খাবারের বিষয় আমার ফন্ট্রিয়ার এক্সটেনশনের চেষ্টা বরাবরই। মালেশিয়া আসার পরে আরো সুবিধা হয়েছে। চীনেগুলোর সাথে থেকে থেকে হাবিজাবি খাওয়াটা আরো সহজ হয়ে গেছে।
সেদিন গেছি মিডভ্যালী মেগামলে। গেলেই আমি আর মাশীদ একপেট খেয়ে আসি, উইকএন্ডে বাইরে না খেলে ঠিক ভালো লাগে না। পয়সা কম খরচ হবে বলে গেছি ফুডকোর্টে। চোখে পড়ল পর্তুগীজ খাবারের দোকান, সামনে বিশাল লাইন। কি খাবো? দেখি নানা রকম খাবারের ছবি নম্বর দিয়ে বাঁধানো সামনে। একটার নাম পারি দান উদাং! উদাং মানে চিংড়ি, পারি মানে কি? মাশীদ বলল, মনে হয় স্টিংরে!
এখানে পান্দান লীফ, মানে কলাপাতায় মুড়ে স্টিংরে গ্রীল করে খায়। পর্তুগীজ স্টাইলে খাইনি বলে দিলাম অর্ডার। মেগামলে কলাপাতা চলে না বলে এলুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে রান্না চলছে। হা দাড়িয়ে আছি মিনিট দশেক, খাবার আর আসে না। যখন এলো তখন, ছুরি কাটা নিয়ে ঝাঁপ দেবার যো! একটুকরা মুখে পুড়ে বললাম, উম! এরা প্রচুর মসলা আর ব্লাচান (চিংড়ি বাটা) দিয়ে রেধেছে। আঙুল দিয়ে ঝোল চেটে চেটে খেতে ভাবলাম আরেববার না খেলে চলে না।
ফেরার পথে কার্ফুর থেকে কিনে ফেললাম মাঝারী দেখে। উল্টাপাল্টা কিছু কিনবার প্রথম শর্ত হল দোকান থেকে কাটিয়ে আনা। মাছুয়া দেখি স্টিংরেটার পাখনা দুটো রেখে মাথা শিরদাড়া আর লেজ কেটে বাদ দিল। গদগদ হয়ে যখন বাসায় এসে ঠোঙ্গা খুললাম তখন মহাবিপদ! কেমন একটা বিদঘুটে গন্ধ বেরুচ্ছে। বুঝলাম ব্লাচান আর প্রচুর মসলা দেবার কারন।
স্টিংরে আর হাঙর এক গোত্রের, তরুনাস্থির মাছ। কাটা কম, আর যেটুকু থাকে সেটা কচকচে হাড্ডি র মতো চিবিয়ে খেতে কষ্ট হয় না। তবে অদ্ভুত গন্ধ থাকে, সাথে শিরিষ কাগজের মতো শক্ত চামড়া। চামড়া ছাড়াতে রীতিমতো গলদঘর্ম আমি। এই স্টিংরের কোন এক জাতভাই "ক্রকোডাইল হান্টার" স্টিভ অরউইনের মরনের কারন হয়েছিল।
সাফসুতরা করার পর মনে হল রাঁধবো কিভাবে? মহাবিপদ! বিষে বিষক্ষয় থিওরী কাজে লাগানোর ধান্দাটা মাথায় এলো।
কদিন আগে শখ করে বালসামিক ভিনেগার কিনেছি। সেটার সাথে ট্যারাগন ভিনেগার, লাল মরিচের গুড়ো, আদা, প্রচুর রসুন, তারচেয়েও বেশী কাঁচা মরিচ আর একটা পেঁয়াজ দিয়ে ম্যারিনেড বানিয়ে একটা পাখনা চুবিয়ে রাখলাম।
ম্যারিনেডটা ভালো হয়েছিল, কারন পরদিন বিদঘুটে গন্ধটা পাওয়া গেল না একেবারেই। কিন্ত রাঁধার সময় আর পাই না। আজকে খাঁটি সর্ষের তেল মাখিয়ে ওভেন দিলাম গ্রীল করতে। মাশীদ আমার "সসিয়ে"। মিনিট বিশেক পরে যে বস্তুটা হল সেটার ছবি লটকে দিলাম। খেতে কেমন হয়েছিল সেটা নাইবা বললাম। বাঙালীকে স্টিংরের জ্ঞান দেবার চেয়ে কাচ্চি বিরিয়ানীর গল্প বললে জমে বেশী।
আপাতত ভাবছি আরেকটা পাখনা গ্রীল করবো কবে..
মন্তব্য
ভালই হল এক্সপেরিমেন্ট। আমি অবশ্য এই পারি ফিশ বা স্টিংরে আগেও খেয়েছি দু'বার। একবার সেন্ট্রাল মার্কেটের ফুডকোর্টে, আরেকবার পিন্যাং এর গোর্নি ড্রাইভে। প্রথমটায় সিজলিং স্টাইলে ছিল হটপ্লেটের ওপর আর পিন্যাং এ অনেকটা পর্তুগীজ স্টাইলে ঐ চিলি আর ব্লাচানের পেস্ট দিয়ে। সিজলিংটা বেশি ভাল লাগলেও সববারই খেয়ে আরাম পেয়েছি। তোমারটাও আজকে বেশ জমেছিল। তবে দেশের ইফতারের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে সন্ধ্যায় অতগুলো পেয়াজু না খেয়ে ফেললে আরো আরাম করে খেতে পারতাম।
ভাল আছি, ভাল থেকো।
ভাল আছি, ভাল থেকো।
স্টীংরেটা বেঁচে থাকলে খুব আপত্তি করতো।
হাঁটুপানির জলদস্যু
স্টীংরে দেখে জিভে জল এসে গেছে...
নীলের সঙ্গে পথ চলা,ভুল পথে
অথবা তারপরও ভালো আছি ...
এতদূর এখনো যাইতে পারি নাই। দিসেম্বরে বেইজিং থাকুম ৩-৪ দিন। কি খাইতে কি খাই ভগবানই জানে।
______ ____________________
suspended animation...
খাইতে কেমন? খুব একটা সুবিধা হবার কথা না।
কি মাঝি? ডরাইলা?
ভাগ্যিস গুতায়া অরূপরে অরউইন করতে যায় নি।
ওরে একে তো দেশে শাবলা মাছ বলতো! ছোট অক্টোপাসের চচ্চরী খেয়েছো? গা শিরশির করে। যদিও খেতে মাংসের মতই।
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির
ভাই, মাছটা হারাম না তো ধর্মমতে?
একে চারদিকে সরব ধর্মবাজদের এতো প্রাদুর্ভাব, তার ওপরে রমজান মাস...
- সংসারে এক সন্ন্যাসী
জনৈক মদারুকে একবার বললাম,
"বাসার জন্য একটা ডাসা হাঙর কিনেছি, সন্ধ্যেবেলায় ভাজবো। খেতে আসবেন নাকি?"
সে আঁতকে উঠে বলে ওইটা তো হালাল হওয়ার কথা না। আমি পারলে মার লাগাই..
-------------------------------------
রামছাগলের সামনে, খচ্চরের পেছনে আর নিবোর্ধের ধারেকাছে না থাকাই শ্রেয়!
দিলেন তো খিদেটা চড়িয়ে। কেন যেন টিভির স্টিংরে সিরিয়ালটার কথা মনে পড়ে গেল। নায়কের চশমাটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
××××××××××××××××××××××××××××××××××××××
পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?
পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?
স্টিংরে আমারো খুব প্রিয় সিরিজ ছিল...শুনছি এখানে নাকি আরো অনেক কিছু ছিল..বাংলাদেশে কাইটা দিতো...
.......................................
ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ
অজ্ঞাতবাস
হুম। দেখি কোন সুপার মার্কট এ স্টিংরে পাই....
.......................................
ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ
অজ্ঞাতবাস
স্টিং রে দেশী স্টাইল রান্নায় খেয়েছিলাম অনেক আগে। বেশ মজা খেতে। চট্টগ্রামের হিন্দুরা খায়, এবং বেশ মজা করেই খায়। তবে যতদূর জানি চামড়া ছিলে ফেলে দিতে হয়।
খাই নাই, খাই নাই
আমার ব্লগস্পট | আমার ইমেইল
আর ব্লাচান (চিংড়ি বাটা) দিয়ে রেধেছে।
পর্তুগিজ খাবারে ব্লাচান দেখে বুঝতে পারছি কি জিনিস।
আমাদের দেশে পর্তুগিজরা আস্তানা গেঁড়েছিলো চট্টগ্রাম। তাই চাঁটগায়ও এ জিনিস আছে। চাঁটগা বাসিরা খুব ভালোবেসে খায়।
চাঁটগার এই জিনিস লন্ডনেও বিক্রি হয়।
একে চাঁটগার লোকজন সম্ভবত বালাচাউ বলে।
কীভাবে বানাতে হবে তার বর্ণনা আছে সিদ্দিকা কবীরের রান্না খাদ্য পুষ্টিতে।
-----------------------------------------------
সচল থাকুন ---- সচল রাখুন
-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না
উইকিপিডিয়া বলে,
Belacan
Belacan, a Malay variety of shrimp paste, is prepared from fresh tiny shrimp of a species known as geragau in Malay. These are mashed into a paste and buried for several months. The fermented shrimp are then dug up, fried and hard-pressed into cakes.
....
The name belacan is possibly derived from Portuguese 'balcao' (also spelled 'balichao').
বলিহারী ড. চৌধুরীর জ্ঞানের বহর!
-------------------------------------
রামছাগলের সামনে, খচ্চরের পেছনে আর নিবোর্ধের ধারেকাছে না থাকাই শ্রেয়!
নতুন মন্তব্য করুন