সাকিব-তামিম বনাম বিসিবি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি
লিখেছেন সুহান রিজওয়ান (তারিখ: শনি, ১০/০৯/২০১১ - ৭:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কাঁপিয়ে দেয়া তিনটি ঘটনা ঘটে গেলো গত কয়েকদিনে। প্রথমে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের এক বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকার, এরপরে বিশ্ব ফুটবলের এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির ঢাকা সফর এবং সব শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের পদ হতে যথাক্রমে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে অপসারণ।

সাকিব-তামিমের অপসারণের খবর আমি পেয়েছিলাম চট্টগ্রামের এক আত্মীয় বাড়িতে নিমন্ত্রণের অতিথি হয়ে টিভি চ্যানেলে রাতের খবরগুলোতে চোখ বুলানোর সময়। অবাক হয়েছিলাম, তবে লিওনেল মেসির ঢাকা অবতরণের সংবাদ্গুলো দেখবার ব্যগ্রতা ছিলো বলে দ্রুতই পালটে দিয়েছিলাম টিভি চ্যানেল। অপসারণের কারণ সম্পর্কে অবগত না হয়ে ধারণা করেছিলাম, শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় কারণে জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থতার বলি হতে হয়েছে আমাদের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ককে। কাকতালীয় ব্যাপার, সেই নিমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন তামিম ইকবালের খুব নিকটাত্মীয়া একজন। সহ-অধিনায়কের অপসারণ প্রসঙ্গে উপস্থিত অন্যান্যদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন ' পলিটিক্স, পলিটিক্স !! এই দেশে সব পলিটিক্স !!'

মেসি মোহ কেটে যাবার পরের কয়েকদিনে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত সংবাদে বেরিয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। হেড অফ ডেলিগেশন শফিকুর রহমানের জিম্বাবুয়ে সফরের শেষে দেয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই নাকি সাকিব-তামিমের অপসারণ আর সেই রিপোর্টের অংশবিশেষে নাকি উল্লেখ রয়েছে কোচের প্রতি সাকিব-তামিমের ঔদ্ধত্যের। অন্যকথায়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের।

ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরেই বোর্ডের এ আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কোচ স্টুয়ার্ট ল। ৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে যা কিছু এসেছে, তা সত্যের ধারে কাছেও নেই। আমি যা দেখেছি, এই ছেলেরা দারুণ শৃংখলাপরায়ণ।'

হেড অফ ডেলিগেশন এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশারকে ড্রেসিংরুমে উপস্থিত থাকতে বারণ করেছেন অধিনায়ক- এই তত্ত্বকেও উড়িয়ে দিলেন ল। বরং বললেন, 'হেড অফ ডেলিগেশন আর নির্বাচক প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি অংশে, দিনের প্রতিটি মিনিট ড্রেসিংরুমে থাকছে- এই অভিজ্ঞতা আমার জন্যে নতুন।' লো আরো জানান, ড্রেসিংরুমে নির্ভার পরিবেশ তৈরীর লক্ষ্যে কোন কোন খেলোয়াড়কে প্রশ্ন করে তিনি নিজেই তাদের (হেড অফ ডেলিগেশন ও নির্বাচক) ড্রেসিংরুমে থাকাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, কোন খেলোয়াড়ই আগ বাড়িয়ে তাদের কিছু বলেনি।

প্রশ্নের তীর ছুঁড়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কেরাও। নাইমুর রহমান, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ পালটা প্রশ্ন তুলেছেন বোর্ডকে উদ্দেশ্য করে। সেই যাবতীয় প্রশ্নের সারমর্মটা হচ্ছে, এতোদিন ধরে সাকিব-তামিমের এই কথিত 'ঔদ্ধত্য' সহ্য করেও নিশ্চুপ কেনো ছিলো বোর্ড ??

মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ জেমি সিডন্স। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনের কোচের দায়িত্ব পালনরত সিডন্স জানিয়েছেন, সাকিব আল হাসানই দেশের বর্তমান স্কোয়াডের জন্যে সবচেয়ে আদর্শ এবং একমাত্র অধিনায়ক হবার যোগ্য। সেই সাথে এটিও সিডন্স বলেছেন যে ড্রেসিংরুমে নির্বাচকেদের ড্রয়িংরুম বানিয়ে ফেলার কারণটা তার মোটেও বোধগম্য নয়।

প্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক উৎপল শুভ্র আজকে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত কলামে একদম সাদামাটা কিন্তু দারুণ কার্যকরীভাবে বলে দিয়েছেন আমাদের অধিনায়ক আর সহ-অধিনায়কের অপসারণের পেছনের মূল কারণটা। বিশ্ব ক্রিকেটে সাকিব-তামিমের ঔদ্ধত্য প্রকাশে 'থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট থিওরী' সম্ভবতঃ ইতিহাসে ঠাঁই পেয়ে যাবে !!

তাহলে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াচ্ছে সাকিব আর তামিমের অপসারণের পেছনে ?? 'পলিটিক্স, পলিটিক্স !! এই দেশে সব পলিটিক্স !!' ??

ক্রিকেটে সবসময় পর্দার পেছনের রাজনীতি একটা বড় প্রভাব রাখে, জানি। কিংবদন্তীর স্পিনার ক্ল্যারী গ্রিমেট নাকি দলে অনিয়মিত থাকতেন স্যার ডনের নীতির প্রভাবে, যুবরাজ সিং এর পিতা যোগরাজ সিং এর ক্ষেত্রে নাকি পেছনের রাজনীতিকটি ছিলেন কপিল দেব।

সাকিব-তামিম একেবারেই দোষত্রুটির উর্ধ্বে, তা হয়তো নয়। দোষ তাদের থাকতেই পারে। কিন্তু এই যে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে, কোন নিশ্চিত কারণ না দর্শিয়ে তাদের অপসারণ করা হলো- এই সংস্কৃতিটা একটা উন্নয়নশীল ক্রিকেট জাতির জন্যে কতটা সঠিক ?? উদ্ধত সাকিব-তামিমের অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটে যদি ক্ল্যারী গ্রিমেটের সমতুল্য হয়; কোন সিদ্ধান্তে না গিয়ে বরং পালটা প্রশ্ন করি বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুভার্থীদের- হেড অফ ডেলিগেশন পদ আলো করে রাখা 'রাজনীতিক'দের অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটে কার সমান বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে?? স্যার ডোনাল্ড ব্রাডম্যান ??


মন্তব্য

মৌনকুহর এর ছবি

মন খারাপ

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
ফেসবুক -.-.-.-.-.- ব্যক্তিগত ব্লগ

ধৈবত(অতিথি) এর ছবি

চিন্তিত

আশফাক আহমেদ এর ছবি

রাজনীতির প্রসঙ্গই যখন এলো, এতো দূরে গেলি ক্যানো? আমাদের প্রাণপ্রিয় পাকি ভাইদের দিকে তাকালে উদাহরণের কী শেষ হবে?

-------------------------------------------------

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

তারেক অণু এর ছবি
কল্যাণF এর ছবি

রেগে টং

গৌতম এর ছবি

আমি এক সাংবাদিকের কাছ থেকে শুনেছিলাম- সাকিব-তামিম নাকি দলে গ্রুপিং সৃষ্টি করেছে। অধিনায়কত্ব থেকে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়ার এটাও নাকি একটা অন্যতম কারণ। আপনার লেখা এবং আজকের প্রথম আলোর রিপোর্টটি থেকে অনেক কিছু পরিষ্কার হলো। সাকিব-তামিমের হয়তো সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু হেড অব ডেলিগেশনকে সবার আগে জবাবদিহিতায় আনা দরকার।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

একজ্যাক্টলি, ঠিক এটাই বলতে চাচ্ছি।...

সাকিব-তামিমের অনেক আচরণই হয়তো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু একপক্ষীয় ব্যাখ্যা বোর্ডের তরফ থেকে এসে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে দিয়েছে, এটা কাম্য নয়।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

স্বচ্ছতা চাই..........রাজনীতি নয়.........

তবে তারা জিম্বাবুয়ে সফরের অধনমনের জন্য শাস্তির দাবীদার!!! তবে কখনই মিথ্যে কারণে শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়!!!


_____________________
Give Her Freedom!

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

রাজনীতি তো অবশ্যই। আর এভাবে বিনা নোটিশে অধিনায়ক অপসারণ কী গ্রুপিং থেকে থাকলেও সেটা দূর করতে পারবে? নাকি সেটা আরো বাড়বে? শেষ কথা হচ্ছে সর্ষের ভুত তাড়াবে কে?

মরণশীল এর ছবি

বড় লজ্জা হয়, হতাশ হই। হুমায়ুন আজাদের একটা লেখা ছিলো "সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে একদিন"। মহাজোট শাসনামলে ছোট যুব্রাজকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটা অংশ করা হয়েছিলো। এখনো ক্রিকেটে দূর্গন্ধময় রাজনীতিকরা ঘুরে বেড়ায়। মনের ভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করতে হলে এই ...বাচ্চাদের আসমানে তুলে গালি দিতে হয়, সেটা সম্ভব না।
এই অকালকুষ্মান্ড বোর্ড কি জানে সাকিব আর তামিম এই প্রজন্মের মানসিকতার কোন পরিবর্তনটা ঘটিয়ে দিয়েছে? আইপিএল এর সময় দেখেছি গলির মোড়ে মোড়ে সাকিব ভক্তদের আগুনজ্বলা চোখ। এই তরুন এবং কিশোরদের মনের কোন বারুদে সাকিব তামিমরা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন বোঝার সাধ্য লোটাস কামাল নামক অভব্য লোকজনের নেই। এই কিশোর তরুনরা যখন আগামি দিনের ক্রিকেটের নেতৃত্বে যাবে এরা হাঁটবে মেরুদন্ড সোজা করে, আগুন চোখে তাকাবে ইংলিশ বা অসিদের চোখে; কারন তারা দেখছে সাকিব তামিম কিভাবে শাসন করে এই কল্পলোকের নাগরিকদের। সাকিব বা তামিমদের কাছে তারা শিখছে অনেক কিছুই যেটা আমাদের নুপুংসুক বোর্ডের বুঝার সাধ্য আছে কিনা সন্দেহ।
ক্রিকেটের উছিলায় অনেকের দ্যশ বিদেশ ভ্রমন হচ্ছে, স্ট্যটাস সিম্বল হিসাবেও "ক্রিকেটের সাথে জড়িত" কথাটা ভালো যায়। কিন্তু আমার দেশের সকলের ভালোবাসার একটা জায়গায় কদর্য রাজনীতি ঢুকে সব নোংরা করে দিবে ভাবলে ডুকরে কাঁদতে ইচ্ছা করে!
রেগে টং

ধুসর গোধূলি এর ছবি

পলিটিক্স, আসলেই পলিটিক্স। উটপোঁদ হলো সেই পলিটিক্সের আগুনে এক বোতল অকটেন ঢালনেওয়ালা। সে সবসময়েই এই কাজটা করে। আশুকে যখন বাদ দেয়া হলো, তখন 'এই গ্যালাক্সিতে আশুর মতোন সেরা কোনো খেলোয়াড় নাই'— এই ধূঁয়া তুলে বোর্ড আর সাকিবকে তুলোধূনো করছে সে। আর আজকে সাকিব-তামিমের অপসারণ নিয়ে যে পলিটিক্স হচ্ছে বা হয়েছে, সেখানেও সে যথারীতি আলুপোড়া খেতে ঢুকছে।

উটপোঁদ লিখেছেন:
তদন্ত কমিটি হয়তো এই প্রশ্নটাও তুলত, হেড অব ডেলিগেশনের রিপোর্ট ক্রিকেট বোর্ডে জমা পড়ার আগেই কীভাবে সারা দেশের মানুষ তা জেনে যায়? পর্যবেক্ষক ভূমিকায় দলের সঙ্গে যাওয়া নির্বাচক কেন সারাক্ষণ ড্রেসিংরুমে থাকবেন? ড্রেসিংরুমে সামান্যতম ঘটনাও কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে বাইরে চলে আসে?
বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমের ঘটনা সংবাদপত্রে এত খবর হয় না। ড্রেসিংরুমের চার দেয়ালের মধ্যে কত কিছুই তো হয়

এই কথাগুলো কি ভূতের মুখেই রামনাম নয়? বিশ্বকাপ চলাকালে দেখেছি সে দলের ডেকোরাম থোড়াই কেয়ার করে একজন ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে। অমুক খেলোয়ারের সাথে ব্যক্তিগত ফোনে আলাপ/সাক্ষাৎকার নিয়ে সেটা পত্রিকায় ফলাও করে ছাপায়। সে কি বোর্ডের অনুমতি নিয়েছিলো উক্ত খেলোয়াড়ের সাক্ষাৎকার নেয়ার আগে? তার নিজেরই তো ভালো জানার কথা ড্রেসিংরুমের কথাগুলো কী করে বাইরে চলে আসে! কী করে সারা দেশের মানুষ জেনে যায়! এই দায় তো মহামান্য উটপোঁদ এন্ড গং এর ঘাড়েই পড়ে।

বোর্ড যে কাজ করছে, সেটাকে সাফাই গাওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের আর দশটা জায়গার মতো এখানেও ভুল মানুষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি দখল করে বসে আছে। নাইলে লোটাস কামালের মতো লোক প্রেসিডেন্ট হয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু উটপোঁদ যখন এই নিয়ে কথা বলতে আসে বিপত্তিটা তখনই দাঁড়ায়।

পাঠক এর ছবি

যথার্থ বলেছেন । চলুক

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

চলুক চলুক

এটা একটা গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন বটে ধূগোদা। সাংবাদিকেদের ক্ষেত্রে ভেতরের খবর আদায়ের বাউন্ডারির দড়িটা কতটুকু ছড়ানো- সেটাও একটা বড় ব্যাপার।

ইস্কান্দর বরকন্দাজ এর ছবি

চলুক

..................................................................
আমি ছুঁয়ে দিতে চাই সেই বৃষ্টিভেজা সুর...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন্সি নিয়া আমাদের একটা ধারণা আছে যে, ক্যাপ্টেন্সি বোঝার মতো খেলোয়াড় পাওয়া দুষ্কর। আমার মতে, এটা একটা ভুল ধারণা। আমার সবচেয়ে অপছন্দের ক্যাপ্টেন ছিলো বাশার তার তোতাপাখির মতো স্ট্যাটিক গেমপ্ল্যান ফলো করার কারণে। আশারাফুল আরো ডায়নামিক ছিলো, মাশরাফি তার স্বল্প উপস্থিতিতে যোগ‌্যতার পরিচয় রেখেছে, সাকিবেরও ক্রিকেট জ্ঞান যথেষ্ট ভালো। অবসরের পরের হাবিবুল বাশারের লেখালেখি থেকে ধারণা হয়েছে তার চিন্তাভাবনাও যথেষ্ট ডায়নামিক, যা তার ক্যাপ্টেন্সি ডিসিশানের সাথে ঠিক মেলে না। এ থেকে বুঝা যায়, বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেনরা খুব বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে না। ক্যাপ্টেনের ওপর উপর মহলের খুব বেশি ভরসা নাই। সিক্স ক্যাপ্টেন থিওরি বা প্র্যাকটিস ম্যাচে আশরাফুলের বোলিং নিয়ে কোচের ক্ষোভ সবকিছুই একই ইঙ্গিত দেয়। তামিম ইকবাল লিডিং পজিশনে আসার পেছনের কারণ আমি বুঝি না। তার মাঠের পারফর্ম্যান্স (রানিং বিটউইন দ্য উইকেট, পার্টনার ব্যাটসম্যানের প্রতি অশ্রদ্ধা, ব্যক্তিগত মাইলস্টোন অনুসারে খেলা) আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে স্বার্থপর ও ইম্যাচিউরড খেলোয়াড়দের একজন সে। ক্যাপ্টেন হিসেবে সাকিব ভালো; কিন্তু তার বিকল্প নেই ধারণাটাও ভুল। তার জন্য কাজটা সহজ; কারণ সে দলের বেস্ট প্লেয়ার। ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্সের হিসেবে তার ব্যাড ডে খুব কম আসে। ব্যাটিংয়ে ফ্লপ মারলে বোলিং, বোলিংয়ে ফ্লপ করলে ব্যাটিং দিয়ে পোষানো যায়। কিন্তু ক্যাপ্টেন হিসেবে সে ভালো হলেও এক্সট্রা ওর্ডিনারি না। মুশফিক বা নাফিসরাও স্বাধীনতা পেলে খুব খারাপ কিছু করবে বলে মনে হয় না।

বিসিবির অপেশাদারিত্ব আমাদেরকে অনেক ভুগিয়েছে। 'স্টিকিং টু দ্য সেইম টীম' থিওরি প্রবর্তন করে বাংলাদেশ দলের ইম্প্রুভমেন্ট থমকে দেয়া স্যার সিডন্সকে তারা মিসরিড করেছে। তার শেষ ২ বছরের কন্ট্রাক্ট রিনিউ না করে যোগ্য কোচ নিয়োগ দিতে পারলে আমাদের বিশ্বকাপের পারফর্ম্যান্স অন্যরকম হতো। সাকিব-তামিমের অ্যাটিটিউড সমস্যার সমাধান আগেই করা উচিত ছিলো। বিড়াল মারতে তারা অনেক দেরি করেছে। বিজনেস ক্লাস টিকেট নিয়ে ক্যাচাল করা কেউ দলের ক্যাপ্টেন হয় না, এটা তাদের অনেক আগেই বুঝা উচিত ছিলো। ক্যাপ্টেন্সিতে উচুস্তরের পেশাদারিত্ব দরকার হয়। আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দুষ্টুছেলে শিষ্টকরন তত্ত্ব এখানে চলে না। স্পষ্টতই সাকিব-তামিম তাদের যে সমস্যা আছে, এটাই বুঝে নাই। প্রধান দায়টা অবশ্যই বিসিবির।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

তামিমের অপরিপক্কতা আর বিসিবির আচরণ নিয়ে একমত।

ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে আমাদের আসলে কোন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নাই বলে মনে হয় আমার। অন্যান্য দেশগুলোতে যেখানে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দলগুলোর অধিনায়ক থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচনের দূর পরিকল্পনা থাকে, এখানে সেটা মানা হয় না। যখন যার কাঁধে তুলে দেয়া যায়, এভাবেই চলছে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ঠিক। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো ক্যাপ্টেনের ওপর ম্যানেজমেন্টের কনফিডেন্স নাই। মাঠের খেলাটা ক্যাপ্টেনকে খেলতে দিলে ম্যাচুরিটি আসা সম্ভব, নাহলে কোচের ম্যানুয়াল বাস্তবায়ন করতে থাকলে মুখস্ত বিদ্যার তোতাপাখি হওয়ার বিকল্প নাই। ইন্ডিয়ার বর্তমান অবস্থার পেছনে ধনির অবদান অনেক। সে দলের বেস্ট পারফর্মার না, সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়ও না; কিন্তু কঠিন পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে তার জুড়ি নাই। ব্যক্তিত্ব জিনিসটা ক্যাপ্টেনসিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।