আমাদের সুরাইয়া খানম

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মুহম্মদ জুবায়ের (তারিখ: শনি, ২৪/০৫/২০০৮ - ১২:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষক সুরাইয়া খানমের মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে ২৫ মে। তাঁর মৃত্যুর পরপরই এই লেখাটি প্রকাশিত হয় ঢাকার একটি দৈনিক কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে। বিগত হয়েছেন, সুতরাং তাঁর সম্পর্কে নতুন কোনো স্মৃতি তৈরি হওয়ার পথও আর নেই। সুরাইয়া খানমকে স্মরণ করে তাই পুরনো লেখাটির শরণাপন্ন হতে হলো।

অনেকটা নিঃশব্দে সুরাইয়া খানম চলে গেলেন গত ২৫ মে। আমেরিকার মরুময় রাজ্য আরিজোনার একটি শহরে তিনি বাস করতেন জানতাম। হয়তো দুরূহ ছিলো না, তবু যোগাযোগ করা হয়নি তাঁর সঙ্গে। খবর এলো কিছুটা গুজবের মতো করে, বিশ্বাস হয়নি বা করতে চাইনি বলেই হয়তো গুজব মনে হয়েছিলো। ৬০ আর কী এমন বয়স যে চলে যেতে হবে?

বস্টন থেকে কবি বদিউজ্জামান নাসিম ফোন করে জানালেন, সুরাইয়া খানমের মৃত্যুসংবাদ-সংবলিত একটি ইমেল পেয়েছেন তিনি। অনেককে ফোন করেছেন, নিশ্চিত হতে পারেননি। জিজ্ঞেস করলেন, আমি কিছু শুনেছি কি না। জানতাম না। জানলাম জনকণ্ঠে মাহবুব তালুকদারের লেখায়। তাতে উল্লেখ ছিলো, ওই কাগজের শোক সংবাদ বিভাগে খবরটি ছিলো। কয়েকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রতিদিন ইন্টারনেটে পড়া হলেও শোকসংবাদে আমার কী কাজ? অথচ সুরাইয়া খানমের চলে যাওয়ার সংবাদটি যে সেখানেই পাওয়া যাবে, কে জানতো!

১৯৭৩-এ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় সুরাইয়া আপা ছিলেন না, শিক্ষক হয়ে এলেন ওই বছরের শেষের দিকে অথবা ৭৪-এর শুরুতে। ক্যামব্রিজে পড়া বিদুষী এবং অসামান্য রূপসী সুরাইয়া খানম সাড়া জাগালেন অবিলম্বে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে মহিলা শিক্ষকদের আপা বলে সম্বোধন করার প্রচলন ছিলো না। ম্যাডাম বলা হতো, সম্ভবত এখনো হয়। সেই হিসেবে সুরাইয়া খানমকে আমারও ম্যাডাম সম্বোধন করার কথা। হয়নি, তার পেছনে আমার ছোটো বোন ঝর্ণার খানিকটা অপ্রত্যক্ষ ভুমিকা ছিলো। ঝর্ণা থাকতো শামসুননাহার হলে, সুরাইয়া খানম সেখানে হাউস টিউটর হয়ে এলেন। তাঁর জন্যে আলাদা আবাস বরাদ্দ হলো না। অথবা করতে পারলো না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি তখন সংসারী নন, একা মানুষ। তাঁকে থাকতে দেওয়া হয়েছিলো ছাত্রীদের জন্যে নির্ধারিত একটি কক্ষে। নম্বর ২৪০। ঠিক পাশেই ২৩৯-এর বাসিন্দা ঝর্ণার সঙ্গে তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠতা হয়। ঝর্ণার জন্যে তাঁর বরাদ্দ স্নেহ-প্রশ্রয়ের কিছু আমার ভাগে এসে পড়ায় তিনি সুরাইয়া আপা হয়ে গিয়েছিলেন। ক্লাসে আমার নিয়মিত অনুপস্থিতির ফলে বেশি যোগাযোগ ছিলো না, ছাত্র হিসেবে আমার নিতান্ত অনুজ্জ্বলতাও হয়তো একটি কারণ।

স্নব হিসেবে ইংরেজি বিভাগের খ্যাতি ছিলো, এখনো তা অব্যাহত আছে অনুমান করি। ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থীরা বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্য, নিয়ে কথা বলবে বা চর্চা করবে তা যেন খুব নিম্নমানের কাজ, জাত খোয়ানোর মতো নিন্দনীয় অপরাধ। ব্যতিক্রম অবশ্য সবখানেই থাকে, ইংরেজি বিভাগে নিম্নবর্গীয় সেই সংখ্যালঘুদের একজন ছিলেন সুরাইয়া খানম। নিজে কবিতা লিখতেন, তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘নাচের শব্দ’ প্রকাশিত হয়েছিলো সত্তর দশকের মাঝামাঝি। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে বাংলা ভাষায় লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রাজিয়া খান ও সেলিম সারোয়ার এবং কিছু পরের সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কাশীনাথ রায় ও খোন্দকার আশরাফ হোসেন। সেই সময়ের ছাত্রদের মধ্যে নূরুল করিম নাসিম ও শিহাব সরকার লেখালেখিতে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বলে মনে পড়ে।

অন্যসব ক্লাসের মতোই সুরাইয়া আপার ক্লাসেও আমার বারকয়েকের বেশি যাওয়া হয়নি। তিনি কী পড়াতেন, তা-ও মনে নেই। অমনোযোগী ছাত্র হলে যা হয় আর কি। আরেকটি কারণ স্বীকার করে নিতে সংকোচ নেই। প্রিয়দর্শিনী সুরাইয়া আপার ছিলো দৃপ্ত ও দৃঢ় বাচনভঙ্গি এবং প্রখর ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বলতা। যে কয়েকবার তাঁর ক্লাসে উপস্থিত হয়েছি, হয়তো এইসব গুণাবলিই বেশি চোখে পড়েছে, বিদ্যা অর্জন গৌণ। ক্লাসের বাইরে বারকয়েক তাঁর অফিসে গিয়েছি। একা বা দুয়েকজন বন্ধুবান্ধবসহ। তাঁর রূপ ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ আমার দুই লাজুক সহপাঠী কীভাবে যেন আবিষ্কার করে ফেলে যে, সুরাইয়া আপার সঙ্গে আমার সামান্য যোগাযোগ আছে। তাদের খুব ইচ্ছে তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলা, কিন্তু কীভাবে সম্ভব জানে না। মনে আছে, মধুর ক্যান্টিনে চা-সিঙাড়ার বিনিময়ে দুই গুণমুগ্ধকে এক দুপুরে তাঁর অফিসে নিয়ে যাই।

সেই সাক্ষাতের সময় একটি মজার ঘটনা ঘটেছিলো। দুই সহপাঠী বন্ধুকে নিয়ে সুরাইয়া আপার কক্ষে গিয়ে দেখি তাঁর উল্টোদিকের চেয়ারে বসা আমাদের দুই-এক বছরের কনিষ্ঠ চশমা-পরা একটি মেয়ে এক নাগাড়ে কথা বলে যাচ্ছে। সুরাইয়া আপা আমাদের বসতে ইঙ্গিত করে মেয়েটির কথায় হুঁ হাঁ করে যাচ্ছিলেন। সে মেয়ের কথা আর থামেই না। তার একটি কথা এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। সে সাহিত্যে কতোটা নিবেদিতপ্রাণ তা বোঝাতে গিয়ে জানায়, ‘জানেন ম্যাডাম, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ সাহিত্যচর্চা না করলে আমার ঘুমই আসে না!’ সুরাইয়া আপার মুখে কৌতুকের হাসি ফুটে উঠেই মিলিয়ে যেতে দেখলাম।

তাঁর অফিসে গেলে কথা হতো বাংলা সাহিত্য নিয়ে। ঠিক আড্ডা বলা চলে না, আপা ডাকলেও শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্কজনিত দূরত্ব কিছু ছিলোই। যোগাযোগটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কথাবার্তায় তাঁকে খুবই আবেগতাড়িত মানুষ বলে মনে হতো। কথা বলতেন সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের গভীর থেকে। অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ছিলেন, যা তাঁকে কিছু মানুষের চোখে অপ্রিয়ও করে থাকবে।

সুরাইয়া আপার একটি ঐতিহাসিক কীর্তির কথা অনেকের জানা নেই। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের পক্ষে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয়ের পর লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়্যারে বাঙালিদের বিজয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাটি উত্তোলিত হয়েছিলো তাঁরই হাতে।

১৯৭৫-এর ২৬ নভেম্বর। সকালে ক্লাসে যাওয়ার পথে খবর পাওয়া গেলো, তরুণ কবি আবুল হাসান প্রয়াত। তাঁর কবিতা আমার প্রিয়। আবুল হাসান দীর্ঘকাল অসুস্থ ছিলেন, সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্যে তাঁকে পাঠানো হয়েছিলো বার্লিনে। যতোদূর জানি, একজন কবির চিকিৎসার জন্যে সরকারি তৎপরতা ও সহায়তার ঘটনা বাংলাদেশে সেই প্রথম। ফিরে আসার পর হাসান অল্প কিছুদিন ভালো ছিলেন, তারপর তাঁকে আবার পি জি হাসপাতালে (এখন শেখ মুজিব হাসপাতাল) ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, সুরাইয়া আপা ছাড়েননি। আবুল হাসানের সঙ্গে সুরাইয়া আপার বন্ধুত্ব বা ততোধিক ঘনিষ্ঠতা হয়েছিলো, এই মর্মে কথাবার্তা শোনা যেতো। সেসব প্রসঙ্গ অবান্তর, কবির সেই শেষ সময়ে সুরাইয়া খানম অবতীর্ণ হয়েছিলেন মমতাময়ীর ভূমিকায়।

প্রিয় কবির মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ক্লাস করতে যাওয়া যায় না। পি জি হাসপাতালে পৌঁছে দেখলাম উদভ্রান্ত সুরাইয়া আপাকে, প্রয়াত কবির বিছানার পাশে দাঁড়ানো। তাঁকে অমন করুণ ও অসহায় আগে কোনোদিন দেখিনি। কিছু কিছু ছবি চিরকালের মতো হৃদয়কন্দরে জেগে থাকে, তাঁরে সেই মুখ আজও ভোলা হয়নি। কবির বন্ধু-আত্মীয়-ভক্তরা তখন ধীরে ধীরে সমবেত হচ্ছেন পি জি হাসপাতালে কবির অন্তিম শয্যাটিকে ঘিরে। অতো মানুষের সংকুলান সেই ছোট্টো কক্ষে হওয়ার কথা নয়, আমরা কেউ কেউ বাইরে বারান্দায় দাঁড়ানো। সুরাইয়া আপা হঠাৎ বেরিয়ে এলেন। কী ভেবে কে জানে, আমার হাত ধরে বললেন, ‘ওরা হাসানের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। তা কিছুতেই হতে পারে না, হাসানের খুব ইচ্ছে ছিলো তার কবর হবে রেসকোর্সের একপাশে। সে বলে গেছে। আমার কথা কেউ শুনছে না, তুমি একটু বুঝিয়ে বলবে ওদের?’

জীবনে একেকটা অসহায় সময় আসে যখন মানুষ খুব অবুঝ ও যুক্তিহীন হয়ে যায়। তখন অতি সামান্য কিছুকেও শক্ত অবলম্বন ভাবতে ইচ্ছে করে। না হলে এতো মানুষ থাকতে সুরাইয়া আপা আমাকে এই অনুরোধটি কেন করবেন? আমার কী ক্ষমতা, আমি তো সত্যিই কেউ না, আমার কথা কে শুনবে? তাঁর তখন সেসব বিবেচনা করার অবস্থা নেই। বুঝতে পারি, অনেকের কাছে প্রত্যাখ্যাত ও উপেক্ষিত হয়ে সবাইকে তিনি একই অনুরোধ করে যাচ্ছেন, হাসানের কবর যেন ঢাকায় হয়। হঠাৎ রাহাত খানকে দেখতে পাই। আমি সুরাইয়া আপাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাই। বলি, ‘রাহাত ভাই কিছু একটা করতে পারবেন হয়তো।’

নিজের অসহায়ত্ব নিয়ে সরে এসেছিলাম সেদিন। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া আর কোনোদিন হয়নি। আমি পেরে উঠিনি। সুরাইয়া আপা একটিমাত্র অনুরোধ করেছিলেন, যা রক্ষা করার ক্ষমতা আমার ছিলো না।

এই মর্মে একটি সাধারণ ধারণা প্রচলিত আছে যে মেয়েদের মেধা ও সৌন্দর্যের সম্মিলন খুব কম দেখা যায়। হয়তো খুব অমূলক নয়। কিন্তু সুরাইয়া খানম সেই সংখ্যালঘুদের একজন যাঁর মধ্যে মেধা, প্রতিভা ও সৌন্দর্য এক হয়ে মিশে গিয়েছিলো। এসব ক্ষেত্রে যা হয়, রূপসী নারী হিসেবে তিনি যতো প্রচারিত হয়েছেন, মেধাবী শিক্ষক বা প্রতিভাবান কবি সুরাইয়া খানমকে নিয়ে আলোচনা সে তুলনায় ততোটাই কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে প্রবাসী হয়েছিলেন আশির দশকের শুরুতে। বিয়ে করে সংসার পেতেছিলেন, স্বামী সৈয়দ সালাউদ্দিন এক দুর্ঘটনায় মারা যান বছর দুয়েক আগে। তাঁর মেয়ে সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছে, স্বামীসহ ওয়াশিংটন ডি সি-তে বাস করে। সুরাইয়া আপা শেষের দিনগুলিতে সম্পূর্ণ একা ছিলেন শুনেছি। তাঁরও সময় ফুরিয়ে গেলো।

বিদায়, সুরাইয়া আপা। আপনার অন্তর্ধানের খবরে ঝর্ণা বলছিলো, কারণে-অকারণে প্রায়ই আপনাকে তার মনে পড়ে। আপনাকে সে ভোলেনি (‘অমলকে বোলো, সুধা তাকে ভোলেনি!’)। আপনার সম্পর্কে তার শেষ কথা, আপনি সময়ের তুলনায় অনেক অগ্রবর্তী ছিলেন। আপনার আরেক ছাত্র, আমার বন্ধু বিক্রম ইমেলে জানালো, তাদের ‘পদাতিক’ পত্রিকার জন্যে একটি কবিতা দিয়েছিলেন আপনি। আপনার স্বহস্তে লেখা মূল কপিটি তার কাছে রক্ষিত ছিলো দীর্ঘদিন। এখন খুঁজে না পেয়ে তার অনুশোচনার শেষ নেই। আপনাকেও আর পাওয়া যাবে না। আমার কথা জানিয়ে রাখি, যতোদিন আয়ু অবশিষ্ট আছে, বছরে অন্তত একবার হলেও আপনাকে মনে পড়বে। আপনার চলে যাওয়ার দিনটির খুব আশেপাশেই যে আমার জন্মদিন। ভুলি কী করে?


মন্তব্য

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

গত বছর পড়েছিলাম।
আজ আবার পড়লাম। সুরাইয়া খানমের জন্য শ্রদ্ধা।
-
জুবায়ের ভাইকে জন্মদিনের অগ্রিম/বকেয়া শুভেচ্ছা, শুভকামনা; আগামী ৩৬৫ দিনে যেন একদিনও শরীর খারাপ না হয়।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

তোমার শকুনের চোখকে (ভালো অর্থে বলছি হাসি )ফাঁকি দেওয়া মুশকিল দেখছি!

জন্মদিনের শুভকামনা বকেয়া হয়ে গেলেও (তোমার দোষ নেই, তারিখ তো তোমার জানা ছিলো না!) পেতে মন্দ লাগে না। এই বয়সে এসে জন্মদিনে এক ধরনের বাজে অনুভূতি হয় - আয়ু আরেক বছর কমে যাওয়ার অস্বস্তি। কিন্তু ৩৬৬-তম দিনে অসুস্থ হওয়া জায়েজ তো? চোখ টিপি

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

হা হা।
মনে আছে, ব্লগে আপনার যে লেখায় (চন্দ্রবিন্দুরা সব গেলো কোথায়) প্রথম কমেন্ট করেছিলাম, সেখানেও এই শকুনশক্তি (ভালো অর্থে) দেখিয়েছিলাম এই বলে, 'লেখাটি কোনো এক পত্রিকায় পড়েছিলাম। কিছু প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছিলেন অন্য কেউ'। ঃ)
_
৩৬৬ দিনের শুভকামনাটা ঠিক ৩৬৫ দিন পরে জানাবো। বাৎষরিক হিসাব। চোখ টিপি
ভালো থাকবেন ।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

খুব মনে আছে। দেরি হলেও 'চুপকথা'-বৃত্তান্তও খুঁজে পেয়েছো। এখন থেকে বলতে হবে 'শকুনচোখ, থুক্কু, শিমুল হইতে সাবধান'! চোখ টিপি

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

বিপ্লব রহমান এর ছবি

বিষন্নতায় মাখা অদ্ভুদ সুন্দর লেখাটির জন্য জুবায়ের ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
---
শুনতে পাই, কবি আবুল হাসানের প্রেমিকা ছিলেন সুরাইয়া ম্যাডাম। আবুল হাসানের জীবনের শেষ দিনগুলোতে হাসপাতালেই কবির সেবা করে কেটেছে তার অনেক দিন।

আর পরে আহমদ ছফার সঙ্গেও সুরাইয়া ম্যাডামের সখ্যতা ছিলো। আমি নিজেও এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন করে জ্বালাতন করেছি, ছফা ভাইকে। কিন্তু উনি কখনো এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

কিন্তু দুই কবির অকথিত প্রেমগাঁথা এখনো খুব জানতে ইচ্ছে করে।...

জুবায়ের ভাই বা অন্য কোনো সহ ব্লগার এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেন?
---
শ্রদ্ধা জুবায়ের ভাইকে জন্মদিনের অগ্রিম শুভেচ্ছা!


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

সুরাইয়া খানমের সঙ্গে আবুল হাসান বা আহমদ ছফার কী ধরনের সম্পর্ক ছিলো তা আমার কৌতূহলের বিষয় হয়নি কোনোকালেই। এই তিনজনের গুণমুগ্ধ আমি, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। আপনি নিজেই জানাচ্ছেন, আহমদ ছফা এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তাঁর মতো অকপট মানুষ কিছু বলতে না চাইলে সে বিষয়ে অন্যের কিছু বলা কি সাজে? এই তিন গুণীর প্রত্যেকেই প্রয়াত, কেউ সত্যাসত্য কিছু বললে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তাঁদের নেই। থাক না হয় এইসব প্রসঙ্গ। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সম্পর্ক বিষয়ে জনশ্রুতির বেশি আমার কিছু জানা নেই। দুঃখিত।

আর আমার জন্মদিনের শুভেচ্ছা? আগামী বছরেরটা আগাম পেয়ে গেলাম। মন্দ কি! হাসি

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

বিপ্লব রহমান এর ছবি

হুমম...ঠিকই বলেছেন জুবায়ের ভাই। থাক ওসব বালক বয়সের কৌতুহল। অকথিত প্রেম-অপ্রেমে এখন আর কী-ই বা আসে যায়!

আর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ধন্যবাদ কিন্তু আ.সা. শিমুলের প্রাপ্য। সে-ই এর প্রধান উস্কানীদাতা। চোখ টিপি


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

@ জুবায়ের ভাই
লেখাটি আগেই পড়েছিলাম অনেকবার ।আবার পড়লাম । আমার পছন্দের পোস্টে যুক্ত করলাম ।

@বিপ্লব ভাই,
আমিও শুনেছি সুরাইয়া আপার সাথে আবুল হাসান আর ছফা ভাইয়ের সখ্যতার কথা ।

জুবায়ের ভাই কি এগিয়ে আসবেন ?

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

তীরন্দাজ এর ছবি

আপনাকে ধন্যবাদ ও সুরাইয়া খানমকে শ্রদ্ধা জানাই আমার!
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

ধন্যবাদ, তীরন্দাজ।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

বজলুর রহমান এর ছবি

তিন বিখ্যাত বোনের নাম মনে পড়ে বার বার ঃ দিলারা (হাশেম), যিনি ভোয়াতে খবর পড়তেন, আর দেশের প্রায় সব সাময়িকীকে তাঁর বিভিন্ন রকম সাহিত্যকর্ম দিয়ে উজ্জ্বল করতেন, দিলশাদ খানম , যাঁর রক্তকরবীতে আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত এক নাটকে (নাম মনে নেই) সৈয়দ আহসান আলী সিডনীর (জিতুর বাবা) সঙ্গে অপূর্ব অভিনয় আজো আমার চোখে ভাসে, আর সুরাইয়া খানম। আরো এক বোন আছেন শুনেছি, কিন্তু তাঁর নাম ভুল গেছি।

আমি বন্ধুদের কাছে শুনেছিলাম সুরাইয়া খুব সুন্দরী। বিস্ময়ের বিষয় এই যে, আমরা কখনো কখনো পাঁচ গজের মধ্যে এসে গেলেও আমি কখনোই সুরাইয়ার মুখ দেখি নি। হয়তো এক বন্ধু আমার মনোযোগ আকর্ষণ করতে বলেছে - এই তো সুরাইয়া। আমি ফিরে তাকাতেই দেখি, মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে এবং কোন বিদেশী ছেলের সাথে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যাচ্ছে ইউনিভার্সিটি সেন্টার থেকে। হয়তো ক্যাম নদীর পারে দেখছি এক কালো ছেলের সাথে হেঁটে যাচ্ছে বহুদূর। তখন তো দ্রুত হেঁটে ধরে ফেলে আর বিরক্ত করা যায় না!

কিন্তু বন্ধু হাসান এক দিন বলেছিল ঃ "সুরাইয়াকে বললাম তুমিও ওখানেই আছ, ও এমন রেগে গেলো কেন, আমরা সব বন্ধু কেন তোমার কথা সব সময় বলি!" তখন আমি অবাক হয়ে তার মুখের দিকে শুধু তাকিয়ে এই আকস্মিক উষ্মার কারণ বের করার চেষ্টা করে বিফল হয়েছিলাম। পরে আমরা সবাই মিলে এটাই ভাবতাম -মেয়েটা বেশী আবেগপ্রবণ।

আমি সুরাইয়ার কবিতা পড়েছি। খুব বেশী লিখত না। যা লিখত তাতে যত্ন ছিল, আমার ভালই লাগত, কিন্তু সাধারণভাবে কবিতার ভক্ত নই, আর স্মৃতিশক্তি দুর্বল বলে আজ কোন পঙ্কতি বলতে পারব না। তবে ওর বইটার নাম আমার মনে থাকে। নাচের শব্দ --হতে পারত শব্দের নাচ। এক সময় থেমে যেতে হয়।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

ওর বইটার নাম আমার মনে থাকে। নাচের শব্দ --হতে পারত শব্দের নাচ। এক সময় থেমে যেতে হয়।

সুন্দর বলেছেন। তবে নাচের শব্দও তো একসময় থামে।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

হাসান মোরশেদ এর ছবি

কয়েকজন মিথিক্যাল সু্ন্দরী আমার সর্বনাশ করেছেন ।
যে কৈশোরবেলা ছেলেরা যে কোন পার্শ্ববর্তীনীর প্রেমে পড়ে,সেই ইঁচড়ে পাকা সময়ে আমি এদের কথা জেনে গিয়েছিলাম ,তাই আর সহজে সে রকম প্রেমে পড়া হলোনা আমার ।

এই মিথিক্যাল সুন্দরীদের একজন আবুল হাসানের শূশ্রুষাদায়িনী সুরাইয়া খানম । আরো ক'জন হলেন-নভেরা, মার্গারেট ম্যাথিউস(সুনীলের বর্নিত ফরাসী বালিকা), জোয়ান অব আর্ক( আঁকা ছবি দেখেছিলাম একটা রাশান বইয়ে), লায়লা খালিদ ।

জুবায়ের ভাইকে ধন্যবাদ হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানোর জন্য ।

----x----
...অথবা সময় ছিলো;আমারই অস্তিত্ব ছিলোনা

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

'সর্বনাশ' করার সামর্থ্যের কারণেই এই সুন্দরীরা মিথিক্যাল হয়ে ওঠেন! যদিও এমন সর্বনাশের অপেক্ষায়ই আমরা থাকি ('আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়')।

শুধু রূপসী বলে নন, সামান্য হলেও আমি সুরাইয়া খানমের মতো ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসতে পেরেছিলাম বলে গৌরব বোধ করি। তিনি আর কোথাও নেই বলে যা শেষ পর্যন্ত বিষাদ হয়ে ওঠে।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

স্নিগ্ধা এর ছবি

সুরাইয়া খানম সম্পর্কে ততোটা জানতাম না। দিলারা হাশেমের লেখা আর দিলশাদ খানমের অভিনয়ের কারণে ওই দু'বোনকে অনেক বেশী চিনতাম। আপনাকে ধন্যবাদ চমৎকার এই লেখাটার জন্য। আহারে, এমন সব শিক্ষয়িত্রী যদি এখন থাকতেন ঢা বি তে !

যাঁকে নিয়ে লিখেছেন তাঁর মতোই আপনার বলাটাও আবেগময় আর ঋজু হাসি

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

সুরাইয়া খানমের তুলনায় দিলারা হাশেম ও দিলশাদ খানম বেশি খ্যাতিমান ছিলেন। কারণ তাঁরা মিডিয়ার অনেক কাছাকাছি বিচরণ করেছেন। সুরাইয়া খানম পরিচিতিতে খাটো হলেও তাঁর নিজস্ব পরিমণ্ডলে খুবই উজ্জ্বল তারকার মতো প্রতিভাত ছিলেন।

ধন্যবাদ আপনার সহৃদয় মন্তব্যের জন্যে।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

সৈয়দ আখতারুজ্জামান এর ছবি

লেখাটা আগে পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই, এইবার পড়ে সেই দুর্ভাগ্যের অবসান হলো। জুবায়ের ভাইকে ধন্যবাদ।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকেও।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

অতিথি লেখক এর ছবি

সঘনআবেগরঞ্জিত, মনীষার ঘ্রাণে আপ্লুত!
ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
-জুলিয়ান সিদ্দিকী

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

আপনার পাঠ ও উদার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

কনফুসিয়াস এর ছবি

হুম।
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

হুম বললে কী বুঝতে হবে? চিন্তিত

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

তাহলে আমিও শিমুলকে দেওয়া উত্তর আপনাকে কোট করছি। হাসি

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

মুজিব মেহদী এর ছবি

আমার সচলকে চিনে ওঠবারও আগে লিখেছিলেন এটি, তাই পড়া হয় নি। যে দৈনিকে ছাপা হয়েছিল ওখানেও কোনো কারণে চোখ পড়ে নি। কাজেই 'এবারই প্রথম তুমি'। সুরাইয়া খানম মারা গেছেন, এ খবরটাও আমার কাছে নতুন। হায়! 'নাচের শব্দ' মিলিয়ে গেল কোন গগণে?

চমৎকার লেখা আপনার। ছুঁয়ে গেল ভেতর প্রদেশ।

খুব ব্যর্থ মনে হচ্ছে নিজেকে। এরকম একজন মিথপ্রায় নারীকে আমি দেখেই উঠলাম না, তার আগেই মারা গেলেন! কী ভয়ানক যাচ্ছেতাই আমার এ কবিতাঘনিষ্ঠ জীবন!

................................................................
আমার সমস্ত কৃতকর্মের জন্য দায়ী আমি বটে
তবে সহযোগিতায় ছিল মেঘ : আলতাফ হোসেন

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
কচুরিপানার নিচে জেগে থাকে ক্রন্দনশীলা সব নদী

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

সুরাইয়া খানম যখন প্রয়াত হলেন তখনো সচলের জন্মই হয়নি। কিন্তু আপনার মন্তব্যের একটা লাইন আমাকে একটু ভাবায় সুরাইয়া খানমের মৃত্যুসংবাদ আপনি জানতেনই না!

লেখাটি যদি ভালো লেগে থাকে, কৃতার্থ বোধ করি। ধন্যবাদ।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।