লজ্জা

নজমুল আলবাব এর ছবি
লিখেছেন নজমুল আলবাব (তারিখ: রবি, ০৮/১২/২০১৩ - ১২:৩৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রশ্ন কমে যাচ্ছে এখন। আগে যেমন প্রতিটা ঘটনায় হাজারটা প্রশ্ন শুনতে হতো এখন সেরকম না। একটা দুটা প্রশ্ন, তার সাথে মানানসই উত্তরেই কাজ হয়ে যায়। বলছিলাম আমার ছেলের কথা। বড় হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারি। নিজেই উত্তর খোঁজতে শিখে যাচ্ছে।

লাল মোটর সাইকেলটা সড়কের ঠিক মাঝ বরাবর পড়ে থাকতে দেখে সে প্রশ্ন করে, বাবা এটা এভাবে পড়ে আছে কেনো, পাশের মেকানিকের দোকানটা দেখিয়ে বলি, ওরা মনেহয় ফেলে রেখেছে। আগে এভাবে বল্লে পাল্টা প্রশ্ন হতো, রাস্তায় কেনো? এখন সেটা হয় না। মোটর সাইকেলটা পাশ কাটিয়ে আসার সময় পিচে পড়ে থাকা রক্তের ছোপটা তার চোখ এড়িয়ে যাবে সেটা আশা করি না। ওর চোখ এখনও অনেক প্রখর। কিন্তু তবু কথা বাড়ায় না। এর আগে আরেকদিন, ছোট জটলাটা পার হবার সময়, অন্ধকারে ওর চোখে পড়ে হাতে থাকা কিছু একটাতে। আমি অবলীলায় বলে দেই, এটা হকি খেলার ব্যাট। দু’দিন পর ও ঠিকই গল্প বলে তার মায়ের কাছে, বাবা বুঝতে পারেনি ওটা লম্বা লম্বা দা ছিলো, সে এগুলোরে হকির ব্যাট মনে করেছে... আমি একটা লম্বা শ্বাস ছাড়ি, যাক ছেলে বোকা ভেবেছে, মিথ্যুকতো আর বলেনি।

বাড়িতে খবর শুনিনা, খবরের চ্যানেল থেকে দুরে থাকি। কাবাব হয়ে যাওয়া মানুষ, কব্জি উড়ে যাওয়া হাত কিংবা বারবিকিউ চুলা বনে যাওয়া বাসের খবর শুনলে যেসব প্রশ্ন শুনবো সেটার কোন উত্তর আমার কাছে নেই। তবু সেসব খবর আড়াল করতে পারি না। আগে পত্রিকার পাতার ছবি দেখিয়ে নিচে কি লেখা আছে সেটা জেনে নিতো, এখন নিজেই বানান করে করে পড়ে নেয়। কঠিন শব্দ দেখলে সেটার উত্তর মাঝে মাঝে জানতে চায়, তখন বুঝি ছেলে আমার বড় হচ্ছে, তখন বুঝি ছেলে বড় হচ্ছে এক অরাজক সময়ে।

৮৭ নভেম্বরে আমার যে বয়েস ছিলো তার চে বছর খানেকের ছোট আমার ছেলে। সেবছর আমি মিছিলে ছিলাম, সেই মিছিল থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয়েছিলো, তারপরও হেমিলনের শিশুদের মতো আমরা অনেকে সেই মিছিলের পেছন পেছন হেটেছি কালনী পারের ছোট্ট শহরে। নূর হুসেন যেদিন শহীদ হলেন সেদিন বিকালে মুখস্থ হওয়া স্লোগান জপতে জপতে আনমনে ঢুকে গেছি খেলার মাঠে। বেডমিন্টনের র‍্যাকেট লেগে মাথা ফেটে গেছে, যারা মিছিল থেকে বের করে দিয়েছিলো তারা দেখতে এসে বলেছে, দেখেছো, বাচ্চাদের মিছিল দিতে নেই। মিছিল দিলে মাথা ফাটে... আর এখন শিশুদের হাতে রামদা তুলে দেওয়া হয়। সেই ছবি আসে পত্রিকার পাতায়, আমার ছেলে সেই ছবি দেখিয়ে বলে, বাবা এদের হাতে এতো বড়ো দা কেনো? আমি মিথ্যা বলি আবার, গরু জবাই করবে বলে দিয়েছে মনে হয়...

রোজ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নয়তো এম্নিতেই বেরুলে আমাকে এখন গাদা গাদা মিথ্যা বলতে হয়। মাঝে মাঝে কর্কশ কণ্ঠে ধমক দেই, কেনো এতো প্রশ্ন করে! অথচ তাকে প্রশ্ন করা শিখিয়েছি আমি। কিছুদিন আগেও প্রশ্ন শুনে আহ্লাদিত হয়েছি, আর এখন সবচেয়ে বেশি ভয় পাই সেই প্রশ্নকেই। মাঝে মাঝে বলি, দুষ্টু লোকের কাজ, তখন আবার উল্টা প্রশ্ন, এদেরকে পুলিশ ধরেনা কেনো... মিথ্যার পিঠে মিথ্যা বাড়তেই থাকে।

আর মাত্র কটা মাস/বছর। এরপর এই ছেলেটা সব বুঝে যাবে, সে জেনে যাবে তার বাবা কত মিথ্যা বলেছে তাকে, জেনে যাবে এক ভয়ঙ্কর মিথ্যার মাঝে তাকে বড় করেছে তার মা! সেই বুঝতে পারার দিনটার মতো লজ্জার দিন আর হতে পারে না। লজ্জা... লজ্জা... লজ্জা...


মন্তব্য

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

জানিনা কি বলা উচিত মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মাহবুব লীলেন এর ছবি

বলে দাও বলে দাও
ছবিটবি দেখিয়ে বুঝিয়ে দাও যে- বাপ এইগুলা দিয়া কাটাকাটি মারা মারি করে
এতে যারা মারতে পারে তাদেরকে নিয়ে পত্রিকা লেখে সংবাদ
আর যারা মরে তাগোরে নিয়া আমরা লিখি- ব্লগ অথবা সাহিত্য

এইবার তুমি ঠিক করো- পত্রিকায় যাবা নাকি ব্লগে

এক লহমা এর ছবি

ঠিক!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

এতে যারা মারতে পারে তাদেরকে নিয়ে পত্রিকা লেখে সংবাদ
আর যারা মরে তাগোরে নিয়া আমরা লিখি- ব্লগ অথবা সাহিত্য

চলুক

দারুন বলেছেন লীলেন ভাই।

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

মাসুদ সজীব

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপাতত উদাসদা'র একট মন্তব্য আংশিক উদ্ধৃত করিঃ

... ... ...তবে আশা রাখি আগামী জেনারেশনের পুলাপান আমাদের থেকেও আরও অনেক বেশী বুদ্ধিমান হবে। সত্য বলে কেউ কিছু তাদের মাথায় গুঁজে দিলে চাইলে প্রত্যাখ্যান করবে, প্রত্যেক বিষয়ে প্রশ্ন করবে। ওইসব পুলাপান যেন আমারে বলদ বলে গালি দিয়ে হাসাহাসি করতে না পারে এই জন্যই লেখালেখির মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিস্কার করি আরকি ... ... ... বাচ্চা পুলাপান সুর করে আলিফ পেশ উন বে পেশ বুন পড়ুক সমস্যা নাই। সেইসাথে যেন ছোটকাল থাকে নিজ জাতির সত্যি ইতিহাস জানে। বীরত্ব এর কথা, দুঃখের কথা দুইটাই যেন আস্তে আস্তে জানে... ... ...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

ঠিক!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

স্যাম এর ছবি

অনুভুতি যাই হোক লেখা থাকুক - বিশেষ করে যারা ভাল লিখতে পারেন আপনার মত - সততার সাথে। কোথাও না কোথাও কারো না কারো মাথায় একটা দারুন শব্দ, বাক্য বা চিন্তা ঠিকই ক্লিক করে যাবে - আমার মনে হয় লেখাটা আরেকবার পড়ব আমি।

এক লহমা এর ছবি

ঠিক!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

ছোট বেলায় একবার বিশ্বরোডের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় একটা দুর্ঘটনা পরবর্তী জটলায় ঢুকেছিলাম বাবার সাথে। দুর্ঘটনায় পরা মানুষটা ছিল না কিন্তু যা দেখেছিলাম, তাতে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে বাবা, মা, প্রতিবেশীরা অনেক বুঝিয়েছিল,তুমি যা দেখছ তা আসলে ভয়ংকর কিছু না, একটু রং.... এরকম আরও অনেক মিথ্যা সান্তনা। ছোট হলেও ঠিকই বুঝেছিলাম সবাই যা বলছে তা আসলে আমাকে শান্ত করার জন্য।

ছোটরা অনেক কিছুই বুঝতে পারে, যেটা বড়রা টের পায় না।
একসময় এরা বড় হয়ে আমাদের বলবে, "কেন?"
আমি জানি না, আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের লজ্জাঋণের বোঝা কত ভারী হবে।

এক লহমা এর ছবি

কেউ জানি না আমরা, শুধু জানি, প্রশ্ন আসবে, আসবেই।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রাজর্ষি এর ছবি

আশির দশকের শেষে জন্ম নেয়া এই আমি ভাবি কেমন ছিল সেই স্বৈরাচার শাসিত অগ্নিঝরা দিন গুলি । পিতার লেখা তখনকার কবিতা পড়ি আবারো ভাবি । দু'হাজার তেরোর শিশুরা রক্তাক্ত অধ্যায় দেখে বড় হচ্ছে, আমি ভাবি কি থাকবে ওদের স্মৃতিতে ।কোন এক অনাগত ভবিষ্যতে ওদের জন্য পড়ে থাক এই 'সচলায়তন' । আমাদের সাধারণ ভাবনার প্রতিচ্ছবি দেখুক মাহবুব লীলেন , চরম উদাস বা ঘুরে বেড়ানো তারেক অণু্র চোখে, কোন এক রঙ চটা বইয়ের ধুসর মলাটে । জেগে থাক, দৈনিক মৃত্যুর হুমকির মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে খেলাঘর গড়ে তোলা জাফর ইকবালের লেখা , শুধু ওদের জন্য !

এক লহমা এর ছবি

ঠিক!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

কতকাল আমাদের যে বাঁচতে হবে এই লজ্জা নিয়ে মন খারাপ

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে কী আসবে সেটা ভাবতেই ...

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আমাদের অনেকেই জীবনের অধিকাংশ সময় পার করে এসেছি। এতদিন পর্যন্ত যেরকম সময় পার করেছি তাতে খারাপের কিছু মিশেল থাকলেও গড়পড়তা ভালো বলতে হবে, দুনিয়ার অনেক মানুষ এরকম জীবনও পায় না। আমাদের জীবন এভাবে কেটে গেলেও আমাদের সন্তানদের জন্য ভয় করে। আগামী বিশ বছরে দেশ কতটা খারাপের দিকে যাবে ভাবতেই শংকিত বোধ করি। ওদের জীবন কতটা দুর্বিসহ সময় পার করবে? মন খারাপ

আবার আশাবাদী একটা কথাও মনে হয়। আমাদের পূর্বপুরুষ, বাবারা দাদারাও হয়তো সেরকম আশংকা করতো ওই সুদূর অতীতে। তবু আমরাও শেষমেষ টিকে গেছি, গেছি না? হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

এক লহমা এর ছবি

সেই।
ঠিক।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

এক লহমা এর ছবি

একমত।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আমাদের পূর্বপুরুষ, বাবারা দাদারাও হয়তো সেরকম আশংকা করতো ওই সুদূর অতীতে। তবু আমরাও শেষমেষ টিকে গেছি, গেছি না?

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক

বনি এর ছবি

চলুক

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

এক্কেবারে মনের কথাটা বলেছেন। আজকাল আমিও ভয় পাই আমার ছেলের কিছু প্রশ্নকে!

____________________________

নজমুল আলবাব এর ছবি

সাক্ষী সত্যানন্দ, লীলেনভাই, স্যাম, মেঘলা মানুষ, রাজর্ষি, ত্রিমাত্রিক কবি, প্রকৃতিপ্রেমিক, নীড় সন্ধানী সবাইকে অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য। সময়টা এমন বিচ্ছিরি যে এরে লেখায় তুলে রাখার মতো প্রতিভা আমার নাই। শুধু নিজের কথাই লিখলাম।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

বড় অস্থির সময় চারপাশে। এর মাঝেও বাবাইরা বড় হোক স্বপ্ন আর সাহস নিয়ে, ভালো-মন্দের পার্থক্যের বোধ নিয়ে, অন্য মানুষের প্রতি মমতা আর ভালোবাসা নিয়ে।

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশ কয়েকবার পড়েছি, কোথায় যেন সুর আছে- আহা!! লেলিনদার মতো বলি- বলে দিন, বলে দিন।
(নির্লিপ্ত নৃপতি)

বাউলিয়ানা এর ছবি

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের মনের উপর একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে বলে মনে হয়। বিশেষ করে যে হারে মিডিয়াগুলো জ্বালাও পোড়াও, ভাংচুর আর পুড়ে যাওয়া মানুষের ডিটেইল প্রতিবেদন দিচ্ছে এগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে যাবারও কোনো উপায় নেই। নব্বইয়ের আন্দোলনে দাঙ্গা পুলিশের নির্যাতনের কথা আমরা এখনো ভুলিনি। এখনকার শিশুদের অবচেতন মনেও এই অরাজক অবস্থার কথা থেকে যাবে।

এনকিদু এর ছবি

অরাজক সময় যাচ্ছে ঠিকি, কিন্তু সমস্যমুক্ত নিখুঁত সময় কোন দিনই কি ছিল ? নিজের সন্তানের উপর এই আস্থাটা রাখেন যে, সে ভাল মন্দ আপনার বা আমার মত প্রাপ্ত বয়ষ্কদের থেকে বেশি বুঝে। সন্তানকে সত্য বললে বিশাল লাভ কিছু যদি নাও হয়, ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয়না।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA