বইমেলা আড্ডাম্যালা ৬

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি
লিখেছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর (তারিখ: শনি, ১৩/০২/২০১০ - ১:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজ মেলা ভর্তি শুধু ধুলো আর মানুষ। নিধি আর নূপুরকে নিয়ে মেলায় ঢুকতে বেশ কষ্ট হলো। শুদ্ধস্বরের সামনে গিয়ে দেখি বাঘাদা দাঁড়িয়ে। আর বই কিনছে কনফু, তিথি আর শিমূল। পান্থর বইটা কেনা হচ্ছিলোন না কদিন ধরেই। কনফু বললো কিনবে, আমিও ছুটলাম। বইটা হাতে নিয়ে মাত্র দাম দস্তুর করবো, এসময় এলো ফোন। ফোনে কথা বলতে বলতে দেখি কনফু কিনে ফেলেছে, আমারটাও, গিফট...
ভাবছি এখন থেকে কনফুকে নিয়ে দোকানে যায়ে দাম দস্তুর করে কাউকে মিসকল দিবো ফোন করার জন্য... চোখ টিপি

প্রথম বইটা গিফট পেয়ে (ধন্যবাদ তারেক) মনে হলো এই সুবাদে কিছু বই কেনা যায়। আমি কনফু, তিথি, শিমূল, নূপুর, নিধি বের হলাম মেলা পরিদর্শনে। প্রথমে মাওলা ব্রাদার্স।

৯৪ সালে ইত্তেফাকে প্রদায়ক হিসেবে আমার জাতীয় দৈনিকে লেখা শুরু। আর সেই শুরুর কালেই ('৯৫) মারা গেলেন মোনাজাতউদ্দিন। কোথাকার কোন মফস্বল সংবাদ দাতা হুট করে আমার হিরো হয়ে গেলেন। হুট করেই জানলাম এই চারণ সাংবাদিকের নাম। এবং জানলাম উনি এই লাইনে বিপ্লব ঘটায়ে দিছেন। তখনই পড়ে ফেললাম তাঁর 'মোনাজাতউদ্দিনের ডায়েরি', 'কানসোনার মুখ' প্রভৃতি বই। ব্যাপক মুগ্ধ। বিটিভিতে ধারাবাহিক নাটক প্রচার হলো তাঁর রিপোর্ট নিয়ে। আমার প্রথম সাংবাদিকতা জীবনের এই হিরো... তিনি মোনাজাত উদ্দিন আহমেদ। তাঁর বইগুলো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। এবার মাওলা ব্রাদার্স বাজারে এনেছে 'মোনাজাতউদ্দিন রচনাসমগ্র'। প্রথম খণ্ডটা কয়দিন আগেই বেরিয়েছে, দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য অপেক্ষা করছিলাম পুরোটা একবারে কিনবো বলে, কিন্তু এখনো আসেনি। তর সইলোনা বলে প্রথম খণ্ডটা কিনেই ফেললাম।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে থাকলেও তীরুদার (আনিস হক) বইদুটো তখন সংগ্রহ করা হয়নি। আজ কিনে নিলাম 'জাহাজী যাযাবর' আর 'অন্ধরাতের ঘোড়া'। আজকেও প্রচুর বই কেনা হয়ে গেলো শেষতক। নীলিমা ইব্রাহিমের 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি', শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'নবান্ন', আবু রুশদ এর 'অনিশ্চিত রাগিনী', দিলারা হাশেমের 'কাকতালীয়', নীলিমা ইব্রাহিমের 'শতাব্দীর অন্ধকারে', সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর 'নিরাশ্রয় গৃহী ও অন্যান্য প্রবন্ধ', শরীফ রাজার 'সমুদ্র যার মা', শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'মজা গাঙের গান', সুব্রত বড়ুয়ার 'গ্রহণের দিন', সুচরিত চৌধুরীর 'নদী নির্জন নীল' মনোয়ারা নজমুলের 'আজো কাঁদে ডাহুকী', সানাউল হক খানের 'অন্ধ করতালি', আবু রুশদ এর 'শাড়ী বাড়ী গাড়ী', বদরুন্নেসা আবদুল্লার 'মাথুরের পরে' আর ধ্রুব এষের 'দূরের সবুজ বনভূমি'। শুধু নিজের জন্য কিনলে তো হবে না। নিধি বইমেলায় যাওয়ার কথা শুনলেই ছড়ার বইয়ের বায়না ধরে। আজও তাকে কিনে দিতে হলো ছড়ার দুটো বই। নিধিরও কিন্তু অনেক বই এখন। সে প্রতিদিন সেগুলো পড়ে, নূপুর পড়ে পড়ে শোনায়... আমি পাশের ঘরে বসে বসে শুনি... ভালো লাগে। আমিও মাঝে মাঝে পড়ি...

আজকেও বই নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়রান। আর বই কিনতে কিনতেই হারিয়ে ফেলেছি কনফু তিথি আর শিমূলকে। পরে ফোন করে শুনি তারা এক বন্ধুর বাড়িতে বসে পোলাও মাংস দিয়ে উদরপূর্তি করছেন... মন খারাপ

এর মধ্যেই রিটন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। নিধিটা এমনিতে মানুষের কোলে টোলে যায়না। আজকেই কনফু আর তিথি হাজার চেষ্টা করেও একবার কোলে তুলতে পারলো না, নানাবিধ প্রলোভন দিয়েও না। অথচ রিটন ভাইকে দেখেই দৌড়ে গিয়ে কোলে উঠে গেলো। হিমুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের দিন তো রিটন ভাইয়ের কোল থেকে নামতেই চায় না নিধি। কালকে থেকে মেলায় রিটন ভাইয়ের নতুন ডিউটি শুরু হলো, চকোলেট নিয়ে আসতে হবে এখন থেকে।

আজ শুক্রবার, মানুষের ভীড় বেশি থাকবে বলাই স্বাভাবিক। আর স্টার রাইটাররা দোকানে আলো জ্বেলে অটোগ্রাফসমেত বই বিক্রি করবেন, এও জানা। জানি না হু আ এসেছিলো কী না আজকে। অন্যপ্রকাশের ধারে কাছ দিয়েও যাওয়া হয় না আমার। অনন্যাতে দেখলাম মিলন ভাইকে। দেদারছে অটোগ্রাফ দিয়ে যাচ্ছেন। দেখা হয়ে গেলে আমার কপালে মাইর আছে জানি, তাই সেদিকেও গেলাম না আজ। কিন্তু অন্য কী এক প্রকাশনীতে দাঁড়িয়ে আছেন সুমন্ত আসলাম। দেশে এখন অটোগ্রাফজীবীদের মধ্যে তিনিও অন্যতম। প্রথম আলো থেকে চাকরী চলে যাবার পর নাটক লেখাকেই পেশা হিসেবে নেবেন বলেছিলেন। সঞ্জীবদা যখন হসপিটালে, এ্যাপোলোর করিডোরে অনেক আলাপ আর দুঃখ হয়েছিলো। কিন্তু এখন আর নাটক লিখে পোষায় না। বইমেলায় ঠিকঠাক সার্ভিস দিতে পারলেই সারাবছরের নিশ্চিতি... ভাবছি এবার আমিই যাই দুটো টিপস নিয়ে আসি...
তার বদলে আড্ডা হলো। সুমন্তদার সঙ্গে আড্ডা দিতে আমার ভালো লাগে। রসিক লোক।

তবে আরেক প্রকাশনীর সামনে লোকের ভীড় দেখে অবাক। ভেতরে পরিচিত কাউকে দেখি না। একসময় দেখি এক লোক ভেতরে বসে বসে অটোগ্রাফ দিচ্ছে। আর পাশে স্তুপের চেয়েও উঁচু করে সাজানো নতুন বই। লেখক মোহিত কামাল। উনাকে আমার আগে কখনও দেখনের সৌভাগ্য হয় নাই। বই পড়ারও না। উনি এতো জনপ্রিয়! জানতাম না!

লিটল ম্যাগ অঞ্চলে আজকেও ঢুঁ দেওয়া হলো না। টাইম শেষ।


মন্তব্য

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমরা শুদ্ধস্বরের সামনে আড্ডা দিলাম। আমি, এন্কিদু, বাঘা'দা, পান্ডব'দা, লীলেন্দা, নৈষাদ ভাই, তারেক, টুটুল ভাই, মুস্তাফিজ ভাই, সিমন্ভাই...

আপনে আহেন্নাই ক্যান !!!
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ভালোইছে, আমি আজকা আড্ডাই নাই, মেলা ঘুরছি।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রণদীপম বসু এর ছবি

নজু ভাই, আগের পোস্টের কমেন্টটা মনে আছে তো ?
শুক্কুরবারে তো দুপুর থাইক্যা সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় আছিলাম, এনকিদু আর তারেক এবং বাইর হওনের সময় সিমন ছাড়া আর কাউরে পাই নাই। আপনে তো ভাব ধইরা রাইতের বেলা মেলায় আসেন। তয় আগামী কাইল অর্থাৎ শনিবার আসতেছি মেলায়। আপনে বই কিন্যা রাইখেন, আমি কষ্ট কইরা নিয়া যামুনে। আর কষ্ট হইলেও আপনের লাইগা না হয় পড়লাম ! যত হোক, বন্ধু মানুষ, আপনের লাইগ্যা এইটুক না করলে কেমনে !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

মাহবুব লীলেন এর ছবি

নিধিটা এমনিতে মানুষের কোলে টোলে যায়না। আজকেই কনফু আর তিথি হাজার চেষ্টা করেও একবার কোলে তুলতে পারলো না, নানাবিধ প্রলোভন দিয়েও না। অথচ রিটন ভাইকে দেখেই দৌড়ে গিয়ে কোলে উঠে গেলো। হিমুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের দিন তো রিটন ভাইয়ের কোল থেকে নামতেই চায় না নিধি।

তার মানে শিগগিরই রিটন ভাইর বিয়ে হবে
নিধি যার কোলে যায় এক বচ্ছরের মধ্যে তার বিয়ে নিশ্চিত

রণদীপম বসু এর ছবি

শনিবার কি নিধি মেলায় আইবো ? একবার টেরাই কইরা দেখতাম !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

তিথীডোর এর ছবি

উদ্ধৃতি
"তার মানে শিগগিরই রিটন ভাইয়ের বিয়ে হবে.."
গড়াগড়ি দিয়া হাসি

--------------------------------------------------
"আমি তো থাকবোই, শুধু মাঝে মাঝে পাতা থাকবে সাদা/
এই ইচ্ছেমৃত্যু আমি জেনেছি তিথির মতো..."
*সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

স্পর্শ এর ছবি

নিধিরও কিন্তু অনেক বই এখন। সে প্রতিদিন সেগুলো পড়ে, নূপুর পড়ে পড়ে শোনায়... আমি পাশের ঘরে বসে বসে শুনি... ভালো লাগে। আমিও মাঝে মাঝে পড়ি...

এটাই আসল পাঠ!
নিধির জন্য ভালোবাসা। হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আপনি যেভাবে বইয়ের লোভ দেখাচ্ছেন, আবারো আসতে হবে ঢাকায়। হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

কারুবাসনা এর ছবি

মোহিত কামাল করেছে। শুনে খুব ভাল লাগছে। কনগ্রা।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

হুউম...
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA