বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ড-এ উচ্চ শিক্ষা –৩ (স্কলারশিপ)

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী (তারিখ: সোম, ২০/০২/২০১২ - ৯:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথমেই আপনাদের ধন্যবাদ জানিয়ে নিচ্ছি আমার এই সিরিজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশের জন্যে। শুরুতে যেভাবে বলেছিলাম, এখনও বলবো, আমার লক্ষ্য যারা বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ডে পড়তে আসতে চান তাদের কাছে তথ্য পৌছে দেয়ার মাধ্যমে তাদের সচেতন করে তোলা। প্রথমদ্বিতীয় পর্বে আমি আলোচনা করেছি যথাক্রমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেগুলোতে ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে। যারা এই পর্ব থেকে সিরিজটা পড়তে শুরু করেছেন, তাদের অনুরোধ করবো প্রথম দুটো পর্ব পড়ে আসার জন্যে। এই পর্বে আমি বিভিন্ন স্থানে ঐ দুটো পর্বে আলোচনা করা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিগ্রীর কথা উল্লেখ করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়-কোর্স-স্কলারশিপঃ আমি কার, কে আমার?

আপনি যদি বৃটেন বা আয়ারল্যান্ডে স্কালারশিপ নিয়ে পড়তে আসতে চান, সেটা যেকোন ধরনের কোর্সেই হোক না কেন, কখনই কোন সুনির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্বাচন করে বসে থাকবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স এবং স্কলারশিপ – এই তিনটা শব্দের মধ্যে মিল হওয়ার জন্যে আপনাকে কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে। ছাড়ের পরিমান নির্ভর করছে আপনি কত ভালো ছাত্র এবং আপনার সাথে যারা সারা পৃথিবী থেকে আবেদন করছে তারা কত ভালো ছাত্র এবং সর্বপরি আবেদনের সময় আপনারা নিজেদের কতটা ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন তার উপর। কিন্তু আপনি যদি কোন বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ একটা কোর্সে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে বসে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার উচ্চশিক্ষার চাকা থেমেও যেতে পারে। একটা উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন আপনার খুব ইচ্ছে ইম্পেরিয়াল কলেজে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স করা। আপনি চান্সও পেলেন কিন্তু স্কলারশিপ পান নি। এখন একুশ হাজার পাউন্ড দিয়ে সেই মাস্টার্স করা আপনার জন্যে অসম্ভব। ইউরোপের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও আপনি পড়বেন না? বিশ্বাস করুন প্রথম কিছুদিন কষ্ট হবে। কিন্তু আপনি যদি সেই কষ্টকে চেপে ধরে বসে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনার বন্ধুরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আপনার আগেই মাস্টার্স করে পিএইচডি পড়ছে। অথচ আপনি পড়ে আছেন পেছনে। কিন্তু কিছুটা ছাড় দিলে স্কলারশিপ, কোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয় এর ‘ম্যাচিং’ হওয়া অসম্ভব নয়। মনে রাখবেন জীবন বয়ে চলে। তাই আমাদেরও ছাড় দিতে হয়। অন্ধভাবে ছাড় দিতে বলছি না। বিচার বিবেচনা করে ছাড় দিন। এখানে ছাড় দেয়ার একটা পদ্ধতি আলোচনা করছি। ভালো লাগলে অনুসরণ করতে পারেন।

আবেদন করার সময় চার ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় বেঁছে নেবেন। প্রথম ক্যাটাগোরিতে থাকবে সেরার সেরারা। আপনি মোটামোটি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে ওখানে স্কলারশিপ সহ চান্স পাওয়া রীতিমত ভাগ্যের ব্যাপার। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে থাকবে সেরারা। কিছুটা ভয় ভয় নিয়ে আবেদন করুন। ফিফটি-ফিফটি চান্স। তৃতীয় ক্যাটাগোরিতে থাকবে এমন বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলো মানের দিক দিয়ে ভালো এবং আপনি মোটামোটি আশাবাদী যে স্কলারশিপ হবে। এবং চতুর্থ ক্যাটাগোরিতে থাকবে মধ্যম মানের বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলোতে আপনি নিশ্চিত যে স্কলারশিপ হবেই। একান্তই বাধ্য না হলে ওখানে আপনি পড়বেন না। এরপর সবগুলো থেকে স্বীদ্ধান্ত আসার পর আপনি ঠিক করুন কোথায় যাবেন। যদি প্রথম তিন ক্যাটাগরির একটাতেও সুযোগ না হয়, তবে চতুর্থ ক্যাটাগরিকেই গ্রহণ করুন। ওটাকে সিড়ি হিসেবে ব্যবহার করুন। মাস্টার্স পর্যায়ে হলে নিজেকে প্রমান করুন এবং পিএইচডিতে আরো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। আর যদি পিএইচডি পর্যায়ে হয়, তাহলে পরে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনও করতে পারবেন। কিন্তু সুযোগ ছেড়ে দেবেন না।

রিসার্চ স্কলারশিপ

পোস্টগ্রাজুয়েট পর্যায়ে দুই ধরনের রিসার্চ ডিগ্রী রয়েছে। রিসার্চ মাস্টার্স এবং পিএইচডি। বৃটেনে রিসার্চ মাস্টার্সে স্কলারশিপ পাওয়া বেশ কঠিন। স্কটল্যান্ডের দিকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সুস্পষ্ট বিষয়ের উপর এ ধরনের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তাও শুধু টিউশন ফিস এবং প্রফেসারদের হাতে পর্যাপ্ত ফান্ড থাকলে। তবে আয়ারল্যান্ডে রিসার্চ মাস্টার্সের জন্যে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ রয়েছে। এর কারণটাও হয়তো অনেকে অনুমান করতে পারছেন। আয়ারল্যান্ডে রিসার্চ মাস্টার্স হচ্ছে পিএইচডি-এর প্রথম দুই বছর। তাই রিসার্চ মাস্টার্সের স্কলারশিপ এবং পিএইচডি-এর স্কলারশিপ একই সাথে দেয়া হয়। এ বিষয়ে যথা সময়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আপাতত আমার আলোচনা পিএইচডিতে সীমাবদ্ধ রাখছি।

ভূমিকা

পিএইচডি-এর স্কলারশিপকে আমরা তিনটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে পারি। প্রথম ক্যাটাগরিতে থাকছে এমন সব স্কলারশিপ যা কোন এক্সটার্নাল বডি দিয়ে থাকে। এটা এ দেশগুলোর সরকার হতে পারে অথবা কোন ফাউন্ডেশনও হতে পারে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ। সব ভালো ব্রিটিশ এবং আইরিশ বিশ্ববিদ্যালয়ই কিছু না কিছু স্কলারশিপ দিয়ে থাকে পিএইচডি পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের জন্যে। যদিও সেক্ষেত্রে সংখ্যাটা নগণ্য হওয়াতে প্রতিযোগীতা অনেক বেশী। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছে রিসার্চ গ্রান্ট। এটা প্রফেসাররা বিভিন্ন রিসার্চ এ্যাজেন্সি বা ইন্ডাস্ট্রি থেকে পেয়ে থাকেন এবং পরে আবেদনকৃত ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করেন।
প্রথম দুটো ক্যাটাগরির স্কলারশিপ পাওয়া কিছুটা কঠিন। সেখানে একটা কেন্দ্রীয় সিলেকশন প্যানেল থাকে যারা নির্ধারণ করে কে কে পাবে। এক্ষেত্রে আপনার জমা দেয়া ডকুমেন্ট আপনাকে উপস্থাপন করবে। এ ধরনের স্কলারশিপগুলোতে সাধারণত সরাসরি কথা বলার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার কাজের স্বাধীনতা থাকবে প্রচুর। আপনি পিএইচডি করবেন আপনার নিজের প্রোপোজালের উপর। আপনার জন্যে নয়টা-পাঁচটার বাঁধা অফিস আওয়ার থাকবে না। এমন কি আপনি চাইলে আপনার পিএইচডি-এর বিষয় আকাশ-পাতাল বদলে ফেলতে পারবেন। শর্ত একটাই। বেঁধে দেয়া তিন বা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে পিএইচডি শেষ করতে হবে। এরপর আর ফান্ড পাবেন না।

অন্য দিকে তৃতীয় ক্যাটাগরির স্কলারশিপগুলোর ক্ষেত্রে প্রফেসার একা অথবা তাঁদের কলিগদের নিয়ে স্বীদ্ধান্ত নেন কাকে ফান্ড দেবেন। এক্ষেত্রে আপনার নিজেকে সরাসরি উপস্থাপন করার সুযোগ থাকে। ইমেইল এক্সচেঞ্জ করার মাধ্যমে প্রফেসারের কাছে নিজের একা ভালো ইম্প্রেশনও তৈরী করা যায়। এজন্যে এ ধরনের স্কলারশিপ পাওয়া কিছুটা সহজ। তবে সমস্যা হচ্ছে, প্রফেসারের ফান্ডে পিএইচডি করলে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট প্রোপোজালে কাজ করতে হবে অথবা ভাঙ্গা ভাঙ্গা কয়েকটা প্রজেক্ট থেকে আপনার পিএইচডি বের করে আনতে হবে। এছাড়াও আপনাকে নয়টা-পাঁচটা অফিস আওয়ারে কাজ করতে হবে এবং কখনও কখনও দেখবেন আপনার পিএইচডি এর থেকেও প্রফেসারের প্রজেক্টের ডেডলাইন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তবে ভালো দিক হচ্ছে, এক্ষেত্রে পিএইচডি করতে অনেক সময় পাওয়া যায়। চাইলে চার বা পাঁচ বছর পর্যন্ত টেনে নেয়া যায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি দেয়।

এবার আমি বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ডে বিভিন্ন স্কলারশিপ সম্পর্কে আলোচনা করছি যেখানে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারে।

কমনওয়েলথ স্কলারশিপ

বৃটেনে পিএইচডি-এর জন্যে সরকারি ভাবে দেয়া স্কলারশিপের মধ্যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ সবচেয়ে ভালো। এটা আপনাকে সম্পূর্ণ ফিস দেবে, স্টাইপেন্ড দেবে এবং বিমান খরচটাও দেবে। এই স্কলারশিপের আরেকটা বড় প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে আপনি আগে স্কলারশিপ পাবেন, তারপর বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজবেন। ১৯৫৯ সনে প্রতিষ্ঠিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ প্ল্যান-এ এক সময় ক্যানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াও অংশ নিত কিন্তু এখন শুধুই বৃটেনে পড়তে যাওয়ার জন্যে এ স্কলারশিপ দেয়া হয়। তবে আশাহত হবার মত সংবাদ হচ্ছে সম্প্রতি তারাও ফান্ড কমিয়ে দিয়েছে। এই লেখায় আলোচ্য অন্য স্কলারশিপগুলোর সাথে এই স্কলারশিপটা একটা বড় পার্থক্য হচ্ছে, এর জন্যে আপনি বৃটেনে আবেদন করবেন না বরং বাংলাদেশে থেকে UGC-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র গ্রহণ করা, ইন্টারভিউ নেয়া এবং সিলেকশন প্রক্রিয়ার সবই করবে বাংলাদেশের UGC।

স্কলারশিপটার দুটো ভাগ রয়েছে। একটা ভাগ সবার জন্যে উন্মুক্ত। অর্থাৎ যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক সেটার জন্যে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু অন্য ভাগটা শুধুই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যে বরাদ্দ। যে কোন ধরনের মাস্টার্স (অর্থাৎ টট বা রিসার্চ) এবং পিএইচডি – উভয় পর্যায়ের জন্যেই কমনওয়েলথ স্কলারশিপ দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে UGC-তে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেব। তাদের ওয়েব সাইট ঘেটে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না কেননা সেখানে খুব বেশী তথ্য দেয়া নেই। তাছাড়া বর্তমানে কমনওয়েলথ স্কলারশিপে রাজনৈতিক প্রভাব যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই শুধু একটা স্কলারশিপের উপর নির্ভর করার মত বোকামী করবেন না।

ওয়েব সাইটঃ http://www.ugc.gov.bd/scholarships/

ওভারসিজ রিচার্স স্টুডেন্ড স্কলারশিপ

আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীরা যেন বৃটেনে পড়ালেখা করতে আসতে পারে, সেজন্যে আরেকটা স্কলারশিপ প্ল্যান হচ্ছে ওভারসিজ রিচার্স স্টুডেন্ড এ্যাওয়ার্ড স্কিম যা সংক্ষেপে ORS স্কলারশিপ নামে বেশী পরিচিত। ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ব্রিটিশ সরকার এটা চালু করে। ২০০৮-০৯ সন পর্যন্ত এই স্কলারশিপটা বৃটেনের চারটা দেশে এক সাথে দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু এরপরই ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে স্কলারশিপটা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে স্কলারশিপটা শুধুই স্কটল্যান্ডে চালু রয়েছে যা আগামী ২০১৩-১৪ সেশনে বন্ধ হয়ে যাবে। এই স্কলারশিপটা মূলত স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক টিউশন ফিস-এর পার্থক্যের অংকটা দেয়। তবে যে এই স্কলারশিপ পায়, সাধারণত সে একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাকি টিউশন ফিস এবং স্টাইপেন্ডও পেয়ে থাকে। একান্তই যদি তা না পায় তাহলে প্রফেসারের ফান্ড পাবার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়।

যদিও স্কলারশিপটা স্কটিশ ফান্ডিং কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণ করে, তবে আবেদন করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে একটা নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে। আবেদনকৃত ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নমিনেশন কাউন্সিলের কাছে পাঠায় যা পরবর্তীতে পাশ হয়ে এলে ছাত্রছাত্রীদের জানানো হয়। আমি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ স্কলারশিপটা পেয়েছি। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্রিয়াটা আলোচনা করছি যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় একই রকম (অন্তত ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্য থেকে তাই মনে হয়েছে)। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটা কলেজ রয়েছে, কলেজ অব সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কলেজ অব আর্টস, কলেজ অব মেডিকেল, ভেটারনিটি এন্ড লাইফ সায়েন্স এবং কলেজ অব সোস্যাল সায়েন্স। প্রতিটা কলেজে দুটো করে কোটা রয়েছে। আবেদন করতে হয় আলাদা আলাদা ভাবে কলেজগুলোর মাধ্যমে। পরবর্তীতে কলেজগুলোই আপনাকে জানাবে আপনি স্কলারশিপ পেয়েছেন কিনা। এক্ষেত্রে আপনার ডিপার্টমেন্ট তেমন কোন ভূমিকা রাখবে না। তবে কয়েকটা স্কটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে আবেদন করা যায় যা ছাত্রছাত্রীদের সময় বাঁচায় এবং ঝামেলা কমায় তবে তা গ্লাসগো-তে নেই। অতএব আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবেদন করবেন প্রথমেই জেনে নেবেন আবেদন করার সঠিক পদ্ধতিটা।

আরো তিনটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। আপনি তখনই আবেদন করতে পারবেন যখন আপনার হাতে অফার লেটার থাকবে। অফারটা আনকন্ডিশনাল হতে পারে আবার কন্ডিশনালও। তাতে সমস্যা নেই কিন্তু অফার থাকা বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, এই নিয়ম বৃটেনের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে প্রযোজ্য। দ্বিতীয় বিষয়টা রেফারেন্স লেটার বিষয়ক। ভর্তির সময় আমরা যে লেটার পাঠিয়ে থাকি সেটা কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপের আবেদনের সময় গ্রহণ হরে না। তখন আলাদা ভাবে রেফারেন্স লেটার পাঠাতে হয়। একই লেটার পাঠান, তাতে সমস্যা নেই কিন্তু দুবার পাঠাতে হয়। এটার কারণ সম্ভবত কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফিস এবং স্কলারশিপের সিলেকশন অফিস আলাদা। এবং তৃতীয় যে বিষয়টা বলবো সেটা হলো, এই স্কলারশিপের জন্যে আবেদনের সময় একটা রিসার্চ প্রোপোজাল জমা দিতে হয়। সময় নিয়ে এবং পড়ালেখা করে প্রোপোজালটা লিখুন। তারপর সুপারভাইজারকে দিয়ে বার কয়েক কারেকশন করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, শক্তিশালী প্রোপোজাল আপনার প্রোফাইল শক্তিশালী করবে।

ওয়েব সাইটঃ http://www.sfc.ac.uk/research/SORSAS/sorsas.aspx

গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড ইয়ার্কসেট এমবার্ক ইনিশিয়েটিভ স্কলারশিপ

এ স্কলারশিপটা আইরিশ সরকার দিয়ে থাকে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সাতটা বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি এবং টারশিয়ারি কলেজগুলোকে। যদিও স্কলারশিপটা মূলতঃ আইরিশ এবং ইউরোপিয়ানদের জন্যে, কিন্তু প্রতি বছর অল্প সংখ্যক আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রী স্কলারশিপটা পেয়ে থাকে। রিসেশনের কারণে এই কোটাটা সব সময় কমেছে। কিন্তু এখনও বন্ধ হয়ে যায় নি। স্কলারশিপটায় শুধু তারাই আবেদন করতে পারবে যাদের গবেষণার বিষয় বিজ্ঞান, প্রকৌশল অথবা প্রযুক্তি। সিলেকশনের দায়িত্বে রয়েছে আইরিশ রিসার্চ কাউন্সিল ফর সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনলজি বা সংক্ষেপে ইয়ার্কসেট (IRCSET)।

স্কলারশিপটা টাকার অংক এবং মানের দিক থেকে আয়ারল্যান্ডে সেরা। আমি ২০০৭ সনে MSc leading to PhD এর জন্যে স্কলারশিপটা পেয়েছিলাম। যদিও মূল স্কলারশিপটা তিন বছরের ছিল, কিন্তু আমি কর্তৃপক্ষকে জানাই যে আমি মাস্টর্স করতে চাই। তখন তারা সেটা দুই বছরের জন্যে করে দিয়েছিল। ২০০৭-০৮ এবং ০৮-০৯ শিক্ষাবছরে আমাকে প্রতি বছর ১৬ হাজার ইউরো স্টাইপেন্ড, ১৮ হাজার ইউরো টিউশন ফিস এবং ৮ হাজার ইউরো রিসার্চ এবং ট্রাভেল বাবদ খরচ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে স্টাইপেন্ডটা ১৮ হাজার ইউরোতে উন্নিত করা হয়েছে। যদিও আমি বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার বিমান ভাড়া স্কলারশিপ থেকে তুলি নি কিন্তু পরে অন্যদের থেকে দেখেছি সেটাও তুলে নেয়া যায়।

এই স্কলারশিপটার জন্যে আবেদন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কোন একটা আইরিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন সুপারভাইজার খুঁজে নিতে হবে প্রথমে। তারপর আপনাকে একটা রিসার্চ প্রোপোজাল বানাতে হবে। এই প্রোপোজালটা আপনার স্কলারশিপ পাওয়া-না পাওয়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আপনাকে দুটো রেফারেন্স লেটার জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, এই লেটার দুটো যেন অবশ্যই ‘স্ট্রং রেফারেন্স’ হয়। সব শেষে একটা ‘পার্সোনাল স্টেটমেন্ট’ তথা SoP জমা দিতে হবে। আপনাকে মোট একশ নাম্বারের উপর চার ধরনের ডকুমেন্ট দিয়ে বিচার করা হবে। প্রোপোজাল ৩০%, রেফারেন্স ৩০%, আন্ডারগ্র্যাড/মাস্টার্স রেজাল্ট ৩০% এবং পার্সোনাল স্টেটমেন্ট ১০%।

ওয়েব সাইটঃ http://www.ircset.ie/

গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড পোস্টগ্রাজুয়েট স্কলারশিপ

এই স্কলারশিপটা দেয়া হয় আইরিশ রিচার্স কাউন্সিল ফর হিউমেনিটিজ এন্ড সোস্যাল স্যায়েন্স থেকে। এখানে মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যাবসায় শিক্ষা শাখার সব ধরনের বিষয়ের উপর পিএইচডি অথবা রিসার্চ মাস্টার্সের (M.Litt) জন্যে স্কলারশিপ দেয়া হয়। স্কলারশিপের টাকার অংক এবং সুযোগ সুবিধা মূলতঃ উপরে বর্ণিত স্কলারশিপের মতই, শুধু সিলেকশন প্যানেলটা ভিন্ন। তবে সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে আইরিশ সরকার দুটো স্কলারশিপকে এক করে একটা স্কলারশিপ বানানোর চিন্তা ভাবনা করছে।

এই স্কলারশিপের জন্যে আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটা এম্বার্ক ইনিশিয়েটিভের মত। একজন সুপারভাইজার খুঁজে নিতে হবে প্রথমে এবং একটা ভালো রিসার্চ প্রোপোজাল বানাতে হবে। স্কলারশিপটা দেয়া হয় বছরে একবার এবং আবেদন উন্মুক্ত করা হয় জানুয়ারীতে। যারা আবেদন করতে ইচ্ছুক, তারা অন্তত সেপ্টেম্বর থেকে সুপারভাইজার খোঁজার কাজটা শুরু করবেন। এরপর ডকুমেন্ট বানাতেও সময় লাগবে। অতএব, সময়টাকে ভাগ করে আপনার পরিকল্পনায় সাজিয়ে নেবেন তা না হলে পরে তাড়াহুড়া লেগে যেতে পারে। আবেদনের জন্যে আরো বিস্তারিত তথ্য তাদের ওয়েব সাইটে গাইড আকারে দেয়া রয়েছে যা খুবই হেল্পফুল।

ওয়েব সাইট: http://www.irchss.ie/

সিকসা প্রাইজ স্টুডেন্ডশিপ

একদিকে যেখানে ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য স্কলারশিপ বন্ধ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে স্কটল্যান্ড সেটা খুলে দিচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ সিকসা প্রাইজ স্টুডেন্টশিপ। এই স্কলারশিপটা শুধুই কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রছাত্রীদের জন্যে। স্কটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কম্পিউটার বিজ্ঞানের গবেষণা সংগঠন সিকসা (SICSA) প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০টি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে যা সবার জন্যে উন্মুক্ত। পৃথিবীর যে কোন দেশের যে কোন জাতির ছাত্রছাত্রীরা এটার জন্যে আবেদন করতে পারবে। যদিও স্কলারশিপটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ফিস লেভেলে ফান্ড দিয়ে থাকে, কিন্তু বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের থেকে বাড়তি টাকাটা নেয় না। তাছাড়া ছোট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও অন্য কোন সূত্র থেকে (যেমন প্রফেসারের প্রজেক্ট) টাকাটা ম্যানেজ করে দেয়। মোট কথা, আমার পরিচিত যাদের পেতে দেখেছি তারা সবাই পুরোটাই পেয়েছে।

আবেদনের জন্যে বছরে দুবার ‘কল’ করা হয় অনলাইনে। আবেদন করার নিয়মটাও একটু প্যাচানো। আপনাকে প্রথমে সিকসার ওয়েব সাইট থেকে আবেদন করতে হবে। সিকসার ওয়েব সাইটে আবেদন করার সময় আপনি সর্বোচ্চ তিনটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বারাবরও আলাদা ভাবে আবেদন করতে হবে। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে একটা নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি মনে করে আপনাকে নমিনেট করবে, তাহলে তারা আপনার ডকুমেন্ট সিকসার কাছে পাঠাবে চূড়ান্ত রায়ের জন্যে। কিন্তু যদি এমন হয়, আপনার প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে নমিনেট করলো না কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি আবেদনই করেন নি, অথচ সিকসা তাদের কাছে জমা দেয়া ডকুমেন্ট দেখে মনে করেছে আপনি যোগ্য প্রার্থী; এরকম ঘটনায় আপনার দ্বিতীয় বা তৃতীয় পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে সিকসা নিজেই জানাবে। এছাড়া, প্রথম কলে আপনি স্কলারশিপ না পেলেও হতাশ হবেন না। আপনার আবেদনপত্র সিকসা রেখে দেবে এবং দ্বিতীয় কলেও আপনাকে বিবেচনা করা হবে। আমাদের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়েই আমার পরিচিত এক বাংলাদেশী ভাইয়া প্রথম কলে পান নি কিন্তু পরে সিকসাই তাঁকে জানায় তিনি দ্বিতীয় কলে পেয়েছেন। এজন্যে আবেদন করার জন্যে প্রথম কলকেই টার্গেট করা উচিত সবার। (সিকসার ওয়েব সাইটটা ঘাটাঘাটি করলে আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।)

ওয়েব সাইট: http://www.sicsa.ac.uk/graduate-academy/prize-studentships

এস.ইউ.পি.এ প্রাইজ

সিকসার মতই এটা স্কটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের একটা সংগঠন। এরাও অন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পিএইচডি করতে আসার জন্যে স্কলারশিপ দিচ্ছে। তাদের ওয়েব সাইটে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

ওয়েব সাইট: http://apply.supa.ac.uk/prize

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ

বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ডে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের জন্যে কিছু স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তবে সংখ্যায় খুব কম কিন্তু প্রচুর আবেদন পড়ার কারণে এই স্কলারশিপ পাওয়া খুবই কঠিন। তাছাড়া পুরো টিউশন ফিস এবং স্টাইপেন্ড তুলতে অন্তত দুটো স্কলারশিপ পেতে হয়। এজন্যে আমার পরামর্শ হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা। ধরে ধরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে আলোচনা করা একটা লেখায় সম্ভব নয়। তাই আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে ভালো কিছু স্কলারশিপ নিয়ে এখানে আলোচনা করবো। তবে মনে রাখবেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন স্কলারশিপ থাকা অসম্ভব নয়। তাই আমার আলোচ্য স্কলারশিপে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও খোঁজ নিন।

ইউনিভার্সিটি অব কেম্ব্রিজ
কেম্ব্রিজ প্রতি বছর প্রায় ৮০টা স্কলারশিপ দিয়ে থাকে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পিএইচডি করার জন্যে। শর্ত একটাই, তিন বছরে শেষ করতে হবে। এই স্কলারশিপের জন্যে আবেদন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভর্তির জন্যে আগেই আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনের ডেড লাইনগুলো অন্যান্য ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি থেকে বেশ আগে (ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারীর দিকে)। অতএব, এ বিষয়টি মাথায় রাখবেন। যারা আবেদন করতে চান, তারা নিচের লিঙ্ক থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।

ওয়েব সাইট: http://www.admin.cam.ac.uk/offices/gradstud/fees/funding/ciss/

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন
ইউসিএল প্রতি বছর ১৫টা স্কলারশিপ দেয় আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের যারা পিএইচডি করতে ইচ্ছুক। এছাড়া ORS নামে তারা নিজেরা একটা স্কলারশিপ চালু করেছে যা অন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত ফিসটা দিয়ে থাকে। এই স্কলারশিপটা দেয়া হয় প্রতি বছর ৪০টা। এটা অন্য যে কোন স্কলারশিপের সাথে পাওয়া যাওয়া সম্ভব। এছাড়াও আরো বেশ কিছু স্কলারশিপ রয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন বিষয়ে দিয়ে থাকে। সব স্কলারশিপের তথ্য এক সাথে নিচের শেয়ার করা লিঙ্কটায় পাওয়া যাবে।

ওয়েব সাইট: http://www.ucl.ac.uk/selcs/research-degrees/scholarships-research

ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতি বছর কিছু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে থাকে যা EU-ফিস এবং প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড স্টাইপেন্ড দেয়। এই স্কলারশিপটা যারা পায় তাদের ORS স্কলারশিপের জন্যেও নমিনেট করা হয়। আমি নিজে স্কলারশিপটা পেয়েছি এবং দেখেছি এর সাথে ORS যুক্ত হলে টাকার অংকের দিক দিয়ে এটা বৃটেনের অন্যতম সেরা স্কলারশিপে পরিণত হয়। উল্লেখ্য এখানে কোন টিচিং ডিউটির বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি যদি টিচিং-এ যুক্ত হন তাহলে এই অংকটাকে আরো বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের জন্যে বিষয় ভিত্তিক আরো বেশ কিছু স্কলারশিপ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। সবগুলো স্কলারশিপ এবং সেগুলোর জন্যে আবেদন করার নিয়ম নিচের লিঙ্ক থেকে দেখে নিতে পারবেন।

ওয়েব সাইট:
http://www.gla.ac.uk/scholarships/internationalscholarships/postgraduateresearch/

ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন
ট্রিনিটি রিসার্চ মাস্টার্স এবং পিএইডি এর জন্যে বেশ ভালো দুটো স্কলারশিপদেয় যেখানে যেকোন দেশের ছাত্রছাত্রী আবেদন করতে পারে এবং ফিসটা হোমই হোক আর নন-ইইউ, দুটোই স্কলারশিপ কভার করে।

প্রথম স্কলারশিপের নাম, ‘আশার ফেলোশিপ’ যা পুরো ফিস দেবে এবং সাথে ১৬ হাজার ইউরো স্টাইপেন্ড দেবে। এই স্কলারশিপের সাথে কোন টিচিং ডিউটি নেই। চাইলে আপনি ডিপার্টমেন্টের টিচিং ডিউটি করে আরো কিছু টাকা আয় করতে পারবেন। টাকার পরিমাণটা আমি বারবার উল্লেখ করি কারণ যারা বিয়ে করে বৌ নিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্যে এটা বেশ বড় একটা বিষয়। এই স্কলারশিপটা পিএইচডির জন্যে দেয়া হয় তবে যদি কেউ মাস্টার্স করতে চায় তাহলে আগে থেকে এ বিষয়ে জানিয়ে নেয়া ভালো।

দ্বিতীয় স্কলারশিপটার নাম ‘পোস্টগ্রাজুয়েট রিসার্চ স্টুডেন্টশিপ’। এটাও সম্পূর্ণ ফিস দেবে সাথে ৮০০০ ইউরো স্টাইপেন্ড দেবে। তবে সপ্তাহে ছয় ঘণ্টার টিচিং ডিউটি রয়েছে। ছয় ঘণ্টার উপরে টিচিং ডিউটি থাকলে বাড়তি অংশের টাকা আপনি পাবেন। ২০০৭-এ আমি যখন স্কলারশিপটা পেয়েছিলাম তখন উল্লেখ করা ছিল যে মাস্টার্স করতে চাইলে দুই বছর এবং পিএইচডি করতে চাইলে তিন বছর ফান্ড পাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে শুধুই পিএইচডি-এর কথা লেখা রয়েছে ওয়েব সাইটে। যারা মাস্টার্সের জন্যে আবেদন করতে চান, তারা ট্রিনিটি কলেজের গ্রাজুয়েট স্ট্যাডিজ ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগা করে নিতে পারেন এই ই-মেইলের মাধ্যমে: jgeoghe এ্যাট tcd.ie । যে ভদ্রমহিলা (জেনিফার) ইমেইলটা দেখেন, তিনি খুব সহজেই বিরক্ত হন! তাই মেইলটা ছোট এবং টু-দ্যা-পয়েন্ট লেখার পরামর্শ দেব।

বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্ক দেখুন:
আশার ফেলোশিপ
http://www.tcd.ie/Graduate_Studies/prospectivestudents/awards/ussherfellowships/index.php

পোস্টগ্রাজুয়েট রিসার্চ স্টুডেন্টশিপ
http://www.tcd.ie/Graduate_Studies/prospectivestudents/awards/studentships/index.php

পুনশ্চ: ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা বেশ কিছু ভালো স্কলারশিপ দিয়ে থাকে তবে সেগুলো কিছুটা ছড়ানো। এজন্যে নিচের লিঙ্ক থেকে আপনাকে আপনার জন্যে প্রযোজ্য এরকম স্কলারশিপটা খুঁজে নিতে হবে।

অক্সফোর্ড: http://www.ox.ac.uk/feesandfunding/prospectivegrad/scholarships/university/
ইম্পেরিয়াল: http://www3.imperial.ac.uk/registry/studentfinancialsupport/pgscholarships
এডিনবরা: http://www.ed.ac.uk/schools-departments/student-funding/postgraduate

রিসার্চ গ্রান্ট স্কলারশিপ

প্রফেসারের প্রজেক্টের মাধ্যমে স্কলারশিপ পাওয়াটা শুধু আপনার এ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নয়, বরং আপনার নিজেকে উপস্থাপন করার ক্ষমতার উপরও নির্ভর করে। এছাড়াও আপনার স্যারদের সাথে (যাঁরা রেফারেন্স লেটার দিচ্ছেন) সম্পর্ক কেমন সেটাও একটা বড় ভূমিকা রাখে। আগের পর্বে এ বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম, বিশেষতঃ কী করে প্রফেসারদের সাথে যোগাযোগ করবেন। যোগাযোগের সময়ই একটু নজর দেবেন তাদের হাতে থাকা ফান্ডের দিকে। যদি EPSRC এর ফান্ড থাকে, তাহলে কপাল খারাপ। এটা বৃটেনের ফিজিকাল সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান ফান্ডিং বডি যারা আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের ফান্ড দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে। প্রফেসার চাইলেও আপনাকে ফান্ড দিতে পারবে না। তবে যদি EU ফান্ডেড প্রজেক্ট হয়, তাহলে আপনি হোম ফিস পর্যন্ত পেতে পারেন।

বৃটেনে রিসার্চ গ্রান্টে পিএইচডি করা যতটা কঠিন, আয়ারল্যান্ডে ততটাই সহজ। ওখানে সাধারণত ফান্ডগুলো হয় EU পর্যায়ের ফিসের, কিন্তু প্রফেসার চাইলে স্টাইপেন্ড বাড়িয়ে ফিসটা ব্যালেন্স করে দিতে পারেন। ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটিতে আমি একটা রিসার্চ স্কলারশিপ পেয়েছিলাম যেখানে প্রফেসার আমাকে এ কথা লিখেছিলেন, “I may also be able to top up the eur15,000 with some additional funds but I won't have information on this until October, after the research students are in place.” (অনেকদিন পর ২০০৭ সনের মেইল খুঁজে বের করলাম!)। মূল কথা হলো, আয়ারল্যান্ডে রেস্ট্রিকশন নেই। আপনার প্রফেসার যত ক্ষমতাবান হবেন, আপনি ততটা সুযোগ সুবিধা পেতে পারবেন।

টট মাস্টার্স স্কলারশিপ

যারা ‘টট মাস্টার্স’ পড়তে চান তাদের জন্যে স্কলারশিপের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। আয়ারল্যান্ডে এ ধরনের স্কলারশিপ দেয়া হয় না বললেই চলে। তবে বৃটেনে কিছু স্কলারশিপ রয়েছে। এক্ষেত্রে দুটো ক্যাটাগরিতে আপনি স্কলারশিপ পেতে পারেন। প্রথম ক্যাটাগরি হচ্ছে এক্সটার্নাল বডি যারা ছাত্রছাত্রীদের ফান্ডিং দিয়ে থাকে। এই স্কলারশিপগুলো ফিস এর পাশাপাশি একটা স্টাইপেন্ডও দিয়ে থাকে। অন্য দিকে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছে বিশ্বাবিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব স্কলারশিপ যা সাধারনত ফিস এর একটা অংশ হয়ে থাকে।

এক্সটার্নাল স্কলারশিপ

কমনওয়েলথঃ এক্সটার্নাল বডির দেয়া স্কলারশিপের মধ্যে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্যে তিনটা ভালো অপশন রয়েছে। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এ তিনটার মধ্যে সবচেয়ে ভালো। এ বিষয়ে বিস্তারিত উপরে আলোচনা করা হয়েছে। পড়ে নিতে অনুরোধ রইলো।

চিভনিং স্কলারশিপঃ এই স্কলারশিপটা ব্রিটিশ সরকারের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিস থেকে দেয়া হয়। যারা বৃটেনে এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্সে পড়তে আসতে আগ্রহী তারা এটার জন্যে আবেদন করতে পারেন। এই স্কলারশিপের জন্যে শর্ত হচ্ছে আপনি যে ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ইচ্ছুক, সেখানে অন্তত দুই থেকে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ব্যাঙ্কার হতে চান তাহলে ব্যাঙ্কিং অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। এছাড়া আপনাকে IELTS–এ সাত বা তার অধিক স্কোরও দেখাতে হবে এবং অবশ্যই আগে কখনও বৃটেনে পড়ালেখা করা যাবে না। এই স্কলারশিপটা কমনওয়েলথ এর মতই আপনার টিউশন ফিস, ট্রাভেল এক্সপেন্স এবং স্টাইপেন্ড দেবে। এছাড়াও আরো কিছু ছোট ছোট সুবিধা আপনি এই স্কলারশিপের মাধ্যমে পেয়ে থাকবেন।

যারা চিভনিং এর জন্যে আবেদন করতে চান তারা সরাসরি বাংলাদেশের যে কোন ব্রিটিশ কাউন্সিল অফিসে যোগাযোগ করুন। যদিও আবেদন করতে হয় অনলাইনে ই-চিভনিং নামে একটা পোর্টালের মাধ্যমে কিন্তু ব্রিটিশ কাউন্সিল আপনাকে আরো বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারবে।

ওয়েব সাইট: http://www.britishcouncil.org/bangladesh-education-scholarships-chevening.htm

আগা খান স্কলারশিপঃ আগা খান ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপটা বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের ‘টট মাস্টার্স’ পড়ার জন্যে আরেকটা ভালো স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপ আপনাকে দেবে পূর্ণাঙ্গ টিউশন ফিস এবং বেশ ভালো একটা স্টাইপেন্ড। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, আপনি পাশ করে চাকরী করা শুরু করলে পাঁচ বছর বা এরকম একটা সময়ের মধ্যে স্কলারশিপের অর্ধেক ফেরত দিতে হবে।

এটার জন্যে আবেদন করতে পারেন বাংলাদেশ অথবা লন্ডন থেকে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দেব, লন্ডন থেকে আবেদন না করার জন্যে কেননা ওখানে কমপিটিশন খুব বেশী। এই স্কলারশিপটায় তারা ভালো করবেন যারা এ্যাক্সট্রাকারিকুলারে ভালো কারণ কর্তৃপক্ষ শুধু এ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে না বরং পয়েন্টের একটা বড় অংশ থাকে পড়ালেখার পাশাপাশি আপনি আর কী কী করেছেন সেটায়। এই স্কলারশিপটা মূলত টট মাস্টার্সের জন্যেই দেয়া হয়ে থাকে তবে কখনও কখনও পিএইচডির জন্যেও ফান্ড দেয় তারা যদিও সেটা খুবই কম।

ওয়েব সাইট: http://www.akdn.org/akf_scholarships.asp

ইন্টারনাল স্কলারশিপ

এছাড়া টট মাস্টার্সের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইন্টার্নালি কিছু কিছু স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের জন্যে আলাদা আলাদা ভাবে দেয়া স্কলারশিপগুলো আপনাকে খুঁজতে হবে। তবে এটাও সত্য, সব বিষয়ের জন্যে উন্মুক্ত কিছু স্কলারশিপও দেয়া হয়ে থাকে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কিন্তু সংখ্যায় তা এতটাই নগণ্য যে প্রতিটা স্কলারশিপের জন্যে আবেদন পড়ে অকল্পনীয় হারে। এ ধরনের স্কলারশিপের উপর ভরসা করে আপনার উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা সাজানো কিছুটা বিপদজনক। এতে আশাহত হবার সম্ভাবনাও থাকে প্রবল।

ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছোট এবং মাঝারী অংকের স্কলারশিপ অনেক দেয়। যেমন ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজনেস স্কুল দশ হাজার পাউন্ডের অনেকগুলো স্কলারশিপ দিচ্ছে ইদানিং যা আপনি এমবিএ-এর জন্যে পেতে পারেন। এছাড়া অন্যান্য ডিপার্টমেন্টও এরকম ছোট ছোট স্কলারশিপ দেয় মাস্টার্স পর্যায়ের জন্যে। আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন এমবিএ-এর জন্যে কিছু স্কলারশিপ দিচ্ছে একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইরিশ-এ্যামেরিকান বিলিয়নিয়রের দেয়া অনুদানের মাধ্যমে। সেই বিলিয়নিয়র তার দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা দেখে এই অনুদান দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। স্কলারশিপ দেয়ার দিক দিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-ও এগিয়ে। তারাও ছোট ছোট কিন্তু অনেক স্কলারশিপ দেয়। কিন্তু দিন শেষে এই স্কলারশিপের অংকটা তাদের ফিস এর তুলনায় নিতান্তই নগণ্য থেকে যায়। ফলে এ ধরনের স্কলারশিপ পেয়েও অনেকেরই পড়ার সুযোগ হয় না।

তবে কিছু মধ্যম মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যাদের ফিস কম এবং ছোট ছোট স্কলারশিপ পাওয়া যায় কয়েক ভাবে। এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করতে চাইলে স্বল্প খরচে মাস্টার্স করা সম্ভব। যেমন ইংল্যান্ডের কুইনমেরী আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের জন্যে প্রায়ই ছোট কিন্তু সংখ্যায় অনেক টট এবং রিসার্চ মাস্টার্স স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের ছাত্র হিসেবে আপনি প্রথমেই ২,০০০ পাউন্ড স্কলারশিপ পাবেন। তারপর আবার প্রতিটা স্কুল দেড় থেকে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত মেরিট স্কলারশিপ দিচ্ছে। আমি নিজে এই স্কলারশিপ পেয়েছিলাম, তাই আমি জানি স্কলারশিপটা মেরিট বেইজড হলেও এটা ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে দেয়া হয়। ভালো সিজিপিএ থাকলে এবং আগে আগে আবেদন করলে এটা পাওয়া কঠিন না। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট মিনিস্টারও আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের কিছু স্কলারশিপ দিচ্ছে।
যাইহোক, টট মাস্টার্সের ইন্টার্নাল স্কলারশিপগুলো কষ্ট করে আপনাকে খুঁজেই নিতে হবে। এজন্যে ডিপার্টমেন্টাল পেইজগুলোতে গিয়ে আপনার পছন্দের বিষয়ে স্কলারশিপ আছে কিনা খোঁজ নিন। যদি বিস্তারিত তথ্য না পান, তাহলে ডিপার্টমেন্টকে মেইল করে জিজ্ঞেস করুন। মনে রাখবেন, আপনাকে সবচেয়ে ভালো তথ্য দিতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ডিপার্টমেন্টে আপনি আবেদন করতে চান তারা। অতএব, তাদের সাথে যোগাযোগ করতে কখনওই সংকোচ করবেন না।

শেষ কথা

আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমাদের জন্যে স্কলারশিপ পাওয়াটা বেশ কঠিন। তাছাড়া বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ডের উচ্চ ফিস-এর কারণে অধিকাংশ বাংলাদেশীর পক্ষে নিজ খরচে এখানে পড়তে আসা প্রায় অসম্ভব। তাই ‘স্কলারশিপ’ শব্দটা অনেক সময় সোনার হরিণের মত মনে হয়। পেয়ে গেলে তো কথাই নেই, না পেলে হতাশ হবেন না। আবার চেষ্টা করুন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। দেখবেন, একবার না একবার স্কলারশিপ পাবেন।

২০ ফেব্রুয়ারী ২০১২
গ্লাসগো, যুক্তরাজ্য


মন্তব্য

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অনেক ইনফো আছে।
চলুক

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

সময় নিয়ে পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। আপনার পরিচিত স্কলারশিপ খুঁজছে এমন কেউ থাকলে, তার সাথে লেখাটা শেয়ার করলে হয়তো তার উপকার হবে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

বুকমার্ক করে নিলাম ভাই।

Zia Wadud এর ছবি

for Niaz,
Chevenning দে়য় না এখন British Council?
EPSRC কি একেবারে বন্‍ধ বাইরের জন্য? আমাদের সময় ORS দিয়ে EPSRC topup করা যেত।
for others,
jobs.ac.uk তে PhD এর adv থাকে বেশ। কিন্তু অই EPSRC এর ঝামেলা থাকতে পারে।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

ভাইয়া, চিভনিং এর কথা আমি ভুলে গিয়েছিলাম। হ্যা, এখনও ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে চিভনিং স্কলারশিপ দেয়া হয়। আমি সংক্ষেপে ওয়েব লিঙ্ক সহ সেটার কথা টট মাস্টার্স সেকশনে যুক্ত করেছি।
EPSRC এখন খুব বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছে। স্কলারশিপগুলোর প্রথম লাইনই থাকে Home and EU students only। তারা এখন মূল শর্ত দিচ্ছে, EU এর সিটিজেন হলে তিন বছরের ব্রিটিশ রেসিডেন্সি থাকতে হবে স্টাইপেন্ড পেতে হলে, তা না হলে শুধু ফিস। কিন্তু ওভারসিজ হলে আবেদনই করতে পারবে না। তবে ছাড়া অন্য এ্যাওয়ার্ডিং বডির ফান্ড হলে সেটা ORS দিয়ে টপ আপ করা যাচ্ছে।

পরিবর্তনশীল এর ছবি

চলুক

---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

শুভেচ্ছা রইলো।

Shah Sifat এর ছবি

আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া UK তে যারা scholarship নিয়ে under-graduation করতে চায় তাদের কি করা উচিত এবং তাদের জন্য কি কি প্রয়োজন সে সম্পর্কে যদি বলতেন তাহলে অনেক উপকৃত হতাম ।
আমার Software engineering এ Bsc করার ইচ্ছা। আমার SSC and HSC এর result ভাল।

MOHIUDDIN ZIA এর ছবি

Dear sifat, Its realy hard to get scholarship in UK basically in undersrad possition.
For masters and PhD, its might possible but you see, niaz bhai just describe here such a good way,
WE are good friends and both of them studied from Bangladesh and UK. So, For BSc in Computer Science, and Eng, Its better to find some reasonable good university if you need to provide your own fundings other wise, getting totally free is not possible , but you can try..

Mohiuddin Zia , MSc
Former Course Rep, Glamoragan Business School,
University of Glamorgan Wales, UK

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আমি এই কমেন্টটা আগে লক্ষ্য করি নি। আজ তোমার মেইল পেয়েছি। যাইহোক, এখানে কিছুটা রিপ্লাই দিয়ে নেই।

আন্ডারগ্র্যাড পর্যায়ে বৃটেনে স্কলারশিপ পাওয়াটা খুব কঠিন। 'কঠিন' বলছি কারণ স্কলারশিপের কোন স্কিমই খুঁজে পাবে না। সেজন্যে নিজ খরচে পড়তে আসতে হবে। যেহেতু তোমার মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে রেজাল্ট ভালো, আমি পরামর্শ দেব প্রথমে বাংলাদেশে আন্ডারগ্র্যাড করতে অথবা পরে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে। কোন ভাবেই স্কলারশিপের চেষ্টা করতে করতে দেশে বসে থেকো না। আমি মেইল করেছি তোমাকে। তুমি তোমার অবস্থা এবং সামর্থ্য জানিয়ে রিপ্লাই দিও। আমি চেষ্টা করবো যতটুকু পারা যায় সাহায্য করতে।

Shah Sifat এর ছবি

ভাইয়া,undergraduate এর জন্য university নিজস্ব scholarshipছাড়া UK তে অন্য আর কি কি scholarship আছে সে সম্পর্কে জানতে পারলে ভাল হত।
আর ভাইয়া , education loan এর ব্যাপারে ও যদি কিছু বলতেন........................

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

এডুকেশন লোনের বিষয়ে আমি নিজে এখন খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারলে পরে পোস্ট দেব।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA