ধারাবাহিক উপন্যাসঃ প্রসাধনী আয়না

জহিরুল ইসলাম নাদিম এর ছবি
লিখেছেন জহিরুল ইসলাম নাদিম [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ২৩/১১/২০১১ - ৩:০৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগের পর্বগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
পর্ব ৬

সুজনদাকে অফিসেই পাওয়া গেল। একটা লেখা সম্পাদনা করছেন। তরুণ শিশু সাহিত্যিক এই ভদ্রলোকটি অর্ণবের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। বাংলা ছন্দের ওপর তাঁর রয়েছে অসাধারণ দখল। অর্ণব তাঁকে জোর করেই বাইরে নিয়ে এলো। একটি কাজে সুজনদার জরুরী সাহায্য লাগবে। ওঁর অফিস থেকে বাংলা একাডেমি মাত্র ক মিনিটের পথ।

বর্ধমান হাউজ, যেটা আগে ছিল গভর্ণর হাউজ এখন গবেষকদের লাইব্রেরি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ, দামি আর বিরল কিছু বই পত্র রয়েছে এখানে - তবে সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। ঢাকার প্রাচীণ স্থাপনা আহসান মঞ্জিল সর্ম্পকে জানতে হবে অর্ণবকে। সুজনদার পক্ষে প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করে দেয়া কোনো সমস্যাই নয়। সুজনদা বই আনতে গেলেন লাইব্রেরিয়ানের কাছে। অর্ণব একটা চেয়ারে বসে থাকল। বই অর্ণবকে বুঝিয়ে দিয়ে সুজনদা বললেন,
‘তা হঠাৎ তোমার এই বইয়ের দরকার পড়ল যে?’
উত্তরে একগাল হাসল অর্ণব। বলল, ‘টপ সিক্রেট’!
‘টপ সিক্রেট না বলে ওপেন সিক্রেট বলো’, সুজনদার কন্ঠে নিখাঁদ কৌতুক, ‘তুমি নিলে, মজার ব্যাপার হলো মাত্র গত সপ্তাহে ৯৯৯ নং র‌্যাংকিন স্ট্রিটে থাকেন মি. জগলুল পাশা- নিয়েছিলেন। এখন বোঝ কেমন সিক্রেট!’, হাসতে হাসতে সুজনদা চলে গেলেন। অর্ণব যে শখের গোয়েন্দা-টোয়েন্দা হতে বেশ পছন্দ করে তা জানেন সুজনদা। তিনি তাই ইচ্ছে করেই জগলুল পাশার কথা বলে গেলেন। কাজে লাগবে ভেবে অর্ণব নাম ঠিকানা লিখে রাখল। তারপর মন দিল পড়ায়। লাইব্রেরি থেকে যখন বেরুলো তখন ওর মনটা বেশ ফুরফুরে আর পকেট ডায়েরিটার অনেক গুলো পাতাই ভরে উঠেছে লেখায়- সংক্ষিপ্ত নোটে। ‘উদয়নে’ যাওয়াই এখন উচিৎ হবে। আজকে রিকশায় চড়ে গেল ও। পথেই ৯৯৯ নং বাড়িটা দেখে নেমে পড়ল অর্ণব। মিস্টার জগলুল পাশার সাথে কথা বলবার একটা কৌতুহল অনুভব করছে ও। এই বাড়িটার ছাদ থেকে ‘উদয়ন’ স্পষ্ট দেখা যায়। ভদ্রলোক মাঝ বয়সী। চমৎকার ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর পুরো ঘর জুড়ে বিশৃঙ্খলভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অসংখ্য বই। অনেক ভারি ভারি খাতা। অর্ণব বের করে ফেলল ভদ্রলোক ইতিহাসের লোক। প্রাচীণ স্থাপনা নিয়ে হয়তো বা গবেষণা করছেন। নিজের গুরুত্ব বাড়াবার জন্য অর্ণব বলল,
‘আপনি নিশ্চয়ই ঢাকার প্রাচীণ স্থাপনা নিয়ে কিছু লিখছেন?’
‘তুমি জান কীভাবে?’, ভদ্রলোক ক মুহূর্ত ভাবলেন, ‘ওহ্ তুমি নিশ্চয়ই ইতিহাস-ঐতিহ্য বইটা পড়তে গিয়ে জেনেছ?’, অর্ণব সম্মতি জানালো। এরপর নবাববাড়ি নিয়ে আলোচনা হলো। ভদ্রলোক নবাববাড়ি সম্পর্কে অনেক লোকশ্রুতি শোনালেন। জগলুল পাশা এরপর অর্ণব সম্পর্কে জানতে চাইলেন।
‘দেখুন নবাববাড়ির একটা অনুদ্ঘাটিত রহস্যের সাথে জড়িয়ে গেছি আমি- যে ভাবেই হোক। এই ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।’
ভদ্রলোক অর্ণবের প্রস্তাবে অত্যন্ত খুশী হলেন। যে কোনো ধরনের সমস্যায় চলে আসতে বললেন। অর্ণব বিদায় নিয়ে চলে এলো ‘উদয়নে’। চাবি দিয়ে তালা খুলে স্টোররুমে ঢুকল ও। তারপর নেমে পড়ল কাজে। প্রত্যেকটা ফার্নিচার অনুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ করল ও। কোথাও কোনো গোপন কুঠরী বা চিহ্ন বা কোনো নির্দেশনা আছে কি না। কিন্তু ঘন্টা দেড়েক পরিশ্রম করাই সার হলো ওর- মিলল না কিছু। আজ যথেষ্ট কাজ করা হয়েছে - আজ থাক। অর্ণব অবশ্য আগামীকালের মধ্যে কিছু একটা আশা করছে। এর প্রধান কারণ হলো পরশু মা-বাবা ফিরছেন দেশের বাড়ি থেকে। এরপরে এমন বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরে বেড়ানো অসম্ভব হয়ে উঠবে ওর জন্য। এই কথাটিই মিসেস শেখরকে বলে এলো অর্ণব। তবে একটু ঘুরিয়ে। যার মানে করা যায়- আগামীকালের মধ্যেই সমাধান পাচ্ছেন আপনি!

রাতে শুয়ে আবারও ভাবতে লাগল অর্ণব। আজ লাইব্রেরি ওয়ার্ক যথেষ্টই এগিয়ে দিয়েছে ওকে। আহসান মঞ্জিলের অতীত-ইতিহাস জেনেছে ও অনেকটা। সম্ভবতঃ ধন-সম্পদ উত্তরাধিকারদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রকাশ্যে রাখা হয়নি। লুকিয়ে রাখা হয়েছে কোনো গুপ্তস্থানে। এবং সে স্থানের নির্দেশনা আছে অন্য কিছুতে। মিসেস শেখর বলছিলেন জনৈক ভদ্রলোকের কথা যিনি নিলামে একাই অনেক দ্রব্য কিনে নিয়েছিলেন। সেই লোকই হয়তো গুপ্তধন পেতে চাইছেন। কিন্তু দুভার্গ্যবশতঃ তাঁর সংগৃহীত দ্রব্যসমূহে পাওয়া যায়নি কাঙ্খিত নির্দেশনা। তাই নিলামে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ক্রেতাদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু সারাক্ষণ খুঁজেওতো কিছু পায়নি অর্ণব! হঠাৎ করেই একটা সম্ভাবণা ঝিলিক দিয়ে উঠল অর্ণবের মাথায়। দি আইডিয়া! স্টোররুমের ড্রেসিং টেবিলটার আয়না ছিল না। আর মিসেস শেখরের ড্রয়িংরুমে একটা পুরনো ডিজাইনের নতুন ড্রেসিং টেবিল দেখেছিল ও। সেই আয়নাটা ওখানে লাগানো থাকতে পারে! আর আয়নার পেছনে কোনো কিছু লুকনো যায় স্বচ্ছন্দেই। রাতটা শুধু বাধা নইলে ও এক্ষুনি হয়তো ছুটে যেত ‘উদয়নে’। একবার ফোন করবে কি না ভাবল তারপর বাদ দিল চিন্তাটাকে। নিজের হাতে রহস্য উদ্ঘাটন করার চেয়ে মজা আর কিছু আছে?

অর্ণবের অনুমানই ঠিক হলো! মিসেস শেখরের বাসায় কোনো প্লায়ার্স নেই। বুদ্ধি করে অর্ণব একটা নিয়ে এসেছিল সাথে।
‘এই আয়নাটা যে সেই নিলামে কেনা বলেননি তো কিছু--' প্লায়ার্স দিয়ে আয়নার পেছনের আলপিনগুলো খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করল অর্ণব। ভদ্রমহিলা হেসে ফেললেন। অর্ণবকে তাঁর সত্যি সত্যি ডিটেকটিভ মনে হচ্ছে। ঘটনাটি তিনি আসলে এড়িয়ে যাননি, গুরুত্বহীন মনে হওয়াতে সেই প্রসঙ্গই মনে আসেনি। শেষের পিনটিও চাড় দিয়ে তুলে ফেলল অর্ণব। বাঁধন আলগা হয়ে যাওয়াতে কাঠের পাতটি পড়তে যাচ্ছিল - ধরে ফেলল অর্ণব দ্রুত হাতে। কিন্তু ভেতরের কাগজ-পত্রের পতন রোধ করতে পারল না ও। বেশ ক টি কাগজ পত্রের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল মেঝেতে। খুশীতে ডগমগিয়ে উঠল অর্ণব। কাগজগুলো হয়তো সাদা ছিল এক সময়। কিন্তু সময়ের আঘাত সয়ে সয়ে প্রায় হলুদ হয়ে এসেছে এখন। খুবই জীর্ণ অবস্থা। একটি ছাড়া বাকি কাগজগুলোতে কোনো লেখা-জোখা নেই। অর্থাৎ সেই বিশেষ কাগজটির আবরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এগুলো। ভাঁজ খুলে বিশেষ কাগজটিকে অর্ণব টেবিলের ওপর রাখল। তারপর পড়ে বোঝার চেষ্টা করল কী লেখা আছে তাতে। উত্তেজনায় তখন ওর বুকের ভেতরটা ঢিপঢিপ করছে। কিন্তু পড়া শেষে একটু হতাশই হতে হলো ওকে। ছেলে ভোলানো ছড়া একটা! (চলবে)


মন্তব্য

শিশিরকণা এর ছবি

উফ্‌ফ্‌ফ্‌! ছড়াটা দিয়েই পর্ব শেষ করতেন। পরের পর্ব আসার আগ পর্যন্ত সমাধানের চেষ্টা করা যেত! (ঠোঁটে চিমটি কাটার ইমো হবে)

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

জহিরুল ইসলাম নাদিম এর ছবি

ইশশ্ বড্ড ভুল হয়ে গেছে! (কী আর করা বাধ্য হয়ে অপেক্ষাই না হয় করুন....।)

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

পড়ছি ...

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

জহিরুল ইসলাম নাদিম এর ছবি

হ্যাঁ নিজে পড়ুন এবং অন্যদেরও পড়তে বলুন!

লাবন্যপ্রভা এর ছবি

চলুক

জহিরুল ইসলাম নাদিম এর ছবি

ধন্যবাদ লাবন্যপ্রভা।

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

ভাই, আলাদাভাবে শুধু ছড়াটাই পোস্ট দিন না। ইয়ে, মানে... এত কিপ্টামী করেন কিল্লাই? গপ্পতো কইলেন আগেই লেখা... গ্রররররররররর...

জহিরুল ইসলাম নাদিম এর ছবি

গল্প আগেই লেখা কিন্তু কম্পোজ করা নাই!

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

অহ। মন খারাপ

তাপস শর্মা এর ছবি

হুম
হুম
হুম................................. চিন্তিত

জহিরুল ইসলাম নাদিম এর ছবি

হুম হুম হালুম!
হচ্ছে কিছু মালুম?

কল্যাণ এর ছবি

খাইছে

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA