| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
মাথাগুঁজে প্রথমআলো পড়ছিলাম। হঠাৎ ঘাড়ে হাত। ঘাড় ঘুরোতেই দেখি স্বয়ং ইবলিশ। ঢেউ খেলানো বাবরি চুল আরেকটু কাঁধ ছাড়িয়ে গেছে, পরনে সেই ঘিয়ে রঙের আরমানি স্যুট। ঝকঝকে দাঁতগুলো বের করে বলে, "বোঁসু আঘুপ.."
-হাই কেলভিন! হোয়েন ডিড ইউ রিচ?
আমি মুখে যথাসম্ভব তেলতেলে একটা হাসি ধরে রাখি। মাথার ভিতরে বুমবুম আওয়াজ তুলে বিস্ফোরিত হতে থাকে একেকটা আগ্নেয়গিরি। ভদ্রলোকের নাম কেলভিন টং ওরফে ইবলিশ। ইবলিশ আমার ফরাসি কাস্টোমার (যদিও একই কাম্পানীর, তারপরেও যেহেতু তারা সার্ভিস কেনে তাই তাদের কাস্টোমার হিসাবে ধরা হয়) এবং আমার পেশাগত জীবনকে সফলভাবে ফানাফানা করায় তার অবদান ব্যাপক।
সম্পর্কটা ভালোই হবার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম ইমেইলেই সে জানালো আমি ছাড়াও তার চাপকানোর প্রচুর বেড়াল আছে। এই জাতীয় কথার পর সাধারনত দেরি না করে মানব সম্পদে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। ইবলিশের ক্ষেত্রেও সেটা করতে দেরী হলনা। ঝাঁকি খেয়ে শালা মিষ্টি করে ক্ষমা চেয়ে লক্ষী ছেলে হয়ে গেল। শুধু বছরের শেষে স্যাটিসফ্যাকশান সার্ভেতে যেন আমরা পাঁচে এক পাই সেটা নিশ্চিত করতে ভুললো না। ফলাফলটা শুভ হয়নি আমাদের জন্য। এরকম ঘটনায় যে কোন নীরহ মানুষ নেইলকাটার দিয়ে ইবলিশের চোখ তুলে নেবার ধান্দা শুরু করে দিতে পারে। ভব্যতা-সভ্যতা আর এইচআরের আইনের শেকল পড়ে আমি শুধু ফোঁস করে দম ছাড়ি। আর কনফারেন্স কলের সময় মিনিটস নোটে, কেলভিন টং নামটা কেটে চ-যুক্ত কিছু অশ্লীল যৌনবিষয়ক গালমন্দকে বিষয়বস্তু বানিয়ে বাংলা ক্যালিগ্রাফির চর্চা করি।
বস পাশেই বসে। উঁকি দিয়ে বললাম,
-"....এর ভাই টার সাথে কি ডিনারে যেতেই হবে?"
-"ইউ মাস্ট, উই মাস্ট সিকিউর এ ফোর দিস টাইম.., বি দেয়ার বাই সেভন.."
ভাগ্যিস মেয়ে হয়ে জন্মাইনি, না হয় দেহ দিতে হবে জাতীয় কোন ডিরেক্টিভ চলে আসতো। হোয়াক থু করে একদলা থুতু ফেলতে ইচ্ছা করছিল। সেটা সম্ভব হলনা, জীবনে মাঝে মাঝে নিজের থুতু নিজেরই গিলতে হয়।
খানাদানা ভালোই। আমি নীরবে একটা নিউইয়র্ক স্ট্রিপ আর জ্যামাইকান প্যারাডাইস খাচ্ছিলাম। বাগড়া দেয় ইবলিশ।
"লেটস ড্রিংক জেন্টেলমেন.."
আমার বস হাসি দেয়। ইয়েমারা খেতে হবে বললেও সে না করবে না।
"এসকুজে মোয়া মাদমোজেল, ডু ইউ হ্যাভ হেমি মাহতা?" । ওয়েট্রেস মেয়েটা খানিকটা হতভম্ভ হয়ে যায়। কেলভিন মালেশিয়ান চীনা, দুবছর পারিসে থেকে শালা ফরাসি অ্যাকসেন্টে ইংরেজী বলে, র অক্ষরটা তখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই ভাবে রেমি মার্টিন চাইলে মনে হয় কারোই বোঝার কথা না। তবে মেয়েটা চালাক, সে চট করে পানীয়ের মেনুটা সাথে নিয়ে আসে।
- ডাবল শট, নীট, নো আইস, নাথিং, ফর ইচ অফ আস সিল ভু প্লে..
রেমি মার্টিন শানদার সুরা, কনিয়াক (cognac)। কনিয়াক মূলত ফরাসী অঞ্চল, এইখানকার খাস ব্র্যান্ডির নাম কালান্তরে হয়ে গেছে কনিয়াক। স্বাদ হোক আর চল্লিশ ভাগ অ্যালকোহলই হোক এই পানীয় সমঝে চলার বস্তু।
ওয়েট্রেস ছোট শট গেলাসে পানীয় দিয়ে গায়েব হল। কনিয়াক খেতে হয় পেটমোটা গবলেটে, শট গেলাসে পরিবেশন সুলক্ষন নয়।
"হাউ ডু ইউ ওয়ান্ট টু ড্রিংক? ক্যান আই প্রোপোজ বটমস আপ?"
আমরা দেঁতো হাসি দেই, যারা ইয়েমারা পর্যন্ত খেতে রাজি তাদের বটমস আপ আর টপ ডাউন নিয়ে কি বলার থাকতে পারে।
"অ্যাহ,,," অর্ধেকটা খেয়ে বস গেলাস নামাতে বাধ্য হয়। -"নো ওয়ে কেলভিন.."
-"ইফতিকার... দ্যাটস নো গুড.."
এদিকে আমার আর ব্রায়ানের গেলাস খালি। চোখাচোখি হল, মনে হল আমরা দুজনই একসাথে গাল দিলাম কপালকে!
....
সপ্তম গেলাস আসতে আসতে চিলিজ বন্ধ হবার পথে। সাতটা ডাবল শট রেমি মার্টিন কনিয়াক মানে চৌদ্দটা রেগুলার শট। ইবলিশ বাদে আর একটা মানুষ ভাবলেশ হীন, ব্রায়ান। ইফতেখার ভাই আধা বেঁকে বসে আছে, আর আমার কান ভোঁ ভোঁ করছে। ঘোলাটে চোখেই দেখতে পারি সেই মুক্তোঝরা দাঁতের পাটি। বিল এসেছে ১৪০০ রিঙ্গিত (২৮০০০টাকা)।
"দিস মানি কান্ট বাই ইউ ইভেন আপ্রেতিফ ইফতিকার.. ইন ফঁস"
ইবলিশের কথা শুনে ইফতেখার হোসেন অনেক কষ্ট করে হাসবার চেষ্টা করে, কার্ডের বিলে সাইন করতে গিয়ে হোসেইনের এইচটা বিশ্রীভাবে বাঁকা হয়ে যায়। এই বার স্যাটিসফ্যাকশান সার্ভেতে চার পেতেই হবে তার।
"সি ইয়া জেন্টেলমেন, থ্যাংক্স ফর দ্য ডিনার.."
তারপর ইবলিশ আমার দিকে তাকিয়ে বাঁ চোখটা টিপে দেয়।
...
ঘোর মদ্যোপ হয়ে তেইশ কিলো ড্রাইভ করতে রওনা দেই। পথে হোসেন ভাইকে নামিয়ে দিতে হবে। ড্রাংক ড্রাইভিং এর জন্য পুলিশ এখানে কঠিন ছ্যাঁচা দেয়। কিছু করার নাই। স্যাটিসফ্যাকশান সার্ভেতে চার পাওয়াটা জরুরী আরও জরুরী বসের দেখভাল..
...
আধঘন্টা পর বাসায় ফিরে লিফটের কাছে বসে পড়ি। আমার কেন জানি মনে হতে থাকে এবারো আমরা এক পাবো, তা ইবলিশের কাছে যতোই আত্মা বেচতে বসি না কেন...
"ফাক!!", আধখাওয়া ডানহিলটা ছুড়ে দিয়ে আমি লিফটের বোতাম টিপি...
২
মিয়া সাবধানে থাকো। এই কর্ম যত কম কৈরা পারা যায়। যেদিন মাল বেশী খাইবা সেদিন ট্রামে-বাসে যাতায়াত করাই ভাল।
৩
জীবনে মাঝে মাঝে নিজের থুতু নিজেরই গিলতে হয়
জ্বি হ ঠিকোই কইছেন
ডাক্তাররা কয় এই বস্তুর মইধ্যে কী জানি কী ভাইটামিন আছে
৪
শিট হ্যাপেনস
৫
বেচারা! ![]()
৬
অরূপ আত্মা বিক্রিতো হলো, ফেরত নিতে পারবেন তো? মানে এই মুনাফার যুগে, বিক্রি করে আরও বেশিদামে কিনে নিতে না পারলে কিন্তু আত্মারামকে খাঁচাছাড়া করে দেবে, বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
আর ওভাবে হেমি শরীরে নিয়ে গাড়ি চালানো! ভবিষ্যৎ বলে একটা কথা আছে বাংলায়, বেশ ঝরঝরে মনে হচ্ছে শব্দটির।
যাহোক, আপনার চার পাওয়ার জন্য শুভ কামনা থাকবে।
৭
![]()
৮
ড্রাইভার পাওয়া যায় না ভাড়ায়?
৯
টংরে কয়েকদিন বিপ্লব রহমানের লগে উঠতে বসতে দিলেই লাইনে চইলা আসতো। তখন খালি পাঁচে পাঁচ।
১০
১৪?
বেশি হয়্যা গেসে।
ইবলিশের দাস হওনের থাইকা, ইবলিশরে দাস বানানোর তরিকা খুঁজন ভালো।
১১
আমার বস হাসি দেয়। ইয়েমারা খেতে হবে বললেও সে না করবে না।
না বলার যোগ্যতা সবার থাকে না।
................................................................
আমার সমস্ত কৃতকর্মের জন্য দায়ী আমি বটে
তবে সহযোগিতায় ছিল মেঘ : আলতাফ হোসেন
১২
হুমম.. কর্পোরেট কালচার..স্যাটিসফ্যাকশন সার্ভে..
আমি দু বছর এর থেকে দুরে..চিরদিন কি পারব দুরে থাকতে?
পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?
১