খাঁচার ভিতর অচিন পাখি লালনের মূর্তি নয়, বাঙালির মূর্তি

যূথচারী এর ছবি
লিখেছেন যূথচারী (তারিখ: শনি, ১৮/১০/২০০৮ - ১২:৩৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

হযরত সাইদী (রঃ)-এর বিবৃতি

লালন ফকিরের কোনো ছবি নেই, কস্মিনকালেও ছিল না। যে ছবিটিকে সাধারণত লালনের ছবি হিসেবে উপস্থিত করা হয়, সেটি লালনের নয়, সাধারণ এক বাউল বা বয়াতীর ছবি। এ বিষয় নিয়ে ফরহাদ মজহার "বাংলার ভাব আন্দোলন" নামে একটা লেখায় বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন, সুতরাং এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন মনে করছি না।

মৃণাল হক যে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছিলেন বিমানবন্দর সড়কে, সেটির নাম "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি", সেখানে যে বাউলের ভাস্কর্য করা হচ্ছিলো, সেটি লালনের নয়। লালনের মূর্তি করা সম্ভব না। কেননা লালনের কোনো ছবি বা স্কেচ নাই।

লালনের ছবির নামে এতোদিন যা হয়েছে এবং লালনের মূর্তির নামে আসলে যা হচ্ছিলো, তা আসলে বাঙালির চিরন্তন রূপের একটা প্রকাশ। হুজুররা এই মূর্তি ভাঙ্গার মাধ্যমে আসলে বাঙালি জাতিসত্তার ওপরে একটা সরাসরি আঘাত হানলেন। বাঙালির আত্মপরিচয়ের একটা বড় অংশই হলো বাংলার ভাববাদ। বাংলার ভাববাদের প্রধান যে নির্মাতা তাদের অন্যতম লালন এবং বাংলার বাউলেরা। এই মূর্তি ভাঙ্গার মাধ্যমে বাংলার দর্শন তথা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বিচূর্ণ করা হয়েছে।

এই ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১২টায় চারুকলার সামনে মানবন্ধনের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

* বিবৃতিটি ৬ জানুয়ারি ২০০২ দৈনিক ইত্তেফাক থেকে নেয়া


মন্তব্য

সুমন চৌধুরী এর ছবি
হিমু এর ছবি

সংহতি জানাই।

অবস্থা দেখে যা মনে হচ্ছে, দেশে যে কোন কিছু ভাংচুর করার জন্য মাদ্রাসার পোলাপান হায়ার করাই বেশি এফিশিয়েন্ট হবে। এরা কয়েকজন একজোট হয়ে চিৎকার করলে একেবারে উপরমহল পর্যন্ত তহবন নষ্ট করে ফেলে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

বিপ্লব রহমান এর ছবি

খতমে নবুয়াত-ওয়লারা জিয়া বিমানবন্দরের গোল চত্বরে লালন-ভাস্কর ভেঙে ফেলার দাবিতে শুক্রবার বাদ জুম্মা জরুরি অবস্থার ভেতরেই জেহাদী মিছিল করেছে। তাদের দাবি, সেখানে ওই নির্মানাধীণ ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে মক্কা-মদিনার মিনার গড়া হোক!


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

বজলুর রহমান এর ছবি

"অমুসলিমদের উপাসনার মূর্তি ভাঙ্গা হবে না।"

এখন আমি যদি বলি আমি এ-মূর্তিতে ফুল দেব, তাহলে আমি অমুসলিম, যে এটাকে 'পূজা' করতে চায়। ভাঙ্গা যাবে তখন?

রণদীপম বসু এর ছবি

রাজাকার মুজাহিদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতেই জামাতিদের শুরু হইছে ভাস্কর্য ভাঙা। আসলে ভাস্কর্য তো ভাঙছে না, ছিঁড়ে ফেলা শুরু হলো বাঙালির নাড়ি।

এই অথর্ব জাতিকে আরো বহু মূল্য দিতে হবে। নইলে এরা এমন জঘন্য কাজের পরেও দুঃসাহসিক বক্তব্য রাখে কী করে ! যে জাতির নেতৃত্ব দেয় কিছু অথর্ব প্রাণী, সে জাতির কপালে আরো অনেক কিছুই আছে !

থু থু দিচ্ছি এইসব কুলাঙ্গারদের মুখে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নিঝুম এর ছবি

হিমু ভাইয়ের মন্তব্যে বিপ্লব !!!
--------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

আরিফুর রহমান এর ছবি

এই যে একটা একটা করে বাঙালী্ত্বের উপকরনগুলিকে সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে...এর সুদুরপ্রসারী ফলাফল কি হবে...আমরা কেউ বুজতে পারছি কি?

হাসান মোরশেদ এর ছবি

'বড় দুঃখে বাংলাদেশের বাউল মইরাছে...'

ভাববাদীরা সবসময়ই ধর্মান্ধদের লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন, মুসলিম ঘরানার বাউলদের একতারা ভেংগে দাড়ি উপড়ে ফেলেছে শরীয়তপন্থীরা, বৈষ্ণবদের শারীরিক নির্যাতন করেছে ব্রাম্মন রা ।

বাংলার ভাবদর্শন ও মানবতার চর্চা কোনকালেই নিরাপদ ছিলোনা ।

এই সময়টা নিঃসন্দেহে অনেক মারাত্নক । ধর্মান্ধদের উসকে দিচ্ছে স্বয়ং রাষ্ট্র আর এর বিরুদ্ধে গড়ে উঠছেনা কোন কার্যকর প্রতিরোধ ।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

ভাঙার জন্য একটা লিস্টি করে দিই, মুহাতারামের কাজ সুবিধা হবে -

১) স্মৃতিসৌধ
২) শহীদ মিনার
৩) অপরাজেয় বাংলা

আপাততঃ এই তিনটা।
৩ সংখ্যাটার আলাদা কদর আছে।

মুজিব মেহদী এর ছবি

আমিনীরা এসব ভাঙবে না বলে দিয়েছে। তারা বলেছে যে, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইয়ে যেগুলো সেগুলো ভাঙা হবে না। এছাড়া আওয়ামী লীগ আমলে নির্মিত বাকি সব মূর্তি ভেঙে ফেলা হবে।

এরপরে আমাদের উচিত হবে নতুন কোনো মূর্তি গড়ার চেষ্টা না করে আমিনীর পাছায় বাঁশ দিয়ে বিমান বন্দরের সামনে পুঁতে দেয়া। ওটা অবশ্যই অনৈসলামিক হবে না, কারণ ব্যাটার মুখে দাড়ি আছে, পরনে আছে পাঞ্জাবি-পাজামা। তাছাড়া যদ্দুর জানি ব্যাটা হজ করে এসেছে।
.......................................................................................
তোমার হাতে রয়েছি যেটুকু আমি, আমার পকেটে আমি আছি যতটা, একদিন মনে হবে এটুকুই আমি, বাকি কিছু আমি নই আমার করুণ ছায়া

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
কচুরিপানার নিচে জেগে থাকে ক্রন্দনশীলা সব নদী

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত।

_ সাইফুল আকবর খান

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

সংহতি।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
Life is what happens to you
While you're busy making other plans...
- JOHN LENNON

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

টিটো রহমান এর ছবি

থু থু দিচ্ছি এইসব কুলাঙ্গারদের মুখে।

কনফুসিয়াস এর ছবি

বাহ, এই তত্বাবধায়ক-ভাংচুর-কমিটির কাজ কারবারে বিমোহিত হয়ে যাচ্ছি দিন দিন।
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA