নিম্নবর্গের দিকে এক প্রকার ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টি দেই। মানবতার শত শিক্ষা সত্বেও আমরা অচ্ছ্যুৎ হিসেবে দেখি অর্থ- ও শিক্ষা-বঞ্চিতদের। মুখ ফুটে নিঃসংকোচে না বললেও অবলীলায় ভেবে বসি যে এরা সব রকম অধিকারের যোগ্য না, সব রকম সুবিধা এরা সদ্ব্যবহার করতে পারবে না, নিজেরাই নিজের পথের কাঁটা হয়ে ওঠা ঠেকাতে পারবে না, ইত্যাদি। উন্নতির ধারা অনেক উঁচু থেকে একটু একটু করে চুঁইয়ে নামে এদের কাছে। দুরতিক্রম্য এই আভিজাত্যবোধ আমাদের মাঝে ঢুকে গেছে আড়াই শ’ বছরের গোলামির সূত্র ধরে। আমাদের সমাজের প্রতিটি শ্রেণী খুব স্পষ্ট ভাবেই তার অব্যবহিত নিম্নবর্তী শ্রেণীকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করে, ঠিক যেমনটা তাকে অযোগ্য বলে গণ্য করে তার ঊর্ধ্ববর্তী শ্রেণী।

প্রযুক্তি-বিপ্লবের সূচনা বাস্তবানুগ এক ধরনের স্তরবিন্যাস থেকে হলেও এই বিভেদ ধরে রাখা এখন এক কথায় অসম্ভব। অনেক প্রযুক্তিই প্রাথমিক ভাবে তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন উন্নত দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য। কালে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। উদাহরণের তালিকায় আছে ইন্টারনেট, মোবাইল টেলিফোন, ইত্যাদির অনেক নিত্যব্যবহার্য। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষও আবদ্ধ হয়েছে কৃতজ্ঞতার পাশে।

এই প্রক্রিয়াটি এক পর্যায়ে বিবর্তিত হয়। সাধারণ মানুষ নতুন সুযোগটুকু কাজে লাগায়। নিজের মতো করেই প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়, তথ্যকে ভাত-কাপড়ের মতোই নিজের অধিকার হিসেবে দেখতে শেখে। সেই উপলব্ধি থেকেই দেশে দেশে তথ্য অধিকার পেতে থাকে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা। এই মুক্তি ও অধিকারবোধ থেকে মানুষ নিজের মত প্রকাশের জন্য নিত্য-নতুন পথ বের করে। ক্রমে ডিজিটাল দুনিয়া নিয়ে নেয় একটি অনিবার্য গণতান্ত্রিক রূপ।

গণতন্ত্র চাইতে সহজ, সইতে কঠিন। মানুষ গণতন্ত্র চায় নিজের জন্য, নিজের অধিকারায়নের জন্য। একবার গণতন্ত্র অর্জিত হয়ে গেলে নিজেকেও অনেক ছাড় দিতে হয়। যাদের অসম ও অচ্ছ্যুৎ ভেবে অভ্যস্ত, তাদের অনেক দাবি-দাওয়া মেনে নিতে হয়। এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না অনেকেই। স্বৈরতান্ত্রিক সমাজে বিভাজন ধরে রাখা গেলেও আন্তর্জালে ধরে রাখা যায় না।

প্রযুক্তির হাত ধরে আসা গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো তথ্যপ্রবাহ। মুক্তির স্বাদ তাজা রক্তের মতো। একে একবার পেলে আর হারাতে দেওয়া যায় না। একটা সময়ে অস্ত্র ছিল শক্তির মূল। অস্ত্রের পরিবর্তে কখনও জমি, কখনও অর্থ হয়ে ওঠে ক্ষমতার মূল। আজ সেই ধারা বদলে গেছে। উন্নত বিশ্বে তথ্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে গণতান্ত্রিক শক্তির উৎস। এভাবে প্রযুক্তির মতো জড় বস্তুটিতে ধীরে ধীরে নিজের মতো একটি প্রাণ গড়ে উঠেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাই প্রযুক্তিকে আরেকটি জড় বস্তু হিসেবে বিবেচনা না করে একটি সম্ভাব্য নতুন প্রাণশক্তি হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থায় ঔপনিবেশিক আমলের সামন্ততন্ত্রের রেশ রয়ে গেছে আজও। সমাজের উঁচু তলায় আছে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। এঁদেরই মর্জিতে দেশের গতিবিধি নিরূপিত হয়। সাধারণ মানুষ অন্ধ, কারণ সাধারণ মানুষ অজ্ঞ।

স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন ছিল অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক। এর পেছনে কারণ ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় ইচ্ছামতো তথ্য নিয়ন্ত্রণের সুবিধা। তুলনায় ১৯৯৬-এর গণআন্দোলন ছিল অনেক বেশি ব্যাপকবিস্তৃত। এর পেছনে স্পষ্ট কারণ ছিল সাধারণ মানুষের মাঝে অধিকতর তথ্যের সঞ্চার। ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে গণদাবি ওঠে, তার মূলে ছিল ইন্টারনেট, এসএমএস, ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরি। ফলাফল পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে প্রকট ভাবে প্রত্যক্ষ।

এই গণবিস্ফোরণের কাঁধে সওয়ার হয়ে বা হতেই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাটির অবতারণা হয় নির্বাচনের আগ-মুহূর্তে। প্রাথমিক অবস্থায় এই নিজস্ব প্রাণ পেয়ে যাওয়া প্রযুক্তিকে বিশ্বস্ত বন্ধু মনে হতেই পারে। এমতাবস্থায় ভুলে যাওয়া খুব সহজ যে এক সময় পাশার দান বদলে যাবে। এক সময় সাধারণ মানুষ নিজের অধিকারের দাবি নিয়ে সামনে দাঁড়াবে। তখন নিজেকে সুবিধাবঞ্চিতের বদলে সুবিধাভোগীর অবস্থানে দেখতে হবে। তিলেকের ভুলও তখন অনেক বড় প্রতিকূলতার মুখোমুখি করবে, ডেকে আনবে অটল প্রতিরোধ।

প্রযুক্তির গতিবিধি সম্পর্কে অচেতন ব্যাক্তির কাছে এই সময়টুকু কিছুটা বিভ্রান্তিকর ঠেকতে পারে। যখন খুব কম মানুষ প্রকৃত তথ্য জানতো, তখন অনেক বড় অপকর্মের প্রেক্ষিতে অল্প কিছু মানুষের তীব্র প্রতিবাদ দেখতে পেত শাসক শ্রেণী। প্রযুক্তির হাত ধরে যে-গণতন্ত্র আসে, তার চরিত্র এদিক থেকে অনেকটাই ভিন্ন। সামান্য অন্যায়ের কথাও ছড়িয়ে যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে, আর সেই প্রান্তিক মানুষগুলোর সামষ্টিক হুঙ্কারই নিমেষে গর্জনে রূপ নেয়। আমাদের নীতিনির্ধারকেরা সবাই সেকেলে মানুষ। তাঁরা গোটা দশেক খুন ও কয়েক হাজার কোটি টাকা চুরির পর অপকর্মে লিপ্তদের শাস্তি পেতে দেখে অভ্যস্ত। পক্ষান্তরে, একালে একটি হাতটানই মানুষকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনতে যথেষ্ট।

প্রযুক্তি ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক বিবেচনা করতে গেলে তাই আমাদের শাসকশ্রেণীর এই উপলব্ধির ভূমিকা ব্যাপক। ক্ষমতায় আরোহন করলে তাঁরা তা নিদেনপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য নিরাপদ ভাবতে অভ্যস্ত। সেই সাথে ক্ষমতার বিবিধ অপব্যবহার করে পার পেয়ে গিয়েও অভ্যস্ত তাঁরা। প্রযুক্তি সাধারণ মানুষকে এই অনাচার থেকে রক্ষা করে।

এ-যুগে শাসকব্যবস্থার পক্ষে পূর্বের মতো দমন-পীড়ন সম্ভব নয়। একটি বার ইন্টারনেটে গিয়েছেন কিংবা একটি ইমেইল করেছেন, এমন ব্যাক্তির নাম-পরিচয় আর গোপন থাকে না। ঠিক তেমনি, একটি বার ইন্টারনেটে কোন কিছু প্রকাশিত হলে তা আর কোনো ভাবে রুদ্ধ করা যায় না। এদিক থেকে শাসকদের প্রস্তুত হতে হবে একটি নতুন ধরনের বাস্তবতার জন্য। ১৯৮০-র দশকের মতো পত্রিকা অফিসে তালা দিয়ে, ছাপাখানা দখল করে, কিংবা হকারদের আটকে পত্রিকার কপি বাজেয়াপ্ত করে কোন কিছু ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়। সাপ্তাহিক বিচিত্রা কিংবা সাপ্তাহিক যায় যায় দিনের সেই যুগ আর নেই, আর ফিরবেও না।

বিগত বছরগুলোয় পাশ্চাত্যে প্রযুক্তির মুক্তি নিশ্চিত করতেই অনেক রকম ব্যবস্থা তৈরি হয়ে আছে। তবুও নিরন্তর আবেগী দোহাই দিয়ে যাওয়া হয়, চেষ্টা করা হয় গা-জোয়ারী ভাবে প্রযুক্তির দ্বার বন্ধ করতে। এই চেষ্টা থেকেই শেখ হাসিনার আলাপচারিতা গোপন করতে ইউটিউব ব্যান করা হয়, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে আসা কিছু আহাম্মককে দাবিকে প্রশ্রয় দিয়ে ফেসবুক ব্যান করা হয়, ইত্যাদি। শেখ হাসিনা সেনাকুঞ্জে খুব একটা ভুল কিছু বলেননি, আবেগাক্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা উত্তেজিত হলেও অপমানজনক কিছু বলেননি। তবুও সেই কথোপকথন লুকিয়ে রাখতে আমরা বিশ্ববরেণ্য গণমাধ্যমে নিজেদের নাম উঠিয়েছি মূর্খ ও উগ্র হিসেবে। গোপন সভার অডিও প্রকাশ হওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলার অভাব দায়ী ছিলো, কেউ উগ্র ভাষায় কিছু বলে থাকলে শেখ হাসিনা সভার নিয়ন্ত্রণে না থাকা ও আস্থাভাজন না হওয়া দায়ী ছিলো। ভুল স্বীকার করবার পরিবর্তে ইউটিউবই ব্লগ করে দেওয়া হলো। এটাই সহজ ও তুলনামূলক ভাবে চটকদার সমাধান বলে কথা।

ফেসবুক নিয়ে ঘটনাও কোনো দিক দিয়ে উন্নত হলো না। বহুদিন আগে ধর্মবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখছিলাম। সেখানে মুসলমান অধ্যুষণে আতঙ্কিত এক খ্রিস্টধর্মীয় নারী বলছিলেন, “উই হ্যাভ টু আউট-ফ্যানাটিসাইজ দ্য মুসলিমস”। বেকুব হয়ে গিয়েছিলাম এই বক্তব্য শুনে। এ-ধরনের চিন্তারই প্রতিফলন দেখা যায় পাশ্চাত্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দু’দিন পরপর মহানবী (স)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকায়। এদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মের প্রচার নয়, বরং আমাদের আস্ফালন দেখে গড়াগড়ি দিয়ে হাসা। আমরা জেনে-বুঝে বারবার পা দিচ্ছি এই ফাঁদে। আমরা নিজেদের একটি শান্তির ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করি, আমাদের নবীকে (স) পাথর মারার পরও তিনি ক্ষিপ্ত না হওয়ার উদাহরণ দেই, অথচ এই সহজ ফাঁদটুকু চিনতে না পেরে গোটা ধর্মকেই অবমানিত করি মানুষের চোখে। যদি শতভাগ ইসলাম-সম্মত সমাজই আমাদের প্রথম আরাধ্য হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে অপরাপর সকল ধর্মের প্রচার-প্রসার নিষিদ্ধ করে দেওয়াই শ্রেয়। সেই তুলনায় ফেসবুক ব্লক করে মৌলবাদীদের তোয়াজ করা অনেক চটকদার সমাধান।

আমরা অনেক আবেগী স্বপ্ন থেকে “ডিজিটাল” বাংলাদেশের কথা বলি। আলোচ্য শব্দবন্ধে ডিজিটাল ব্যবহৃত হয় উন্নত-এর প্রতিশব্দ হিসেবে। যদি সত্যিই ডিজিটাল বাংলাদেশ চেয়ে থাকি, তাহলে মানতে হবে যে এই দেশের কিছু অংশ ডিজিটাল তথা যান্ত্রিক, নিরাবেগ হবে। এই অংশে থাকবে প্রাণহীন তথ্যগুলোর অবাধ, গণতান্ত্রিক বিচরণ। সরকার নয়, মানুষের রুচি ধার্য করে দেবে তথ্যের কোন উৎসটি গৃহীত হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশরক্ষার মতো মৌলিক আবেগের সাথে ভারসাম্য রেখে শুধু নাশকতামূলক তথ্য নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। বাকিটুকু নাগরিক অভিরুচির ব্যাপার।

অন্যথায় অহেতুক বিশ্ব্বের চোখে আমরা অপরিশীলিত জাতি হিসেবে পরিচয় পাবো, ওদিকে বিবিধ সমান্তরাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলোচ্য বিষয়গুলো দেখতে পাবে সবাই। ঠিক যেমন আমি হাজার ব্যস্ততার পরও ফেসবুক বা গুগুল ঘেঁটে আলোচ্য কার্টুন ও ক্যারিকেচারগুলো দেখে নেবো।


মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

জাতীয়তাবাদ ও দেশরক্ষার মতো মৌলিক আবেগের সাথে ভারসাম্য রেখে শুধু নাশকতামূলক তথ্য নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

এইটা বিপদজনক স্টেটমেন্ট । কোনটা নাশকতা আর কোনটা নাশকতা না সেইটা তো সরকারই নির্ধারণ করবে, তাই না ?

স্পর্শ এর ছবি

'তথ্য' কী নাশকতা মূলক হতে পারে?
নাশকতামূলক তো হয় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।

তাই কোনো দোহাই দিয়েই কোনো তথ্য নিয়ন্ত্রণ করার পক্ষপাতি আমি না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

যেমনটা আরেকজন লিখছিলেন... এটুকু নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের চরিত্রের মধ্যেই পড়ে। আমি "নাশকতা" বলতে বোঝাচ্ছিলাম আইন-শৃঙ্খলাজনিত ব্যাপার, গোয়েন্দা তথ্য, ইত্যাদি। মোদ্দা কথা, কৌশলগত কারণে তথ্যের প্রচারের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে আপোষ করা যায় না।

"জাতীয়তাবাদ"-এর প্রসঙ্গ জড়িত হলে স্টেটমেন্টটায় ভুল বোঝার অনেক অবকাশ আছে, দ্বিতীয়বার পড়ে খেয়াল হলো।

বাক্যটায় বলতে চাইছিলাম, কোনো সরকার চাইলে এই দু'টি বিষয় বিবেচনায় নিতে পারে। এটা কাম্য না হলেও বোধগম্য। বাদবাকি কোনো কিছুর ছুতায় একেবারেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা অগ্রহণযোগ্য।

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসিব লিখেছেন:
জাতীয়তাবাদ ও দেশরক্ষার মতো মৌলিক আবেগের সাথে ভারসাম্য রেখে শুধু নাশকতামূলক তথ্য নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

এইটা বিপদজনক স্টেটমেন্ট । কোনটা নাশকতা আর কোনটা নাশকতা না সেইটা তো সরকারই নির্ধারণ করবে, তাই না ?

সহমত।

-কনীনিকা

অতিথি লেখক এর ছবি

মানুষকেই বিবেচনা করতে দেয়া উচিত কোনটা গ্রহণ করবে আর কোনটা বর্জন করবে। ব্যান করে বা ব্লক করে সমস্যার সমাধান হয় না। এরশাদ সরকার অনেক কিছু বন্ধ করেও নিজের গদি রক্ষা করতে পারেন নি। কেউ পারে না। হাজারটা প্রমাণ আছে। তথ্য প্রযুক্তিকে এতো ভয় কেনো? ফতোয়াবাজরা কী কোটি কোটি উদার মনের মানুষের চেয়ে বেশি শক্তিশালী? সরকার কী কতিপয় ফতোয়াবাজদের হাতে জিম্মি, নাকি গুটিকয়েক নির্বুদ্ধি মানুষের ইচ্ছাধীন।
ইশতিয়াক ভাই সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

কালমরুজ্জামান স্বাধীন।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

এই ঘটনা এবং নির্বাচনের আগে নতুন করে খৎনা করানোর প্রয়াসই প্রমাণ করে দেয় যে সরকার মুষ্টিমেয় ফতোয়াবাজের হাতে বন্দী। ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নেওয়ার জন্য বিএনপি-র কাঁধে ছিলো একটি জামায়াত। এসব দেখে মনে হয় যেন আওয়ামী লীগও নিজস্ব একটি জামায়াত খুঁজছে। ইসলামী ঐক্যজোটের দাবির প্রতি নত হওয়া যেন সেই টেন্ডারের শর্তাবলিতে পড়ে...

সাবিহ ওমর এর ছবি

আর এরা নাকি যুদ্ধপরাধীদের বিচার করে ফেলবে। কী ডজটাই না খেলাম গত ইলেকশনে...

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

এই পোলার না কালকে বিবাহ? এত বড় রচনা লেখার টাইম পাইলো কৈ? দেঁতো হাসি
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

সাবিহ ওমর এর ছবি

টেনশনে সারা রাত জেগে ছিল বোধহয়। আহারে বেচারা, এত অল্প বয়সে বিবাহের ধকল... খাইছে

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

লেখাটার অনেক বড় অংশ (প্রায় ৮০%) আগেই লেখা ছিলো। ছাপাই নাই, কারণ মনে করেছিলাম ইউটিউব ব্যান করাটা এককালীন সিদ্ধান্ত ছিলো। ফেসবুক ব্যান দেখে মনে হলো যে কথাগুলো এখনও প্রাসঙ্গিক। সেই কারণেই পোস্টানো।

এইটা গেল পোশাকী কারণ। এত্ত বেশি ক্লান্ত যে ঘুম আসছিলো না... ঐ অবস্থায় ব্যানের খবরগুলো পড়লাম...

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

[ভাইয়ের সেই কুসুমকোমল ভাষা বদলায়া গেসে...
আজকাল খালি কুক্কুটভক্ষণ, বৃকোদর, ধনুর্ধর- জাতীয় যৌগিক শব্দ ব্যবহার করতেসেন আপনি... ]

তবে সরকারের প্রতি তরুণ প্রজন্ম প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়েছে, একাধিক টিভি চ্যানেলে দর্শক প্রতিক্রিয়ায় এই ইস্যু বেশ তীব্রভাবেই এসেছে।

_________________________________________

সেরিওজা

রাফি এর ছবি

@সুহান,
থার্ড ব্র্যাকেটে যা বলছো তাতে সহমত।
এই লেখা পড়তে গিয়ে দাঁত ব্যথা করছে।।

@ইশতিয়াক ভাই,
লেখা ভাল্লাগছে।। তবে বিয়ের আগের রাতে লেখা বলে আপনারে পাঁচতারা দিয়েও সাধ মিটলো না।। চোখ টিপি

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

দৃশা এর ছবি

আলটপকা বেমক্কা একটা মন্তব্য করতেছি মাঝখান দিয়া।

শুভ বিবাহ ইশতিয়াক দম্পত্তি। বৈবাহিক জীবন আনন্দের আর শান্তির হোক, শুভেচ্ছা রইল। দেঁতো হাসি

দৃশা

যুবরাজ এর ছবি

সময়োপযোগী এবং গোছানো চিন্তা -ভাবনার লেখা। ভালো লেগেছে। তবে ভালো লাগাটা বড় নয়। এই যৌত্তিক কথা গুলো যদি সরকারের নীতি-নির্ধারক কর্তাব্যক্তিদের মস্তিষ্কে প্রবেশ করানো যেত, তাহলে এই অবস্থা আর হতোনা।

"পাশ্চাত্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দু’দিন পরপর মহানবী (স)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকায়। এদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মের প্রচার নয়, বরং আমাদের আস্ফালন দেখে গড়াগড়ি দিয়ে হাসা। আমরা জেনে-বুঝে বারবার পা দিচ্ছি এই ফাঁদে।" খুবই সত্যি কথা।

আমার একজন বন্ধু আছে, থাকে আমস্টার্ডামে, নাম নীর নুবাহুম। সে বাংলাদেশে পর্যটক হিসাবে এসেছিল এবং বিশেষ একটি ঘটনায় তার সাথে আমার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি সে একজন ঈহুদী এবং ইসরাইলের অধিবাসী। তাতে আমাদের বন্ধুত্তের কোন হের-ফের হয়নি। তবে তার কাছ থেকে আমি বহুবার শুনেছি, পশ্চিমারা ইচ্ছে করে ব্যাঙ্গ করে, যাতে মুসলমানেরা তামাশার পাত্র হয়। আমি নিশ্চিত নীর' এই বিষয়ে ফেস-বুকে একটা আপডেট দিয়েছে।

আমি প্রায়ই ইসরাইল বিষয়ে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হই, এবং ঠান্ডা মাথায় তাকে বোঝাই তার রাষ্ট্র একটি সম্মানিত "সন্ত্রাসী- গোয়ার" রাষ্ট্র। সে আমার যুক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানে। তার সাথে তর্কে জয়লাভে আমার ব্যক্তিগত কোন ফায়দা হয়না। তবে তাকে বোঝাই যে অন্যায় তার রাষ্ট্র করছে, নিরপেক্ষ দৃষ্টি থেকে তার মুল্যায়ন করা উচিত। তার সাথে এই তর্কের খাতিরে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি, ইসরাইল-প্যালেষ্টাইনের ৩ হাজার বছর ইতিহাস উইকিপিডিয়া ঘেটে, বই পড়ে মুখস্ত করেছি। অপ্রাসংগিক অনেক কথা বলে ফেললাম। মূল কথা, আমরা মাঝে মাঝে বড়ই হাস্যকরভাবে নিজেদের উপস্থাপন করে ফেলি।

---------------------------------------------------------------------------- হাতের কাছে ভরা কলস, তবু তৃষ্ণা মিটেনা

হাতের কাছে ভরা কলস, তবু তৃষ্ণা মিটেনা।
----------------------------------------------------------------------------

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমার অভিজ্ঞতাও একই রকম। আমি এক ইহুদিকে ছেলেকে চিনতাম যে এমনিতে নিজের মনে কাজ করে যেতো, কিন্তু কথাবার্তা বলতে গেলে ইচ্ছা করে ক্ষেপাতে চাইতো। আমরা দিনে দিনে মাথাগরম মুসলমান হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি অনেক বেশি পোক্ত করে ফেলছি, এটাই বুঝি না। শুধু পশ্চিমাদের না, এই খোঁচাখুঁচির ব্যারাম ধর্মে অবিশ্বাসীদেরও আছে। আমি অন্য ধর্মাবলম্বীদের মুসলমানদের মতো এত দ্রুত রেগে দিশেহারা হতে দেখিনি...

সাবিহ ওমর এর ছবি

হে হে ওয়ারবুক ফোরামে এই রকম একটা খোঁচাখুচি থেকে ওয়ারবুক ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধগুলার একটা শুরু হয়েছিল। ফিলিস্তিনি কামাল শাহের গডশাইন ক্যাম্পেন, আর রায়ান ব্যালেরোজ গং এর পালটা ক্রুসেড। সেই যুদ্ধের শেষটা আরো ইন্টারেস্টিং। একদিন দুম করে শুনি রায়ান ব্যালেরোজ নাকি আস্ত গেম কিনে নিয়েছে, আর মাথাগরম কামাল শাহ ব্যানড। গড়াগড়ি দিয়া হাসি

স্পর্শ এর ছবি

মুখ ফুটে নিঃসংকোচে না বললেও অবলীলায় ভেবে বসি যে এরা সব রকম অধিকারের যোগ্য না, সব রকম সুবিধা এরা সদ্ব্যবহার করতে পারবে না, নিজেরাই নিজের পথের কাঁটা হয়ে ওঠা ঠেকাতে পারবে না, ইত্যাদি।

এই পর্যবেক্ষণ যে কতটা আশঙ্কাজনক ভাবে সঠিক! হাড়ে হাড়ে টের পাই বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে।

পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের সাথে সহমত।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

জমিদারে ভরে গেছে দেশটা।

একটা কার্ভের আইডিয়া মাথায় ঘুরছে। Damped Wave -এর একটা ছবির ছবি যদি রাষ্ট্রীয় ঘটনাবলিকে প্রকাশ করা যেতো! সেই কার্ভ দেখে হয়তো উপলব্ধি হতো যে প্রাথমিক অবস্থার সমস্যাগুলোর প্রভাব অনেক বেশি, এবং খুব বেশি কাছ থেকে দেখলে অবস্থা পতনশীল/অস্থিতিশীল লাগলেও দূরপাল্লায় আমাদের স্ব স্ব চরিত্রের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ একটা ভারসাম্যেই শেষতক পৌঁছাবো।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

দু’টো ব্যাপার। আপনার

আমরা জেনে-বুঝে বারবার পা দিচ্ছি এই ফাঁদে। আমরা নিজেদের একটি শান্তির ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করি, আমাদের নবীকে (স) পাথর মারার পরও তিনি ক্ষিপ্ত না হওয়ার উদাহরণ দেই, অথচ এই সহজ ফাঁদটুকু চিনতে না পেরে গোটা ধর্মকেই অবমানিত করি মানুষের চোখে

এই বাক্যগুলোতে 'আমরা' কারা সেটা পরিষ্কার করা দরকার।

আর


জাতীয়তাবাদ ও দেশরক্ষার মতো মৌলিক আবেগের সাথে ভারসাম্য রেখে শুধু নাশকতামূলক তথ্য নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এটা অবশ্যই আপনার উদ্ভাবন নয়, অধিকাংশ রাষ্ট্রের এটাই চরিত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, কি ধরনের তথ্য নাশকতামূলক হতে পারে। এধরনের ওয়েব সাইটের কিছু কংক্রিট উদাহরণ কি? আমি নিজে কিছু দেবার চেষ্টা করি।

সম্ভাব্য ক্যান্ডিডেট হচ্ছে সেসব তথ্য, যেগুলোর মাঝে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নাশকতামূলক ক্রিয়া সম্পাদনের ইঙ্গিত আছে। যেমন ধরুন জে এম বি বা হিজবুত তাহরীর তাদের ওয়েব সাইটে মুসল্লীদের এক হয়ে আহমদীয়া মসজিদে অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার আহ্বান জানালো। বা বিধর্মীদের কতলের নির্দেশ দিল, এই সংক্রান্ত ফতোয়া প্রচার শুরু করলো। রাষ্ট্র এনটিটিটার প্রতিষ্ঠিত স্বাভাবিক চরিত্র হলো এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা।

আমার মত, যেসব তথ্যে নাশকতা বা অনাশকতামূলক কোনো প্রকারের ক্রিয়ারই ইন্ধন থাকে না, সেগুলো কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণের জন্য বিচার্য হতে পারে না। এগুলোর মধ্যে ব্যঙ্গ, কার্টুন, চিত্র, উক্তি, গালিগালাজ, ইত্যাদি পড়ে। রাষ্ট্র এগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করতে পারে না। তবে, যারা এগুলো হোস্ট করবেন, তাদের এখতিয়ার থাকতে পারে এগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী মডারেট করার।

আর মৌলিক আবেগের লিস্ট হতে জাতীয়তাবাদকে দূর করা আমার মতে একান্ত জরুরি। এটার লালন পালন একটা কাউন্টার প্রডাক্টিভ কাজ।

আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

এই বাক্যগুলোতে 'আমরা' কারা সেটা পরিষ্কার করা দরকার।

সাধারণ ভাবে দেখলে, ধর্মের প্রসঙ্গে অতিরিক্ত স্পর্শকাতর মুসলিমদের কথা বলছিলাম।

আর মৌলিক আবেগের লিস্ট হতে জাতীয়তাবাদকে দূর করা আমার মতে একান্ত জরুরি। এটার লালন পালন একটা কাউন্টার প্রডাক্টিভ কাজ।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি যে জাতীয়তাবাদী প্রচারণা দেশপ্রেমের তুলনায় বিদ্বেষ ছড়ায় বেশি। শুধু তাই না, "জাতীয়তাবাদ"-এর ছুতায় অনেক কুকর্ম হালাল করার চেষ্টাও করা হয়। ঐ বাক্যে বলতে চাইছিলাম যে, কেউ যদি এই দু'টি বিবেচনা থেকে তথ্য নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তা/চেষ্টা করেন তবে তাঁর সেই প্রয়াসের পেছনের বিবেচনাটুকু বোধগম্য। ধর্মের নামে তথ্যনিয়ন্ত্রণ বোধগম্য নয়, কারণ রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ থাকতে হলে সব ধর্মের প্রতি এই রকম খেয়াল রাখতে হবে, এটি মানুষের কিছু মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, ইত্যাদি।

বাকি অংশের সাথেও পূর্ণ সহমত। একেবারেই যে নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, তা হতে পারে না। মাইক্রো পর্যায়ে প্রতিটি ফোরাম/প্ল্যাটফর্ম নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণের চর্চা করবে, কিন্তু মাইক্রো পর্যায়ে রাষ্ট্র কোনো প্রকার তথ্যসূত্র বা মতবাদের মুখে ছিপি এঁটে দেবে না।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

‍‌গণতন্ত্র চাইতে সহজ, সইতে কঠিন।

সহনশীলতা মানুষেরও নেই, সরকারেরও নেই। যেমন মানুষ তেমন নেতা।

সবচেয়ে হাস্যকর লেগেছে গতকাল র‌্যাবের সাংবাদিক সম্মেলন। খবরগুলোতেও পরস্পরবিরোধী খবর এত বেশী। ঠিক কি কারনে বন্ধ করা হলো তা নিয়ে সরকার নিজেই বিভ্রান্ত বোধহয়।

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ঠিক কি কারনে বন্ধ করা হলো তা নিয়ে সরকার নিজেই বিভ্রান্ত বোধহয়।

সেটাই। এর পেছনে অনেক রকম কারণ আছে। জেনারেশন গ্যাপের কারণে অনেকেই এমন একটি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না, উদারপন্থী অংশ হয়তো ফেসবুক কী জিনিস তা-ই জানেন না, অতি-উৎসাহী রক্ষণশীল অংশের হয়তো দুনিয়ার ভাবগতিক সম্পর্কে ধারণা নেই, ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে। নিজেদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে না উঠা পর্যন্ত এমন অনেক ঘটনাই ঘটতে থাকবে।

সাবিহ ওমর এর ছবি

আমার মজা লাগে এটা দেখে যে এধরণের গোলমেলে কেসে সরকার বাহাদুর শাস্তিটা কাকে দেয় সেটা দেখে। যারা প্রতি শুক্রবারে ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই করে চেঁচামেচি করে, তাদের লিস্টে তো পাপীদের সংখ্যা অনেক, তার মধ্যে সুইডিশ দূতাবাস থেকে শুরু করে ইস্রায়েলি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারি ঝালটা ঝাড়া হয় ফেসবুকের মত জড়বস্তু বা কার্টুনিস্ট আরিফের মত প্রায় জড়বস্তুর উপর। অনেকটা কুশপুত্তলিকা দাহ করার মত ব্যাপার আরকি।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

খারাপ লাগে এই ধরনের উটকো সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বাংলাদেশকেও পাকিস্তানের কাতারে ফেলে দেওয়াটা। আমাদের আমাদের সামর্থ্যের কিছুই বাকি রাখি না যেকোনো বিবেচনায় পাকিস্তানসুলভ সাচ্চা মুসলমানত্ব দেখাতে। মন খারাপ

লীন এর ছবি

সুন্দর লেখা।
______________________________________
ভাষা উন্মুক্ত হবেই | লিনলিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি লিখেছেন-
প্রযুক্তি ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক বিবেচনা করতে গেলে তাই আমাদের শাসকশ্রেণীর এই উপলব্ধির ভূমিকা ব্যাপক। ক্ষমতায় আরোহন করলে তাঁরা তা নিদেনপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য নিরাপদ ভাবতে অভ্যস্ত। সেই সাথে ক্ষমতার বিবিধ অপব্যবহার করে পার পেয়ে গিয়েও অভ্যস্ত তাঁরা। প্রযুক্তি সাধারণ মানুষকে এই অনাচার থেকে রক্ষা করে।

খুবই সত্যি কথা। বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে লেখাটি লিখেছেন। আপনার কথাগুলো খুব ভাল লেগেছে। সাহসী উচ্চারণে লেখাটি সমাপ্তি ঘটেছে। ধন্যবাদ।

সাদ আব্দুল ওয়ালী
নিবন্ধন নাম: ওয়ালীসার্চ
ই-মেইল:

রণদীপম বসু এর ছবি

এসব ঘটনা থেকে একটা বিষয় হয়তো স্পষ্ট হয়ে ওঠছে যে, সরকার তার শরীরটাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তার হাত কি করে সে জানে না, তার পা কোথায় তাকে নিয়ে যাচ্ছে সে খবর পাচ্ছে না। খুব অদ্ভুত না ? নইলে মাঝে মাঝে এমন মাথামোটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে লেজেগোবড়ে হতে হতো না। যে প্রত্যঙ্গটা উল্টোপাল্টা করছে সেটার চিকিৎসা না করে তার কৃতকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়া যে আরেকটা নির্বুদ্ধিতা, এটা যারা বুঝেন না তাদের যোগ্যতা নিয়েই তো প্রশ্ন এসে যায় !

সদর রাস্তায় একটা লোক লেংটা হয়ে চেচামেচি করলো আর কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের মঙ্গলের জন্য গোটা রাস্তাটাই ব্যান করে দিলো, ফেসবুক ব্যান করার ব্যাপারটা সেরকম হয়ে গেলো না ? হবুর দেশের গবুকর্ম আর কাকে বলে !

লেখাটা ভালো হয়েছে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নৈষাদ এর ছবি

চলুক

স্তব্ধ এর ছবি

CBS News এপির বরাত দিয়ে বললো যে মুহাম্মদ(সা:) এর উপর কার্টুন কন্টেস্টই ফেইসবুকের বন্ধের কারণ। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) জিয়া আহম্মেদ এই তথ্য জানান এপি বাংলাদেশের চীফ ফরিদ হোসেনকে।
লিংক: http://www.cbsnews.com/stories/2010/05/30/ap/asia/main6531830.shtml

স্পর্শ(অফলাইন) এর ছবি

পাকিস্থানের সাথে এক কলামে নাম গেলো। এ লজ্জা কোথায় রাখি!

তিথীডোর এর ছবি

"আমরা অনেক আবেগী স্বপ্ন থেকে “ডিজিটাল” বাংলাদেশের কথা বলি। যদি সত্যিই ডিজিটাল বাংলাদেশ চেয়ে থাকি, তাহলে মানতে হবে যে এই দেশের কিছু অংশ ডিজিটাল তথা যান্ত্রিক, নিরাবেগ হবে। এই অংশে থাকবে প্রাণহীন তথ্যগুলোর অবাধ, গণতান্ত্রিক বিচরণ। সরকার নয়, মানুষের রুচি ধার্য করে দেবে তথ্যের কোন উৎসটি গৃহীত হবে। "

চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

থার্ড আই এর ছবি

আমরা নিশ্চিত হলাম সরকারের আইটি বিশষজ্ঞরা মূর্খ। ফেসবুকের যে একাউন্ট ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ায় সেই একাউন্টের বিরুদ্ধে ফেসবুক কতৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট না করে ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মত কুপরামর্শ দাতাদের অতি সত্তর অপসারন করা হোক।
-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।