সেই বীরাঙ্গনার গল্পটা শুরু হয়েছে; যা ইচ্ছা যোগ করেন আপনিও

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: রবি, ০৫/১০/২০০৮ - ৪:৪২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


বহু বছর ধরে মাথায় ঘোরা একটা গল্পের কিউ বহুদিন আগে সচলায়তনে দিয়েছিলাম সবার আইডিয়া নিয়ে গল্পটা দাঁড় করানোর জন্য। অনেকে অনেক কিছুই যোগ করেছেন। অনেক দিন থেকে ঝিমাতে ঝিমাতে অবশেষে সবার আইডিয়া আর কমেন্টগুলো জড়ো করে সেই গল্পটা লেখা শুরু করেছি

গল্পটাতে কমেন্টদাতারও একেকটা চরিত্র আর যে যা দিয়েছেন তার সব কিছুই থাকছে গল্পের কাহিনীর মূল অংশ হিসেবে। এমন কি যিনি একটা শব্দও যোগ করেছেন সেই শব্দটাও থাকছে গল্পে তার নিজের উপস্থিতির সাথে

ঘটনাটা অনেক দিন আগের বলে আবারও সবার কমেন্টের জন্য গল্পটার লিংক দিলাম আরো কিছু কমেন্ট পাওয়ার আশায়

যোগ করেন
যার যা ইচ্ছা; হয় এখানে না হয় মূল পোস্টে
হয় নিজের কমেন্ট দিন না হয় অন্য কারো কমেন্টের জবাব দিন
বিষয়ের সঙ্গে মিলুক না মিলুক যোগ করেন
যিনি আগে যোগ করেছেন তিনি আবারও করতে পারেন
যার একাধিকবার করতে ইচ্ছা করে তিনি তাও করতে পারেন

মিল-অমিল-স্ববিরোধী; সবগুলো কমেন্টকে গল্পের শরীরে ঢোকানোর দায়িত্ব আমার...

সবার অংশগ্রহণে হয়তো একটা ভালো গল্প দাঁড়াবে এবার...

মূল গল্প আর কমেন্টগুলো এখানে


মন্তব্য

মুজিব মেহদী এর ছবি

কত পাগলি এল-গেল, কয়জনের কোষ্ঠী-পরিচয় জানি আমরা?

এই যে ঈদের পরদিন ময়মনসিংহ শহরের বলাশপুর শ্মশানঘাটের মুখে পুরানো ব্রহ্মপুত্রের দিকে ফিরে বসে কেবল ঊর্ধ্বাঙ্গে বস্ত্রধারীণি পাগলিটা অনবরত কথা বলে যাচ্ছিল, তার কয়টা কথা মন দিয়ে শুনেছি আমি?
সে যখন বলছিল যে, 'তেচপাতা তর হুগা দিয়া ঢুকামু' কিংবা 'আসমানের দিগি চাইয়া থাহস ক্যাল্যাইগ্যা, তর কি বাপ মরছে, লাঙ মরছে, চইদ্দগুষ্ঠী মরছে? কিংবা 'খেতার তলে আয়, তরে খেইল দেহাই' ; তখন কি আমি একটা বাক্যের সাথে আরেকটার জোড়াতালি দেবার চেষ্টা করতে করতে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে হাঁটা দেই নি নিজের ঢেরার দিকে?
................................................................
তোমার হাতে রয়েছি যেটুকু আমি, আমার পকেটে আমি আছি যতটা, একদিন মনে হবে এটুকুই আমি, বাকি কিছু আমি নই আমার করুণ ছায়া

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
কচুরিপানার নিচে জেগে থাকে ক্রন্দনশীলা সব নদী

মাহবুব লীলেন এর ছবি

এর মধ্যেই অনেক কিছু পেয়ে গেছি স্যার
থ্যাংকস

দময়ন্তী এর ছবি

আমি গল্প লিখতে পারি না আর কল্পনাশক্তিও খুব দুর্ব্বল ৷ কিন্তু পুরোটা পড়ে খুব সংকোচের সাথেই নিজের পড়া, দেখা জানা ক'টা ঘটনা উল্লেখ করতে চাইছি ৷ আপনার গল্পের জন্য নয়, এমনিই কথাগুলো বেরিয়ে আসতে চাইছে ---- তাই ৷

ঘটনা ১ : ১৪ই মার্চ, ২০০৭ নন্দীগ্রামের সেই ভয়ংকর রাতে বহু মহিলা গণধর্ষিতা হন সিপিএমের ক্যাডারদের দ্বারা ৷ তাঁদ্র কেউ কেউ পুলিশ, সিবিআই সাংবাদিক সকলকেই বারেবারে বলেন সেই কথা ৷ ধর্ষণ কিন্তু প্রমাণ হয় নি ৷ নিজেদের কাজকর্ম্ম মেটানোর পরে ঐ মানবেতর জীবগুলি তাঁদেরই একজনের যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে ঘুরিয়েছিল ৷ ভারতীয় আইন ও দন্ডবিধি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা অনুযায়ী ইহা ধর্ষণ নহে ৷ এঁদেরই একজন ২০০৮ এর ১৮ই এপ্রিল, মেদিনীপুরের গোকুলনগর গ্রামে পুনরায় গণধর্ষিতা হন এবং এবারেও জানা যায় ধর্ষণ নয়, তাঁকে নাকি "১০ ১২ জনে মিলে ধাক্কাধাক্কি করেছিল' মাত্র ৷ এঁরা সেই অর্থে উন্মাদিনী হন নি এখনও ----

"মাইয়ালোকের উপর অত অত্যাচার' -------

ঘটনা ২: এক দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন উত্তরপাড়া মাকলায় একটি কিশোরী ধর্ষিতা হয় ৷ উত্তরপাড়া জেনারেল হসপিটালে ভর্ত্তি থাকাকালীন তাকে প্রথমে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয় এবং অনবরত ব্লিডিং হওয়ার জন্য স্রেফ একটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা করা হয় ৷ অন্য কোনপ্রকার চিকিত্সা বা পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় নি৷ কি করে জানি ১টা মানবাধিকার সংগঠন খবর পায় ও চেঁচামেচি শুরু করে ৷ তখন আরেক রোগীর সাথে একত্রে একটি বেড দেওয়া হয়৷ হাসপাতালে ভর্ত্তির পরই পুলিশকে খবর দেওয়া ও ডায়রী করার চেষ্টা হয়েছিল৷ পুলিশ নেয় নি, কারণ কানাঘুসোয় যাকে/যাদের অভিযুক্ত বলে ধরা হচ্ছে , সে স্থানীয় সিপিএম নেতা, পঞ্চায়েতপ্রধানের ছেলে ও তার বন্ধু৷ এই মেয়েটি ও তার মা, স্থানীয় একটি এনজিও পরিচালিত সংস্থায় আচার, জেলী ইত্যাদি বানায় ৷ মেয়েটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন, মেয়েটিও কিছুটা তেবুদামত ৷ ঐ মানবাধিকার সংগঠনটির চেঁচামেচির ফলে পুলিশ একটি ডায়রী নেয় বটে, কিন্তু তাতে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ লেখা হয় না ৷ জেনারেল ডায়রী ৷ পুলিশ মেয়েটির জামাকাপড় পরীক্ষার উদ্দেশ্যে চায় ৷ মেয়েটির অবোধ মা অত রক্ত দেখে সেগুলি কবে'ই ধুয়ে দিয়েছে ৷ সেই নবমীর সকালেই৷ কোন প্রমাণ নেই৷ ইতিমধ্যে প্রায় ৭ দিন কেটে গেছে ৷ তাই মেয়েটির দেহেও আর কোন প্রমাণ নেই ৷ ঐ মা: স: এর উদ্যোগেই মেয়েটিকে নিয়মিত রক্ত দেওয়া হয় , বেঁচে যায় মেয়েটি ৷ কিন্তু তার তেবুদাভাবটি প্রচন্ড বেড়ে যায় ৷ সে সর্বদাই থুম ধরে থাকে ৷ আর মোটরবাইকের আওয়াজ শুনলে, কিম্বা যুবকবয়সী কাউকে দেখলে আঁ আঁ করে চিত্কার করে দৌড়াতে চায় ৷

"মাইয়ালোকের উপর অত অত্যাচার' -------

না: বড্ড বড় হয়ে যাচ্ছে৷ এই দুটো ই থাক ৷
জানেন লীলেন, গল্পগুলো আসলে প্রায় একই৷ দেশ, কাল, সময়, জাতি, ধর্ম যাই আলাদা হোক না কেন ----- গল্পগুলো খুব একটা তফাত্ হয় না ৷ তাই তো আমি বলি
"ভগবান কত ভাল
অপরের চোখ অন্ধ করেও
আমাকে দিলেন আলো
ভগবা-আ-ন কতো ভা-আ-লো-ও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মাহবুব লীলেন এর ছবি

অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ দময়ন্তী
এই গল্পগুলো আসোলেই তফাত হয় না
তফাতটা হয় শুধু দেখার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান আর পরে ব্যাখ্যা কিংবা বর্ণনার দৃষ্টিকোণ

০২

গল্পের এই কিউটা বছরের পর বছর পড়ে থাকার একটা বড়ো কারণ হলো যখনই লিখতে গেছি তখনই মনে হয়েছে ঘটনা যেহেতু আদি ও অকৃত্রিম সেহেতু খুব একটা নতুন করে সাজাতে পারছি না
ঘুরে ফিরে গিয়ে গতানুগতিক হয়ে পড়ছে

তখনই হঠাৎ করে মনে পড়লো সেই কলেজের সেই ধারাবাহিক গল্পবলার কম্পিটিশনের কথা
যেখানে একটা গল্প মূল থিমটাকে ঠিক রেখেও ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন নতুন নতুন দিকে

০৩

আমাদের একটা লেখক ফ্রেন্ড জফির সেতুর সাথে লেখালেখির শুরুর দিকে কিছু যৌথ কবিতা লিখেছিলাম
একটা প্যারা আমি একটা প্যারা সে

মনে হলো সেই অভিজ্ঞতাটাও কাজে লাগাই

০৪

আমার ধারণা গল্পটা তার কাহিনীর গতানুগতিকতা সত্ত্বেও একটা জায়গায় বোধহয় দাঁড়িয়ে যাবে

ড্রাফট হয়ে গেলে আবার সচলে দেবো সবার দেখার জন্য

পুতুল এর ছবি

http://www.sachalayatan.com/doll/15803 একবার ক্লিক করে দেখতে পারেন। এই মহিলার ছবিটা আপনার বিরঙ্গনার মতে হতের পারে ভবিষৎ-এ।
বিরক্ত হলে দুঃখিত বলে আগেই ক্ষমা চেয়ে রাখছি।
লেখাটা শেষ হোক।
**********************
কাঁশ বনের বাঘ

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

মাহবুব লীলেন এর ছবি

পড়লাম আপনার লেখাটা
আমাকে সাহায্য করবে এই চিত্রটাও
এই কাহিনীর কিউটাও ঢুকিয়ে দেবো গল্পের ভেতরে

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

আমি এই দলে নাই। কারণ পাগলদের কেউ আমার সঙ্গে পাগলামী করতে দেখিনি। তবে আমাদের গ্রামে "তিতিক্ষা"র নূরীর মত এক শীতকালীন পাগলী ছিলো। আমাকে দেখলেই বলতো, ‌‌'আমি কই, তুই আমারে ছাড়বিনি!' দেঁতো হাসি
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

মাহবুব লীলেন এর ছবি

এতেই হবে
গল্পটার এমন একটা ফর্মেট বের করেছি যে কেউ যদি কমেন্টে একটা দাঁড়ি বা কমাও যোগ করেন সেটাও ঢুকিয়ে দেয়া সম্ভব মূল গল্পের ভেতরে

০২

গল্পের অংশ হবার জন্য ধন্যবাদ

nodi এর ছবি

শোনা গল্প । গল্প নাকি ?

1971. মধুপুর । ছিল এক পাগল বা পাগলী । চারদিকে যুদ্ধ । খাবার পায়না প্রায়ই। একজন শুভাকাঙ্খী বুদ্ধি দিল - ক্যাম্পের কাছে গিয়ে জয়বাংলা শ্লোগান দিতে - এতেই নাকি খাবার মিলবে । পাগলটা তা-ই করেছিল ।

এরপর বাকীটুকু বলার দরকার পরে না ।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

থ্যাংকস নদী

আরেকটা ইলিমেন্ট পেয়ে গেলাম

০২

ক্যাম্প বলতে আর্মি ক্যাম্পই বুঝেছি

nodi এর ছবি

ক্যাম্প বলতে আর্মি ক্যাম্প বুঝাতে চেয়েছি ।

স্নিগ্ধা এর ছবি

মাহবুব লীলেন, আমার কিছু যোগ করার নেই, বলার মত কোন কাহিনী জানি না বলে। কিন্তু গভীর আগ্রহে আপনার এই গল্পটা শেষ হবার অপেক্ষা করছি!

মাহবুব লীলেন এর ছবি

সমস্যা নেই
অলরেডি যোগ করে দিয়েছেন
গল্পটা লেখা হয়ে গেলে দেখবেন আপনার এই কমেন্টটাও আছে

অনিন্দিতা এর ছবি

আমি ও খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ার অপেক্ষা করছি।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

খালি পাঠকদের পড়তে দেয়া হবে না এই গল্প

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশ দেরিতেই জানলাম। তবু যে জানলাম!
চমত্কার বিষয় এবং আইডিয়া।
দেখি, ওখানে কখনও কোনো ছাপ রাখতে পারি কি না। তবে, সেটা পারি আর না-ই পারি, গল্পটির সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে রইলাম।

_ সাইফুল আকবর খান

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।