প্রথম বাংলা ইনপুট সিস্টেমের জনক সাইফুদ্দাহার শহীদের সাক্ষাৎকার - পর্ব ২/৩

বেতারায়তন এর ছবি
লিখেছেন বেতারায়তন (তারিখ: বুধ, ২৮/০৪/২০১০ - ৮:৪০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব
তৃতীয় পর্ব

ভূমিকা

অতি সম্প্রতি অভ্র-বিজয় বির্তকের সূত্র ধরে বাংলা কিবোর্ড লেআউট, কপিরাইট, প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত বাংলা কম্পিউটিংয়ের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরে বাংলা কম্পিউটিংয়ের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সাথে আলোচনা, ইতিহাস পুনরুদ্ধার এবং নতুন স্ট্যান্ডার্ড তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করতে কিছু সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছে সচলায়তন। এই ধারায় আজ উপস্থাপন করা হচ্ছে সাইফুদ্দার শহীদের সাক্ষাৎকার।

সাইফুদ্দাহার শহীদ পেশায় যন্ত্রকৌশলী হলেও বেক্সিমকোতে চাকুরিরত অবস্থায় ১৯৮৩ সালের দিকে তাদের কম্পিউটার সিস্টেমের দায়িত্বে ছিলেন। তখন থেকেই তিনি বাংলা কম্পিউটিংয়ের উপর কাজ কর্ম শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে এবং খানিকটা ম্যাকিন্টোশ কর্পোরেশনের টেকনিক্যাল সহায়তায় ম্যাক কম্পিউটারের জন্য বাংলা ফন্ট যশোর, কিবোর্ড লেআউট শহীদলিপি এবং বাংলা ইন্টারফেইসে ম্যাক সিস্টেম ডেভলপ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি এই সিস্টেম ব্যবহার করে কম্পিউটারে প্রথম বাংলা চিঠি লেখেন তাঁর মাকে। এরপর ইউএনডিপিসহ প্রায় একশতটির মত প্রতিষ্ঠান তার এই সিস্টেম কেনে এবং ব্যবহার শুরু করে।

আলোচনা থেকে পরিষ্কারভাবে ভাবে প্রমাণিত হয় যে, সাইফ শহীদ বাংলা কম্পিউটিংয়ে প্রথম কিবোর্ডটি উদ্ভাবন করেছেন। যদিও পরবর্তীতে অনেকে ডেস্কটপ পাবলিশিং সফটওয়্যার নির্মাণ করে নিজেদের প্রথম উদ্ভাবক দাবি করেন, স্পষ্টত তাদের এই দাবি ভুল।

আশা করি সাইফ শহীদের সাথে এই আলোচনাটি অনেক ভুল ইতিহাসকে নির্মূল করবে।
প্রথম বাংলা ইনপুট সিস্টেমের জনক সাইফুদ্দাহার শহীদপ্রথম বাংলা ইনপুট সিস্টেমের জনক সাইফুদ্দাহার শহীদ

সাক্ষাৎকার
(এই ইন্টারভিউটি অনেকটা ইন্ট্যারএকটিভ ছিল। শহীদ অনেক প্রশ্নের উত্তর আলোচনা চলাকালীন জানিয়ে দিয়েছেন। তাই প্রশ্নের ধারা ক্রমান্বয়ে আসেনি। শুধুমাত্র স্ক্রিপ্ট তুলে দেয়া হচ্ছে। আশা করি আলোচনা শুনতে শুরু করলেই ধারাটি ধরতে পারবেন শ্রোতারা।)

মুর্শেদ: প্রকাশনা ও মুদ্রণ ইন্ডাস্ট্রিতে শহীদলিপি কেমন সাড়া পেয়েছিলো? বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া কি ছিলো? বাংলাদেশের গণমাধ্যমের?

শহীদ:

হিমু: ঠিক কী কারণে এই সফটওয়্যারটি বাজার হারায় বলে আপনি মনে করেন?

শহীদ:

মুর্শেদ: শহীদলিপি কী বাংলাদেশের সর্বপ্রথম কিবোর্ড লেআউট? এ প্রসঙ্গে প্রচুর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও তথ্য পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে আপনার অবস্থান কী?

শহীদ:

হিমু: ইউনিকোডের উপযোগী করে শহীদলিপি প্রকাশ করা সম্ভব কি? এ নিয়ে কোন কাজ করেছেন আপনি?

শহীদ:

মুর্শেদ: অভ্র ব্যবহার করেছেন? অভ্র কি কোন ভাবে পাইরেটেড সফটওয়্যার বলে বিবেচিত হতে পারে?

শহীদ:

হিমু: বিজয় লেআউটের ব্যাপারে কিছু জানতে চাই। বিজয় লেআউটটি এবং অন্যান্য লেআউটের তুলনামূলকভাবে মিল বা পার্থক্য কেমন? কতটুকু পার্থক্য হলে দুটো লেআউটকে আলাদা বলা যেতে পারে?

শহীদ:

মুর্শেদ: আপনি কি মনে করেন একটি কিবোর্ড লেআউটটি ফ্রী করে দেয়া উচিত? সফটওয়্যার নির্মাতা তাহলে মুনাফা করবেন কীভাবে?

শহীদ:

হিমু: কিবোর্ড লেআউট কি কপিরাইট করার মতো কোন মেধাসত্ত্ব? ইংরেজী কিবোর্ড যদি মাইক্রোসফট, অ্যাপেল বা গুগলের কপিরাইট করা হত তাহলে কেমন হত? এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

শহীদ:

মুর্শেদ: আর কোন কোন বাংলা ইনপুট সিস্টেম আপনার মতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে?

শহীদ:

রেফারেন্স

১। সাইফুদ্দাহার শহীদের হোমপেইজ
২। গুগল সাইটে সংরক্ষিত শহীদলিপির বিস্তারিত
৩। ইয়াহু গ্রুপসে রক্ষিত কম্পিউটারে বাংলা লিপির ইতিহাস
৪। মার্চ ২০১০ এ মোস্তফা জব্বারের বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকার
৫। মেহদী হাসানের সাক্ষাৎকার


মন্তব্য

আবুল হাসনাত এর ছবি

খুব ভাল লাগলো অনেক অনেক দিন পর শহীদ ভাই এর কথা শুনে । সচলকে ওনেক ওনেক সাধুবাদ জানাই। মস্তফা জব্বার কে লিখে বা বলে কিছু হবে না। ... লেজ কখনো সোজা হয় না... উনারও চরিত্র কখনও ভাল হবে বলে মনে হয় না ।

রাগ ইমন  এর ছবি

তুমুল ধন্যবাদ ও সাধুবাদ এই উদ্যোগের জন্য । ভাগ করে দেওয়াতে ১ম পর্বের পরে বড্ড আশাহত হতে হয়েছিলো । ( আমি এক বই নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে একবারে শেষ করে উঠা মানুষ) । তারপরেও ভালো লাগছে শহীদ ভাইয়ের অকপট কথোপকথন । ভদ্রলোক খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলেন। কাউকে তার প্রাপ্য প্রশংসা দিতেও কারপণ্য করেন নাই। মোস্তফা জব্বার শিখতে পারেন এখান থেকে ।
আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন আছে । বাংলা উইকিতে আপনারা ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন , সেখানে শহীদ ভাই নিজে লিখতে পারবেন কিনা (সময় ইত্যাদি সমস্যা থাকতে পারে) সেইটা কি জিজ্ঞেস করার সুযোগ হয়েছিলো?
অন্য কেউ উনার হয়ে লিখলেও আমি আশা করছি উনি নিজে সেখানে কিছু যুক্ত করবেন । আর একটা ব্যাপার মনে হলো উনার কথা শুনতে শুনতে । উনি গল্প বলেন খুব ভালো । এই কথা গুলোকেই উনি যদি গল্পচ্ছলে লিখেন ( ব্লগে কিংবা বই এ ) যেটাকে কাগজে ছাপিয়ে পাঠকের কাছে পৌছানো যায়, তাহলে খুব ভালো হয় । বাংলা কম্পিউটিং নিয়ে একটা ভালো গল্পের বই পড়তে খুব আনন্দ হবে নিশ্চয়ই! আমরা কি কোন ভাবে সাহায্য করতে পারি এই ব্যাপারে?

সব শেষে একটা ছোট্ট অনুরোধ। কথা থামিয়ে দিয়ে মাঝখানে প্রশ্ন করাটা শুনতে বেশ খারাপ লেগেছে । এই ব্যাপারে , মাঝপথে কোন প্রশ্ন মনে এলে সেইটা নোট করে রেখে , কথা শেষ হওয়ার পরে কি করা যায় ? এতে হয়ত বক্তার জন্যও সুবিধা হতে পারে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ । অতুলনীয় একটা কাজ হয়েছে এটা । ঐতিহাসিক ।

দ্রোহী এর ছবি

শুনলাম।

তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায়।

আরিফ হাসান এর ছবি

চমৎকার! তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম !

নজরুল ইসলাম এর ছবি

সাধু উদ্যোগ
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

লিকু এর ছবি

ভাই,

প্রব্লেম কার বুঝলাম না। আমার পিসি তে আমি সাক্ষাৎকার অংশে 'শহীদ' নামের পর কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

একটু বুঝিয়ে বলবেন ।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

অন্যান্য ব্রাউজার ট্রাই করে দেখেন প্লীজ।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

কানা বাবা এর ছবি

খবুউ ভালো লাগলো। যদিও পুরোটা শুনতে পারলাম না। মাঝ পথে বার বার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্টার্ট বাটন চাপলে আবার প্রথম থেকে শুরু হয়, কোন ভাবে স্ক্রল করে মাঝে আনা যাচ্ছে না । দয়া করে কি ডাউনলোডের লিন্ক দেওয়া যাবে? অথবা এমন ব্যবস্হা করা যাবে যাতে করে স্ক্রল করে মাঝামাঝি থেকে শোনা যাবে?

/----------------------------------------------------
ওইখানে আমিও আছি, যেইখানে সূর্য উদয়
প্রিয়দেশ, পাল্টে দেবো, তুমি আর আমি বোধহয়
কমরেড, তৈরি থেকো,গায়ে মাখো আলতা বরণ
আমি তুমি, আমি তুমি, এভাবেই লক্ষ চরণ।।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

দুঃখিত। স্ক্রল করার ব্যবস্থা আছে তো!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

শামীম এর ছবি

ডেইলি স্টারের আর্টিকেল: An amazing journey from Shahid Lipi to Avro
জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা: ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার, তপু ভাই।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

অতিথি লেখক এর ছবি

৩য় অংশের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ।

বিবেকহীন বিবেক এর ছবি

দ্বিতীয় পর্ব শুনেও খুব ভাল লাগলো।এই ব্যক্তিকে যথেষ্ট সত্যবাদী বলে মনে হচ্ছে! অবলীলায় তিনি তাঁর সব ঘটনা বলে যাচ্ছেন। একটা জিনিস অবাক লাগছে যে, আপনাদের এই সাক্ষাৎকার সিরিজটা যেরকম সাড়া ফেলবে বলে আমি ধারণা করেছিলাম(ব্যক্তিগতভাবে শুধু আমি) তার ছিটেফোটও দেখতে পেলাম। সবাই মনে হ্য় খুব ক্লান্ত একটা দীর্ঘ লড়াই-এর পর, নতুবা ইতিহাস নিয়ে কারো কোনো আগ্রহ নেই, সবাই বর্তমান নিয়েই মনে হয় খুশি!

যাই হোক, আপনাদের এই উদ্যোগ খুব প্রশংসনীয় যে আপনারা বাংলা কম্পিউটিং-এর ইতিহাস সঠিক করার পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং স্বয়ং ইতিহাস সৃষ্টিকারীকে এইখানে সাক্ষী হিসাবে ব্যবহার করছেন। আগে যিনি এই কৃতিত্বের দাবী করতেন, তাঁর মতামত কি আমরা জানতে পারব? আপনার তো বামুনের টিকি কেটে নেওয়ার মত তাঁর টিকি-টিও কেটে ফেলছেন!!! পৈতা আর ধুতি তো তিনি নিজেই খুলে ফেলেছেন! আর আরেকটা প্রশ্ন আছে, "ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর প্রণেতা"-এই দাবীটা কতখানি যৌক্তিক কেউ কি দয়া করে একটু বুঝিয়ে বলবেন? ডিজিটাল বাংলাদেশ এর প্রণয়ন কি সম্পন্ন হয়ে গেছে?!?!

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

এই সাক্ষাৎকারটা আসলে ডিফাইনিং একটা স্টেইটমেন্টের মত। দ্বিমত করার সুযোগ নেই। তাই যেমন সাড়া আশা করছিলেন তেমনটা আসেনি। কিন্তু এই সাক্ষাৎকারটা ভ্যালু অনেক সুদুরপ্রসারী। ভবিষ্যতে এটা একটা রেফারেন্স হিসেবে বারবার ব্যবহৃত হবে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নাজমুস সাকিব [অতিথি] এর ছবি

সচলায়তন কে ধন্যবাদ এই অসাধারণ উদ্যোগের জন্য । তৃতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম । আশা করি এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা কম্পউটিং এর ইতিহাস এর নতুন অজানা অনেক দিক উঠে আসবে ।

- নাজমুস সাকিব