যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন ২০১৫ পর্যবেক্ষণ

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী (তারিখ: শুক্র, ০৮/০৫/২০১৫ - ৬:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

485x

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শেষের দিকে চলে এসেছে। মূলতঃ চারটা এলাকা বা দেশ নিয়ে যুক্তরাজ্য গঠিত। এগুলো হচ্ছে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং ওয়েলস। এর মধ্যে ওয়েলস এর সাথে ইংল্যান্ডে সম্পর্কটা খুবই গভীর। সে কারণে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস এর আইন, ক্রিকেট বোর্ড বা এরকম অনেক কিছুই এক সাথেই পরিচালিত হয় (যদিও ওয়েলস এর একটা দুর্বল পার্লামেন্ট রয়েছে)। আবার নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পরিস্থিতিটা একদমই ভিন্ন। ওখানে বেলফাস্ট এগ্রিমেন্টের পর থেকে পাওয়ার শেয়ারিং সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশটার ফার্স্ট মিনিস্টার মূলত দুইজন থাকে। একজন আসে ক্যাথলিক বা ন্যাশনালিস্টদের মধ্য থেকে এবং অন্যজন আসে প্রোটেস্টেন্ট বা ইউনিয়নিস্টদের থেকে নির্বাচিত হয়ে। এ কারণে ওখানকার রাজনীতিতে ওখানকার দলগুলোরই প্রাধান্য চোখে পড়ে। তবে জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে মূলত ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের দলগুলো। যুক্তরাজ্যের প্রধান দুই দল হচ্ছে কনজার্ভেটিভ এবং লেবার। এছাড়া তৃতীয় শক্তি হিসেবে আছে লিব ডেম যারা গতবার কনর্জাভেটিভের সাথে মিলে সরকার গঠন করে। কনজার্ভেটিভ প্রধান ডেভিড ক্যামেরন বর্তমান বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী এবং লিব ডেমের প্রধান নিক ক্লেইগ উপ-প্রধানমন্ত্রী। এই শেষের পদটা মূলত কোয়ালিশনকে সফল করার জন্যেই তৈরি করা। এটা কোন নিয়মিত পদ নয়। অন্যদিকে লেবারের প্রধান এড মিলিব্যান্ড যিনি প্রধানমন্ত্রী হবার দৌড়ে সামিল হয়েছেন এবারের নির্বাচন জিতে।

প্রায় সারা রাত এবং পরে আবার ভোর থেকে বিবিসির সামনে থেকে নির্বাচনের ফলাফল অনুসরণ করলাম। সাধারণত বিবিসি এ সময় বিভিন্ন নেতাদের স্টুডিওতে নিয়ে আসে অথবা তাদের নিজ নিজ এলাকায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে ইন্টারভিউ নেয়। এই ইন্টারভিউগুলোও একটা বাস্তবসম্মত ধারণা দেয় কী হতে যাচ্ছে বা কার কী অবস্থান রয়েছে সে বিষয়ে। গতকাল সারা দিন ব্রিটিশ মিডিয়া প্রচার করেছে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে 'ক্লোজ কনটেস্ট'। বিবিসি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল আগেই, কোন দল মেজরিটি পাবে না এবার এবং একটা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে যাচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনের বহু আগে থেকেই লোকমুখে শোনা যাচ্ছিল কনর্জাভেটিভ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না এবং চোখ বন্ধ করে লেবারই ক্ষমতায় আসবে। যদি মেজরিটি না পায়, তবু অন্য কোন দলের সাথে মিলে সরকার গঠনে তারা সক্ষম হবে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসতে থাকে এই ধারণা তত বদলে যেতে থাকে। নির্বাচনের ঠিক আগের রাতের জরিপে দেখা যায় ৩৪ শতাংশ ভোট পড়বে কনর্জাভেটিভের দিকে আর ৩৩ শতাংশ লেবারের দিকে। কিন্তু ভোট গ্রহণ শেষে প্রকাশিত 'এক্সিট পোল' অবিশ্বাস্য এক চিত্র তুলে ধরে। বিবিসি খুবই জোর দিয়ে সারা রাত প্রচার করতে থাকে যে কনজার্ভেটিভ ৩১৬ আসন পেতে যাচ্ছে। সেই সাথে তারা এটাও জানায় যে স্কটল্যান্ড থেকে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ৫৯ আসনের মধ্যে ৫৮টা-ই জিতে যাবে!

কনজার্ভেটিভের ঝানু রাজনীতিবিদ তেরেসা মে আসেন মধ্য রাতে বিবিসিতে ইন্টারভিউ দিতে লন্ডনের স্টুডিওতে। তাঁকে না না ভাবে প্রশ্ন করা হয় তাদের সম্ভাব্য বিজয় নিয়ে কিন্তু ভদ্রমহিলা কিছুতেই তারা জিততে যাচ্ছেন স্বীকার করেন নি। এমন কি তাঁকে এই প্রশ্নও করা হয়েছে, তারা তো মেজরিটি পেতে যাচ্ছে, তখন কি লিব ডেমকে সাথে রাখার আর প্রয়োজন আছে! সে প্রশ্নও তিনি হেসে এড়িয়ে যান। এর অন্যতম কারণ ছিল (সম্ভবত) গতবারের এক্সিট পোল যেখানে ভুল চিত্র বেরিয়ে এসেছিল (সংশোধনীঃ গতবারের এক্সিট পোলও আসলে সঠিক ছিল। নিচের কমেন্ট অংশ দ্রষ্টব্য)। তাই এবার তারা সাবধানতা অবলম্বন করছেন। অন্যদিকে লেবারের নেতারা বার বার বলছিলেন এক্সিট পোল নিতান্তই একটা প্রাথমিক ধারণা এবং মূল ফলাফল ভিন্ন হতে বাধ্য।

যত রাত গড়িয়েছে, তত লেবারের নেতাদের চোখে-মুখে হতাশা বেড়েছে আর কনর্জাভেটিভের জয় সুনিশ্চিত হয়েছে। এক্সিট পোলের ৩১৬ আসনের প্রিডিকশনকে ছাপিয়ে গিয়ে তারা। এই ব্লগ পোস্ট লেখার সময়ই ৩২৫ আসন পেয়ে গিয়েছে। এখনও আরো ১২ আসনের ফলাফল আসা বাকি আছে। মেজরিটির জন্যে তাদের লাগবে আর মাত্র একটা আসন। অন্যদিকে লেবার ২২৮ আসনে এসে ভোর থেকে আটকে থেকে কিছুক্ষণ আগে ২৩০ হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছে এক্সিট পোলের প্রিডিকশনও তারা অর্জন করতে পারবে না।

স্কটল্যান্ড থেকে এর আগে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬টা আসন পাওয়া স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (SNP) শেষ পর্যন্ত জিতেছে ৫৬টা আসন। এছাড়া একটা করে আসন জিতেছে লেবার, কনজার্ভেটিভ এবং লিব ডেম। স্কটল্যান্ড বরাবরই লেবারের ঘাটি বলে পরিচিত। এক সময় স্কটিশ মাফিয়া শব্দযুগলও দাড়িয়ে গিয়েছিল স্কটিশ লেবারের দাপটের কারণে। অনেকেই হয়তো জানেন না, টনি ব্লেয়ার বা গর্ডন ব্রাউন, তাঁরা দুজনেই স্কটিশ ছিল। কিন্তু সেই ঘাটি ধীরে ধীরে এমন ভাবে দখল করেছে SNP যে লেবার এবারের নির্বাচনে পেলো মাত্র একটা আসন!

স্কটিশ লেবারের প্রধান জিম মার্ফি নিজে নির্বাচনে হেরে গিয়ে সরাসরি জাতীয় মিডিয়াতে তার হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এই জিম মার্ফি সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্যে যে রেফারেন্ডাম আনা হয়েছিল, সেটার মূলত 'না' ভোটের প্রচরণায় ছিলেন সদাহাস্যজ্বল এই জিম মার্ফি। যেদিন ঐ রেফারেন্ডামের ফলাফল দিল, সেদিনও সারারাত বিবিসির সামনে বসে ফলাফল অনুসরণ করেছিলাম। স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালানো SNP এর নেতাদের হতাশার চেহারার পাশাপাশি এই জিম মার্ফির হাসি সেদিন বাধ ভেঙ্গেছিল। অথচ কয়েক মাস যেতেই তার দলের শুধু ভরা ডুবিই হলো না, তিনি নিজেও হেরে গেলেন তার নির্বাচনি আসন থেকে। এই ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে এই যে, স্কটল্যান্ডের মানুষ যারা যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হতে চায় নি, তারা 'না' ভোট দিয়েছিল বটে কিন্তু তারা লেবারকে সমর্থন দেয় নি। তারা যুক্তরাজ্যের ভেতরে থেকে নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী ছিল। তাই যখন সাধারণ নির্বাচন এলো, তখন 'হ্যা' ভোটাররা SNP কে সমর্থনতো দিলোই, সাথে ঐ 'না' ভোটাররাও SNP কে নির্বাচিত করে ওয়েস্টমিনস্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করলো। জিম মার্ফি এবং তার দল লেবার মাঝখানে পুরোপুরি ধরাশায়ী হলো। গতরাতে লেবারের ভরা ডুবির বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিবিসিতে একজন বলছিল, লেবারের পরাজয়ের জন্যে ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের ন্যাশনালিজম দায়ী। কারণ স্কটরা লেবারকে বিশ্বাস না করে SNP এর উপর ভরসা করেছে আর ইংলিশরাও কনজার্ভেটিভকেই তাদের নিজেদের দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মাঝখানে লেবারের প্রতি কারো আর ভরসা নেই।

এবারের নির্বাচনে শুধু যে লেবারের ভরাডুবি হয়েছে, তা কিন্তু নয়। লিব ডেমও শোচনীয় ভাবে হেরেছে এবার। গতবারের তুলনায় ৪৭টা আসন কম পেয়েছে তারা এবার। শুধু তাই নয়, তাদের দলীয় প্রধান এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেইগ শেফিল্ডের নিজের আসন থেকে জিততে পারে নি (সংশোধনীঃ নিক ক্লেইগ আসলে জিতেছে। এটা একটা তথ্যগত ভুল ছিল। নিচে কমেন্ট অংশে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে)।

যদিও উপরের আলোচ্য বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্যে সরাসরি তেমন কোন সুখবর বয়ে আনে না; কিন্তু তবুও এবারের নির্বাচেনে কিছু ইতিবাচক বিষয় বাংলাদেশের জন্যেও ছিল। এবার আমরা তিনজন বাংলাদেশি বাংশোদ্ভূত এমপি পেয়েছি হাউজ অব কমন্সে; তিনজনই লেবার থেকে। বঙ্গবন্ধুর নাতনী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক অবাঙালী এলাকা হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে নির্বাচনে দাড়িয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনটা থেকে গতবারও লেবার জিতেছিল। মাত্র ৪২ ভোটের ব্যবধানে জেতা আসনটা গত নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোটে জেতা আসন ছিল যে কোন দলের জন্যে। এরকম পরিস্থিতিতে কনজার্ভেটিভ ব্যপক ভাবে চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজীত হলো টিউলিপের কাছে। লন্ডনেরই আরেকটি আসন ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকট। এই আসনকে বলা হয়ে থাকে লন্ডনের অন্যতম কঠিন আসন। এখান থেকে লেবারের হয়ে জয়ী হয়েছেন রূপা হক। এছাড়া গতবারের নির্বাচিত এমপি রুশনারা এবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি হয়েছেন। এই তিন নারীর মাধ্যমে হাউজ অব কমন্সে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর পৌছে যাক, সেই প্রত্যাশা করি।

লেখাটা শেষ করছি একটা বিশেষ আলোচনা দিয়ে। পোস্টের একদম উপরে সংযুক্ত ছবিটা লক্ষ্য করুন। যুক্তরাজ্যে এবারের নির্বাচনে একটা বিশেষ দিক তুলে ধরেছে এই ছবি। হলুদ আসনগুলো SNP এর আর নীলগুলো কনজার্ভেটিভের। SNP প্রায় সব আসন জিতে নিয়েছে স্কটল্যান্ড থেকে। অন্যদিকে কনর্জাভেটিভ বিশাল বিজয় পেয়েছে ইংল্যান্ডে (ওয়েলস সহ) কিন্তু স্কটল্যান্ডে তারা কোনক্রমে একটা আসন জিততে পেরেছে; তাও স্কটিশ বর্ডার থেকে। গভীরে ঢোকার সুযোগই পায় নি। আবার SNP ইংল্যান্ড থেকে কিছুই জেতে নি। এই ফলাফল স্পষ্ট ইংগিত দেয় একটা আসন্ন ভাঙ্গনের। গত বছরের রেফারেন্ডামে স্কটল্যান্ড স্বাধীন হতে না পারলেও SNP আগেই জানিয়েছে তারা আবারও রেফারেন্ডাম আনবে। আর যদি সেটা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে স্কটল্যান্ড আর ইংল্যান্ড এক সাথে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। সেজন্যে একজন বিবিসিতে কৌতুক করে গতরাতে বললেন, 'ডেভিড ক্যামেরন-ই কি হতে যাচ্ছে United Kingdom এর সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী?' কিম্বা এটাও হতে পারে, SNP আর চায় না স্কটল্যান্ডকে স্বাধীন করতে। বরং ভবিষ্যতে তারা শক্তিশালী আসন করে নিতে চায় ওয়েস্টমিনস্টারে!

পুনশ্চ: লেখাটা শেষ করতে করতে কনজার্ভেটিভের ৩২৬ আসন হয়ে গিয়েছে। ডেভিড ক্যামেরন আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। লেবারের এড মিলিব্যান্ড এবং লিব ডেমের নিক ক্লেইগ দলের নেতার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই মাত্র বিবিসি আরো জানালো স্কটল্যান্ড থেকে SNP এর নেতারা উড়ে যাচ্ছেন সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে। অবস্থাদৃষ্টে যেটা মনে হচ্ছে, মেজরিটি পেলেও SNP কে সাথে রাখতে আগ্রহী কনজার্ভেটিভ।

সম্পূর্ণ নির্বাচনের ফলাফল এখানে দেখুন:
http://www.bbc.co.uk/news/election/2015/results

৮ মে ২০১৫
মিল্টন কিন্স, ইংল্যান্ড


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

স্কটল্যাণ্ড-ইংল্যাণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় রক্ষণশীল দলের প্রভাবের কারণটা কী?

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

হিমু ভাই, স্কটিশ বর্ডার এলাকাটা বরাবরই একটু মিশ্র প্রকৃতির। যে আসনটা কনজার্ভেটিভরা জিতেছে, তারা এটা ১৯৩১ সন থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত একটানা দখলে রেখেছিল। এর অন্যতম একটা কারণ ঐতিহাসিক ভাবে ঐ এলাকাতে স্কটল্যান্ডের হওয়ার পরও ইংল্যান্ডের প্রবল প্রভাব। আপনি শুনলে অবাক হবেন, একটা সময় ওখানে ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড - দুই দেশেরই আইন কার্যকর ছিল। ইংলিশরা খুব সহজেই ঐ এলাকাতে মাইগ্রেট করে এই প্রভাব তৈরি করেছে। তবে পরবর্তিতে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে এখন স্কটল্যান্ডের আধিপত্য অনেক বেড়েছে। এই নির্বাচনেই কনজার্ভেটিভ খুবই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর আসনটা জিতেছে। কনজার্ভেটিভ ভোট পেয়েছে ২০,৭৫৯ (৩৯.৮ শতাংশ) আর SNP পেয়েছে ১৯,৯৬১ (৩৮১.৩ শতাংশ)। ভোটের সংখ্যা দেখেই আসলে বোঝা যায় ওখানে ইংলিশ-স্কটিশ অনুপাতটা কেমন।

galib এর ছবি

ভালো বিশ্লেষণ। তবে পোস্টে দুটো তথ্য বিভ্রাট আছেঃ

১। নিক ক্লেগ তার আসনে জিতেছেন ৪০% ভোট পেয়ে।

২। এবারের মতো ২০১০ এর একজিট পোলও সত্য হয়েছিলঃ
2010 General Election exit poll vs actual outcome:
Conservative 307 / 307 (0)
Labour 255 / 258 (-3)
Lib Dems 59 / 57 (-2)
Others 29 / 28 (+1)

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ। দুটো তথ্যই আমার বোঝার ভুল ছিল। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই ভুল দুটো হতো না। প্রথমটা শেফিল্ড হলামের নিজ কেন্দ্রে যখন নিক ক্লেইগ গেলো, তখন বিবিসি লাইভ দেখাচ্ছিল। পরিস্থিতি খুব থমথমে ছিল এবং বিবিসির ক্যামেরাও রুমে ঢোকার মুখে আটকে দেয়া হয়। এরপর যখন পরে নিক ক্লেইজ ভরাডুবির দায় নিয়ে দলের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করে ভাষণ দেয়, সেটা শুনে আমি ভেবেছিলাম সে-ও হেরে গেছে। চেহারা দেখে আর ঘেটে দেখতে যাই নি পরিস্থিতি আসলে কী!

আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুইজন লেবারের নেতা তাদের ইন্টারভিউতে এক্সিট পোল সম্পর্কে অতটা আত্মবিশ্বাসী না হতে বলছিল গতবারের উদাহরণ টেনে। সেজন্যে আমার মনে হয়েছিল গতবার হয়তো এক্সিট পোল ভুল চিত্র দিয়েছিল। এক্ষেত্রেও তথ্যটা ঘেটে দেখা প্রয়োজন ছিল। ভুল দুটোর জন্যে আমি দুঃখিত এবং মূল পোস্টে ঠিক করে দিলাম।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

নির্বাচনে কারচুপি হয় না? জাল ভোট হয় না? এটা কেমন নির্বাচন?

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

নজরুল ভাই, আমি নিজেই ভোট দিতে পারি নাই। আমার রেজিস্ট্রেশন স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে করা ছিল। এখন ইংল্যান্ডে চলে আসায় এবং সময়মত রেজিস্ট্রেশন বদল না করায় আমার ভোটটা নষ্ট হলো। হালকা কাশি দিয়ে 'আমার ভোট কে দিল?' বলে ফেবুতে একটা ভিডিও আপ করবো কিনা ভাবছিলাম যখন, তখন দেখি বেগম জিয়া 'UK তে ভোট ঠিকঠাক মত হয়েছে' বলে সার্টিফিকেট দিয়ে ফেলেছেন (কপাল চাপড়ানোর ইমো)

http://bangla.bdnews24.com/politics/article966137.bdnews

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

যা বুঝলাম ইংল্যান্ডের নির্বাচনে কারচুপি ইত্যাদি করা কোনো গঠনাই না। প্রার্থী হতেও নাকি তেমন বিশেষ কিছু লাগে না। এখন থেকেই তক্কে তক্কে থাকতে হবে হাসি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA