ঈশ্বরযন্ত্র-১

অবনীল এর ছবি
লিখেছেন অবনীল (তারিখ: মঙ্গল, ১২/১০/২০১০ - ২:০৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শুরুতে, ছিল ০। আর তারপর ছিল ১। সীমাতিক্রমী ডিজিটাল কম্পিউটেশনের উপর একটা মাথা খারাপ করা চিন্তা।

auto

আজকের কম্প্রেশন রেটে, আপনি আপনার পুরো তিন বিলিয়ন ডিজিটের ডিএনএ চারটা সিডিতে ডাউনলোড করে ফেলতে পারবেন। ওই তিন-গিগাবাইট জেনোম সিকুয়েন্স মানবদেহের প্রধান কোডিং ইনফরমেশনের প্রতিনিধি – আপনার জীবনের সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ। জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদ আর প্রানীর যে স্পন্দনশীল বিশাল দল, এখন বিজ্ঞানের কাছে তথ্য প্রক্রিয়া (ইনফরমেশন প্রসেস) হিসেবে ধারনা পাচ্ছে। কম্পিউটার যত ছোট হয়ে আসছে, আমরা আমাদের জটিল শরীরগুলোকে দুইটা ক্ষুদ্র কোষের মধ্যে সংখ্যারূপে ঘনীভুত করে রাখা হয়েছে বলে কল্পনা করতে পারছি। এই মাইক্রো-মেমরী ডিভাইসগুলো বলা হয় ডিম্বাণু এবং শুক্র। এরা ইনফরমেশন দ্বারা ঠাসা।

জীববিজ্ঞানীরা যে প্রস্তাব করেছেন যে জীবন আসলে তথ্য হতে পারে, তা পদার্থও যে তথ্য হতে পারে তার থেকে অনেক বেশী সহজবোধ্য। টেবিলের পায়ার সাথে যখন আমরা ধাক্কা খাই, তথ্যের সাথে ধাক্কা খাচ্ছি বলে ত মনেই হয় না। কিন্তু সেই চিন্তাই এখন অনেক পদার্থবিদ সূত্রবদ্ধ করছেন।

বস্তুগত জিনিসের এইরকম ভূতুড়ে প্রকৃতি নতুন না। একসময় বিজ্ঞান দ্রুতগামী কোয়ার্ক আর মিউওনের নীচের স্তরের পদার্থ পরীক্ষা করে জানতে পেরেছিল বিশ্বটা নিরবয়ব। কোয়ান্টাম প্রোবাবিলিটিতে তৈরী একটা জগতের চেয়ে আর কি কম বিমূর্ত হতে পারে ? এবং আরও রহস্যময় ? ডিজিটাল পদার্থবিদ্যা দুটোই। এটা প্রস্তাব করে ওই রহস্যময় আর বিমূর্ত কণাতরঙ্গগুলো এবং তার সাথে বিশ্বের বাকী সবকিছু এক আর শূন্য দিয়ে ছাড়া আর কিছু দিয়েই তৈরী নয়। বাস্তব বিশ্ব নিজেই ডিজিটাল।

আশির দশকেই বিজ্ঞানী জন আর্চিবাল্ড হুইলার ( “ব্ল্যাক হোল” কথাটির প্রবর্তক ) এই ব্যাপারে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। তিনি দাবী করেন, মৌলিকভাবে, পরমাণু ইনফরমেশন বিট দিয়ে তৈরী। ১৯৮৯ সালে এক বক্তৃতায় তিনি এভাবে বলেন, “ইটস আর ফ্রম বিটস।” তিনি ব্যাখ্যা করেনঃ “প্রত্যেকটা জিনিস – প্রত্যেকটি কণা, শক্তির প্রত্যেক ক্রিয়াশীলতার এলাকা (ফিল্ড), এমনকি স্থান-কালের পরিব্যপ্তি নিজেই – তার কাজ, তার অর্থ, এমনকি তার অস্তিত্ব আহরন করে পুরোপুরিভাবে বাইনারী বাছাই থেকে, বিটস। আমরা যাকে বাস্তবতা বলি তার উদ্ভব ঘটে হ্যা/না প্রশ্নের ভঙ্গিমার শেষ বিশ্লেষনে।”

পদার্থবিদ্যাকে সফটওয়ার প্রোগ্রাম হিসেবে বর্ণনা করার দূরুহতা উপলব্ধি করতে হলে, চিন্তা করুন তিনটা পরমাণুর কথাঃ দুইটা হাইড্রোজেন এবং একটা অক্সিজেন। ডিজিটাল ফিজিক্সের যাদুচশমা পড়ে লক্ষ্য করুন কিভাবে পরমাণু তিনটা একত্রে আবদ্ধ হয়ে পানির অণুতে পরিনত হয়। যখন তারা একীভূত হতে থাকে, প্রত্যেকটা যেন মনে হয় তার সবচেয়ে অনূকূল কোণ এবং দূরত্ব হিসেব করে যার দিয়ে তারা একে অপরের সাথে সংবদ্ধ হবে। অক্সিজেন অণু হ্যা/না সিদ্ধান্ত ব্যবহারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে হাইড্রোজেন অণুর দিকের সকল গতিপথের সম্ভাবনা, তারপর তারা সচরাচর বেছে নেয় সবচেয়ে অনুকূল ১০৪.৪৫ ডিগ্রী, ঠিক ওই কোণে অন্য হাইড্রোজেন অণুটার দিকে অগ্রসর হয়ে। সুতরাং প্রত্যেকটা রাসায়নিক সংযোগ হিসেব করা হয়।

এটা যদি কোন পদার্থবিদ্যার সিমুলেশন মনে হয়, তাহলে আপনি নির্ভূলভাবে বুঝতে পেরেছেন, কারন বিট দ্বারা তৈরী বিশ্বে, পদার্থবিদ্যা হূবহূ পদার্থবিদ্যার সিমুলেশন। এদের মধ্যে কোন প্রকারভেদ নেই, শুধু নির্ভূলতার মাপকাঠি ভিন্ন। ‘ম্যাট্রিক্স’ মুভিতে সিমুলেশন এত নিখুঁত যে আপনার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে আপনি সেরকম একটাতে আছেন কিনা। আর বিট দ্বারা পরিচালিত মহাবিশ্বে, সবকিছুই সিমুলেশন।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কম্পিউটেশন মনে হয় যেন অনেকটা ধর্মতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। হ্যা এবং না এর মধ্যকার সনাতন বাছাই, এক এবং শূন্যের মৌলিক অবস্থা নিয়ে জাবর কাটতে কাটতে এরকমই মনে হয়। বাহ্যিক সবকিছু, বস্তুগত সকল অলঙ্করণ
খুলে ফেলার পর, যা বাকী থাকে তা হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ অস্তিত্বঃ আছি/নেই। আমি/আমি নই। ওল্ড টেস্টামেন্টে, মোশি যখন ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কে?” তিনি প্রত্যুত্তর দেন, “আমি আমিই।” এক বিট। এক সর্বশক্তিমান বিট। হ্যা। এক। অস্তিত্বমান। সবচেয়ে সরলতম বিবরণ সম্ভব।

সকল সৃষ্টি, এই অবস্থান থেকে, এই অহ্রাসযোগ্য ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সকল পর্বত, সকল নক্ষত্র, ক্ষুদ্রতম স্যালাম্যান্ডার অথবা উডল্যান্ড টিক, আমাদের মনের প্রতিটা চিন্তা, প্রত্যেকবার উড়ে যাওয়া বল হচ্ছে হ্যা/নার বোনা জাল। যদি ডিজিটাল ফিজিক্স থিওরী টিকে থাকে, বল (f=ma), শক্তি(E=mc2), মধ্যাকর্ষন, ডার্ক ম্যাটার, এবং আন্টিম্যাটারকে ০/১ সিদ্ধান্তের বিশদ বিবরন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে। ক্লাসিকাল গ্রিসের সময়কার “আটম” এর ডিজিটাল ভার্সন হিসেবে বিটকে দেখা যাবেঃ অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতম উপাদান। কিন্তু এই নতুন ডিজিটাল এটম শুধু পদার্থেরই ভিত্তি নয়, গ্রিকরা যেমন ভেবেছিলেন, শক্তি, গতি, মন এবং জীবনেরও।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কম্পিউটেশন, যা এই আদিম বিটগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া আর খেলা করে, হচ্ছে এক নিরব গণনা যা সামান্য পরিমান শক্তি ব্যবহার করে সঙ্কেতগুলো পূনর্বিন্যাসের জন্য। এর ফলাফল হচ্ছে একটা সিগনাল যাই পার্থক্য ঘটিয়ে থাকে – যে পার্থক্য একটা কালশিরে পড়া হাটুর মত অনুভব করা যায়। কম্পিউটেশনের ইনপুট হল শক্তি এবং তথ্য; আউটপুট বিন্যাস, কাঠামো, এক্সট্রপি।

দুটো সন্দেহের উপর ভর দিয়ে আমাদের কম্পিউটেশনের আসল শক্তির জাগরন দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমটা হলো কম্পিউটেশন সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতে পারে। আজ পর্যন্ত, কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা প্রত্যেক লজিক্যাল আর্গুমেন্ট, বৈজ্ঞানিক সমীকরন, এবং কম্পিউটেশনের মৌলিক নোটেশনের উপর জানা যত সাহিত্যিক কর্মকান্ডকে একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন, ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরনের আগমনের মাধ্যমে আমরা ভিডিও, গান, এবং চিত্রকলাকে একইরূপে ধারন করতে পারছি। এমনকি আবেগও অনতিক্রম্য নয়। এম আই টির গবেষক সিনথিয়া ব্রিজিল এবং চার্লস গুয়েরিন এবং কুয়েবেকের আলবার্ট মেহরাবিয়ান তৈরী করেছেন কিসমেট এবং এমির (ইমোশনাল মডেল ফর ইনটেলিজেন্স রেসপন্স), এই দু সিস্টেম আদিম অনুভূতি প্রদর্শন করে।

দ্বিতীয় অনুমান হলো সকল বস্তু গণনা করতে পারে। আমরা দেখতে শুরু করেছি যে প্রায় যেকোন ধরনের উপাদানকে কম্পিউটার হিসেবে কাজ করানো যায়। মানব মস্তিষ্ক, যেটা বেশীরভাগি পানি, মোটামুটি ভালোভাবেই গণনা করতে পারে। ( প্রথম ‘ক্যালকুলেটর’ গুলো ছিল কেরানী কর্মচারী যারা হাতে হাতে গানিতিক টেবিলের হিসেব করতেন।) কাঠি আর সুতোও পারে। ১৯৭৫ সালে, স্নাতক ছাত্র থাকাকালীন সময়ে, ইঞ্জিনিয়ার ড্যানি হিলিস হালকাপাতলা খেলনা সরঞ্জাম ব্যবহার করে একটা ডিজিটাল কম্পিউটার বানিয়ে ফেলেন। ২০০০ সালে, হিলিস শুধু ইস্পাত আর টাংস্টেন দ্বারা গঠিত ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরী করেন যেটা পরোক্ষভাবে মানুষ্যচালিত। এই ধীর গতির যন্ত্রটি একটা ঘড়ি চালনা করে যেটা ১০,০০০ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। পাইপ আর পাম্প ব্যবহার করে অবশ্য এখনো তিনি কোন কম্পিউটার তৈরী করেননি, কিন্তু উনি বলেছেন, উনি করতে পারেন। সম্প্রতি, বৈজ্ঞানিকগণ গণনার জন্য কোয়ান্টাম কণা আর অতিক্ষুদ্র ডিএনএ তন্তু দুটোই ব্যবহার করেছেন।

এক তৃতীয় স্বতঃসিদ্ধ প্রথম দু্টোকে এক অসামান্য দৃষ্টিপটে আবদ্ধ করেঃ সকল গণনা এক।

১৯৩৭ সালে, আলান টুরিং, আলোনসো চার্চ, এবং এমিল পোস্ট ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটারের যৌক্তিক ভিত্তি হিসেব করে বের করেন। তারা সবচেয়ে মৌলিক লুপকে – যা সব ব্যবহারিক কম্পিউটারের মূলভিত্তিতে পরিনত হয়েছে – সসীম অবস্থা যন্ত্র (finite state machine) বলে অভিহিত করেন। সসীম অবস্থা যন্ত্রের উপর তাদের বিশ্লেষনের উপর নির্ভর করে টুরিং এবং চার্চ এক উপপাদ্য প্রমান করেন যা এখন তাদের নাম বহন করছে। তাদের অনুমান বর্ণনা করে যে, একটা সসীম অবস্থা যন্ত্র দ্বারা সম্পাদিত অসীম ফিতার উপর লিখতে থাকা (পরে যেটা টুরিং মেশিন পরিচিত হয়) যেকোন গণনা আর যেকোন অসীম ফিতায় লিখতে থাকা সসীম অবস্থা যন্ত্র দ্বারা সম্পাদন করা যাবে, তার বাহ্যিক আকার যাই হোক না কেন। অন্যকথায়, সকল গণনা সমার্থক। তারা একে সর্বজনিন গণনা (universal computation) বলে অভিহিত করেন।

যখন জন ভন নিউম্যান এবং অন্যান্যরা পঞ্চাশের দশকে প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের অগ্রযাত্রায় গতি সঞ্চার করেন, অবিলম্বে তারা গণনার আইনগুলোকে সম্প্রসারিত করে গাণিতিক প্রমান থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক দুনিয়ায় নিয়ে আসেন। পরীক্ষামূলকভাবে তারা লুপের আইনগুলোকে এবং সাইবারনেটিক্সকে ইকোলজি, সংস্কৃতি, পরিবার, আবহাওয়া, এবং জৈবিক ব্যবস্থায় প্রয়োগ করেন। বিবর্তন এবং জ্ঞান, তারা ঘোষনা করেন, হচ্ছে গণনার নমুনা। প্রকৃতি গণনা করে।

প্রকৃতি যদি গণনা করে থাকে, তাহলে সমগ্র মহাবিশ্ব কেন নয়? এক মহাবিশ্বব্যপি কম্পিউটারের সাংঘাতিক ধারণাটাকে প্রথম কাগজে লিপিবদ্ধ করেন কল্পবিজ্ঞান লেখক আইজাক আসিমভ। তার ১৯৫৬ সালের ছোট গল্প “দ্য লাস্ট কোয়শ্চন”এ মানবজাতি এমন বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কম্পিউটার তৈরী করে যা নিজেই তার নিজের থেকে আরো বুদ্ধিমান কম্পিউটার তৈরী করতে সক্ষম। এই বিশ্লেষণধর্মী যন্ত্রগুলো চক্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং অতিশয় বৃহদাকার হতে হতে একসময় তারা এক বিশাল কম্পিউটারে পরিনত হয়ে পুরো মহাবিশ্বকে পরিপূর্ণ করে ফেলে। উন্নয়নের প্রত্যেক ধাপে, মানুষ সেই পরাক্রমশালী যন্ত্রকে জিজ্ঞেস করে সে এনট্রপি বিপরিতগামী করতে জানে কিনা। প্রতিবার সেটা উত্তর দেয়ঃ “অর্থবহ উত্তর প্রদানের জন্য অপ্রতুল তথ্য বিদ্যমান”। গল্পটা শেষ হয় যখন মানব মনসমূহ পরম কম্পিউটারের মনের সাথে অঙ্গীভূত হয়, যেটা মহাবিশ্বের সমগ্র ভর ও শক্তি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ফেলে। তখন সর্বজনীন কম্পিউটার বুঝতে পারে কিভাবে এনট্রপি বিপরিতগামী করা যায় এবং নতুন মহাবিশ্বের সৃষ্টি করে।

এরকম পাগলাটে চিন্তা মজা করার জন্য উতকৃষ্ট। এবং ডগলাস আডামস তাই করেন যখন তিনি ‘দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দা গ্যালেক্সি’ রচনা করেন। আডামসের গল্পে পৃথিবী একটা কম্পিউটার, এবং বিশ্বের শেষ প্রশ্নের উত্তর সে বলেঃ ৪২।

কিছু চিন্তাধারা এত উদ্ভট যে কেউ তা একদমই গুরুত্বসহকারে নেন না, আর এই ধারনা – যে ঈশ্বর, বা নিদেনপক্ষে মহাবিশ্ব, যে চড়ান্ত বৃহদাকার কম্পিউটার হতে পারে – কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা অনেক ধারনা থেকে কম অযৌক্তিক। প্রথম যে বিজ্ঞানী এটা খেয়াল এবং বিদ্রুপ ছাড়া বিবেচনা করেন, তিনি হলে কনরাড যিউস, একজন অখ্যাতনামা জার্মান যিনি ভন নিউমন এবং তার বন্ধুদের চেয়ে ১০ বছর আগে প্রোগ্রামেবল ডিজিটাল কম্পিউটারের ধারনা করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে, যিউস তার ধারনার রূপরেখা অঙ্কন করেন যে মহাবিশ্ব সেলুলার অটোমাটার (cellular automata or CA) এক গ্রিডের উপর চলমান। একইসময়ে, এড ফ্রেডকিন একই ধারনা বিবেচনা করছিলেন। স্বশিক্ষিত, একগুঁয়ে এবং স্বাধীনভাবে বিত্তবান, সিএ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে ফ্রেডকিন প্রারম্ভিক কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের সাথে ঘোরাফেরা শুরু করেন। ১৯৬০ সালের দিকে, তিনি ভাবতে লাগলেন পদার্থবিদ্যাকে বোঝার ভিত্তি হিসেবে গণনাকে ব্যবহার করা যায় কিনা।

১৯৭০ এর আগ পর্যন্ত তিনি তেমন অগ্রসর হতে পারেননি, যখন জন কনওয়ে তার ‘গেম অফ লাইফ’ এর যবনিকা পতন করেন, যেটা একরকমের শক্তিশালী সেলুলার অটোমাটা। গেম অফ লাইফ, এর নামানুযায়ী, একটা সাধারন কম্পিউটেশনাল মডেল যেটা জীবের বৃদ্ধি এবং বিবর্তন অনুকরন করে। ফ্রেডকিন তার সিএ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকেন তা পদার্থবিদ্যাকে অনুকরন করতে পারে কিনা দেখার জন্য। আমাদের খুবই বড়মাপের দরকার হলো, কিন্তু তারা সুন্দরভাবে বিন্যস্ত হতে লাগলো, তাই তিনি শিগগিরীই বিশাল সিএর কথা কল্পনা করতে লাগলেন – খুবই বিশাল – যেটা প্রসারিত হয়ে সবকিছুকে ধারন করবে। হয়ত মহাবিশ্ব বিশাল একটা সিএ ছাড়া কিছুই নয়।

ফ্রেডকিন যতই এই রূপক চিন্তাকে অনুসন্ধান করতে লাগলেন, ততই সেটা তার কাছে সত্যি বলে মনে হতে লাগলো। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময়ে, তিনি বলতে লাগলেন, “আমি এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছি এই বিশ্বের সবচেয়ে বাস্তব জিনিসটি হলো তথ্য (information)”।

তাঁর অনেক সহকর্মি বিশ্বাস করেন ফ্রেডকিন যদি তার তার পর্যবেক্ষন রূপকের স্তরেই ফেলে রাখতেন যে – “মহাবিশ্ব এমন আচরন করে যেন সেটা একটা কম্পিউটার” – তাহলে তিনি আরো খ্যাতি লাভ করতেন। যেরকম ফ্রেডকিন তাঁর সহকর্মি মারভিন মিনস্কির মত অতটা পরিচিত নন, যিনি তার কিছু চিন্তাধারা ভাগাভাগি করেন। তার বদলে, মিতাচারকে তাচ্ছিল্যভরে প্রত্যাখান করে জোর দিয়ে বলতে থাকেন, মহাবিশ্ব আসলেই একটা বিশাল সেলুলার অটোমাটা ফিল্ড, শুধু তার মতোই নয় এবং আমরা যা কিছু দেখি বা অনুভব করি তা সবই তথ্য।

ফ্রেডকিন ছাড়া আরো অনেকে প্রকৃতবিশ্ব অনুসন্ধানের এক মডেল হিসেবে সিএ এর সৌন্দর্য্য শনাক্ত করেন। সেইসব প্রারম্ভিক অনুসন্ধানকারীদের মধ্যে একজন হচ্ছেন অদ্ভুত শিশুপ্রতিভা স্টিফেন ওলফরাম। ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে ওলফরাম নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্ভাব্য সিএ সংগঠন অনুসন্ধানের নেতৃত্ব নেন। প্রায় হাজার দশেক সিএ প্রোগ্রাম করে পরিবর্তন করে, চালিয়ে এবং চাক্ষুসভাবে অনুসন্ধান করে, তিনি সম্ভাব্যতার ব্যপ্তি সম্বন্ধে ধারনা লাভ করলেন। তিনি এমনসব নকশা সৃষ্টি করলেন যা ঝিনুক, জানোয়ারের চামড়া, পাতা, এবং সামুদ্রিক জীব গায়ে যেসব নক্সা দেখা যায় তাদের সাথে হুবহু মিলে যায়। তার সরল নিয়মগুলো প্রচন্ড জটিল সৌন্দর্য উতপাদন করতে পরল, যেমন জীবন তৈরী করতে পারে। ওলফ্রাম সেই একই প্রেরনা থেকে কাজ করছিলেন যা ফ্রেডকিনকেও উদ্দীপ্ত করেছিলঃ মহাবিশ্ব দেখে মনে হয় যেন এক বিশাল সেলুলার অটোমাটার মত আচরন করছে।

এমনকি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এবং পাগলাটে কোয়ান্টাম রাজ্যও এই বাইনারি লজিকের বাইরে যেতে পারেনা। আমরা একটা কোয়ান্টাম লেভেলের কণার অস্তিত্ব বর্ণনা করি সম্ভাব্যতার চলমান এক ক্ষেত্র হিসেবে, যেট আছে/নাই এর স্পষ্ট পার্থক্যকে ঝাপসা করে দেয়। তারপরো এই অনিশ্চেয়তা স্থিতিলাভ করে যখনি তথ্য পার্থক্যদান করে (যেমন, যখন তা পরিমাপ করা হয়)। ঠিক সেই মূহুর্তে, সব সম্ভাব্যতা পতিত হয়ে একটা হ্যা/না অবস্থানে। অবশ্যি, ‘কোয়ান্টাম’ শব্দটাই একটা অনিশ্চিত রাজ্যের প্রস্তাব করে যা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকতাহীন বর্ধনে স্থিতিলাভ করে, সুনির্দিষ্ট হ্যা/না আবস্থাতে।

বহুবছর ধরে, ওলফ্রাম ইউনিভার্সাল কম্পিউটেশনের ধারনা আন্তরিকভাবে (এবং গোপনে) অনুসন্ধান চালিয়ে যান, একই সাথে তার জনপ্রিয় সফটওয়ার ম্যাথমেটিকা বিক্রির মাধমে তার ব্যবসা গড়ে তোলেন। তিনি এতটাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বিশ্বকে বিশাল টুরিং মেশিন হিসেবে দেখার লাভের উপর যে তিনি ১২০০ পাতার তার প্রধান রচনা-কর্ম লিখে ফেলেন, যার নাম সবিনয়ে প্রদান করেন, ‘এ নিউ কাইন্ড অফ সায়েন্স’। ২০০২ সালে স্বপ্রকাশিত, বইটি বিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটা শাখাকে কম্পিউটেশন দ্বারা পুনরায় ব্যাখ্যা করেঃ “সমস্ত প্রক্রিয়া, মানুষের প্রচেষ্টা দ্বারা সৃষ্ট অথবা স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রাকৃতিতে ঘটমান, তা কম্পিটেশন হিসেবে দেখা যাবে।”

তবে ওলফ্রামের প্রধান অগ্রগতি অতি সুক্ষ্মভাবে উজ্জ্বল, এবং তা নির্ভর করে পরাতন চার্চ-টুরিং প্রস্তাবের উপরঃ সব সসীম অবস্থা যন্ত্র সমার্থক। একটা কম্পিউটার যা করতে পারে, অন্য আরেকটা তার সবই করতে পারে। এই জন্যে আপনার ম্যাক, সঠিক সফটওয়ার থাকলে, একটা পিসি এর মত আচরন করে অথবা যথেষ্ট মেমরি থাকলে, একটা ধীরগতির সুপারকম্পিউটারের মত আচরন করে। ওলফ্রাম প্রতিপাদন করেন যে এই সর্বজনীন গণনার ফলাফলো গণনাসাপেক্ষে সমার্থক (computationally equivalent)। আপনার মস্তিস্ক এবং একটা কাপভর্তি পানির পদার্থবিদ্যা সমার্থক, তিনি বলেনঃ কারন আপনার মনকে কোন চিন্তা করতে যে গণনা করতে হয় এবং মহাবিশ্বকে পানিরকণা পড়ে যাবার জন্য যে গণনা করতে হয়, তারা একি সর্বজনীন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।

যদি, ফ্রেডকিন এবং ওলফ্রাম যা প্রস্তাব করছেন, সব বিচলন, সকল ক্রিয়া, সকল বিশেষ্য, সকল কর্ম, সকল অবস্থা, আমরা যা দেখি, শুনি, মাপি এবং অনুভব করি তার সবকিছু এই একটি সর্বব্যাপী প্রক্রিয়ার দ্বারা তৈরী বিভিন্ন সুনির্মিত অট্টালিকা, তাহলে সামনের দশকগুলোতে আমাদের জ্ঞানের ভিত্তির এক ছায়াপথসম পুনর্বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই, মধ্যাকর্ষন, আলোর গতি, মিউওন, হিগগস বোসন, ভরবেগ, এবং অণুর একটা কম্পিউটেশনাল ব্যাখ্যা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার হোলি গ্রেইলে পরিণত হয়েছে। এটা হবে পদার্থবিদ্যা (ডিজিটাল পদার্থবিদ্যা), আপেক্ষিকতা (ডিজিটাল আপেক্ষিকতা), বিবর্তন (ডিজিটাল বিবর্তন এবং প্রাণ), কোয়ানটাম মেকানিক্স, এবং কম্পিউটেশনের একটা সমন্বিত ব্যাখ্যা, এসব কিছুর নিচে সর্বজনীন উপাদানের মোচড়ানো স্তুপঃ হ্যা/না বিটের লুপ। এড ফ্রেডকিন তার ডিজিটাল ফিজিক্সএর ধারনায় শান দিতে ব্যস্ত এবং ‘ডিজিটাল মেকানিক্স’ নামক একটা বই শেষ করছেন। অন্যান্যরা, যার মধ্যে অক্সফোর্ডের পদার্থবিদ ডেভিড ডয়েশ (David Deutch) রয়েছেন, একই সমস্যার উপরে কাজ করছেন। ডয়েশ পদার্থবিদ্যার বাইরে যেতে চান এবং চারটা স্বর্ণ সুতিকাকে একত্রিত করতে চান – এপিস্টেমোলজি, পদার্থবিদ্যা, বিবর্তনবাদ, এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং – যা প্রদান করবে যা গবেষকরা দ্বিধাহীনভাবে বলছেন থিয়রী অভ এভ্রিথিং। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর মূলনিতির উপর ভিত্তি করে, তা অন্যসব তত্ত্বকে গিলে নেবে। (ক্রমশঃ)

সূত্রঃ ওয়ারড ম্যাগাজিন।

রেফারেন্সঃ

১। এড ফ্রেডকিনের ডিজিটাল ফিলোসফির উপর কিছু পেপার http://www.digitalphilosophy.org/Home/Papers/tabid/61/Default.aspx
২।Giorgio Fontana - Why we live in a computational universe: arxiv.org/pdf/physics/0511157
৩। John D. Barrow - Living in a Simulated Universe www.simulation-argument.com/barrowsim.pdf
৪। http://www.simulation-argument.com/
৫। A Computer Scientist's View of Life, the Universe, and Everything: ftp://ftp.idsia.ch/pub/juergen/everything.ps.gz
৬। Seth LLoyd - The Computational Unvierse http://www.edge.org/3rd_culture/lloyd2/lloyd2_index.html


মন্তব্য

আরেফীন [অতিথি] এর ছবি

জানা কিছু জিনিসও দুর্বোধ্য মনে হল। একটু খটমটে অনুবাদ। আরেকটু সহজ ভাষায় বলা যেত না কথাগুল?

খানিকটা বুঝেছি। টপিকটা অসাধারন। ধন্যবাদ।

অবনীল এর ছবি

পাঠকের দূর্বোধ্যতা লেখকের সীমাব্ধতাকেই প্রকাশ করে। আশাকরি পরবর্তী পর্বে আরো প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করতে পারব। পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

চলেন, একটা কোয়ান্টাম ভাইরাস তৈরি করে এই ডিজিটাল মহাবিশ্বের মধ্যে একটা মহা-পেঁচগি লাগিয়ে দেই।

অবনীল এর ছবি

কোয়ান্টাম কম্পিউটারটা আসতে দেন। চোখ টিপি
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

ঐ রকম একটা কোয়ান্টাম কম্পিঊটার পাইলে আমি সবার আগে 'ইশ্বর'-এর কন্টেন্ট সিলেক্ট/কপি করে নিজের মধ্যে 'ইনসার্ট' করে তারপর ইশ্বররে 'শিফট-ডেল' মাইরা নিজেই 'ইশ্বর' হয়ে বসুম। তারপর কিন্তু আপনাদের সবার খবর আছে বইলা দিলাম.... এখনই সাবধান হয়ে যান....!!!

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি আগে দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেকে গুরে আসি, দেখি দু'একটা আস্ত আছে কি না! তার পর মন্তব্য করে যাব!

--- থাবা বাবা!

অবনীল এর ছবি

হো হো হো এইটা লিখতে গিয়া অলরেডি দুইবার ডেন্টিস্টের কাছে ভিসিট দিতে হইসে ! চোখ টিপি
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

একটা খুব পছন্দের টপিক নিয়ে লিখলেন। আমার ভালো লেগেছে। কেভিন কেলির এই লেখাটার অনুবাদ যে ব্যাপারটা সংযুক্ত করে দিতে পারেন, পাঠকের রেফারেন্সে সুবিধা হবে।

বিশ্ব যে গণনাযোগ্য, এমনকি নিজেই একটা টিউরিং মেশিন, এই ধারণাটা ফিজিক্সে ধীরে ধীরে ব্যাপকতর হচ্ছে। এর কারণ পদার্থ বিজ্ঞানের এ-যাবতকালের সকল সূত্রই কম্পিউটার-গণনাযোগ্য। এখনো এমন গণনা সমস্যা পর্যবেক্ষণজগতে পাওয়া যায় নি, যা টিউরিং গণনাযোগ্য না কিন্তু প্রকৃতি সমাধান করতে পারছে। এমন একটাও যদি পাওয়া যায়, তবে কিন্তু এই প্রকল্প বাতিল।

আসলে কি? আসলে কিন্তু এটা একটা উচ্চাশাসম্পন্ন প্রকল্প। মানে মানুষের হাতে টিউরিং মেশিন গণনা করার মহাস্ত্র কম্পিউটার আছে, এ যাবৎকালের সব সমস্যাকে টিউরিং গণনাযোগ্য দেখানো যায়, তাই মানুষের উচ্চাশা, বাকি অদেখা মহাবিশ্বটাও তার ওই যন্ত্রটা দিয়ে গণনা করা যাবে। এই প্রকল্পের পিছনে কিন্তু এর চেয়ে বড় কোন কারণ নাই।

তাই বলে এই প্রকল্পকে ছোট করার ব্যাপারও নেই এখানে। কারণ এই প্রকল্প কাজের। নিত্য-নতুন যে পর্যবেক্ষণই পাচ্ছি, কম্পিউটারে তার একটি ছায়া তৈরির চেষ্টা করছি আমরা, এবং পর্যায়ক্রমে সফল হচ্ছি। স্ট্রং আটিফিশাল ইন্টালিজানস বলে একটা গবেষণা ক্ষেত্র আছে। এখানের একটা প্রচ্ছন্ন প্রকল্প হচ্ছে ইন্টালিজানস টিউরিং গণনাযোগ্য। কিছু কিছু মানুষের ধারণা এটা সত্য নয়। তারা হাইপারকম্পিউটার তৈরির দিকে গবেষণাকে প্রণোদিত করতে চান। কিন্তু এমনটা ভাবার কোনো গঠনমূলক কারণ কেউ তেমন দেখাতে পারেন নি (মানুষের চিরায়ত স্বভাব অনুযায়ী মানুষের ক্রিয়ার পিছনে কোয়ান্টাম-আত্মা দেখতে পাওয়া ছাড়া)।

এই প্রকল্প প্রতিষ্ঠা কঠিন, সম্ভবত অসম্ভব, বাতিল সহজ (একটা উদাহরণ পেলেই হলো), তবে ব্যাপক কাজের।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

স্ট্রং আটিফিশাল ইন্টালিজানস নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু ধারণা আমার জীবনের অর্থ লেখায় এসেছে। ওখানে উল্লেখ করেছিলাম যে

এখানে অনুমিত যে ভৌত-জগতের সবকিছু টিউরিং-গণনাযোগ্য

অবনীল এর ছবি

ধন্যবাদ আপনার তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য। আপনার পর্যবেক্ষনের সাথে একমত। লেখা পছন্দের জন্য আবারো ধন্যবাদ।
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

খেকশিয়াল এর ছবি

বন্ধু কিছু কিছু জিনিস বুঝি নাই, রেফারেন্স লিঙ্ক দিয়ে দিলে ভালো করতি, তবে বিষয় আর লেখায় মাথা নষ্ট! কিছু টাইপো আছে, দেখে নিস। শিজ্ঞির সেকেন্ড পার্ট ছাড়!!

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

অবনীল এর ছবি

রেফারেন্স দিতে গিয়া চিন্তায় পড়ে গেলাম কারন ওগুলো আরো বেশি টেকনিক্যাল। Digitalphilosophy.org একটা লিংক দিয়ে দিলাম, এটা পড়ে দেখতে পারিস। পরবর্তি পর্ব আসছে।
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

বর্ণিল আঁধার [অতিথি] এর ছবি

অসাধারন বিষয়বস্তু।কিছু কিছু জায়গায় অনুবাদ কিছুটা দূর্বোধ্য হয়েছে কিন্তু সব মিলিয়ে আকর্ষনীয় লেখা।পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

অবনীল এর ছবি

ধন্যবাদ।
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

গোঁ গোঁ গোঁ গোঁ গোঁ.........(অনুবাদঃ দাঁত পইড়া গেছেগা, তাই শব্দ বাইরায় না। আপনের লেখা পড়তে গিয়া সব দাঁত পইড়া গেলো। )

অবনীল এর ছবি

মন খারাপ দূর্বোধ্যতার জন্য আন্তরিকভাবে দূঃখিত, পরবর্তী পর্বে এ ব্যাপারে আরো যত্নবান হবার চেষ্টা করব। ফোকলা মুখ নিয়ে লেখাটা পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। চোখ টিপি
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

চলুক।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অবনীল এর ছবি

জ্বি, চালাচ্ছি। ধন্যবাদ।
___________________________________
স্বপ্ন নয়, - শান্তি নয়, - কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA