মর্ম এর ব্লগ

বইকথনঃ "কাঠের সেনাপতি", তারেক নূরুল হাসান

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৮/০৩/২০১৩ - ১০:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[প্রাক-কথনঃ

বই নিয়ে কথাবার্তা বলার মত আনন্দময় কাজ দুনিয়াতে কম। ফেসবুকে একটা গ্রুপ আছে- বইপড়ুয়া। এ গ্রুপে যাঁরা আসেন তাঁদের একটা ব্যাপার একরকম- সবাই বই পড়েন। শুধু পড়েন না, বই নিয়ে আলোচনা হয়- মন্তব্য, প্রতিমন্তব্য। চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা।

বইপড়ুয়া'য় গিয়ে চুপচাপ থাকাটা মুশকিল। বই নিয়ে আলাপ করা হয়েই যায়।

মাঝে মাঝে বই পড়ে সেটা নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছা করে। 'রিভিউ' বলাটা ঠিক হবে না এগুলোকে, তবে বই-তাড়িত কথা তো অবশ্যই।

এ ধরণের লেখাগুলোর সবচেয়ে ভাল লাগা অংশ হল পাঠকের মতামত, একই বই নিয়ে কত কত কথা পড়ুয়াদের। অদ্ভুত আনন্দের একটা ব্যাপার!

এবারের কথাগুলো তারেক নূরুল হাসান-এর 'কাঠের সেনাপতি' নিয়ে। বইপড়ুয়ায় করা পোস্টটারই খানিকটা পরিমার্জিত রূপ এটা, বলে রাখা উচিত!]


মিঁয়াও এলো ফিরে

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: শনি, ০৫/০১/২০১৩ - ৫:৩৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তৈরি হয়েই ছিল মিঁয়াও- পেছনের দুপায়ে দাঁড়িয়ে, সামনের দু’পা দিয়ে উপরের ঢাকনাটা একটু পর পর আঁচড়ে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি উপরের দিকে তাকিয়ে প্রথমে একটু নরম করে “মিঁ-ই-ই-ইয়াঁও!” এরপর অস্থিরতা একটু বাড়িয়ে “মিঁ-ই-ই-য়া-য়া-য়া-ও!” আর সবশেষে “ম্যাঁও! ম্যাঁও!” করে মেজাজটা জানান দেয়া আর থেকে থেকে পা নামিয়ে ওইটুক জায়গাতেই একটা চক্কর দিয়ে অপরিচিত বাইরেটা আরেকটু দেখার চেষ্টা করা- আবার দু’পা তুলে হাঁকডাক-


একজন সাধারণ মানুষের জবানবন্দী

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ১১/১২/২০১২ - ১১:১৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

।।১।।

গত কয়েক বছর হল হরতালের দিনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে আসে।

এলার্মবিহীন একটা সকাল, প্রতিদিনের ছক ছাপিয়ে আরেকটু বেশি আরাম, আরেকটু বেশি আলসি, আরেকটু বেশি সময় নিয়ে নাশতা, আরেকটু বেশি পেপারে নাক গুঁজে থাকা, কেতাবী পোশাকের ধার না ধেরে গ্রামীণের ফতুয়া আর ঘিয়ে রঙ্গা গ্যাভার্ডিনেই অফিসমুখো হওয়া, নিত্যদিনের বাস ভুলে বাসার সামনেই বসে থাকা রিকশায় চড়ে বসে কানে ইয়ারফোন- চুপচাপ শহরে ঘুমন্ত শহর দেখতে দেখতে এগিয়ে যাওয়া, এর আকর্ষণ অন্যরকম।

ছোটখাটো জমে থাকা অগোছালো কাজগুলো গুছিয়ে নেয়ার একটা দিন, একেকরকম অভিজ্ঞতায় ভরা ছোটখাটো গল্পগুলো শুনে ফেলার দিন অথবা খালি হয়ে থাকা ফ্লোরে শাহানা বাজপেয়ী’র গলায় ‘তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে আমি ডুবতে আছি’ আর অর্ণবের গলায় ‘কোন পুরাতন প্রাণের টানে’ গার্ন্ধবলোক অর্কেস্ট্রার সাথে বন্যার গাওয়া ‘আনন্দধারা বহিছে ভূবনে’ গুনগুনানোর দিন।


ডাক

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ১৩/১১/২০১২ - ৪:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

“সত্যি আসবে?!”
“আসবে!”
“সত্যি সত্যি আসবে?”
“সত্যি সত্যি আসবে!”
“ও চিনবে কেমন করে?!”
“চিনিয়ে দিতে হবে!”
“তাহলেই হবে?!”
“তাহলেই হবে!”

বর্ণ’র বড্ড অবাক লাগে। নানা’র দিকে বড় বড় চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে ও। কাঁচাপাকা লম্বা দাঁড়ি, মাথায় অল্প কটা চুল, চোখে খয়েরি ফ্রেমের চশমা, চশমার কাঁচে ওকে দেখা যাচ্ছে আবছা- আর নানার স্বচ্ছ চোখের তারা, নানা তাকিয়ে ওর দিকেই, মুখে এগাল ওগাল হাসি।


বড়দের ছড়া

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৮/১০/২০১২ - ১২:৩৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তোমরা যারা ছোট্টটি নেই আর-

তোমরা যেন কোনমতেই টম এন্ড জেরির ধার ধেরো না,
সুপারম্যানের পাওয়ার দেখে এত্তোখানি বাড় বেড়ো না,
নিনজা টার্টল দেখবে বলে সোফার দখল আর কেড়ো না,
উডপেকারের হাসির তোড়ে রামগরুড়ের মার ছেড়ো না,

সকালবেলায় পড়ার নামে গপ্পোকথার বই পোড় না,
দুই টাকাতেই ঝালমুড়ি আর চানাচুরের জেদ ধোর না,
কমিক্স পেলেই চোখ চকচক অমনি হঠাৎ আর সোর না,
ঠিক দুপুরে বাধ্য হয়ে নকল ঘুমের ভান কোর না,


ছুটি

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ২৪/০৮/২০১২ - ৪:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নেই সকালে রুটিন ধরা এলার্ম-ভাঙ্গা ঘুম,
নেই অযথা বাস-ধরাতে টেনশনেরই ধুম;
নেই খামাখা চিন্তাভারে মলিন মুখে হাসা,
নেই উপদেশ মুঠোফোনের ওপার থেকে আসা;
নেই অবুঝের বাক্যবান আর তীব্র কথার ঝড়,
নেই ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ আর বিশদ জ্ঞানের ভর;
নেই অপবাদ, আলোচন আর নিন্দাবাদের খেলা,
নেই কারো কোন 'সই'-এর খোঁজে দিন হারানোর বেলা;
নেই অনুযোগ গঞ্জনা আর দুঃখ ভোলার ভান,
নেই অবাধে দোষ খোঁজা আর মিথ্যে অভিমান;


ইতস্ততঃ আলাপন- “পয়লা জুলাইঃ জন্মদিনের দিন”

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: সোম, ০২/০৭/২০১২ - ৩:১৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

।।১।।

বিন্দু।

একটা শব্দ মাত্র। এটুকুই যদি লিখি, আর কিছু না- তাহলে এক এক জন আপনাতেই এক একরকম চিন্তা করে নেবেন। কারো হয়ত ইশকুলবেলার ভাবসম্প্রসারণের কথা মনে পড়বে- “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকনা বিন্দু বিন্দু জল...”। প্রাচীনকালের কবিতাপিপাসু কারো হয়ত মনে পড়বে এক ছোট্ট বালকের অটোগ্রাফের খাতায় এক ঋষিতূল্য মানুষের কটি লাইন- “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু!“ বিনোদন জগতের খোঁজখবর রাখা কেউ হয়ত মুচকি হাসবেন- বিন্দু’র সাক্ষাৎকার হয়ত তার সদ্য পড়া। আর খয়েরি-কালো ডোরাকাটার ‘ডরে’ থেকে যারা কোনমতে তেত্রিশের ফাঁড়া বারে বার পার করে এসেছেন তাঁরা হয়ত খানিকটা বেদনা নিয়েই উচ্চমাধ্যমিক গণিতের ছেঁড়া পাতায় ফিরে যাবেন- ওখানে বিন্দু, সরলরেখা, ত্রিভূজ, চতুর্ভূজ, আয়তক্ষেত্র, রম্বস আর রসগোল্লায় (লোহিতবর্ণের; ‘মাতৃ ভান্ডারে’র তাক নয়, পরীক্ষায় খাতায় বাস ওদের) একাকার হয়ে জীবনের সুখ সব উপে গিয়েছিল প্রায়।


মিঁয়াও, মিঁইয়াও আর মিঁঅ

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/০৬/২০১২ - ৩:০৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঠিক দুপুর বেলাটায়, একদম ঠা ঠা রোদ যখন বাইরে, ঘরের ভেতর বনবন করে ঘুরতে থাকা পাখার হাওয়ায়ও হাঁসফাঁস লাগতে থাকে, ঘাড় এদিক ওদিক করে, শরীর এপাশ ওপাশ করেও যখন শান্তি আসে না মোটে- মিঁয়াও তখন আর গরম হজম করতে পারে না মোটে- “জান বেরিয়ে যাচ্ছে রে বাবা! ওফ কী গরম! ওফফফ!!- ছোট্ট লাফে বিছানার কোনে সাজানো বালিশ-টিলা থেকে নেমে আসে ও- “বাইরে যদি শান্তি থাকে কিছু!”


"তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়..."

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ০১/০৬/২০১২ - ৮:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাসশেষের শেষ বিকেলে অফিসের সবচেয়ে বড় সম্মেলন কক্ষটিতে হঠাৎ ডাকে হাজির হতে হল। একা নই, সাথে আরো জনাত্রিশেক সহকর্মী পাশাপাশি, দাঁড়িয়ে বা বসে। সবার চোখ সামনের দিকটায়, ঠিক মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে দুহাত নাড়িয়ে, চোখ নাচিয়ে যে মানুষটা কথা বলছেন তাঁর দিকে। কী বলছেন সেটা আবছা শুনছি, পাশাপাশি দাঁড়ানো মানুষগুলোর চোখ আর মুখগুলোকে পড়ার চেষ্টা করছি- হঠাৎ করে আর আর সবকিছু ছাপিয়ে গাজীপুরের কোন এক পিকনিক স্পটে একটা দু


কুন্তল-বধ

মর্ম এর ছবি
লিখেছেন মর্ম [অতিথি] (তারিখ: শনি, ২৬/০৫/২০১২ - ১০:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নরসুন্দর সকাশে আসি
প্রস্তরবত্‍ বসি,
দেখিয়াছি মম কুন্তলরাজি
কেমনে পড়িছে খসি!

মস্তক মোর অবনত করি
স্বেচ্ছা সমর্পিয়া,
দেখিয়াছি কোন টর্নেডো চলে
তাহার উপর দিয়া!