মনের ভ্রমণঃ গাইডেড ইমেজারি বা ছবি কল্পনা

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন শোহেইল মতাহির চৌধুরী (তারিখ: শুক্র, ১০/০৩/২০০৬ - ১০:৪১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


গাইডেড ইমেজারি বা ছবি কল্পনা বলে একটি কথা আছে। আত্মসম্মোহনের একটি ধরণ। ইদানীং ডাক্তাররাও এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন ক্রনিক বা দীর্ঘসময় ধরে রোগে ভোগা লোকদের জন্য। তবে এটার মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান মানসিক চাপ থেকে মনকে মুক্ত করা। এতে চাপ কমে একধরনের স্বস্তি ফিরে আসে দেহে-মনে।
আধুনিক জীবনে আমরা নানা কাজের কারণে স্ট্রেসড হয়ে পড়ে। সে সময় এধরনের গাইডেড ইমেজারি খুবই কাজে দেয়। পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নীচে একটা বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও গল্প দেয়া আছে। করে দেখুন মনের ভ্রমণ। ভালো লাগবে।

ছবি কল্পনার লেখাঃ গ্রামের পথ ধরে হাঁটা

যতটা পারেন আরাম করে বসুন বা শুয়ে পড়ৃন। টাইট পোষাক ঢিলা করে দিন। পায়ের উপর থেকে পা বা গোড়ালি নামান। হাত আলগা করে দিন। যেখানে বসে বা শুয়ে আছেন তার উপর শরীরের সব ভার ছেড়ে দিন।

আপনার চোখ বন্ধ করুন।

বড় একটা শ্বাস নিয়ে শুরু করুন। নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে বুক ভর্তি করে বাতাসকে পেটের মধ্যে পাঠিয়ে দিন। বাতাস ধরে রাখুন.....শ্বাস ছাড়ার সময় ঠোঁট চেপে ধীরে ধীরে পুরো বাতাস বের করে দিন। এইসাথে আপনার পুরো শরীর রিল্যাঙ্ করে দিন। আপনার সব মাসল ছেড়ে দিন ও ভারী হয়ে যেতে দিন....চমৎকার।

মাথা থেকে শুরু করে পায়ের আঙুল পর্যন্ত পুরো শরীরের সব মাসলগুলি ধীরে ধীরে অনুভব করে দেখুন। কোথাও কোন মাসলে টেনশন আছে কি না।

আপনার মুখে, মাথায় বা ঘাড়ে কোন টেনশন থাকলে তা বের করে দিন। এজন্য আপনার চোয়াল ঢিলা করতে হবে এবং কাঁধের উপর মাথার ভার ছেড়ে দিতে হবে। আপনার কাঁধকে হালকা করে ছেড়ে দিন। গভীর করে একটা শ্বাস নিন এবং আপনার বুক ও পেটকে রিল্যাঙ্ করে দিন। আপনার হাত ও পা ভারী করে ছেড়ে দিন যেন আপনার শরীর নীচের দিকে ডুবে যেতে থাকে।

এখন গভীর করে আরো একটা শ্বাস নিন এবং খেয়ল করুন শরীরে আর কোন টেনশন আছে কিনা। যখন শ্বাস ছাড়বেন তখন আপনার শরীরের সব মাসলগুলোকে নীচের দিকে বেশি করে ডুবে যেতে দিন যাতে আরো বেশি রিল্যাঙ্ লাগে....চমৎকার।

মনে করুন একটি শান্ত গ্রামের পথ ধরে আপনি হেঁটে যাচ্ছেন। আপনার পিঠে গরম রোদ পড়ছে। পাখিরা গান গাইছে।

একটু পরেই আপনি একটি পুরনো গেটের সামনে এলেন। আপনি গেটটা খুলে ভেতরে ঢুকলেন। দেখলেন যে এটা একটা খোলা মাঠ ..... গাছ থেকে বীজ পড়ে আপনা আপনি ফুটে আছে কত ফুল, হানি সাকল জন্মেছে...... নরম সবুজ ঘাস। ফুলের গন্ধ নিতে নিতে বড় করে শ্বাস নিন। পাখি আর পোকামাকড়ের শব্দ শুনুন। অনুভব করুন আপনার গায়ে এসে হালকা গরম বাতাস লাগছে... আপনার সব ধরনের ইন্দ্রিয় (সেন্স) কাজ করছে এবং এই শান্ত জায়গা ও সময়ের আনন্দ ভোগ করছে।

একটা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে আপনি আরেকটু ঘন জঙ্গলে এসে পড়েছেন। পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্য্যের আলো আসছে। বাতাস একটু হালকা এবং আগের চেয়ে ঠান্ডা।
যতটা পারেন আরাম করে বসুন বা শুয়ে পড়ুন। টাইট কাপড় ঢিলা করে দিন। হাত, পা বা গোড়ালি আনক্রস বা খুলে দিন। আপনি যেখানে বসে বা শুয়ে আছেন তার উপর শরীরের পুরো ভার ছেড়ে দিন।

কাছেই কোথাও একটা ঝর্ণা আছে। আপনি এর শব্দ পাচ্ছেন এবং একটা গন্ধও ভেসে আসছে বাতাসে। আপনি থামলেন। তারপর ঠান্ডা ও সুগন্ধি বাতাস থেকে কয়েকবার বড় করে শ্বাস নিলেন। পথ ধরে হেঁঁটে হেঁঁটে আপনি ঝর্ণার কাছে আসলেন। কি সুন্দর স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি বয়ে যাচ্ছে। ঝর্ণার মাঝে পড়ে আছে কিছু গাছের টুকরা আর পাথর।

ঝর্ণার পাড় ধরে ধরে আপনি হাঁটছেন। কিছুক্ষণ পর আপনি একটা খোলা জায়গায় আসলেন। সূর্য্যের আলো এসে পড়ছে। হঠাৎ আপনি দেখলেন একটা ছোট্ট জলপ্রপাত। নীচে বিশাল শান্ত জলাশয়। উপর থেকে জলপ্রপাতের পানি এসে পড়ছে। পানির বাষ্পের মধ্যে একটা রংধনু দেখা যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ বসার জন্য একটা আরামের জায়গা আপনি খুঁজে পেলেন । যেখানে আপনি পুরোপুরি রিল্যাঙ্ করতে পারবেন। এই শান্তিপূর্ণ জায়গার নীরবতা ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকুন। দেখবেন আপনার ভালো লাগছে।

কিছুক্ষণ পর আপনি বুঝতে পারেন যে এখন ফেরার সময় হয়েছে। আপনি আবার পেছনে ফিরে চলুন। শীতল ও সুগন্ধি গাছ রাস্তা পার হয়ে আপনি এসে পড়লেন সূর্য্যের আলো ভরা মাঠে। শেষবারের মত ফুলগুলোর গন্ধ নিলেন এবং গেট দিয়ে বের হয়ে এলেন আপনি।

এখনকার মত আপনি গোপন জায়গাটা ছেড়ে চলে এলেন। পুরনো পথ ধরে আপনি ফিরে আসছেন। এখন নিজেকে অনেক শান্ত ও রিল্যাঙ্ড লাগছে। নিজেকে আনন্দ দিতে এবং মনকে তরতাজা করতে যখন ইচ্ছা আপনি আবার এ জায়গায় ফিরে আসতে পারেন।

যখন আপন্যি তৈরি তখন বড় করে একটা শ্বাস নিন তারপর চোখ খুলুন। .


মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।