তীর্থের কাক ২৮

পুতুল এর ছবি
লিখেছেন পুতুল (তারিখ: শনি, ১০/১১/২০১২ - ৬:৪৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ম্যারাথন দৌড় শেষে ক্লান্ত অবসন্ন দেহ নিয়েও বিজয়ীর বেশে মাঠ প্রদক্ষিণের শক্তি দৌড়বিদের থাকে। আমার অবস্থা সে রকমের। অপেক্ষার মতো কঠিন কাজ পৃথিবীতে আর নেই বোধ হয়। দুই সপ্তাহ। শেষের দিকটা ছিল চরম। বেশ ফুড় ফুড়ে লাগছে এখন। কঠিন সাধ্য সাধন করে এখন পুরস্কার নেবার মতো নিশ্চিত এবং তৃপ্ত আমেজ। আমার কাছে একটি মেয়ে আসছে। ব্যাপারটা ভীষণ আনন্দের। হয়তো আমি জীবনে অল্পেই সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছি বলে এমন মনে হয়। প্রেমে পরলে ছেলে মেয়ের হাবভাব দেখেই আশেপাশের লোকজন ধরে ফেলে, অনেক সময় যারা প্রেমে পড়েছে, তাদের মনের কথা কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে জানাবার আগেই। ফোন নেয়ার সময় মালিকনী আমার হাবভাবে এমন কিছু আন্দাজ করে থাকবে হয়তো। কী অদ্ভুত কারণে মালিকনী বেশ খোশ মেজাজে। মেয়ের ফোন। আমাকে চেয়েছে। এই সব মিলিয়ে একটা রোমান্টিক কিছু হয়তো কল্পনাও করে ফেলেছে। এই সব ব্যাপার বোধ হয় মেয়েরা আগে টের পায়। আর মালিকনী তো সোনিয়ার সাথে কথাই বলেছে।

এদিকে রান্না ঘরে তাওহীদ ভাই জোসেফকে নিশ্চিত করেই বলল; মেয়েই হবে। মনে হয় কিছুটা গর্বও ছিল তার কণ্ঠে। মোবারক হো, বলল জোসেফ। সবাই খুশি। মালিকনী ছোট চারটা গ্লাসে নিয়ে এলো শরাবনতহুরা। এই সব ব্যাপার আমাদের দেশের মতো গোপন বা খারাপ কিছু নয় ইউরোপে। হয়তো এভাবে সেলিব্রেটও করে। কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা একটু বাড়াবাড়িই মনে হচ্ছে। আমার নীরবতা দেখে মালিকনী জিজ্ঞেস করল “সব ঠিকতো কাইজার?” হেসে গ্লাস হাতে নিলাম। হ্যাঁ সব ঠিক আছে। তোমাদের জন্য চিয়ার্স। তাওহীদ ভাই চিয়ার্স বলেই, তাঁর গ্লাস আমাকে দিয়ে দিলেন। মালিকনী আবার এলো। ইতিমধ্যে আমি সব ওদের বলে দিয়েছি। তাওহীদ ভাই মালিকনীকে বলল; মেয়ে রেস্টুরেন্টের আশেপাশেই কোথাও আছে। মালিকনী বলল; কাইজারের জন্য কোন খাবারের অর্ডার যদি অলৌকিক ভাবে এসেই পরে, তা হলে তোমরা তা করে দেবে এই সর্তে আমি কাইজারকে ছুটি দিতে পারি। দুজনেই বলল; কোন অসুবিধা নেই। মালিকনী বলল; সময়টা সুন্দর করে কাটুক কাল সোমবার। মঙ্গলবার দিন আমাদের দেখা হবে। কিছু অতি আবশ্যিক কাজ যা আমাকেই করতে হবে তার জন্য তাড়া দিলেন তাওহীদ ভাই। আধা ঘণ্টার মধ্যে সব কাজ ঝড়ের বেগে শেষ হল।

বের হয়ের দেখি গাড়ির চালকের পাশের দিকের দরজা খুলে দাড়িয়ে আছে সোনিয়া। কী করতে হবে এখন তাই নিয়ে আমি বেশ বিব্রত। এর মধ্যে গাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছি। কয়েক পা এগিয়ে এসে সোনিয়াই বুকের সাথে চেপে ধরল আমাকে। ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছি আগেই। জার্মানরা বেশ জোড় করে হাতে চাপ দেয় করমর্দন করার সময়। বুকে জড়িয়ে ধরা বা কোলাকুলি ব্যাপারটা এখনো হয়নি এখানে। এখন মনে হচ্ছে না হয়ে ভালই হয়েছে। আগেই বলেছি সোনিয়া মোনালিসার মতো। শরীরের সব শক্তি দিয়ে চেপে ধরেছে, আমার দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। চোখ-কপাল-ঠোঁট-গাল ভিজে উঠল এলোপাথারি চুমোয়। সেই সাথে শিথিল হল বাহুর বন্ধন। বেশ আয়েস করে চুমো খাওয়ার সুযোগ পেলাম আমি।

গাড়ি ছুটল ধেনু দিঘীর দিকে। লোকজনের সামনে জার্মানরা অন্তরঙ্গ হতে সংকোচ করে না। কিন্তু আমার বাঙ্গালী সংস্কারে লজ্জা হয়। এখন ধেনু দিঘীর পাড়ে কোন লোক থাকার কথা নয়। ভালই হয়েছে। নিরুপদ্রবে চুমোচুমি করা যাবে। লাল সিগনালে গাড়ি থামল আর সোনিয়া তার ঠোট বাড়িয়ে দিল। গাড়ি চলার সময় বেচারি হাত রাখে আমার উড়ুতে। গিয়ারের ডাণ্ডার মতো আর একটা ডাণ্ডা খাড়া হয়ে যায় আমার দুই উরুর ফাঁকে। উড়ুতে হাত রাখলেই আমার ডাণ্ডা টপ গিয়ারে উঠে যায়। অথচ সব কিছু মেলে ধরার মতো অন্তরঙ্গ পরিচয় তার সাথে এখনো হয় নি। কী মুস্কিল! আমি নিজের উপর একটু বিরক্তও হচ্ছিলাম মনে মনে।

গাড়ি থেকে নেমে দিঘীর পাড় ধরে হাঁটছি আর চুমো খাচ্ছি। চুমো খাচ্ছি আর হাঁটছি। আমাদের বসন্তের শেষ দিকের মতো আরাম দায়ক শীতল হাওয়া শিশ দিয়ে যাচ্ছে গাছের পাতায় ফুলে। নাম না জানা ফুলের গন্ধ বাতাসে। কী ভীষণ ভয়ানক আনন্দ, কী অবর্ণনীয় সুখানুভূতি! আমাদের সুবিধার জন্য আকাশটা নেমে এসেছে দিঘীর জলে। সেখানেই দেখছি অগুনিত পদ্মের মতো অসংখ্য তারা। হয়তো জোছনার শুরু নয় তো শেষ হবে। কারণ চাঁদটা আমার মালিকনীর বাঁকা হাঁসির মতো। এখানে জোছনা আমাবস্যা দেখার কোন উপায় নেই। এতো এতো আলো জ্বলে রাতে যে, প্রকৃতির আলো-আধার চোখে পরে না।

জড়াজড়ি করে চুমো খাওয়ার সময় আমি আমার কোমরটা যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করি সোনিয়ার শরীর থেকে। কারণ মোটা জাঙ্গিয়া-মোটা জিন্স বেধ করে বের হয়ে আসতে চায় অবাধ্য অভদ্র লিঙ্গ। ব্যাপারটা লক্ষ করে সোনিয়া খিল খিল করে হেঁসে উঠল। ধৈর্য ধরুন মহারাজ বলে সেই অবাধ্য অভদ্র লিঙ্গের গায়ে পেন্টের উপর দিয়ে হাত বুলিয়ে দিতে গেল বেচারি। আর সব বন্ধন ছেড়ে মুক্তির আসায় আরো জোড়ে আঘাত করতে লাগল অকৃতজ্ঞ কালসাপ! অনুভব করে হাসতে হাসতে বেচারি সোনিয়া এবার ঘাসের উপর বসেই পড়ল। বলেছিলাম; সব সময় আমি তোমার জন্য বেঁধে রাখব মেয়ে। কিন্তু প্রকৃতির কাছে আমার বৃথা আস্ফালন নিষ্ফল। চাঁদ ডুবে গেছে। তারাগুলো আরো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে জ্বলে আধারটাকে বাড়িয়ে দিল। কাল আমার ছুটি। সেটা সোনিয়াকে দেয়া রেস্টুরেন্টের কার্ডেই লেখা আছে। সে নিজেই বলল; কাল তিন সাড়ে তিনটার মধ্যে লাগারে চলে আসবে। মুখ ব্যস্ত ছিল চুমো খেতে, তাই বেশী কথা আর হল না।

[পর্বটা একটু ছোট হয়ে গেল, কিন্তু পরের অংশটুকু যোগ করলে বেখাপ্পা হয়ে যায় তাই-]


মন্তব্য

তীরন্দাজ এর ছবি

আপনার পরিচিত চক্রের অনেকের সাথে জানাশোনা থাকলেও, সোনিয়ার সাথে পরিচিত না হওয়া সৌভাগ্য হিসেবেই ধরে নিতে হবে। যেহেতু ব্যক্তিসন্মানকে সবচাইতে বড়ো দেখে অভ্যস্ত, মেয়েটির সামনে দাঁড়াতে খুব লজ্জা পেতাম। হয়তো এটি আমার দূর্বলতা, যা আধুনিক লিখনশৈলীতে একেবারেই ধোপে না টেকার কথা, কিন্তু পাঠক হিসেবে জানিয়ে গেলাম তারপরও।

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

পুতুল এর ছবি

তীরুদা ধন্যবাদ সুচিন্তিত মতামতের জন্য। ব্যক্তিসম্মানটার কথা বলে ভাল করছেন। আমি মনে রাখার চেষ্টা করব।
সমস্যা হচ্ছে; সবদিক সামলে লিখতে গেলে একটু কোণঠাসা হয়ে যাই। তারপরেও সবদিক বিবেচনা করে লেখা উচিত।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক।

ফারাসাত

পুতুল এর ছবি

ধন্যবাদ।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অতিথি লেখক এর ছবি

মাইনা নিলাম হাসি
অপেক্ষায় থাকলাম
--বেচারাথেরিয়াম

পুতুল এর ছবি

থেংকু বস।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ঠিকাছে দেঁতো হাসি

পুতুল এর ছবি

ডাংকে।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

তারেক অণু এর ছবি

পুরা লেখা শেষ হোক, তারপর আরামে পড়ব!

পুতুল এর ছবি

ওকে বস।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

তাপস শর্মা এর ছবি

দেখে ভালো লাগছে যে পর পর টানা পর্বগুলো আসছে। টানা শেষ করে ফেলেন দাদা

০২
আপনার লেখায় সবচেয়ে বড় ইউএসপি হল - সোজাসাপটা কথপোকথন। ঢেকে না বলার আর বাস্তবকে নিংড়ে কথা বলার এই প্রক্রিয়া চলতে থাকুক

পুতুল এর ছবি

ধন্যবাদ দাদা।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার তীর্থের কাক ভালো লাগে।

অমি_বন্যা

পুতুল এর ছবি

ধন্যবাদ অমি_বন্যা।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এত ছুটো?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

পুতুল এর ছবি

পরেরটা একটু বড় হবে কবি। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।