জাতীয় সংসদের ৩৩% আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন চাই

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
লিখেছেন ইশতিয়াক রউফ (তারিখ: রবি, ০৭/০৭/২০১৩ - ১০:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমেরিকার গণতন্ত্রের একটা দারুণ দিক হলো মধ্যবর্তী নির্বাচন ("মিডটার্ম ইলেকশন")।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর কংগ্রেস নির্বাচন আয়োজন করা অস্বাভাবিক কিছু না। ক্ষমতা তিনটি অংশের মধ্যে বিভক্ত হওয়ায় একেক সময়ে প্রেসিডেন্সি/কংগ্রেস/সিনেট নির্বাচনও খুবই স্বাভাবিক। প্রসঙ্গত একটি অতি-সরলীকৃত ব্যাখ্যাঃ আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট সব রকম প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেন, কংগ্রেস (নিম্নকক্ষ) থাকে কোষাগারের দায়িত্বে, সিনেট (উচ্চকক্ষ) থাকে আইনের দায়িত্বে। যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের জন্য তিনটি ক্ষমতাকেন্দ্রকেই একমত হতে হয়।

প্রেসিডেন্সি এবং কংগ্রেসের সম্পূর্ণ নির্বাচন একত্রে হলেও মজা হলো সিনেট নির্বাচনে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় সিনেটের মাত্র ৩৩% আসনের নির্বাচন হয়, বাকি আসনের নির্বাচন হয় দুই বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাথে।

এই রকম 'মধ্যবর্তী নির্বাচন' থাকার সুফল হলো, জনগণ চাইলে ক্ষমতাসীন দলকে তাদের শাসনামলের মাঝামাঝি সময়ে "টাইট দিতে" পারে। দেশ কোনো ভুল পথে চলতে থাকলে তা শুধরাতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় না।

বাংলাদেশে একাধারে ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেশ ভালো ভাবেই টাইট দিয়েছে, রূঢ় এবং স্পষ্ট ভাষায় নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছে। সরকারী দলও ব্যাপারটা বাধ্য হয়েই একটু একটু করে আমলে নিচ্ছে। তারা বুঝতে শুরু করেছে যে বাংলাদেশে "ওয়ান-টপিক পলিটিক্স" করার দিন শেষ। সুশাসন বাদ দিয়ে শুধুই রাজাকারদের দোষারোপ করলে চলবে না।

এই উপলব্ধি গণতন্ত্রের জন্য বিশাল অর্জন। এই দেশে তো সংবিধান এবং শাসনব্যবস্থা অনেক ভাবেই কাটা-ছেঁড়া হলো গত চার দশকে। আর এক দফা সংশোধন করে যদি সংসদের ৩৩% আসনের জন্য ৩ বছরের মাথায় নির্বাচনের আয়োজন করা যেত! তাহলে আমরা একটি দলের একতরফা আধিপত্য (যেটা গত দুই নির্বাচনেই হয়েছে) এবং তৎপরবর্তী ঔদ্ধত্য দেখতাম না, হাতে আরেকটু সময় থাকতেই শাসকদের টনক নড়তে দেখতাম।

গণতন্ত্রের প্রাণভোমরাই হলো নির্বাচন। যত বেশি নির্বাচন হবে, তত বেশি কারচুপির পথ বন্ধ হবে, তত বেশি টনক নড়বে, তত বেশী অনির্বাচিত সরকারের ঝুঁকি কমবে। ভারত এভাবেই পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হতে পেরেছে, আমেরিকা এভাবেই শাসকশ্রেণীর পা মাটিতে রেখেছে।


মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

কিছু সমস্যা আছে এই প্রস্তাবে,
১। কারা কারা এই ৩৩% হবে?
২। মধ্যবর্তী নির্বাচন খরচ বাড়াবে। মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।
৩। যদি মধ্যবিত্ত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সংখ্যালঘিষ্ঠ দল হয়ে পড়ে তাহলে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। আড়াই বছর একটা সরকারের জন্য যথেষ্ট সময় না।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

সমস্যা তো আছেই। সব সমস্যার মূলে আছে দলের মধ্যে গণতন্ত্র না থাকা, সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে না পারা, নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা না থাকা, ইত্যাদি। এগুলো ঠিক থাকলে যেকোনো সিস্টেমই ঠিক থাকতো।

এর বাইরে যেগুলো বললেন --

এই ৩৩% যেকোনো ভাবেই ঠিক করা যায়। এদেরও মেয়াদ ৫ বছরই হবে। শুধু নির্বাচনের সময়টা একটু ভিন্ন হতে পারে।

খরচ বাড়বে অবশ্যই। বাড়তে দেওয়াও উচিত। এখন প্রতি ৫ বছর পর নির্বাচন হয়, এবং রাজনীতিকরা ৫ বছর ধরে হরিলুট করে কোটি কোটি টাকা অপচয় করে। কয়েক বছর পরপর এমন খরচ করে নির্বাচন জেতা একটু কঠিন।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ বছর পর হতে পারে। বহু দেশ চলছে ৪ বছর মেয়াদের শাসনে। যদি একটা সরকার ৩৩%-এর উপর ভোট হলেই ক্ষমতা হারিয়ে বসে, তাদের কি আদৌ ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার কোনো ম্যান্ডেট অবশিষ্ট আছে?

হাসিব এর ছবি

কাছাকাছি আসন সংখ্যা থাকলে ৩৩% জটিলতা বাড়াবে। ইনকামবেন্ট যেহেতু জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে নিয়মানুযায়ী সেহেতু কাছাকাছি আসন থাকলে নিশ্চিতভাবেই সরকার ফল করবে।

আর খরচের কথাটা নির্বাচন কমিশনের খরচের কথা বললাম। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের খরচ হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

৪ বছর আর আড়াই বছরের মধ্যে অনেক পার্থক্য।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

এটা ঠিক। অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি সব দেশেই একটা সাধারণ ট্রেন্ড। সরকার পতনের সম্ভাবনা বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে। সংখ্যাটা কম-বেশি হলে কি কিছু হতে পারে? মোদ্দা কথা, ৫ বছরের জমিদারি দিয়ে কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না।

অন্যকেউ এর ছবি

মূল আইডিয়াটাতো ভালো। এটা ৩৩% এর বদলে ন্যূনতম একটা কিছু, হয়তো ২০% হতে পারে। কিন্তু এরকম একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে যে কেউ সতর্ক হতে বাধ্য হবে।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

সফিক এর ছবি

আমেরিকার সেনেটে প্রতি দুই বছর পর পর ৩৩% সিটের নির্বাচন হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়েও ৩৩% সেনেটের ভোট হয়। একজন সেনেটর এর মেয়াদ ৬ বছর।

আর এটা প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার। পার্লামেন্টারী সিস্টেমে ৩৩% সিট মধ্যবর্তী নিরবাচনের জন্যে খালি রাখা, কোনো হিসেবেই সম্ভব নয়, কোথাও নেই। এই সিস্টেমে নতুন নির্বাচনের পরে মেজরিটির হিসাব কিভাবে হবে? কোন ৩৩% কেই বা মধ্যবর্তীর জন্যে আলাদা করে রাখা হবে।
পোস্ট দেবার আগে একটু পড়াশোনা, চিন্তা করলে ভালো হতো।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

খুব একটা চিন্তা করে পোস্ট দেই নাই, সেই জন্যই তো "অনুপোস্ট"। চিন্তা করে দেওয়া পোস্টগুলা আরও অনেক বেশি লম্বা হয়। 'নিজস্ব ধাঁচের গণতন্ত্র' নিয়ে এক কালে সিরিজ লিখেছিলাম ৬ পর্বের, সেগুলো ছিলো চিন্তা এবং পড়াশুনা করে দেওয়া পোস্ট।

সিনেট ইলেকশনের আরও খুঁটিনাটি আছে। শুধুই যে ২ বছর পরপর ৩৩% সেটা না, সিনেটরদের মেয়াদও সেই অনুযায়ী ৬ বছর, ইত্যাদি। এসব ডিটেইলে যাই নাই কারণ মূল উদ্দেশ্য আমেরিকার সিস্টেম নিয়ে আলাপ করা না, আমাদের সংসদে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রবর্তন করা যায় কি না সেই দিকে আলোকপাত। মাত্র ৫টা সিটি কর্পোরেশনে হেরেই আওয়ামী লীগের কাঁপাকাপি লেগে গেছে, চিন্তা করেন সংসদের ১০০টা আসনে নির্বাচন করতে হলে কী অবস্থা হতো।

অন্য কোনো দেশে নেই বলেই থাকতে পারবে না, এই ধারণাটার ব্যাপারে আমার আপত্তি আছে। আমরা ৫ বছরের জন্য একটা সরকারকে ক্ষমতা দেই। হয় এর মাঝে রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও চলে, নয়তো এই ৫ বছরের পর একটা সেনা/অনির্বাচিত সরকার আছে। এত লম্বা মেয়াদের মাঝামাঝি কোনো সময়ে একটা 'হলুদ কার্ড' সিস্টেম থাকলে অনেক ঝামেলা চুকে যেত, সেই কারণে বলা।

একাত্তর এর ছবি

ভুল বললেন। মানি না, মানব না শুরু হয় নির্বাচনের পরের দিন থেকেই। জ্বালাও পোড়াও শুরু হতে লাগে মাস ছয়েক। এই ৩৩% ব্যাপারটিকে চোথা মারা বলতেই হচ্ছে...একে তো আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের পলিটিক্যাল প্রেক্ষাপট অনেক ভিন্ন তার উপর আছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু। তাই এই তিন বছরের মাথায় ৩৩% সংসদ নির্বাচন এর প্রস্তাবটি অর্বাচীন লাগল। সরকার কি পদত্যাগ করবে ওই সময়? কারচুপির ধোঁয়া তুলে তো আরো বেশী তান্ডবের রাস্তা খোলার বন্দোবস্ত হবে ওই ৩৩% ইলেকশান দিয়ে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে কয়েক বছর পরপর ক্ষমতার হাতবদলে আপত্তিকর কিছু দেখি না। ভারতে তো প্রায়ই এক-দুই বছর পরও ক্ষমতার বদল হয়। নির্বাচন মানেই জনগণ সরব হওয়া। এই মুহূর্তে জনগণ ৫ বছর চুপ থাকে, সরকার কথা বলে আইনের মাধ্যমে, বিরোধীদল কথা বলে হট্টগোল করে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

সংখ্যাটা অবশ্যই চোথা। কোনো একটা রেফারেন্স পয়েন্ট অনুযায়ী বলছিলাম, এবং সর্বাধিক প্রচলিতটাই এখানেই বলেছি। সংখ্যাটা কত কিংবা আমেরিকার মতো প্রেক্ষাপট বা শাসনতন্ত্র চাই কি না সেটা বিবেচ্য না। এইগুলো তো দৈবভাবে ঠিক করা সংখ্যা/শাসনতন্ত্র না, অনেক চুলচেরা বিশ্লেষণের পর এটা এসেছে। আমি সেই অভিসন্দর্ভের দিকে যাচ্ছি না।

এই পোস্টের মূল প্রশ্ন একটাই -- বাংলাদেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের রীতি থাকলে তার প্রভাব ভালো হতে পারতো কি?

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

চলুক

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

আপনার চিন্তাভাবনা ভালো লেগেছে ইশতিয়াক (অঃটঃ বেশিরভাগ সময়েই লাগে)।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে যদি ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে তবে সেটাকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে মন্দ বলতে পারি না। সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব নির্বাচনী আসনসংখ্যার অনুপাতের ভিত্তিতে বন্টন করে দেয়া যেতে পারে। ধরা যাক, মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরকারের দখলে থাকা পঞ্চাশটি আসন চলে গেল। এর ফলে যদি স্বরাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয় সরকারকে বিরোধী দলের হাতে ছেড়ে দিতে হয় তবে তারা অবশ্যই নয় ছয় করার আগে অনেকবার ভাববে। সত্যি কথা বলতে কি, আসন সংখ্যার বিপরীতে মন্ত্রণালয় ভাগাভাগি হলে এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও দরকার নেই, জাতীয় নির্বাচন থেকেই সেটা শুরু হতে পারে। নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে ভালো কিছু দিতে পারে নি এখনও, তাই এটার পরিবর্তন জরুরী হয়ে পড়েছে

একাত্তর এর ছবি

আপনাকে চোথাবাজ বলেছি সংখ্যা কপি করার জন্যে নয় বরং প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা না বুঝে ৩৩% আসনে মধ্যবর্তী ইলেকশান নিয়ে লাফালাফি শুরু করার জন্যে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে যেখানে শুধু বিএনপি-জামাত না সুশীল সমাজ পর্যন্ত এখনও সোচ্চার, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কে আমলেই আনছেন না তারা, সেখানে মাঝখান দিয়ে আপনি শুরু করেছেন এই সব ফালতু প্যাচাল। ৩ বছর পর কি সরকার পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে ৩৩% সদস্য পদে ইলেকশানের জন্যে? আর যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না করে দলীয় সরকারের অধীনে ইলেকশান দেয় তাহলে কি বিরোধীদল ওই ৩৩% সদস্যের ইলেকশান রেজাল্ট মেনে নিবে ভাবছেন? আগে এই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু এর সমাধান করতে হবে। আর তা না হলে প্রতি দুই/তিন বছর পর পদত্যাগ পদত্যাগ খেলা খেলে ৩৩% সদস্য নির্বাচন করতেই টাইম শেষ...কব্বরে যাওয়ার সময় আসন্ন (অবশ্যি আপনি যদি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষপাতী হন তাইলে ভিন্ন কথা।)

হিমু এর ছবি

বিরোধীদল মেনে নেবে যদি ঐ আসনে তারা জেতে। যেমন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, হবিগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচন। হেরে গেলে বলবে কারচুপি হইছে।

একাত্তর এর ছবি

হাততালি

সবজান্তা এর ছবি

আপনাকে চোথাবাজ বলেছি সংখ্যা কপি করার জন্যে নয় বরং প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা না বুঝে ৩৩% আসনে মধ্যবর্তী ইলেকশান নিয়ে লাফালাফি শুরু করার জন্যে।

সেখানে মাঝখান দিয়ে আপনি শুরু করেছেন এই সব ফালতু প্যাচাল।

আপনার মন্তব্যের সুরটা ভালো লাগলো না। দ্বিমত জানাতে, কিংবা সমালোচনা করার জন্য অন্যকে এইভাবে আক্রমণ করার তো দরকার দেখি না।

একাত্তর এর ছবি

আমেরিকার মত এরকম অদ্ভুত একটা সিস্টেম যেটা নিয়ে তারাই রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে সেইটাকে বাংলাদেশের অলরেডি ঝামেলায় থাকা রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে "মধ্যবর্তী নির্বাচন চাই" বলে লিখে দেয়াকে আসলেই আমার কাছে ফালতু মনে হয়েছে। আমেরিকার সিনেট একটা সময় গিয়ে মেজরিটি হারিয়ে ফেলে আর এই জটিলতা থাকার কারনে গত ১২ বছর ধরে তারা বাজেট পাশ করতে পারে নাই, ডেট কিভাবে পরিশোধ হবে সেই সমাধানে পৌছাতে না পেরে ডেট সিলিং বাড়ায় ই যাচ্ছে, ফিসকাল ক্লিফ নিয়ে তো লেজে গোবরে অবস্থা ... শেষ চেষ্টা করার জন্যে গত বৃহস্পতিবার ওবামা বসছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেট বা হাউস অফ রেপ্রেসেন্টেটিভ কোন প্ল্যান ই টেবিলে আনতে পারেনি রিপাব্লিকান আর ডেমক্রেটের বিভক্তির কারনে। এতে করে ট্যাক্স নিয়ে ঝামেলার কবলে তো পড়ছেই গোটা জাতি সেটা ছাড়াও আমেরিকার শেয়ার আর বন্ড মার্কেটেও চরম শঙ্কা বিরাজ করছে।

সুতরাং শুধু লেখার জন্যে এসব না লেখাই ভাল।

তার পরও লেখকের কাছে জানতে চাইছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর ব্যাপারটা মাথায় রেখে কি "মধ্যবর্তী নির্বাচন" চাইছেন নাকি দলীয় সরকারের অধীনে থেকেই ৩৩% সংসদের ইলেকশান হবে বলে ভাবছেন।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

"একাত্তর" সাহেব, আপনার পার্টিজান রূপটা তো বেশিদূর ঢেকে রাখতে পারলেন না। আমার কোনোই খায়েশ নাই খাস বিএনপি সমর্থক কারও সাথে কুতর্ক করার।

আপনি যদি আমেরিকার রাজনীতি কিংবা শাসনতন্ত্র নিয়ে আলাপে আগ্রহী হন, অবশ্যই খোলাসা করেন বলুন। আমি কম দিন ধরে এই দেশে নাই, এখানকার রাজনীতি সম্পর্কে গড়পরতা মানুষের চেয়ে কম জানি না। অতএব অনুগ্রহ করে আমেরিকার রাজনীতি থেকে খাবলা খাবলা তথ্য না দিয়ে সুসংগঠিত কিছু বলুন। "গণতন্ত্র" নিয়ে অনেক দেশ দুখে থাকে, আবার "রাজতন্ত্র" নিয়ে অনেক দেশ সুখে থাকে। বিস্তারিতে না গেলে সেগুলোর স্বরূপ বুঝতে পারা যায় না, তাই লোক-দেখানো ডিটেইলে না গিয়ে সত্যিকার বিশ্লেষণ করুন। বিশেষত মাঝপথে সিনেট মেজরিটি হারিয়ে ফেলায় ১২ বছর ধরে আমেরিকায় বাজেট পাশ হয় না -- এই রকম বুদ্ধিহীন কথাবার্তা একটু বুঝে বলা ভালো। আপনি এই পোস্টে অতিথি, তাই আপনার তির্যক মন্তব্যগুলোও মেনে নিয়েছি। কিন্তু একটু রয়েসয়ে, প্লিজ।

এই লেখা কোনো ভাবেই আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি-কে নিয়ে ভেবে লেখা না। এটা সেই অর্থে কোনো "লেখা"-ও না। এই পোস্টটা দিয়েছি এই রকম পদ্ধতি থাকলে ভালো কি মন্দ হতো সেই সম্পর্কে মতামত জানতে। এর মধ্যে রাজপথের রাজনীতির তত্ত্বাবধায়ক বনাম দলীয় সরকার ইনজেক্ট করার প্রয়োজন নেই। ১৫ই ফেব্রুয়ারি টাইপ দলীয় সরকারও কেউ চায় না, এম এ আজিজ টাইপ নির্বাচন কমিশন কিংবা ডঃ ইয়াজুদ্দীন টাইপ তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কেউ চায় না।

এবারে মেদ ছেড়ে আসল কথায় আসি।

নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হবে নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে সেটা রাজনীতিকরা ঠিক করবেন। আমার বক্তব্য ছিলো, পুরো ৫ বছরের জমিদারি চলতে দিলে দেশের ক্ষতিই হয় বেশি। ঘন ঘন নির্বাচন হলে চুরি করা কঠিন হতে থাকে, শাসকশ্রেণী কিছুটা হলেও ফিডব্যাক পায়।

আজকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ০-৫ গোলে হেরে যাওয়ায় তাদের একটু টনক নড়েছে হয়তো, কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের বদান্যতায় হয়েছে। তারা চাইলেই এটাকে আরও বছর খানেক ঝুলিয়ে রাখতে পারতো। তাতে বাকি ৪-৫ মাসে যেটুকু সদ্বুদ্ধি দেখার সম্ভাবনা আছে সেটাও থাকতো না। এই রকম কিছু নির্বাচন বাধ্যতামূলক ভাবেই আরও এক বছর আগে হলে দেশ এবং শাসক উভয়েরই উপকার হতো। একই কথা বিএনপি-র ২০০১-২০০৬ এর শাসনামলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ক্ষমতা পাওয়ার প্রথম কয়েক মাসেই হাজার হাজার সংখ্যালঘু হত্যা করে একটা দল ৫ বছর ধরে টিকে থেকেছে, যেমন খুশি চুরি-ডাকাতি করেছে। যদি ৩ বছরের মাথায় একটা নির্বাচন হয়ে তাদের শ'দুয়েক আসনের ৩০টিও হারাতো, তাহলে হয়তো বাকি ২ বছরে অন্যায়ের মোচ্ছব একটু কমতো।

Fallen Leaf এর ছবি

[আমেরিকার বাজেট পাশ বিষয়ে একাত্তর মহাশয় বোধহয় ঠিক ই বলেছেন http://www.economist.com/blogs/freeexchange/2012/02/parliamentary-procedure
তবে এবছর বাজেট পাশের কোন লক্ষন আছে কিনা জানিনা]

ইশতিয়াক তুমি যে কারনে মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইছ বাংলাদেশে তার জন্যে আমেরিকার উদাহরণটি মনে হয় খুব একটা উপযুক্ত না কারন এখানে সিনেটর বা গভর্নর নির্বাচনের রেজাল্ট দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশানে কি হতে যাচ্ছে তার কিছুই প্রায় বোঝা যায় না। উদাহরন দেই...

ম্যাসাচুসেটস কেই ধর ... ব্লু (নীল) স্টেট। জন এফ কেনেডির পর থেকে মোটামুটি তাদের দুজন সিনেটরই ডেমক্রেট কিন্তু তারপরও রোনাল্ড রেগান যেবার প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেট ছিলেন সেই বার কিন্তু পর পর দুই বারই ম্যাসাচুসেটস রেড ছিল...যদিও মিড টার্ম গুলোতে ঠিকই ডেমক্রেট সিনেটর ইলেক্টেড হয়েছিলেন। এর মধ্যে আবার ৯১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত টানা ১৬ বছর রিপাব্লিকান গভর্নর ছিল এখানে।

আসলে আমেরিকার ৩৩% করে করে সিনেটার নির্বাচন পদ্ধতি যখন কন্সটিটিউশানে ঢুকানো হয়েছিল তখন আমেরিকায় কোন পার্টি সিস্টেম ছিল না। জর্জ ওয়াশিংটন চান ও নাই যা কোন পার্টি ভিত্তিক পলিটিক্স থাকুক আমেরিকায়...তার মতে এতে শুধু বিভক্তি তৈরী হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এক পার্টি সিস্টেম তার পর দুই পার্টি সিস্টেম এগুলা হয়েছে কিন্তু সিনেটর নির্বাচন সেই পুরানো নিয়মেই হচ্ছে। ফলে এই দুই বছর পর পর যে সেনেটর নির্বাচন হয় তার রেজাল্ট থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশানে কোন পার্টি জিতবে তার কিছুই বোঝা যায় না উল্টা নানা জটিলতার তৈরী করছে।

বাংলাদেশে তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে তেমন লাভ হবে বলে মনে হয় না। দুটি কাজ করলে বরং কিছু হতে পারে।
১/ ৫ বছরের যায়গায় সংসদের মেয়াদ চার এ নামিয়ে আনা যা মনে হয় অন্য অনেকেই বলেছেন।
২/ সংসদ সদস্য রা যেন দলীয় ডিসিশানের বাইরে যেয়ে নিজেদের মতে ভোট দিতে পারে সংবিধানে সেই সংশোধনী আনা। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী দলের মতের বিরুদ্ধে গেলে সদস্য পদ বাতিল হোয়ে যায়। যেমন কয়েকদিন আগে বিএনপির এক সদস্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে আলোচনা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সনের কথায় তাকে তার প্রস্তাব উইথড্র করতে হয়েছিল না হলে সদস্য পদ হারানোর ভয় ছিল। একই কথা আওয়ামীলীগের ব্যাপারেও খাটে, অনেক সদস্যই হয়ত হাই কমান্ডের সাথে একমত থাকে না অনেক বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধেও যেতে পারে না। আমেরিকায় কিন্তু তা নয়..... সিনেটর রা অন্য দলের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারে যদিও হয়ত তার নিজের দলের মেজরিটি ওই বিলের বিপক্ষে। আমেরিকার কাছ থেকে কিছু নিলে এই ব্যাপারটা নেয়া যায় বলে আমার মনে হয়।
লিখব ভাবছি এই বিষয়ে আরও একটু পড়াশোনা করে।
আঞ্জুমান ইসলাম কাঁকন

তানিম এহসান এর ছবি

২ নাম্বার মতামতের সাথে সহমত।

কিন্তু সেক্ষেত্রেও, বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়া যাবে কিনা সেই চিন্তাও যে এমপি’রা করবেন না তার গ্যারান্টি নেই। পুরা সিস্টেমটাতে একটা তালগোল পাকিয়ে রাখা হয়েছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আচ্ছা, ইলেকশনের পরদিন থেকেই যে 'মানি না, মানবো না' আর ছর মাস পর থেকে 'জ্বালাও-পোড়াও' সংস্কৃতি শুরু হয়, এইটার প্রতিকার কী মনেহয় আপনার কাছে?

আশাকরি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কথা বলবেন না। এই জিনিস সমস্যা থেকে উত্তোরণ ঘটাতে পারে নাই। এটা বোধ'য় আপনিও জানেন। এখন ইশতি চোথা মেরেই বলুক আর ফালতু প্যাচাল পেরেই বলুক, বেশি বেশি ইলেকশন অনুষ্ঠান ছাড়া বিকল্প পদ্ধতি আর কী হতে পারে?

একাত্তর এর ছবি

ধূসর গোধূলি ... আপনাকে বলছি ... সমাধানের পথ একটাই সত্য কে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে শিখা। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তাকে সুষ্ঠু বলতে হবে তা না হলে সারা বছর ইলেকশান করে গেলেও কোন সমাধান আসবে না তা সে তত্ত্বাবধায়কের আন্ডারেই হোক আর দলীয় সরকারের অধীনেই হোক।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনি তো ভাই একেবারে আদর্শিক কথা বললেন 'প্রেক্ষাপট এবং বাস্তবতা' বিবেচনা না করেই। এই আদর্শিক অবস্থান যদি আমাদের দেশের রাজনীতিতে থাকতোই তাইলে তো আর ইশতির এই পোস্ট দেয়ারই দরকার পড়তো না।

অকোবিদ এর ছবি

আগে - পিছে - ডানে - বামে - ভিত্রে - উপ্রে কিছু না ভেবে পোস্ট দেওয়া; এর পর শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে অনুপোস্ট বলে জাহির করা!!! সামু-ব্লগের "সকল পোস্ট" মার্কা পোস্ট হই গেছে খাইছে খাইছে

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আপনার সমালোচনা মেনে নিলাম। সামু-মার্কা পোস্ট লিখতে চাইনি, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি মাত্র। আকৃতি বিচারে এইটা হয়তো অধমের সংক্ষিপ্ততম পোস্ট হবে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবনা এটাই প্রথম না। ৫ বছর আগে ছয় পর্বের একটা সিরিজ লিখেছিলাম সবদিক চিন্তা করেই। সময় করে পড়তে পারেন চাইলে।

নিজস্ব ধাঁচের গণতন্ত্র

mamun এর ছবি

৫ বছরের জমিদারী প্রথার অবশ্যই পরিবর্তন দরকার। আরও সমস্যা হয়েছে, বিরোধী দল ৫ বছর পর নিরংঙ্কুষ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়। গত ২ টার্মের হিসাব তাই বলে। কাজ কর আর নাই কর, ৫ বছর গ্যাপে আবার নিরংঙ্কুষ সংখ্যা গরিষ্ঠতা -চুরি করতে বাঁধা কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে 'গণতন্ত্র' অর্থহীন হয়ে যাবে। কি করা যায় ভেবে দেখুন।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমার ব্যাক্তিগত মতামত অনুযায়ী ৫ বছর একটু বেশিই লম্বা সময়। বিশেষত কুশাসনের কবলে পড়লে এটা টের পাওয়া যায়। সমাজে সততা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বভৌমত্ব থাকলে ৫ বছর শাসনকাল হতেই পারে। আমাদের সমাজের জন্য এটা বেশি সময় বলে মনে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমিও বাক্তিগতভাবে মনে করি ৫ বছর অনেক লম্বা সময় মাঝামাঝি এক্তা কিছু থাকা দরকার জাতে সরকার বুঝতে পারে জনগন তাদের উপর কতটা আস্থা রাখছে। আরেকটু বিস্তারিত হলে ভাল হত।

ইসরাত

তানিম এহসান এর ছবি

জমিদারি প্রথা বন্ধে যে-কোন বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। প্রস্তাবগুলো’তে ভাল-মন্দ বিচার-বিবেচনার সুযোগ থাকবেই। সমস্যা হচ্ছে দলগুলো এই বিকল্পগুলোকেও তাদের নিজের সুবিধামত সাজিয়ে ফেলে কিনা। এরা নিজের স্বার্থে সবসময় রসুনের উপর সওয়ার হয়। প্রয়াসে সমর্থন দিলাম।

নিরীহ মানুষ  এর ছবি

আসলে হিসাব নিকাশ পাল্টে দিতে অপপ্রচার একটা বড় ভূমিকা রাখছে ইদানিং , এ ব্যাপারে কিছু লেখবেন আশা করি

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

অপপ্রচার নিয়ে লেখার পরিকল্পনা এবং কিছুদূর প্রস্তুতিও আছে। হাতে সময় পেলে শেষ করে পোস্ট দেবো।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আমাদের গোড়ায় গলদ। গোড়া ঠিক না হলে কোন সিস্টেমেই কাজ দেবে না। এদেশে এখনো রাজনীতিবিদ থেকে সাধারন মানুষ পর্যন্ত সবাই সুবিধামাফিক অবস্থান নেয়। মুখে সবারই গনতন্ত্র, কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল পছন্দ না হলে কেউ আমেরিকা, , কেউ ভারত, কেউ আর্মি, কেউ ধর্ম ইত্যাদি নানান জনে নানাজনকে দোষারোপ করে। অমুক চায় নাই তমুক ক্ষমতায় আসুক, এই কথা অনেক বিজ্ঞজনের মুখেই শুনি। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার এত শক্তি যদি সক্রিয় থাকে, তাহলে জনগনের নাম বেচার দরকার কি।

সরকারকে টাইট দেবার কিছু একটা উপায় থাকা উচিত পাবলিকের। কিন্তু সেটা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে করার পক্ষপাতী নই আমি। কারন নির্বাচন মানেই বাংলাদেশে বিশ্রী একটা পরিস্থিতি, টাকাপয়সার অশ্লীল রকমের ছড়াছড়ি। নির্বাচন বাদে জনমত জরিপ জাতীয় কোন একটা শর্টকাট পদ্ধতি থাকলে নির্বাচন কমিশনের জন্য সাশ্রয়ী হতো। এটার মেকানিজম নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

Fallen Leaf এর ছবি

চলুক

Arif Al Haque এর ছবি

একেকটা ইলেকশন এ হাজার কোটি টাকা খরচ হয় । ৫ বছর পর পর অদল বদল করে আওয়ামী লীগ বিনপি আসলে ঐ টাকাটা ও বাঁচবে। মানুষ ও অনেক শান্তিতে থাকবে ।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি আপনার লেখাটি পড়ার আগেই এই রকম মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবছিলাম যাক আপনার লেখাটি আমার মনের কথা বলেছে; তবে সংখ্যা, পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একটি পরিস্কার বক্তব্য তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

অতিথি লেখক এর ছবি

// উদ্যানলতা //

মাসুদ সজীব এর ছবি

৩৩% আসনে ৩বছর পরে নির্বাচনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর মাঝে গনতন্ত্র নিয়ে আসা।আমাদের দেশে ছোট বড় কোন দলেই গনতন্ত্র নেই।দলের প্রধানই সব,তার ইচ্ছাই চূড়ান্ত।তিনি যা বলেন সেটাই শেষ।তাই যোগ্য নেতার চেয়ে দলে দলে বাড়ছে চাটুকার,তোষামদকারী।একটু গভীরে গেলেই দেখতে পাবো কেন আমাদের দলগুলোর মাঝে গনতন্ত্র নেই।আমাদের সংবিধান আমাদের দলগুলোকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে।সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটিই আজ এভাবে গণতন্ত্রকে স্বৈরাচারী করে ফেলেছে ও দেশের জনগণকে শৃঙ্খলিত করে তাদের সবাইকে দেশের জনাকয় রাজনৈতিক দল প্রধানের ভৃত্যে পরিণত করেছে।এই অনুচ্ছেদে কী বলা হয়েছে:
“৭০। কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-
ক. উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন
খ. সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য ।
তাহলে কি দাড়ালো কোন সাংসদ তার দলের আনিত কোন বিলের পক্ষে মত দিতে পারবেনা,তার বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেনা।তাহলে সে হয়ে গেল দলের হুকুমের গোলাম।তিনি অন্তঃসারহীন অস্তিত্বহীন একটি ছায়া-মানুষ কেবল। যে দলের সাংসদ বা মন্ত্রীরাই এতখানি অর্থহীন সে দলের কোটি কোটি সাধারণ নেতাকর্মীর অবস্থা কী তা সহজেই বোঝা যায়। অর্থাৎ আমাদের গণতন্ত্রে একটা জিনিশই কেবল ঝাণ্ডার মতো উন্নত- তার নাম দলীয় কর্তৃত্বের সার্বভৌমত্ব। এর থেকে বের না হয়ে যতোই নির্বাচন দেন কাজের কাজ কিছু হবেনা।দলের ভিতর যদি গনতন্ত্র না থাকে তাহলে দেশে কি করে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন?তাই সবার আগে প্রয়োজন ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন।অথচ আমি কাউকে দেখিনা এই নিয়ে একটা কথা বলতে।আমাদের অন্যতম দাবি হওয়া উচিত এই অগনতান্ত্রিক অনুচ্ছেদ সংশোধন।এটা সংশোধন হলেই আমরা মুখের নাম মাত্র গনতন্ত্র থেকে মুক্তি পাবো।

হিমু এর ছবি

৭০ অনুচ্ছেদ এককালে অ্যাসেম্বলিতে "হর্স ট্রেডিঙের" তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরেই ঢুকেছে। ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে গণতন্ত্রের সাইনবোর্ডের নিচে সংসদ সদস্যরা নিলামে উঠবে বিল থেকে বিলে। প্রথম আলোর মিজানুর এইটা নিয়ে সবসময় চিল্লায় কারণ প্রথম আলো বাংলাদেশের একটা চুপচাপ থাকা শক্তিশালী লবিইস্ট গোষ্ঠীর প্যান্টের নিচে উঁচু হয়ে থাকা হার্ড-অন।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের সংবিধান যার আদতে করা হয়েছে সেই ইংল্যান্ডে এটি প্রচলিত,সেখানে সরকার দলের পক্ষের সাংসদরা সরকার আনিত কোন বিলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে।সেখানে যদি সেটা সাংসদরা বিল নিলামে না তুলে আমাদের এখানে উঠবে কেন? আর সব বিষয়ের ভালো খারাপ দুটো দিকি থাকে,নেগেটিভ দিক ভেবে কি সেটা বাতিল করে দিতে হবে?প্রথম আলোর বিষয় নয় এটা।ব্যাক্তিগত ভাবে আমি প্রথম আলোকে পছন্দ করিনা,প্রথম আলো সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন তাতে আমি একমত।৭০ এর অনুচ্ছেদ এর খুব বাজে একটা দৃষ্টান্ত হয়তো পাকিস্তান পর্বে ছিলো,কিন্তু সেটা মাথায় রেখে এটাকে বাতিল করে দেওয়া যায়না,তখনকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট আর বর্তমান দৃশ্যপট একনয়।তখন দুই পাকিস্তান এর রাজনৈতিক ইস্যু আর বর্তমান রাজনৈতিক ইস্যু এক নয়।সাংসদদের কে জনগনের কাছে জবাবদেহি করতে হয়,আর এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাংসদরা যুক্তিক আর ন্যার্য বিলের বিপক্ষে গিয়ে সেটা জনগনকে ব্যাখা দিতে পারবে না।৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হলে দলের প্রধানের এমন অসীম ক্ষমতার কাছে সবাইকে মাথা নত করে থাকতে হবে।তিনি হয়ে উঠবেন সর্বেসর্বা,যেমনটা এখন আমাদের দেশে চলছে।সবকিছু দলের প্রধানকেন্দ্রিক।তিনি ঠিক করেন কাকে কোন মন্ত্রিত্ব দিবেন,দলের কোন দায়িত্ব কাকে দিবেন।তাই সবার এখন চেষ্টা দলের প্রধানকে খুশি রাখা,চাটুকারিতা করা।

হিমু এর ছবি

ইংল্যাণ্ডের দুটি কক্ষের সদস্যদের জন্যেই আচরণবিধি রয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি নিয়ে কোনো বিল পাশ হয়নি, সাবের হোসেন চৌধুরী প্রস্তাবিত একটি বেসরকারি বিল অনালোচিত থেকে মাটিচাপা পড়ে গেছে।

ইংল্যাণ্ডের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মতোই অবস্থা যেসব দেশে, সেগুলোর কথা বিচার করুন। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, সেখানেও ৭০ অনুচ্ছেদের তুল্য আইন আছে। কেন আছে?

দলের প্রধানের অসীম ক্ষমতা তো ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলেও থাকবে। দলের প্রধান কি খালি আইন পাশ করে তার অসীম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন হাসি ?

আপনি একটু ব্যাখ্যা করে বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হলে দলের প্রধান ঠিক কীভাবে মন্ত্রিত্ব বণ্টন, দায়িত্ব বণ্টন প্রভৃতি ক্ষমতা প্রয়োগের অবাধ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হবেন?

অতিথি লেখক এর ছবি

এমপি মন্ত্রিরা যেখানে নিজের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা পায় না সেখানে আপনি কি করে ছোট খাট স্থানীয় নেতাদের মতামত দলে প্রতিষ্ঠিত করবেন?৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলে রাজনীতিতে চাটুকারের সংখ্যা কমবে,চাটুকার আর তোষামোদ কারীর সংখ্যা কমলেই দলের প্রধানের একক ক্ষমতা অনেকটাই কমে আসবে।যতক্ষন পর্যন্ত আপনি মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারবেন ততক্ষন পর্যন্ত অসীম ক্ষমতাবানদের ক্ষমতাকে আপনি সীমার মাঝে আনতে পারবেন না।আইন পাশ করেই সবকিছু করা সম্ভব না হয়তো,তবে এটা ঠিক এটা সংসদে দলের প্রধানের অসীম ক্ষমতাকে কমাতে সক্ষম হবে।মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সর্বস্তরে গনতান্ত্রিক চর্চাকে প্রতিষ্ঠিত করবে।মন্ত্রিত্বের আর দলের দায়িত্ব বিষয়টা আসলে এই অনুচ্ছেদ এর সাথে সম্পর্কিত না,এটা দলের গঠনতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত।৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলে এই দটোতে দলের প্রধানের ক্ষমতা সরাসরি কমে যাবে সেটা আমি বলিনি,আমি বলেছি ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে গনতান্ত্রিক চর্চা বাড়বে,গনতান্ত্রিক চর্চা বাড়লেই দলের প্রধানের একক ক্ষমতা হ্রাস পাবে,তখন দলগুলোর এমন একনায়কতনন্ত্রিক গঠনতন্ত্রের ও পরিবর্তন আসবে।আমি সেই অর্থে এটা বুঝিয়েছে।

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের আগে সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি, তা ভঙ্গের দায়ে শাস্তির রূপরেখা এবং নজরদারির পদ্ধতি নিয়ে আগে আইন পাশ করা প্রয়োজন। তা না হলে আইনসভা মার্সেনারি আইনপ্রণেতা দিয়ে ভরে যাবে।

মাসুদ সজীব এর ছবি

আপনি যে আইনের কথা বলেছেন সেটাতে আমার দ্বি-মত নেই।সেটা সংসদে শিংঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এটা ঠিক।বাংলাদেশের সংসদের এখন যা অবস্থা তাতে শিঘ্রই এই আইন পাশ করা উচিত।আর ৭০অনুচ্ছেদ অনন্ত আইন পাশের ক্ষেত্রে দলের প্রধানের একক ক্ষমতাকে হ্রাস করবে,দলের মাঝে সবার মতামত গুরুত্ব পাবে।যখনি সবাই মতামত দিতে পারবে স্বাধীনভাবে তখন রাজনীতিতে চাটুকার আর তোষামোদকারীর সংখ্যা কমবে।এটা হলো গুনগত পরিবর্তন,যে পরিবর্তন একদিনে আসবেনা।একটু সময় লাগবে,তবে আমার মতে সেটা অবশ্যই করা উচিত।

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

মাসুদ সাহেব আপনি আচরণবিধি বলতে মনে হয় সংসদের ভিতরে আদবকায়দা অনুশীলনের কথা ভাবছেন। আচরণবিধি সংসদের বাইরেও একজন সংসদ সদস্য কী করতে পারেন বা পারেন না, তার পরিসীমা নির্ধারণ করে। সংসদ সদস্যরা আজ পর্যন্ত সম্পদের হিসাবই দাখিল করলেন না। ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলে একজন সংসদ সদস্যের আর্থিক সুবিধাগ্রহণের ব্যাপারস্যাপার মনিটর করা জরুরি হয়ে দাঁড়াবে।

অতিথি লেখক এর ছবি

সাংসদদের আর্থিক সুবিধাগ্রহণের বিষয়টা মনিটর করতে হবে এই অজুহাত কিংবা কারন দেখিয়ে এটাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া বোধহয় ঠিকনা।এইযে সাংসদদের ঘরে বাইরে(সংসদ আর সংসদের বাইরে) আচরন মনিটর না করে আপনি কি করে এই আইন প্রয়োগ করবেন?আর আর্থিক অনিয়ম দেখার জন্যে তো দেশে নানান সংস্থা আছে।আসল কথা হলো সততা।নতুন নিয়মে কেউ অসৎ হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে কোন নিয়ম কিংবা সংশোধনকে বাতিল করে দেওয়া যায়না।সব কিছুর উপর সততা,সততার উপরি শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখতে হয়।

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

সংসদ সদস্যদের সততার ওপর সংসদ সদস্যদেরই আস্থা নাই বলেই ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানে ঢুক্সিলো হাসি

আয়নামতি এর ছবি

অ:ট: সংসদের ভেতরের আচরণবিধি আইন করে ভদ্রনম্র করার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি আছে আমার। কেন? বাজি ধরে বলতে পারি এমন নিখাঁদ হাসির খোরাক বাংলাদেশের আর কোন মিডিয়াই দিতে পারে না। এক্ষেত্রে পাপিয়া আমার পিয় কৌতুক অভিনেতা/নেত্রী দেঁতো হাসি

অন ট: ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলে এমপিদের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়িতে এমপি নিজে না থেকে তাদের আত্মীয়পরিজন থাকবার ক্ষেত্রে তো তাহলে সমস্যা হবার কথা, ঠিক না? মনিটর কে বা কারা করবেন? সেখানেও যে অসাধুতা হবে না একথা কিভাবে বলা সম্ভব!

অতিথি লেখক এর ছবি

পুরোপুরি সততার উপর আস্থাহীনতার কারনেই ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানে ঢুকেনি,আপনার কথাকে যদি স্বীকারও করি তাহলে ও কি বলতে হয় সততাকে কে ফিরিয়ে আনার সময় আসেনি?আর সততার সঠিক সংজ্ঞা এখানে কার্যকর না,কারন সততা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য ছিলো না ৭০ অনুচ্ছেদ এর।মূল উদ্দেশ্য ছিলো ক্ষমতাকে স্থায়ী করা।দলের প্রধানকে অসীম ক্ষমতাবান করা।সততা প্রতিষ্ঠা যদি ৭০ অনুচ্ছেদ করতো তাহলে একেকজন সাংসদ ক্ষমতার ৫ বছরে এমন কোটিপতি হতে পারেনা।

আয়নামতি বাধা বিপত্তি বোধহয় সবখানেই থাকে,তাই বলে সময়ের প্রয়োজনে সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়।যদি ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না করেন তাহলে আমরা এই দুই পরিবার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো না।যুগের পর যুগ এরাই পারিবারিক সূত্র ধরে আমাদের কে শোষন আর নিপীড়ন করে যাবে।গনতন্ত্র তখনি উত্তম যখন তা জাতির শ্রেষ্ঠ মানুষের কাছে থাকে,কিন্তু যখন তা থাকে সুবিধাবাদী,দুর্নিতিপরায়ন লোকদের কাছে তখন তা একনায়কতন্ত্রের থেকেও ক্ষতিকারক হয়।৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না করতে পারলে আমরা কোনদিনও এই দুই পরিবার থেকে মুক্তি পাবোনা।৫ বছর পর পর ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতি থেকে ও আমরা মুক্তি পাবো না।

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের সৎ বানায়নি, তবে বিল পাশের বা ফেলের মওকায় আরো অসৎ হওয়ার রাস্তাটা আটকে দিয়েছে। ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করলেই কি আপনি পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্তি পাবেন? দলের প্রধান যদি কোনো বিল পাশ করাতে গিয়ে কোনো দলীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকে একাধিকবার অসহযোগিতা পান, আপনার কি ধারণা ঐ লোকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকে থাকবে? আপনি কি বিম্পির আমলে বদরুদ্দোজা-মান্নান বা আম্লীগের আমলে খ ম জাহাঙ্গীর - আইভীদের প্রতি ক্ষমতাসীন দলের অ্যাটিচ্যুড দেখেননি?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA