হান্নান সর্দার

মৃদুল আহমেদ এর ছবি
লিখেছেন মৃদুল আহমেদ (তারিখ: শনি, ১৬/১০/২০১০ - ৪:৫৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

হান্নান সর্দারহান্নান সর্দার১.

-হান্নান সর্দার, ও হান্নান সর্দার!
-কী জিগাও বাপ আমার?
-তোমার হাতে এইডা কী?
-আমার হাতে রামদাও!
-রামদাও দিয়া কী করবা? তোমার রামদায়ে রক্ত লাইগা আছে ক্যা?
হান্নান সর্দার কোনো কথা বলল না। চুপ করে রইল।
-কইলা না রামদাও দিয়া কী করবা? নাকি কিছু করছ? আবার মানুষ মারছ নাকি?
হান্নান সর্দার কোনো কথা না বলে তাকিয়ে রইল সামনে। তার চোখের সামনে পাঁচটা লাশ পড়ে আছে। আকবর আলী, তার বউ, বড় মেয়ে, মেয়ের জামাই আর বড় ছেলে। একটু আগেও মানুষগুলো জীবিত ছিল, হাত-পা ধরে কাকুতিমিনতি করছিল জানে না মারার জন্য। এখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে পুরো জায়গা।
বাটকু বেলায়েত এসে বলল, ওস্তাদ, আরমানে ধরছে ঐ ছ্যাড়ারে... লইয়া আইতাছে...
হান্নান সর্দার ঘড়ঘড়ে গলায় বলল, মুখ চাইপা নিয়া আয়, শব্দ য্যান করতে না পারে!
আকবর আলীর ঘরের বেড়া ভেঙ্গে ওরা ঢূকেছিল তিনজন। আর পাঁচজন ঘরের বাইরে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। এরই মধ্যে আকবর আলীর ছোট ছেলেটা কী করে যেন হাত ফসকে পালিয়ে গেছে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে। তার পিছু পিছু ছুটে গিয়েছিল আরমান, সগির আর ইয়াকুব। এবার তাকে ধরে নিয়ে আসছে।
-হান্নান সর্দার, ও হান্নান সর্দার!
-কী হইছে?
-বিরক্ত হইলা নাকি? মুখ কুঁচকাইলা দেখি!
-না না বাপ, তোমার ওপর বিরক্ত হমু ক্যান?
হান্নান সর্দারের মাথায় একটু দোষ আছে। সারাক্ষণ সে বিড়বিড় করে কথা বলে। এই জিনিসটা তার শুরু হয়েছে বছর দুই থেকে। সে কথা বলে তার আট বছর বয়সী মৃত ছেলের সঙ্গে। যার নাম ছিল মন্নান। ছেলেটা দুদিনের জ্বরে আচমকাই মরে গিয়েছিল। খুব পাকনা পাকনা কথা বলত। হান্নান সর্দারকে কখনো আব্বা বলত না, আর সবার মতোই হান্নান সর্দার বলে ডাকত। একদম ভয় পেত না বাপকে, কথা বলত ঝাড়ি মেরে মেরে।
নিজের হাতে অনেক খুন করেছে হান্নান সর্দার, তার পেশাই এটা। গায়েগতরেও মোষের মতো, কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল, চোখ দুটো যেন সবসময় পাকিয়ে আছে। সবচেয়ে কাছের চ্যালাচামুণ্ডারাও তাকে ভয় পায়। নিরীহ মানুষগুলো মরার আগে কত হাতেপায়ে ধরে, কান্নাকাটি করে, আল্লারসুলের দোহাই দেয়, কিন্তু হান্নান সর্দার রামদা চালায় নির্বিকার মুখে। এতগুলো মানুষের মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেছে হান্নান সর্দার, কিন্তু নিজের ছেলের মৃত্যুকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে নি। তার মাথার ভেতরে এখনো বেঁচে আছে মন্নান, এবং সে সারাক্ষণই কথা বলে চলে বাপের সাথে।
বেলায়েত ঘরের ভেতর ঢুকে বলল, ওস্তাদ নিয়া আসছে ঐডারে...
হান্নান সর্দার ঘড়ঘড়ে গলায় বলল, ঘরের ভিতর নিয়া আন...
মন্নান চিকন গলায় বলল, হান্নান সর্দার, মতলব কী তোমার? ঐ বাচ্চা পোলাডারেও মারবা নাকি?
হান্নান সর্দার কোনো জবাব দিল না। ঘাড় গোঁজ করে দাঁড়িয়ে রইল, তাকে দেখাতে লাগল যেন দুপুরের ঝাঁঝালো আলোয় বিশাল আকারের একটা মোষ ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

২.
একটা পেয়ারা গাছের শক্ত শিকড়ে আছাড় খেয়ে ছিটকে পড়েছিল বাদল! এক পড়াতেই গা-হাতপা ছিলে গেল বিভিন্ন জায়গায়। আর বিচ্ছিরিভাবে মাথাটা ঠুকে গেল কোনো একটা উঁচু হয়ে থাকা ইঁটে। উপুড় হয়ে থাকা অবস্থা থেকে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল সে। কিন্তু সারা শরীর থেকে কোনো এক আশ্চর্যজনক কারণে সমস্ত শক্তি উধাও হয়ে গেছে, কোনোক্রমে চিত হয়ে দুই হাত ছড়িয়ে শুতেই শুতেই তার মুখ দিয়ে অস্ফূটে বেরিয়ে আসল... উঃ মাগো!
অন্ধকারে বেড়ালের মতোই আছাড়িপিছাড়ি দৌড়াচ্ছিল সে। এখানকার সবগুলো গাছ, ঝোপঝাড়, মাটির উঁচু ঢিবি তার হাতের তালুর মতো চেনা। না চেনার কোনো কারণ নেই, বাড়ির পেছনের এই জঙ্গলে তার বয়সী এক প্লাটুন ছেলেপিলের সাথে রোজই ঘুরতে আসা হয়। তারপর পুরোটা বিকেল জুড়ে তিল্লোপ্রেস কিংবা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাটা খুবই ইন্টারেস্টিং, দুই পক্ষের এক পক্ষকে গাছের ওপরে উঠে, কিংবা গুঁড়ির আড়ালে অথবা ঢিবির পেছনে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে হয় শিকারি চিতার মতো। প্রতিপক্ষ আততায়ী গ্র“পও আসে সেরকমই নিঃশব্দে।
তারপর দুই দলের দুইজন মুখোমুখি হওয়া মাত্র যে প্রথম হাতের অস্ত্র উঁচিয়ে মুখ দিয়ে গুলির আওয়াজ করতে পারবে, তাকে এই বন্দুকযুদ্ধে বিজয়ী এবং বেঁচে থাকা লোক হিসেবে গণ্য হবে। অপরদিকে যে বেচারা তার হাতে ধরা কাগজের কিংবা গাছের ডাল কেটে বানানো কল্পিত আগ্নেয়াস্ত্রটা তুলে ধরতে দেরি করেছিল, ধরে নিতে হবে, তার গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ এখন যুদ্ধের ময়দানে পড়ে আছে।
অবশ্য প্রায় সময়েই দুজনের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যায়, কে আগে গুলি করেছে এবং বেঁচে আছে এই নিয়ে। এই তর্ক নিরসনের জন্য একটা আতা গাছের মগডালে একজন থার্ড আম্পায়ার বসে থাকে, তার রায়ের ওপরেই নির্ভর করে যোদ্ধার স্ট্যাটাস, সে কি জীবিত না মৃত?
এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার কারণেই এই জায়গাটা এত পরিচিত। সাধারণ অবস্থায় হয়ত বাদল হোঁচট খেয়ে পড়ত না, কিন্তু এখনকার কথা ভিন্ন। তার পিছনে যে কয়টা লোক ধাওয়া করে আসছে, তারা ধরতে পারলে তাকে মেরে ফেলবে! সেটা ভাবতেই সে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল।
মারা যাবার কথাটা মাথায় আসতেই আবার ধড়ফড় করে উঠে বসল সে। পালাতে হবে, পালাতে হবে তাকে! ধরা পড়া চলবে না, ওরা সাক্ষাৎ মৃত্যু! ভিতরের ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যাবার আগে দুলাভাইয়ের গায়ে দায়ের কোপ দেয়ার দৃশ্য দেখে এসেছে সে। বাপ-মা-ভাইবোন সবাইকে তখন হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে বাইরের ঘরে।
আবার খাড়া হয়ে দাঁড়াল বাদল। মাথার ভেতর কে যেন ঝিঁঝিঁ পোকার মতো পিনপিন করে বলেই যাচ্ছে, পালাও! পালাও!
বাদল পা বাড়াল আর সেইসময় একটা লাঠি ঘুরতে ঘুরতে এসে ঠকাস করে লাগল তার মাথায়। উরে!... বলে বাদল আবার ছিটকে পড়ে গেল আরেকদিকে।
তাগড়াই গোছের একটা লোক এসে দাঁড়াল তার সামনে। পরনে লুঙ্গি আর বিচিত্র ধরনের হাতাকাটা একটা শার্ট। পিছনে পিছনে আরো দুটো লোক। তিনজনই হাঁফাচ্ছে। ওরা তো এই জঙ্গল চেনে না, বাদলের পিছনে দৌড়াতে অনেক কষ্ট হয়েছে ওদের।
বাদলের পড়ে থাকা শরীরের ওপর লাথি কষাল হাতাকাটা জামা পড়া লোকটা! ...বিচ্ছুর বাচ্চা বিচ্ছু, পালা এখন, পালায়া যা, দেখি তোর মুরোদ...
পাশের আরেকজন বলল, মনে তো হয় না খাড়াইতে পারব, ধইরা ঝুলায়া লইয়া যাইতে হইব!
হাতাকাটা জামা পরা লোকটা বলল, আবার কই লইতে হইব? এইখানেই নামায়া দেই!
পাশের লোকটা এসে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, উহু, পাগলামি করিস না আরমান। ওস্তাদ খেইপা যাইব! ধইরা নিয়া চল!
আরমান আরেকটা লাথি কষাল বাদলের গায়ে!

৩.
বাদল চোখ খুলল মাথায় একটা ভোঁতা ব্যথা নিয়ে। চোখ খুলেই দেখল, সামনে ভয়ঙ্কর চেহারার একটা লোক বসে আছে। হান্নান সর্দার।
হান্নান সর্দার বেশ খানিকক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। বাচ্চা একটা ছেলে। মিষ্টি চেহারা। মেয়েদের মতো। তিরতির করে কাঁপছে ভয়ে। আর ঢোক গিলছে।
সর্দার ঘড়ঘড়ে গলায় বলল, কী নাম?
বাদল ধড়মড়িয়ে উঠে বসতে গিয়েও পারল না। তার হাত পিছলে গেছে। আশপাশে তাকিয়ে শিউরে উঠল সে। অনেকগুলো অতি পরিচিত চোখ তাকিয়ে আছে তার দিকে। সেই চোখগুলোতে এখন আর কোনো ভাষা নেই, প্রাণ নেই।
হুহু করে কেঁদে ফেলল বাদল।
ইয়াকুব বলল, অই, কান্দন থামা! ওস্তাদরে নাম ক তোর!
ফোঁপাতে ফোঁপাতে উত্তর দিল সে, বাদল!
হান্নান সর্দার মাথা ঝাঁকাতে শুরু করেছে। বিড়বিড় করে কী যেন কথা বলল। কাঁদতে কাঁদতেই বাদলের মনে হল হান্নান সর্দার বোধহয় একটু পাগল গোছের, ঠিক স্বাভাবিক না।
একটু পরেই আবার চোখ তুলে তাকাল হান্নান সর্দার, পড়াশোনা করস?
বাদল বলল, কেলাস ফোরে পড়ি, মেহেরউদ্দিন হাইস্কুলে।
হান্নান সর্দার আবার তার দিকে তাকিয়ে আছে। না তাকিয়ে নেই। সে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। বিড়বিড় করে কথা বলছে।
-হান্নান সর্দার, পোলাটারে ছাইড়া দ্যাও!
Ñঅরে ছাড়ন যাইব না রে বাপ!
-ক্যান, ছাড়লে দোষ কী? অর যে বয়স, পুলিশের কাছে পাত্তা পাইব না! তুমরা ধরা পড়বা না!
-যার কাছ থিকা টাকা নিছি, হ্যায় শর্ত দিছে পুরা বংশ লোপাট করতে হইব! এই পোলা বাইচা থাকলে সম্পত্তি নিষ্কণ্টক হইব না!
-হ্যায় না জানলেই হয়! পোলাডারে দূরের কুনো গ্রামে গিয়া রাইখা আস! কেউ চিনব না, জানব না!
হান্নান সর্দারের মুখ চিন্তায় কুঁচকে গেছে। স্থির হয়ে বসে আছে বাদলের দিকে তাকিয়ে। ইয়াকুব, আরমান সবাই উসখুস করছে। পুলিশকে টাকা খাওয়ানো আছে, এদিকে আসবে না। কিন্তু গ্রামের দু-চারজন লোক বেশি সাহস দেখিয়ে চলেও আসতে পারে॥ বেলায়েত অন্য সবার মুখের দিকে তাকিয়ে সাহস করে বলেই ফেলল, ওস্তাদ, একটু কুইক করলে বোধহয় ভালা অয়!
মনে হল না হান্নান সর্দারের কানে সেই কথা গেছে। সে বাদলকে জিজ্ঞেস করল, অন্ধকারের মধ্যে জঙ্গলে ছুট দিলি ক্যামনে?
বাদল বলল, আমরা খেলি এইহানে প্রত্যেকদিন! দেখতে দেকতে মুখস্থ হয়া গেছে কুনখানে কী...
-কী খেলস?
-তিল্লোসপ্রেস খেলি, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি... গাছের উপ্রে বইসা পেয়ারা খাই, ডালিম খাই, আতাফল খাই...
-ডালিমগাছ কয়টা এইখানে?
-সারা জঙ্গলে পাঁচটা। আরো একটা আছিল, গত বছর ঠাডা পইরা মরছে!
-তুই আমারে চিনস?
বাদল মাথা নাড়াল। এই লোক বা এদের কাউকেই সে জীবনে দেখে নি।
-আমগোরে কিডায় পাঠাইছে, তুই জানস?
বাদল আবার মাথা নাড়াল।
এদিকে মন্নান কথা বলেই চলছে মাথার ভেতর।
-হান্নান সর্দার, হাতের দাও নামায়া রাখ...
-ক্যান, নামায়া রাখুম ক্যান?
-নামায়া রাখবা, কারণ পোলাডারে তুমি মারবা না, তাই!
হান্নান সর্দার চুপ করে রইল। কী করবে বুঝতে পারছে না।
-হান্নান সর্দার, ঝিম মাইরা বইসা আছ ক্যান?
-ভাবতাছি!
-ভাবাভাবির কিছু নাই। তুমি ওরে এতকিছু জিগাইতাছ কারণ অরে দেইখা তোমার মনে মায়া হইছে! অর লগে আমার চেহারার মিল আছে। ঠিক কিনা, কও?
হান্নান সর্দার আগের মতোই চুপ করে আছে। বাদল স্থির চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এখন আর কাঁদছে না, মনে হয় মৃত্যুর জন্য তৈরি হয়ে গেছে। সর্দারের সাঙ্গোপাঙ্গরা উসখুস করছে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে। বেলায়েত ডাকল, ওস্তাদ!
হান্নান সর্দার উঠে দাঁড়াল। হাতে উঁচু করে ধরা রামদা নেমে এসে ঝুলতে লাগল নিচে। বাদলের দিকে তাকিয়ে ঘড়ঘড়ে গলায় সে বলল, উইঠা খাড়া!
বাদল সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল। সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এবার বোধহয় হান্নান সর্দার রামদা চালাবে।
কিন্তু সেসব দিকেই গেল না সর্দার। বাদলকে বলল, আমার পিছে পিছে আয়!
সবার হা হয়ে যাওয়া মুখের সামনে দিয়ে বাদলকে নিয়ে বের হয়ে আসল হান্নান সর্দার। তার পিছনে বাদল ঘুমের ভেতর হাঁটতে থাকা মানুষের মতো যান্ত্রিকভাবে পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। আরমান মনে হয় একটা কিছু বলার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল, তার হাত চেপে ধরল ইয়াকুব।
হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল সর্দার আর বাদল। হান্নান সর্দার তাকে বলল, শোন, এই জঙ্গল দিয়া একটা দৌড়ে পার হইয়া যাবি, কোথাও থামবি না... আমার কথা বুঝছস?
বাদল তার দিকে শূন্য চোখে তাকাল। সে আসলেই বুঝতে পারছে না। থেমে থেমে আস্তে করে বলল, আমারে মারবেন না?
হান্নান সর্দার সে কথায় পাত্তা না দিয়ে বলল, একটা দৌড়ে এই জঙ্গল পার হবি। আরেক দৌড়ে এই গ্রাম ছাড়বি। আরেক দৌড়ে এমন গ্রামে যাবি, যেইখানে তোরে কেউ চিনে না! কুনোদিন তোরে যদি এই গ্রামে দেখি, কল্লা ফালায়া দিমু! আমার কথা বুঝছস? এই জঙ্গল ধইরা হাইটা বাম দিকে যাবি, তাইলে হলদিয়া গ্রাম। হলদিয়া গ্রাম আইজকা রাতের মইধ্যেই পার হইয়া যাবি, ঐদিকে তোরে আর কেউ চিনব না! এইবার আমারে বুঝায়া ক, কী কইলাম!
বাদল কাঁপা কাঁপা হাত তুলে জঙ্গলের দিকে দেখাল। বলল, এইখান দিয়া যামু...
-তারপর?
-হলদিয়া গ্রাম রাইতেই পার হমু!
-হলদিয়া গ্রাম কোনদিকে?
বাদল মাথা ঘুরিয়ে তাকাল বামদিকে। অস্থির একটা অন্ধকার চাপ বেঁধে আছে পুরো দিগন্ত জুড়ে। হাত তুলে সে দেখাতে গেল হলদিয়া গ্রাম। কিন্তু তার হাত আর উঠল না।
শব্দহীন বনের ভেতর ঝুপ করে হালকা একটা শরীর পড়ে যাওয়ার আওয়াজ হল। হলুদিয়া গ্রামের দিকে বাদলের নি®প্রাণ চোখদুটো স্থির হয়ে রইল। তারার আলোয় চিকচিক করতে লাগল গাছের রক্তাক্ত পাতা।
বাদলের সার্টে রামদাটা ভালো করে মুছল হান্নান সর্দার।
-হান্নান সর্দার, করলা কী? মাসুম বাচ্চাটারে মাইরা ফালাইলা?
হান্নান সর্দার কোনো কথা না বলে হাঁটতে লাগল ঘরের দিকে।
-তোমার লগে আমার আর কথা কওনের ইচ্ছা নাই সর্দার!
হান্নান সর্দার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর বলল, রাগ করিস না বাপ। এইদেশের ধর্মই এইটা, এইখানে মায়া নাই, মমতা নাই, এইখানে মাসুম বইলা কেউ কাউরে মাফ করে না। এই দেশে জাতির যে পিতা, তার মতো লোকের মাসুম বাচ্চারেই কেউ মাফ দেয় নাই, বংশ লোপাট করতে গুলি কইরা মারছে! এইটাই এই দেশের ধর্ম, এই জাতির ধর্ম। আমি আমার জাতের ধর্মই পালন করতাছি, আমি তো কেউ না, কিছুই না... তুই দোষ নিস না রে বাপ!


মন্তব্য

কৌস্তুভ এর ছবি

দীর্ঘশ্বাস।

গল্প খুবই ভাল হয়েছে।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

মুস্তাফিজ এর ছবি

লেখতে যেয়েও কি কলম কাঁপেনা?

...........................
Every Picture Tells a Story

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

কাঁপে। অবশ্যই কাঁপে।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

রাহিন হায়দার এর ছবি

আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম।
কিভাবে লেখেন?
________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

ঐ যে, আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। আপনাদের আচ্ছন্নতার কথা ভেবেই লিখি।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

তানভীর এর ছবি

এটা রঙ্গমঞ্চের কাছাকাছি হইসে হাসি অভিনন্দন!

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

কন্কী? ডরাইসি!
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

বইখাতা এর ছবি

মনে মনে আশা করছিলাম ছোটো ছেলেটাকে শেষ পর্যন্ত মারবে না, হলো না। এইটাই হয়তো স্বাভাবিক যদিও বিপরীতটাই মন অবচেতনে ভেবে নেয়। কষ্টকর। বাস্তবতা খুব নিপুণতার সাথে দেখালেন।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

দুঃখিত কষ্ট দেয়ার জন্য। কিন্তু একজন লেখক তো বাস্তবতার কথাই লিখবে। তার চেয়েও বড় কথা, এই বাস্তবতার পেছনে একটি মেসেজ আছে।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

অতিথি লেখক এর ছবি

সেই চোখগুলোতে এখন আর কোনো ভাষা নেই, প্রাণ নেই

অসাধারণ

তবে একটি প্রশ্নের কি উত্তর কি দিতে পারবেন ? গল্পটি পড়ার পর গল্পের ডাকাতদের প্রতি যে পরিমান ঘৃণা সঞ্চারিত হয় আমাদের মনে, কেন অতীত জানার পর ও ইতিহাসের সেই ডাকাতদেরকে আমরা ঘৃণার চোখে দেখতে পারি না? দায় কার, ইতিহাসের চরিত্রদের ? ইতিহাসের বর্ণনা সঞ্চালকের ? ইতিহাসের পাঠকদের?

-রেইনবো

নীড় সন্ধানী এর ছবি

‍‌পড়তে পড়তে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম বলে পরিণতি অনুমান করিনি। উপসংহারে এসে তাই ধাক্কাটা বেশ বড়োই লাগলো। ...................সেই থেকে অমানবিকতাই একটা ধর্ম হয়ে গেছে।

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
এ ভ্রমণ, কেবলই একটা ভ্রমণ- এ ভ্রমণের কোন গন্তব্য নেই,
এ ভ্রমণ মানে কোথাও যাওয়া নয়।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

অতিথি লেখক এর ছবি

ভেবেছিলাম বুকের ভেতরে জমাট বাঁধা কষ্ট বের হয়ে যাবে, গেল না! এটা কি এ কারণে যে আমি মানুষ খুজি অমানুষের ভিড়ে?

অনন্ত

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

মৃদুল ভাই,
চমৎকার। একটু আগে নীড় সন্ধানীর লেখা 'তৃষ্ণা' গল্পটা পড়লাম। সেইরকম লিখেছেন ভদ্রলোক... এখন আপনারটা। এটাও অদ্ভুত ভালো লাগলো। আজ আর পড়বোনা। একদিনে বেশী ডোজ হয়ে যাচ্ছে। ভালো থাকবেন।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

মৃদুলদা বড় চমৎকার লেখেন...

_________________________________________

সেরিওজা

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

তাই? ওএমজি!!
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

ওসিরিস এর ছবি

শেষটা আচমকা।। চোট লাগলো।।
_______________________________________________
সিগনেচার কই??? আমি ভাই শিক্ষিৎ নই। চলবে টিপসই???

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আমাদের জীবনটা এমনই, চোট লাগা।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

অনিকেত এর ছবি

বস,
এতদিন পরে ফিরলেন---এমন লেখা নিয়েই ফিরলেন যে ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারছি না এখনো। বাকী সবার মত আমিও ভাবছিলাম, সর্দারের হয়ত মনটা বদলেছে---ছোট ছেলেটা হয়ত আসলেই বন পেরিয়ে, গ্রাম পেরিয়ে কোন একখানে বেঁচে যাবে! আপনি ঈশ্বরের নিষ্ঠুরতা নিয়ে গল্পটা শেষ করলেন!!

বাস্তবতা নিষ্ঠুর। সেইখানেই আমার বেঁচে থাকতে হয় অহর্নিশ। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের লেখায় আমি মাঝে মাঝে মুক্তি খুঁজি এইসব থেকে। আপনি ছিলেন তাদের মাঝে একজন।

সেই আপনিও আজ হান্নান সর্দারের দলে ভীড়লেন??

মন খারাপ

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আরে একটা লেখা দেব আজকে কালকেই। সেটা পড়লে আপনি পুরোপুরিই বুঝে যাবেন আমি সত্যিকার অর্থেই হান্নান সর্দার হয়ে উঠেছি! অনেকদিন পরে লিখলাম আর আমার পোস্টটা আপনার পোস্টের পরেই পড়ল, ব্যাপারটা মজার!
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

খেকশিয়াল এর ছবি

আপনের লেখা নিয়া নতুন কইরা আর কি কমু, কিন্তু..
মৃদুল সেন, এতদিন কুথায় ছিলেন? দেঁতো হাসি

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ফারাবী [অতিথি] এর ছবি

একেবারে সেইরকম লেখা হয়েছে মৃদুলদা। আমার বোধয় আপনার লেখা আগে পড়া হয়নি, অন্যরকম লাগল।

স্পর্শ এর ছবি

মিয়া!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

কামরুল হাসান রাঙা [অতিথি] এর ছবি

উফ! এক নিঃশ্বাসে পড়লাম। পরিণতিটা মানবিক হবে আশা করেছিলাম, তাই শেষে একটা ধাক্কা খেয়েছি।

অদ্রোহ এর ছবি

একখান কথা বস। হান্নান সর্দারের ছেলের মৃত্যু আরেকটু সবিস্তারে, হতে পারে সেটা ফ্ল্যাশব্যাকে বা অন্য কোনভাবে আনলে বোধহয় আরেকটু জমাটি হত। তখন হান্নান সর্দারের অন্তর্দ্বন্দ্বের ব্যাপারটা আরো জোরদার হত।

তবে গল্প দুর্দান্ত, স্বীকার গেলাম।

--------------------------------------------

আজি দুঃখের রাতে, সুখের স্রোতে ভাসাও তরণী
তোমার অভয় বাজে হৃদয় মাঝে হৃদয় হরণী।

--------------------------------------------
যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি-বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

রানা মেহের এর ছবি

এই দেশে জাতির যে পিতা, তার মতো লোকের মাসুম বাচ্চারেই কেউ মাফ দেয় নাই, বংশ লোপাট করতে গুলি কইরা মারছে!

এই অংশটা বেমানান মনে হলো। এই জায়গাটুকু বাদ দিয়ে পুরো গল্পটা খুব ভালো লেগেছে
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

নিবিড় এর ছবি
সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস! এমনে গরম বুলেট ছিটাইতে ছিটাইতে ফেরৎ আইলেন! আমি ভাবছিলাম আপনে পথ হারাইছেন, আর সচলায়তনের রাস্তা খুঁজে পাইতেছেন না। লেখা সেরাম হইছে, সেই সাথে মেসেজটা, সর্দারের দ্বন্দ দেখে কিন্চিত অবাক হইছিলাম, যেভাবে শেষ করেছেন সেরামই হবার কথা, হান্নান সর্দারেরা ২ বার চিন্তা করনের লোক না, বরং ধর তক্তা, মারো পেরেক বেশি খাটে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দুর্দান্ত এর ছবি

গল্প ঠিক আছে। তবে রাসেলের প্রসঙ্গটি আরোপিত মনে হয়েছে।
---
মাঝে মাঝে হাসিনা/রেহানার কার্যকলাপ দেখে মনে হয় সেদিনের হান্নান ডাকাতেরা দুটো ভুল করেছিল।

বাউলিয়ানা এর ছবি

দারুন!! টান টান উত্তেজনা নিয়ে পড়ে ফেললাম।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।