টিপাইমুখ বিবাদ: শালিস মেনে তালগাছ দান

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন শোহেইল মতাহির চৌধুরী (তারিখ: রবি, ১৬/০৮/২০০৯ - ৭:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যারা বিরক্ত হয়ে চোখ কুঁচকে তাকাচ্ছেন তাদেরকে আগেই নিশ্চিত করি যে টিপাইমুখ নিয়ে আমি নিজে কিছু বলতে যাচ্ছি না। বাঁধ নিয়ে বিবাদ-বিসম্বাদ যথেষ্ট শুনছেন আপনারা – এতে নতুন জল যোগ করার সামর্থ বা ইচ্ছা কোনোটাই আমার নাই। যা শুনেছেন তার সবটুকু হজম হয় নাই বলেই অনুমান করি – কারণ আমার নিজের প্রায় বদহজমের মত অবস্থা। সুতরাং গিলে ফেলা কথাগুলো জাবর কেটেই চলুন বোঝার চেষ্টা করি যে হট্টগোলর মধ্যে কে আসলে কী কথা বলছেন। তাদের কথায়-শ্লোগানে-রচনায়-দাবীতে অমিল কোথায় আর মিল যদি কিছু থেকে থাকে তবে সেটাই বা কী?

ভাবছেন এই হ্ট্টমালার মধ্যে আমি মিল খুঁজে পেলাম কই। আশ্বস্ত করি প্রথমেই - বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে কিন্তু মারাত্মক মিল। বরাকের পানি নিয়ে তারা যে যে ভাষায় বা ভঙ্গিতেই কথা ফেনান না কেন শেষ পর্যন্ত তারা একই গাছের ছায়ায় স্বস্তির আশ্রয় নিতে চাইছেন। কিন্তু কেউ কারো কথায় কান দিচ্ছেন না বলে এই মিলটুকু তাদের চোখে পড়ছে না বা পড়লেও আপাতত: জনসমক্ষে তা স্বীকার করছেন না।

হয়তো ভাবছেন সব পথ যদি এসে একই জায়গায় মিলে শেষে তবে আর ভাবনা কি? আমরাও রবীন্দ্রনাথের মত গেয়ে উঠতে পারি – ‘আমরা সবাই রাজা’ (অবশ্যই যার রাজত্বে আছি সেই আসল রাজাকে মেনে নিয়ে মনে মনে রাজা সেজে গাইতে হবে –রবীন্দ্রনাথ অতি অবশ্যই রাজার গলা কেটে রাজা হওয়ার পরামর্শ দেন নাই)। কিন্তু সমাধান-ই সবসময় গোলমালের মূল উদ্দিষ্ট থাকে না। সামান্য তালগাছের মালিকানা ছেড়ে দেয়ার মত উদার অনেকেই আছেন কিন্তু তাই বলে তালগাছ নিয়ে তাদের যুক্তি-বক্তব্য-দাবীনামা বলতে না দেয়াটা তাদের মৌলিক অধিকারে আঘাত। সুতরাং আসুন কান পাতি – কে কী বলছেন?

কথাসূত্র – ১ : টিপাইমুখ বাঁধে কি বাংলাদেশের বিনিয়োগ করা উচিত?

প্রথমে একটা উল্টা কথা দিয়েই শুরু হোক। টিপাইমুখ হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র -ফারাক্কা দিয়ে যেমন বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুভূমি করে দেয়া হয়েছে তেমনি করে টিপাইমুখ দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে শেষ করে দেয়া হবে মোটামুটি এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মত যথেষ্ট উজ্জীবিত আমরা। ভারতের এমন হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আস্তিন গোটানোর যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা তখন একেবারে বিপরীত কিছু কথাও কিন্তু শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠিক শুনেছি তো আমরা?

যে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলছাড়া টিপাইমুখ পরিদর্শনে সংসদ-সদস্য দল পাঠানো ঠিক হবে না বলে বিএনপি আওয়াজ তুলেছিল সেই দলে নামভুক্ত করা শীর্ষস্থানীয় একজন পানি-বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলছেন – বাংলাদেশ প্রথমে টিপাইমুখের পক্ষেই ছিল।

কি মারাত্মক কথা? সত্যি তিনি একথা বলেছেন? কোথায়? – আমার লেখায় বা ভাষ্যে তার বক্তব্য সুর-তাল হারালেও হারাতে পারে তাই প্রথম আলো ২৮ জুন সংখ্যায় তার বক্তব্যটি যেভাবে ছেপেছে সেভাবেই তুলে দিচ্ছি। (মনে করিয়ে দিচ্ছি প্রথম আলো ছাড়াও সচল জাহিদের লেখায় আপনারা নিশাতের মন্তব্য পড়েছেন – তবে ঠিক এভাবে খেয়াল করেছেন কিনা তা যাচাই করে দেখুন)

১৯৭২ সালে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। তখন বাংলাদেশ উল্টো এই বাঁধের পক্ষে ছিল। বাংলাদেশে টিপাইমুখ নিয়ে একটা অফিসও স্থাপন করা হয়েছিল। তখন এই বাঁধটি বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।
(আইনুন নিশাত, প্রথম আলো ২৮ জুন)

এই বক্তব্যে বোঝা যায় টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষে বাংলাদেশের থাকাটা শুধু কথার কথা নয়। টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশ একটা অফিসও বানিয়েছিল যে অফিসের উদ্দেশ্য ছিল টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।

ঐ সময় অর্থাৎ ১৯৭২-এ বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ – মুক্তিযুদ্ধের মিত্র শক্তি হিসেবে ভারতের প্রতি আওয়ামী লীগের কৃতজ্ঞতার পরিমাণ এতটাই বেশি যে বিরোধী বিএনপি দলের তুরুপের প্রধান তাসই হচ্ছে ‘ভারতের দালাল’। টিপাইমুখ বিবাদে এই তাসের ঝলক আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং আওয়ামী লীগের বাহাত্তুরে সম্মতির কথা পেছনে ফেলে আমরা যদি এগিয়ে যাই তাহলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তির টিপাইমুখ বিরোধিতার কথাই পাওয়ার কথা ইতিহাসে।

অথচ আইনুন নিশাত জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। উপরের উদ্ধৃতি যেখানে শেষ হয়েছে তার পরের অংশেই আইনুন নিশাত যা জানিয়েছেন তার মানে দাঁড়ায়, ২০০৩ ও ২০০৫ সালে বিএনপি’র শাসনামলে ফের যখন টিপাইমুখের আলোচনা তোলে ভারত তখন তৎকালীন পানিমন্ত্রী মেজর (অব: ) হাফিজ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একরকম সম্মতিই দিয়েছিলেন টিপাইমুখ প্রকল্পে। ড. আইনুন নিশাত নিজেও তাতে আপত্তি জানাচ্ছেন না। বরং বলছেন যে কথাগুলো মুখে মুখে হয়েছে তার একটা লিখিত রূপ দিতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন মেজর (অব:) হাফিজকে – বলেছেন একটা সমঝোতাস্মারক সম্পন্ন করতে।

অর্থাৎ এর মানে দাঁড়াচ্ছে ২০০৫ সালে ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি যে কথা বলেছে এখন ২০০৯ সালে ভূমিধ্বস নির্বাচনী পরাজয়ের পর বিরোধী দলে এসে তারা অবস্থান নিয়েছে তার বিপক্ষে। বোঝা যাচ্ছে টিপাইমুখ বিবাদের এক বড় নিয়ন্ত্রক হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের (সেইসাথে বিভিন্ন দলের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য মুখপাত্র হিসেবে কলম ধরা পত্রিকার কলাম-লেখকদের) ভারত-ভাবনা। এই ভারত-ভাবনা-স্কেলের কোন মাথায় কার অবস্থান তার ওপর নির্ভর করে টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে তাদের কথা যাচ্ছে বেঁকে।

আইনুন নিশাত বা মেজর (অব: ) হাফিজের স্মৃতিকথা বাদ দিলে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের গবেষণাপ্রসূত চিন্তা-ভাবনা-সিদ্ধান্ত আমরা পাই বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার দলিলে (এটি পরে ফ্যাপের একটি প্রকল্প হিসেবে ফ্যাপ-৬ হিসেবে পরিচিতি পায়)। এটা সরাসরি রাজনীতির প্রভাবমুক্ত গবেষণার ফসল হিসেবে ধরা যায়। আর রাজনৈতিক আমলকে যদি বিবেচনায় আনা হয় তবে এরশাদের জাতীয় পার্টির আমলে সূচনা হয়ে এটা পূর্ণতা পেয়েছে বিএনপি’র খালেদা জিয়ার শাসনকালে। সুতরাং এই গবেষণা দলিলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আশা-আকাঙ্খা বিকশিত যদি নাও হয় একেবারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই বলেই ধরে নেয়া যায়। কী পরামর্শ দিয়েছেন ফ্যাপ-৬ এর গবেষকরা?

(পরামর্শগুলো হয় আপনারা পড়েছেন সরাসরি ফ্যাপ দলিল যারা উদ্ধৃত করেছেন তাদের লেখায়, বা প্রথম আলোয় প্রকাশিত বাংলাদেশ পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার একজন সাবেক মহাপরিচালক এম এ কাশেমের লেখায়, অথবা ঐ লেখা থেকে উদ্ধৃত করে দেয়া সচল জাহিদের টিপাইমুখ বিষয়ক ধারাবাহিকের ৩ নং কিস্তিতে। এখন নতুন করে নীচে এম এ কাশেমের সরাসরি উদ্ধৃতি পড়ে দেখুন বোঝার ক্ষেত্রে কোথাও কোনো ঘাটতি থেকে গেল কিনা?)

এম. এ. কাশেম লিখছেন ওই ফ্যাপ-৬ পরিকল্পনার ৩৭ পৃষ্ঠায় বাক্স বানিয়ে টিপাইমুখ প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য ও মতামত দেয়া হয়েছে এবং মতামত বিশ্লেষণ করে নীচের মন্তব্য দেয়া হয়েছে:

(ক) শুকনো মৌসুমে
শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং অমলশীদে বরাক বা সুরমা-কুশিয়ারার পানি ফেব্রুয়ারি মাসে গড়ে ৪ দশমিক ২০ গুণ বৃদ্ধি পাবে।
শুকনো মৌসুমে পানির পরিমাণ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং পানির উচ্চতা ১ দশমিক ৭০ (সাড়ে পাঁচ ফুট) বৃদ্ধি পাবে, যা দ্বারা সেচ, মৎস্য উৎপাদন ও নৌ চলাচলের উন্নতি হবে। অবশ্য এজন্য ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

কথা হচ্ছে অমলশীদে বা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যদি শুকনো মৌসুমে নদীর পানি এ পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তবে তাতো শুভসংবাদ। প্রাকৃতিক বিরুদ্ধতাকে নিজের সুবিধায় ব্যবহার করার জন্য এটা একটা বেশ সুচিন্তিত কৌশলও মনে হচ্ছে। তাছাড়া পানির পরিমাণ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও এতে নিশ্চয়ই বন্যা হয়ে যাওয়ার বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কোনো আশংকা দেখেননি বিশেষজ্ঞরা। দেখলে তারা সেই হুশিয়ারি নিশ্চই উচ্চারণ করতেন। তাছাড়া দশমিকের পর দুই ঘর পর্যন্ত অংক কষে যেভাবে তাঁরা সম্ভাবনার একটা চিত্র এঁকেছেন তাতে তাদের অংক কষার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা বিপদজনক হতে পারে। অনেকে এই সুসংবাদকে এখন বেমালুম চেপে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এম.এ. কাশেম।

তবে সচল জাহিদ এই কথাগুলো উদ্ধৃত করে একধরণের অনাস্থা প্রকাশ করেছেন এই হিসাবে। তিনি এই হিসাবকে ভুল বলে উড়িয়ে দেন নাই তবে বলেছেন আরো হিসাব কষা দরকার। এরকম আরো অন্তত: চার রকম নতুন অংক কষার তরিকা তিনি বাতলেছেন তার লেখায় (পাবেন তার ৩নং কিস্তিতে)। জাহিদের এই পরামর্শের বিপক্ষে অর্থাৎ বিশেষজ্ঞদের আরো গবেষণা দরকারমূলক উপদেশের বিরুদ্ধে আম-জনতা সবসময়ই একধরনের বিরক্তি প্রকাশ করে থাকেন। অনেকে বলেন এতে রিসার্চ-ইন্ডাস্ট্রি বা গবেষণা-শিল্পের বিকাশই হয় কাজের কাজ কিছু হয় না। দশ বছরের ফ্যাপ প্রকল্পের গবেষণার পরও যদি সিদ্ধান্ত নিতে আরো গবেষণা লাগে তাহলে গবেষণা কখনও শেষ হবে না বলেই মনে হয়। সিদ্ধান্তও আমরা কখনও নিতে পারবো না। তারচেয়ে আমরা এ পর্যন্ত প্রাপ্ত গবেষণার ফলাফল যদি ত্রুটিযুক্ত না হয় তবে তাতেই আস্থা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। পাশাপাশি গবেষণা চলতে পারে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করার জন্য।

সর্বশেষ সেই গবেষণায় বর্ষা মৌসুমে টিপাইমুখের প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে:


বর্ষা মৌসুমে:
বর্ষাকালে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বন্যার প্রকোপ হ্রাস পাবে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অমলশীদে সর্বোচ্চ পানির প্রবাহ এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পাবে। বন্যার পানির উচ্চতা ১ দশমিক ৬০ মিটার হ্রাস পাবে।

বর্ষার সময় বন্যার পানি হ্রাস -এতো দুর্দান্ত সুসংবাদ মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বছরের পর বছর গবেষণা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। সব মিলিয়ে এই গবেষণার ভিত্তিতে কেউ যদি বলেন যে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশের এতো সুবিধা হবে যে বাংলাদেশেরই আগ বাড়িয়ে এই বাঁধ নির্মাণের জন্য এতে বিনিয়োগ করা উচিত তাতেও বিস্মিত হওয়ার কিছু দেখি না। আর ভারত যদি একাই এজন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে পারে তাহলে তো নাচবার মত খুশি হওয়ার কথা।

প্রকৃতপক্ষে এম.এ.কাশেম জানাচ্ছেন যে ঐ পরিকল্পনা প্রতিবেদনের ১০৩-১০৪ পৃষ্ঠায় এই প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলা হয়েছে,

“বাংলাদেশের বাইরে উজানে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিনিয়োগ বাংলাদেশের স্বার্থেই সঙ্গত হবে”

এতো দেখি সাপ ধরতে গিয়ে বেজি মারার মত অবস্থা!

(জল গড়ালেও গড়াতে পারে)


মন্তব্য

শামীম এর ছবি

বিগ সি'কে লেখালেখিতে দেখে ভালো লাগছে।

টিপাইমুখে বাঁধ হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ বাড়বে, বন্যা মৌসুমে কমবে .......তবে এতে ভারতের সদিচ্ছার দরকার আছে। আমাদের উপকার করার কথা চিন্তা করার মত কোনো কোষমালা ভারতের সিদ্ধান্তওয়ালাদের মাথায় আছে বলে মনে হয় না; অন্ততপক্ষে অতীতের কাজ-কর্ম থেকে 'নাই' বলেই মনে হয়। এছাড়া অতীতের কর্মকান্ডে আরও মনে হয় যে, নিজের নাক কেটে হলেও পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মত কোষের আধিক্য আছে।

এজন্যই আপাত উপকারী একটা প্রকল্পকেও বিপদজনক মনে হচ্ছে। সামান্য চিন্তা থেকেই বোঝা যায় যে এই প্রকল্প দিয়ে অতি সহজেই বাংলাদেশের ক্ষতি করা সম্ভব। শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে দিতে আর বর্ষা মৌসুমে নিজেদের জলাধার থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে ভাসিয়ে দিতে খুব বেশি পরিশ্রমের দরকার নাই। মনে রাখতে হবে এটা ভারত

বলা যায় না: হয়তো ইতিমধ্যেই কোনো না কোনো ভাবে ঐ পানি অন্যপথে সরিয়ে নেয়ার নীল-নকশাও প্রস্তুত আছে। এতবড় জলরাশির উপরিতল অনেক বড় হওয়ায় সেখান থেকে বাষ্প আকারে এবং ভূ-স্তরে চুইয়ে পানি হারানোর পরিমানও কম হবে না (FAPএর 1-D মডেলে এই বিষয়গুলো বাস্তবসম্মত ভাবে সিমুলেট করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে হয় না - অন্তত বছরখানেক IWM এ চাকুরীর অভিজ্ঞতা থেকে এমনই মনে হয়; বসও তো পানি উন্নয়নের কর্মকর্তা ছিলেন/আছেন(?)- আপনিও নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে ভালো জানেন)। ফুলেরতল ব্যারেজের পরিকল্পনার কথা তো জানা আছেই।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

আরে লিখেছি কি শখে? টানাটানির মাঝেও অনুরুদ্ধ হয়ে এই ঢেঁকি গেলা। তারপরও নিজের স্বার্থেই বলি আপনার ভালোলাগাটা দীর্ঘস্থায়ী হোক।

আপনি বিশেষজ্ঞ তাই আপনার পানি বিষয়ক মতামত বিশেষজ্ঞের বলেই বিশ্বাস করছি। কিন্তু বড় অক্ষরে ভারতের সদিচ্ছা সম্পর্কে আপনার মতামত রাজনৈতিক ধারণাপ্রসূত বলে ততোটা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি না।

একটা রাষ্ট্র যখন কথা দেয়, প্রতিশ্রুতি দেয় বা কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তখন সেই কথায় বা চুক্তির শর্তে আরো অনেকের মত আস্থা রাখতে চাই।এমন আস্থা সংসদীয় দলের প্রধান আব্দুর রাজ্জাকতো করেছেনই। আপনি বিস্মিত হলেও আমি একটা উদ্ধৃতি দিতে পারি যে, এমন আস্থা ভারত-বিরোধী শ্লোগান দিয়ে ভোটব্যাংক ধরে রাখার দল হিসেবে খ্যাত বিএনপি'র পানি মন্ত্রী পর্যন্তও করেছেন।

আইনুন নিশাতের ঐ সাক্ষাৎকারে মেজর (অব:) হাফিজের বক্তব্য খেয়াল করতে পারেন। আইনুন নিশাত বলছেন:

হাফিজ সাহেবের সঙ্গে পরে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকারক হয় এমন কোনো পদক্ষেপ তারা নেবে না। কোনো ব্যারাজ তারা নির্মাণ করবে না।...
... আপনার বন্ধুরাই (প্রকৌশলীরা) তো বলেন, ব্যারাজ নির্মাণ না করলে কোনো সমস্যা নাই।ভারত এত বড় রাষ্ট্র তার কথা, তাদের কথা আমরা কীভাবে ফেলি।

সুতরাং অন্য একটি রাষ্ট্র সদিচ্ছা প্রকাশ করার পরও যদি আপনার সন্দেহ থাকে তবে আইনুন নিশাত বিশেষজ্ঞ হিসেবে যা বলেছেন আপনি সেই মতামত নিতে পারেন - একটি লিখিত সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষর করতে পারেন সেই দেশের সাথে।
আর আপনি যদি সমরবিদ হোন বা সমরবিদের বিশ্লেষণে অনুপ্রাণিত হোন তবে আস্তিন গোটাতে পারেন - যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে পারেন। (যুদ্ধ সংক্রান্ত কিস্তি পরের ধাপে লিখবো বলে আশা)।

বলেন আপনি কোন লাইন নিতে চান?

-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

শামীম এর ছবি

বিনয়ের সাথে জানাতে চাই -- পানিসম্পদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই আমি; নিজেকে পানিশোধণ বিশেষত: আর্সেনিক সংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষ ভাবতে বেশি পছন্দ করি। মেজর হাফিজ বা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবও বিশেষজ্ঞ নন। তবে দেশবিরোধী অনেককিছুই আমাদের রাজনীতিবিদগণ করেছেন/করছেন .... এদেরকে কিনতে ভারতের খুব বেশি খরচ করতে হয়েছে/হয় বলেও মনে হয় না।

লিখিত চুক্তি ও ভালো ভালো কথা এর আগেও অনেক বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেই জানি। তিস্তা বা পদ্মা (Ganges) বিষয়ে অভিজ্ঞতাকে ভারতের প্রতিশ্রুতি ও সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছি (রেফারেন্স নাই তবে পত্রিকায় হাটুপানির পদ্মার খবর/ছবি দেখেছি)। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্প - যেটার ফলে ঐ দুই নদীতে শুষ্ক মৌসুমে আদৌ পানি থাকবে কি না সন্দেহ (রেফারেন্স নাই)।

রাজনৈতীক বিশেষ রঙের চশমার ভেতর দিয়ে না দেখেও, বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ ছাড়াই, এই ইতিহাসগুলো দিয়ে ভারতের সদিচ্ছার (বড় অক্ষর দিলাম না এইবার) ব্যাপারে গভীর সন্দেহ করা যায় বলে আমি মনে করি।

আর যেখানে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ পানির জন্য হবে বলে কথা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি - সেখানে আস্তিন গুটানোর জন্য আমার সমরবিদ হওয়ার দরকার আছে কি!
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

কেনা-কাটা সম্পর্কে মন্তব্য পড়ে বেশ হাসলাম।
এরশাদ আমলে এক্টা কথা চালু ছিল যে প্রত্যেক মানুষেরই দাম আছে। সেই দামে তাকে কেনা যায়। কারো এক লাখ। কারো এক কোটি।

ভারতের প্রতিশ্রুতি বিষয়ে আপনার অভিযোগের নিশ্চই ভিত্তি আছে। এর ওপর কোনোরকম লিখিত প্রতিবেদন থাকলে লিংক দিলে খুশি হই।
বিশেষত: ১৯৯৬-এর চুক্তির পর ভারত চুক্তি অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে কখন কখন ব্যর্থ হয়েছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিষয়টা উত্থাপন করলে সেক্ষেত্রে ভারত কি জবাব দিয়েছে - যদি কোথাও পান তবে লিংক দিলে খুশি হবো। এই বিষয়ে একটু গবেষণা করার ইচ্ছা আছে।

৩য় বিশ্বযুদ্ধ পানির জন্য হবে এমন কথা হয়তো পানিবিদেরা বলেছেন, তবে ৪র্থ বিশ্বযুদ্ধ এক মুষ্ঠিযোদ্ধার কাছে আমি শুনেছিলাম সেটা নাকি হাতে-হাতে হবে। তবে পানি থেকে এই যুদ্ধ এটা নিয়ে নানা লোকের নানা কথা লিখতে চাই পরের পর্বে।

আপনার মন্তব্য, তথ্য ও মতামত এই লেখাটাকে সমৃদ্ধ করেছে শামীম। আপনাকে ধন্যবাদ।
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

আরিফ জেবতিক এর ছবি

যা বুঝলাম , বন্যা নিয়ন্ত্রন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির পর্যাপ্ততা সংক্রান্ত কিছু আলাপ আলোচনা আছে এখানে।

কিন্তু হাওর অঞ্চল হিসেবে সিলেটের ইকো সিস্টেমে এর প্রভাবটা আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেয়াটা সঙ্গত হবে।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

অবশ্যই হাওর অঞ্চলের পরিবেশের ওপর প্রভাব গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে যদি হাওর অঞ্চল শুষ্ক থাকে - অর্থাৎ সেখানে এখন যেরকম জলের প্রবাহ তা অব্যাহত থাকে তাহলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।
ফ্যাপ-৬-এর রিপোর্টে তো এসব বলা আছে। টিপাইমুখ বাঁধের কারণে বন্যা হবে শুষ্ক মৌসুমে এমন আশংকা ফ্যাপ-৬-এর প্রতিবেদনে তোলা হয় নাই।

তারপরও আমি বলছি না ফ্যাপ-৬-এ যা বলা হয়েছে তাই সত্য।
আমি বলছি টিপাইমুখ নিয়ে বিবাদের ক্ষেত্রে একই ফ্যাপ-৬ এর রেফারেন্স ব্যবহার করছেন সকল পক্ষের লোক। এটাই আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।

মনে হয়েছে একই ধর্মগ্রন্থ যেমন দুই বিবদমান গ্রুপ ব্যবহার করে। ঠিক একইভাবে প্রযুক্তি বা বিজ্ঞান বিষয়ক রিপোর্ট থেকেও যে যার মত তথ্য সংগ্রহ করে নিজের যুক্তি সাজায়।
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

হাসান মোরশেদ এর ছবি

চলুক।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

কীর্তিনাশা এর ছবি

জল গড়িয়ে যাক, গড়াতেই থাকুক।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

হুমম, আপনি তো জল গড়ানোর কথায় সায় দেবেনই।
আপনি যে কীর্তিনাশা!
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

সচল জাহিদ এর ছবি

শোহেইল ভাই চমৎকার বিশ্লেষণ। আমি এতদিন শুধু কারিগরী দিকগুলিই দেখেছি। আপনিই প্রথম রাজনৈতিক কিছু দিক দেখালেন।

আসলে বিশেষজ্ঞরাও যদি রাজনীতি করে তাহলে আর কিছুই বাকী থাকেনা। এই যে টিপাইমুখ নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে এত কথা হচ্ছে কিন্তু যা বলা হচ্ছে তার কতটা গ্রহণযোগ্য? আমাদেরকে বুঝতে হবে বিষয়টি প্রকৌশল ও পরিবেশগত আর তাই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাসুলভ মতামত ( রাজনৈতিক সুলভ নয়) দরকার। একটি বিষয় তুলে ধরলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায় যা কিনা আমি আমার শেষ পর্বেও দেখিয়েছি আর তা হলো এত বড় একটা সফর হলো আমাদের সংসদীয় কমিটি দূর্গম পার্বত্য এলাকায় কপ্টারে করে ঘুরে এলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে নির্মানের জায়গায় না নেমে যার পর নাই মন খারাপ করলেন, দিল্লীতে লাল গালিচা স্বংবর্ধনা পেলেন আমাদের রাজ্জাক সাহেব তার টিপাইমুখ বিবৃতি দিয়ে ভারতে হিরো হয়ে গেলেন কিন্তু আমরা একবারও কি এই দলের একমাত্র বিশেষজ্ঞ আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ডঃ মনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে কোন বিবৃতি শুনেছি ? না শোনার কারন কি? উনি কি কিছু বলতে চাননি নাকি ওনাকে বলতে দেয়া হয়নি ?

আমি খুবই সাধাসিধে কথা বলি? এই বিষয়ে যদি নিরপেক্ষ কাউকে খুঁজেন তাহলে একজনই আছে, যার সারা জীবন তিনি গবেষণায় নিয়োজিত করেছেন ডঃ জহির উদ্দীন চৌধুরী। আমার প্রস্তাব জহির সারকে প্রধান করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হোক। আর বার বার বলে যাচ্ছি টিপাইমুখ নিয়ে পূর্নাংগ গবেষণা হয়নি কারন এর জন্য প্রয়োজন ভারতের সার্বিক সহায়তা উপাত্তের ক্ষেত্রে। সুতরাং গবেষণাটা যৌথ হোক। সরকারের উচিৎ এই বিষয়টিতেই একমাত্র জোর দেয়া। ভারতের প্রতি ভালবাসা ( যেমনটা রাজ্জাক সাহেবের কথা বার্তায় মনে হয়) যেন তাদের বাংলাদেশের গদি পতনের কারন না হয়ে দাঁড়ায় সেইটা কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

ড. জহির উদ্দীন চৌধুরীকে কখনই মনে হয় না কোনো পক্ষ এরকম একটা দলের প্রধান বানাবে। দেখুন তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও তিনি কতটা এ্যাকাডেমিক। রাজনৈতিক দলবাজির কথা মাথায় রেখে তাকে কখনও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ অদল-বদল করতে দেখি নাই।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। সম্ভবত: আপনার ই-বুকের কাজে আসতে পারে।
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

অপেক্ষায় আছি পরের পর্বের।

রেজুয়ান মারুফ এর ছবি

টিপাইমুখ নিয়ে অনেক খুটিনাটি জানার বাইরে ছিল ।
একটু আস্তে -ধীরে হলেও জলটা গড়াক না।

----------------------------------------------------

আমার জীবন থেকে আধেক সময় যায় যে হয়ে চুরি
অবুঝ আমি তবু হাতের মুঠোয় কাব্য নিয়ে ঘুরি।

আমার জীবন থেকে আধেক সময় যায় যে হয়ে চুরি
অবুঝ আমি তবু হাতের মুঠোয় কব্য নিয়ে ঘুরি।

জিজ্ঞাসু এর ছবি

ফারাক্কা নামটা বাঙলাদেশীদের কাছে কেমন লাগে! শিশুকাল থেকেই এই নামটা মিছিল, দেয়াল লিখন, রেডিও টেলিভিশনের খবরের সুবাদে মনের মধ্যে গেঁথে গেছে। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে ফারাক্কা নামটাকে great evil হিসেবেই বুঝে এসেছি। পানি ও রাজনীতি কোন বিষয়েই বিশেষজ্ঞ নই বলেই হয়তো বলতে পারছি - ফারাক্কার মতো আর কোন evil আমাদের কাম্য নয়।

অতীতের গবেষণা বা তার ফলাফলকে, কিংবা বর্তমান নানা হঠকারিতার যুগের কোন গবেষণাপ্রসূত সিদ্ধান্তকেই কি আমরা একঝটকায় বস্তুনিষ্ঠ মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব? তবে সকলের একই বাইবেল থেকে রেফারেন্স দেয়ার বিষয়টা আগ্রহোদ্দীপক এবং হাতাশাজনক। কারণ এই একটাই তথ্য ছাড়া আর কোন তথ্য উল্লেখ করার মত হয়ত নেই।

আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধের উপর আরো শত শত দেশের/নদীর কোন রেফারেন্স দেয়া হচ্ছে কি? বিশেষ করে উজানের দেশগুলোর মনোভাব ও ভাটির দেশগুলোর দুর্দশার আরো কয়েক ডজন বয়ান পেলে সব পক্ষের বুঝতে সুবিধা হত। ভারতের নিকট হতে এ ক্ষেত্রে আমরা কি আদৌ সাম্রাজ্যবাদী/ সৈরাচারী মনোভাব পাচ্ছি; না কি আইনসঙ্গত আচরণ আশা করতে পারি তাদের কাছে সেদিকটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া আমার মনে হয় একবার চুক্তি সই করলে বা সম্মতি দিলে (ফারাক্কার ক্ষেত্রে যেমন বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে একটা পানি চুক্তি আছে) তারপর আমাদের উপর বিরূপ কোন প্রভাবের প্রতিকার আমরা সহজে পেতে পারব না, নতুন করে কোন সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত। সচরাচর আন্তর্জাতিক, বা আন্তসীমান্ত (যুক্তরাষ্ট্রের এক স্টেট থেকে আরেক স্টেটের ক্ষেত্রে) নদীর পানি বন্টনের ব্যাপারে বিশ্বের সব দেশগুলোর অভিজ্ঞতা একটা বড় রেফারেন্স হতে পারে বলে আমার মনে হয়। আমাদের ফারাক্কা অভিজ্ঞতা কি কোন রেফারেন্স হতে পারে না?

___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।