মুক্তিরা কবে আসবে!

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি
লিখেছেন পান্থ রহমান রেজা (তারিখ: মঙ্গল, ২১/০৪/২০০৯ - ৬:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শহরের বাস থেকে যখন সূবর্ণসাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামলেন রইস মিয়া তখন দুপুর গড়িয়ে গেছে। দুপুর গড়ালে কী হয়, গাছের ছায়ারা একটু গলা বাড়িয়ে দীর্ঘ হয়। পশ্চিম থেকে পুবে তেরছা ভাবে হেলে পড়ে। দশহাত লম্বা গাছও চোখ বুঝে তের হাত হয়। আর রইস মিয়ার ক্ষিদাটা আরো একটু বেড়ে পেটের ভেতর মোচড় কাটে। মোচড় কাটারই কথা। রইস মিয়া ধনদৌলতে ধনী নন। আবার দরিদ্র্যসীমার নিচে যে তাও নন। মোটামুটিভাবে খেয়ে পড়ে দিনকাল ভালোই চলে যায়। তাই কোনোদিন তাকে ক্ষিদের কষ্ট সহ্য করতে হয়নি। দুপুরের খাবার দুপুরেই খেয়ে আসছেন। আর তাই শহরের বাস থেকে নেমেই ক্ষিদের মোচড়টা আরো একটু বেশি অনুভব করলেন।

আমি আপনি হলে হয়তো বলতাম, ধুর! একবেলা না খেলে কী হয়! তবে রইস মিয়ার ক্ষেত্রে তেমনটি বলতে পারছি না, যেখানে আমরা জানি, রইস মিয়া গেল শ্রাবণ মাসে পঞ্চাশ পার করেছেন। এও জানি, তার ছোটো মেয়েটা বেলকুচি কলেজে ডিগ্রিতে পড়ে। বড় মেয়ের ঘরে নাইমা নামে তিন বছরের একটা নাতনিও আছে। কাজেই এই বয়সে ক্ষিদাটা সহ্য না হওয়ারই কথা। তা না হোক। কিন্তু প্রতিবার শহরের আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তাকে এই কষ্টটুকু সহ্য করতে হয়। আদালতে হাজিরা দেয়ার কথা মনে হতেই তার মেজাজ আরেকবার খারাপ হয়ে গেল। মনে মনে আরেকবার বললেন, “আল্লা, আমার পরিবারের আর কেউ যেন কোনোদিন মামলার ঝামেলায় না পড়ে।”

বাস থেকে নেমে রইস মিয়া একবার এদিক-ওদিক তাকালেন। নাহ্, পরিচিত কোনো রিক্সা, ভ্যান চোখে পড়ল না। যে দুটোকে দেখলেন, ওরা কেউ-ই তামাই যাবে না। সোহাগপুর হাটের দিকে যাবে। চৈত্রের কাঠ ফাটা রোদ। বাতাসও তেমন একটা নেই। মাথার চান্দি গরম হয়ে যাচ্ছে। এই গরমে ধানী জমি ফেটে গিয়ে হাঁ করে আকাশে দিকে তাকিয়ে থাকে। রইস মিয়াও কিছুক্ষণ রিক্সা-ভ্যানের জন্য হাঁ করে বসে থাকলেন সূবর্ণসাড়া বাসস্ট্যান্ডে, মমিনের চায়ের দোকানে। মমিন ছেলেটা বেশি কথা কয়। এতো কথা রইস মিয়ার পছন্দ না। তবুও রিক্সা-ভ্যানের আশায় দোকানে বসে মমিনের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়া আলাপ শুনলেন কিছুক্ষণ। সুতার দাম বেল্ট প্রতি ম্যালা টাকা বেড়েছে। এখন তাঁতীদের কি হবে এইসব আলাপ। জোলা হলেও রইস মিয়া কাপড় উৎপাদন করেন না। তাই এ আলাপে তার মন নাই। কিন্তু রিক্সা-ভ্যানের জন্য বসে থাকতে থাকতে মমিনের আলাপে হা-হু করে গেলেন। তবে বসে থাকাটা বেহুদা গ্যালো। কোনো রিক্সা-ভ্যানের দেখা পেলেন না তিনি। কাঠ ফাটা গরমে মনে হয় কেউই রিক্সা ভ্যান নিয়ে বের হয়নি। অগত্যা হেঁটেই রওনা দিলেন বাড়ির দিকে। ক্ষিদাটা তখন আরেকবার পেটের ভেতরে মোচড় দিলো।

রইস মিয়া রওনা দিয়েই একটু ভয় পেলেন। ঠিকই ধরেছেন আপনি, শহরের আদালতে যেহেতু মামলায় হাজিরা দিয়ে এলেন, তাই প্রতিপক্ষের ভয় তার থাকতেই পারে। সবার দুপুরের খাওয়া হয়ে গেছে। এই সময়টা এখন ভাত ঘুম দেয়ার। রাস্তায় তেমন একটা লোকজন নেই। রাস্তার লোকজন খুব একটা না থাকায় রইস মিয়া ভয়টা একটু বেশি পেলেন। বুকে কোথায় যেন ধুকপুকানি বাড়তে থাকলো।

কথায় বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়। রইস মিয়ার রাতটা নেমে এলো মুজাম খাঁর বাড়ির ব্রিজের কাছে। আর দশ মিনিট হাঁটলেই বাড়ি, তাই তার ধুকপুকানি অনেক কমে এসেছিল। মনে হচ্ছিল, এই বুঝি বিপদ কেটে গেল। কিন্তু তিনি যা ভাবছিলেন, ইশ্বর ভেবে রেখেছিল তার উল্টোটা। মুকুল মোল্লার তাঁতঘরের চিপা থেকে বেড়িয়ে এলো মাবুদ’রা।

মাবুদদের দলে লোকের সংখ্যা চার। মাবুদ ছাড়া সবাইকে চেনেন না তিনি। মাবুদের বাপ মন্টু’র সাথে এক সময় তার খাতির ছিল। এক শনিবারে করটিয়া হাট থেকে ফিরবার পথে রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায় সে। তখন মাবুদের বয়স কত, মনে আছে ইংলিশ প্যান্ট পড়ে বাপের খাটিয়ার কাছে বসে ছিল। আর আজ! ঘোর কলিকাল দেখছেন রইস মিয়া! এই মাবুদই কী’না তাকে হাইকোর্ট দেখায়। হাঁ ইশ্বর!

এমনিতেই অন্ধকারের মধ্যে ছিলেন। ঘোর কলিকালে এসে আরো অন্ধকারে পড়লেন। কালাম মুন্সি আগেই মামলা তুলে নিতে বলেছিল, নেন নি রইস মিয়া। এজন্য অনেকভাবে চাপও তৈরি করেছিল সে। সে চাপে ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং লড়াই চালিয়ে যাবেন, এই পণ আরো দৃঢ় হয়েছে। ভেবে রেখেছিলেন এই কালাম মুন্সির প্রসেস মিলের শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। কিন্তু মাবুদ’রা তাকে ঘোর কলিকাল দেখিয়ে দিল। মামলা তুলে না দিলে উম্মে কুলসুমকে তারা তুলে নিয়ে যাবে। আর তুলে না নিতে পারলে এসিড তো আছেই। রইস মিয়া চোখ বন্ধ করে ব্যাপারটা একবার ভাবলেন। দেখলেন, তার ছোট মেয়ে উম্মে কুলসুম কলেজ থেকে এসে রিক্সা করে নামলো, অমনিই...। রইস মিয়ার গা শিউরে উঠলো। পায়ের নিচে মাটি দুলে উঠলো।

দশ মিনিটের পথ রইস মিয়ার কাছে দশ ঘণ্টা হয়ে গেল। আসলে তার পা আর বাড়ির দিকে আগাচ্ছিল না। যেন মুজাম খাঁর বাড়ির পাশের ব্রিজের ইট সুরকিতে আটকে ছিল। কিংবা তার হয়তো এসব কিছুই মনে নেই। পথ বেভুল হয়ে অনির্দিষ্ট পথ ঘুরে তিনি বাড়ি এলেন। বাড়িতে ঢোকার মুখে একবার ঘাড় কাৎ করে দেখলেন কালাম মুন্সির প্রসেস মিল থেকে গল গল করে ধোঁয়া উঠছে। তবে ধোঁয়ার রঙ ধোঁয়াটে নয়, সিঁদুরে লাল। আর এই লালটা যেন তার নিজেই রক্ত। সে কারণেই তাকে এতো ফ্যাকাশে লাগছিল।

শহর থেকে ফিরে বারান্দায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন রইস মিয়া। বাতাস নেই। আছে চৈত্রের ভ্যাপসা গরম। তাই তখনো শরীর বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে। গেটের পাশের বড় আম গাছটা মরে গিয়ে এই গরমটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। আমগাছটা মরে যাওয়ার কথা ছিল না। প্রতিদিন প্রসেস মিলের বিষাক্ত ধোঁয়া গিলে মরে গেছে বেচারা। প্রসেস মিলের বয়লারের ধোঁয়া সরাসরি এসে পড়ে আম গাছের উপর। অনেকবার অনুরোধ করেছেন বয়লারের বাষ্প বেরুবার মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে। কিন্তু কালাম মুন্সি তা কানে তোলেননি। উল্টো থ্রেট দিয়েছেন। থ্রেট পেয়ে রইস মিয়া নিজে চুপ করেছেন, আর আম গাছটা প্রতিদিন বিষাক্ত ধোঁয়ার ঝাপটা নিরবে সহ্য করে গেছে। তারপর পাতা শুকিয়ে ডালপালাগুলো বেশ কিছুকাল ন্যাড়া মাথায় দাঁড়িয়ে থেকেছে। এরপর সমুলে ধসে পড়েছে রইস মিয়ার আঙিনায়। রইস মিয়া শুধু চেয়ে দেখেছেন। গ্রামের মাতব্বরদের বলেছেন একটা সুরাহা করতে। তারা সমাধা দিয়েছেন, কালাম মুন্সির সাথে মিটমাট করে নিতে। আর কালাম মুন্সি মিটমাট বলতে পাঁচ হাজার টাকা পকেটে গুঁজে দেয়া বুঝেছে। রইস মিয়া টাকাটা পকেটে তুলেন নি। কি করে তুলবেন বলেন, যেখানে মায়ের হাতে লাগানো সিঁদুর রঙা আম ধরে এমন আমগাছটি বিষক্রিয়ায় মারা গেছে।

সুফিয়া জগ গ্লাসে পানি নিয়ে এলো। গ্লাসে ঢেলে পানি দিয়ে রইস মিয়ার উদ্বিগ্ন মুখটি দেখে তার বুকের ভিতরটা আবার হু হু করে উঠলো। তিনি কতবার বলছিলেন, কালাম মুন্সির সাথে ঝগড়ায় না যেতে। পারবেন না তিনি। তার চেয়ে ওরা যখন কিনে নিতে চাইছে, উপযুক্ত দামে বিক্রি করে দিলেই হয়। বিক্রি করে দিয়ে চন্দনগাঁতি দাগে যে জমি আছে, সেখানে গিয়ে বাড়ি করলেই তো ঝামেলা মিটে যায়। রইস মিয়া সেবার বিষন্ন মুখে স্ত্রীকে বলেছিলেন, “বাপ-দাদার ভিটে মাটি বিক্রি করে দিতে বল।” স্বামীর এ প্রশ্নের উত্তর তার কাছে ছিল না। এ ধরনের আবেগায়িত প্রশ্নের উত্তর কারো কাছেই থাকে না। তবে সারাদিন ঘরে থাকলে কী হবে, সুফিয়া বেগম এইটুকু বুঝেছিলেন, টাকার সাথে পেরে ওঠা যায় না। কিন্তু তিনি কী করে বোঝাবেন এ কথা। বিয়ের পর থেকে রইস মিয়াকে দেখে আসছেন ভয়ংকর জেদি লোক হিসেবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জেদটা যদিও একটু কমেছে। কমলেও কালাম মুন্সির বিরুদ্ধে মারামারি করে জখম হতে বাঁধেনি। জখম হওয়ার পরই অবশ্য মামলা করেছিলেন। জীবনের প্রথম সেবারই তাকে থানায় পুরোটা দিন থাকতে হয়েছিল। থানা যে কত বাজে জায়গা রইস মিয়া তা বুঝেছিলেন হাড়ে হাড়ে।

রইস মিয়া ঢকঢক করে পানি খেলেন। পানির স্বাদ আর আগের মতো পান না। ক্যামন যেন পানসে স্বাদহীন লাগে। কালাম মুন্সির প্রসেস মিলের সোডা কস্টিক মিশানো পানি এসে পড়ে বাড়ির উত্তর দিকের পুকুরে। আর বৃষ্টি বাদলা বর্ষায় তো পুকুরের পচা পানি ঢুকে পড়ে বাড়ির উঠানে। এই পুকুর ঘেঁষেই তাদের টিউবওয়েল। কয়েকদিন আগে এক এনজিও এসে টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করে গেছে। পানি খাওয়া যাবে কী’না কিংবা এই পানি খেলে অসুখ করবে কী’না তার রেজাল্ট এখনো দেয়নি তারা। তারা আসল রেজাল্ট দেবে কী’না তা নিয়েও সন্দেহ রইস মিয়ার। এর আগে এক পরিবেশ এনজিও এসেছিল। তারা গ্রামের ১০/১২টি প্রসেস মিলের দুষণ নিয়ে কাজ করেছিল। শোনা গেছিল তারা পরিবেশ আদালতে মামলা করবে। এ খবরে একটু খুশি হয়েছিলেন রইস মিয়া। খুশিটা অবশ্য স্থায়ী হতে পারেনি। কারণ কয়েকদিন পর আর সে এনজিও’র হদিস পাওয়া যায় নি। গ্রামের তাদের যে অফিসটি ছিল, সে অফিস আর কোনোদিন খোলেনি। শোনা যায়, কালাম মুন্সিরা টাকা দিয়ে এ এলাকায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সেই এনজিও অফিস এখন মাবুদদের আখড়া। তারা এনজিও অফিসটি ক্লাব বানিয়েছে। সারাদিন সেখানে বসে বসে আড্ডা দেয়। যদিও কয়েকদিন পরপর নানা অকাম-কুকাম করার খবর পাওয়া যায়।

রইস মিয়া খেয়েদেয়ে বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়ালেন। বাইরে যা একটু বাতাস আছে। এই বাতাসে শরীরটা একটু ঠান্ডা করবেন। তারপর অজু করে আছরের নামাজ পড়তে যাবেন। কাছারি ঘরের বারান্দায় এসে বসলেন রইস মিয়া। বারান্দায় বসলে আকতারদের বাড়ি স্পষ্ট দেখা যায়। আকতাররাও কালাম মুন্সির প্রসেস মিলের কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সপ্তাহের যে তিনদিন মিল চলে সেদিনগুলোতে বয়লারের কেমিক্যাল পানির ছিটা এসে পড়ে আকতারের মায়ের ঘরের টিনের চালে। এই কেমিক্যাল পানির ছিটায় টিনের চালে প্রথমে জং ধরে। কয়েকদিন পরে টিনের চালের জং ধরা স্থানে ফুটো হয়ে যায়। বয়লারের পানি আকতারের মায়ের ঘরের টিনের চালে পড়ে টিন নষ্ট করায় রইস মিয়ার সাথে আকতারও মামলা করে। তবে আকতাররা মামলা চালায়নি। কয়েকদিন পরে কালাম মুন্সির সাথে মিটমাট করে মামলা তুলে নেয়। মামলা তুলে নেয়ার পরে আকতারের মায়ের ছিদ্র হওয়া চালে উঠে নতুন টিন। বিকেলের রোদে তা এখন চকচক করছে। রইস মিয়া সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। বুকের ভিতরে একটা জমাট ব্যথা ওঠে আবার তা মিলিয়ে গেল।

ব্যথাটা আসলে মিলে যায়নি। যাওয়ার কথাও নয়। একটা ক্ষতচিহ্নের মতো তা কোথাও রয়ে গেল আসলে। অথবা বহুদিন আগের এক বিকেলের কথা মনে হওয়ায় সেই স্মৃতির তোড়ে তা হয়তো চাপা পড়ে গেল।

কত বয়স তার তখন। ১২/১৩ হবে। একাত্তরে যুদ্ধের সময় সেটা। ইউসুফ পরামানিক তখন গ্রামের রাজাকার কমান্ডার। কমান্ডারত্ব প্রাপ্তি সে উদযাপন করে বাজারে পরেশ জুয়েলার্স লুট করে। ঘোষদের গরু জবাই দিয়ে। স্বর্ণ লুট করে, গরু খেয়ে ইউসুফ রাজাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়, কেউ যেন মুক্তিতে যোগ না দেয়। মুক্তি হলে তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হবে। গুলি করে কুকুরের মতো মারা হবে। ইউসুফ রাজাকারের হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে দক্ষিণ পাড়ার নাজমুল, লিয়াকত, পুব পাড়ার রায়হান, ফকির পাড়ার হাফিজুল, আরমিয়ানরা ভারত যায় ট্রেনিং নিতে। এই খবর ইউসুফ রাজাকার পাক আর্মিকে পৌঁছে দেয়। এক সকালে ঘুম ভেঙে গ্রামের সবাই দেখে পাক আর্মি স্কুল মাঠে ক্যাম্প ফেলেছে। বিকেলের মধ্যে মুক্তিতে যোগ দেয়া সবার বাড়ি পুড়িয়ে দেয় পাক আর্মিরা। আর আয়নাল ব্যাপারির বোবা মেয়ে কুমকুমের স্থান হয় ক্যাম্পে। আর গ্রামের লোকেরা ইউসুফ রাজাকারের চেলা হুমায়ুনের মাধ্যমে শোনে আজ অমুকের গরু পৌঁছে দিতে হবে আর্মি ক্যাম্পে, অমুকের ছাগল। অমুক দেবে রাতা মোরগ। একদিন বিকেলে বাড়ির ছাগল আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছে দিতে গিয়ে গ্রেনেড চার্জ করে আসে সেলিম। গ্রেনেড চার্জ করার সাথে সাথেই স্কুলের পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে মুক্তি বাহিনী।

রইস মিয়ার মনে আছে, মুক্তি’রা সেবার পাক আর্মিদের গ্রাম ছাড়া করার পর কারো গরু কেউ ধরে নিয়ে গ্যাছে, কারো দোকান লুট হয়েছে কিংবা কারো বাড়ির ঘরের চালের বৃষ্টির পানি গড়িয়ে অন্যের উঠানে পড়েছে এমনটি মনে পড়ে না। বিকেলে বারান্দার বসে অনেকদিন পর মুক্তিদের কথা মনে পড়ে রইস মিয়ার। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি। মনে মনে ভাবেন, আবার যদি গ্রামে মুক্তিরা আসতো!


মন্তব্য

রানা মেহের এর ছবি

কেমন আরোপিত মনে হলো শেষের অংশটা।

আপনার বর্ণনা এতো চমতকার
গল্পটা এনে দিলো একদম চোখর সামনে
ওয়েল ডান
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

রানা মেহের এর ছবি

আরেকটা কথা
ওপরের মন্তব্যে মাইন্ড খাবেন না যেন
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

নাহ্, মাইন্ড খাওয়ার কিছু নাই। দেঁতো হাসি দেখেন না ক্যামন দাঁত কেলিয়ে হাসতেছি।

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

আমার কাছে কিন্তু আরোপিত মনে হয়নি শেষের অংশটা। অসহায় মুহূর্তে এক সময়ের ত্রাণকর্তার কথা স্মরণে আসাটা, বোধ হয়, অস্বাভাবিক নয়।

"হুমকি"-র মতো সহজ ও প্রচলিত বাংলা প্রতিশব্দ আছে হেতু "থ্রেট" ব্যবহার না করলেও চলতো, মনে হয়।

মমিন ছেলেটা বেশি কথা কয়

সে কারণেই তো আমরা বলি: কস্কি মমিন! হো হো হো

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

রণদীপম বসু এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

সন্ন্যাসীদা, আসলে এখানে লেখকের নিজের প্রাত্যহিকতা ঢুকে পড়েছে মনে হয়। কারণ, দৈনন্দিনের কথাবার্তায় যখন এই শব্দটা ব্যবহার করি, তখন হুমকি না বলে থ্রেট-টাই আগে আসে। আবার ফেসবুকিং কিংবা কমিউনিটি ব্লগিং করার কারণে থ্রেড শব্দটাও এখন ঠোঁটের আগায় এসে বসে থাকে। দুইটাই কাছাকছি, এ কারণে লেখায় চলে আসছে। এটা আমার নাগরিক অনুষঙ্গের কারণেই হয়তো হয়েছে। তবে গ্রামদেশের সেই কালাম মুন্সি কিংবা রইস মিয়া এখনো হুমকি-তেই আছে। তাই লেখার সময় সতর্ক থাকা উচিত ছিল। আশা করি, ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে পারবো।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- খুবই পান্থময় গল্প। কেনো জানি মনে হলো এটা আমাদের দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের বড়ই চেনা চিত্র। সেজন্যই বোধকরি আরাম লাগলো না। এরকম অসহায় হয়ে ইতিহাসের কাছে আশ্রয় নিতে কাউকে দেখলে সুখবোধ হয় না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

প্রান্তিক অঞ্চল কী'না জানি না। কারণ বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আমার নাইইইইইই। তবে এটা আমার গ্রামের চিত্র। আমাদের গ্রাম একটি তাঁতশিল্প এলাকা। তাঁত দিয়েই জীবিকা নির্বাহ হলেও প্রসেস মিল কিংবা ফিরোজা রঙের মিলের কারণে পরিবেশ দুষণ হয় মারাত্মক পর্যায়ের। আর এটা নিয়ে গ্রামে মারামারি, কোর্ট কাচারি সবই চোখের সামনে ঘটতে দেখেছি। তারই একটা চিত্র তুলে আনতে চেয়েছিলাম। তবে, তেমন একটা আনতে পারিনি।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

রানার সংগে দ্বিমত।
আমার কাছে শেষটার কারণেই ভালো লাগলো বেশি।
(রানা মাইন্ড খাইবেন কি? ঃ)

আচ্ছা, পান্থ - আপনি এত কনসিস্টেন্টলি গল্প নামান কী করে?
আপ্নেরে মিয়া আমি হিংসা করবো। গল্প লেখা বাদ্দেন, আসেন ফেসবুকিং করি। আমি আজ ফেসবুকে আপনার জন্য স্ট্যাটাস মারছি সকাল থেকে চোখ টিপি

রানা মেহের এর ছবি

বহুত মাইন্ড খেয়েছি দেঁতো হাসি

পান্থর অফিসটা এতো গাধা কেন?
ফেইসবুক দেখে আর সচল দেখেনা? চোখ টিপি
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

সচল দ্যাখে না কারণ সচল আসক্ত'র সংখ্যা মোটে দু'জন। আমি আর সাইফুল আকবর খান। মূর্তালা রামাত অস্ট্রেলিয়া গিয়ে বেঁচেছে। আর অফিসের সবাই ফেসবুকিং করে। তাই নজরটা ফেসবুকের উপর পড়েছে।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

@ রানা মেহের,
এইজন্যই তো আল্লাহ্পাক না করছেন হিংসা করতে। দেখলেন তো একজনরে হিংসা করতে গিয়া আপ্নে দুই দুইটা ব্লগারের জীবনের জন্য কী এক অশুভ অলক্ষইণ্যা কথা কৈয়া বসলেন! পিলিজ লাগে, তওবা করেন আপ্নে, নাইলে কিন্তু আল্লামিয়ার কারসাজি-তে আমাগো অফিস-আইটি-ভাইডি'র চোখ সচলের উপ্রেও পইড়া যাইবো অচিরেই! ;(

০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

রানা মেহের এর ছবি

হে আল্লাহ!
আমি আবার কাকে হিংসা করলাম
আমার মতো খোদাবন্দ বান্দার ওপর এমন অভিযোগ করলেন
আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলো মন খারাপ

ইয়ে আপনাদের বসের মেইলটা যদি একটু দিতেন
এই একটু সুখ দুঃখের গল্প করতাম আরকি
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

ইশ্শিরে!
আপ্নে যে কী দুষ্ট!
খাইছে

০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

ধূর মিয়া, আমি আপনার বই পরিচিত অন্যদের দেখিয়ে বলি, এই লেখক আমার খুব পরিচিত। অসম্ভব সুন্দর লেখে। বাঙলা সাহিত্যের ভবিষ্যত ধ্রুব তারা। বইটি পড়লে বুঝবা।
আর হ, ফেসবুক বিরহে আছি। আপনার স্ট্যাটাসটা দেখতে পারছি না। অফিস থেকে বের হতে হতে আটটা বেজে যায়। সাইবার ক্যাফেতে ঢুকে দেখবারও উপায় নাই। মোবাইলেই ইন্টারনেট চালু করতে হবে দেখছি।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

.

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

স্ক্রিণশট দেখে পান্থ রহমান রেজা মারা গেছে এমন শোক উথলে উঠলো। খাইছে

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

এট্টু আগে ঢাকা থেইক্যা সেই সুদূর মিরপুর ১-এ গিয়া গ্রামীণের ইন্টারনেট মডেম কিইনা আনছি পান্থ। হিহুহোহাআআআআআআ... চোখ টিপি

০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

একেবারেই পান্থ-ব্র্যান্ডেড গল্প- এইটাই তো পান্থ'র ব্র্যান্ড কনসিস্টেন্সি। দেঁতো হাসি

বর্ণনাগুলো অনেক সত্যি সত্যি রঙ ধরে তোমার। মরিচা দেখা যায় আকতারের মায়ের চালের, ছিদ্রও দেখা যায়, নতুন টিনের চমকানিও দেখা যায়। জায়গার নাম-টাম মিলে তোমার কল্পনার গল্পেও বাজারের সাথে বাজারে মাছের দাম-দর করতে থাকা কিছু মানুষ-সহ দেখা যায় সবই, তার মধ্যে আজকের এইটা তো তোমার দেখা আপন সত্যচিত্র, এইটা ভালো হ'তেই হ'তো। হাসি
তবে/তবু, শব্দ-চয়নে আরো প্রশ্নাতীত আরো ট্যাক্টফুল-স্মার্ট তুমি এই লেখায়ও হতে পারতে, মানে আরো নিশ্ছিদ্র মুগ্ধতা সৃষ্টির সুযোগ ছিল। সম্ভাবনা আর নিদর্শন তো তোমার আছেই। হাসি

সামগ্রিকে, অ্যানাদার গ্রেট জব, নো ডাউট। চলুক

০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।