রিসার্চ: রিডিজাইন প্রকৌশল - ১

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি
লিখেছেন এস এম মাহবুব মুর্শেদ (তারিখ: সোম, ১৪/০৪/২০০৮ - ১২:৪৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই লেখা পড়ার আগে আপনাকে ভুমিকা হিসেবে আগের একটি লেখা পড়ে নিতে হবে। লেখাটি পাবেন এখানে: রিসার্চ নিয়ে প্যাচাল

লেগ্যাসী সিস্টেম হলো অনেক দিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি। বোয়িং বা ইউএস আর্মির এমন অনেক যন্ত্রাংশ আছে যেগুলো বিশ-পঁচিশ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখন এই সমস্ত যন্ত্রের কোন একটি ছোট্ট যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে গেলে দেখা যায় পুরো যন্ত্রটি অচল হয়ে যায়।

সমস্যা হচ্ছে যে কোম্পানী যন্ত্রটি সাপ্লাই দিয়েছিল বিশ-পঁচিশ বছর পর সেই কোম্পানীই হাওয়া হয়ে গিয়েছে। আবার বিশ-পঁচিশ বছর আগে যে ম্যাটেরিয়াল দিয়ে যন্ত্রাংশটি বানানো হয়েছিল সে ম্যাটেরিয়াল পাওয়া যায় না আর। কিংবা যে ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটা এই মুর্হুতে পাওয়া সম্ভব নয়।

ধরুন, একটা বড় বিশাল ট্যাঙ্ক নিয়ে আর্মি যুদ্ধে গেছে। হঠাৎ করে গিয়ার কেসিংটা ভেঙ্গে গেছে। এই গিয়ার কেসিংটা মেরামত করতে পারলেই ট্যাঙ্কটা আবার কার্যক্ষম হতে পারে। সমস্যা হলো অল্প কিছু ম্যাটেরিয়াল আর অল্প কিছু মেশিনিং টুলস আছে তাদের। এই নিয়েই কাজ করতে হবে। তাই প্রয়োজন সহজ ভাবে তৈরী করা যায় এমন একটি নতুন ডিজাইন।

কিংবা বোয়িংয়ের একটা বিমান গত চল্লিশ বছর ধরে চলছিল। কিন্তু বিমানটির একটি যন্ত্রাংশ বদলাতে না পারলে আর চলবে না। তাই দরকার নতুন ডিজাইন, যেটা কাজটা সারতে পারবে কিন্তু বানাতেও তেমন খরচা হবে না।

এরকম আরো ভুরি ভুরি উদাহরন দেয়া যায় যেখানে এই ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজন হতে পারে। বোয়িং থেকে একটা গবেষণা করা হয়েছিল। তারা তাদের বিমানে পাখার একটি স্ট্রাট বা সাপোর্ট দেবার একটি যন্ত্রাংশ তৈরী করেছিল তিন ধরনের ম্যানুফ্যাকচারীং পদ্ধতি ব্যবহার করে। সেই গবেষণা থেকে দেখা যায় তিন ধরনের ম্যানুফ্যাকচারীং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য তারা একই যন্ত্রাংশের তিনটি ভিন্ন ডিজাইন ব্যবহার করেছিল। ভিন্ন ডিজাইন হলেও বাইরের আকার কিন্তু একই ছিল, নইলে সেটা ব্যবহার যোগ্য হত না। আবার তাদের ব্যবহৃত ম্যাটেরিয়ালও ভিন্ন ভিন্ন ছিল। উপরন্তু, মেশিনিং করাটা সস্তা হয়েছিল যখন অল্প কিছু যন্ত্রাংশ তৈরী করেছিল, নতুবা খরচ বেড়ে গিয়েছিল এতে।

বোয়িংয়ের এই গবেষণা এই থিসিসের মূল দাবীটাকে আরো জোরালো করে। "ভিন্ন ভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারীং সিস্টেমে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাটেরিয়ালে তৈরী করা ডিজাইনে তফাৎ থাকবে, এই তফাৎটাকে গ্রহনযোগ্য করার জন্য চাই উপযুক্ত গবেষণা।"

মুল সমস্যটাকে পাঁচভাগে ভাগ করা হয়।
১। তথ্য সংগ্রহ (information collection)
- কি ধরনের যন্ত্রাংশ? (geometry)
- কাজ কি? (functions)
- কোথায় কোথায় কার সাথে জুড়ে আছে? (interfacing constranits, parameters)
- কিভাবে নড়াচড়া করে? (kinematics)
- কতখানি ভার বইতে হবে? (loads)
২। নতুন ডিজাইন (redesign)
- কিভাবে নতুন ডিজাইন তৈরী করা যাবে? (rules)
৩। ডিজাইন যাচাই (design validation)
৪। যন্ত্রাংশ তৈরী যোগ্যতা (manufacturability)
৫। সিদ্ধান্ত (decision)

এর পরের লেখায় আসবে প্রথম ভাগ (তথ্য সংগ্রহ)।


মন্তব্য

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

আগ্রহের বিষয়।
ছোট ছোট করে - নিয়মিত দেন।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

এর পরের পর্বে কিস্যু বুঝবিনা - এই তোরে অভিশাপ দিলাম।
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হিমু এর ছবি

আরেকটু বড়সড় হোক আগামী পর্ব।


হাঁটুপানির জলদস্যু

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।