মাসকাবারি গপসপ

সমুদ্র এর ছবি
লিখেছেন সমুদ্র [অতিথি] (তারিখ: শনি, ২১/১১/২০০৯ - ৯:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


ক্রিসমাসের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। আজকে রাতে সাড়ে তিন ঘন্টার সাপ্তাহিক ভাষাশিক্ষা শেষে বের হয়ে দেখি চারপাশ ছেলেবুড়োয় ভর্তি। একজন জানালো, সিটি সেন্টারে ক্রিসমাস মার্কেট তো আজ থেকে শুরু হচ্ছেই, সাথে আবার গ্লুওয়াইন টেস্টিংও চলছে। বুঝলাম সবার খুশি খুশি থাকার কারণ। শুক্রবারের রাতটার জন্যে সারা সপ্তাহ দৌড়াই, হুট করে কেমনে জানি চলে আসে তখন আর খুঁজে পাইনা কী করবো। আজ অবশ্য আমাদের মাস্টার্স প্রোগ্রামের পোলাপানের একটা গেট টুগেদার মতন হওয়ার কথা ছিলো। কেউ আসবে না ভাবতে ভাবতেও দেখি আট-দশ জন এসে হাজির। বাংলাদেশের আমি আর সাদাত ভাই, রুমানিয়ার কাতা আর তার বান্ধবী আন্দ্রেয়া, ভারতের বৈশাখ আর সুকন্যা, রাশিয়ার এলেনা, চীনের লি সং, পাকিস্তানের রিজওয়ান। ভার্সিটির পাশের খাবার পাড়ায় এক টার্কিশ রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়লাম। এইখানে রেস্টুরেন্টের ওয়েটাররা বিন্দুমাত্র ইংরেজি বোঝেনা। কাতার ভাষা শিক্ষিকা বান্ধবী আন্দ্রেয়া চোস্ত জার্মানে আমাদের সবার জন্যে অর্ডার দিলো। পিজা, লাজানিয়া, বিয়ার আর কোক এর সাথে মাল্টিন্যাশনাল আড্ডা জমলো বেশ। আমি অবশ্য এইখানকার গ্রিল চিকেনের বিশাল ফ্যান- আধাখান কড়া গ্রিলড মুরগি, সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সালাদ, মেয়নেজ আর কেচাপ - চার ইউরোতে এর চেয়ে ভালো খাবার আর হয় না!


আখেন (Aachen) শহর হিসাবে বেশ বড়ই মনে হয় আমার কাছে, ম্যাপ দেখে তো বটেই। আসার পর প্রথম এক সপ্তাহ গেলো বাসা খুঁজে পেতে; তখন বাসা ভাড়ার ওয়েবসাইট আর ম্যাপই ছিলো ভরসা- ওয়েবে অ্যাড দেখো, লোকেশান দেখো তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ম্যাপে খুঁজে বের করে যাও বাসা দেখতে। এই শহরে অক্টোবরে এত বিদেশি ছাত্রের সমাগম, মাথা গোঁজার জন্যে জায়গা পাওয়াই একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এদের স্টুডেন্ট হোস্টেলে সিট আছে মনে হয় হাজার চারেকের মতন, প্রায় চল্লিশ হাজার ছাত্রের বাকিদের তাই প্রাইভেট বাসাই ভরসা। এই আমিই তো ছয় মাস আগে অ্যাপ্লাই করেও এখনও সরকারি হোস্টেলে সিট পেলাম না। অফিসে জিজ্ঞেস করতে গেলে বলে এক বছর নাকি স্ট্যান্ডার্ড ওয়েটিং পিরিয়ড!
নতুন শহরে বিশাল বাক্স-পেঁটরা নিয়ে এসে হাজির, পরিচিত বাংলাদেশি কেউ নাই, ইয়ুথ হোটেলে জায়গা আছে কিনা তাও জানি না - ঘোরতর বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলো বিপদের বান্ধবী এলেনা। ওর বাসাতেই ছিলাম প্রথম সপ্তাহ। একই রুমে না, একই ছাদের নিচে আর কি!
আখেনে বাংলাদেশি ছাত্র হাতে গোনা জনাদশেক হবে। অবাকই লাগে বেশ। মাস্টার্সে প্রথম বছর স্কলারশিপ না থাকলেও ডিপার্টমেন্টে স্টুডেন্ট অ্যাসিস্টেন্টশিপ, যাকে জার্মান শর্টকাটে বলে হিভি খুব সহজেই পাওয়া যায়। RWTH (এইটা ইউনির নাম) জার্মানি একদম টপ রিসার্চ সেন্টারগুলার একটা, রিসার্চে টাকা ঢালতে এদের কোনই আপত্তি নাই। আমি আর ইন্দোনেশিয়ার ইউস মিলে মোবাইল কমিউনিকেশানের একটা ল্যাব করি। গতকাল আমাদের কাজের জন্যে একটা নোকিয়া এন সিরিজের ইন্টারনেট ট্যাবলেট বরাদ্দ করা হইছে। (ইউস দিনরাত কোডিং নিয়েই পড়ে থাকে, তাই নোকিয়াটা আশা করি আমার হাতেই থাকবে বাকি সেমিস্টার। দিল বড়ই খুশ!)
গড়ে একজন পিএইচডি স্টুডেন্ট দুই জন করে হিভি রাখতে পারে। সেই হিসাবে প্রতি সপ্তাহেই হিভির নোটিশ দেখা যায় এখানে সেখানে। এর এরিকসন, মাইক্রোসফট, ফিলিপস এদের সবারই রিসার্চ সেন্টার আছে আশেপাশে, ওখানেও অনেক ওপেনিং থাকে। ঘন্টায় ৯ ইউরোর জব যদি সপ্তাহে দশ ঘন্টাও করা যায়, সাড়ে তিনশো ইউরো পাওয়া যায় মাসে, যা দিয়ে থাকা খাওয়া খুব ভালো নাহোক, মোটামুটি ভাবে চালানোই যায়। আর বিশ ঘন্টা পেলে তো লা জওয়াব। এইবছর একটা ক্যাম্পইন করতে হবে পোলাপান যেন অ্যাপ্লাই করে। আপনাদের বন্ধুবান্ধব, পরিচিত কেউ থাকলেও জানায় দিয়েন। অনেকে মনে হয় নামই জানেনা।
বাংলাদেশি তো বললাম হাতেগোনা, একটু অবাক হলেও সত্য যে ভারতীয় ছাত্রও নেই বললেই চলে; শহর ভর্তি শুধু চাইনিজ, এবং পাকিস্তানি।


নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম আর জার্মানি - এই তিন দেশের বর্ডার এক হইছে এই আখেন শহরে। গত সপ্তাহে বাসার সামনে থেকে বাসে উঠে পনের মিনিটের মধ্যে বেলজিয়ামে চলে গেলাম। বেলজিয়ামেই যখন গেলাম তখন আর একপা দূরের নেদারল্যান্ড বাদ থাকে কেন। তিন দেশের এক সীমানার এই ট্রিপল পয়েন্ট বেশ দর্শনীয় বস্তু, লোকজনের ভিড় লেগেই থাকে হরদম। একসাথে তিন দেশে পা দিয়ে ছবি তুলতে সবার বড়ই আগ্রহ! ঘরের কাছের জিনিস দেখে আমরা অবশ্য বেশি পাত্তা দেই নাই, "ও, এই ব্যাপার" সুলভ একটা ভাব নিয়ে ঘুরে চলে আসছি।
ইউনিতে এনরোল করার সময় আমাদের যে স্টুডেন্ট সেমিস্টার টিকেটটা দেয়, সেটা বড়ই সৌন্দর্য। এই টিকিট দিয়ে NRW (আখেন যে স্টেটে) এর সবখানে ঘোরা যায়। যেকোন লোকাল বাস, ট্রেন, ট্রাম, মেট্রো্তে টিকিট দেখালেই হয়। বন, কোলন, ডুসেলডর্ফ, মিউন্সটার - সবই হাতের নাগালে। আমার মাঝে মধ্যে নিজেকে লাল কার্ডওয়ালা কিম জিবান মনে হয়!
আমার ঘর থেকে মিনিট দশেক হাঁটার দুরত্বে বিখ্যাত প্রিমিয়াম চকলেট ব্র্যান্ড লিন্ড্‌ট এর ফ্যাক্টরি। এইখানে ফ্যাক্টরি প্রাইসে চকলেট কিনতে পাওয়া যায়। মাসে দশ ইউরো বাজেট করছি চকলেটের খাতে। হাসি

------
অনেকদিন পর বৈদেশে ফিরে এসে সচলায়তনে এইটা প্রথম লেখা। গত এক মাসের টুকটাক ডাইরি সব এক পোস্টেই দিলাম। বেশ হালকা বোধ হচ্ছে!


মন্তব্য

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

এমনিতেই ইউরোপিয়ান পোলাপানের দেশভ্রমণ দেখলে রাগে মুখ দিয়া খালি বাজে কথা বের হয়, তারপর যদি এইসব ফ্রী টিকেট আর ফ্রী চকলেট আর ফ্রী নকিয়ার কথাবার্তা শুনি তাইলে কি হয় নাই বল্লাম ...

ল্যাখা ভালো হইসে বলতেও ইচ্ছা কর্তেসে না ঈর্ষায় দেঁতো হাসি
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

সমুদ্র এর ছবি

দেশ ভ্রমণ করতেও ম্যালা টাকা লাগে বন্ধু! তবে ইউরোপে ঘোরাঘুরি করার মজাই আলাদা, এইটা নির্মম সত্য দেঁতো হাসি

লেখায় বেশ কতকগুলান টাইপো রয়ে গেছে; কি আর করা...

---------------------------------------------------------
"Life happens while we are busy planning it"

"Life happens while we are busy planning it"

সাইফ তাহসিন এর ছবি

দারুন লাগল
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সমুদ্র এর ছবি

ডাংকে স্যুন, সাইফ ভাই!

----------------------------------------------------------
"Life happens while we are busy planning it"

"Life happens while we are busy planning it"

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ট্রিপল পয়েন্টের ছবি মনে হয় একটা দেখসিলাম, ফেইসবুকে ম্যাকের অ্যালবামে। ঠিক মনে নাই সেভাবে।

জার্মানিতে পড়তে গেলে নাকি ওখানকার ব্যাংকে লাখ দশেক টাকা (অ্যামাউন্টটা নিশ্চিত না) রেখে দিতে হয় কয় বছরের জন্য যেন। এমন কিছু জানো নাকি? তোমার তো যদিও স্কলারশীপ। হিসাব আলাদা।

লেখা যে আসলেই অনেক ভালো হইসে, এইটা আমারও ঈর্ষায় বলতে ইচ্ছা করতেসে না দেঁতো হাসি

সমুদ্র এর ছবি

ছবি তুলছি বেশ কয়েকটা, আলসেমিতে আর ফেসবুকে দেয়া হয় নাই।

জরুরী কথা; ৭০০০ ইউরোর একটা ব্যালান্স দেখানো লাগে। তবে সেইটা শুধু ভিসা প্রসেসিং আর এইখানে আসার পরে মাসখানেক - এই তিন মাসের জন্য। তারপরে টাকা ফ্রি, চাইলে দেশে পাঠায় দেয়া যাবে। আমি এই প্রসেসের মধ্যে দিয়ে আসি নাই, তাই একদম শিওর না হইলেও সাথের একজন এইরকমই বললো।

ডাংকে! গতকাল Twilight এর রিভিউ পড়ে কমেন্ট করা হয় নাই; তুমি তো প্রফেশনাল রিভিউয়ার হয়ে যাইতেছো! খুবই জোস!
----------------------------------------------------------
"Life happens while we are busy planning it"

"Life happens while we are busy planning it"

আনন্দ [অতিথি] এর ছবি

ভাল কথা মনে করায় দিলেন। ক্রিস্মাসে ট্যুর মারার চিন্তায় এত্তই বিভোর ছিলাম যে কেনাকাটার কথা মাথায়ই ছিল না। আপনার লেখাটা পড়ে একটু দোটানায় পরে গেলাম মন খারাপ

যাহোক, ভাল লাগল রাফি ভাই। লেখাটা কলেবরে খুব বড় না হলেও পড়া শেষে মনে হল অনেকক্ষণ পার হয়ে গেছে। আখেনের প্রান্তরে পথ হারিয়েছিলাম কী না! খাইছে

সমুদ্র এর ছবি

আমি তো কেনাকাটা করবো ক্রিসমাসের পরপর, যখন সব দোকানপাটে সেল চলবে খাইছে

ট্যুর দিচ্ছো কোথায়? আমার প্ল্যানে আপাতত আছে প্রাগ।

----------------------------------------------------------
"Life happens while we are busy planning it"

"Life happens while we are busy planning it"

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হিংসা হিংসা হিংসা খাইছে হাসি
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সমুদ্র এর ছবি

হিংসা করেনা ভাইডি! হাসি

"Life happens while we are busy planning it"

কনফুসিয়াস এর ছবি

লেখাটা খুব ভাল লাগলো। আমি এম্নিতে ভ্রমণপিপাসু নই, তবু ঘুরতে যাবার কথা কখনো ভাবলে ইউরোপের কথাই সবার আগে মাথায় আসে। সেই দিক দিয়ে আপনি ঈর্ষা করার মত ভাগ্যবানই বটে! হাসি
**
জার্মানীতে বৃত্তি নিয়ে আপনি সচলেই প্রচারণা শুরু করে দিতে পারেন। এখানে পোস্ট হওয়া ব্লগ পরে পিডিএফ হয়ে ইমেইলে ছুটোছুটি করে বেড়িয়েছে, এরকম রেকর্ড প্রচুর। হাসি
**
আরেকটা অযাচিত অনুরোধ, চকোলেটের বাজেটটা কমিয়ে প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি নিয়ে আসুন, যদি সম্ভব হয়। এই দেশে এসে নেমেছিলাম ষাট কেজি নিয়ে, গত পাঁচ বছরে ব্যাপক বদলেছি, এখন স্কেলের উপরে দাঁড়ালে আশির এ পাশে কাঁটা কিছুতেই আসতে চায় না! এর পেছনে ওই চকোলেটের অবদান নব্বই ভাগ!

-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

সমুদ্র এর ছবি

"তারেক ভাই!"
দুঃখিত সবার সামনে এইভাবে চিক্কুর পাড়ার জন্যে, তবে না দিয়াও উপায় নাই - আমি ককক সপ্তদশ, তিতাস, আপনার মনে আছে কিনা জানিনা। তবে আপনি আশি কেজির ওইপারে আছেন এইটা ভাবতেই আমার কেমন লাগতেছে! ছবি দেখতে মন চায়! হাসি
চকলেট আমারও খুবই প্রিয় বস্তু; আপনার অনুরোধ মাথায় থাকলো। আপনার ওইখানে কি লিন্ডট এর প্রোডাক্ট পাওয়া যায়? খুবই ভালো এদের চকলেট!

ইউরোপ সেইভাবে এখনও ঘোরা শুরুই করতে পারলাম না, দেখি এই বছর হয় কিনা।

হু, শুরু করতে হবে কিছু একটা এইরকম। আলসেমি কাটিয়ে যদি করতে পারি আরকি খাইছে

"Life happens while we are busy planning it"

কনফুসিয়াস এর ছবি

সর্বনাশ! বিয়াপক মজা পাইলাম। তোমার প্রোফাইলের ছবির সাইজ সুবিধার না, তবু ভাল করে দেখে লম্বা একটা ছেলের কথা মাথায় আসতেছে, বুঝতেছি না ঐটাই তুমি কিনা! হাসি
খুবই মজা পাইলাম, আমার কলেজের একজনকে এখানে পেয়ে। নিয়মিত লিখবা অবশ্যই।
রাখাল স্যারের ছেলে তোমাদের ব্যাচে ছিলো না? ও-ই কি অভিজিৎ? আরসিসিতে নাকি লেকচারার হিসেবে জয়েন করেছে, লিমনের ফেইসবুক থেকে জানলাম!
**
লিন্ডট পাওয়া যায়রে ভাই। ব্যাটারা ক্রিসমাস উপলক্ষে কঠিন ডিস্কাউন্টে চকোলেট বেচতেছে, মিজাজ চ্রম খ্রাপ! মন খারাপ

-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

সমুদ্র এর ছবি

প্রো পিক দেইখা চিনতে পারার কথা না!
আমি নিয়মিত পাঠক, কালেভদ্রে লিখি আর কি।

অভিজিৎ এর খবর আমিও পাইছি, অবাক এবং খুশি হইছি!
লিমনের স্ট্যাটাসে আপনার পরের পরের কমেন্টখান আমার করা। দাঁড়ান অ্যাডাইতেছি আপনারে।
চকলেট খান, জিমে যান, দৌড়ান - সব ঠিক! হাসি

"Life happens while we are busy planning it"

রাহিন হায়দার এর ছবি

রাফি ভাই, অতি জঘন্য লেখা, বাজে লেখা। দেঁতো হাসি
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

ভণ্ড_মানব এর ছবি

রাফি ভাই...আমিও বাস ভ্রমণ করতে করতে মোবাইলে আপনার লেখা পড়লাম। হাসি
সশস্ত্র বাহিনী দিবস চলে...পুরা ঢাকা শহর জ্যাম। ধানমন্ডি ৮ থেকে সাইন্সল্যাব হেটেঁ এসে ম্যালা কষ্টে একটা বাসে উঠলাম। সেখানেই কেটে গেলো ঘন্টা খানেক। কয়েক ফিট এগুতে পেরেছিলাম। তারপর বাস ঘুরিয়ে গ্রীনরোডের চিপা গলি দিয়ে এগুতে লাগলো। আবার কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট ধরা খাইলাম। তারপর আগারগা, শ্যাওড়াপাড়া, কাজিপাড়া, মিরপুর ১০ পুরাটা আরো ঘন্টা দুয়েক জ্যাম খেয়ে বাসায় আসলাম।...এটা ছিল আমার ভ্রমণকাহিনী। আপনারটা তবে ঈর্ষা করবো না কেন? মন খারাপ
_________________
সবাই বলে আমি নাকি ভণ্ড!

__________________________________
যাক না জীবন...যাচ্ছে যখন...নির্ভাবনার(!) নাটাই হাতে...

সমুদ্র এর ছবি

ঢাকা তো প্রতি মুহূর্তেই মিস করি; জ্যাম বলো, ভীড় বলো। শুধু ভালো কথাগুলি লিখছি বইলা ঈর্ষা করবা?! হাসি

"Life happens while we are busy planning it"

শাহান এর ছবি

জটিল লাগলো! আহ, ইউরোপ তো আইলেও আইতে পারতাম, বেচারা লুকা! দেঁতো হাসি

লিন্ড্‌ট চকলেটের জন্য হিংসা! নজর দিলাম, খা এইবার বেশি কইরা! আমি এইখানে আইসা প্রথম কয়দিন খালি স্নিকারস চক্লেট খাইছি, দেশে তো বহুত দাম আছিল। অবশ্য এখন বিরক্তি ধরে গেছে।

সমুদ্র এর ছবি

লুকা মানুষটা বড়ই সজ্জন, আমি বেশ মিস করি ভদ্রলোককে! হাসি
স্নিকার, টুইক্স - এইগুলা সপ্তাহ দুয়েক খাইলেই মুখ নষ্ট, হয় বেশি মিষ্টি নয় মাথা ঘুরে ব্লা ব্লা ব্লা। লিন্ড্‌ট কিন্তু অন্য লেভেলের জিনিস দেঁতো হাসি

"Life happens while we are busy planning it"

অতিথি লেখক এর ছবি

ও সমুদ্র ভাই, আমার জার্মানীতে মাস্টার্স করার বড়ি ইচ্ছা। স্কলারশীপ পাইতে পাইতে কি কি লাগবো ?

লেখা বড়ি ভালো লাগছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লাগলো। -শফকত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।