ভয়

নিবিড় এর ছবি
লিখেছেন নিবিড় (তারিখ: শনি, ২৯/১১/২০০৮ - ১:১৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নাই কাজ তো খই ভাজ । আমারো কিছু করার নেই তাই বসে থাকি, শুয়ে থাকি আর চিন্তা করি । যত সব হাবিজাবি চিন্তা , কোন মানে নেই এমন সব চিন্তার । যত রাত বাড়ে তত চিন্তা বাড়ে । রাতের চিন্তা গুলা আসলে বিপদজনক । নিজের কাছেই নিজের ধরা পড়ে যাওয়ার চান্স থাকে । দিনে সবার সামনে যা লুকিয়ে রাখি তাই যেন রাতে আড়াল ছেড়ে বের হয়ে আসে যেন বলতে চায় আসলে তুমি এরকম । মাথার ভিতর কে যেন বলে উঠে যতই চেষ্টা কর তুমি পারবে না এসব ভুলতে ।

আমি আসলে তখন ভয় পাই , ভয় পাই যদি কেও বুঝে ফেলে আমি কি চিন্তা করছি । ভয় পাই আসলে আমি কি ভুলে যেতে চেয়েও ভুলে যেতে পারি নি তাকে । কিন্তু উপায় নেই রাত হচ্ছে আমার জন্য সত্যবাদী আয়নার মত । এর হাত থেকে নিস্তার নেই । যতই তুমি সবাই কে বুঝাও তুমি ভুলে গেছে ,তুমি পাত্তা দাও না কিন্তু ঠিকি তুমি ধরা পড়ে যাও এই আয়নার কাছে ।
ছোটকালে আমি ভূত খুব ভয় পেতাম । রাতে ঘুমানোর সময় আসলে ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যেত । ভাবতাম আজ বুঝি এই রাত শেষ হবে না । কিন্তু রাত শেষ হত । আর তাই আমার বয়স বাড়ত আস্তে আস্তে । ঠিক এইভাবে আমি একদিন বড়দের দলে পড়ে গেলাম তাই রাতের সেই ভয় পালিয়ে গেল দূরে কোথাও । কিন্তু আজ আমি বুঝি আমার রাতের আতঙ্ক আজ শেষ হয় নি । কারণ ভূতের জায়গায় এসেছে চিন্তা । কি হয়েছিল তার চিন্তা কি হতে পারত তার চিন্তা ।

আমি আসলে কেমন ছেলে ? সবাই বলবে- ভালছেলে , মজার ছেলে , সারাদিন হাসিখুশি থাকা একটা ছেলে । যার মন পাঁচ মিনিটের বাশি খারাপ থাকে না । কিন্তু ভুল, এইসবি ভুল । আর এইজন্য রাত কে আমার এত ভয় ।

আমি কি আসলে চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছি ? হাশিখুশি থেকে ছিঁচকাদুনে অথবা স্বাভাবিক থেকে মানসিক । জানি না , জানি শুধু বাইরে আমি যতই শক্ত দেখাই ভিতরে ভঙ্গুর , আর দশ জনের মত । সবাই যতই বলুক- এই ছেলেটার ভিতর আগুন আছে , একদিন এ কিছু করবেই । কিন্তু আমি জানি আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না কারণ একজন দূর্বল মানুষের মত আমি স্মৃতির চোরাগলিতে আটকা পড়ে গেছি । আর এটা জানে শুধু গভীর রাত । তাই রাত কে আমার এত ভয় ।

রাতকে আমি ভয় পাই কারণ রাতের বেলা স্মৃতি থেকে জীবন্ত হয়ে উঠ তুমি । আমার কাছে এখন তোমার কোন নাম নেই । তোমার পরিচয় আমার কাছে শুধু ‘তুমি’ কারণ দিনের বেলা সবাই কে আমি বলি তোমার নাম আমি ভুলে গেছি , তোমার চেহারা আমার মনে নেই । কিন্তু রাতের আয়নায় আমি ধরা পড়ে যাই । শুধু তোমার নাম বা চেহারা না মনে পড়ে আর অনেক কিছু । মনে পড়ে দুই টাকার বাদাম থেকে লাল পাড়ের সবুজ সেই শাড়ি । এরকম সব, সব কিছু । বাদ যায় না কোন দাড়ি কমা । আর তোমাকে ভুলতে চাই বলেই রাত কে আমার এত ভয় ।

প্রতি রাতেই চোখ বন্ধ করলেই আমি তোমাকে দেখি । শুধু তোমাকে না তোমার পাশে হাত ধরে দাড়িয়ে থাকা লোকটা কেও দেখতে পাই । কিন্তু লোকটার চেহারা আমার দেখা হয় না কারণ আমি দেখি শুধু লোকটার দুইটা হাত যে হাত ধরে থাকে তোমাকে । যেই হাত তুমি কথা দিয়েছিলে আমাকে ধরতে দিবে বসন্তের প্রথম দিনে বাসন্তী শাড়ি পড়ে । কিন্তু আমার আর তোমাকে বাসন্তী শাড়ি পড়া অবস্থায় দেখা হয় নি । আর তাই আমি লোকটার হাতের আঙটি কে হিংসা করি কারণ আমি যা পারি নি তা ঐ আঙটি পেরেছে । রাত কে আমি ভয় পাই কারণ প্রতি রাতে ঐ হাত , হাতের সেই আঙটি আমার কাছে ফিরে ফিরে আসে ।

আমি এখন বলি প্রেম বলে কিছুই নেই সব খালি শারীরিক আকর্ষন । ফ্রয়েড থেকে আমি লাইনের পর পর লাইন কপচাই এর প্রমান হিসেবে । তখন আমি ভুলে যাই দিনের পর দিন আমি তোমার স্পর্শ পাই না কিন্তু রাতের বেলা তুমি ঠিকি হাজির হও প্রতিদিন । এখানে কিসের আকর্ষন কাজ করে ? শারীরিক ? না । হাজার হাজার দিন আমি তুমি এক সাথে হেটেছি কোনদিন আমি তোমাকে চুরি করে ছুঁতে চাই নি । বৃষ্টি ভেজা তোমার শরীর এর কোন দিকে আমি তাকাতে পারি নি খালি মুখখানি ছাড়া । তবু আমি প্লেটেনিক ভালবাসা বিশ্বাস করি না কারণ আমি তোমাকে ভুলতে চাই ।

সবাই কে আমি বলি তুমি বিশ্বাস এর হত্যাকারী । সবাই আমার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চায় আমি সত্য বলছি কিনা । কারণ আমি ভুলতে চাইলেও তারা তো পুরান সব স্মৃতি ভুলতে পারে নি । তাই আমি কথাটা প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসের সাথে বলি । কিন্তু রাত বিশ্বাস অবিশ্বাস এর দোলাচালে আমাকে নাড়া দেয় । আমি বিশ্বাস করি আমি ভুল বলছি । আর তাই রাত কে আমার এত ভয় ।

তবুও এত কিছুর পর আমি রাতের অপেক্ষায় থাকি । আমার সব মিথ্যা ধরা পরে যায় তাও আমি অপেক্ষায় থাকি রাতের, গভীর রাতের । যখন শহরের সব মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে , শহরের ক্লান্ত শব্দ গুলো যখন বিশ্রাম নেয় তার পরও আমি অপেক্ষায় থাকি চোরের মত । কারণ তার পরি আসবে ধীর পায়ে সেই স্বপ্ন দৃশ্য - সেই রাধাচূড়াঁ গাছ, তুমি, আমি , একটি সবুজ শাড়ি আর............ আর হাতের উপর হাত ।


মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।