ধীমান ঘোষ: ব্যাট হাতে দুধভাত

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি
লিখেছেন অছ্যুৎ বলাই (তারিখ: সোম, ৩১/১০/২০১১ - ৩:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যখনই মুশফিকুর রহিম কোনো ক্যাচ ড্রপ করে, তখনই একটু উহ আহ এর সাথে বিকল্প উইকেট কীপারের কথা উচ্চারিত হয় এবং অবধারিতভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সিদ্ধান্তে আসা হয় বাংলাদেশে আসলে তাকে রিপ্লেস করার মতো কেউ নেই। কারণ অবশ্যই তার কিপিং নয়, বরং ব্রাডম্যানসদৃশ ব্যাটিং!

২৮ গড়ের ব্যাটসম্যানকে তার ব্যাটিং দক্ষতার জন্য বাজে উইকেট কিপিংয়ের স্বাধীনতা দেয়া যায় কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে কিছু সরল অঙ্ক করে দেখা যাক। বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম এবং সবচাইতে দুর্বল সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানের যোগ্যতা আমাদের দলের ব্রাডম্যানদের চাইতে বেশি। এ অবস্থায় একজন ব্যাটসম্যানের প্রতিটা ক্যাচ ড্রপ বা স্ট্যাম্পিং মিস করার অর্থ আসলে সেই ব্যাটসম্যানকে এক ইনিংস বাড়তি ব্যাট করার সুযোগ দেয়া। গড়ের হিসেবে একজন শচীনের ক্যাচ ড্রপের অর্থ বিপক্ষ দলকে ৫৬ রান বেশি করতে দেয়া, কির্ক এডওয়ার্ডসের ক্ষেত্রে যেটা ৪২ (আপাতত প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের গড়)। সুতরাং শচীনের ক্যাচ ড্রপ করা একজন কীপারকে ক্যাচ ড্রপ না করা একজনের তুলনায় তখনই দলে নেয়া লাভজনক, যখন সে দলে না নেয়া কীপারের তুলনায় অন্তত ৫৭ রান বেশি করতে পারবে।

বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে আমাদের টপ অর্ডার আর টেইলএন্ডারদের ব্যাটিং গড়ে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না। টপ অর্ডারের গড় ২০এর ঘরে, যার মধ্যে দুয়েকজন ৩০-৩২, তামিম একা ৩৯/৪০, আর টেইল এন্ডারদের গড় ১৫-২০। এ অবস্থায় একজন ভালো উইকেট কীপার যদি ব্যাটসম্যান হিসেবে জঘন্যও হয়, তাহলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্রাডম্যান ক্রাপ উইকেট কীপারের সাথে তার ব্যাটিং গড়ের পার্থক্য ১০ রানের বেশি হবে না। এই ১০ রানের সঞ্চয়ে বড়জোর ৬ ইনিংসে একবার টেন্ডুলকার বা ৪ ইনিংসে একবার এডওয়ার্ডসকে ড্রপ করার স্বাধীনতা পাওয়া যায়! বোলিং লাইনআপ দুর্বল হলে সমস্যাটা আরো বেশি। আমাদের বোলাররা শক্ত প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে খুব বেশি সুযোগই সৃষ্টি করতে পারে না; সুতরাং একবার লাইফ পাওয়া ব্যাটসম্যানকে আবার বাগে পাওয়া সহজ হয় না।

বিকল্প উইকেট কীপার হিসেবে যখনই ধীমানের নাম উচ্চারিত হয়, তখনই তাকে এক কথায় নাকচ করে দেয়া, কারণ, সে ব্যাট করতেই জানে না! যদিও তার প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের গড় প্রায় ৩৩ এবং লিমিটেড ওভারে প্রায় ২৮, যা আমাদের স্পেশ্যলিস্ট ব্যাটসম্যানদের চেয়ে কোনোভাবেই কম না, তবুও তার ব্যাট করতে না পারার মিথ কিভাবে সৃষ্টি হলো, এটা আমার কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার না হলেও বিরক্তিকর।

তার ব্যাট করতে না পারার উদাহরণ হিসেবে অবশ্য তার ওডিআই গড়কে, যা মাত্র ১৪, তুলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু এই গড়ের পেছনের কাহিনী বিচার না করলে পুরোটা বুঝার উপায় নেই। তার এই ১৪ গড়ওয়ালা ১৪ ম্যাচের ইতিহাস সংক্ষেপে দেখা যাক:

# প্রথম ৩ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, স্কোর ১৫*, ০, ৩। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার ওই ১৫ রানই বাংলাদেশ ইনিংসের ২য় সর্বোচ্চ স্কোর এবং ৭ নম্বরে ব্যাট করা ধীমানকে রেখে বাকি সবাই আউট ১৭৮ রানে। বাকি ২ ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোর ১৭৩ আর ১৪৩।

# এরপরের ৩ ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এই সিরিজে তার ব্যাটিং অর্ডার ছিলো ১০! ২ ম্যাচে ব্যাট ধরারই সুযোগ পায় নাই। আর এক ম্যাচে ২ রানে নট আউট।

# পরের ৫ ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। তার স্কোর ০, ২৭, ১৮*, ০, ২৯। বাংলাদেশ দলের স্কোর ১২৯, ২২৫, ২৮৫, ২১০, ১৭৯। ধীমানের ব্যাটিং অর্ডার ৯, ৮, ৯, ৮, ৮। ২৭ স্কোর বাংলাদেশ দলের ইনিংসে ৩য় সর্বোচ্চ এবং অপরাজিত ১৮ রান এসেছে ১১ বলে। ২৯ এর ম্যাচে বাংলাদেশ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর ৩৭, আরো ২ জন আছে ৩০ এর ঘরে।

# শেষ ৩ ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, যেখানে তার স্কোর ১, ৩০, ১। বাংলাদেশের স্কোর ৭৪, ১১৭, ১২৫। ধীমানের ব্যাটিং অর্ডার ৭। ওই সিরিজের প্রত্যেকটা ম্যাচই এত লো স্কোরিং ছিলো যে, ধীমানের ৩০ রান ২য় ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ স্কোর।

এই ইতিহাসের প্রেক্ষিতে যা দেখা যায়,

১) তাকে ব্যাটিং করতে হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী ৩ টি বোলিং লাইন আপের বিপক্ষে, যেখানে ১১ ইনিংসের মধ্যে বাংলাদেশ দলই বলার মতো স্কোর করেছে মাত্র ১টি।

২) তাকে ব্যাট করতে হয়েছে ৭ থেকে ১০ এর মধ্যে। অর্থাৎ তাকে সবসময়ই ব্যাটিংয়ে টেইলএন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। টপ বা মিডল অর্ডারে ব্যাট করার সুযোগ একবারও দেয়া হয় নাই।

৩) আমাদের ব্রাডম্যানদের ব্যাটিং গড়ের জন্য সবচেয়ে বড়ো আশীর্বাদ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলার অলৌকিক সুযোগ তার হয় নাই। এরপরের 'ইজি রান' আসতে পারতো আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, যেখানে ৩ ম্যাচেই তার ব্যাটিং অর্ডার ছিলো ১০ এবং স্বভাবতই তাকে ব্যাট হাতে কিছু করতে হয় নি।

এই অবস্থায় তার ব্যাটিং গড় ১৪র অজুহাত দেখিয়ে তাকে নন-ব্যাটসম্যান ট্যাগ করা যায় না। বরং দলের অন্যদের (ব্যাটসম্যানদের) সাথে তুলনা করলে তার পারফর্ম্যান্স খারাপ না। ১২ বার সুযোগ পেয়ে ৬ বারই সে (অন্যদের তুলনায়) ব্যর্থ হয় নাই।

সীমিত ওভারের ম্যাচের পরে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের দিকে চোখ ফেরানো যাক। ব্যাট হাতে কাঁপাকাপির মিথওয়ালা ধীমানের গড় প্রায় ৩৩, যা আমাদের যে কোনো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের সাথেই তুলনীয়। তার সাম্প্রতিক ব্যাটিং ইনিংসগুলো ৪২, ২৩, ৩১, ১৬, ৭৫, ১, ১০১*, ১, ৯, ১৪১, ১৯, ১১, ৭, ৫০*, ৫১, ১০১, ৭*, যার গড় ৪৯। ব্যাটহাতে দুধভাত হিসেবে প্রচলিত মিথের অধিকারীর জন্য এটা বিস্ময়কর পারফর্ম্যান্স।

এখানে অবশ্য আরেকটা প্রশ্ন আসে, তাহলো ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট করতে পারলেই সে টেস্টম্যাচে ব্যাট করতে পারবে, তার নিশ্চয়তা কি? খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। কিন্তু এর উত্তরও পাওয়া যায় ঘরোয়া ক্রিকেটের স্কোরে। আমাদের প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে বড়ো স্কোরের দলীয় ইনিংস খুব কম, অধিকাংশ দলই ২০০র ঘরে আউট, অনেক সময় ২০০র কম বা ৩০০র ঘরেও রান হয়, ৪০০র ওপরে রান একদমই কম। এ অবস্থায় একজন ব্যাটসম্যানের গড়ও খুব বেশি হওয়া কঠিন। সুতরাং আপেক্ষিক পরিস্থিতি বিচারে ৪৯ গড় বিশাল অর্জন। যে কোনো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের জন্যই সংখ্যাটা গৌরবের, ধীমানের মতো টপ ৫ এ ব্যাট না করাদের জন্য কাজটা আরো কঠিন। টেস্টে সে কেমন ব্যাট করবে, সেটা বুঝা যাবে টেস্টে ব্যাট করার পরে। ইন্ডিয়া দলে যেমন প্রাভিন কুমারকে শুধুমাত্র সীমিত ওভারের ম্যাচের বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। "একবার সুযোগটা দিয়ে দেখো না!" - আত্মবিশ্বাসী প্রাভিন এখন সুযোগ পেয়েই জহিরের অনুপস্থিতিতে তিন ভার্সনেই ইন্ডিয়ার ১ নম্বর বোলার।

সুতরাং 'ধীমান ব্যাট হাতে দুধভাত' এই মিথের আসলে কোনো বেইল নাই। বরং এই মিথের হাত ধরে বাংলাদেশ দল উইকেট কিপিংয়ের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে উন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সমীকরণটা ঠিক মুশফিক ভার্সেস ধীমান না। একজন উইকেট কীপার খেললেই আরেকজনের জন্য দরজা বন্ধ, এমনও না। শ্রীলংকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড বা ইন্ডিয়ায় প্লেইং ইলেভেন-এ উইকেট কীপিং করা একাধিক খেলোয়াড় খেলে। মুশফিকের বর্তমান ফর্মে বাংলাদেশ দলে সে ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলতে পারে। কিন্তু ভালো উইকেট কীপার দরকার। ধীমানকে দলে নিলে উইকেট কিপিং শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। সাথে ব্যাটিংও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নাই; বরং ব্যাটিংয়েও দল শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যখন উইকেট থ্রো করার প্রতিযোগিতায় নামে, মুশফিকের হাত গলে ড্রপ ক্যাচের প্রতিপক্ষ যখন সেঞ্চুরি করে, তখন পরিবর্তনের দরকার অবশ্যই আছে। ধীমান হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নেয়া এরকম একটা পরিবর্তন।


মন্তব্য

আসিফ ইকরাম এর ছবি

অছ্যুৎ বলাই (অতিথি)! !

ধীমান ঘোষের সমস্যাটা মনে হয় আইসিএল এ খেলতে যাওয়া এবং যাওয়ার পর বড় বড় কিছু কথা বলা।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আইসিএলে যাওয়ার পেছনেও কারণ হিসেবে ব্যাড ম্যানেজমেন্ট থাকতে পারে।
আইসিএল ভালো কি খারাপ, তখনকার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ ভালো কি খারাপ, তারচেয়ে বড়ো কথা আইসিএলে খেলা খেলোয়াড়দের দলে নেয়ার জন্য কোন নিয়মাকানুনের বাধাও নাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চমৎকার অ্যানালাইসিস। আপনার খেলারা অ্যানালাইসিস বরাবরই ভাল পাই।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। মুশি সেকেন্ড ইনিংসেও ক্যাচ ড্রপ করেছে। মন খারাপ

দুর্বল দলের ক্যাপ্টেন্সি এমনিতেই অনেক চাপ। এরপরে এরকম ক্রিটিক্যাল মিসের প্রভাব তার ব্যাটিংয়ের ওপরেও পড়তে পারে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

দলে একজন বিকল্প উইকেট কিপারেরওতো প্রয়োজন। অবশ্যই সুযোগ দিয়ে দেখা যেতে পারে।

আমাদের নির্বাচকেরাতো আশরাফুল, রকিবুল চক্র থেকে বেরোতেই পারছেন না।

বাংলাদেশ-ওয়েষ্টইন্ডিজ টেষ্ট দেখছি আর ভাবছি বৃষ্টিকে পারমানেন্টলি দলে ইনক্লুড করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণধর্মী লেখাটার জন্য ধন্যবাদ।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশে উইকেট কীপারদের অনেকেই ভালো ব্যাটসম্যান। জহিরুল কয়েক ম্যাচ খেলে লাইমলাইটে এসেছিলো, পরীক্ষার জন্য দলের বাইরে যাওয়ায় এখন আবার আলোচনায় নাই। আনামুল, সাগীর, শাহিন আর কে কে যেন ভালো ব্যাটসম্যান আছে উইকেট কীপারদের মধ্যে।

আমাদের নির্বাচকেরাতো আশরাফুল, রকিবুল চক্র থেকে বেরোতেই পারছেন না।

নির্বাচকদের চক্র থেকে বের করতে পারতো সাংবাদিকেরা। কিন্তু তারাই চক্রের ভিতরে আছে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধুসর গোধূলি এর ছবি
নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আমারও একই প্রশ্ন!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

অতিথি সেবা করে পূণ্য অর্জনের সুযোগ দিলাম। চোখ টিপি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আপনার বিশ্লেষনটা ভালো লাগলো। আমার মতে, দুজন উইকেটকিপার নেয়া যেতেই পারে। মনে পড়ে, একবার গিলক্রিস্টকে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে দেখেছি। আবার মঈন খান এবং রশিদ লতিফকে এক সাথে খেলতে দেখেছি। চেষ্টা করতে দোষের কিছু নেই। তাছাড়া আমাদের বিকল্প উইকেট কিপার নেই। মুশফিক আহত হলে কী হবে? একজন ভাল বিকল্প থাকাটাও জরুরী। আর মুশফিকের ব্যাটিং ফর্ম বিবেচনয়া সে আশরাফুলের আগে দলে ঢোকার যোগ্যতা রাখে। তাই তাকে ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে রেখে ধীমানকে উইকেট কিপার করা সুবিবেচকের কাজ হবে বলে মনে করি।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ধন্যবাদ, নিয়াজ ভাই।
ব্যাটিং, বোলিং, কিপিং সব পজিশনেই আমার স্পেশলিস্ট পছন্দ। অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব আর নাসিরই যথেষ্ট। এছাড়া এমনকি শফি, রুবেল, রাজ্জাকের মতো বোলাররাও ব্যাট করতে পারে। ধীমান যদি কিপিংটা ভালো করতে পারে, তাইলে তার ব্যাটিং কোনো ব্যাপার না।

আশরাফুলের দলে বাংলাদেশের প্রায় পুরো টপ অর্ডারই আছে। ইমরুল, রক, নাইম - প্রত্যেক পজিশনেই আরো ভালো ব্যাটসম্যান দরকার। এদের ৩ জনেরই সামর্থ্য সীমিত এবং পরীক্ষিত। উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখি না। সাকিব-নাসির ৫/৬, তামিম ১, রহিম ৪, ধীমান ৭, রিয়াদ ৮, ৯/১০/১১ বোলাররা, সাথে ২ আর ৩-এ ভালো ব্যাটসম্যান পেলে মোটামুটি শক্ত একটা দল হবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আপনার সাথে সহমত। আমাদের নির্বাচকদের মধ্যে একটা মানসিকতা কাজ করে - যদি কোন ভাবে ব্যাটসম্যান বাড়ানো যায়! গণ হারে সবাইকে আমরা অলরাউন্ডার বানিয়ে ফেলি এবং স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান/বোলার/উইকেটকিপার দের উপেক্ষা করি। এই রোগের কারণে একবার ১০ নাম্বার পর্যন্ত ব্যাটসম্যান দেখেছিলাম (সম্ভবত কাপালী ছিল ১০ম)। ৯-১০-১১ স্পেশালিস্ট বোলার এবং একজন স্পেশালিস্ট উইকেটকিপার রাখার পরও ৭ জন ব্যাটসম্যান (অলরাউন্ডার সহ) খেলানো যায়। কিন্তু কে শুনবে কার কথা? যেই নির্বাচকের আসনে বসেন, তিনিই তখন "আমার থেকে ভালো কেউ বোঝে না"-তে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ...দেখি আগামীতে কী হয়।

জ.ই মানিক এর ছবি

একমত।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ধন্যবাদ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কল্যাণF এর ছবি

বিশ্লেষণ ভালু হয়েছে। এইরকম বা এর কাছাকাছি উইকেটকীপার সহ আরো নানা রকম বিকল্প থাকতে পারে। আমাদের খেলার যে আউটপুট তাতে ভাল মত এক্সপেরিমেন্ট করার উপযুক্ত সময়টা মনে হয় এখুনি।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ধন্যবাদ। পরিবর্তন ছাড়া পরিবর্ধন হবে না। হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

চলুক চলুক

বলতে নেই, মুশিকে এতো দিন আমিও অটো চয়েস ভেবে এসেছি তার ব্যাটিং সবলতার কারণেই। ধীমান প্রসঙ্গে আমার কোন উচ্চ ধারণা ছিলো না, তবে আপনার দেয়া পরিসংখ্যান একটু ভাবতে বাধ্য করছে।

মুশিকে পুরোদস্তুর ব্যাটার হিসেবে নিয়ে ধীমানকে নেয়া যেতো হয়তো কীপার হিসেবে। কিন্তু আইসিএল প্রসঙ্গে তার কিছু উগ্র মন্তব্য ছিলো- নেপথ্যের কারণ হিসেবে এটাই মনে হয় আমার।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সুহান, ধন্যবাদ।

ধীমান মিডিয়ার ফোকাসে আসে না। এটাই সমস্যা।

আইসিএলে যাওয়ার আগে থেকেই ধীমান অপাঙ্ক্তেয়। আমার দৃষ্টিতে আইসিএলকে ক্রিকেটের স্বার্থে ব্যান করা হয় নি; বরং বিসিসিআইয়ের ব্যাবসায় রক্ষার জন্যই ক্রিকেটের প্রসারে ভূমিকা রাখা আইসিএলকে ব্যান করা হয়। বিসিবি ছিলো বিসিসিআইয়ের হাতের পুতুল। কিন্তু এখন অন্তত নিয়মানুসারেই আইসিএলে খেলা কারো বিপক্ষে সেই অজুহাত দেখিয়ে দলে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। উগ্র মন্তব্য অনেকেই অনেকবার করেছে। উগ্র মন্তব্য কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গ করলে তার শাস্তি দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থের, সেখানে একজন খেলোয়াড়ের দলে নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখে লাভ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত সে একাই হচ্ছে না, দলও হচ্ছে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

মর্ম এর ছবি

লেখা বেশ ভাল লাগল। গোছানো এবং যুক্তিযুক্ত। আসলেই অবাক লাগে যে, মুশফিকের ক্যাচ বা স্ট্যাম্পিং মিস এখন মোটামোটি এতই স্বতসিদ্ধ হয়ে গেছে যে এ নিয়ে তেমন কথাবার্তাও আর হয় না, সবাই মেনেই নিয়েছে!

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মুশফিকের ক্যাচ বা স্ট্যাম্পিং মিস এখন মোটামোটি এতই স্বতসিদ্ধ হয়ে গেছে যে এ নিয়ে তেমন কথাবার্তাও আর হয় না, সবাই মেনেই নিয়েছে!

সত্যকথা। মন খারাপ

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

দ্বৈতসত্তা এর ছবি

এই মুহূর্তে নাঈমকে তিনে খেলানোর পক্ষে আমি।
1.তামিম
2. ?
3.নাঈম
4.মুশফিক
5.সাকিব
6.রিয়াদ
7.নাসির
8.ধীমান
9.সানি
10.রুবেল
11. ?

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সামর্থ্য অনুসারে খেলা দরকার। নাইম লীগে কোন পজিশনে ব্যাট করে? ৩ এ অভিজ্ঞতা থাকলে সাময়িক চেষ্টা করে দেখা যায়।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধুসর গোধূলি এর ছবি

দ্বৈতসত্তা, আপনার তালিকার ২ নম্বর আর ১১ নম্বর পজিশনে খেলোয়াড় নেয়া হবে আলু পেপারের স্পোর্টস ডেস্ক থেকে। এরপর দেখি কোন চান্দু বাংলাদেশের লগে হাদুমপাদুম করার সাহস পায়!

কল্যাণF এর ছবি

প্যাট চাইপ্যা গড়াগড়ি দিয়া হাসির ইমো

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ইদানিং সময়াভাবে তেমনভাবে খেলা ফলো করতে পারছিনা তবে ধীমানের নাম তো বেশ শুনেছি। আর আপনি ধীমানের ব্যাটিঙের যে পরিসংখ্যান দিলেন, তাতে করে ধীমানকে এক্কেবারে খারিজ করে দেওয়ার মতো ব্যাটসম্যানও মনে হলোনা।

আমার ঠিক মনে পড়ছেনা জাহাঙ্গীরের পরে জাতীয় দলে আর ভালো উইকেটকীপার-ব্যাটসম্যান তেমন কেউ এসেছে কিনা! সমস্য তো নেই, একসময় তো দলে জাহাঙ্গীর আর নাশু, দুজনেই একসাথে খেলতো। ব্যাটিঙের বিবেচনায় মুশুকে ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে রেখে ধীমানকে তার কিপিং দক্ষতার ভিত্তিতে দলে রাখায় আদৌ কোনও সমস্যা আছে বলে তো মনে করি না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমার দেখা বাংলাদেশের সেরা কীপার নিঃসন্দেহে পাইলট। ব্যাটসম্যান হিসেবেও সে ভালো ছিলো। যতোদূর মনে পড়ে, আবাহনীতে ওপেনিং করতো। জাতীয় দলে একটা দীর্ঘ সময় তার কাজ ছিলো ৫০ রানে ৫ উইকেট পড়ার পরে স্ট্যাটাস বাঁচানো ইনিংস খেলা। ঢাকায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের জয়ের (বিশ্বকাপ না) ম্যাচের আগে হারা অবস্থা থেকে সে প্রায় জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেছিলো। পরের ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে, সেখানেও তার ভূমিকা অনেক। তাকে যখন বাদ দেয়া হয়, তার আগের ২ বছর তার ওয়ানডে গড় ছিলো ৪০ এর কাছাকাছি। তখন বলা হয়েছিলো, সে ব্যাট করতে জানে না!

জাহাঙ্গীর আর নাসু উনাদের খেলা দেখি নাই। আমি সেমি ডিজ্যুস আমলের লোক। চোখ টিপি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাফি এর ছবি

ধীমান ঘোষ ব্যাটিং এ খারাপ এমনটা আগে শুনিনাই। আই সি এল ফেরত আসার পর থেকে বরং মুশফিকের কারণে সে দলে থাকতে পারেনি এমনটাই শুনেছি। প্রিমিয়ার লীগ নিয়মিত ফলো করার সময় থেকেই পাইলটের বদলি হিসেবে অন্যতম দাবীদার ধীমান এমনটাই ধারণা করতাম।

এই লেখাটা যদিও ধীমানের ব্যাটিং বিষয়ক, কনক্লুশন টানা হয়েছে এই বলে -

ধীমানকে দলে নিলে উইকেট কিপিং শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি

এই উপসংহার টানার আগে আমি ধীমানের উইকেট কিপিং সামর্থ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হতাম। লেখায় আশা করেছিলাম সেরকম কিছুও থাকবে। অবশ্য আমাদের ব্যাটিং এর যেই অবস্থা তাতে পারলে ১-১১ পর্যন্তই মোটামুটি ব্যাট করতে পারে এমন খেলোয়াড়কে ঢুকিয়ে দেয়। পাইলটের স্থলে মুশফিকের অন্তর্ভুক্তির সময়েও তার ব্যাটিং সামর্থই প্রধান যোগ্যতা ছিল কিপিং যোগ্যতা না - সেই হিসেবে এখন আসলে স্পেশালিস্ট কিপার খেলানোর চিন্তা করা যেতে পারে।

ধীমান, জহুরুল, আনামুলরা ব্যাটিং এর কারণেই বার বার পত্রিকায় আসছে মুশফিকের বিকল্প হিসেবে। কিন্তু কোথাও কিপার হিসেবে তাদের নিয়ে আলোচনা দেখিনাই। জহুরুলের এই মূহুর্তে ফর্ম নাই, তবে বাকি দু'জন নিয়মিতই রান পাচ্ছে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই উপসংহার টানার আগে আমি ধীমানের উইকেট কিপিং সামর্থ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হতাম। লেখায় আশা করেছিলাম সেরকম কিছুও থাকবে।

কিপিংয়ের পরিসংখ্যানের সমস্যা হলো, কীপারের ক্যাচ বা স্ট্যাম্পিং নির্ভর করে বোলার ও বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানের ওপর। আবার ক্যাচ বা স্ট্যাম্পিং মিসের রেকর্ডও অনলাইনে কোথাও দেখি নাই। অনলাইন স্ট্রিমই আমার ক্রিকেট দেখার একমাত্র উপায়। ধীমানের খেলা দেখার সুযোগ হয়েছে আইসিএল আর কয়েকটা ওডিআই-এ। এই স্বল্প দেখামতে, তার ক্যাচ মিসের হার অনেক কম। স্ট্যাম্পিংয়ের টাইমিংও অনেক ভালো মনে হয়েছে।

আমি যতোটা আলোচনা-সমালোচনা দেখেছি, তাতে ধীমান 'কিপিং-এ ভালো' - এটা মোটামুটিভাবে স্বীকৃত একটা বিষয়। তাকে বাতিল করা হয় ব্যাটিংয়ের কারণে। অন্যদিকে অধিকাংশেরই ধারণা, মুশি মানেই ব্যাটিং এ রাজা। (পাইলটকে বাতিল করার সময়ও একই অজুহাত দেখানো হয়েছিলো, যেমনটা আপনিও বলেছেন।) এজন্য ধীমানের ব্যাটিংয়ের পরিসংখ্যানে ফোকাস করেছি।

ধীমানের ব্যাটিং ভালো বলে স্বীকৃত হলে কেউ নিয়মিত ক্যাচ মিস করা মুশফিককে ছাড়পত্র দিতো না। মুশির ক্যাচ মিস করা কোনো নিউজ না, এটা মোটামুটিভাবে 'হবারই কথা, তাই হইছে' টাইপ জিনিস। বাকি কীপাররা আলোচনায় আসার কারণ তাদের ব্যাটিং - এটা একদম ঠিক কথা। কারণ, ব্যাটিংয়ের কারণে মুশির বিকল্প নাই - এমন ধারণা এমন শক্ত হয়ে বসেছে যে, বাকি উইকেট কীপারদের কেউ ব্যাটিংয়ে ভালো করলেই লোকজনের সাময়িক টনক নড়ে "এই তো আরেকজন ব্যাট করা কীপার আছে!"

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাফি এর ছবি

শুরুর দিকে মুশির অন্তর্ভুক্তিতে মনে হয় বগুড়া ফ্যাক্টর আরেকটা বিষয় ছিল। সেই আমলে লবির খুল্না (জামাল বাবু) আর বগুড়ার মুশফিককে ঢুকানোর ভালই চেষ্টা চলেছিল মনে পড়ে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

খুবই স্বাভাবিক। আমার অবশ্য মাঠের বাইরের পলিটিক্স সম্পর্কে ধারণা নাই। কিন্তু পাইলটকে বাদ দিয়ে মুশিকে দলে ঢোকানোর স্টাইলেই বলে পেছনে কিছু আছে।

আপনার মন্তব্যের পরে কিপিং পরিসংখ্যানে একটু চোখ বুলালাম।
মুশির ফার্স্টক্লাস ম্যাচে (টেস্টসহ) ৯১ ইনিংসে ৮৩ ক্যাচ, ১৩ স্ট্যাম্পিং। ইনিংস প্রতি ১,০৫
টেস্ট ম‌্যাচ বাদ দিলে থাকে ৪২ ইনিংসে ৫৩ ডিসমিসাল, অর্থাৎ ইনিংস প্রতি ১,২৬

ধীমানের ক্ষেত্রে এটা ৯৯ ইনিংসে ১৩৪ ক্যাচ, ১৯ স্ট্যাম্পিং, অর্থাৎ প্রতি ইনিংসে ১,৫৫

পাইলটের ক্ষেত্রে (টেস্ট বাদে) ইনিংসে ১,০৬।

এই পরিসংখ্যানেও ধীমান এগিয়ে, যদিও এতে কয়েকটা জিনিস দেখা যায় না। যেমন, অনেক সময়ই এসব ম্যাচে এরা উইকেট কিপিং করে নাই। পাইলট এখন প্রায়ই শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে, কোনো এক ম্যাচে মনে হয় দেখেছিলাম ধীমান আর মুশি একই দলে! অর্থাৎ একজন কীপার, আরেকজন শুধু ব্যাটসম্যান। আর দলের শক্তির ওপরেও উইকেট কীপারের পরিসংখ্যান নির্ভর করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনফর্মেশনই এখানে মিসিং, তাহলো ড্রপড চান্সের সংখ্যা।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাফি এর ছবি

আসলেই ড্রপড চান্সের সংখ্যা পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব। একমাত্র স্টুয়ার্ট ল এর ফিডব্যাকেই এখন মুশির জায়গায় স্পেশালিস্ট কীপার আসতে পারে। সেক্ষেত্রে কিপিং সামর্থ এর বিবেচনায় ধীমান এর সাথে অন্যান্য উইকেট কীপারদের ও বিবেচনা করা হবে আশা করব। তবে এই মূহুর্তে অন্তত পাকিস্তান সিরিজের আগে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছিনা।

টপ অর্ডারে বাংলার ফ্লিন্টফের জায়গায় আসলে মুশফিক ভালভাবেই খেঅল্তে পারবে, তাহলে সাকিবও ৫ এ খেলতে পারবে। দলে একটা আতাহার/ম্যাকমিলান/ওয়াটসন মার্কা পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুবই দরকার। মাশরাফির ব্যাটিং এ আরো মনোযোগ দিয়ে তাকে দলে নিতে পারলে সবচেয়ে ভাল হত।

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ল রমেশ কালুভিতারানার কথা। বিধ্বংসী ব্যাটিং করতে পারত সে, কিন্তু কিপিং সামর্থের কারণেই পরে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

সোহেল আনাম এর ছবি

আলু পত্রিকার উৎপল শুভ্র যেমন তার ব্যক্তিগত প্রিয় ও অপ্রিয় ক্রিকেটারদের পক্ষে ও বিপক্ষে লেখার সময় তার লক্ষ্যপূরণের জন্য উপযুক্ত তথ্য-পরিসংখ্যানই শুধু উপস্থাপন করে, তার সাথে আপনার এই রচনা ও ক্রিকেট বিষয়ে নানান সময়ে আপনার করা অধিকাংশ মন্তব্যের বিশেষ ফারাক লক্ষ্য করা যায় না। সচলায়তনকে আলু পত্রিকার সাথে তুলনার প্রশ্নই আসে না, তবে আপনাকে সচলায়তনের উৎপল শুভ্র বলাই যায়। আপনার লেখা পড়লেও আপনি উৎপলের মতোই সব জানেন এবং বোঝেন বলে মনে হয়।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমি তো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ না, ক্রিকেট দর্শক। দর্শকের চোখ দিয়ে যা দেখি, সেটা লিখি। কোথায় ভুল সেটা না বললে বুঝবো কিভাবে? আপনিই বলেন, এই পোস্টের কোথায় কোথায় ভুল আছে। শুধরে নেই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

বাপ্পীহায়াত () এর ছবি

কস্কি মমিন!

বাপ্পীহায়াত () এর ছবি

১। অস্ট্রেলিয়া: ইয়ান হিলি (কিপার) + মাইকেল স্ল্যাটার (ওপেনার) =[রিপ্লেসড] অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (ওপেনার + কিপার)

২। বাংলাদেশ: খালেদ মাসুদ পাইলট (কিপার + ব্যাটসম্যান) = [রিপ্লেসড] মুশফিকুর রহিম (ব্যাটসম্যান) + মেহরাব জুনিয়র (ব্যাটসম্যান)

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

হে হে, জটিল সমীকরণ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ইশতিয়াক  এর ছবি

চমৎকার বিশ্লেষণ।

বর্তমানে ক্রিকেট দুনিয়াতে উইকেটকিপারের সামর্থ্যকে মাপা হয় ব্যাট করার ক্ষমতা দিয়ে। কথাটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য।

অতীতের কথা অবশ্য আলাদা। নট, মার্স, বারি, টেলর, কিরমানি, হিলি এরা প্রথমে ভাল কিপার ছিলেন। গিলি এসে সবকিছু পালটে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় আবির্ভাব ধোনীর; কিন্তু কিপিং হয়েছে গরীব।

শ্রীলঙ্কার প্রসন্ন ছাড়া বাকি সব দেশের কিপারকে মনে হয় ball stopper. পাকিদের কামরান, ভারতের পার্থিব আমার দেখা দুই জঘন্য কিপার। ২০০৪ এ পার্থিব জায়গা হারায়, কিন্তু কামরান পাকিদের কামড়ে ধরেছিল ২০১০ পর্যন্ত। তার ভাই আদনানের অবস্থাও খুব ভাল নয়। আমার দেখা সর্বশেষ দুই ভাল কিপার দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভ রিচারডসন ও ভারতের মঙ্গিয়া।

একমত ধীমানকে এনে ভাল কিপিঙের এর মূল্যায়ন দেয়া উচিত; রহিম নাহয় শুধু ব্যাট হাতেই থাকুক।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ধন্যবাদ।

গিলক্রিস্ট, ধোনি, সাঙ্গাকারা, ম্যাককালাম, বাউচার - এরা কীপার হিসেবেও যথেষ্ট ভালো।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

দ্রোহী এর ছবি

ধীমান, মুশফিক, গিলক্রিস্ট, হিলি যাকেই নেয়া হোক না কেন বাংলাদেশ বাংলাদেশই থেকে যাবে।

এই চুদির ভাইদের খেলা দেখা মানে সময় নষ্ট। আমারেও জুতা মারা উচিত নির্লজ্জের মত এই চুদির ভাইদের খেলা দেখতে বসার জন্য।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশী টাচ তো খেলায় থাকবেই। তারপরেও বাংলাদেশ একটা টেস্ট দল, দলের সামর্থ্যও বাড়ছে, সামর্থ্যের প্রয়োগটা আরেকটু বাড়ানো দরকার।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

অ:ট: বাংলাদেশের বোলিং বিশ্লেষণে যা দেখা যায় তাতে রাজ্জাককে দলে না রাখার বিষয়ে আপনার অভিমত কি ? সানিতো অসুস্থতার কারনে দলের বাইরে। সেক্ষেত্রে শুভর থেকে রাজ্জাক কি অগ্রগণ্য ছিলনা , তাঁর বিগত পারফরমেন্সের কারনে।

সাফি এর ছবি

রাজ্জাক টেস্টে ডিফেন্সিভ বোলিং করে, রান বাঁচাতে চায়। টেস্ট ম্যাচে উইকেট এটাক করা প্রয়োজন।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমার মতে, রাজ্জাক ওডিআইয়ের জন্য ভালো বোলার। টেস্টে রাজ্জাক আর শুভ একই ধরনের বোলার, টার্ন নাই। রান ঠেকাতে পারবে; কিন্তু ব্যাটসম্যান উইকেট থ্রো না করলে আউট করা কঠিন। এনামুল হক জুনিয়রকে আমার পছন্দ ছিলো, কিন্তু সে অনেকদিনই আলোচনার বাইরে, বর্তমানে কেমন খেলে ধারণা নাই। বলে কন্ট্রোল আছে আবার টার্নও করাতে পারে, এরকম একটা বোলার আমাদের থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ঢাকার মাঠেই নাকানিচুবানি খেতো।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

pial এর ছবি

প্রথম আলো কিন্তু ধীমান কে নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রিপোর্ট করেছে.

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-10-07/news/154947

http://eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-09-14#

টেস্ট খেলা শুরু করার পরের বছর গুলতে অনেক খেলোয়াড়কে টেস্ট ক্যাপ দিয়ে তখনকার নির্বাচকরা সমালোচিত হয়েছিলেন। তাই গত কয়েকবছর ধরে দলে পরিবর্তন অথবা নতুন খেলোয়াড়দের অভিষেকের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরে চল নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এত বিশাল পার্থক্য যে জাতীয় ক্রিকেট বা প্রিমিয়ার লীগে ভালো খেলাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করার নিশ্চয়তা দেয়না।

আজকে জুনায়েদ, রকিবুল, ইমরুলদের (এমনকি মুশফিক) বদলে যাদের নেয়ার কথা হচ্ছে, ৩/৪ বছর আগে জুনায়েদ, রকিবুল, ইমরুলরা ঠিক একইভাবে দলে এসেছিল । নাসির, শুভাগত, সানিরা দলে জায়গা পাকা করার জন্য এখন যতোটা নিবেদিত, আরও ২/৩ জন নতুন ছেলে আসলে এরাই হয়ে যাবে ‘সিনিয়র’। যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও দলের মূল দায়িত্ব চলে আসবে এদের উপরই। তখন চাপের মুখে টপ অর্ডারে সফল হলেই আজকের ব্যার্থদের সাথে তাদের তুলনা করা সম্ভব। অথচ আশা করা হয়েছিল এতদিনে জুনায়েদ, রকিবুল, ইমরুলরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে খেলতে নিজেদের আরও পরিণত হবেন। এই ফর্মুলায় অতীতে নান্নু আকরাম বদলে রোকন-অপি, তারপর বুলবুলের বদলে আশরাফুলকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। মাঝখানে হটাত হটাত হান্নান, তুষার, আফতাব, রাজিনরা এনামুলরা দলে এসেছে, বেশীদিন টিকতে পারেনি। জাতীয় দল হয়েছে মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা ।

সমাধান একটাই, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়ানো। আশরাফুল কয়টা গোল্লা মারল আর মুশি কোন লোপ্পা ক্যাচ ফেললো এটার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হছে দেশের ৯৯.৯% ক্রিকেটাররা কেমন উইকেটে খেলছে, স্কুল পর্যায়ে ৩ দিনের ম্যাচ হচছে কিনা এসব বিষয়। সচলে অনেক ক্রিকেট জ্ঞানী আছেন, বুঝিনা তারাও কেন বিসিবির মত কেবলমাত্র জাতীয় দলকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট বলে ভাবেন ।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ধীমানের সাক্ষাৎকারের লিংকটা কাজের। লীগের সেরা উইকেট কীপার হওয়ার বিষয়টা ওই সাক্ষাৎকারে আছে। রান সংগ্রহে ২য় স্থানে থাকাটাও এই পরিসংখ্যানে তথ্য যোগ করে। ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নের ব্যাপারেও আপনার সাথে পুরা একমত।

আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এত বিশাল পার্থক্য যে জাতীয় ক্রিকেট বা প্রিমিয়ার লীগে ভালো খেলাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করার নিশ্চয়তা দেয়না।

এটা বাস্তব। এজন্য জাতীয় দলে কেউ খেলা শুরু করলে তাকে যথেষ্ট পরিমাণ সুযোগ দেয়া দরকার ওই লেভেলে অ্যাডাপ্ট করার। যে করতে পারবে, সে টিকে থাকবে, যে পারবে না, তার বিকল্প খুঁজতে হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সুযোগের সংখ্যা, একজন খেলোয়াড় কতগুলো ম্যাচ খেললে তার সামর্থ্য বুঝা যাবে। আশরাফুল, কায়েস, রকির ব্যাটিং বা মুশির কিপিং সামর্থ্য প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক ম্যাচ তারা খেলেছে অনেক আগেই। এজন্য ধীরে চলো নীতি হলেও বিকল্প দরকার। ভাঙ্গাচোরা হোক আর যা-ই হোক, ঘরোয়া লীগে যে অপেক্ষাকৃত ভালো করে, ঘরোয়া লীগে অপেক্ষাকৃত খারাপ করা কারো চেয়ে জাতীয় দলে নতুন অন্তর্ভূক্তি হিসেবে তারই আগে আসা উচিত। জাতীয় দলে পারফর্ম করতে পারলে টিকবে, না করতে পারলে আবার বিকল্পের খোঁজ করতে হবে। এভাবেই সাকিব বা তামিম পাওয়া যাবে, আশরাফুলই শেষ কথা হলে নতুন খেলোয়াড়ই আসবে না। আশরাফুল পারে নাই বলে অন্য কেউ পারবে না - এরকমটা আগে থেকে ধরে নিলে দলের উন্নতি হবে না।

আশরাফুল কয়টা গোল্লা মারল আর মুশি কোন লোপ্পা ক্যাচ ফেললো এটার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হছে দেশের ৯৯.৯% ক্রিকেটাররা কেমন উইকেটে খেলছে, স্কুল পর্যায়ে ৩ দিনের ম্যাচ হচছে কিনা এসব বিষয়।

ঘরোয়া ক্রিকেট আর জাতীয় দল সম্পর্কহীন বিষয় না। দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের পারফর্ম্যান্স ক্রিকেটের বাজেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস হারালে বিরাট আর্থিক ক্ষতি। তখন ক্রিকেটের জন্য টাকাই পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেট ভালো খেলোয়াড় তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আমার অ্যাক্সেস নাই। তাই অনলাইন স্ট্রিমে প্রাপ্ত জাতীয় দলই বেশি আসে আলোচনায়। হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাফি এর ছবি

পিয়াল, আপনার মন্তব্য পছন্দ হয়েছে। জুনায়েদ, ইমরুল এবং রকিবুল তিনজনাই ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর রান করার পরে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও, তাদের জন্য ঘরোয়া লীগ আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্যটা অনেক বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং এই মূহুর্তে তেমন ভাল ফর্মেও নেই। ফর্মে না থাকলে যেটা করা হয়, সুযোগ দেওয়া - সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে যথেষ্ঠই মনে হয়। তাই এখন আপাতত তাদের দলের বাইরে রেখে বাকিদের সুযোগ দেওয়াটাও জরুরী। খেলার মাঝে আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খারাপ করতে থাকলে সেই আত্মবিশ্বাস তলানিতে যেয়ে ঠেকে। সুতরাং এখন যদি তারা আবার ঘরোয়া লীগে নিয়মিত রান করে দলে ফেরে, সেটা দলের জন্যই ভাল।

ইমরুল যেমন ২০১০ এ ৫ম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিল, আমরা চাইবো সেই ইমরুলকেই দলে চাইতে। আমার মনে হয়না এই লেখায় কোথাও বলা হয়েছে একেবারে বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা, দলে যাওয়া আসা এটা পার্ট অব ক্রিকেট আর বাংলাদেশের মতন দল যেটা এখনও পুরোপুরি তৈরী হয়নি, সেখানে রদবদল একটু বেশী হবে এইটাই স্বাভাবিক - until you find the right balance.

jisan saiful এর ছবি

সহমত। নির্বাচকেরা আপনার এই লেখাটা পড়লে খুশি হতাম। তারা দল নিয়ে ঠিক কতটুকু চিন্তাভাবনা করে, বুঝিনা। মিডিয়াও এত্ত এত্ত ক্যাচ-মিস করা নিয়ে কিছু লিখেনা!!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই পোস্ট লেখার পরের ৫ ম্যাচে ধীমানের স্কোর:

১। ১৫, ৩০: দলের স্কোর যথাক্রমে ১৩৮ ও ১১২।

২। ৭২: দল ৪০৭

৩। ৬১*, ১১: দল ১৩১, ২২৩

৪। ৪, ৭৯: দল ৩৫৪, ১৯৩

৫। ৪, ১৮৩: দল ১২২, >৫০০।

৯ ইনিংসে ১টা প্রায় ডাবল সেঞ্চুরি, ৩টা ফিফটি। অনেকগুলো ম্যাচই লো স্কোরিং। নির্বাচকদের কাছে ধীমান এখনো ব্যাট করতে পারে না।

মুশির বাটার ফিঙ্গার গতকাল ম্যাচে পাকিস্তানকে ফিরতে সাহায্য করেছে। শুরুতে টপাটপ উইকেট পড়ার পরেও বাই এর পরে বাই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে নাই, উলটো বোলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ৩ ইনিংসে ২ ডাকসহ ১১ রান করা মুশির ব্যাটিং প্রতিভার জন্য তাকে উইকেট কীপার হিসেবে খেলাতেই হবে এবং এভাবে বাই এর সুযোগ দিতে হবে। মাত্র ৩ বলের বাই রান (১২) যদিও মুশির সিরিজের মোট সংগ্রহের চাইতে বেশি!

তবে টেস্ট দলে ফিরেছে আশরাফুল!

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধুসর গোধূলি এর ছবি

তবে টেস্ট দলে ফিরেছে আশরাফুল!

হ। এইবার দেখা যাক বাংলাদেশ দলের হার ঠেকায় কোন আবুল!

guest_writer এর ছবি

হায় রে ধীমান। কেন যে বিদ্রোহী লিগে খেলতে গেল।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।