দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে তথ্য

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বুধ, ২৯/০৪/২০০৯ - ৮:৩৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

চিন্তাগুলি কিছুটা বালখিল্য, কারণ আমি ধরে নিচ্ছি এই প্রস্তাব যাদের প্রতি উদ্দিষ্ট, সেই মহামহিম "কর্তৃপক্ষ" আসলেই দুর্নীতির সানডেমানডেকোলোজকরণে আগ্রহী।

প্রথম ধাপঃ

প্রতিটি নাগরিককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্যে একটি মৌলিক বারো ডিজিটের নাম্বার প্রণয়ন করা। একটি ইলেকট্রনিক মেমরি কার্ডে এ তথ্য থাকবে।

শেষ। দুর্নীতির বিরুদ্ধ জেহাদ তো এখানেই শেষ! প্রতিটি নাগরিকের জন্য যে কাজ করতে হবে, সেই কাজের মধ্যেই তো দুর্নীতির বীজ পোঁতার বুদ্ধি দিয়ে দিলাম! এই নাম্বার প্রণয়নের জন্য লাগবে জনবল, যন্ত্রপাতি। তার জন্য টেন্ডার কল করতে হবে। সেইখানে এক দফা দুই দফা তিনদফা চুরিদারি হবে।

হোক। তারপরও প্রতিটি নাগরিককে আলাদা করে চিহ্নিত করা জরুরি। জন্মনিবন্ধন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন, সব কাজকে সমন্বয় করে হলেও এই কাজ করা হোক। এর জন্যে পাঁচ বছর সময় লাগলেও কবুল।

দ্বিতীয় ধাপঃ

আয় নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে এনবিআর হয়রান। এইবার তাদের ঘাড়ে চাপানো হোক নতুন ঝামেলা। ব্যয়ের খোঁজখবর। বিশেষ কিছু পণ্য আইন করে তথ্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে দেয়া হোক। কাজের সুবিধার কথা চিন্তা করে এই থ্রেশোল্ড নির্ধারণ করা যেতে পারে। আপাতত একে ২০,০০০ (কুড়ি হাজার) টাকা ধরে নেয়া যেতে পারে। দশ হাজার টাকার অতিরিক্ত দামের যে কোন জিনিস বিক্রি করতে হলে বিক্রেতাকে ক্রেতার কিছু তথ্য নিবন্ধন করতে হবে, এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের ব্যয় পর্যবেক্ষণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ব্যাপারটা মোটেও কঠিন না, একদমই না। বললে আমাদের এনকিদু আর স্পর্শ মিলে এরকম একটা সিস্টেম দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

হ্যাঁ, ঐ তথ্যের মধ্যে একটা থাকবে ঐ বারো ডিজিটের নাম্বার।

তৃতীয় ধাপঃ

বছর শেষে দেখা হোক কে কেমন খরচ করেছে। তারপর দেখা হোক তার সেই পরিমাণ খরচের এখতিয়ার আছে কি না। এখতিয়ার নির্ধারণ করা যেতে পারে সাদা আয় দিয়ে। অসামঞ্জস্য চোখে পড়লেই ব্যবস্থা।

কিন্তু যারা ব্যবস্থা নেবে, তারাই যদি নয়ছয় করে?

তাদেরও তো কার্ড থাকবে। থাকবে নাম্বার। থাকবে ব্যয়ের হিসাব। আয় নাহয় লুকিয়ে রাখলো, ব্যয় লুকাবে কিভাবে? কোন শুয়োরের বাচ্চা দুর্নীতিবাজ তো খরচ না করে বসে থাকে না।

এরপর দেখা যাক, ফকিরের দেশে কয়টা বিএমডব্লিউ চলে।


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সবই ঠিক আছে। তথ্য প্রদানের সময় প্রদত্ত গোপনীয় তথ্য যেমন জন্মতারিখ, মেইলিং ঠিকানা ইত্যাদি যদি ওয়েব সাইটে প্রকাশ হয়ে যায়, তাহলে তো হবেনা। (ভোটার তালিকা নিয়ে কিছু ওয়েবসাইট এই কাজ করেছে)। সেটা হয়ে গেলে পরে দূর্নীতির ঠেকাতে দূর্নীতি শুরু হবে। প্রাইভেসির বিষয়টা এর সাথে নিশ্চিত করতে হবে।

আমেরিকায় এটাকে বলে সোস্যাল সিকিউরিটি নাম্বার, আর কানাডায় বলে সোস্যাল ইন্স্যুরেন্স নাম্বার। বছরে ক্রেডিট কার্ডে কতটাকা খরচ করেছি, ব্যাংকে কতটাকা জমা দিয়েছি সব হিসাব রেভিনিউ এজেন্সী এক ক্লিকেই জানতেছে।

কানাডার ট্যাক্স নিয়ে একটা উদাহরণ দেই। এখানে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলে উল্টো টাকা পাওয়া যায়। এর মূল কারণ হলো এখানে ট্যাক্স কাটা হয় সোর্স থেকে। অর্থাৎ বেতন পাওয়ার আগেই সেখান থেকে ট্যাক্স কেটে নেয়। তারপরে বছর শেষে একটা এমাউন্ট ফেরত দেয়। বছরে কত টাকা বাড়ি ভাড়া দিলাম সেটা উল্লেখ করলে তার একটা পোরশান ট্যাক্স রিফান্ড হিসেবে ফেরত দেয়। মজার বিষয়টা হলো ভাড়াটিয়াকে ইনসেন্টিভ দিয়ে রেভিনিউ এজেন্সী এক ঢিলে দুই পাখি মারছে-- (১) যে বাড়িতে ভাড়াটিয়া থাকছে সেই বাড়িওয়ালার বাড়িভাড়া বাবদ ইনকামের একটা হিসাব পেয়ে যাচ্ছে (২) ভাড়াটিয়ার ব্যয়ের একটা অংশ সম্পর্কে জেনে যাচ্ছে। কী মজা!

কানাডাকে আমার মনে হয় সোস্যালিস্ট ডেমক্র্যাটিক দেশ। সরকার প্রচুর ট্যাক্স কাটে, আবার কম ইনকামের পরিবারদের জন্য প্রচুর ফাও টাকার ব্যবস্থাও আছে।

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেটা তা হলো সবাইকে ট্যাক্স রিটার্ণের আওতায় আনা-- ইনকাম শুন্য হলেও। আর যা ট্যাক্স কাটার তা বেতন তোলার আগেই কেটে নেয়া, প্রয়োজনে সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে রিফান্ড করা (ক্যানাডার মতো)। এসব করা কোন বিষয়ই না। বাংলাদেশে এখন এত টেকি পাবলিক আছে যাদেরকে মাসে বড় এমাউন্টের বেতন দিলেই তারা এসব করে ফেলতে পারবে।

দিগন্ত এর ছবি

এটা ভারতের প্যান কার্ডের মত পরিকল্পনা। প্যান কার্ড বড় মাছদের ধরতে এখনও অক্ষম, কিন্তু আয়কর আদায়ের হার অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণটা সহজবোধ্য।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জিহাদ যতটা জোরালো, দুর্নীতিদুরীকরন তৎপরতা ততটাই দুর্বল।

২. দুর্নীতি দুরীকরন ইচ্ছা আন্তরিক হলে শ্লোগানবাজি বাদ দিয়ে কাজে মনোযোগী হতে হবে। কিভাবে কী করবে সেটা সরকারের নির্দিষ্ট মন্ত্রনালয় ঠিক করবে, সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হবে, তারপর পত্রিকার মারফত জনসাধারন জানবে সিদ্ধান্ত কি হয়েছে।

৩. সরকার সরকারের বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। নতুন বাহিনীর প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান বাহিনীগুলো যেন ঠিক মতো কাজ করতে পারে সেটা লক্ষ্য রাখলেই চলবে। সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে প্রতিদিন টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভ্যা ভ্যা করলে হবে না।

কিন্তু সমস্যা হলো, বাংলাদেশে দুর্নীতির ক্ষেত্রে শিকার এবং শিকারীর মধ্যে ব্যাপক বোঝাপড়া আছে। সেকারনেই দুর্নীতির বীজ দু'চার মাসের চেষ্টায় উৎপাটিত করা যায় না।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

হ। কয়টা বিএমবডব্লিউ চলে, আমিও দেখতে চাই...
---------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- জিনিষটার হিসাব একদম সোজা, কিন্তু সমস্যাটা হলো অনেক গভীরে। নাগরিকপিছু এই ইউনিক নাম্বার করার মানে হলো প্রতিটা নাগরিককে একটা কেন্দ্রীয় সিস্টেমে নিয়ে আসা। শুধু আয়কর কেনো যেকোনো কিছুই তখন মনিটর করা সম্ভব হবে। কমে যাবে অপরাধ ঘটানোর প্রবণতা। দোষী ব্যক্তিকে খুঁজে পশ্চাতে ডান্ডা গুঁজে দেয়াও অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর বাঁধাটাই আসবে সেখান থেকে। কারণ আজকে যারা ক্ষমতার সিটাডেলে বসে আছে তারা তাদের কলকব্জায় ডান্ডা গোজাটা ঠিক হজম করতে পারবে কীনা! আর তাদেরকে হঁটিয়ে নাগরিকপিছু ইউনিক নাম্বার আইডি করার এবং তার প্রয়োগ দেখানোর মতো ব্যক্তিত্ব আমাদের আছে কীনা- এই ব্যাপারগুলোও ধর্তব্য। একটু নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো, কিন্তু কী করবো। সুদূর আর অদূর ইতিহাস তো আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো 'লাইট অব হোপ' দেখাচ্ছে না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

তথ্য ছাড়া দেশের অবস্থা বোঝা সম্ভব না, সম্ভব না ভাল পরিকল্পনা করা। কিন্তু এখনকার যুগ যতটা তথ্য-বিপ্লবের তার চেয়ে বেশি তথ্য-কারচুপির। সব দেশেই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তথ্য উন্মুক্ত থাকে না। থাকে না কর্পোরেট সংস্থাগুলোর সত্যিকার লেনদেনের হিসাব, (মার্কিন ব্যাংক ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর এই ভেল্কিবাজি মন্দাকে অনিবার্য করেছে বলে যদি খেয়াল রাখি)।

যেসব রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামরিক ঘটনা জনজীবনকে প্রভাবিত করে বড় মাত্রায় সেসব সম্পর্কে খবরও আমরা আন্তর্জাতিক বা জাতীয় গণমাধ্যম থেকে পাই না।

প্রতিটি নাগরিককে আলাদা করে চিহ্নিত করা জরুরি। জন্মনিবন্ধন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন, সব কাজকে সমন্বয় করে হলেও এই কাজ করা হোক। এর জন্যে পাঁচ বছর সময় লাগলেও কবুল।

এই কাজ ইতিমধ্যে অনেকটা হয়ে গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার আইডি তৈরির প্রক্রিয়ায়। এর সুফল নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু অন্যদিকে এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হলো। এই লক্ষ্যে মার্কিন চাহিদা মোতাবেক যে তথ্যব্যাংক গড়ে তোলা হয়েছে, তা তাদের কাছে সরবরাহও হয়েছে। সেগুলো এখন সিআইএ-র ডাটা ভান্ডারে রক্ষিত। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীন নাগরিকদের সম্পর্কে তথ্য এভাবে বেহাত হওয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার তার জীবন, দেহ, আবেগের অপব্যবহারের সার্বভৌম নিশ্চয়তার বরখেলাপ। ওয়ার অন টেররের কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং কতিপয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সেই শর্ত পূরণ করে।

এখানেই চলে আসে এই প্রশ্ন যে, রাষ্ট্র কী গণতান্ত্রিক থাকতে পারে যখন তা অতি-নজরদারির (সারভেইলেন্স) পথে নিরাপত্তা রাষ্ট্র হয়ে ওঠে। দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা গণতন্ত্র নিজেদের তৈরি সন্ত্রাসবাদের অজুহাত দিয়ে আসলে নিজ নাগরিকের স্বাধীনতাকেই রদ করছে। এই স্বাধীনতা সামান্য নয়, তিনশ বছরের অধিকারবাদী আন্দোলন, ব্যক্তি মানুষের মুক্তির ধারণা, লিবারেলিজম, ব্যক্তিস্বাধীনতা ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তাই তা অসামান্য। এখন অসামান্য পথেই তার বিসর্জন ঘটছে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি রোগ নয় এটা রোগের লক্ষণ। যে দেশেই উৎপাদক (তা সে শিল্পপতিই হোক বা বৃহত কৃষির মালিক হোক) দের ওপরে বণিক পুঁজির প্রাধান্য কায়েম হয়, সেই দেশে দুর্নীতি ও নৈরাজ্য আসবেই। বিশ্বের বর্তমান বাস্তবতা এর উদাহরণ, বাংলাদেশ তো অবশ্যই। সুতরাং আজ বাংলাদেশে উৎপাদনী খাতগুলোর বিকাশের মাধ্যমে সমৃদ্ধি এনে দুর্নীতির প্রকোপ কমানো যায়। বাকিটা জবাবদিহির বিষয় ও জনগণের শাসন কায়েমের বিষয়।
তা না হওয়ায় দুর্নীতি বাংলাদেশে বড়লোক থেকে গরিব পর্যন্ত সবারই বিকল্প আত্মরক্ষা কৌশল হয়ে গেছে। কোনো তথ্যভাণ্ডার বা জরুরি শাসন একে থামাতে পারবে না। পারে নাই। বরং এর মাধ্যমে দেশের উদীয়মান উৎপাদক শ্রেণীটিকে (যারা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ শিল্পে ও বড় ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেছিল এভং দুর্নীতির মধ্যেও দেশ উদীয়মান ব্যাঘ্র শিরোপা পেয়েছিল, প্রবৃদ্ধি ৬ পেরুচ্ছিল। আজ সেখানে অধোগতি।

যাহোক, কথা সামান্যই আমি তথ্যবদ্ধ করার নামে সারভেইলেন্স কায়েমের বিরুদ্ধে। তথ্য বরং তাদেরটাই আসা দরকার, যারা জনগণের চোখের আড়ালে ব্যবসা-লুটপাট-নীতিপ্রণয়ন ও রাষ্ট্র চালায়।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

নজরদারি প্রসঙ্গে যা বললেন সেটা ঠিক। তবে বিষয়টার সঙ্গে প্রথম রেললাইন পাতার খানিক সম্পর্ক আছে। ঐ ডায়ালেকটিকসটা ভুললে চলবে না।

বাকি কথা ঠিকাছে।



অজ্ঞাতবাস

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

তবে এই ডায়ালেকটিকসটা এক চোখা হয় যখন, শোষণকে প্রগতির অনিবার্য শর্ত ধরা হয়। তাই না? বিপ্লবের জন্য লুন্ঠন-নির্যাতন বেশি চাওয়ার মতো হয়ে দাঁড়ায় না ব্যাপারটা?

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

হিমু এর ছবি

যাহোক, কথা সামান্যই আমি তথ্যবদ্ধ করার নামে সারভেইলেন্স কায়েমের বিরুদ্ধে। তথ্য বরং তাদেরটাই আসা দরকার, যারা জনগণের চোখের আড়ালে ব্যবসা-লুটপাট-নীতিপ্রণয়ন ও রাষ্ট্র চালায়।

যারা লুটপাট করছে, তারা যদি হুবহু আপনার যুক্তিটাই তুলে ধরে? যারা লুটপাট করছে না, তাদের তো কোন ভয়ের কারণও নাই। ল্যাংটার নাই বাটপারের ভয়।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

এ দুটো সমান নয়, চোরের অবাধিকার, ক্ষমতাবানের একচেটিয়া কার্যকলাপ আর দুর্নীতি দমনের নামে নাগরিক স্বাধীনতা ও তার সার্বভৌম সত্তার ওপর খবরদারি করা এক হতে পারে না।

দ্বিতীয়তম আপনি হয়তো জানেন না যে, ইতিমধ্যে সেরকম সারেভইল্যান্স শুরু হয়েছে। ডাটাও সংগৃহীত হয়েছে।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।