নিকানোর পার্‌রার কবিতা অথবা প্রতিকবিতা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ০৯/০৩/২০০৯ - ২:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত কয়েকদিন ধরে প্রায় বইটাকে আমার বিছানায় বালিশের পাশে পরে থাকতে দেখি।কখনো হা করে খোলা,কখনো উপুড় করে শোয়ানো, কখনো বা বন্ধ অবস্হায়।যেহেতু আমার বিছানায় এখনো আমি একা ঘুমোই তাই প্রাথমিকভাবে ধারনা করে নেয়া যায় যে বইটি আমিই পড়ছি!
মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের একটি অনুবাদ-"শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং প্রতিকবিতা"
মূল কবিতা গুলো চিলির কবি নিকানোর পার্‌রার।বইটি পড়ার আগে এন্টিপোয়েট বা প্রতিকবিতা সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলো না।এ কারনেই হয়তো মলাটের উপর নামটি দেখে পড়বার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিলো।ভদ্রলোক "Poemas y Antipoemas" এই বইটি দিয়েই বাজিমাত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে একজন প্রতিকবি হিসেবে দাবী করতেন।মরিচের মতো দেশ চিলিতে পাবলো নেরুদার পর তিনি ই সবচে বিখ্যাত কবি কিংবা প্রতিকবি।"দিসকুর্সোস" নামে কবিতা বিষয়ক তাত্ত্বিক আলোচনার একটি বইও বাজারে পাওয়া যায় যেটি দুজন মিলে ভাগাভাগি করে লেখা।নিকানোর পার্‌রার পারিবারিক ঐতিহ্য অবশ্য উল্লেখ করার মতো-পদবী দিয়েই পরিচিত এরকম একটা ফ্যামিলি।তিনি নিজেও প্রতিকবি হওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু পরিচয় বহন করতেন।গনিতশাস্ত্র ,পদার্থবিদ্যা, কসমোলজি,তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে তিনি পন্ডিতব্যক্তি ছিলেন।মার্কিন বিরোধী মনোভাব লালন পালন করলেও তিনি পদার্থবিদ্যায় পড়াশুনা করেছিলেন মার্কিন দেশে,ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে।প্রতিকবিতা সম্পর্কে বলতে গেলে বই থেকেই একটি লাইন কপি পেস্ট করা যায় (যা আমাকে প্রকৃতঅর্থেই প্রভাবিত করেছে):
"প্রভাব ফেলতে হলে কোনকিছুকে একলক্ষ শ্লোকের মহাভারত হতে হয় না"।পার্‌রা কিংবা চেখকবি মিরোস্লাভ হোলুব -ইনারা খুব একটা নন্দনতত্ত্বের ধার ধারেন না।কবিতা যেন ঢাল তলোয়ার,রূপের চর্চার চেয়ে শান দেওয়াটাই মূখ্য বিষয়।শ্লেষ,ব্যঙ্গ, চাঁছাছোলা ভাষায় শৈল্পিক গালিগালাজও বলতে পারেন।পড়তে অবশ্য বেশ লাগে।
আমার কিছু ভালো লাগাকে পাঠকের সাথে কিঞ্চিৎ ভাগাভাগি করতে চাইছি:

আমি প্রস্তাব করছি সভা মুলতবি থাক
সেনিওর এবং সেনিওরাগণ
আমার শুধু একটাই প্রশ্ন:
আমরা কি সুর্যের সন্তান না কি মাটি পৃথিবীর?
কেননা যদি আমরা শুধু মাটিই হই
আমি কোন কারন দেখি না
এই ছবিটার শুটিং চালিয়ে যাবার!
আমি প্রস্তাব করছি সভা মুলতবি থাক।

কোন কারনে ফ্রয়েড সাহেবের উপর বেজায় নাখোশ ছিলেন।
জিগমুন্ট ফ্রয়েড
মুখভর্তি পালক নিয়ে পাখি
মনোচিকিৎসকদের আর সহ্য করবে কে?
তারা সবকিছুই জড়িয়ে নেয় যৌনতার সঙ্গে।
সবচেয়ে তাজ্জব সব দাবি
পাওয়া যায় ফ্রয়েডের রচনায়।
এই সেনিওরের মতে
সমস্ত শঙ্কুল জিনিশই
-ঝরনাকলম,পিস্তল,মুগুর,
পেনসিল,গড়গড়া,ডাম্বেল-
পুংলিঙ্গের প্রতীক;
সমস্ত বর্তুল
স্ত্রীযোনির প্রতীক।

কিন্তু মনোচিকিৎসা এগিয়ে যায় আরো অনেকদূর
শুধু যে শঙ্কুল আর বর্তুল তাই নয়
প্রায় সব জ্যামিতিক বস্তই
প্রতীক হয়ে ওঠে যৌন কারখানার
মিশরের পিরামিড যার নজির যেমন।
কিন্তু তাই সব নয়
আমাদের নায়ক কিন্তু আরো এগোন:
যখন আমরা কোন হাতের কাজ দেখি
যখন দেখি ধরা যাক বাতি কিংবা টেবিল
মনোচিকিৎসক দ্যাখেন পুরুষাঙ্গ আর যোনি।
.............................................................
.............................................................
আমরা দেখতে পাই এক মোটরগাড়ি
মোটরগাড়ি পুরুষাঙ্গের প্রতীক
আমরা দেখতে পাই একটা বাড়ি উঠছে
বাড়ি আসলে পুরুষাঙ্গের প্রতীক
আমাদের নেমতন্ন করেছে সাইকেল করে বেড়াতে যেতে
বাইসাইকেল পুরুষাঙ্গের প্রতীক
.............................................................
.............................................................
আমরা খাই রুটি মাখন
মাখন পুরুষাঙ্গের প্রতীক
এক বাগানে আমরা খানিক জিরিয়ে নিই
প্রজাপতি পুরুষাঙ্গের প্রতীক
টেলিস্কোপ পুরুষাঙ্গের প্রতীক
বাচ্চা যে বোতল থেকে দুধ খায়
তা ও পুরুষাঙ্গের প্রতীক
.............................................................
.............................................................

কাজেই দেখছেন তো আমি চটে যাই নি মোটেই
আপনাকে আমি চাঁদটাই দিয়ে দিচ্ছি
সত্যি সত্যি ভাববেন না আপনাকে নিয়ে আমি কোন ইয়ার্কি করছি:
অগভীর ভালোবাসার সঙ্গে সেটা আপনাকে উপহার দিচ্ছি আমি
আমি কোন ঠ্যাং ধরে টানবার চেষ্টা করছি না মোটেই
যান নিজেই গিয়ে সেটাকে আপনি তুলে আনতে পারেন
আপনার খুড়ো যিনি আপনাকে ভালোবাসেন
আপনার রঙ বেরঙের প্রজাপতি
আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে আসছেন পবিত্র বেদী থেকে।

কতবার একথা বলবো আপনাদের
নিয়ে আসুন কিছু কীটনাশক
ছাত থেকে সাফ করে দিন মাকড়শার জাল
জানলাগুলো ধুয়ে দিন
মাছির গুয়ে ভরা সব কাচ
ধুলো ঝাড়ুন আশবাবগুলো থেকে
আর সবচেয়ে যেটা বেশি জরুরী
এই পায়রা গুলোকে তাড়িয়ে দিন তো
ওগুলো সবসময়েই আমার গাড়ির উপর হাগছে
কোথায় রাখলেন বলুনতো দেশলাইগুলো!!

আটটি ছোট সাইজের একসাথে করে নাম দেয়া হয়েছে তারবার্তাগুলি
তারবার্তাগুলি

১.

ঢের হয়েছে ক্যাবলামি
এখানে ফরাশগুলোর তলায় কিছুই ঝাঁট দেয়া হয় নি।
ঈশ্বর জগৎটা সৃষ্টি করেছেন সপ্তাহজুড়ে
আমি সেটা একমুহূর্তে ধ্বংস করে দিই।

২.
.............................................................
.............................................................
আমি বামপন্হীও নই দক্ষিণপন্হীও নই
আমি শুধু সব ছাঁচ ভেঙে ফেলি।

৪.
.............................................................
.............................................................
আমি এসেছি মিশরের পিরামিডগুলো থেকে
সত্যি সত্যি
ক্যাথিড্রালগুলো আসলে আমার বিচি ধরে টান দেয়।

আরো ১৭টি একসাথে করে :
চেয়ারে বসে ঘুম লাগায় এমন এক কবির কাছ থেকে চিঠি
১৫ নম্বর টা শুনে দেখুন।আপাদমস্তক এ্যান্টিপোয়েটিক হয়ে যাবেন!

১৫.
শেষবারের মতো আমি বলে যাচ্ছি কথাটা
শূককীটেরা হলো দেবতা
প্রজাপতিরা সব অনিবার ছোটা ফুল
খওয়া খওয়া দাঁত
সহজেই ভেঙে যায়
আমি হচ্ছি নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগের লোক।
চোদা এক সাহিত্যকর্ম।

কিংবা পরেরটি আরো এককাঠি সরেস
হুঁশিয়ারি
কোনো প্রার্থণা চলবে না ,হাঁচিও না।
থুতু ফেলা নয়,বাহবা দেয়া নয়,হাঁটু গেড়ে বসা নয়
পূজো না,চীৎকার না,ডুকরানি না
কেশে কেশে কফ তোলা না।
এ তল্লাটে ঘুমোবার অনুমতি নেই।
কোনো টিকে দেয়া না ,কথাবার্তা না,দল থেকে তাড়িয়ে দেয়া না।
চোঁ চোঁ দৌড় না,পাকড়ে ফেলা না।
ছোটা একেবারেই নিষেধ।
ধূমপান নিষেধ ।চোদা বারণ।

আধুনিক মানুষ
একটা ফাঁদে পড়ে গিয়েছি
মাত্র সাতটা রাস্তাই খোলা আছে তার কাছে
আর তাদের কোনো টাই রোম অব্দি নিয়ে যায় না।

এইসব পড়তে পড়তে প্রায় একটা কথা মাথায় ঘুরপাক খায়--
কাকে বলে কবিতা যদি তা না-বাঁচায় দেশ কিংবা মানুষ?
--------------------------------------------চেশোয়াভ মিউশ

সদস্য নাম:মধ্যসমুদ্রের কোলে


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

প্রিয় মধ্যসমুদ্রের কোলে,

১. সচলায়তন ইতোপূর্বে অন্য কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা সচলায়তনে পুনর্প্রকাশে আগ্রহী নয়। আপনার কাছ থেকে আমরা নতুন লেখা আশা করি। তার আগে অনুরোধ রইলো সচলায়তনের নীতিমালাটি ভালো করে একবার পড়ে দেখতে। কোন প্রশ্ন থাকলে contact@সচলায়তন.কম এ পাঠাতে পারেন।

২. দিনে একটি করে পোস্ট সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর গতিবেগ। আমরা সবাই মোটামুটি সেটি অনুসরণ করার চেষ্টা করি। পর পর দু'টি পোস্ট একটু দৃষ্টিকটু দেখায়।

আপনার অ্যাকাউন্টটি অতিথি হিসেবে সচল করে দেয়া হচ্ছে। আমরা নতুন লেখার প্রত্যাশায় থাকবো। ধন্যবাদ।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।