নয়া দিগন্ত (New Horizons)-এর ডায়েরি ও বামন গ্রহের রহস্য

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি
লিখেছেন ছায়াপথের পথচারী [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৯/০৭/২০১৫ - ২:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

৪ জুলাই ২০১৫
প্লুটোগামী মহাকাশযান ‘নিউ হরাইজন্স’ এর পৃথিবীর কন্ট্রোল রুমে টানটান উত্তেজনা। মিশন প্রধান এলান স্টার্ন পায়চারী করছেন চিন্তিত মুখে – বেশ ক’ মিনিট হয় মহাকাশযান থেকে কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে কি সাড়ে নয় বছর ধরে তিন বিলিয়ন মাইল পাড়ি দিয়ে এই ছিলো কপালে? আর সাড়ে ছয়শ’ মিলিয়ন ডলার অনুদান? তার শেষমেষ এই পরিণতি? তীরে এসে তরী ডোবার কি এর চেয়ে ভালো কোন উদাহরণ হতে পারে?

ফ্ল্যাশব্যাক
১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০

ফটোগ্রাফিক প্লেটগুলোর দিকে মগ্ন হয়ে তাকিয়ে আছেন ক্লাইড টমবাউ। গত বছর মাত্র চাকরিতে ঢুকলেন তিনি এরিজোনার এই লোয়েল অবজারভেটরিতে – তার কাজ গোয়েন্দাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়, তবে কিনা কোন অপরাধীকে পাকড়াতে হবেনা তাকে, খুঁজে বের করতে হবে অজানা এক গ্রহ – প্ল্যানেট এক্স! ইউরেনাসের কক্ষপথের সামান্যতম বিচ্যুতির হিসাব থেকে যেমন নেপচুন গ্রহের আবিষ্কার হয়, ঠিক তেমনিভাবে প্ল্যানেট এক্স এর অস্তিত্ব এখন খুবই নিশ্চিত – শুধুই খুঁজে বের করার পালা। কিন্তু এই কাজটাই ১৯০৬ থেকে ১৯১৬ সাল অবধি অবজারভেটরির প্রতিষ্ঠাতা পার্সিভাল লোয়েল করে উঠতে পারেননি, সাফল্যের দোরগোড়ায় এসে মৃত্যু তাকে নিয়ে যায় দূরে বহুদূরে! তার অসমাপ্ত কাজেরই দায়িত্ব পড়েছে এখন টমবাউ এর কাঁধে। বছরখানিক ধরে খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার চেয়েও কঠিন এই কাজে তিনি ব্যবহার করেছেন ‘ব্লিঙ্ক কম্প্যারেটর’ নামের এক যন্ত্র। এই যন্ত্র দিয়ে জোড়া জোড়া ছবি তোলা হয় আকাশের – সেখানে সত্যিকারের তারাগুলোর অবস্থানে কোন পরিবর্তন হয়না, তবে কোন গ্রহ বা গ্রহ জাতীয় কিছু থাকলে সেটা তারাদের তুলনায় অনেক কাছে হওয়ার কারণে অবস্থানের পরিবির্তন হয়। এমনই এক পরিবর্তনের আভাস টমবাউ আজ পেলেন এই ফটোগ্রাফিক প্লেটগুলোতে। ছবিগুলো ভালোমতো পরীক্ষা নীরিক্ষা করে প্রমাণ করলেন – এই সেই রহস্যময় প্ল্যানেট এক্স, পরবর্তীতে যার নাম রাখা হয় ‘প্লুটো’।


ছবিঃ প্লুটোর আবষ্কারক ক্লাইড টমবাউ।

ছবিঃ প্লুটো আন্ডারগ্রাউন্ড দল, ১৯৯৩ সালে।

ছবিঃ ১৯৯১ সালের আমেরিকান পোস্ট অফিসের ডাকটিকেটঃ প্লুটো অভিযানের ডাক!

১৯৮৯ সাল, জেট প্রোপালশন ল্যাব
এলান স্টার্ন তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবে ‘প্ল্যানেটারি এক্সপ্লোরেশন’ এর উপর এক গ্রীষ্মকালীন কোর্স করছিলেন। ঠিক সেই সময়টাতেই ভয়েজার মহাকাশযান প্রথমবারের মতো ছবি তুলে পাঠায় সৌরজগতের সীমানার কাছের গ্রহ নেপচুন আর তার অবাক করা চাঁদ ট্রাইটনের। বিশাল নীল গ্রহ আর তার পাথুরে চাঁদের ছবি দেখে মুগ্ধ হন স্টার্ন – ট্রাইটন যে অনেকটাই প্লুটোর জমজ! সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি, সমভাবাপন্ন কয়েকজনকে জোগাড় করে নেমে পড়লেন একটা প্লুটো-অভিযানকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য। তাদের এই দল পরবর্তীতে পরিচিত হয় ‘প্লুটো আন্ডারগ্রাউন্ড’ (বর্তমানের ‘মার্স আন্ডারগ্রাউন্ড’ বা ‘মার্স সোসাইটি’র মতো)। স্টার্ন আর তার দলের বহুদিনের প্রচেষ্টায় অবশেষে ২০০১ সালে নাসা প্লুটো অভিযানের জন্য ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে। প্রজেক্ট এবং মহাকাশযানের নাম দেয়া হয় ‘নিউ হরাইজন্স’ – এ যে আমাদের চিরচেনা এই সৌরজগতের সীমানায় অভিযান!

বামন গ্রহদের রাজত্বে!
সৌরজগতের সীমানার দিকটা কেমন যেন রহস্যময়! কয়েক বিলিয়ন মাইল দূরত্ব আর সেখানকার গ্রহজাতীয় প্রস্তরখন্ডগুলোর ক্ষুদ্রাকৃতির কারণে এমনকি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়েও কিছু ঠিকমতো দেখা যায়না। তাদের অস্তিত্ব যেন শুধুই চলমান ধোঁয়াটে আলোকবিন্দু। এই রহস্যময় এলাকাই হচ্ছে বামন গ্রহ আর কাইপার বেল্ট অবজেক্টদের দখলে। প্লুটোকে অনেকদিন গ্রহ হিসেবে ধরা হলেও ২০০৬ সালে তাকে গ্রহের ‘চাকরি’ থেকে বরখাস্ত করে বদলি দেয়া হয় ‘বামন গ্রহ’ হিসেবে। যখন কোন গ্রহ-জাতীয় বস্তুর ভর এর কক্ষপথের অন্যান্য বস্তুর ভরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয় এবং এর কক্ষপথে অন্যান্য বস্তুর আনাগোনা দেখা যায় (একে ঘিরে ঘুরতে থাকা চাঁদগুলোকে বাদ দিয়ে), তখন তাকে বলা হয় ‘বামন গ্রহ’। আর ‘কাইপার বেল্ট’ হচ্ছে নেপচুনের কক্ষপথের ঠিক বাইরে ‘এস্টেরয়েড বেল্ট’ এর মতো এক এলাকা – যেখানে হাজার হাজার গ্রহ/গ্রহাণু জাতীয় প্রস্তরখন্ডের অবস্থান। ধারণা করা হয় যে সেখানে একশ’ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি ব্যাসের এক লাখেরও বেশি প্রস্তরখন্ডের বসতি, যাদের বেশিরভাগই আবার বরফে মোড়া।


ছবিঃ ২০০৬ সালে প্লুটোকে গ্রহ থেকে বামন গ্রহে পদাবনতি দেয়ায় বিক্ষোভ (বামে), পালটা বিক্ষোভ (ডানে)।

ছবিঃ পৃথিবী ও চাঁদের সাথে প্লুটোর আকারের তুলনা।

প্লুটোর কক্ষপথ অন্য গ্রহের সাথে ঠিক মিলেনা। এর ২৪৮ বছরের কক্ষপথের একাংশ স্বাভাবিকভাবেই থাকে নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে, কিন্তু বাকি সময়টা প্লুটো ঢুকে পড়ে নেপচুনের কক্ষপথ পেরিয়ে সূর্যের আরো কাছে। শুধু তাই নয়, এই কক্ষপথের সমতল অন্যান্য গ্রহের সাথে সূর্যের সমতল (এক্লিপটিক প্লেন) থেকে ভিন্ন। অর্ধেকটা সময় সে সৌরজগতকে দেখে উপর থেকে, বাকি অর্ধেক সময় নিচ থেকে! প্লুটোর আকার আমাদের চাঁদের চেয়েও কিছুটা ছোট। কিন্তু তারও আছে পাঁচ-পাঁচটা নিজস্ব চাঁদ (শ্যারন, নিক্স, স্টিক্স, হাইড্রা আর কার্বেরোস)! সবচেয়ে বড় চাঁদ শ্যারনের আকার প্লুটোর চেয়ে তেমন একটা কম না হওয়ায় এরা একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরে। কাজেই, এ পর্যন্ত আমাদের জানামতে প্লুটো-শ্যারন সৌরজগতের এক ‘ডাবল ডুয়ার্ফ প্ল্যানেট’ সিস্টেম। নিজেদের অক্ষের চারপাশে এই আজগুবি কক্ষপথের কারণে প্লুটোয় ঋতুবৈচিত্রও বেশ অদ্ভুত আর এর চাঁদ নিক্স আর হাইড্রার কক্ষপথ তার চেয়েও অদ্ভুত – বলা যায় বিশৃঙ্খল! এই বিশৃঙ্খলতার কারণে নিক্স আর হাইড্রার আকৃতি চালকুমড়ার মতো! এরা একবার ঘুরে ঘড়ির দিকে, আবার পরমুহূর্তেই ঘড়ির উলটো দিকে। [এর এনিমেশান দেখতে পাবেন এখানে] প্লুটোর গা জুড়ে রয়েছে নাইট্রোজেনের বরফ, এর পাতলা বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন, মিথেন আর বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস। প্লুটোর এখন পর্যন্ত পাওয়া ঝাপসা ছবি থেকে এর ভূ-প্রকৃতি নিয়ে তেমন কোন ধারণা পাওয়া যায়না। আশা করা যায় সব ঠিকঠাকমতো চললে নিউ হরাইজন্স আমাদের সামনে উন্মুক্ত করবে রহস্যময় এক নতুন জগত।


ছবিঃ প্লুটোর উদ্ভট কক্ষপথ।

মিশন নিউ হরাইজন্স
এলান স্টার্নের তত্বাবধানে এগিয়ে চলে গ্র্যান্ড পিয়ানো আকারের নিউ হরাইজন্স প্রোবের কাজ। সূর্য থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়ার ফলে মহাকাশযানের পাওয়ার সাপ্লাই হিসেবে সোলার প্যানেলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর বা আর. টি. জি.। এতে তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলে নির্গত তাপ ব্যবহার করা হয় তড়িৎ উৎপাদনে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভয়েজার ১ ও ২ মহাকাশযান এবং মঙ্গলের বুকে চলা রোভারগুলোতে এই ধরণের পাওয়ার সোর্স ব্যবহার করা হয়। এই পাওয়ার সোর্স বহুদিন ধরে মহাকাশযানকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। ভয়েজার মহাকাশযানের ক্ষেত্রে সেটা ৫০ বছরের কাছাকাছি! তবে এর প্রধান পারমাণবিক জ্বালানি প্লুটোনিয়াম ২৩৮ এর পরিমাণ কমে আসায় আজকাল বিকল্প পদ্ধতি খুঁজতে হচ্ছে (স্ট্রনসিয়াম, পোলনিয়াম, আমেরিসিয়াম)। নিউ হরাইজন্সের রয়েছে অতিরিক্ত কম্পিউটার আর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা – এত বছরের অভিযানে যেন একটি নষ্ট হলেও অন্যটি দিয়ে কাজ চলে যায়। এতে গবেষণার যন্ত্রপাতি রয়েছে বেশ কিছু – যার অনেকগুলোই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করা। এর মধ্যে রয়েছে হাই রেজোল্যুশন ক্যামেরা, অতিবেগুনী স্পেকট্রোমিটার, ডাস্ট কাউন্টার, টেলিস্কোপ ইত্যাদি। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে –

• প্লুটো আর এর চাঁদ শ্যারনের পৃষ্ঠদেশের ম্যাপিং ও এদের ভূ-প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন।
• প্লুটোর বায়ুমন্ডল সম্বন্ধে ধারণা লাভ।
• শ্যারনের বায়ুমন্ডল খুঁজে বের করা (যদি থাকে)।
• প্লুটো-শ্যারনের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ম্যাপ করা।
• প্লুটোর চারপাশে বলয় আর অন্যান্য চাঁদের অস্তিত্ব খুঁজে বের করা।
• এক বা একাধিক কাইপার বেল্ট অবজেক্টের উপর একই ধরণের গবেষণা চালানো।


ছবিঃ নিউ হরাইজন্স লঞ্চিং - এ যাবতকালের সবচেয়ে দ্রুতগতির রকেট লঞ্চ।

১৯ জানুয়ারি, ২০০৬
এদিন অনেক বিলম্ব পেরিয়ে অবশেষে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের লঞ্চ-প্যাড থেকে ‘এটলাস ৫’ রকেটের কাঁধে চেপে রওয়ানা হয় নিউ হরাইজন্স সৌরজগতের দূর সীমানার দিকে। আরো বেশি বিলম্ব হলে এর বৃহষ্পতি গ্রহকে ব্যবহার করে ‘মহাকর্ষ গুলতি’ বা ‘গ্র্যাভিটেশনাল স্লিংশট’ অর্জন করা হয়ে উঠতোনা। সেক্ষত্রে সরাসরি প্লুটোর দিকে যাত্রা করতে হতো যা কিনা অভিযানের সময়সীমা দুই থেকে চার বছর বাড়িয়ে দিতো। নিউ হরাইজন্স এ যাবতকালের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে লঞ্চ করা মহাকাশযান যা কিনা চাঁদকে অতিক্রম করে মাত্র নয় ঘন্টায় (এপোলো মহাকাশযান সেখানে গিয়েছিলো তিন দিনে!), মঙ্গলের কক্ষপথ পেরোয় আড়াই মাসে আর বৃহষ্পতিতে পৌঁছায় মাত্র তের মাসে! এরপর বৃহষ্পতিকে পাক খেয়ে এর ভরকে মহাকর্ষ গুলতি হিসেবে ব্যবহার করে বাড়িয়ে নেয় গতিবেগ – গন্তব্য এবার প্লুটো! বৃহষ্পতির কাছে এসেই মহাকাশযানটি এর বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের এক মহড়া দিয়ে নেয়, তুলে পাঠায় বৃহষ্পতির বেশ কিছু ছবি আর অন্যান্য তথ্য। চলার পথেই সে দেখতে পায় বৃহষ্পতির উপগ্রহ ‘আইও’ –তে আগ্নেয়গিরির ভয়ানক অগ্ন্যুৎপাত, মহাকাশে ছুঁড়ে দেয়া গ্যাস আর বাষ্প। বৃহষ্পতি পেরিয়ে নিউ হরাইজন্স শুরু করে এর ‘শীতনিদ্রা’ পর্ব, বন্ধ হয়ে যায় এর যাবতীয় ইলেকট্রনিক্স এর কার্যক্রম।


ছবিঃ নিউ হরাইজন্সের যাত্রাপথ। মাঝে বৃহষ্পতিতে পাক খেয়ে গতি বাড়িয়ে বছর তিনেক যাত্রার সময় কমিয়ে নেয় এই মহাকাশযান।

ছবিঃ ২০০৭ সালে গ্রহরাজ বৃহষ্পতি ও এর আগ্নেয়গিরি ভরা উপগ্রহ আইও এর ছবি তুলে পাঠায় নিউ হরাইজন্স।

৭ ডিসেম্বর, ২০১৪
অবশেষে ভাঙ্গানো হয় নিউ হরাইজন্সের ঘুম। ২০০৭ থেকে এ সময়ের মধ্যে কয়েকবার ওকে জাগানো হলেও লম্বা সময়ের জন্য তা করা হয়নি। মাঝে মাঝে শুধু সে আধবোজা চোখে হাঁক ছাড়তো পৃথিবীর পানে – “সঅঅঅব ঠিক!”

১৫ মে, ২০১৫
এখান থেকে সে প্লুটোর যে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে, তা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চেয়েও আরো পরিষ্কার! এর পর থেকেই সে প্লুটো-শ্যারন আর অন্যান্য চাঁদগুলোর ঝাপসা কিছু ছবি তুলে পাঠাতে শুরু করে পৃথিবীর দিকে। এই যোগাযোগে আছে সাড়ে চার ঘন্টা বিলম্ব – কারণ সে যে এখন বাড়ি থেকে তিন বিলিয়ন মাইলেরও বেশি দূরে! ছবিতে আবছা করে দেখা যায় প্লুটোর গায়ে কালো কালো ডোরা – পাহাড়-পর্বত কি? কি জানি, সময়ই বলে দেবে।

কিন্তু এমন সময়েই ঘটে সেই অঘটন! ৪ জুলাইয়ে বন্ধ হয়ে যায় নিউ হরাইজন্সের সাথে পৃথিবীর যোগাযোগ। মিশন কন্ট্রোলে সবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট! ... তিল তিল করে গড়ে তোলা এই অভিযানের কি এই পরিণতি? অভিযান প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় এমনকি বিভিন্ন বিজ্ঞানী আর প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেয়া হয় তরুণ ছেলে-মেয়েদের, সেই ২০০৬ সালের দিকে – যারা কিনা আজ মাঝবয়েসী। তাদের ছেলে-মেয়েদের বেড়ে ওঠার সাথে বেড়ে চলেছে তাদের আশা – নতুন এর জগতের রহস্য উন্মোচনের! ... তাদের এই আবেগ-উদ্বেগকে সম্মান করে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সিগন্যাল পাঠানো শুরু করে নিউ হরাইজন্স। মিশন কন্ট্রোলের সবার মুখে এনে দেয় প্রশান্তির ছাপ, এলান স্টার্ন তার চেপে রাখা শ্বাসটা আস্তে করে ছেড়ে সদলবলে প্রস্তুত হয়ে পড়েন শেষ মুহূর্তের চমক দেখার আশায়। এবার অবশ্য আর ভুল হবার নয়, জুলাইয়ের ৪ তারিখ নিউ হরাইজন্স তার ব্যাকআপ কম্পিউটারে চলে যায় একই সাথে তথ্য আদান-প্রদান চালানোর ধকল সামলাতে না পারায়। এই বেলা সে শুধু তথ্য জোগাড় করবে কয়েকটা দিন ধরে ... প্লুটো-শ্যারনকে পেরিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো পাঠাতে শুরু করবে পৃথিবীর দিকে।


ছবিঃ সপরিবারে প্লুটো - নিউ হরাইজন্সের তোলা ছবি।

ছবিঃ নিউ হরাইজন্সের তোলা প্লুটোর দুই দিকের ছবি - এত কাছ থেকে প্লুটোকে আমরা আগে কোনদিনও দেখিনি!

১৪ জুলাই, ২০১৫
সাড়ে নয় বছরের অপেক্ষার অবসান, প্লুটো-রহস্যের উন্মোচন! এর ক’দিন পরেই আমরা জানতে পারবো – কেমন দেখতে এই চির ‘পরিচিত’ বামন গ্রহ! ... চলুন দেখা যাক, ‘নয়া দিগন্ত’ আমাদের জন্য কি চমক বয়ে আনে!

সংযোজন ১ঃ

ছবিঃ ১১ জুলাইয়ে তোলা ছবি। প্লুটোর ভূ-প্রকৃতি এই ছবিতে পরিষ্কার হয়ে আসছে। প্লুটো থেকে এখন দূরত্ব এক মিলিয়ন মাইল (মাত্র)।

সংযোজন ২ঃ

ছবিঃ বামন গ্রহ! সাড়ে নয় বছরে তিন বিলিয়ন মাইল পেরিয়ে অবশেষে দেখা পাওয়া গেলো প্লুটোর বিশদ ভূ-প্রকৃতির।

ছবিঃ প্লুটোর বরফ ঢাকা পর্বতমালা! পাহাড়গুলোর উচ্চতা অনেকটা আমেরিকার রকি পর্বতমালার মতোই।

ছবিঃ বামন গ্রহের সঙ্গী - প্লুটোর চাঁদ শ্যারন।

ছবিঃ সাড়ে নয় বছরের সাধনার সফলতায় আনন্দে আত্মহারা নিউ হরাইজন্স টীম।

ছবিঃ কৌতুহলী এলান স্টার্ন (ঠিক মাঝখানে) ও তার দল নিউ হরাইজন্সের পাঠানো ছবি দেখছেন।

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ

[১] https://en.wikipedia.org/wiki/New_Horizons

[২] https://en.wikipedia.org/wiki/Pluto

[৩] http://pluto.jhuapl.edu/News-Center/Science-Shorts.php?page=ScienceShorts_08_22_2014

[৪] https://www.nasa.gov/feature/one-million-miles-to-go-pluto-is-more-intriguing-than-ever [সংযোজন ১]

[৫] http://www.bbc.com/news/science-environment-33543383 [সংযোজন ২]

বিস্তারিত তথ্য জানতে দেখুনঃ

http://pluto.jhuapl.edu/Mission/The-Path-to-Pluto/Mission-Timeline.php


মন্তব্য

সো এর ছবি

নাসা ছিল আমার এক সময়ের স্বপ্নের জায়গা।
লেখা উত্তম জাঝা! গুল্লি
খালি একটা অনুরোধ। 'নয়া দিগন্ত' চেঞ্জ করে নতুন দিগন্ত দিয়ে দেন। 'নয়া দিগন্ত' শুনলেই পত্রিকাটার কথা প্রথমে মনে আসে। হেডিং দেখে স্যাটায়ার টাইপ কিছু মনে করেছিলাম।

হাসিব এর ছবি

নতুন দিগন্ত আবার নয়া দিগন্তে একসময় নিয়মিত লিখতেন এরকম একজনের ম্যাগাজিন। খিয়াল কইরা।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক হ, সব ভালো ভালো বাংলা নামগুলা বেদখল হয়ে গেল। ছাগুরা অদ্ভুত! মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শাব্দিক এর ছবি

হেডিং দেখে স্যাটায়ার টাইপ কিছু মনে করেছিলাম।

সবার মত আমিও ধরা খাইলাম ইয়ে, মানে...

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

স্পর্শ এর ছবি

অনবদ্য লেখা!! ঠিক যেন শ্বাসরুদ্ধকর রহস্য থ্রিলার পড়ছিলাম।

তবে শিরোনামে 'নয়া দিগন্ত' দেখে আমিও ভেবেছিলাম কোনো স্যাটায়ার বুঝি। নামটা 'নবদিগন্ত' করে দিলে ভালো হয়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ভালো লাগল। বহুদ্দিন পর লিখলেন, এবার নিয়মিতভাবে বিজ্ঞানময় লেখায় সচল থাকুন। হাসি

[ পুনশ্চঃ নয়া দিগন্ত নিয়া আমিও কইতে চাইছিলাম, দেখি হগগলে কইয়া ফালাইছে। অদ্ভুত! ]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কল্যাণ এর ছবি

দারুণ, আপডেটের জন্যে আগেভাগে পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম নিয়া বসলাম।

[পুনশ্চের পুনশ্চঃ নয়া দিগন্ত নিয়া দেখি হগগলে কইয়া ফালাইছে, তাই আমি আর কিছু কইলামই না, বড়ই অদ্ভুদ!]

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

ধন্যবাদ! 'নয়া দিগন্ত' নামটা আসলে ইচ্ছা করেই ব্যবহার করেছি। ছাগু ব্যাটাদের থেকে নামের কপিরাইট কেড়ে একটু প্লাজমা সাবান দিয়ে ঘষার খায়েস! নাম কি ওদের একার? চোখ টিপি

স্পর্শ এর ছবি

চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক দারুণ!

দেবদ্যুতি

অতিথি লেখক এর ছবি

নয়া দিগন্ত নামটা দেখ একটু কনফিউজড্ হয়েছিলাম। সায়েন্স ফিকশনের মতো দম না ফেলে লেখাটা পড়া শেষ করেছি। এককথায় অসাধারণ।
Jaraahzabin

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

ধন্যবাদ!

কনফিউশান এড়ানোর উদ্দেশ্যে আসল ইংরেজি নামটাও স্টেপল করে দিলাম।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হেডিঙে ইংরেজী স্ট্যাপল করা চউদা'র স্যাটায়ারের স্টাইল ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

হাহা! তাই তো! খাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ লেখা। ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল এস্ট্রোনট হব। আব্বা শুনে একখান রাম ধমক দিয়েছিলেন। স্বপ্নটা এখনও বুকের ভিতর রয়ে গেছে। এস্ট্রোনট না হতে পারলেও মহাকাশ বিষয়ক লেখাগুলো গোগ্রাসে গিলি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার এই লেখাটার জন্য।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

ধন্যবাদ! স্পেস এক্স এর ইলন মাস্ককে এক সাক্ষাতকারে জিজ্ঞেস করেছিলো, "আপনাদের কোম্পানিতে এস্ট্রোনট নেবেন কিনা?", তার জবাব ছিলো, "আমরা চেষ্টা করছি মহাকাশযানকে সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে, যারা প্লেনে চড়ে তারা তো সবাই ট্রেনিং পাওয়া লোক নয়!" - আশা করি এস্ট্রোনট না হয়েও আমরা একসময় মহাকাশে ঘুরে বেড়াতে পারবো। ভার্জিন গ্যালাকটিক কিন্তু সেটা করছে এরই মধ্যে, আর রাশিয়ার সয়ুযেও স্পেস ট্রাভেলার নেয়া হয়েছে কয়েকজন এ পর্যন্ত - যদিও সয়ুয অভিযানের জন্য তাদের ট্রেনিং নিতে হয়েছিলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ লেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক সহপাঠীর সাথে এই স্পেস প্রোগামের যৌক্তিকতা নিয়ে অনেক তর্ক করেছিলাম। এতদিন পরে তার সব কিছু মনে নেই, শুধু একটা কথা মনে আছে –মানুষের মত এত বুদ্ধিমান একটা প্রানীর এই অনন্ত মহাবিশ্বের রহস্য জানার কোন চেষ্টাই করবেনা এটা কোন কাজের কথা নয়।

আমি তোমাদের কেউ নই -> আতোকেন

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

ধন্যবাদ! ভালো কথা মনে করলেন - মহাকাশ ভ্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে ভাবছি আস্ত একটা পোস্টই দিবো। তবে এ বিষয়ে আমার প্রিয় উদ্ধৃতি হচ্ছে - "When you use money to fight poverty, it can be of great value, but too often, you are working at the margins. When you're putting people on the moon, you're inspiring all of us to achieve the maximum of human potential, which is how our greatest problems will eventually be solved." - Randy Pausch

এক লহমা এর ছবি

চলুক পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

শাব্দিক এর ছবি

"আমরা চেষ্টা করছি মহাকাশযানকে সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে, যারা প্লেনে চড়ে তারা তো সবাই ট্রেনিং পাওয়া লোক নয়!" -

চলুক চলুক চলুক সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।

অসাধারণ লাগল আপনার লেখা।
লিখতে থাকুন এমন রহস্যময় জগতের কথা, খুলতে থাকুক রহস্যের জট, আর আমরা পড়তে থাকি।

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

ইটা রাইখ্যা গেলাম...

____________________________

সাফি এর ছবি

আজকেই তো দেখা যাওয়ার কথা না? লাইভ স্ট্রিম থাকার কথা।

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ!

লাইভ স্ট্রীম নাসা টিভিতে দেখাবে, ফ্লাইবাই প্যাসিফিক টাইম ভোর ৪ঃ৫০ এর দিকে। তবে ওই সময় লোকজনের হুড়াহুড়ি ছাড়া কিছু দেখা যাবেনা। ১৯ তারিখ পর্যন্ত মনে হয় শুধু ছবিই তুলবে, এরপর থেকে পাঠানো শুরু করবে। যাতে কম্পুর উপর চাপ কম পড়ে। মাঝখানে সুযোগ পেলে দুই একটা যদি পাঠায়। স্ট্রীমিং লিঙ্কঃ http://www.nasa.gov/multimedia/nasatv/

কল্যাণ এর ছবি

ন্যাটজিও আজকে ১৮০০ ঘন্টায় (জিএমটি) এটার উপর প্রোগ্রাম দেখাবে, নাম প্লুটো এনকাউন্টার। ভালোই হওয়ার কথা।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

মন মাঝি এর ছবি

ছায়াপথের পথচারী মহাশয় কৈ গেলেন? ১৫ জুলাই ফ্লাইবাই এর পরিষ্কার ছবির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ছায়াপথেই পথ হারিয়ে ফেললেন নাকি? পোস্টের তলায় সংযোজন-২ এর প্লেইস-হোল্ডার কিন্তু এখনও খালি। আপনার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে, ভাবলাম আমিই বরং আজ ১৫ই জুলাই পর্যন্ত পাওয়া নতুন ছবিগুলি দিয়ে দেই এখানে। নীচের এনিমেশনটা (সূত্রঃ নাসা) বহু বছর আগে সেই প্রায় শুরু থেকে আজ ১৫ই জুলাই, ২০১৫ পর্যন্ত আমাদের চোখে প্লুটোর চেহারার বিবর্তনকে ধারণ করেছেঃ

(সর্বশেষ ফ্রেমে প্লুটোর বুকে ১১,০০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু বরফের পাহাড়ের ছবি দেখা যাচ্ছে। এটাই মনে হয় ১৫ তারিখে সর্বশেষ প্রকাশিত ছবি।)

****************************************

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হাততালি হাততালি হাততালি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

হেহে হাই রেজল্যুশন আরো কিছু ছবির অপেক্ষায় আছি। এগুলো তো সবে 'টিজার' চোখ টিপি তবে এনিমেশানটা দারুন লাগলো! পাহাড়ের ছবিটা তো মারাত্বক! 'দূর পাহাড়ের ধারে' - তবে তিন বিলিয়ন মাইল দূর! অ্যাঁ শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ।

মন মাঝি এর ছবি

প্লুটোর হিমপর্বত এবং হিমপ্রান্তরের উপর দিয়ে ফ্লাইওভারের এ্যানিমেশন
(১৭ই জুলাই, ২০১৫-তে প্রকাশিত সর্বশেষ অথেন্টিক ছবিগুলি দিয়ে নির্মিত)
---------------------------------------------------------------------------------
প্লুটোর "নোরগে পর্বতমালা" আর "স্পুটনিক প্রান্তর"-এর উপর দিয়ে এই সিমুলেটেড ফ্লাই-ওভার 'নিউ হরাইজন্স'-এর যাত্রাপথে প্লুটোর নিকটতম স্থান থেকে নেয়া ছবিগুলি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মাউন্ট এভারেস্টের শিখরজয়ী সর্বপ্রথম দুই মানবের একজন - শেরপা তেনজিং নোরগের নামানুসারে অনানুষ্ঠানিকভাবে "নোরগে পর্বতমালা"-র নামকরণ করা হয়েছে। পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ 'স্পুটনিকের' নামানুসারে অনানুষ্ঠানিকভাবে "স্পুটনিক প্রান্তর"-এর নামকরণ করা হয়েছে। এ্যানিমেশনের অন্তর্ভূক্ত এই ছবিগুলি ১৪ই জুলাই, ২০১৫ তারিখে ৪৮,০০০ মাইল (৭৭,০০০ কিলোমিটার) দূরত্ব থেকে 'লং ডিস্ট্যান্‌স রিকনিস্যান্স ইমেজার' (LORRI) - এর মাধ্যমে তোলা হয়েছে। আনুভূমিকভাবে আধা মাইল (১ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত সারফেসের বৈশিষ্ট্যগুলিও এই ছবিতে দৃশ্যমান।


[সূত্র। Credit: NASA/JHUAPL/SWRI]

****************************************

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ছায়াপথের পথচারী এর ছবি

দুর্দান্ত! এপোলোর চন্দ্র প্রদক্ষিণের ভিডিওর কথা মনে পড়ে গেলো!

pappu এর ছবি

বাঘের বাচ্চা

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA