দেবে আর নেবে, মেলাবে মিলিবে

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৫/০৭/২০১০ - ২:৪০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

উমবের্তো একোর একটি বইও আমি পুরোটা পড়ে শেষ করতে পারিনি। দোষ একোর নয়, আমারও নয়, সময়ের। বইগুলো হাতে এসেছিলো এমন একটা সময়, যখন দেশ ছেড়ে চলে আসার তোড়জোড় নিচ্ছি। সঙ্গে করে আনার উপায়ও ছিলো না। খানিকটা ভগ্নমনে পেছনে ফেলে এসেছি আধপড়া দ্য নেইম অব দ্য রোজ, বোদোলিনো, দ্য মিস্টিরিয়াস ফ্লেইম অব কুইন লোআনা। আমার স্বভাব হচ্ছে একসঙ্গে কয়েকটা বই শুরু করা। প্রত্যেকটা কয়েক খাবলা করে পড়ে একটার শেষ দেখে ছাড়ি। তারপর আরেকটাকে ধরি। তারপর আরেকটা। এভাবে পড়তে গিয়ে অনেক বই আধপড়া থেকে যায়।

এতক্ষণ এই ঘ্যানা প্যাচাল পাড়লাম একোর দ্য নেইম অব দ্য রোজে পড়া পুঁথি কপির ঘটনাটা বলার জন্যেই। বিভিন্ন মঠগুলো একটা বড় সময় ধরে ছিলো হাতে লেখা বই কপি করার প্রতিষ্ঠান। সারা পৃথিবী থেকেই সেখানে ম্যানুস্ক্রিপ্ট আসতো, যাজকেরা সেসব কপি করতেন। এক বই এসে বহু হতো।

গুটেনবের্গ এসে এই গিয়ানজাম থেকে মানবজাতিকে মুক্তি দেন।

কিন্তু গুটেনবের্গই তো আর বইয়ের জগতে ইনোভেশনের শেষ কাণ্ডারি নন। এককালে লোকে পাথরে লিখতো, এক বাইট তথ্যের ওজন হয়তো তখন ছিলো এক কিলোগ্রাম। এখন লোকে গ্রামপিছু হয়তো এক গিগাবাইট তথ্য বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, অর্থাৎ ওজনের হিসেবে পারফরম্যান্স বেড়েছে এক লক্ষ কোটিগুণ।

এবার গল্পের বাকি আধখানা শোনাই। আমি একটি বই প্রসব করেছি [তার বেদনা এখনও বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি, টু বি প্রিসাইজ], একজন ভারতনিবাসী সচলবন্ধু আবার আমার সেই বইটির কয়েক কপি কিনতে চাইছেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, দেশ থেকে ভারতের একটি শহরে সেই বইয়ের কয়েক কপি পাঠানো সম্ভব কি না। বাংলাদেশ বা ভারতের পোস্টাল সার্ভিস, কোনোটিই গদোগদোচিত্তে প্রশংসার উদ্দিষ্ট সম্ভবত নয়, দেশ থেকে ভারতে এক কেজিতে গোটা ছয়েক বই পাঠাতে হাজার দু'য়েক টাকা খরচ পড়ে যায়। খাজনার চেয়ে যখন বাজনা এভাবে বাড়ে, তখন বইলেখক আর বইপাঠকের ক্ষীণ আর্তনাদ চাপা পড়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, দেশে নাকি ভারতে মুদ্রিত বই রূপির দ্বিগুণ টাকার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। স্পষ্টতই, ডিলাররা বইগুলো গায়ে বয়ে নিয়ে আসেন কোলকাতা থেকে, তারপর বাংলাদেশের বাজারে ছাড়েন। তাদের যাতায়াতের খরচটা বইয়ের দামে ঢুকলে দাম তো বাড়বেই।

আমি এই গুটেনবের্গোত্তর যুগে এই প্রক্রিয়াটিকে প্রাগৈতিহাসিক না বললেও প্রায়ৈতিহাসিক বলতে চাই। একটা বই কোলকাতায় ছাপা হবে, আর আমরা কুলিমজুরের মতো সেসব বই বয়ে বয়ে এনে বাংলাদেশে বেচবো [এবং উল্টোটাও], এই হাঙ্গামা পোহানোর কোনো অর্থ হয় না। পশ্চিমবঙ্গবাসী বাঙালি লেখকরা স্বচ্ছন্দে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশকের সাথে চুক্তি করতে পারেন, তাঁদের বইয়ের বাংলাদেশ সংস্করণ তখন ঢাকা, যশোর বা বগুড়ায় ছাপা হতে পারে, সেখান থেকে সারা দেশে বিক্রি হতে পারে। বাংলাদেশে যেহেতু গেঁয়ো যোগীরা ভিক্ষা পায় না, তাই ওপারবঙ্গীয় বইয়ের সুস্থ চাহিদা দেশে রয়েছে, এতে লেখকরা লাভবান হবেন নিশ্চয়ই। আর বাংলাদেশের প্রকাশকরাও মূল্য সংযোজন দেশের ভেতরে করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে, পাঠক আরো অনেক কম মূল্যে বইগুলো কিনতে পারবে। ঢাকা-কোলকাতা-ঢাকার যাতায়াতের খরচ আর সীমান্তে ঘুষ-বকশিশ-নাস্তোপহারের খরচগুলো তার পকেট থেকে আর বের হবে না। একই ব্যবস্থা দেখতে চাই উল্টিয়ে, অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের কোনো প্রকাশককেও এগিয়ে আসতে দেখতে চাই বাংলাদেশের লেখকদের বইয়ের ভারত সংস্করণ প্রকাশের ক্ষেত্রে। কোলকাতা আর ঢাকায় বইমেলাগুলোর স্বাদ তখন একটু হলেও পাল্টাবে আশা করি। এই ব্যবস্থা উভয়ের মেরুদণ্ডের জন্যেই স্বাস্থ্যকর, বিশেষ করে বইয়ের ভার যখন এত দুর্বহ যে পোস্টাল সার্ভিসও ঠিকমতো আলগাতে পারে না। ব্যাপারটাকে উৎসাহ দেয়ার জন্যে সরকার বাহাদুর বিভিন্ন শুল্ক ও অশুল্কজনিত গিয়ানজাম বসিয়ে দুই পক্ষকে এই পদ্ধতিতে আসার জন্যে চাপও প্রয়োগ করতে পারেন। কয়েকটা ইমেইল বিনিময় করলেই কয়েক মেগাবাইটের এই ভার পলকেই যোজন যোজন দূরত্বের বাধা পার হতে পারবে।

এই ভাবনার নিশ্চয়ই কিছু নিরাশাব্যঞ্জক দিক আছে। সেগুলো কেন যেন চোখে পড়ছে না। আপনার ধরিয়ে দিতে পারবেন, সে আশা রাখি।


মন্তব্য

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

বাংলাদেশে সত্যজিতের বইগুলি প্রকাশের স্বতাধিকার নওরোজ কিতাবিস্তানের। এইবারে বইমেলাতেও আমি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহ আর উপহার দেবার জন্যে প্রায় হাজার খানেক টাকার বই কিনেছি। নওরোজ তখন সত্যজিতের সাথে কোন চুক্তি করেছিল নিশ্চয়ই? তখনতো ই-মেইলের যুগও নয়! ইচ্ছা থাকলে করা যায় আসলে।
আবার ঐ একই নওরোজেরই বইগুলি আমাকে এই শহরে খুঁজতে গিয়ে হয়রান হতে হয়, আর ঢাকায় ট্র্যাফিক জ্যাম এড়াতে বাংলাবাজারের দিকে কোনদিন যাইই না, বরং বইমেলাই ভাল!
আমার কাছে পুরা ব্যপারটাই বিস্ময়কর যে ঠিক যখন আমি যে বই খুঁজছি, বিশেষ করে তা যদি হয় বাংলা, সেটা চট করে পাব না কেন! ভাল কথা মনে পড়ল, আমার এখানকার বইয়ের দোকানে মুজতবা আলী সমগ্র অর্ডার দেয়া আছে, কাল একবার খোঁজ নিতে হবে!

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

৯০ দশকে কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স বাঙলাদেশে ওদের শাখা (অথবা দেশীয় প্রতিনিধি/জয়েন্ট ভেন্চার) করতে চেয়েছিলো। দেশীয় ব্যবসায়ীদের আন্দলেনর মুখে সেটা সম্ভব হয়নি খুব সম্ভবত। পুস্তক ব্যবসায়ীরা ভালো বলতে পারবেন।

হিমু এর ছবি

ওনাদের মতলব ছিলো এখানে পাইকারি ও খুচরা দোকান খোলার।

আমি বাংলাদেশে আনন্দ পাবলিশার্সকে ব্যবসা করার জন্যে ঢোকার কথা বলছি না [যদিও তারা করেই যাচ্ছে]। আমি বলছি, পশ্চিমবঙ্গের লেখক, ধরা যাক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তিনি পাণ্ডুলিপি পাঠাবেন ঢাকার চাপালিশ প্রকাশনী কিংবা আবলুশ পাবলিশার্সের কাছে। বইটা চাপালিশ কিংবা আবলুশ বের করবে। আনন্দের হয়ে মুদি খাটার প্রস্তাব আমি কোনোভাবেই দিচ্ছি না। একইভাবে আনন্দ সুনন্দ মছলন্দ পাবলিশার্স বাংলাদেশের লেখকদের বই প্রকাশ করবে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

কনফুসিয়াস এর ছবি

লেখক বাছাই একটা ঝামেলা হতে পারে। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের বই আসে অবাধে, ওখানকার, এমনকি পরশুদিন প্রথম লেখক হয়ে ওঠা 'লেখক"এর নামও এ দেশের পাঠকরা জেনে যান। উলটো দৃশ্য একেবারেই বিরল। আমাদের প্রতিষ্ঠিত লেখকের নামও বহুদিন পর্যন্ত হয়তো ওখানকার মিডিয়ায় অজানা থেকে যায়, যতদিন না আনন্দবাজার কাউকে ডেকে নিয়ে একটা আনন্দ পুরষ্কার ধরিয়ে দেয়।
সুতরাং, দেয়া নেয়া শুরু হলে, আমাদের দেশীয় বাজারে পঃবঃ-র বই সুলভ হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই, কিন্তু ওখানে এদেশীয় নতুন লেখকদের বই ছাপানোর জন্যে প্রকাশক খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।

অটঃ হিমু ভাই, প্রকাশায়তনের কী হলো?

-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

হিমু এর ছবি

কথা খুবই সত্য। এর পেছনে আমাদের হীনম্মন্যতাও দায়ী। তবে আমার প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে লেখক বাছাইয়ের কাজটা বহুলাংশে করতে পারবে বাংলাদেশের পাঠক। এখন এ কাজটা করে আনন্দ গোষ্ঠীর লোকজন।

আমাদের দেশীয় বাজারে পশ্চিমবঙ্গের বই এমনিতেই সুলভ। আমি তাই চাই বইয়ের ব্যবসাটা করবে বাংলাদেশের প্রকাশক। কাঁচামাল সরবরাহ করবেন পশ্চিমবঙ্গের লেখক। আমরা প্রক্রিয়াজাত করবো। মুদিগিরি অনেক হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের কেউ যদি আমাদের নতুন লেখকদের বই না ছাপান, আমরাও তাঁদের নতুন লেখকদের বই ছাপাবো না। ব্যস। বিনা বাধায় বই আসে বলে আজিজে আলুগোষ্ঠীর বইয়ের সুপারমার্কেট প্রথমা উপচে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের বই দিয়ে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের পাঠক আমাদের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-হাসান আজিজুল হক-সৈয়দ হক-মাহমুদুল হকদের নাম শুনেছে কি না সন্দেহ আছে। সুনীল গঙ্গোরা মুখ খুললে তো হুমায়ূন আর মিলন ছাড়া অন্য কোনো নাম বেরই হতে চায় না।

অফটপিকঃ কোড ওভারহলিঙের কাজ এগোচ্ছে। প্রকাশায়তন অচিরেই আসছে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

অটঃ সেকেন্ড দ্যাট। চোখ টিপি

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- কনফু'র পয়েন্টটা গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যতোটা পশ্চিম বঙ্গের লেখকদের নিয়ে হাদুমপাদুম করি, তাঁরা কি আমাদের নবীন-প্রবীন, যেকোনো লেখককে নিয়েই ততোটা করেন!

এর কারণ প্রচার ও প্রসার। আমাদের দেশের সানন্দা, দেশ, আনন্দালোক যতোটা কাটতি পায়, আমাদের কোনো কিছু কি সেরকম তাঁদের ওখানে পায়!

পশ্চিম বঙ্গের প্রকাশকদের কী দোষ। তাঁদের তো জানতে হবে, জানাতে হবে তাঁদেরকে আমাদের লেখকদের বিষয়ে। সেটা কীভাবে হতে পারে!

একটা উপায় হতে পারে আমাদের বইমেলা। পশ্চিম বঙ্গের লেখক, প্রকাশক, পাঠক- সবারই একটা দৃষ্টি থাকে এই বই মেলার দিকে, খুব ক্ষীণ করে হলেও। বই মেলা শেষে পশ্চিম বঙ্গের প্রকাশকদের কাছে বইমেলার একটা বিশদ 'রিপোর্ট' পাঠানো যেতে পারে। এটা পাঠাতে পারে বাংলা একাডেমীও। আমাদের প্রকাশকেরা, যাঁদের সাথে পশ্চিম বঙ্গের নানা প্রকাশকের চিনপরিচয় আছে, তাঁরাও এগিয়ে আসতে পারেন। এখান থেকে আমাদের দেশের প্রতিভাবান লেখককের তালিকা পাবে পশ্চিম বঙ্গের প্রকাশক সমিতি। কবি তনুজা ও গল্প লিখিয়ে মাহবুব আজাদ প্রথম বই লিখেই পুরষ্কার পান নবীন লিখিয়ে হিসেবে, তাঁদের কথা তো পশ্চিম বঙ্গে যেতে হবে, তাঁদের প্রকাশকের কাছে।

এইটা না করে সারা জীবন বইয়ের মুদিগিরি করে গেলে তো হবে না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সিরাত এর ছবি

আমার স্বভাব হচ্ছে একসঙ্গে কয়েকটা বই শুরু করা। প্রত্যেকটা কয়েক খাবলা করে পড়ে একটার শেষ দেখে ছাড়ি।

হেহ হেহ। আমিও ঠিক তাই করি!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হবে যে ভারত আমাদের দেশের বই সেদেশে ছাপবে কিংবা বাজারজাতকরণে সহায়তা করবে। যারা নিজেদের জিনিসের বাজার টিকিয়ে রাখার জন্য বিদেশী জিনিসের উপর একশ একটা শুল্ক বসিয়ে রাখে, সেখানে এমনটা হওয়ার আশা করিনা।

বরং নিজেদের বইয়ের পাঠক/ক্রেতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার পক্ষে আমার মত। সেটা কিভাবে হবে বা বিকল্প কি করা যায় সেটা নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে।

একটা জিনিস এই মুহূর্তে মাথায় আসছে যে স্কুল পর্যায় থেকেই বই পড়া / লেখালেখির সুযোগ সৃষ্টিতে উৎসাহ প্রদানে উদ্যোগ নিতে হবে। এখন উদ্যোগ নেয়াও আগের তুলনায় সহজ, কারণ ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে তার উপর লেখালেখির অনেক মাধ্যমের সৃষ্টি হয়েছে, যেমন- ব্লগ। ব্লগ গুলো শুধু আলতু ফালতু লেখার প্ল্যাটফর্ম না হয়ে ভালো লেখার বা সৃজনশীল লেখার চাষভূমি হলে অবস্থার অনেকটাই উন্নয়ন ঘটবে।

সচলায়তন অলরেডি অগ্রণী ভূমিকায় বসে আছে। আমি মনে করি প্রকাশায়তনের দ্রুত প্রকাশ হওয়া দরকার। প্রকাশায়তনের বই অনলাইনে যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি কোন বই একটি নির্দিষ্টি সংখ্যক বিক্রি হলে সেটার প্রিন্ট ভার্সনও প্রকাশে পদক্ষেপ নিতে পারে।

তবে মোটের উপর কথা হলো প্রিন্ট করা বইয়ের বিকল্প এখনো আমাদের কাছে নেই। আমার বউয়ের জন্য কিছু বই সেদিন কিনতে গেলাম বইমেলা ডট কম সাইটে। নানা অপটিমাইজেশন করে দেখলাম ৬টা বইয়ের জন্য প্রায় ৫০ডলার খরচ হবে। ৫০ডলার আমার কাছে অনেক টাকা। বইগুলোতে প্রকাশিত গল্পগুলোর অধিকাংশই আমি সচলায়তনে পড়েছি, কিন্তু বউয়ের জন্য চাই প্রিন্ট কপি। সে অনলাইনে পড়তে পারে না, কিংবা পড়তে চায়না।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের আশু কোন উপায় নেই। টরন্টোতে বা এরকম বড় শহরে কোন এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করে এগুলো আনতে গেলেও একই খরচ পড়বে। সেদিক থেকে প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কিন্ডল বা এধরনের রিডার কেনা এবং সেখানে প্রকাশায়তনের বই পড়তে পারার ব্যবস্থা করা।

আমি ঠিক জানিনা কিন্ডলে আমাজন থেকে না কিনে বই পড়া যায় কি না।
আমার কিন্ডল বা এধরনের রিডার থাকলে একটা বই ৫ ডলার দিয়ে কিনতে আপত্তি করবোনা। কিন্তু দেশ থেকে সেই প্রায় সমপরিমাণ (বা কিছু বেশী) টাকা খরচ করে ২/৩ সপ্তাহ অপেক্ষা করে বই আনতে ইচ্ছে করবেনা। এর কোন যৌক্তিক কারণ নেই-- পুরো ব্যাপারটাই সাইকোলজিকাল।

অফটপিক হল কি না বুঝতে পারছিনা। পরে আরো আলোচনা করা যাবে।

সংযুক্তি: বই পড়া বা লেখালেখিতে উৎসাহ প্রদানের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যে যাই বলুক, নাম ফুটাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয় চোখ টিপি

দ্রোহী এর ছবি

সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশীয় বাজারে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের বইয়ের বেশ ভাল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে পক্ষান্তরে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে আমাদের দেশীয় লেখকদের বইয়ের তেমন চাহিদা নেই [দুয়েকজন লেখক ছাড়া]।

তাই ব্যাপারটি চালু হলেও তা থেকে লাভ কেবল পশ্চিমবঙ্গীয় লেখকদেরই হবে। দেখা যাবে তখন দেশীয় প্রকাশকরা অপেক্ষাকৃত নবীন লেখকদের বই ছাপার চাইতে পশ্চিমবঙ্গীয় খ্যাতনামা লেখকদের বইয়ের স্থানীয় প্রকাশক হওয়াটাকেই লাভজনক মনে করবেন।


কি মাঝি, ডরাইলা?

হিমু এর ছবি

সেক্ষেত্রে লাভটা স্থানীয় প্রকাশকের ঘরেই ঢুকুক না। প্রকাশনা ব্যবসাও তো ব্যবসা, আর ব্যবসাটা লাভের মুখ দেখলেই না তাঁরা নতুন লেখকদের দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন।

আমার তো মনে হয় আমরা প্রকাশনার বাজার আর ব্যবসার দিকে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারিনি বলেই নতুন লেখকেরা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই গজান।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

দ্রোহী এর ছবি

তেজারতি জিনিসটা বাঙালির রক্তে নাই। যখন বাঙালি নামের পিছে দুকানওয়ালা, মকানওয়ালা, বন্দুকওয়ালা লাগাবে তখন তেজারতি শিখতে পারবে।

তবে আমি বরাবরই গ্লাসটা অর্ধেক খালি দেখি। আমার মনে হয় না লাভের মুখ দেখতে শুরু করলেই প্রকাশকেরা অপেক্ষাকৃত নবীন লেখকদের বই প্রকাশ করতে শুরু করবেন।

তবে এটুকু নিশ্চিত যে পশ্চিমবঙ্গীয় লেখকদের বই স্থানীয়ভাবে প্রকাশ না করলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বয়ে এনেই বিক্রি করা অব্যাহত থাকবে। সেক্ষেত্রে হিমুর প্রস্তাবটাই যথাযথ। অন্ততপক্ষে লাভটা সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে না গিয়ে স্হানীয় প্রকাশকের পকেটেই ঢুকুক। সেটাই বা কম কী?


কি মাঝি, ডরাইলা?

নৈষাদ এর ছবি

প্রস্তাবটা তো ভালই মনে হল।

ভারতীয় বই তো এমনিতেই মনে হয় বাংলাদেশের বাজার দখল করে বসে আছে। এই ‘আজিজ-নিউমার্কেট-নীলক্ষেত’ বলয়ের বইয়ের দোকানগুলি বাদ দিলে বাংলাদশের অন্যান্য জায়গায় বইয়ের দোকানে গেলে (ঢাকার অন্যান্য জায়গার দোকানেও) অবশ্যই ভারতীয় লেখকদের বই পাওয়া যাবে। সাথে দেশের ‘জনপ্রিয় ধারার’ লেখকদের বই পাওয়া যাবে। কিন্তু দেশে যে অনেক ভাল বই প্রকাশিত হচ্ছে তা কিন্তু পাওয়া যায়না। আমাদের দেশেই তো আমাদের বইয়ের বাজার সৃষ্টি হয়নি ঠিকভাবে।

দেশে বিদেশী বই (ভারত এবং অন্যান্য) প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টি হলে অন্ততপক্ষে ভারতীয় বইয়ের ব্যবসাটা ‘ট্রেডিং ব্যবসা’ থেকে ‘প্রকাশনী ব্যবসার’ দিকে কিছুটা চলে আসবে। কেউ কেউ একটা পয়েন্ট তুলছেন যে তখন হয়ত প্রকাশকরা ভারতীয় বই প্রকাশেই বেশি ইন্টারেস্ট পাবে। নিশ্চিতভাবে প্রাথমিক ভাবে এটা কিছুটা ‘রেগুলেটেড’ হওয়া উচিত। যেহেতু এই সেক্টরটা এখনও তেমনভাবে গড়ে উঠেনি (!!!!), বিদেশী বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে কোন ধরণের ডিউটি ইমপোজ করে দেশী লেখকদের জন্য ‘লেভেল-প্লেয়িং’ ফিল্ড করা যেতে পারে।

আমার কাছে মনে হয় ভারতে একটা বড় বাংলাভাষাভাষী গোষ্টি আছে যাদের রুট এদেশে এবং এদেশের ব্যাপারে তাদের একধরণের নষ্টালজিয়া কাজ করে। হুমায়ুন ধারার লেখক দিয়েও যদি ভারতে একটা বাজার সৃষ্টি করা যায় তবে আখেরে লাভই হবে। আসলে ‘বটম-লাইনই’ তো ব্যবসার মূলকথা। ভারত কিন্তু পাশ্চাত্যের অ্যাকাডেমিক বই ভারতে প্রকাশ করছে (টাটা-ম্যাকগিল)।

এখনতো প্রায় সব ট্রেড/প্রফেশনের অ্যাসোসিয়েশন আছে, জানিনা প্রকাশকদের আছে কিনা। তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব থাকে। সঠিক নেগোসিয়্যাশন এবং ট্রেড-ওফ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আজিজ সুপার মার্কেটের প্রকাশকরা কন্টেন্ট বোঝেন কিন্তু লিটল ম্যাগাজিনের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের মার্কেটিংটাও করতে পারেননা। আর অন্যপ্রকাশক যারা মার্কেটিং পারেন তারা কন্টেন্ট বোঝেন না। যেরকম ফিল্মের ক্ষেত্রেও।ফলে প্রকাশনা রুচিটা আশানুরূপ নয়। কলকাতায় আনন্দবাজার এই কারণে ব্যবসাটা চালিয়ে যাচ্ছে দুই বাংলায় কয়েকজন লেখককে তাপানুকূল কাঁচঘেরা ঘরে বসিয়ে নিয়ে, সাহিত্যের কলসেন্টার যেন। প্রথম আলো সেটা চেষ্টা করছে কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায়। কাজেই গুলশানে দুটো পশ দোকান খুলে পেঙ্গুইন আনন্দে আটখানা হলে মানুষ অন্তত ঘরসজ্জার জন্য দ্য ভিঞ্চি কোড বা হ্যারিপটার কিনবে। এখন তাহলে উপায় কী!

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

ফরিদ এর ছবি

দেশের ভেতরেও চটজলদি যেকোন বই পাওয়া বেশ দুষ্কর ব্যাপার। ঢাকার বাইরের বেশীরভাগ জেলা শহরেও অতি নিচু মানের কিছু ধর্মীয় বই, কিছু বাংলা গান ও এসএমএস নির্দেশিকা, আর চর্যাপদ আমলের ক্ল্যাসিক বাংলা সাহিত্য ছাড়া সামান্যই বই পাওয়া যায়। বিশেষ করে রেফারেন্স টাইপের বই হলে তো কথাই নেই।

আশা করি সামনে অবস্থা পাল্টাবে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

এই প্রস্তাবে ভিন্নমত জানাচ্ছি।

১)
আনন্দবাজার একটা বই যে পরিমাণ ছাপে, তাতে গায়ের মূল্য কম থাকে। কিন্তু একই বই বাংলাদেশে ছাপা হলে তার ছাপা খরচ বাড়বে। ফলে এখন গায়ের দামের ডাবল দামে বিক্রি কিনতে হচ্ছে, তখন ডাবল গায়ের দামে কিনতে হবে।

২)
লাভের গুড়টা আনন্দবাজার না খেয়ে বাংলাদেশের প্রকাশনী খাওয়ার প্রস্তাবটাও মনে হয় না খুব একটা কাজে আসবে। আনন্দবাজার নিশ্চয়ই বিনা লাভে বই ছাপার অনুমতি দিবে না, তারা দাম হাঁকবে অনেক। তাতে বইয়ের দাম আরো বেড়ে যাবে।

৩)
একুশের বইমেলা ভরে যাবে সুনীল গাঙ্গুলি আর বুদ্ধদেব গুহ দিয়ে।

৪)
আপনি বলতেছেন কোলকাতার কোনো প্রকাশক ছাপবে আমাদের লেখকের বই? এটা একটা অলীক কল্পনা। তারা ছাপবে না। ছাপলেও হুমায়ুন মিলন পর্যন্তই। এর বাইরে তারা আর কাউরে চিনেই না। তাহলে লাভ কী?
দেবে আর নেবে মেলাবে মিলিবে তত্ত্ব এখানে কাজ করবে না একেবারেই।

৫)
১০০ টাকার বই ঢাকার বাজারে যে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দামে। সেই লাভের বাড়তি গুড়টা কিন্তু কোলকাতার প্রকাশকের পকেটে ঢুকছে না, ঢুকছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীর পকেটেই।

৬)
আপনি বলছেন ঢাকার বই ব্যাসায়ীরা ভালো ব্যাবসা পেলে নতুন লেখকদের বই ছাপতে আগ্রহী হবে?
এটাও অলীক চিন্তা। তারা মোটেও তা করবে না। পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সদস্য প্রকাশকরা বইয়ের ব্যাবসা করে প্রচুর টাকাই কামাচ্ছে। তাদের মূল ব্যাবসা পাঠ্যপুস্তক ছাপানো। সেই লাভের টাকায় তারা নতুন লেখকের বই কিন্তু আনছে না বাজারে।

৭)
নতুন লেখকের বই ছাপানোর প্রধান সমস্যা নতুন লেখক খুঁজে বের করা। সম্ভাবনাময় নতুন লেখক খুঁজে বের করার জন্য যে চেষ্টা বা উদ্যোগ থাকা দরকার, তার ধারেকাছে দিয়ে আমাদের মূলধারার প্রকাশকরা যায় না। আর নতুন সম্ভাবনাময় লেখকরাও এড়ায়ে চলে বাংলাবাজারকে। দুই পক্ষে এখন যোজন যোজন দূরত্ব।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হিমু এর ছবি

চলুক । প্রত্যেকটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।

এবার কয়েকটা ব্যাপারে প্রতিভিন্নমত জানাই।

১ আর ৫)
আনন্দবাজার কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাজার আর বাংলাদেশের বাজার, দু'টো বাজারকে টার্গেট করেই ছাপে। দুই বাজারের অনুপাত, আমার ধারণা ৫০-৫০।

ধরা যাক, একটা বই আনন্দবাজার দশ হাজার কপি ছাপে, তাতে করে বইটার দাম থাকে একশো রূপি। বাংলাদেশে আমরা এটা দুইশো টাকা দিয়ে কিনি, কারণ পরিবেশক ভদ্রলোক কুলির মতো বইগুলো ঘাড়ে করে কোলকাতা থেকে নিয়ে এসেছেন। একশো রূপিকে বাংলাদেশী টাকায় রূপান্তর করলে একশো আটচল্লিশ টাকা পড়ে, বাকিটা ওনার খাটনির দাম। এই বাহান্ন টাকার মধ্যে পড়ছে যাতায়াত খরচা, কোলকাতায় থাকা খাওয়ার খরচা, বর্ডারে ঘুষের খরচা।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে যদি ঐ বইটা ছাপানো হয়, সেটার দাম দুইশো টাকা পর্যন্ত সহ্য করা যায় কি না? এই দুইশো টাকার পুরোটাই যাচ্ছে বাংলাদেশের কাগজ-কালির সাপ্লায়ার, প্রেস, বাইণ্ডার, দোকান আর প্রকাশকের হাতে।

আরেকটা প্রশ্ন, বই যখন অনেক ভলিউম ছাপা হয়, তখন পাঁচ হাজার কপি ছাপানোর পার ইউনিট প্রাইসের সাথে দশ হাজারের পার ইউনিট প্রাইসে খুব বেশি তফাত হবে না।

২)
আনন্দবাজার অনুমতি দেয়ার কে? চুক্তি তো হবে লেখকের সাথে।

৩)
একুশের বইমেলা ভরে যাবে সুনীল গাঙ্গুলি আর বুদ্ধদেব গুহ দিয়ে।

একুশের বইমেলা সুনীল আর বুদ্ধদেব দিয়ে ভরে গেলে বাংলাদেশের লেখক-প্রকাশক-নীতিনির্ধারকদের আত্মোপলব্ধি হবে বলে মনে করি।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দময়ন্তী এর ছবি

এই সম্পর্কে আমার মত হল:

প্রস্তাবটা চমত্কার৷ তবে 'আনন্দ পাবলিশার্স'এর বাইরে ভাবা দরকার৷ আনন্দ পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী, নিজেদের লাভ ষোল আনার জায়গায় আঠারো আনা বোঝে৷ তাতেও তেমন ক্ষতি ছিল না৷ কিন্তু ওদের চুক্তি ফুক্তিগুলো খুবই একপেশে ধরণের হয়৷ 'চর্চাপদ', 'থীমা', গাংচিল', 'লালমাটি' ইত্যাদি ছোট সংস্থাগুলোর প্রকাশনা মান যথেষ্ট ভাল৷


'আখতারুজ্জামান ইলিয়াস' এবং 'হাসান আজিজুল হক' পশ্চিমবঙ্গে ভালই জনপ্রিয়৷ শহীদুল জহির সম্প্রতি কিছু বছর ধরে মোটামুটি আলোচিত৷ হাসান আজিজুল হক'এর 'আগুনপাখী' দে'জ থেকে প্রকাশিত এবং যতদূর জানি খান দুই সংস্করণ হয়েও গেছে৷ আমি এই বইটি আনন্দ পুরস্কার পাওয়ার আগেই কিনেছিলাম৷ এঁর গল্পসমগ্র ১ ও ২ কলকাতার নয়া উদ্যোগ' থেকে প্রকাশিত৷ এর মধ্যে ১ নং খন্ডটা সংগ্রহ করতে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল, কারণ স্টক শেষ হয়ে গেছিল৷ 'শামসুর রাহমান' এর কবিতাগুচ্ছ আমি কলেজে পড়াকালীন কলেজ স্ট্রীটের ফুটপাথ থেকে কিনেছিলাম৷ পাওয়া যায় বলেই তো কিনতে পেরেছিলাম৷ হাসি
এই গতবছর ঘুরতে ঘুরতে একদিন পেলাম 'হরিশঙ্কর জলদাস'এর 'জলপুত্র'৷ নজরুলের একটা ব্লগে বইটির উল্লেখ দেখে জানিয়েওছিলাম সেকথা৷ 'পিরিমকুল কাদিরভ'এর 'বাবর' ঢাকার 'ঐশী প্রকাশন' থেকে প্রকাশিত৷ আমি নয়া উদ্যোগ এর দোকান থেকে কিনেছি৷

সম্প্রতি একটি বই কেনার ইচ্ছে আছে৷ যাওয়া হচ্ছে না বলে কেনাও হচ্ছে না৷ শওকত আলি'র 'প্রদোষে প্রাকৃতজন'৷ শুনেছি ঢাকার বাইরের কোনও প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করেছেন এটি৷

'সাহিত্য আকাদেমি' বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার বই অন্য ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন৷ তো, তাঁদের বইও কলকাতায় চট করে পাওয়া যায় না৷ ও ভি ভিজয়ন বা ইন্দিরা গোস্বামীর বই খুঁজতে গেলে আমাকে নির্দিষ্ট ২টি কি ৩টি দোকানেই যেতে হয়৷ হাসি


সুনীল, শীর্ষেন্দু, সমরেশদ্বয়, বাণী, সুচিত্রা ইত্যাদি তো বহুচর্চিত৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আনন্দ-নিকেতনের বাইরের লেখকদের খবর বাংলাদেশে কতটা পৌঁছয় জানিনা৷ ধরেন 'দেবর্ষি সারগী সুবিমল মিশ্র, উদয়ন ঘোষ, কিম্বা কমল চক্রবর্তী? অথবা রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়? বিনয় মজুমদারের 'ধুসর জীবনানদ'? নবারুণ ভট্টাচার্য্য হয়ত কিছুটা পরিচিত৷ জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী ও 'জগদীশ গুপ্ত'?

তো, কথা হল, শুধু সুনীল শীর্ষেন্দু দিয়ে বাজার ছেয়ে গেলেও সেটাই পুরো পশ্চিমবঙ্গ নয় ---- এই আর কি৷

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

হিমু এর ছবি

জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী আর জগদীশ গুপ্ত সামান্য পড়েছি, বইগুলো ঢাকা থেকেই কেনা। আনন্দ নিকেতনের বাইরে একজনের কথা সবসময় বলে বেড়াই, অভিজিৎ সেন। কিন্তু বাংলাদেশের বইয়ের বাজার সাংঘাতিকরকম "আনন্দমুখর"।

'চর্চাপদ', 'থীমা', গাংচিল', 'লালমাটি' ... এঁদের কাছে এ ধরনের প্রস্তাব পৌঁছে দেবার কোনো উপায় কি আছে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

দময়ন্তী এর ছবি

হ্যাঁ হ্যাঁ অভিজিত্ সেন৷ ভুলে গিয়েছিলাম৷

সচলে মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা দেখলাম কদিন আগে৷ এবারে বইমেলায় ওঁর একটা আত্মজৈবনিক বই বেরিয়েছে চর্চাপদ থেকে 'ছোটলোকের ছোটবেলা'৷ অসম্ভব ইন্টারেস্টিং বই৷

'চর্চাপদ'এ প্রস্তাব পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করছি৷ বাকীগুলো একটু খোঁজ নিতে হবে৷
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

স্নিগ্ধা এর ছবি

দেবর্ষি সারগী সুবিমল মিশ্র, উদয়ন ঘোষ, কিম্বা কমল চক্রবর্তী?

দময়ন্তী, এনাদের লেখা পড়তাম 'আজকাল' এর শারদীয়া সংখ্যায়। গত দু'তিন বছর পড়া হয় নি অবশ্য। জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী খুব প্রিয় ছিলেন একসময়। মতি নন্দী এখনও প্রিয়। শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিত - এঁদের কিছু কিছু লেখা খুব ভালো লেগেছিলো। আর একজনের নামের কারণেই মনে আছে - ঝড়েশ্বর চট্টপাধ্যায়, লেখা অবশ্য খুব দাগ কাটতে পারে নি মনে।

'প্রদোষে প্রাকৃতজন' পড়ে ফেলুন, খুবই ভালো হাসি

আরিফ জেবতিক এর ছবি

১. আপনার প্রস্তাবে মূল সমস্যা হচ্ছে ভারতীয় জনপ্রিয় লেখকদের বই কিংবা আলোচিত বইগুলো আমরা এখানে অনুমতি ছাড়াই পুন:উৎপাদন করে যাচ্ছি। সুতরাং রয়ালিটি দিয়ে কেউ যদি সেই বই প্রকাশ করতে চান, সেক্ষেত্রে তার লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা পুরোটাই।

একটু অপ্রাসঙ্গিক হই। দেশে বইয়ের দামেরও আগামাথা এখনও বুঝিনি আমি, ভাবছি এটা নিয়ে সচলে একটি লেখা লিখব। যশোবন্ত সিং এর জিন্না-ভারত-দেশভাগ-স্বাধীনতা বইটি ( মূল বইয়ের আনন্দ কৃত অনুবাদ) পাইরেট কপি ঢাকা থেকে কিনলাম ২০০ টাকায়।
৪৬৪ পৃষ্ঠার এই বইটি প্রতি ফর্মা বাবদ দাম পড়ল ৬.৯০ টাকা। কাপড় বাঁধাই, প্রচ্ছদ রঙিন এবং ছাপা যদিও ফটোকপি মনে হলো, তবু ঝকঝকে। কিন্তু এদেশে একজন লেখকের বইয়ের প্রতি ফর্মা মূল্য ধরা হয় গড়ে ২০ টাকা, ২৫% কমিশন দেয়ার পরেও বইমেলায় বিক্রী করা হয় ১৫ টাকা ফর্মা! প্রায় দ্বিগুন! তারপরও প্রকাশকরা খালি লোকসান করেন কেন, ব্যবসার স্বার্থেই সেটা তাদের ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে।

২.
আমাদের দেশে বই ব্যবসার বড় সমস্যা হচ্ছে বিপনন।
পাঠসূত্রের কর্ণধার রাজীব নূর এর একটি লেখার প্রতিক্রিয়ায় আমি কয়েকমাস আগে মিডিয়া ওয়াচে একটি লেখা লিখেছিলাম,সচলে প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখার প্রকাশ নিষিদ্ধ থাকায় এটি পোস্ট করতে পারিনি, নইলে বইয়ের বিপনন নিয়ে একটি ভালো আলোচনা হতে পারতো বলে আমার ধারণা।

বইয়ের বিপনন নিয়ে সচলে মাঝে মাঝেই বিচ্ছিন্ন আলোচনা হয়েছে, এগুলোকে গুছিয়ে একটা বড় আলোচনা করলে মন্দ হয় না। বই বিপননে নতুন ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসা না গেলে এই ব্যবসা মৌসুমী ব্যবসা হিসেবেই থেকে যাবে।

হিমু এর ছবি

কেউ যদি বৈধভাবে বাংলাদেশে ছাপানোর চুক্তি করেন, তাহলে মন্দ কী? তখন তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। পাইরেটেড কপি যদি সস্তায় বিক্রি করা যায়, বৈধ কপির দাম বড়জোর ১০-১৫% বেশি হবে।

আমাদের দেশে পেপারব্যাক এবং হাইকোয়ালিটি নিউজপ্রিন্টে বই প্রকাশের ওপর জোর দেয়া উচিত। সব বইয়ের হার্ডকাভার হওয়ার প্রয়োজন তো নেই। আমি একটা কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস লিখছি, এটি যদি হাই-কিউ নিউজপ্রিন্টে প্রকাশিত হয়, ৫০ টাকার নিচে দাম রাখা যায়, সমস্যা কোথায়?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

আরিফ জেবতিক এর ছবি

আসলে শুধুমাত্র বৈধভাবে ছাপানোর সাহস নিয়েই পাইরেসি বন্ধ করা যেতে পারে। তবে বেড়ালটা অনেক বড়, ঘন্টার দড়িটা শক্তপোক্ত হতে হবে। কিছু আছে বোধহয়। একসময় নসাস করতো। আরেকটা প্রকাশনী, নাম মনে করতে পারছি না, তারা ভালো বিদেশী বইগুলোর রাইট এনেছিল, গুন্টারগ্রাসের টিনড্রাম ছেপেছিল যদ্দূর মনে পড়ে, কিন্তু সেই রাইট প্রক্রিয়া শুরু করার ১ মাস আগে থেকেই টিনড্রাম অনুবাদ হয়ে বাংলাদেশের ফুটপাতে চলে গিয়েছিল।
আমাদের প্রকাশকরা একটু অপেশাদার, তারা হয়তো কপিরাইট নিয়ে মোস্তফা জব্বারের মতো মারমার কাটকাট করে আগাতে পারেন না, তবে পেশাদারী মনোভাব নিয়ে শুরু করলে এই 'দেবে আর নেবে' প্রক্রিয়াটি সাফল্যের মুখ দেখবে, সন্দেহ নেই।

২.

আমাদের দেশে পেপারব্যাক এবং হাইকোয়ালিটি নিউজপ্রিন্টে বই প্রকাশের ওপর জোর দেয়া উচিত। সব বইয়ের হার্ডকাভার হওয়ার প্রয়োজন তো নেই।

একমত। সব বইয়ের ৪ রঙা প্রচ্ছদ করতে হলে একই প্লেটে নিশ্চয়ই একাধিক বইয়ের প্রচ্ছদ ছাপা যায়, সেক্ষেত্রেও তো দাম কমে আসার কথা।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

কোলকাতায় বাংলাদেশের বই যায়। কোলকাতা থেকেও বাংলাদেশের লেখকদের বই ছাপা হয়। আবার বাংলাদেশের প্রকাশনীও কোলকাতার লেখকদের বই ছাপে। এই প্রক্রিয়াটা অনেক আগে থেকেই আছে। কিন্তু এটা প্রকাশকের পছন্দ মাফিক। চুক্তি করে লেন দেন সম্ভব কী আসলে?

কোলকাতার প্রকাশকরা যদি বাংলাদেশের লেখকদের বই ছাপেন, অবশ্যই জনপ্রিয় লেখকদের বই-ই ছাপবেন। এটাই স্বাভাবিক। এতে তাদের কোনো দোষ দেখি না। বাংলাদেশের নতুন লেখকদের বই কেন তারা ছাপতে যাবেন?
বাংলাদেশের প্রকাশকরাই আগে নতুন লেখকদের পাঠকপ্রিয় করার ব্যাবস্থা কেন করবেন না?

আমার মতে আগে আমাদের নিজেদের জায়গাটা ঠিক করা উচিত। প্রকাশক লেখকের সম্পর্ক তৈরি করা জরুরী। জরুরী লেখক পাঠকের সম্পর্ক তৈরি করা। আমাদের প্রকাশনার মূল কেন্দ্র এখনো বাংলাবাজার। সেখানে নতুন লেখকরা কালেভদ্রেও যান না। নাক সিটকান।
সারাদেশে পুস্তক বিপননের খুব ভালো একটা নেটওয়ার্ক আছে। পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এটা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বাংলাবাজার কেন্দ্রীক। আজীজ কেন্দ্রীক প্রকাশকরা সেই সমিতিতে ঢোকার চেষ্টাও করে না। আবারো সেই নাক সিটকানো ঝামেলা।

অন্তত বাংলাবাজারের বাইরের প্রকাশনীগুলো মিলে নিজেরা একটা সংগঠন করতে পারে। যার মাধ্যমে সারাদেশের বই বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু সেরকম কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত চোখে পড়ে নাই।

সারাদেশে পাঠক আছে প্রচুর। তারা নতুন লেখকের সন্ধান চায়। কিন্তু পায় না। পাঠকেরও তো একটা নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। এখন ইন্টারনেটের যুগ। একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে সবাই মিলে প্রচার করা যেতে পারে। যেই সাইটে পাঠকরা নতুন নতুন বইয়ের খবর শেয়ার করবেন। মফস্বলের একজন পাঠক সেই সাইটে ঢুকলে নতুন বইয়ের খোঁজ পাবেন। সংগ্রহ করার চেষ্টা করবেন। বাজারে চাহিদা তৈরি করতে পারলে বইয়ের বিপনন এমনিতেই তৈরি হবে।

ঢাকায় দুদিন পর পর ছোটখাটো বই মেলা হয়। কিছুদিন আগে সময় প্রকাশনী বইমেলা করলো ধানমন্ডিতে। আমি নিজে গিয়ে দেখেছি প্রচুর বই বিক্রি হচ্ছে। আমি নিজেও কিনেছি প্রচুর বই।
এখন চলছে ঐতিহ্যের বইমেলা। ৭৫% ছাড়ে বই বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহ্য পোস্টার মেরেছে দেয়ালে। কিন্তু আমরাও তো এসবের প্রচার করতে পারি।
কাটাবনে প্রতি শুক্রবারে বইয়ের হাট বসছে। চমৎকার উদ্যোগ। কিন্তু প্রচার হচ্ছে না। কেন?

আবার একই ভাবে মফস্বলেও একজন ভালো লেখক থাকতে পারেন। তার খোঁজটাই আমরা কে কবে রেখেছি?

মাজহার ভাই একটা চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছেন। বইয়ের জগৎ নামে একটা পত্রিকা বের করছেন। ৩টা বের হয়েছে। চতুর্থটার কাজ চলছে। আশি টাকা দাম মাত্র। একটা পত্রিকা পড়লে ৫০টা বইয়ের রিভিউ পাওয়া যাচ্ছে। এই পত্রিকা এখনো লস প্রজেক্ট। দয়া দাক্ষিণ্যের উপর চলছে। কেন?
এই পত্রিকা তো অন্তত হাজার কপি বিক্রি হওয়ার কথা সারাদেশে। কেন হচ্ছে না? একটাই কারণ, কেউ জানতে পারছে না। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই উদ্যোগগুলোকে ছড়াতে হবে জনে জনে।

আমার মতে 'সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি' বা এরকম একটা নাম দিয়ে একটা সংগঠন এখন জরুরী। যারা বাংলা বাজারের বাইরে থেকে বই প্রকাশ করে চলেছেন। তাদের একটা সংগঠন। দলবদ্ধভাবে সারাদেশে বই বিপননের চেষ্টা করা উচিত। সবাই ব্যাক্তিগত উদ্যোগে না করে, দলবদ্ধভাবে বই বিপননের ব্যাবস্থা করলে সবাই উপকৃত হবে।

তারপর কোলকাতা নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হিমু এর ছবি

পশ্চিমবঙ্গে "নতুন লেখক"দের বই ছাপাতে হবে, এমন কোনো আবদার আমার নেই। আমরাও ছাপালে ব্যবসার দিকে চোখ রেখেই ছাপাবো।

আমার আপত্তি কুলিগিরিতে। আমরা মজদুরের মতো স্যুটকেস ঘাড়ে বয়ে বই নিয়ে আসবো, এনে বেচবো ... কেন? আমাদের প্রেস নাই?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হিমু এর ছবি

এই পোস্টের মন্তব্য পাঠ করলে টের পাওয়া যায়, আমাদের বই চোরাচালানিরা যে কোনো দিন পুটকিতে বিএসএফের গুলি খেয়ে উবুড় হয়ে পড়ে থাকতে পারেন সীমান্তে, কারণ হয়তো ওনারা বইয়ের স্যুটকেসে বইয়ের বদলে গরু কিংবা কাসাবের ছোটোভাই নিয়ে আসেন। ওনাদের পুটকির স্বার্থেই আমাদের উচিত এইভাবে কোলকাতা থেকে বলদের মতো বই বহন করে এনে বিক্রি না করা। অবশ্য যদি আমাদের আত্মসম্মানজ্ঞান বলে কিছু থাকে। আমাদের তো সবার গায়েই কমবেশি দাঁতাল বাঁশখোরের চামড়া।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হাতকচলানি বাদ দিয়ে আমাদের কিছু একটা করার বোধ'য় এটাই সময়। নাইলে যাবে বেলা বয়ে!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।